Friday, March 22, 2013

আমাদের পা ভূতের ন্যায় উল্টা!

খবরের কাগজে পড়লাম, "...জামায়াত শিবির ২০ হাজার গাছ বিনষ্ট করেছে!"

আমি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় যাব না কারণ এই বিনষ্টকারীরা বলবে বিজ্ঞান মুরতাদের জিনিস। আমি প্রকৃতির ভারসাম্যের কথাও বলব না কারণ এরা বলবে প্রকৃতি আবার কী!
দেলোয়ার হোসেন সাইদী এক ওয়াজে বলেছিলেন, আল্লাহর দুনিয়ায় জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নাই। বাঘ-ঘোড়া এরা কী জন্মনিয়ন্ত্রণ করে?
যুক্তির কথা, সত্যি তো, আমরা শুনিনি বাঘ-টাঘ জন্মনিয়ন্ত্রণ করে। বাঘ দায়িত্ববান পুরুষের ভূমিকায় অখবা আসল পুরুষ হয়ে ড্রয়ারে মেডেল জমায়, কেউ কী শুনেছে কোথাও!

যাই হোক, গাছকে কেমন বাঁচিয়ে রাখতে হয় এটা বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে উদাহরণ দেয়া যেত কিন্তু এরা বলবে এই সব ধর্মের ঠিক নাই। ভাল কথা, ইসলাম ধর্মে কি বলছে আমরা একটু দেখি:
তিনি (হযরত) মুতা যুদ্ধে (৬২৯ খ্রী:) অভিযানের সময় যোদ্ধাদের বললেন, "সাবধান, কোনো সাধু-সন্যাসীকে, বালক-বালিকাকে বা স্ত্রীলোককে হত্যা কোরো না। শত্রুদের কোনো বৃক্ষও নষ্ট করবে না।"
(বিশ্বনবী, গোলাম মোস্তফা, প্রথম খন্ড, পৃ: ২৯৮)

তিনি (হযরত), "...এক ব্যক্তি অনর্থক একটা গাছের পাতা ছেঁড়ায় তাকে তীব্র ভৎর্সনা করেন।"
(বিশ্বনবী, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ: ১৬৯)

এরা যে নৃশংসতার সঙ্গে একের-পর-এক গাছ শুইয়ে ফেলছে, কেন- বিষয কী! এরা তাহলে কোন ধর্ম পালন করে? এরা সম্ভবত ইসলাম ধর্ম না, মুসলমান ধর্মের (!) অনুসারী।
ওহো, এদের বুদ্ধির খেলাটা তাহলে এই! এই দেশ থেকে সমস্ত গাছ কেটে সাফ করে ফেলতে হবে। দেশটা ক্রমশ মরুভূমিতে পরিণত হবে। আহা, কী মজা, যেদিকে চোখ যায় বালু আর বালু। ফাঁকে দেশের সমস্ত গাড়িগুলোতেও আগুন ধরিয়ে নিশ্চিহ্ন করে ফেলতে হবে। মরুভূমিতে উটের পিঠে চড়ে দুলতে দুলতে এগিয়ে যাওয়া। আহ, এ যে এক অদেখা স্বপ্ন!

মরুঝড় যখন বইবে তখন আগুনসম বালু গায়ে ফোসকা ফেলে দেবে। চিন্তার কিছু নেই, এটা থেকে বাঁচতে পা পর্যন্ত লম্বা পিচ্ছিল কাপড় গায়ে দিতে হবে। খোলা মুখ-ঘাড় ঢাকার জন্য স্কার্ফ টাইপের কাপড়। ওইটা যেন আবার তীব্র বাতাসে উড়ে না যায় সেই কারণে মাথায় গোল চাকতি দিয়ে আটকে রাখতে হবে। ব্যস।
আচ্ছা, এই তাহলে কাহিনী...।

সব গাছ কেটে ফেলার পর বাংলাদেশ নামের মরুভূমিতে এরা থাকবে উটের পিঠে, আর আমরা 'বোলোগাররা' নগ্ন পা-নগ্ন দেহ-নগ্ন মস্তকে লাইন ধরে হেঁটে যাব।
চারদিকে কেবল খেজুর গাছ আর খেজুর গাছ! খেজুর গাছের ফাঁক দিয়ে চাঁদ দেখব, খেজুর গাছে দোল খাব। খেজুর গাছের খেজুর, খেজুরের জুস, খেজুরের হালুয়া খাব...।

চারদিকে মরুভূমি, পানি কোথায়? পানির অভাবে গোসলেরই খোঁজ নাই আর পরিছন্ন হওয়ার জন্য আবার পানি! হাগা-মুতার পর ঢেলার খোঁজ করা ব্যতীত উপায় কী! টিস্যু তো আমরা ব্যবহার করব না, এ মুরতাদের জিনিস। যে যত বড় ঢেলা নিয়ে আসবে সে তত বড় লোক। ছোটখাট পাহাড় কেউ উঠিয়ে নিয়ে আসলে আমরা তার দিকে সমীহের দৃষ্টিতে তাকাব। ওই আসে বীর..।
ভাল কথা, ফোনও আমরা ব্যবহার করব না, এও মুরতাদের- আমরা কবুতরের পায়ে বেঁধে 'কবুতরগ্রাম' পাঠাব। রাস্তায় কেউ কবুতরটা ধরে খেয়ে ফেললে এর দায়দায়িত্ব কবুতরের উপর বর্তাবে।

সবই ঠিক ছিল কেবল আমাদের পায়ের পাতা গজাবে নতুন করে, উল্টো দিকে।

No comments: