Friday, January 13, 2012

দাদাদের দাদাগিরি, পা কেটে জুতা দান




video
আমি লেখক নই যে এই সব দেখে গুছিয়ে লিখতে পারব, আমার চোখ দিয়ে পাঠককে দেখাতে পারব। এই সব ক্ষেত্রে ফেনিলশুভ্র, পেঁজা-পেঁজা, ভেজা-ভেজা এই সব লেখার নিয়ম চালু আছে। কোন বাক্যে কোনটা লাগাতে হবে এটা গুলিয়ে ফেলেছি বলে আমার সেলফোনের ৩.২ মেগাপিক্সেলই ভরসা। এলাহি ভরসা! 

এই ছবিগুলো যখন উঠাচ্ছি তখন রোদ। রোদ উঠার সঙ্গে এই সাদা-সাদা ফেনা কমে আসে। খুব ভোরে ফেনা তুলোর মত উড়তে থাকে। ভোর জিনিসটা একাই যথেষ্ঠ তার সঙ্গে এই সব সাদা ফেনা যুক্ত হয়ে উড়াউড়ির যে দৃশ্যের অবতারণা হয় পূর্বেই বলেছি এই বর্ণনা দেয়া আমার কম্মো না! আহা, সে এক দেখার মত দৃশ্য!
তখন কেবল মনে হয় 'নাঙ্গাপাঙ্গা' হয়ে এই ফেনার মধ্যে গা ভাসিয়ে দেই। আহ, কেবল গা ভাসিয়ে দেয়া। খাওয়া নেই-দাওয়া নেই, হাগামুতা নেই, বাজার করাকরি নেই, গোসল-শেভ করার মত বিরক্তিকর কাজ নেই। আমার নিজের লেখা নিজেই পড়ার মত বেহায়াপনা কাজও নেই! কেবল গা ভাসিয়ে থাকা... :)

এই অপার সৌন্দর্যের উৎস কী! হুম, উৎস? হুম! আমি আগেও কোথাও বলেছিলাম, এই গ্রহের সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ এবং আমার মত ছলিমুদ্দিনের মধ্যে একটা জায়গায় কোনো পার্থক্য নাই সেটা হচ্ছে আমরা দুজনেই একপেট আবর্জনা বয়ে বেড়াচ্ছি। বাচোঁয়া কেবল, এই পেটের আবর্জনাগুলো অনেকখানি ঢেকে রাখে প্রকৃতির চামড়ার পোশাক, খানিকটা কাপড়ের পোশাক। নইলে...ভাবতেই শিউরে উঠি!

এই যে সৌন্দর্য বিপুল ফেনা এখানে পানিতে সৃষ্টি হচ্ছে এর উৎস হচ্ছে রাসায়নিক বর্জ্য। ভারতের ত্রিপুরা থেকে এটা আসছে। ত্রিপুরার অধিকাংশ কলকারখানা অসম্ভব ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্য ঢেলে দিচ্ছে বাংলাদেশে, পানির সঙ্গে অবলীলায় চলে আসছে। মিশছে তিতাসের পানিতে। হায় তিতাস, কতো প্রকারেই না এর বারোটা বাজানো হচ্ছে [১]

বিপদজনক, অতি কটু গন্ধের এই পানিতেই আমরা মাছ ধরছি (ছবিতে লক্ষ করলে দেখা যাবে কী বিপুল উৎসাহে এর চারপাশে জাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে)। সেই মাছ আমরা কপাকপ করে খাচ্ছি। এই বিপদজনক পানিতেই আমরা গোসল করছি, বাসন ধুচ্ছি, কাপড় পরিষ্কার করছি; বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছি- ক্যান্সার হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছি।

আমি ভেবে অবাক হই কারও এই নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই! কেমন করে এটা সম্ভব? সম্ভব! আমাদের পক্ষেই সম্ভব। আচ্ছা, এই নিয়ে আমাদের জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক সাহেবরা কী করছেন? এদের কলমের কালি জমে যাওয়ার কারণ কি এটা এরাই ভাল বলতে পারবেন। মিডিয়ার লোকজনের মেজাজ বোঝা ভার! বছরের পর বছর ধরে এই কান্ডটা হচ্ছে এরা এই নিয়ে হইচই করছেন না কেন কে জানে!

আমাদের মত এমন নির্বোধ লোকজন এই গ্রহে কোথায় পাওয়া যাবে? আমাদেরকে একটা কলা ধরিয়ে দিলেই আমরা দাঁত বের করে লাফাই। ৪০ বছর পূর্বে দাদারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে উপকার করেছিলেন এই বিশদে এখানের পানিতে যেমন ফেনা ছড়িয়ে পড়ে তেমনি দাদাদের কথা বলে বলে ফেনা জমে আমাদের মুখে।

সহায়ক সূত্র:
১. তিতাস...: http://www.ali-mahmed.com/2012/01/blog-post_07.html

2 comments:

GM KONOK said...

অনেক দিন পর ভালো কিছু দেখলাম। ভালো কিছু উপস্থাপন করেছেন আপনি। ধন্যবাদ আপনাকে।

।আলী মাহমেদ। ali mahmed । said...

:D আপনাকেও ধন্যবাদ @GM KONOK