Wednesday, January 4, 2012

ব্লগ বনাম প্রিন্ট মিডিয়া

আবারও চর্বিতচর্বণ, অসংখ্যবার আমি এ কথাটা বলেছি, ব্লগস্ফিয়ার, ব্লগের শক্তিটা আসলে আমরা আঁচ করতে পারছি না। আমি নিজেও না! কে জানে, একটা ব্লগ পরিবর্তন করে ফেলতে পারে কারো দৃষ্টিভঙ্গি, কোনো দেশের জাতীয় সিদ্ধান্ত। দেশটা কঙ্গো না তিউনিসিয়া সেটা আলোচ্য বিষয় না।...
কারণ ব্লগিং হচ্ছে নির্মেদ-মেদহীন। আমার ভাষায় যেটা বলি, টলটলে পানি- যার উৎস অদেখা ঝরনা। প্রিন্ট মিডিয়ায় যেটা সম্ভব না কারণ এরা বাড়তি মেদের ভারে পৃথুল!

সম্প্রতি এক আলোচনায় বলেছিলাম,
তরুণ এবং ব্লগিং হচ্ছে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। গতি বহে সমান্তরাল- তরুণ হচ্ছে গতির আরেক নাম তেমনি ব্লগিংও। কারণ এখানেও গতির খেলা! কেউ তাঁর ভাবনা ছড়িয়ে দিতে পারেন নিমিষে। প্রিন্ট মিডিয়ার মাস্টারমশাইদের লাল চোখ উপেক্ষা করে। ভুল বললাম, লাল চোখ না কালো চশমায় ঢাকা চোখ। এই বিষয়ে আমি অসংখ্য নমুনা এনে হাজির করতে পারি সেই প্রসঙ্গে এখন আর যাই না। সেই সঞ্জীব চৌধুরীও আর নাই [১] সেই একালের রূপকথার লেখকও নাই! আহ সঞ্জীব চৌধুরী, ঘরোয়া এক আড্ডায় সঞ্জীব চৌধুরীকে নিয়ে হাসান বিপুল চমৎকার একটি মন্তব্য করেছিলেন, এরা শিশু-শিশু!

আমি জানি না কেন যেন প্রিন্ট মিডিয়ার লোকজনেরা ব্লগস্ফিয়ারের লোকজনকে দেখতে পারেন না। এই ব্রাক্ষণ টাইপের লোকজনেরা ব্লগের লোকজনের সঙ্গে শূদ্র, চাকর-চাকর টাইপের আচরণ করেন। কেন করেন কে জানে! ব্লগস্ফিয়ার থেকে এঁরা অসংখ্য তথ্য-উপাত্ত অবলীলায় নিজের বলে চালিয়ে দেন। ভুলেও ঋণ স্বীকার করেন না। কখনও বলে দেন, ওয়েব সাইট অবলম্বনে।
কী আশ্চর্য, এই ওয়েব সাইটটির পেছনে তো কেউ-না-কেউ আছেন, নাকি? ভাব দেখে মনে হয় ওয়েবসাইট একটি গণিমতের মাল! গণিমতের মালও নিজের করে নিয়ে নেয়ার জন্য কিছু কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। প্রথম শ্রেণীর দৈনিকগুলোও এটা করে গেছে বছরের-পর-বছর ধরে। কোনো কোনো প্রিন্ট মিডিয়া এখন খানিকটা বদলেছে, হালে দায়সারাগোছের কিছু সূত্র উল্লেখ করে। তবুও মন্দের ভাল, কলাপাতা দিয়ে হলেও খানিকটা লজ্জা নিবারণের চেষ্টা তো করছে। সাধু-সাধু!

বা কখনো দেখা যায়, এঁরা কখনও লিখে দেন, ফেসবুক থেকে নেয়া [২]। আজব!  ফেসবুক থেকে নেয়া মানে কী! ফেসবুক কি আপনগতিতে চলে, নাকি এর পেছনে কোনও-না-কোনও ফেস থাকে? কি হয় নামটি নিলে? আহা, আমরা তো জানতাম কেবল ভাসুরের নাম মুখে আনা যায় না! অথচ ব্লগিং-এর নামে যে মানুষটা নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ান সেই মানুষটার প্রতি খানিকটা মানুষের মত আচরণ করলে মানুষটার সীমাহীন বেদনা হয়তো খানিকটা লাঘব হতো।

অথচ আমরা যদি ব্লগস্ফিয়ারের লোকজনের পানে তাকাই তাহলে দেখতে পাব এঁরা সামান্য একটা ছবিও কোনো প্রিন্টমিডিয়া থেকে নিলে যথার্থ সূত্র উল্লেখ করেন। তমিজের সঙ্গে স্যারের নামটিও নেন। এমনিতে প্রিন্টমিডিয়ার লোকজনেরা পা ফাঁক করে হাঁটেন- তাঁরা এই সব তমিজ-টমিজ নিয়ে মাথা ঘামান না, তাতে কী! ব্লগের লোকজনেরা তাঁদের দায়িত্ব চমৎকার করে পালন করেই যান, অবিরাম।

সম্প্রতি একজন সুহৃদ দেশের বাইরে থেকে একগাদা টাকা গচ্চা দিয়ে ফোন করে তাঁর বিপুল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন, তিনি প্রথম আলোয় 'ট্রানজিট ও খুন হয়ে যাওয়া নদ' নামের একটি লেখা পড়েছেন যেখানে ব্লগারদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের কাজ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই সুহৃদ মানুষটা না-জানালে হয়তো জানাই হতো না। ওই মানুষটার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

আজকাল পত্রিকা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়া হয় না বলে এটা চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল। পত্রিকা নামের শোকেসে সাজানো পুতুল আর কত দেখা যায়? বড় বড় মানুষদের লম্বা লম্বা বুলি আর কাঁহাতক সহ্য হয়। আর্মত্য সেন বলেছেন, "বাংলাদেশ অসাধারণ প্রগতি অর্জন করেছে...ইত্যাদি"। ব্যস, আর যায় কোথায়, আমরা বিগলিত- গলে যাওয়া মোম। নোবেল লরিয়েট বলে কথা, তাঁর কথা যে বেদবাক্য। আমজনতার এই সাহস কোথায় এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে! কার ঘাড়ে কটা মাথা!
সুরের ধারার রবীন্দ্র উৎসবে হাজার শিল্পী চট করে হাজির হয়ে যান। এই যে হাজার শিল্পী অভাবনীয় কান্ডটা করে ফেললেন, রেজওয়ানা চৌধুরীর চকচকে চেহারা আমরা দেখলাম কিন্তু কেউ ভুলেও ওয়াহিদুল হকের কথা বললেন না, একটা শব্দও না। অথচ এই শুদ্ধ মানুষটাই এই দেশে এই হাজার-হাজার শিল্পী তৈরী করে দিয়ে গেছেন। এই অসম্মান করা দেখে চোখ ভিজে আসে!

দিনমজুরের সঙ্গে 'তিতাস একটি ...এর নাম' [৩] আমার এই লেখাটার সূত্র ধরে, সুমন রহমানের ওই লেখায় আমার নামও আছে বলে প্রসঙ্গটা উল্লেখ করলাম, খানিকটা বিব্রত বোধ করছি। আলোচনার জন্য এটা জরুরি ছিল তবুও আগেভাগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
লেখাটি লিখেছেন সুমন রহমান [৪]। কেউ কেউ ভিড়ের মাঝেও দলছুট থাকেন। হয়তো সুমন রহমান তাঁদের একজন। নইলে তিনি এমনটা করতে যাবেন কেন, ব্লগারদের নাম জানাতে যাবেন কেন? তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে খাটো করি না।
কিন্তু... খানিকটা কথা থেকে যায়, তিনি তিতাস নদীকে 'নদ' বানিয়ে দিয়েছেন। তিতাস যে নদ এটা তিনি কোথায় পেলেন?
আরেকটা কথা, তিনি ব্লগারদের নাম উল্লেখ করেছেন কিন্তু লেখাগুলোর লিংক দিলে কী হতো! প্রিন্ট মিডিয়ায় এই সু-অভ্যাসটা গড়ে তোলাটা জরুরি নইলে পরষ্পরের মধ্যে দূরত্ব কেবল বাড়বেই।।

'অপ্রকাশিত' সুমন রহমানের এই লেখাটিই ফেসবুকে নিয়ে এসেছেন। ব্লগস্ফিয়ারের লোকজনেরা কিন্তু সুমন রহমানের এই লেখা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছেন। তাঁরাও সুমন রহমানকে কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলেননি। নমুনা [৫]

সহায়ক সূত্র:
১. সঞ্জীব চৌধুরী: http://www.ali-mahmed.com/2007/11/blog-post.html
২. ফেসবুক...: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_08.html
৩. তিতাস একটি ...এর নাম: http://www.ali-mahmed.com/2011/12/blog-post_23.html 
৪. ট্রানজিট ও খুন হয়ে যাওয়া নদ: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-12-30/news/212597
৫. ফেসবুকে অপ্রকাশিতের লেখা: http://tinyurl.com/8y2nsh9

No comments: