Sunday, December 30, 2012

বীরপুরুষ, তোমার অপেক্ষায়...

ফেসবুকের কল্যাণে অনেকেই ভিডিওটি দেখেছেন। বিস্তারিত জানারও কারো বাকী নাই। একটি ছেলে ভালবাসার ভঙ্গির ছল করে একটি মেয়েকে চড় মারে। এ সত্য, মেয়েদের উপর এরচেয়ে অনেক রগরগে আচরণেরও অজস্র উদাহরণ আছে কিন্তু...।

কিন্তু এটা এই গ্রহের অতি কুৎসিত এক দৃশ্য! বোমা মেরে মানুষ মেরে ফেলা হয় কিন্তু, মসজিদ-মন্দিরে প্রার্থনারত মানুষকে যখন বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া হয় ওই ভঙ্গির সঙ্গে এর কোথায় যেন একটা মিল আছে। আসলে ভিডিওটা না-দেখলে কাউকে বোঝানো মুশকিল...

Friday, December 21, 2012

বিশ্বজিৎ এবং বিবেক নামের রাস্কেলটা

বিশ্বজিৎকে নিয়ে লিখব না ঠিক করেছিলাম কারণ কী লিখব! সবাই তো সবই লিখেছেন আমি আবার নতুন করে বেদনার জায়গাটায় খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত নাই বা করলাম। কিন্তু...
প্রতিভাবান অনেকে, যারা এখানে লেখালেখি করেন, অনেক 'নেকাপড়া' তাদের। অনেকে আবার একেকজন চলমান দেশপ্রেমিক। কিন্তু আমি সবিস্ময়ে লক্ষ করলাম, এঁরা অধিকাংশই ব্যস্ত ছিলেন যারা বিশ্বজিৎকে খুন করেছে তারা কোন দলের এটা প্রমাণে। কেন এরা এমনটি করতে অতি ব্যস্ত হয়ে পড়লেন? 'দেশের চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে ব্যক্তি', এই কারণে [১]?

Sunday, December 9, 2012

বদনা ভরে খাও, হরলিকস-কমপ্ল্যান!

তবলার ঠুকঠাক- এই লেখার পেছনের গল্পটা বলি:
আমার নিজের সম্বন্ধে ধারণা কি এটা কেউ আমার কাছে জানতে চাইলে আমার সাফ উত্তর, আমি এই গ্রহের সবচেয়ে বড়ো নির্বোধ কারণ আমি স্মোক করতাম। [দুনিয়ার সিগারেটখোরদের ক্ষেপে যাওয়ার আবশ্যকতা নাই, এটা কেবল আমার জন্য প্রযোজ্য :) ]

একটা সময় ছিল বেদম সিগারেট খেতাম। এখন ছেড়ে দিয়েছি তবুও কখনও-কখনও স্মোক করা হয়েই যায়। তবে এখন সিগারেট কেনার সময় আমি খুব সতর্ক থাকি, চোরের মত, কারণ...।

Friday, December 7, 2012

ডিয়ার বেত, মিস ইউ...

লেখার বিষয়বস্তু যে কতটা বিচিত্র হতে পারে এর প্রকৃষ্ট এক উদাহরণ। আজকের অতিথি লেখক। লেখাটি লিখেছেন, Farjanul Islam Nirjhor (http://www.facebook.com/Farjanul)

"আজ প্রথম আলোয় একটা 'সংবাদ' দেখে এই লেখাটা লেখার ভূত মাথায় চাপল। সংবাদটা হল, 'পিটুনির পর দুঃখ প্রকাশ'। মূল কাহিনী হল শিক্ষকের বেতের প্রহারের পর ওই শিক্ষকেরই ছাত্রের কাছে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা। এমনকি প্রধান শিক্ষকও ক্ষমা চেয়ে বলেছেন যে 'এই ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছে'!

পিটুনি দিয়ে আবার ছাত্রের সাথে সমঝোতা! কেন জানি নিজের শৈশবের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। যে শৈশবটা ছিল বর্ণময়, শিক্ষকময়, প্রহারময় আর বেতের বাড়িময়। স্বীকার করি, শৈশব থেকেই আমার মাথায় নানা জাতের দুষ্টুমির পোকা কিলবিল করে ঘুরে বেড়াত। কিন্তু বিপদ হল যে সেগুলো খুব বেশি পরিমাণে মুক্ত বাতাসে তাদের ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারেনি! কেন?

Tuesday, December 4, 2012

কোর্ট-মার্শাল!

সবাই বলে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নাকি মারা গেছেন! আরে-আরে, সুনীল গঙ্গোপাধ্যারে মত মানুষদের আবার কেমন করে মৃত্যু হয়! যার হাত দিয়ে এমন একটা জিনিস বের হয়! 'ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি' নামে তাঁর একটা কবিতা আছে:
"প্রিয় ইন্দিরা, তুমি বিমানের জানলায় বসে,
গুজরাটের বন্যা দেখতে যেও না
এ বড় ভয়ঙ্কর খেলা...
তোমার শুকনো ঠোঁট কতদিন সেখানে চুম্বনের দাগ পড়েনি,...
ইন্দিরা, তখন সেই বন্যার দৃশ্য দেখেও একদিন তোমার মুখ ফস্কে
বেরিয়ে যেতে পারে, বাঃ কী সুন্দর...!" 
এই কবিতাটি এখানে দেয়ার কারণ হচ্ছে, তখন ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতায়। বিপুল ক্ষমতা ইন্দিরার। কিন্তু এই কবিতার কারণে ইন্দিরা সুনীলের প্রতি একটা শব্দ উচ্চারণ করারও স্পর্ধা দেখিয়েছেন বলে আমার জানা নাই।
...
২০১২, এ বছরের শুরু। জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখের পত্র-পত্রিকায় ছেয়ে গেল। কাঁপছিল পত্রিকা ছাপাবার যন্ত্র, কাঁপছিল দেশ। কী?! সরকার উৎখাতের চেষ্টা ব্যর্থ। কী সর্বনাশ-কী সর্বনাশ! গণতান্ত্রিক একটা সরকার উৎখাত করার অপচেষ্টা।

Wednesday, November 28, 2012

গুণবান গুণ!

জীবনানন্দ দাশের 'কবি' নামের কবিতায় আমরা জবুথবু এক কবিকে দেখি। শতকষ্টেও যিনি আমাদেরকে ভরসা দেন: 
"কবিকে দেখে এলাম
দেখে এলাম কবিকে
...
মরুশ্বেত দুটো চুনোমাছ চোখের বদলে কাজ করছে যেন
মরণোম্মুখ ট্যাংরা
পৃথিবীর থেকে আনন্দ সংগ্রহ করছে
সবাইকে ভরসার কথা শোনাচ্ছে।"

আজকালের কবিকূল আমাদেরকে ভরসা দেয়ার জন্য অনেকখানি এগিয়ে আসেন, পাঠকের কাছাকাছি থাকার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করেন। না-না, কেউ উল্টাপুরাণ বুঝবেন না। এও এক আনন্দ সংবাদ কবিকে হাত বাড়ালেই ছোঁয়ার নাগালে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। আমাদের দেশের প্রধান কবিদের একজন নির্মলেন্দু গুণ। সেই কবে তিনি লিখেছিলেন,

Tuesday, November 27, 2012

তন্তুপাড়ার জন্তুগুলোর জন্যে মাতমের একটি মুসাবিদা

লুৎফর রহমান রিটন, এই মানুষটাকে আমার মত সাধারণ মানুষেরা খুব করে চিনি ছড়াকার হিসাবে। আর চিনি তাঁর পেল্লায় গোঁফের কারণে :)
এই মানুষটা হাত-পা ছড়িয়ে, শব্দ নিয়ে চমৎকার এক খেলা খেলেন, গদ্য-গদ্য খেলা! কেমন করে থরথর করা উঠে আসা অদম্য রাগকে নিয়ন্ত্রণ করে লেখায় দ্রোহ-ব্যঙ্গ উঠে আসে, পাঠককে এর সঙ্গে একাত্ম করে ফেলে তার এক দুর্দান্ত নমুনা! আজকের অতিথি লুৎফর রহমান রিটন (http://www.facebook.com/riton100)। তিনি লিখেছেন:
"নিশ্চিন্তপুরে নিশ্চিন্তে পুড়ে ছাই হয়ে গেলো শতাধিক দু’পেয়ে জন্তু। এই জন্তুগুলোকে ‘মানুষ’ নামেও ডাকা হয়ে থাকে। এদের দুটি হাত দুটি পা দুটি চোখ দুটি কান একটি নাক ও একটি মুখ আছে। আর আছে সভ্যতার সমান মাপের বিপুল বিশাল একটি উদর।
ক্ষুধার্ত এই জন্তুগুলো খালি ভাত খেতে চাইতো। জুঁই ফুলের মতো শাদা শাদা স্বপ্নখাদ্য ভাতের সঙ্গে সামান্য ডাল কিংবা আলু ভর্তাই প্রিয় আর আরাধ্য ছিলো ওই দু’পেয়েগুলোর।

Sunday, November 25, 2012

আমার হাত বাঁধতে পারো, আত্মা না!

এই গ্রহে দু-ধরনের লোক আছে। কেউ মারা যায় বিছানায়, কেউ যুদ্ধক্ষেত্রে। আমি প্রথমদের দলে। নিরাপদ দূরুত্বে থেকে লম্বা-লম্বা বাতচিত করি। কলমবাজি, হালের কী-বোর্ডে ঝাপিয়ে পড়ে দেশউদ্ধার করি, হাতি-ঘোড়া নিধন করি। কিন্তু কারো-কারো পা ভূতের ন্যায়, এঁরা হাঁটেন উল্টো পথে। দ্বিতীয় দলের কেউ-কেউ বিস্তর পাগলামি করেন আমরা এঁদেরকে আদর করে বলি 'পাগলা'। আফসোস, আমাদের দেশে এমন পাগলদের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আমার মত রোবটের সংখ্যা। যারা টিভিতে, পেট ভাসিয়ে আগুন দেখি, সঙ্গে শো ফ্রি। [১]

পূর্বেই উল্লেখ করেছি, কেউ-কেউ খানিক অন্য রকম। ঘটনাস্থল থেকে ঘুরে এসে লিখেছেন: Farjanul Islam Nirjhor (http://www.facebook.com/Farjanul):
" হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করাটা একটা বাজে অভ্যেস হয়ে গেছে আমার। গতকাল রাত ৩টার সময় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, চট্টগ্রাম যাব। সকাল ৭টায় বগুড়া থেকে বাসেও উঠেছিলাম ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম যাবার উদ্দেশ্যে। নিজের চোখে দেখতে ফ্লাইওভারের নিচে চাপা পড়া মানুষগুলোকে, নিজে একজন চিকিৎসক হিসেবে একটু সাহায্যও যদি কোন ভাবে করতে পারি সেই আশায়।

Tuesday, November 20, 2012

১৯৭১ সালে খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটা বিভ্রান্তি প্রায়শ দেখা যায় সেটা হচ্ছে, ১৯৭১ সালে তিনি নাকি স্বইচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

Tuesday, November 13, 2012

বাবা কেন চোর?

'বাবা কেন চাকর' নামে বাংলা একটা চলচিত্র আছে। কেউ পোস্টের শিরোনাম দেখে ওখান থেকে ধার করেছি এটা বললে আমি কারো সঙ্গে কাজিয়া করতে যাব না।

রাষ্ট্র নিয়ে বলতে যাওয়া মুশকিল। কারণ উঁচুমার্গের পন্ডিতদের একগাদা বাতচিত নিয়ে লোকজনেরা ঝাপিয়ে পড়বেন। অধ্যাপক গেটেল বলেছেন..., তো, প্রফেসর বার্কার বলেন..., John h. Hallowell-এর ভাষায়...ইত্যাদি। এই সব আমার নাগালের বাইরে বিধায় সযতনে এড়িয়ে গেলুম। আমি আমার অল্প জ্ঞানে বুঝি, দেশ হচ্ছে মা, রাষ্ট্র হচ্ছে পিতা। এখন রাষ্ট্র এবং দেশের মধ্যে পার্থক্য কি এই নিয়ে আমাকে যুযুৎসুর প্যাচে ফেলে দেবেন না আবার।

Tuesday, November 6, 2012

স্যান্ডি এবং স্যান্ডেলের গল্প।

ঈশ্বর-গড-ভগবান এঁদের যন্ত্রণার শেষ নেই! বেচারাদের ঘুমাবার যো নেই। ঘুমাবার যো নেই এটা ভুল বললাম, আসলে হবে চোখে ঘুম নেই। সবারই গোপন ইচ্ছা, কেমন করে তাঁর সন্তান দুধেভাতে থাকবে আর অন্যরা চুনগোলা খাবে [১]। 'সবারই গোপন ইচ্ছা' এটাও ঠিক বলা হলো না- আসলে হবে 'খুল্লামখুল্লা' ইচ্ছা!
এই বিষয়ে সবার রা একই। মোটা দাগে বললে, নিজের সন্তানদের স্বর্গবাস অন্যের সন্তানদের নরকবাস। নিজের সন্তানেরা রসগোল্লা খাক, অন্যরা স্রেফ গোল্লায় যাক।

কার কথা এটা, রবিদাদার? "I love God because he has given me the freedom to deny him."

Friday, November 2, 2012

দিস ইজ আ সামুরাই সোর্ড

আজকের অতিথি প্রলয় হাসান। তিনি লিখেছেন:
"২০১০ সালের কোরবানী ঈদের ঘটনা। প্রতিবছরের মতো সেবারও আমরা সবাই (স্থানীয় কিছু বাঙ্গালী মুসলমান) মিলে নিউ সাউথ ওয়েলসের কান্ট্রি সাইডে গিয়েছিলাম 'ভেড়া কোরবানী' দিতে।
সিডনির বাঙ্গালী পাড়া কোগরাহ নিবাসী 'সাইফুল হাসান' ভাইকে সবাই চেনেন এবং অত্যন্ত ভালবাসেন একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মানুষ হিসাবে।
দেখতে ছোটখাটো অথচ সুদর্শন এই মানুষটি একাধারে একজন মাওলানা, বিট্রিশ কাউন্সিল ঢাকার পার্টটাইম টিচার (তিনি জীবনে তিনবার আইএলটিএস দিয়েছিলেন, তিন বারই ৯-এ ৯ পেয়েছিলেন!), একজন

Wednesday, October 24, 2012

­পশু উৎসর্গ-কোরবানি, কালে কালে

"...এ তো ছিল এক স্পষ্ট পরীক্ষা। আমি [তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে] জবাই করার জন্য দিলাম এক মহান জন্তু...।"
-সুরা সাফফাত: ১০৬-১০৮ 

"আমি তোমাকে কাউসার [ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ] দান করেছি। সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের জন্য নামাজ পড় ও কোরবানি দাও।"
-১০৮ সুরা কাউসার: ১-২

Sunday, October 21, 2012

পরিসংখ্যান-জিনসংখ্যান-প্রেতসংখ্যান

পরি-জিন-প্রেত। এরা বসে বসে হাওয়া খেয়েই কেবল দিন পার করে। কাজকামের তো আর বালাই নাই। এদেরকে তো আর আপিস নামের কারাগারে আটকে থাকতে হয় না। বাজারের ব্যাগ নিয়ে দোকানে দোকানে ঘুরঘুরও করতে হয় না। সামান্য কিছু টাকা নামের ময়লা কাগজের জন্য আত্মা বন্ধকও রাখতে হয় না।

পরিদের নিয়ে যতটুকু শোনা যায় তা এমন, এমনিতে এরা খুবই ভাল। মাইডিয়ার টাইপের। কেবল দোষের মধ্যে যেটা সেটা হচ্ছে কাউকে পছন্দ হলে তাকে নাকি উঠিয়ে নিয়ে যায়। সবাইকে না। কারণ আমি আমার বাসার ছাদে অনেক রাতে হাঁটাহাটিঁ করে দেখেছি পরি আমাকে উঠিয়ে নেয়া দূরে থাকুক ভুলে কখনও বলেনি, এই যাইবা?

Tuesday, October 16, 2012

চালবাজ!

­নির্মলেন্দু গুণকে নিয়ে পূর্বের এক লেখায় লিখেছিলাম, (গীনসবার্গে সঙ্গে, নির্মলেন্দু গুণ):
"'...গ্রেগরী করসো যখন আমাদের বাংলাদেশের লক্ষ-লক্ষ মানুষের ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যু নিয়ে নির্মলেন্দু গুণের কাছে জনসমক্ষে, প্রকাশ্যে আদি রসাত্মক অতি কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করে, অতি হৃদয়হীন মন্তব্য করেন, 'তোমাদের দেশ তো খুব ফারটাইল, প্রতিদিন হাজার হাজার মানবসন্তানের জন্ম দিচ্ছ তোমরা। ...ছাউ ফুটানোর কাজটা তোমরা ভালই পার'
তখন গুণ দাদার গলা দিয়ে স্বর বের হয় না। চিঁ চিঁ করেন।" [১]

Monday, October 15, 2012

দাস: সেকাল-একাল

সেকালের দাস। অনুভব করলেই চোখে-মুখে অন্ধকার দেখি। কিন্তু তখন দাস-ব্যবসাটাও ছিল অসম্ভব লাভজনক। সেকালে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন অনেক নামকরা ব্যক্তিত্বও। তখন দাস-দাসব্যবসাটাকে খুব একটা খারাপ চোখে দেখা হত না। দাস মানেই কেনা সম্পত্তি! যা খুশি তা করা যায় তার সঙ্গে।
ধর্মগ্রন্থেও এর ছাপ সুষ্পষ্ট! তৌরাত বলছে,
"...প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত, হাতের বদলে হাত, পায়ের বদলে পা, দাহের বদলে দাহ, ক্ষতের বদলে ক্ষত, কালশিরার বদলে কালশিরা।" (তৌরাত শরীফ: ২য় খন্ড: হিজরত, ২১, ২৪-২৫)

Saturday, October 13, 2012

দাঁড়াবার কোনো জায়গা নাই!

­"ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রানীখার 'আল-আমীন গাউছিয়া এতিমখানায়' এতিম না থাকলেও নিয়মিত সরকারি টাকা তুলে নেয়া হচ্ছে। এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ একেএম এমদাদুল বারী এবং সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরে নিয়মিত এই টাকা তোলা হচ্ছে ব্যাংক থেকে।...।" [১]

Friday, October 12, 2012

বিশ্বদলিল

­বইখাদক। অনেকের বই পড়ার নমুনা দেখে মনে মনে বেদনার সঙ্গে গভীর শ্বাস ফেলি। অং-বঙ-চং কত ঢঙের বইই না এঁরা পড়েন! কে একজন, একবার ছাপার অক্ষরে এই হাহাকারটা করেছিলেন। বিষয়টা এমন, কোনো-এক গ্রন্থাগারের হাজার-লাখ বইয়ের সামনে দাঁড়িয়ে তার মনে হচ্ছিল, আহা, কত-কত বই, এখনও তো পড়াই হল না।

আমার নিজের পড়াশোনা কম। হাজার-লাখ কেন, কোটি-কোটি বইই পড়া হয়নি। আসলে ছাতার তেমন কোনো বইই পড়া হয়নি! আরে, আমি তো আর কচ্ছপ না যে শত-শত বছর আয়ু নিয়ে পানিতে গা ভাসিয়ে বই পড়তে থাকব, পড়তেই থাকব। 'কচ্ছপামি' আমার পিঠে দাঁড়িয়ে থাকে দাঁড়কাক!

Wednesday, October 10, 2012

ছুক্কুর-ছুক্কুর মৈমনসিং, ঢাকা যাইতে কত দিন

­'ছুক্কুর-ছুক্কুর মৈমনসিং, ঢাকা যাইতে কত দিন'। বালকবেলায় কারও কারও মুখে এটা শুনতাম। কবে, কেন, কেমন করে এটা চালু হল বা কারা-কারা চালু করে এটাকে গড়িয়ে দেওয়ার পেছনে ছিল; জানি না। হয়তো তখন ময়মনসিং থেকে ঢাকা যাওয়াটা সময়সাপেক্ষ একটা ব্যাপার ছিল। আগে ট্রেনেরও কিছু নিয়মকানুন ছিল দেখতাম কোথায়-কোথায় কি কি ট্রেন যেন অদলবদল করার প্রয়োজন দেখা দিত। এটা আবার সব জায়গায় সম্ভব ছিল না, কেবল জংশন নামধারী স্টেশনেই। তাই জংশনের আলাদা একটা মর্যাদা ছিল। এই মর্যাদা ছিল আখাউড়া জংশন নামের স্টেশনটারও- কালে কালে আখাউড়া জং হয়ে গেল।
যাগ গে, ছুক্কুর-ছুক্কুর মৈমনসিং, ঢাকা যাইতে কত দিন? হয়তো কেউ তিতিবিরক্ত হয়েই এটা চালু করেছিল।

Wednesday, October 3, 2012

আপনার জন্য খুব মায়া হয়!

মহাবিশ্বের [০] তুলনায় কী ক্ষুদ্রই না আমাদের এই ছোট্ট গ্রহ। এখানেই গাদাগাদি করে থাকে ৭০০ কোটি মানুষ। শোনো কথা, মানুষের চেয়ে নাকি পিপড়া বেশি, এমন কী ওজনেও!
আমাদের এই একটাই জীবন অথচ এই জীবনটাকে আমরা কত প্রকারেই না অহেতুক জটিল করি। যে শরীরটা নিয়ে আমাদের ভাবনার শেষে নেই সেই শরীরটা আসলে কী? শরীরের ৯৬ ভাগ জুড়েই আছে চারটা মৌলিক উপাদান অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন। বাকি চার ভাগের রসায়নটাতেই কী অদেখা ম্যাজিক লুকিয়ে থাকা?

Tuesday, August 28, 2012

একালের দেবী: তসলিমা নাসরিন

­"...চারটে ছেলে এসেছে তোমার সঙ্গে দেখা করতে। একবার তোমাকে প্রণাম করতে এসেছে। করেই চলে যাবে।
আমি প্রণামের লোভে নয়, কেন এসেছেন...। ...আমার দিকে এগিয়ে হাত বাড়ালো আমার পায়ের দিকে...শংকর নামের ছেলেটি করজোড়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, 'দিদি, আপনি আমাদের দেবী। আপনাকে দেখতে পেয়ে জীবন আমাদের সার্থক হল। ...একবার প্রণাম করতে দেন...। আবারও মাথা আমার পায়ের দিকে নাবাতেই বলি, না না প্রণাম করতে হবে না।

Thursday, July 26, 2012

একজন ড্রাগ ডিলারের প্রস্থান এবং চুতিয়া মিডিয়ার উত্থান!

(চুতিয়া শব্দটায় যাদের এলার্জির সমস্যা হয় তারা চুতিয়ার জায়গায় 'কুতিয়া' পড়বেন। অবশ্য কুতিয়া শব্দের অর্থ কি এটা আমি জানি না।)

হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে এক লেখায় লিখেছিলাম,
"এই দেশে যারা সাহিত্য চিবিয়ে খান তাঁরা হুমায়ূন আহমেদের লেখায় গভীরতা খুঁজে পান না। ...হুমায়ূন আহমেদের বই পড়ে অনেক কঠিন সময় পার করেছি, এর কী কোন মূল্য নাই? তাঁর কোনো বই হাতে নিয়েছি কিন্তু পড়ে শেষ করিনি এমনটা হয়নি, এখনো! এই যে এখনো আমাকে ধরে রাখার ক্ষমতা- কী বিপুল এক ক্ষমতা! কী এক অদ্ভুত ব্যাপার! পারলে মানুষটার হাত সোনা দিয়ে বাঁধাই করে দিতাম। হুমায়ূন আহমেদকে কোনো ইশকুলে পড়তে হয় না, তিনি নিজেই একটা ইশকুল..."।

Friday, June 22, 2012

পাঠকের কাঠগড়ায়

­হাসান সোহেল আমার একটা পোস্টে [১] কঠিন এক মন্তব্য করেছেন। তাঁর মন্তব্য এখানে তুলে দিচ্ছি:
"মাহমেদ ভাই, কেন ম্যানিপুলেশন করেন? মিনার মাহমুদ মারা যাওয়ার পরে তাকে নিয়ে লেখা আপনার পোস্টটা ডিলিট করে ফেলেছেন। মারা গেলে কি তার সব কর্ম মাফ হয়ে যায়? লেখাচুরি হালাল হয়ে যায়? মিনার মাহমুদের নিরপেক্ষ বিশ্লেষণে আপনার লেখাটা থাকলে কি ক্ষতি হতো খুব?

Wednesday, June 20, 2012

ব্লগগুরু, মহোদয়গণ।

­আমার কেবলই মনে হচ্ছে আমাদের ব্লগস্ফিয়ার নিয়ে অনবরত কুৎসিত শলা হচ্ছে, কেমন করে একে দাবিয়ে রাখা যায়। সরকারী লোকজনেরা আদা খেয়ে এর পেছনে লেগেছেন আর বেসরকারী চামুচ টাইপের লোকজনেরাও পিছিয়ে নেই! তাদের তো আর আদা খেয়ে পেছনে লাগার সুযোগ নেই তারা আদার বদলে মুড়ি খেয়ে লেগেছেন। আমরা ব্লগের ভাষায় বলি, 'মুড়ি খাও'।
এই রে, জাত গেল-জাত গেল। আমি যে ব্লগের ভাষা বলে ফেললুম, এখন উপায়? আমাকে কী গোবর খেয়ে প্রায়শ্চিত্ত করতে 'হপে'? সেরেছে গোবর পাই কই- সব কাজকাম (আসলে হবে 'অকাজকাম') ফেলে এখন কী গরুর (মতান্তরে ব্লগগুরু) পেছনে পেছনে আমাকে পট নিয়ে ঘুরতে হবে?

Sunday, April 29, 2012

গণতন্ত্রের হত্যাকারী


ছবি ঋণ: প্রথম আলো
এটা পুরনো লেখা। হরতাল নিয়ে নতুন লেখার কিছু নাই। দুয়েকটা শব্দ এদিক-ওদিক করে দিলেই হয়।

তিনি [১] যেমনটা বলেছিলেন হও, আর হয়ে গেল! তেমনি বিরোধীদল বলল, হরতালের নামে কারাগার হও- ব্যস, হয়ে গেল!
তখন কারও জীবনের দাম যাই থাকুক, এ দিন কারও জীবন রক্ষার দায়িত্ব ঈশ্বর ব্যতীত আর কারও না।
কী এক কারণে যেন এদিন ঈশ্বরের ভারী ঘুম পায়!

Wednesday, April 4, 2012

তেলের খনি!

­বাংলাদেশের সমুদ্রজয়ে অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দেয়া হবে ২৮ এপ্রিল। শেরাটন হালের রূপসি বাংলা হোটেলে বাংলাদেশের বুদ্ধিবিক্রেতাগণ এক সভার আয়োজন করেন। অবশ্য চর্বচোষ্য সহযোগে কিনা এটা জানা যায়নি। যেমনটা জানা যায়নি এই পঞ্চতারকা হোটেলের বলরুমের ভাড়া কার গাঁটের পয়সায় পরিশোধ করা হয়েছে।

Friday, March 30, 2012

মিনার মাহমুদ, এটা আপনি কী করলেন!

­
"শোনা গেল লাশকাটা ঘরে
নিয়ে গেছে তারে;...।"
মিনার মাহমুদ, লাশকাটা ঘরে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়াটা, কাজটা কী ঠিক হলো? এটা তো কোনো কাজের কাজ হলো না! ওই মানুষটা আপনার কানে কানে কি বলে গেল? ...আরো এক বিপন্ন বিস্ময় রক্তের ভিতরে খেলা করে..."? ব্যস, আপনি বিশ্বাস করে বসলেন? ধুর বোকা!
আচ্ছা, বিপন্ন বিস্ময় কি কেবল আপনাদের রক্তের ভেতরেই খেলা করে? আহা, আমাদের করে না বুঝি? আমারো যে চলন্ত ট্রেন, ছাদে ঝোলানো পাখা বড়ো টানে! অদেখা ঘুমে যে চোখ জড়িয়ে আসে, ইচ্ছা করে না বুঝি লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ি? কে বলল আপনাকে, ইচ্ছা করে তো, কী করা- কপালের ফের! কেন করে, আমি জানি না!

Tuesday, March 13, 2012

মাতব্বর!

­বিষয়টা পুরনো কিন্তু আবারও নতুন করে সামনে চলে এসেছে, ফেসবুকের একটি নোটের সূত্র ধরে। অনুবাদের একটা বিষয় নিয়ে সালাহ উদ্দিন শুভ্র, ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে কঠিন এক অভিযোগ এনেছেন [১]। ফারুক ওয়াসিফও পাল্টা এক নোট লিখে এর উত্তর দিয়েছেন [২]। কে ঠিক কে বেঠিক এটা আমার আলোচনার বিষয় না। এটা প্রমাণের দায় এঁদের উপরই বর্তায়। তাঁরা নোট চালাচালি করতে থাকুন...

Friday, March 9, 2012

Saturday, February 25, 2012

কাবাব মে হাড্ডি

গোটা শিরোনাম দূরের কথা পারতপক্ষে হিন্দি শব্দ নিয়ে একটি শব্দও এখন আর লিখতে চাই না কারণ এখন দাদাদের উপর গোটা দেশ ক্ষেপে আছে। লেখার কারণে আমার উপর কেউ চটে গেলে তো মুশকিল। অবশ্য চটে-মটে কেউ একটা দুম করে ঘুষি বসিয়ে দেবেন এই নিয়ে আমি খুব একটা উদ্বিগ্ন না কারণ পাঠক আমার নাগাল পাবেন কোথায়? আমার নাকের বদলে পাঠক রাগে নিজেই নিজের মনিটর নিজেই গুড়িয়ে দিলে আমি বলার কে?
অবশ্য আমি নিজেও এটা মনে করি,

Tuesday, February 21, 2012

আ মরি বাংলা ভাষা!

­আগে এক লেখায় লিখেছিলাম, "ফেব্রুয়ারি মাসটা আমাদের জন্য বড়ো জরুরি কারণ এই মাস এলেই আমরা ভাষার জন্য ঝাপিয়ে পড়ি, চোখের জল ফেলার সুযোগ পাই। বিস্তর কান্নাকাটি করি। আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরা তো কাঁদতে কাঁদতে অন্তর্বাস ভিজিয়ে ফেলেন! ফেব্রুয়ারি যাওয়ামাত্র যথারীতি আমরা সমস্ত কিছুই বিস্মৃত হই"! ...[১]

হে যুবক, হে নীরোগ, এভাবে চলে যেতে হয় না

­বাচ্চাদের জন্য 'মশা' নিয়ে কিছু লেখা লিখেছিলাম, কিটি মাস্ট ডাই: এক[১], কিটি মাস্ট ডাই: দুই[২]। বাচ্চাদের বইয়ে নাকি ছবি-টবি আঁকার কিছু বিষয় থাকে। নেশাখোর আর্টিস্ট ভেগে যাওয়ায় প্রকাশক ভাইয়ার সেই পরিকল্পনা ডোবায় তলিয়ে যায়। পরে আমিও বুদ্ধি করে এই লেখাগুলোই বড়দের বইয়ে ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম।

Wednesday, February 15, 2012

একজন সাগর এবং নড়বড়ে সাঁকোটা

ছবি ঋণ: আরাফাতুল্ ইসলাম
সাগর সরওয়ারের সঙ্গে তেমন স্মৃতি নাই আমার। আমার সঙ্গে একবারই দেখা হয়েছিল। ডয়চে ভেলের অফিসে। জার্মানিতে আমার সময়টা ছিল স্বল্প আর আমি ছিলাম দৌড়ের উপর। উল্লেখ করার মত স্মৃতি থাকার কথা না কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার স্মৃতি এখনও দগদগে কারণ...।

Sunday, February 12, 2012

কৈশোর!

­আহ কৈশোর! হারিয়ে যাওয়া কৈশোর? কি জানি! আমি তো বলি, কৈশোর ফিরে আসে বারবার। সম্ভবত কৈশোরের স্মৃতিই আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখে...।

আজকের অতিথি বিশ্বজিত পাল বাবু। তিনি লিখেছেন অন্য রকম এক কলম দিয়ে- 'ক্যামেরাকলম'। এ কলমে কালি বের হয় না এ সত্য, অবশ্য আজকাল আর কলমে কালি কোথায়! কীবোর্ড চেপে আর যাই হোক কালি বেরুবার যো নেই।
যাই হোক, কখনও-কখনও একটি ছবি যে হাজার-হাজার শব্দের চেয়ে শক্তিশালি তা আবারও জানলাম। ছবিগুলোয় বিশ্বজিত পাল বাবু খানিকটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছেন:

Friday, February 10, 2012

বাংলা ভাষার লড়াইয়ে উর্দুভাষী একজন তাজুল!

আজকের অতিথি লেখক, সমীর চক্রবর্তী। তিনি লিখেছেন অসাধারণ একজন মানুষকে নিয়ে। যে মানুষটা বাংলা ভাষার জন্য লড়াই করেছিলেন, তিনি উর্দুভাষী একজন মানুষ তাজুল ইসলাম!

সমীর চক্রবর্তী জানাচ্ছেন:
"ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি আসার পর থেকেই খুব করে চাচ্ছিলাম এ নিয়ে বিশেষ কোনো প্রতিবেদন করতে। কিন্তু গতানুগতিকের বাইরে কোনো বিষয় পাচ্ছিলাম না।

Friday, February 3, 2012

হাসপাতাল পর্ব, তেরো: মানবিকতা

আমি আগের এক লেখায় লিখেছিলাম, পেপার বিছানার কথা [১]। রাতে পেপার বিছিয়ে আরামে ঘুমিয়ে পড়তাম। প্রথম দিনই একটা ভজকট হয়ে গেল। সেলফোনে সকাল সাতটায় এলার্ম দিয়ে ঘুমিয়েছিলাম। সম্ভবত সাড়ে ছটা পৌনে সাতটা হবে, ঘুমের মধ্যে শুনছিলাম কে যেন বাঁজখাই গলায় চেঁচাচ্ছে, এই-এই, এইডা কেডারে, কেডা? ওই, ওই-ই ওইত...।
আমি চোখের সিকিভাগ খুলে ঘটনাটা বোঝার চেষ্টা করছিলাম। এরইমধ্যে একজন আমার কপালে ধাক্কা মেরে বলছে, উঠেন-উঠেন।

আমি উঠে বসে

Wednesday, February 1, 2012

নাচপুতুল-পুতুলনাচ

­

বন্ধুর জন্য এলিজি

­আমার এই বন্ধুর সঙ্গে পরিচয়পর্ব খানিকটা নাটকীয়! সালটা সম্ভবত ১৯৯৮। আমি কোনো এক কাজে বাসার বাইরে। একজন হাঁফাতে হাঁফাতে এসে বললেন, আপনার বাসার দিকে আর্মির গাড়ি গেছে। তখন কারো সঙ্গে কথা বলছিলাম, বিশেষ গা করলাম না। একটু পর আবারও একজন, তাড়াতাড়ি বাসায় যান, আর্মি আপনাকে খুঁজছে। আমি বাসার দিকে যেতে যেতে ভাবছিলাম, খোদা, এ আবার কোন মুসিবত!

Sunday, January 29, 2012

হাতুড়ি-ভাইয়া

ছবি ঋণ: প্রথম আলো, ২৫ জানুয়ারি, ২০১২
এটা একটা অসাধারণ ছবি। আমি অভিভূত! 'বঙ্গাল' বলে কথা!

Saturday, January 28, 2012

মিডিয়ার অপরাধ এবং মুক্তিযুদ্ধে 'জনৈক সালাউদ্দিন'

­দানবীর নূতন সিংকে নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম [১]। এই লেখাটা প্রথমে লেখা হয়েছিল অন্য একটি ওয়েবসাইটে, ২০০৭ সালে পরে আমার নিজস্ব সাইটে ২০১০-এ।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে নূতন সিংহের হত্যা আমার মনে অসম্ভব দাগ কেটেছিল অন্য কারণে। এই মানুষটিকে যখন হত্যা করা হয় তখন তিনি প্রার্থনারত অবস্থায় ছিলেন। এবং অতি ঘৃণ্য এই কাজটা করেছিল তারাই যারা ধর্মের ঝান্ডা টিকিয়ে রাখার জোর দাবী জানিয়ে আসছিল! সাচ্চা মুসলমান!

Thursday, January 26, 2012

অপুষ্ট জাতি!

­আমি এক লেখায় বলেছিলাম, "...ফল যা হওয়ার তাই হচ্ছে। ফি-বছর নিয়ম করে বাচ্চা! এখন আমাদের লোকসংখ্যা কত? ১৬ কোটি কি ছাড়িয়ে গেছে? আফসোস, আমাদের দেশে ৬ মাসে বাচ্চা হওয়ার কোন সুযোগ নেই নইলে আমরা অনায়াসে ভারত-চীনকে ছাড়িয়ে যেতে পারতাম। আরেক সুপার পাওয়ার হয়ে উঠতাম।  [১]
...স্বাস্থ্যসচিব হাইকোর্টে হলফনামা দিয়েছেন, এই দেশের সব দম্পতি পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত [২]

Saturday, January 21, 2012

মুখোশ!

­আমার বারবার বলে আসছি আমাদের দেশটা বড় বিচিত্র, ততোধিক বিচিত্র এই দেশের মানুষ। মাছের পচন শুরু হয় নাকি মাথা থেকে, হবে হয়তো। কিন্তু গোটা মাছটাই যে পচে গেছে, এখানে মাথা না লেজ এই কুতর্ক করে লাভ কী!
এখন এখানে প্রতিভা বিক্রি হয় কেজি দরে। একজন এই কথাটাই শুনে শ্লেষভরা কন্ঠে বলেছিলেন, কেনে কে? আপনি নিশ্চিত, হরেদরেও তাহলে বিক্রি করা যায়? আসলে ক্রমশ আমরা হয়ে উঠছি একেকটা যন্ত্রমানব হয়ে। ক্যারিয়ার, বড় হওয়ার জন্য শর্টকাট রাস্তা ব্যতীত অন্য কোনো রাস্তায় আমরা হাঁটতে চাই না। এই জন্য আত্মা বন্ধক রাখতে হলেও কোনো সমস্যা নাই। প্রয়োজনে আমরা বিক্রি করে দেব প্রিয়মানুষের লিভার-কিডনি।

Thursday, January 19, 2012

bsf- এক নেকড়ের নাম!

­ভুবনেশ্বর নামে অসম্ভব শক্তিশালী একজন লেখকের অসাধারণ এক গল্প পড়েছিলাম [১], বাপ-বেটাকে নেকড়ে দৌড়াচ্ছে। বাপ যখন দেখলেন বাঁচার আর কোনো উপায় নেই তখন পা থেকে জুতো জোড়া ছেলেকে দিয়ে নেকড়ের মাঝখানে লাফিয়ে পড়লেন।
সোজা কথায় নেকড়ের হাত থেকে যখন বাঁচা যাবেই না তখন নেকড়ের হাতে নিজেকে তুলে দেয়াটাই শ্রেয়, ন্যূনতম সম্পদ বাঁচল এই পাওয়া।

আজ ভুবনেশ্বরের এই গল্পটা, নেকড়ের কথা কেন মনে পড়ল?

Tuesday, January 17, 2012

আদালত-আইন এবং গতি!

­আদালত অবমাননার কারণে রুহূল আমিন নামের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত এ তো আমরা সবাই জানি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা করে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। তার এই কর্মকান্ড কতটা যুক্তিসঙ্গত আজকের লেখার বিষয়বস্তু এটা না। কলম এবং ছুঁরি মধ্যে মূলত খুব একটা পার্থক্য নাই। ছুঁরি দিয়ে কে আপেল কেটে খাবে কে চোখ উপড়ে ফেলবে, নির্ভর করবে কার হাতে ছুঁরিটা। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ...।

পত্র-পত্রিকা থেকে আমরা জানতে পাই, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক

Monday, January 16, 2012

একজন ভাগীরথী এবং অজ্ঞাতনামা রাজাকার

"অষ্টাদশী ভাগীরথী ছিল বরিশাল জেলার পিরোজপুর থানার বাঘমারা কদমতলীর এক বিধবা পল্লীবালা। বিয়ের এক বছর পর একটি পুত্র সন্তান কোলে নিয়েই তাকে বরণ করে নিতে হয় সুকঠিন বৈধব্য। স্বামীর বিয়োগ ব্যথা তার তখনও কাটেনি। এরই মধ্যে দেশে নেমে এল ইয়াহিয়ার ঝটিকা বাহিনী। গত মে মাসের এক বিকালে ওরা চড়াও হলো ভাগীরথীদের গ্রামে। হত্যা করলো অনেককে যাকে যেখানে যেভাবে পেলো।

এ নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের মধ্যে ভাগীরথীকে

Sunday, January 15, 2012

"যাহা ছাপিব সত্য ছাপিব, সত্য বৈ..."

মিডিয়ার লোকজনের কী দবদবা! একেকজন চলমান জ্ঞানের ভান্ডার! এঁরা হাঁটেন পা ফাঁক করে তবে সাবধানে, খানিক কাত হলেই জ্ঞান গড়িয়ে পড়বে যে!
কে সুশীল, কে কুশীল, কে সাহিত্যিক, কে সাহিত্যিক নন- কার লেখা পেশাবের ফেনা সবই এরা ঠিক করে দেন। কে সাদামনের মানুষ নাকি কালোমনের মানুষ সবই তার ইচ্ছা! জমিনের ঈশ্বর আর কী! হও বললেন হয়ে গেল।
তবে নিজেদের স্বার্থে আঘাত এলে এদের নোংরা মোজা ছোঁড়াছুড়ি নিয়ে কী নোংরামী হতে পারে এর খানিক নমুনা আমরা দেখেছি [১]!
এদের কু-কান্ড নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হয়েছে চর্বিতচর্বণ আর করি না [২], [৩]। তবে...।

Saturday, January 14, 2012

কালের কন্ঠ, ছাগুবান্ধব প্রিন্ট মিডিয়া!

­আমরা সাধারণ পাঠক ৮০০ পয়সা কবুল করে যখন পত্রিকা খরিদ করি তখন লক্ষ রাখি পয়সা কেমন উসুল হলো। যখন বাড়তিটা পেয়ে যাই তখন আমাদের আনন্দ দেখে কে। বিনে পয়সায় পাবলিক আলকাতরা খায় আর আমরা বিনোদন খাব না, তা কী হয়!

আমাদের দেশের সমস্ত মিডিয়া ইলেকট্রনিক-প্রিন্ট-ওয়েব পোর্টাল সবই ব্যবসায়ীদের হাতে। ব্যবসায়ী বলে কথা- এরা নিজেদের স্বার্থে মিডিয়াকে ব্যবহার করবেন এটা জানার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

Thursday, January 12, 2012

তিতাস: ধন্যবাদ, প্রথম আলো

তিতাস নিয়ে শেষ লেখাটায় বলেছিলাম, অচিরেই এই রাস্তা-বাঁধটা অপসারণ করা হবে [১]। এখন বলা যেতে পারে অতি দ্রুতই এই কাজটা এরা শুরু করেছিলেন। ধন্যবাদার্হ!

আমাদের প্রিন্ট মিডিয়ার অনেক 'নখরামি'। এমনিতে নখরায়ুধদের নখ দেখা যায় বটে কিন্তু মিডিয়ার নখ থাকে অপ্রকাশ্যে! এদের কর্মকান্ড বোঝা ভার।
আর এরা কখন কোন প্রতিবেদন ছাপাবেন তা নির্দিষ্ট করা আছে। যেমন ধরা যাক, মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন। ডিসেম্বর, মার্চ না-এলে এরা কলমই স্পর্শ করবেন না। দশ মাস কলম চিবুতে চিবুতে ইকড়ি-মিকড়ি খেলা খেলবেন। এরপর...এরপর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে অন্তর্বাস ভিজিয়ে ফেলবেন। সেই অন্তর্বাস রোদে মেলে দিয়ে রোদ পোহাবেন।

Saturday, January 7, 2012

তিতাস, ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরে যাচ্ছে

এই ছবিটির সূত্র: http://tinyurl.com/6lv3f57
­­ট্রানজিটের নামে তিতাসের মাঝখানে বাঁধ-রাস্তা তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল দেশবাসীর মধ্যে, আমার মধ্যে [১] 
এবং আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেছি, ৭২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে বাংলাদেশ ১০০ মেগাওয়াট পাবে বলে আশা করা হয়েছিল কিন্তু বাংলাদেশ ১ ওয়াট বিদ্যুতও পাচ্ছে না তাহলে আমরা এতো যন্ত্রণা করতে গেলাম কেন?

Friday, January 6, 2012

আমাদের কি দায় পড়েছে, দাদা?

তিতাস নদীর মাঝে রাস্তা করা নিয়ে তুলকালাম কান্ড হচ্ছে। আমি মনে করি, এই জাগরণ প্রতিবাদের অবশ্যই প্রয়োজন আছে। এখানে কাজ করেছে স্রেফ দেশের জন্য আবেগ।


Wednesday, January 4, 2012

ব্লগ বনাম প্রিন্ট মিডিয়া

আবারও চর্বিতচর্বণ, অসংখ্যবার আমি এ কথাটা বলেছি, ব্লগস্ফিয়ার, ব্লগের শক্তিটা আসলে আমরা আঁচ করতে পারছি না। আমি নিজেও না! কে জানে, একটা ব্লগ পরিবর্তন করে ফেলতে পারে কারো দৃষ্টিভঙ্গি, কোনো দেশের জাতীয় সিদ্ধান্ত। দেশটা কঙ্গো না তিউনিসিয়া সেটা আলোচ্য বিষয় না।...
কারণ ব্লগিং হচ্ছে নির্মেদ-মেদহীন। আমার ভাষায় যেটা বলি, টলটলে পানি- যার উৎস অদেখা ঝরনা। প্রিন্ট মিডিয়ায় যেটা সম্ভব না কারণ এরা বাড়তি মেদের ভারে পৃথুল!

সম্প্রতি এক আলোচনায় বলেছিলাম,

Monday, January 2, 2012

হাসপাতাল পর্ব, বারো: বর্জ্য

­আমরা হাতি কিনি কিন্তু হাতির খাবারের কথা চিন্তা করি না কারণ জাতি হিসাবে আমরা বড়ো হুজুগে! চিন্তার দৌড় আমাদের বড়ো সীমিত!
যেমন ধরা যাক, এই যে আমরা রাশিয়ার সঙ্গে শলা করে নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছি কিন্তু এই চুল্লি থেকে যে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য থেকে যাবে তার বিষয়ে আমাদের পরিষ্কার করে কোনো ধারণা নাই।
এই বর্জ্য কি রাশিয়া নিয়ে যাবে নাকি এটা আমাদের দেশের কোনো অংশে ফেলে দেয়া হবে এটা আমরা জানি না!
রাশিয়া এটা এখন ভাসা ভাসা স্বীকার গেলেও শেষপর্যন্ত