Sunday, May 8, 2011

রবিদাদা মরে বেঁচে গেলেন!

­রবীন্দ্রনাথের কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই আর আমাদের রবিদাদা মরিয়া প্রমাণ করিলেন আদৌ এই দিন দেখিবার জন্য তিনি বাঁচিয়া নাই। কী দিন, আহা, কী দিন!

ঘটা করে দুই বাংলায় রবিদাদাকে নিয়ে হইচই হচ্ছে। এতে কারও কোন আপত্তি নাই। তবে রবিদাদাকে নিয়ে এবার যে শব্দটা চালু হয়েছে সেটা হচ্ছে সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন। 'সার্ধ' জিনিসটা কি এটা আমার জানা ছিল না, এই নিয়ে লজ্জায় মুখ দেখাবার যো নেই। ভয়ে শেভ করা বন্ধ করে দেয়ার উপক্রম- আয়নায় নিজের মুখ নিজেই দেখি কেমন করে! কিন্তু তাই বলে জিনিসটা কি এটা জনে জনে জিজ্ঞেস করি কেমন করে? আমি মানুষটা নির্বোধ এটা বুঝি লোকজনকে বলে বেড়াব, পাগল!

ওয়াল্লা, এটা দেখি আমি ব্যতীত সবাই জানেন! পত্রিকাগুলোও সার্ধ সার্ধ করে আমার মার্ধ...(এটা অভিধানে পাওয়া যাবে না :( , খুঁজে লাভ নাই)! এমনকি সহজিয়া শব্দের কারিগর হুমায়ূন আহমেদও পত্রিকায় তাঁর এক লেখায় লিখেছেন, "রবীন্দ্রনাথের সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সারা বাংলাদেশে কত না উৎসব "! (যথারীতি তাঁর লেখায় শাওন চলে এসেছে। হুমায়ূন আহমেদের মত বউপাগলা বিরল!)
প্রধানমন্ত্রীও তাঁর ভাষণে বলেছেন, "আসসালামু আলাইকুম, ... কবিগুরুর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে..."।

যাই হাক, অভিধানে শব্দটা খুঁজে আমি উল্লসিত। সার্ধ মানে সাড়ে। দেড়শত বছর এটা না-বলে বলা হচ্ছে সার্ধশততম- 'সাড়ে একশত'। বাংলা ভাষাকে সহজ করার জন্য যে রবীন্দ্রনাথের কস্তাকস্তির শেষ ছিল না সেই রবীন্দ্রনাথের বেলায় দেড়শ লিখলে কেমন জাত গেল-জাত গেল ভাব না-হওয়াটা দোষের বৈকি। এখনই এই মানুষটাকে দেবতার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, "ওই আসে মহামানব"।

ছবি ঋণ: সাপ্তাহিক
এই মানুষটাকে নিয়ে আমাদের আয়োজনের শেষ নেই। কাজী নজরুল ইসলামকে উপলক্ষ করে কাজী শাহী মাটনের রেসেপীর জন্য বিখ্যাত রান্না কাম পুষ্টিবিশারদ কেকা ফেরদৌসি এবার রবিদাদার জন্য কি রান্না নিয়ে এসেছেন এটা মিস করে গেছি সম্ভবত।
দাদাকে নিয়ে এখন বেশ ফ্যাশনও হচ্ছে। সাপ্তাহিক (৫ মে ২০১১, পৃ: ৯৫) আয়োজন করেছে 'পোশাকে রবীন্দ্র চেতনা'।
বটে রে বটে, কত বুদ্ধি ঘটে! 'সাপ্তাহিক'-এর সম্পাদক হচ্ছেন গোলাম মোর্তোজা, ইনি সূক্ষ রূচির মানুষ বলে সমাদৃত। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়ও বিভিন্ন উঁচুমার্গের বাতচিত করেন।

'পোশাকে রবীন্দ্র চেতনা' ফিচারটি প্রস্তুত করেছেন, কাজী বৃষ্টি রহমান। জ্ঞানের বৃষ্টিতে ভিজে পাঠক জবজবে!
এখানে ছবিতে আমরা যে মডেল সাহেবানকে দেখতে পাচ্ছি তিনি কেমন করে রবীন্দ্র চেতনা উসকে দিচ্ছেন এটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। যে ঢঙ্গে শাড়ি পরেছেন এটা মধ্যে কেমন করে রবিদাদা আলো ছড়াচ্ছেন। রবিদাদা শাড়ি পরতেন এমনটা তো শুনিনি! কি বললেন? রবিদাদা না, তাঁর পরিবারে মহিলা সদস্যরা পরতেন। কি জানি বাপু হবে হয় তো!

তা স্লিভলেস ব্লাউজ কি রবিদাদার পরিবারের লোকজনরা চালু করে দিয়ে গেছেন, কবিগুরুর উৎসাহে? কী জানি, হতেও পারে! যে মানুষটা সার্ধর অর্থ জানে না সেই মানুষটা এই সব প্রশ্নের উত্তর জানবে এমনটা আশা করা বাড়াবাড়ি, স্রেফ বাড়াবাড়ি...।