Search

Loading...

Monday, May 30, 2011

এন্টিকে রঙের প্রলেপ চড়াবার মত বোকামি আর নাই

­বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাইটে লেখা আছে:
­"... রুহুল আমিন নিয়োগ পান ‘পলাশের’ ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার হিসেবে। ৯ই ডিসেম্বর কোন বাধা ছাড়াই তারা হিরণ পয়েন্টে প্রবেশ করেন। পরদিন ১০ই ডিসেম্বর ভোর ৪টায় তারা মংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সকাল ৭টায় কোন বাধা ছাড়াই তারা মংলায় পৌছান। পেট্রোল ক্রাফট চিত্রাঙ্গদা মংলাতেই অবস্থান নেয় এবং পানভেল, পদ্মা ও পলাশ সামনে অগ্রসর হওয়া আরম্ভ করে। দুপুর ১২টায় তারা খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছাকাছি পৌঁছান। এমন সময় তাদের অনেক উপরে তিনটি জঙ্গি বিমান দেখা যায়। পদ্মা-পলাশ থেকে বিমানের উপর গুলিবর্ষণ করার অনুমতি চাইলে বহরের কমান্ডার বিমানগুলো ভারতীয় বলে জানান। ...

Saturday, May 28, 2011

মজিবর রহমানদের চলে যাওয়ার অপেক্ষায়

Gulzar Hossain Ujjal, চমৎকার একটি লেখা লিখেছিলেন, 'একজন আউটসাইডার, মজিবর রহমান দেবদাস [১]'।
আমি খানিকটা ভাবনায় ছিলাম এই লেখার পেছনে সূত্র নিয়ে। এর রেশ ধরে দেখা শুরু করলাম, 'কান পেতে রই'। একটি তথ্যচিত্রের মধ্যে যে মুনশিয়ানার ছাপ থাকা প্রয়োজন তার কোন অভাব এর মধ্যে ছিল না- অসাধারণ এক তথ্যচিত্র!
'কান পেতে রই' তথ্যচিত্রটা না-দেখলেই ভাল করতাম কারণ আমার বড়ো কষ্ট হচ্ছিল। কষ্ট হচ্ছিল এই কারণে আমরা যে কত বড়ো অসভ্য, বর্বর এটা নতুন করে জেনে। মানুষখেকো আফ্রিকান কোন এক উপজাতি যখন কাটা মুন্ডু নিয়ে উল্লাস করে তখন আমাদের চোখে সহ্য হয় না। ফালতু, এই সব কোন ছার! আমাদের নিজের কান্ড দেখে আমাদের নিজেরই সহ্য হয় না!

Thursday, May 26, 2011

একজন আউটসাইডার, মজিবর রহমান দেবদাস

­*মজিবর রহমানদের চলে যাওয়ার অপেক্ষায়...: http://www.ali-mahmed.com/2011/05/blog-post_28.html

আজকের অতিথি লেখক আবারও Gulzar Hossain Ujjal, তিনি লিখেছেন আমাদের অন্ধকার এক ভুবন নিয়ে। অথচ এই অন্ধকারের পেছনেই ছিল থইথই জ্যোৎস্না:

"পর্দায় দেখতে পাচ্ছি কাঁদছেন এই গল্পের কথকও। একটা ধাক্কার মত লাগলো যেন। আমি দুর্বল চিত্তের মানুষ। যা ভেবেছিলাম তাই হলো, আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। কান্না আসলেই সংক্রামক।
ভেবেছিলাম আর লিখবনা। কি হয় এই সব লিখে টিখে? কিন্তু অবরুদ্ধ কষ্ট আরো ভয়াবহ। এই কষ্টের ভার সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে বরং কিছুটা আরাম হয়। একটু নির্ভার লাগে। এটা এরকমই একটা প্রয়াস। দেখছিলাম অধ্যাপক মজিবর রহমান দেবদাসকে নিয়ে মফিদুল হকের বানানো একটা ডকুমেন্টারি 'আমি কান পেতে রই'। আসুন একজন দেবদাসের, একজন আউটসাইডারের গল্প শুনি।

Wednesday, May 25, 2011

'সাই-ফাই' লেখক হওয়ার তরিকা

­আজকের অতিথি লেখক শওকত আলী। তিনি বাতলাচ্ছেন 'সাই-ফাই' লেখক হওয়ার তরিকা:

"স্যার, আমায় চিনতে পেরেছেন?
-না।
ফাস্ট ইয়ার, সায়েন্স ডিপার্টমেন্ট। আমি আপনার সবগুলি ক্লাস নিয়মিত এটেন্ড করতাম।’
-হ্যা, এইবার চিনতে পেরেছি। আমার সবগুলি পরীক্ষায় তুমি নিয়মিত ফেল মারতে। তা এখন কি করছ?


এই তো স্যার, লেখালেখি করে পেট চালাই আর কি।‌
-ও আচ্ছা! আচ্ছা কেউ যদি তোমার পেটের দায়িত্ব নিয়ে নেয় তবে তুমি আর লেখালেখি করবা না, নাকি?

Tuesday, May 24, 2011

বৈদ্য!

­আজকের অতিথি Gulzar Hossain Ujjal, তিনি লিখেছেন ডাক্তারদের নিয়ে:
"খবরদার হাত দেবেন না। হাত সরান বলছি। হাত উপরে, উপরে। ভাল করে দেখতে দেন, নইলে চিকিৎসা নাই। 
প্রায় পঞ্চাশ জন লোকের সামনে ভরা ওয়ার্ডে চলছে পঞ্চাশোর্ধ এক হার্নিয়ার রোগী দেখা। ডাক্তার সাহেব একজন সহকারী অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগের। অসহায় রোগীর সম্ভ্রম লুটিয়ে পড়ে মলিন লুঙ্গির সঙ্গে ওয়ার্ডের ততোধিক মলিন মেঝেতে।

Sunday, May 22, 2011

আমার কদমবুসি করার জন্য লিমনের এক পা-ই যথেষ্ঠ

­ফ্রিডম বইয়ের ভূমিকায় আমি লিখেছিলাম, "বীরাঙ্গনা রীনা, প্রকাশ্যে- ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার পা ধরে রাখব যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি বলবেন: এই প্রজন্মকে ক্ষমা করেছেন"।
এটা কেবল লেখার জন্য লেখা হয়নি; এটা আমার একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। বীরাঙ্গনা রীনার খোঁজ কেউ দিতে পারলে বইমেলায় হাজার-হাজার মানুষের সামনে সত্যি সত্যি আমি পা ধরে বসে থাকতাম। পা ছাড়তাম না, এই ভদ্রমহিলা যতক্ষণ পর্যন্ত না-বলতেন এই প্রজন্মকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন।
এখানে আসলে বীরাঙ্গনা রীনা [১] বলে আলাদা করে কেউ ছিলেন না। সমস্ত বীরাঙ্গনাদের প্রতি আমরা যে অন্যায় করেছি এই প্রজন্মের পক্ষ থেকে কেবল আমার খানিকটা ঋণ শোধ করার চেষ্টা মাত্র।
পরবর্তীতে আমরা চেষ্টা করেছি [২] এও বা কম কী! অনেকে বলবেন এতো বছর পর এই চেষ্টা করলে লাভ কি, এর উত্তর হয় না আসলে!

কিছু কিছু মানুষের কর্মকান্ড দেখে আমি হাঁ হয়ে যাই। মনে হয়, পা ধরে সালাম করি। সত্যি সত্যি যেমনটা ইচ্ছা হয়েছিল বীরাঙ্গনা রীনার বেলায়, সাবেক প্রধান বিচারপতির বেলায়ও [৩]। আজ আবারও ইচ্ছা করছে লিমনের পা ধরে সালাম করার।
লিমন নামের এই মানুষটার ক্ষমতা দেখে আমি হতভম্ব! একজন মানুষের এই বিপুল ক্ষমতার উৎস কোথায়? লিমন নামের মানুষটাকে নিয়ে কিছু লেখাও আমি লিখেছিলাম [৪], [৫]। 

কিন্তু আমি নির্বোধ তখনও পুরোপুরি আঁচ করতে পারিনি লিমন এই মানুষটার ক্ষমতার নমুনা। কী সর্বনাশ, এক পায়ের এই মানুষটার প্রতি ১৬ কোটি মানুষের সরকার তার সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করছে! এটা ভেবে বসাটা বাতুলতা হবে না যে এই দেশের সমস্ত বন্দুক-কামান-মিসাইল তাক করে রাখা হয়েছে লিমন নামের মানুষটার প্রতি। এমন একটা মানুষের পা ধরে সালাম করার ইচ্ছাটা বিচিত্র না!
হা ঈশ্বর, লিমন নামের মানুষটার এক পায়ের স্থলে দু-পা থাকলে না-জানি কী সর্বনাশ হয়ে যেত! তখন আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র এই মানুষটাকে আটকাত কেমন করে? তখন কি আমরা অন্য দেশের সহায়তা চাইতাম? আমাদের দেশের উদ্দেশ্যে সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম নৌবহর যাত্রা শুরু করত? ১৯৭১ সালে আমেরিকার সপ্তম নৌবহর রওয়ানা হয়েছিল আমাদেরকে কাবু করতে; এবার ২০১১ সালে দশম নৌবহর রওয়ানা হতো আমাদেরকে রক্ষা করতে!

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক লিমনের বিষয় নিয়ে এমন ভঙ্গিতে ঝাপিয়ে পড়েছেন যে নমুনা দেখে মনে হচ্ছে লিমনের কারণে সম্ভবত প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে! এখন এটা আমাদের বিশ্বাস না-করে উপায় নেই, অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। কারণ তারেক আহমেদ সিদ্দিক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা।

পত্রিকায় এসেছে [৬], সিদ্দিক সাহেব বলেছেন, "...লিমন মোরশেদ জমাদ্দার সন্ত্রাসী বাহিনীর সঙ্গে জড়িত। এমনকি তার বাবাও জড়িত...।...র‌্যাব মহাপরিচালক বলেছিলেন, লিমন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিল না। কিন্তু প্রকাশিত সংবাদে 'শীর্ষ' শব্দটা বাদ দেয়া হয়েছে...।"
যাক, কেঁচো খুড়তে গিয়ে কেবল সাপ না সাপের মাথার মনিও বেরিয়ে এসেছে। মনিটা বড়ো হলে সর্বনাশ হয়ে যেত। একদা আমাদের কাছ থেকে ব্রিটিশরা কোহিনূর লুটে নিয়ে গেল। এখন এই সাপের মনিটাও কেউ-না-কেউ লুটে নিয়ে যেত। খামাখা চোর-চোট্টা ব্রিটিশদের এই নিয়ে বিস্তর মিথ্যাচার করতে হতো [৭]। মিথ্যা বলা থেকে ব্রিটিশরা বেঁচে গেছে এই কারণে আমরা একটা ট্রফি পেতে পারি। আমাদেরকে ট্রফি না-দেয়াটা অন্যায় হবে!
কালই যদি শুনি কেবল লিমন এবং তার বাবাই না, লিমনের মা-বোন-ভাই, তার চৌদ্দপুরুষ মোরশেদ জমাদ্দার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য ছিলেন অন্তত আমি মোটেও অবাক হব না। 

ঋণ: শিশির, প্রথম আলো
এই ট্রফি পাওয়ার আনন্দে আজ আর আমরা এই ফিযুল প্রশ্ন করব না:
১. লিমন সন্ত্রাসী, এই সম্বন্ধে গোটা দেশবাসী যা জানে তা মিথ্যা, কি সত্য?
২. লিমনের বাবাকেও সন্ত্রাসী বানাবার জন্য আমাদেরকে আরেকটা ট্রফি দেয়া যায়, কি যায় না?
৩. বিচারাধীন একটা মামলা সম্বন্ধে এমন মন্তব্য কেউ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়ার বিধান আমাদের দেশের আইনে আছে, কি নাই?
৪. র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেছিলেন, লিমন দুর্ঘটনার শিকার। এখন দেখা যাচ্ছে, এই বক্তব্য পত্রিকাওয়ালারা ফটোশপের কাজ করে বিকৃত করে ছেপেছে। তাহলে ওইসব পত্রিকার বিরদ্ধে ফটোশপের এহেন কাজ করার জন্য কোন শাস্তি কি হবে, কি হবে না?
৫. আমাদের দেশে পাটমন্ত্রী কথা বলেন যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার নিয়ে। তো, সিদ্দিক সাহেব লিমনকে নিয়ে নিয়ে কথা বলবেন, এতে অবাক হওয়ার কী আছে! 
৬. লিমনের পাশে থাকার কারণে মানবাধিকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কোন অভিযোগ আনা হবে, কি হবে না?  

সহায়ক সূত্র:
১. বীরাঙ্গনা রীনা: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_7644.html 
২. কে চাইবে তোমাদের কাছে ক্ষমা?: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post.html
৩. প্রধান বিচারপতি: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_13.html
৪. জমিনের ঈশ্বর: http://www.ali-mahmed.com/2011/04/blog-post.html
৫. আমি আতঙ্কিত, শঙ্কিত: http://www.ali-mahmed.com/2011/05/blog-post_07.html
৬. পত্রিকার সংবাদ: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=1&date=2011-05-21
৭. কোহিনূর: http://www.ali-mahmed.com/2011/01/blog-post_18.html

Saturday, May 21, 2011

ভাবের এক নেশা: সীসা!



কে



তি
থি

লেখক, নিশম সরকার। লিখেছেন সীসা নিয়ে: 


Wednesday, May 18, 2011

গ্রহ অধিপতি, আমরা আভূমি নত হই!

­একটা গ্রহের সবই থাকে। এই গ্রহেরও যেমন আছে গ্রহপিতা, আমেরিকা [০]। এই গ্রহের প্রত্যেক সন্তানের পশ্চাদদেশে আমেরিকার স্নেহের হাত নাই, এমনটা আউট অভ কোশ্চেন! এই গ্রহের গ্রহপিতা আমেরিকা কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের এই গ্রহমাতা বা গ্রহের মা নাই! গর্দভ নাকি গর্বাচেভ নামের এক প্রাণী টাকা খেয়ে (!), না যেন পেরোস্ত্রাইকার সুগার কোটেড ট্যাবলেট খাইয়ে এ গ্রহের মাকে হত্যা করেছিল! মা-মা-মাগো, আমরা মাতৃহারা হলাম! ইয়াতিম হলাম! 
অবশ্য এতেও কোন দ্বিমত নেই, গ্রহপিতা অমেরিকার সঙ্গে হাত মেলাবার পর নিজের হাতের আঙ্গুল গুণে না-দেখাটা বোকামির শেষ!

এই গ্রহের যথারীতি অধিপতিও আছে, গ্রহঅধিপতি। ইসরাইল। এই গ্রহের অধিপতিকে যারা অস্বীকার করেন এদের নাস্তিকের সমতুল্য বলা যায়, কি যায় না এটা নিয়ে একটা থিসিস করা যেতে পারে। এই যে গ্রহবাবা আমেরিকা তারও বাবা কিন্তু ইসরাইল। একবার ভুলে গ্রহ অধিপতিকে গ্রহপিতা লিখে ফেলেছিলাম [১]!

ইসরাইল আবারও গাজা অভিমুখি ত্রাণবাহী জাহাজে গুলি চালিয়েছে, এই কান্ডটা এরা আগেও বহুবার করেছে! Perdana global peace foundation -এর একটি জাহাজ। যার চিফ-Adviser হচ্ছেন Datuk Mukhriz Tun Mahathir ।
মিসরের জল-ভূমিতে দাঁড়িয়ে ইসরাইলিরা গুলি চালিয়েছে এই ত্রাণবাহী জাহাজে, ভাবা যায় [২]! ওখানে যা ঘটেছিল তার খানিকটা এখানে উঠে এসেছে:
"...The Israelis then headed to the back of the aid vessel and released a second warning shot into the air.
Derek Graham: “This is a violation (of international law). We are on a peaceful mission and unarmed.”
Israeli army: “Turn around. We will fire again”.
Derek Graham: “You are firing towards unarmed civilians”.
Israeli army: “We didn’t fire towards unarmed civilians”.
Derek Graham: “Looks like firing towards us.”
Israeli army: “We didn’t fire towards you. That is only a warning shot”.
Following that conversation, the Israeli army fired two more shots and threatened: “Next time, we will land on your ship”.
Then the Egyptian navy was heard telling the Israelis on the radio: “Stop firing. They are in the Egyptian waters”.
Upon realising the presence of Egyptian naval forces, the Israelis departed."

আহা, ইসরাইল কেন গুলি চালাবে না? অধিপতি-ঈশ্বর বলে কথা! অধিপতি-ঈশ্বরের কাজ নিয়ে প্রশ্ন করা যায় বুঝি! সে তো করে শিশুরা! আমরা কি শিশু, শিশু না।

এই জুইশদের এক হওয়া নিয়ে স্বয়ং আইনস্টাইন যা বলেছেন তা আঁচ করার জন্য যথেষ্ঠ [৩]! আইনস্টাইন বলেছিলেন:
"There are no German Jews, There are no Russian Jews, There are no American Jews ...There are in fact only Jews."

এরা কেমন দানব হয়ে উঠেছে এর একটা উদাহরণ হতে পারে এটা। ১১০ ফিলিস্তানিকে একটা ভবনে আটকে রেখে বোমা মেরে প্রায় সবাইকে মেরে ফেলে, ওখানে অন্তত ৩০জন শিশু, নারি ছিলেন। এই কাজের জন্য এই গ্রহের কেউই এদের গোপন কেশ দূরের কথা বগলের কেশও স্পর্শ করতে পারেনি! গ্রহঅধিপতি বলে কথা!
বাতিল পুতুলের মত ছোট-ছোট শিশু পড়ে থাকে। বাবার জান্তব চিৎকার কী চমৎকারই না-শোনায় গ্রহঅধিপতির কানে!

­এই ইসরাইলি বা ইহুদিদের ক্ষমতা কতটুকু এটা আঁচ করা মুশকিল। জুইশ কমিউনিটি বা ইহুদি সম্প্রদায়কে নিয়ে মাহাথির মোহাম্মদ বলেছিলেন, "পরোক্ষভাবে ইহুদিরাই বিশ্বকে শাসন করছে। আমেরিকা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে আর আমেরিকাকে নিয়ন্ত্রণ করে জুইশ কমিউনিটি। বিশ্বের অস্ত্র, মিডিয়া, ব্যাংক থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রেই জুইশ কমিউনিটির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে পুরোপুরি। গত ৫০ বছরেও বেশি সময় ধরে প্যালেস্টাইনের উপর তারা যে অন্যায় করেছে তা Clash of Civilisation-এর মোড়কে বৈধ করে নিয়েছে পশ্চিমি সমাজ। বুশের প্রকাশ্যে সমর্থন ছিল ইহুদিদের প্রতি। আর কন্ডোলিনা রাইস তার প্রথম ইসরাইল সফরের পর বলেন, 'নিজের বাড়িতে ফিরে আসা"।"

অথচ এদের শিশুগুলো কী লক্ষী! এরা যে মিসাইলের গায়ে মজার মজার কথা লিখে, চোখের নিমিষে ওই মিসাইলগুলো ছটফটে শিশুদের নিমিষেই বাতিল পুতুলে রূপান্তরিত করে।[৪]

আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি, কারণ এ ব্যতীত আমাদের কী-ই বা করার আছে! জুইশ কমিউনিটি থেকে এসেছেন স্ট্যানলি কুবরিক, রোমান পোলানস্কি, উডি অ্যালান, এলিজাবেথ টেইলর, ডাস্টিন হফম্যান, হ্যারিসন ফোর্ড, ডগলাস, বব ডিলান, ডেভিড কপারফিল্ড, আসিমভ, আইনস্টাইন, হুডিনি, কাফকা- এই তালিকা অনেক লম্বা [৫]। (কেবল এই অংশটুকু মোহাম্মদ মাহামুদুজ্জামানের লেখা থেকে নেয়া)
এরা অসাধারণ লোকজন। চমৎকারসব মুভি বানিয়ে, অভিনয় করে, ফিকশন লিখে আমাদেরকে কাঁদান, আমরা কাঁদি। 

মিডিয়ায়ও এদের দাপটের শেষ নাই। টাইম ওয়ার্নার-ওয়ার্নার ব্রাদার্স, এদের সহযোগি প্রতিষ্ঠান AOL, HBO, ­সিনেমেক্স, পলিগ্রাম এদের নাম কে না জানে? ওয়ার্নার ব্রাদার্সের মূল প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ইহুদি, চিফ এক্সিকিউটিভ বা সি,ও জেরাল্ড লেভিন ছিলেন ইহুদি। টেড টার্নারের সি, এন, এন হাল ছেড়ে দেয় ওয়ার্নার ব্রাদার্সের কাছে। ছড়ি ঘোরাত ওয়ার্নার ব্রাদার্স। এরা কেমন করে লোকজনকে প্রভাবিত করে এর একটা উদাহরণ দেয়াটা সমীচীন হবে।
নাইন ইলাভেন। টুইন টাওয়ার ধ্বংশ হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের ফুটেজ দেখানো হচ্ছিল। একটা ফুটেজ সাধারণ মানুষকে হতভম্ব করেছিল সেটা হচ্ছে, এই ধ্বংশের পর প্যালাস্টাইনরা আকাশে শূণ্যে গুলি ছুঁড়ে আনন্দ প্রকাশ করছে। এই দৃশ্য দেখে যে-কোন সচেতন মানুষ আহত হবেন এতে সন্দেহ কী!
কিছুদিন পর সিএনএন খুবই অবহেলার সংগে টেলপে লিখে জানায়, ফুটেজটি ছিল পুরনো এবং এটা ভুলবশত দেখানো হয়েছে।


ইসরাইলকে নিয়ে এক লেখায় আমি লিখেছিলাম:
"এদের ধারণা মুসলমান মানেই টেররিস্ট- এরা নিজেরা সব ধোয়া তুলসি পাতা! ক-দিন পূর্বে, ইসরাইলে নির্বাচনের পূর্বে ইসরাইলি কর্তৃক যে শোডাউন করা হয়েছে, সেসব ছবি আমরা দেখেছি আধুনিক মিডিয়ার কল্যাণে।
এর পর কেবল একটা কথাই বলা চলে এবং আমি নিশ্চিত, পুতুপুতু টাইপের একটা বালকের হাতেও যদি ক্ষমতাটা দেয়া হয় সে কালবিলম্ব না-করে ইসরাইল নামের দেশটি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলবে।" ...

সহায়ক সূত্র:
০. Perdana global peace foundation: http://www.theborneopost.com/?p=130563
১. ইসরাইল: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_15.html
২. জয় হোক গ্রহবাবার: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_05.html
৩. জুইশ...: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_10.html
৪. জুইশ শিশুদের দানব হওয়া...: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_7757.html
৫. সবই জুইশ!: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_7757.html

Tuesday, May 17, 2011

একজন স্বপ্নদ্রষ্টার স্বপ্নের ভুবন থেকে বিদায়!

­আজকের অতিথি লেখক আরাফাতুল ইসলাম। তিনি লিখেছেন, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা প্রফেসর ইউনূসকে নিয়ে:

"গ্রামীণ ব্যাংক একটি বিশেষায়িত ব্যাংক। ১৯৮৩ সালে এই ব্যাংকটি আনুষ্ঠানিক সরকারি অনুমোদন পেয়েছিল তবে, এই ব্যাংক তথা ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস গবেষণা শুরু করেছিলেন আরো আগে থেকে, সেই ১৯৭৬ সালে। যখন তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। জনাব ইউনূস শনিবার তাঁর সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন,
'...যে ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়েছিল ৮৫৬ টাকা দিয়ে সে ব্যাংক এখন মাসে এক হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করছে...'।

Monday, May 16, 2011

একজন এলেক্স এবং তার গান...

আজকের অতিথি রাশিয়ার Александра Махно

বিস্তারিত এখানে জরুরি না। ছোট করে বললে, এলেক্স। অয়স্কঠিন একজন! এলেক্সের যে বিষয়টা আমাকে নাড়া দিয়েছে সেটা হচ্ছে, এ গান এবং গান দুই-ই সমান পছন্দ করে। গান পছন্দ করে এমন সমঝদারের অভাব নাই কিন্তু তাই বলে ইংরাজি গান, অস্ত্রপাতি- পিস্তল, কমব্যাট নাইফ! এবং তার আছে নিজস্ব পিস্তল, ছুঁরি...!

রাত গড়ায়। তখন এর হাতে উঠে আসে অন্য আরেক অস্ত্র, পেন্সিল। সৃষ্টি হয় পেন্সিল স্কেচ নামের চমৎকারসব ছবি!

Sunday, May 15, 2011

একজন গানযোদ্ধা- একজন মুক্তিযোদ্ধা!

­আজ থেকে অতিথিদের লেখা যুক্ত হচ্ছে। কারও লেখা দেয়ার প্রয়োজন বোধ করলে লেখকের অনুমতিক্রমে এখানে প্রকাশিত হবে। আজকের পর্বটি লিখেছেন: Gulzar Hossain Ujjal,  লেখার শিরোনাম কেবল বদলে দিলাম।

“মুক্তির গান” ছবিতে মাহমুদুর রহমান বেণু
"মাহমুদুর রহমান বেণুর নামটি প্রথম কবে শুনি? ঠিক মনে পড়ে না।

তবে তাঁর গান মনোযোগ দিয়ে প্রথম শুনি খুরশীদ স্যারের বাসায়। (খুরশীদ স্যার, মানুষটার কাছে আমার ঋণের শেষ নেই। আমারে তুমি অশেষ করেছ….)।
দুই হাজার চার সালের দিকে হবে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে মাহমুদুর রহমান বেনুর একটা অ্যালবাম বেরিয়েছিল। খুরশীদ স্যার চেয়েছিলেন আমি যেন বেনুর গাওয়া নজরুল সঙ্গীত 'প্রভাত বীনা তব বাজে' গানটি শিখি। ক্যাসেট প্লেয়ার বাজছে, আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছি। ভোকাল থ্রোয়িংটা অসাধারণ! গলায় কি জোর ! একদম যাকে বলে টেনর (TENOR) ভয়েস। পৌরুষদীপ্ত কন্ঠ, কোন কৃত্রিমতা নেই। জোর করে গলাটা মিষ্টি করার চেষ্টা নেই।

স্যার চান আমি যেন সুরটা কপি করি, সাথে তাঁর গাওয়ার ভঙ্গিটাও যেন আয়ত্ব করি। এ এক সমস্যা! আমাকে যে স্যার কী মনে করেন! কার সাথে কি? এরকম ভরাট গলা আমি কোথায় পাব! আর গানটায় যে অজস্র সুরের খেলা! তাও আবার ভৈরবী রাগের ওপর। রাগ-রাগিনীতে আমার দখল নেই বললেই চলে। আমি হলাম শ্রুতিধর। শুনে শুনে গাই, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত হোক আর ব্যান্ড সঙ্গীতই হোক। গানের তত্ত্বজ্ঞানও তথৈবচ। আমি বললাম ক্যাসেটটা দেন। আর দু সপ্তা সময় দেন, দেখি তুলতে পারি কিনা?

স্যার বললেন, "বেনু ভাইয়ের আরেকটা পরিচয় আছে। 'বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা' বলে যে দলটা মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে ক্যাম্পে গান শুনিয়েছিল, যাদের ভিডিও ফুটেজ নিয়ে পরবর্তী কালে ‘মুক্তির গান’ বলে একটা ছবি হলো, বেনু ভাই ছিল তার দলনেতা"।
আমি অবাক হলাম। জানতাম না তো! ‘মুক্তির গান’ ছবিটা তো দেখেছি। লিয়ার লেভিনের ভিডিও ফুটেজ অবলম্বনে তৈরী তারেক মাসুদের ছবি। ছবিটার প্রসংগ এলেই সবাই খালি তারেক মাসুদের নাম করে। কিন্তু এই মাহমুদুর রহমান বেনু’র নামটাতো কেউ একবারও নেয় না। কী অদ্ভুত! কী অন্যায়! অথচ তিনিই এই দলটার দলনেতা। আরেকটা মানুষ এ দলটার পেছনে ছিলেন ছায়া হয়ে। নেপথ্যে নেতৃত্ব দিয়েছেন, উৎসাহ যুগিয়েছেন। তিনি হলেন সঙ্গীত গুরু ওয়াহিদুল হক। বেনু তাঁর প্রিয় ছাত্রদের একজন। দলটির প্রায় সবাই ছিল তার প্রত্যক্ষ ছাত্র। তার ভাবনা, পরিকল্পনা আর উৎসাহের ফসল এই গানের দলটি। অথচ চিরটা কাল এক্ষেত্রে তিনিও অপাংক্তেয়, অনুচ্চারিত।


যাই হোক ক্যাসেটটা বাসায় নিয়ে এলাম। শুনতে লাগলাম মাহমুদুর রহমান বেনু। সত্যিই এক অদ্ভুত কন্ঠ। গানটা যখন বাজে পুরো ঘরটা তখন সুরে ভরে যায়। ভৈরবীর সুরে ভোর নেমে আসে । 'ভোরের হাওয়ায় ঘুম ভাঙ্গাতে এলে চুম হেনে নয়ন পাতে….'।
এই বিরল কন্ঠের মানুষটা এখন লন্ডন থাকেন। হয়তো অভিমান। এদেশে তার গানের যোগ্য কদর হয়েছে কি? কিছুদিন আগে শাহবাগের সুর কল্লোলে (আমার সেই সিডির দোকান, যেখান থেকে নিয়মিত সিডি কিনি) গিয়ে সিডি দেখছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়লো বেনু ভাইয়ের নতুন একটা গানের সিডি। এটা কবে বেরুলো? দোকানের বয়স্ক মালিক (তিনি একজন বিশিষ্ট সুর রসিক, অনেক বড় বড় শিল্পীর সাথে তার জানাশোনা) জানালেন, “গত বছর বেনু ভাই নিজে হাতে তিনটি কপি দিয়ে গেছেন। দুটো বিক্রি হয়ে গেছে, এই একটাই আছে। ভাল কথা, আপনি তার গান শোনেন?” ভদ্রলোক আমার দিকে একটু অন্যরকম চোখে তাকালেন।


আমি বললাম, “শুনি তো বটেই, মাঝে সাঝে গিলিও”। মানুষটার চোখে আনন্দ খেলা করে। কেন করে সেটা আমি বুঝি। ভদ্রলোক বলেই চলেছেন, “জানেন তো উনি লন্ডনে থাকেন। মুক্তিযুদ্ধের পর দুবছর বাংলাদেশে ছিলেন । তারপর থেকেই বাইরে। লন্ডনে পিএইচডি করতে গিয়েছিলেন । গানের নেশায় আর পিএইচ ডি করা হয়নি। সেই রাগে বউ তাকে ছেড়ে চলে এসেছেন বাংলাদেশে। আর উনি এখন ওদেশে বাংলা স্কুলের টিচার। গানও শেখান। লন্ডনের সব কালচারাল অনুষ্ঠানেই তিনি পুরোধা। জানেন, এই অ্যালবামটা কোনও প্রযোজনা সংস্থা বের করেনি। উনি নিজের উদ্যোগে নিজ খরচায় রেকর্ড করিয়ে নিজেই বিলি করছেন।"

আমি অবাক হই না। এই দেশে শুদ্ধ শিল্পী, শুদ্ধ মানুষ কারুরই খুব একটা কদর হয় না। এরা এই সমাজের ব্যর্থ, অচল মানুষ। প্রবাস জীবন নিয়ে যতই নেতিবাচক কথা বলি না কেন এ কথা কিন্তু সত্যি, বিদেশ এদের অঞ্জলী পেতে গ্রহন করে। বিদেশ এদের সম্মান, প্রতিষ্ঠা সব দেয়।
একজন মাহমুদুর রহমান বেনু, যিনি ‘বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা'’র অন্যতম সংগঠক ও দলনেতা, মুক্তিযুদ্ধের মহান কন্ঠসৈনিক, সর্বোপরি একজন শুদ্ধ সঙ্গীতের সাধক শিল্পী- এ প্রজন্মের ক’জন তাকে চেনে? রাষ্ট্র তাকে কি সম্মান দিয়েছে শিল্পী হিসেবে কিংবা মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের জন্য। আমাদের সংবাদপত্রগুলো ডিসেম্বর আর মার্চ এলে নানান রকম আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। সেই আয়োজনেও চোখে পড়েনা একজন মহান বেণুকে নিয়ে। অবাক লাগে ইত্তেফাকের মত একটি পত্রিকায় 'বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা' ও ‘মুক্তির গান’ নিয়ে ফিচার বের হয় কিন্তু সেখানে তাঁর নাম থাকেনা। এরকম উদাহরণ আরো আছে। তার সাক্ষাৎকার কি কোন কালে কারো চোখে পড়েছে কোন পত্রিকায়? আমার পড়েনি। আমাদের বিনোদন ও সাংস্কৃতিক সাংবাদিকরা এদের সাক্ষাৎকার নিতে বেশী আগ্রহী না। মারুফ নামের এক  নায়ক কেন গোঁফ রাখলেন, শাকিব খান নায়িকা অপু বিশ্বাসকে বাড়িতে গিয়ে কেন মারধোর করলেন এই হলো আমাদের বিনোদন পাতার হট টপিক। আমি আশংকা করি কোন একদিন হয়তো শিল্পী বিপুল ভট্টাচার্য’র মত তিনিও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হবেন। তারপর তাঁকে নিয়ে একটা খুব করুণ ফিচার হবে। সাংবাদিক তাঁর সমস্ত প্রতিভা ঢেলে দেবেন এদেশের মানুষ কতটা অকৃতজ্ঞ তা প্রমান করতে।
শর্ষীনার পীরের মত যুদ্ধাপরাধীরা এদেশে ‘স্বাধীনতা পদক’ পায় সুতরাং এসব রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার নিয়েও কিছু বলার প্রয়োজন দেখিনা। এ প্রজন্মের কেউ একজন বেনুকে না চিনলে তাঁর কিছু আসে যায়না, দেশ তাকে সম্মানিত না করলেও কিসসু আসে যায়না তাঁর। বরং ক্ষতি হয় দেশটার, ক্ষতি হয় দেশের আত্মপরিচয়হীন উত্তর প্রজন্মের।


যাই হোক, আমি মাহমুদুর রহমানের বেনুর এ বছরের তৃতীয় ক্রেতা হিসেবে সিডিটা কিনে নিয়ে যাই। আজ কদিন ধরে গানগুলো শুনি। আমার আশেপাশে যারা থাকেন তাদেরও শোনাই। আমি শুনি আর ভাবি, উনি লন্ডনে গিয়ে বেঁচে গেছেন। এদেশে থাকলে তাঁর হয়তো এই সিডিটাও বের করা হতো না...

Saturday, May 14, 2011

বোকা মানুষের বোকা মস্তিষ্ক!

­­নতুন একটা তথ্য জেনে আমি জ্ঞানীদের কাতারে সামিল হওয়ার চেষ্টা করলুম। ছাগলের মত ফ্যা ফ্যা করে হাসলেও নাকি মস্তিষ্ক ধরতে পারে না! অবশ্য ছাগল হাসে কি না এই নিয়ে আমার ঘোর সন্দেহ আছে। ছাগলের হাসি ছাগল হাসুক, মানুষ কৃত্রিম হাসি হাসলেও মস্তিষ্ক ধরতে পারে না। সোজা কথা, কৃত্রিম হাসি হাসলেও মস্তিষ্কের নাকি ধরার ক্ষমতা নাই!

এই অসম্ভব কাজের তথ্যটা আমাদেরকে জানাচ্ছেন আনিসুল হক মহোদয়। এটা ওনাকে এক চিকিৎসক বলেছেন। এই 'এক চিকিৎসক', কোন চিকিৎসক এটা উনি জানেন, আমরা জানি না! শুনি ইনার জবানীতে: "আমাকে একজন চিকিৎসক বলেছেন, '...আমাদের মস্তিষ্ক নাকি ধরতে পারে না কোন হাসিটা কৃত্রিম...। শুনে আমি অট্টহাসিতে মেতে উঠি: ব্রেনের দেখা যাচ্ছে ব্রেন নেই, সে নিজেই বলে কৃত্রিমভাবে হাসো, আবার নিজেই ধরতে পারে না যে এটা কৃত্রিম। এর চেয়ে বোকা আর কে হতে পারে?'।" [১] 

আনিসুল হক মহোদয়ের ভাষ্যমতে ইনি 'একজন চিকিৎসক' না-হয়ে ত্রিকালদর্শী হলেও আমি জানতে চাইতাম, কোন ত্রিকালদর্শী? চিকিৎসক হলেই তিনি সব জেনে বসে থাকবেন এমন মাথার দিব্যি কে দিয়েছে! এমন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেও দেখেছি ওনার মাথায় প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সাবানের ফেনা! একজন একটা কথা বলে দিলেন আর আমি লেজ নাড়াতে থাকলুম, কাভি নেহি! হয়তো বলা হবে, ওই চিকিৎসক মহোদয়ের কাছে এই তথ্য আছে, এই নিয়ে কোথাও-না-কোথাও জরীপ করা হয়েছিল। এই গ্রহে কতশত জরীপ হয়, সব গুরুত্ব দিতে হবে কেন!

মুহম্মদ জাফর ইকবালের 'আমেরিকা' বইয়ে এমনই এক জরীপের কথা উল্লেখ আছে, "...শতকরা পঁয়তাল্লিশ জন মেয়ে বলেছে প্যাট্রিক সোয়াজের পাছা সবচেয়ে সুন্দর..."। এখন আমার কি এটা ফট করে বলা সমীচীন হবে সবচেয়ে সুন্দর ... হচ্ছে প্যাট্রিক সোয়াজের। সমীচীন হবে না কারণ এই জরীপে আমাদের দেশের জরিনা অংশগ্রহন করেনি!

কেউ কিছু একটা বলে দিলেই তা নিয়ে নাচানাচি করার কোন অর্থ নাই। গান্ধী আন্ডারওয়্যার পরতেন কিনা এই নিয়ে কবির ঘুম আসে না [২]:
"...I didn't much sleep last night
thinking about underwear...
Did Gandhi wear a grirdle?..."
(Underwear: L. Ferlinghetti) 
লোকজনরা সেই কবিতা পড়ে আহা-উঁহু করে, পা নাচায়, L. Ferlinghetti-কে নিয়ে লাফায়; লাফাক, তাতে আমার কী!

বৈজ্ঞানিক কোন তথ্য, বিশেষ করে মস্তিষ্কের কোন তথ্য এমন হেলাফেলা করে দেয়া একটা ফাজলামী। 'এক চিকিৎসক' দূরের কথা এটা কোন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রকাশিত হয়ে থাকলেও অন্তত আমি গুরুত্ব দেই না। এটা সত্য, হাসলে প্রচুর পেশীর ব্যবহার হয় সেটা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল অবশ্যই কিন্তু মস্তিষ্ক কৃত্রিম হাসিটা ধরতে পারবে না এই তথ্য বাদামের খোসা! যে মস্তিষ্ক 'দুধের দুধ, পানির পানি' আলাদা করে ফেলে- জটিলসব সিদ্ধান্ত নিতে ন্যানো সেকেন্ড সময় যার কাছে যথেষ্ঠ [৩] সে বুঝতে পারবে না কোনটা তার নিজের কৃত্রিম হাসি! হাহ!
মস্তিষ্ক তার নিজস্ব পদ্ধতিতে সমস্ত তথ্যই জমা রাখে:
"...It accepts a flood of information about the world around you from your various senses (seeing, hearing, smelling, tasting, touching, etc)...."

চোখের নিমিষে যার ভ্রমণ তাকে খাটো করে দেখার কোন অবকাশ নাই, তাকে বোকা ভাবাটা বোকামি:
"...These axons transmit signals in the form of electrochemical pulses called action potentials, lasting less than a thousandth of a second and traveling along the axon at speeds of 1–100 meters per second. Some neurons emit action potentials constantly, at rates of 10–100 per second...।" (wikipedia)

বোকা মানুষের বোকা মস্তিষ্ক হলে অবশ্য বলার কিছু নেই...

সহায়ক সূত্র:
১. মস্তিষ্ক, কৃত্রিম হাসি...: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=12&date=2011-04-26 
২. L. Ferlinghetti: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_3336.html 
৩. মস্তিষ্ক বেচারা...: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_4207.html 

Sunday, May 8, 2011

রবিদাদা মরে বেঁচে গেলেন!

­রবীন্দ্রনাথের কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই আর আমাদের রবিদাদা মরিয়া প্রমাণ করিলেন আদৌ এই দিন দেখিবার জন্য তিনি বাঁচিয়া নাই। কী দিন, আহা, কী দিন!

ঘটা করে দুই বাংলায় রবিদাদাকে নিয়ে হইচই হচ্ছে। এতে কারও কোন আপত্তি নাই। তবে রবিদাদাকে নিয়ে এবার যে শব্দটা চালু হয়েছে সেটা হচ্ছে সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন। 'সার্ধ' জিনিসটা কি এটা আমার জানা ছিল না, এই নিয়ে লজ্জায় মুখ দেখাবার যো নেই। ভয়ে শেভ করা বন্ধ করে দেয়ার উপক্রম- আয়নায় নিজের মুখ নিজেই দেখি কেমন করে! কিন্তু তাই বলে জিনিসটা কি এটা জনে জনে জিজ্ঞেস করি কেমন করে? আমি মানুষটা নির্বোধ এটা বুঝি লোকজনকে বলে বেড়াব, পাগল!

ওয়াল্লা, এটা দেখি আমি ব্যতীত সবাই জানেন! পত্রিকাগুলোও সার্ধ সার্ধ করে আমার মার্ধ...(এটা অভিধানে পাওয়া যাবে না :( , খুঁজে লাভ নাই)! এমনকি সহজিয়া শব্দের কারিগর হুমায়ূন আহমেদও পত্রিকায় তাঁর এক লেখায় লিখেছেন, "রবীন্দ্রনাথের সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সারা বাংলাদেশে কত না উৎসব "! (যথারীতি তাঁর লেখায় শাওন চলে এসেছে। হুমায়ূন আহমেদের মত বউপাগলা বিরল!)
প্রধানমন্ত্রীও তাঁর ভাষণে বলেছেন, "আসসালামু আলাইকুম, ... কবিগুরুর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে..."।

যাই হাক, অভিধানে শব্দটা খুঁজে আমি উল্লসিত। সার্ধ মানে সাড়ে। দেড়শত বছর এটা না-বলে বলা হচ্ছে সার্ধশততম- 'সাড়ে একশত'। বাংলা ভাষাকে সহজ করার জন্য যে রবীন্দ্রনাথের কস্তাকস্তির শেষ ছিল না সেই রবীন্দ্রনাথের বেলায় দেড়শ লিখলে কেমন জাত গেল-জাত গেল ভাব না-হওয়াটা দোষের বৈকি। এখনই এই মানুষটাকে দেবতার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, "ওই আসে মহামানব"।

ছবি ঋণ: সাপ্তাহিক
এই মানুষটাকে নিয়ে আমাদের আয়োজনের শেষ নেই। কাজী নজরুল ইসলামকে উপলক্ষ করে কাজী শাহী মাটনের রেসেপীর জন্য বিখ্যাত রান্না কাম পুষ্টিবিশারদ কেকা ফেরদৌসি এবার রবিদাদার জন্য কি রান্না নিয়ে এসেছেন এটা মিস করে গেছি সম্ভবত।
দাদাকে নিয়ে এখন বেশ ফ্যাশনও হচ্ছে। সাপ্তাহিক (৫ মে ২০১১, পৃ: ৯৫) আয়োজন করেছে 'পোশাকে রবীন্দ্র চেতনা'।
বটে রে বটে, কত বুদ্ধি ঘটে! 'সাপ্তাহিক'-এর সম্পাদক হচ্ছেন গোলাম মোর্তোজা, ইনি সূক্ষ রূচির মানুষ বলে সমাদৃত। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়ও বিভিন্ন উঁচুমার্গের বাতচিত করেন।

'পোশাকে রবীন্দ্র চেতনা' ফিচারটি প্রস্তুত করেছেন, কাজী বৃষ্টি রহমান। জ্ঞানের বৃষ্টিতে ভিজে পাঠক জবজবে!
এখানে ছবিতে আমরা যে মডেল সাহেবানকে দেখতে পাচ্ছি তিনি কেমন করে রবীন্দ্র চেতনা উসকে দিচ্ছেন এটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। যে ঢঙ্গে শাড়ি পরেছেন এটা মধ্যে কেমন করে রবিদাদা আলো ছড়াচ্ছেন। রবিদাদা শাড়ি পরতেন এমনটা তো শুনিনি! কি বললেন? রবিদাদা না, তাঁর পরিবারে মহিলা সদস্যরা পরতেন। কি জানি বাপু হবে হয় তো!

তা স্লিভলেস ব্লাউজ কি রবিদাদার পরিবারের লোকজনরা চালু করে দিয়ে গেছেন, কবিগুরুর উৎসাহে? কী জানি, হতেও পারে! যে মানুষটা সার্ধর অর্থ জানে না সেই মানুষটা এই সব প্রশ্নের উত্তর জানবে এমনটা আশা করা বাড়াবাড়ি, স্রেফ বাড়াবাড়ি...।       

Saturday, May 7, 2011

আমি আতঙ্কিত, শঙ্কিত!

­লিমন অসম্ভব সৌভাগ্যবান তার পেছনে আছে এই দেশের প্রথম শ্রেণীর পত্রিকাগুলো, পত্রিকার দুঁদে সম্পাদক। লিমনের আছে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের ছলছলে চোখ, মমতার হাত! এমন সৌভাগ্য কজনের হয়? পুরো মানবাধিকার কমিশন লিমনের পক্ষে লড়ছে।
র‌্যাবের মহাপরিচালক পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "...লিমন সন্ত্রাসী নয় ঘটনার শিকার..."। এখন পর্যন্ত লিমনের আশেপাশের কেউ, সাত গ্রামের কেউ বলেনি, লিমন সন্ত্রাসী। বরং আমজনতা চোখের জলে, ঘামে ভেজা টাকা দিয়েছে লিমনের চিকিৎসার জন্য।
ছবি ঋণ: প্রথম আলো
তারপরও লিমনকে নিয়ে টানাহেঁচড়া বন্ধ হয়নি!

শেষপর্যন্ত তাঁকে ডান্ডাবেড়িপরা কয়েদিদের সঙ্গে হাসপাতাতোলে রাখা হয়েছিল, হাইকোর্টের নির্দেশ আসার আগপর্যন্ত! অথচ এরিমধ্যে পেরিয়ে গেছে ৪২ দিন! এই অন্ধ রাষ্ট্র ৪২ দিনেও শুনতে পারেনি কিশোরটির জান্তব চিৎকার। যে চিৎকারে আকাশলোকের ঈশ্বরের চেয়ারের পায়া নড়বড়ে হয়ে যায় সেখানে জমিনের ঈশ্বর কোন ছার! আহা, নকল ঈশ্বরের নকল পা- সেই নকল পা নকল পায়ায়!

পত্র-পত্রিকায় এসেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিমনের বিষয়ে বলেছেন, "...আমার কিছুই করার নাই..."। ইশ্বর, এটা কী একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য! কিছুই না-করার থাকলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ আঁকড়ে আছেন কেন? পদটা ছেড়ে দিচ্ছেন না কেন? তিনি এখন দোহাই দিচ্ছেন আইনের।  কিন্তু যে র‌্যাব এই কান্ড করল সেই র‌্যাব কি তাঁর আওতায় না? বা যে পুলিশ লিমনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিল সেই পুলিশ? নাকি এখন এটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত না!
তাই বুঝি, ভাল তো! লিমনের মার করা মামলা পুলিশ আমলেই নেয়নি! স্বয়ং আদালত মামলা নেয়ার নির্দেশ দিলেও পুলিশ তা অগ্রাহ্য করেছে। দ্বিতীয়বার আদালত নির্দেশ দেয়ার পর তা তামিল হয়। এই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি একবারও পুলিশকেকে জিজ্ঞাসা করেছেন কেন এমনটা করা হলো? আর আমাদের আদালত? আদালত জানতে চাইলেন না পুলিশ কেন এমনটা করল? কোত্থেকে এরা এই সাহসটা পেল!

সাপ্তাহিকের (৫ মে ২০১১) সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইন্সপেক্টর জেনারেল অভ পুলিশ বলেন, "...লিমনের ঘটনা তদন্ত, অনুসন্ধান চলছে বিভিন্ন পর্যায়ে। একটি ঘটনা ঘটার পর তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে থাকে। ...হাইকোর্টে একটা রিট করা হয়েছে।...তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে...।"
ভাল কিন্তু পুলিশের দেয়া চার্জশিটে আমরা কি লিমনের সম্পৃক্ত না-থাকার নমুনা খুঁজে পেলাম, ডিয়ার আইজি?

পুলিশদের কেবল দোষ দেই কেন? অসুস্থ লিমনকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন যে মানুষটি (!), তিনি? হাসপাতালের পরিচালক খন্দকার আবদুল আওয়াল রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, "...লিমন সুস্থ হয়ে উঠায় তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। হাসপাতালে বিছানায় সমস্যা আছে..."। বাস্তবতা হচ্ছে হাসপাতালের বিছানার সমস্যা ছিল না। হায়, এই মানুষ (!) নামের অমানুষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবার কী কোন আইনই নাই!

আর ঝালকাঠির মূখ্য বিচারিক হাকিম নুসরাত জাহান আদালত কক্ষের টেবিলে ব্যান্ডেজ ভেজা এক পা নিয়ে চিত হয়ে শুয়ে থাকা লিমনকে কারাগারে পাঠিয়ে দিলেন! তিনি কি জানেন না, পত্রিকা পড়েন না? তিনি কি একবারও ভাবলেন না এই অভাগা কিশোরটির কথা।
ঈশ্বর, তোমার এই গ্রহের বাংলাদেশ নামের ছোট্ট একটা জায়গায় এখনও রোদ থাকে, বৃষ্টি হয়। ঈশ্বর, এ অনাচার তুমি করো কেমন করে!
ঈশ্বর তাঁর ভাবনা ভাবুন কিন্তু আমাকে যে ভাবনা কাবু করে ফেলেছে, এই দেশে ক্রমশ পা ফেলার জায়গা কমে আসছে। একজন নাগরিককে ন্যূনতম নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষমতা এ রাষ্ট্রের নাই!

অথচ যেটা অনায়াসেই করা যেত- ট্যাক্সদাতা আমরা সানন্দে গ্রহন করতাম। লিমনের কাটা পা কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে  না কিন্তু রাষ্ট্রের পক্ষে এই ছেলেটির প্রতি করা অন্যায়ের খানিকটা অন্যরকম শোধ নেয়া যেত। ছেলেটা পরীক্ষা দিচ্ছিল, এরইমধ্যে এই বিপর্যয়! ভাল হতো যদি আমরা দেখতে পেতাম, একে মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। সরকার এর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে, দায়িত্ব নেয়া হয়েছে এর পরিবারের। আমাদের শিক্ষাবিভাগ বিশেষ ব্যবস্থায় এই ছেলের পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গাড়িতে করে পরীক্ষার হলে পৌঁছে দিচ্ছেন। আমরা সুখি হতাম, আমাদের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত সংস্থার লোকজন র‌্যাব-পুলিশ এই অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্ত মনে করে একে গাড়িতে করে পরীক্ষা দিতে নিয়ে যাচ্ছে।

'এটা কি খুব বড়ো চাওয়া ছিল মি. প্রেসিডেন্ট?' [১] লেখাটায় আমি লিখেছিলাম, "চারটি দুর্নীতি মামলায় ১৮ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শাহাদাব আকবরের সাজা আপনি (প্রেসিডেন্ট) মওকুফ করে দিয়েছেন। অথচ শাহাদাব আকবর আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে কখনো আদালতের ধারেকাছেও আসেননি, আত্মসমর্পণ করেননি!
মি. প্রেসিডেন্ট, আমি সবিনয়ে জানতে চাই, শাহাদাব আকবর দেশের জন্য এমন কোন সম্মানটা নিয়ে এসেছেন যার জন্য আপনি আপনার এই ব্রক্ষ্মাস্ত্রটা ব্যবহার করলেন? (তার জন্য আপনার অস্ত্রটা ব্যবহার করলেন)

শাহাদাব আকবরের এটাই কী একমাত্র যোগ্যতা তিনি জাতীয় সংসদের উপনেতা বেগম সাজেদা চৌধুরীর সন্তান?"
আমাদের এই প্রেসিডেন্ট সাহেবই শাহাদাব আকবরের জন্য তার ব্রক্ষ্ণাস্ত্রসম অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন অথচ আমরা দেশবাসি জানি না সত্যিই শাহাদাব আকবর নির্দোষ ছিলে কিনা অথচ কতিপয় লোক ব্যতীত গোটা দেশবাসি জানে লিমন নির্দোষ কিন্তু তাঁর জন্য কারও কিছু করার নাই। মায় প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীরও? আশ্চর্য বলতেও খেই হারিয়ে ফেলি!

র‌্যাব নামের 'জমিনের ঈশ্বর' [২] এবং কতিপয় মানুষ কেবল লিমনের একটা পা বগলদাবা করেনি প্রমাণ করেছে এরা সত্যিই জমিনের ঈশ্বর!
এই মুহূর্তে আমাকে যদি এই বিপুল ক্ষমতা দেয়া হয় তাহলে আমি লিমনের জন্মটা আটকে দিতাম! লিমন এখন আর কেবল একজন মানুষ, একটা নাম, একটা সংখ্যা না; এক ভয়ানক বিপদের নাম! যে বিপদটা ক্রমশ ধেয়ে আসছে আমাদের দিকে! একজন লিমন এই দেশের কতিপয় মানুষ ব্যতীত প্রায় ১৬ কোটি মানুষকে অরক্ষিত করে দিয়েছে। আমাকেও...।

লিমনের ভাগ্য ভাল। এমন ভাগ্য অন্যের বেলায় হবে এমনটা ভাবা দুরাশা! আজ কেন এমনটা মনে হচ্ছে এই দেশটা আমার না। এখান থেকে পালিয়ে যেতে হবে যত দ্রুত সম্ভব। যাদের আমি করূণা করতাম তারা আজ আমায় করুণা করবে কী, আমি নিজেই নিজেকে করুণা করি। ভিনদেশে থিতু হওয়া, ভিনদেশের বোল বলা এই দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া অভাগা মানুষগুলোর কেলানো দাঁতে গদাম করে বসিয়ে দেয়া ঘুষির সেই জোর আজ কোথায়! অশক্ত হাত যে পেছনে লুকিয়ে ফেলারও সুযোগ নাই।
অদেখা ভয় প্রবাহিত হচ্ছে এখন শিরায় শিরায়- রাষ্ট্রের কাছে কারও কোন নিরাপত্তা নাই, সুবিচার নাই! যে আমি পরমকরূণাময়ের কাছে আবেদন জানিয়ে রেখেছি প্রয়োজনে আমার পাঁচ বছর আয়ু কমিয়ে দিক কিন্তু আমাকে যেন এ দেশ ছেড়ে না-থাকতে হয়। আজ সেই আমার মাথায় এ দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার ভাবনা খেলা করছে! ছি! এরচেয়ে যে মরে যাওয়া ঢের কাজের!
কিন্তু নিজেকে যে বড়ো অরক্ষিত মনে হচ্ছে...। 

সহায়ক লিংক:
১. এটা কি খুব বড়ো চাওয়া...: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_2646.html 
২. জমিনের ঈশ্বর: http://www.ali-mahmed.com/2011/04/blog-post.html

Tuesday, May 3, 2011

একজন ডাক্তার এবং...

­ডাক্তারদের নিয়ে আমার ভারী রাগ ছিল। এদের নিয়ে আমি কঠিন কিছু লেখাও লিখেছিলাম [১]। মানুষের কিছু কিছু অহেতুক রাগ-ক্ষোভ আছে যাতে প্রমাণ হয় মানুষটা পোকামানব- যাদের মধ্যে আমিও একজন! যেমন ধরা যাক আমরা ফট করে বলে বসি, কুমিল্লার মানুষ চালাক। এই চালাকটা কিন্তু খারাপ অর্থে। অথচ বাস্তবে দেখা যাবে ওই মানুষটার সঙ্গে কুমিল্লার খুব বেশি মানুষের জানাশোনা নাই!
এটা বলে আসলে নিজেকে প্রবোধ দিলাম। আসলেই এই দেশের অধিকাংশ ডাক্তার...। থাক, আজ এদের নিয়ে উচ্চবাচ্য করব না, কটু কথা বলব না। তবে... নরক এদের দিয়ে পূর্ণ হওয়ার পর অন্য পেশার লোকজনের প্রতি নজর দেয়া হবে  :)

তো যেটা বলছিলাম, ডাক্তার নামের একজন মানুষ আমার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে বাধ্য করলেন (আমার চশমা পাল্টাতে ভাল লাগে কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে না) । সত্যি বলতে কি আমি এতো তাড়াতাড়ি এই মানুষটাকে নিয়ে লিখতে চাইনি। এই মানুষটার কর্মকান্ড প্রচুর সময় নিয়ে না-লিখলে বলাটা অসমাপ্ত থেকে যায়।
সব বাদ দিলেও এই মানুষটা, আমি যে তিনটা স্কুল দেখভাল করি [২] ওই স্কুলগুলোর বাচ্চাগুলোকে অসংখ্যবার দেখে দিয়েছেন, চিকিৎসা করেছেন, বিনামূল্যে ওষুধের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। হরিজনপল্লীর চাটাইয়ে বসে বাচ্চাগুলোকে দেখে দিতে তাঁর মধ্যে কোন সংকোচ আমি দেখিনি। কেবল বাচ্চাদেরই কেন বাচ্চাদের অভিভাবক। যখনই প্রয়োজন হয়েছে তখনই।
একজন মুক্তিযোদ্ধাকে পাঁজাকোলা করে আনা হয়েছে। হাঁটুতে যে ইঞ্জেকশন দিতে একজন ডাক্তার ৭০০ টাকা নেন সেই ইঞ্জেকশন কেবল বিনামূল্যে দেননি তাঁর দরিদ্রফান্ড থেকে বেরিয়ে গেছে ৬০০ টাকা!

আমি নিজেই কতশত অসহায় মানুষকে নিয়ে এই মানুষটার কাছে ছুটে গিয়েছি। ওই অসহায় মানুষগুলো যথার্থ চিকিৎসা পেয়েছেন। তাঁরা আরামের শ্বাস ফেলেছেন। তাঁদের ছেড়ে দেয়া কার্বন-ডাই অক্সাইড কোন এক বিচিত্র কারণে আমার জন্য অক্সিজেনের কাজ করে। আমি বুক ভরে শ্বাস নেই। আমার জাগতিক অসংখ্য জটিলতার মধ্যে এই অক্সিজেনের ভান্ডার সম্ভবত আমাকে বাঁচিয়ে রাখে নইলে কবেই মরে ভূত হয়ে যেতাম!

অনেক রোগীর মধ্যে কেবল একজনের কথা বলি।
এর নাম হালিমা। এ অন্ধপল্লীর স্কুলে পড়ে। আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। কবিরাজি চিকিৎসা চলছিল। ভয়ংকর সে চিকিৎসা। এই দগদগে পোড়া ঘায়ের উপর কাপড় আটকে সেই কাপড়ে লেপ্টে কবিরাজি ওষুধ লাগানো হতো। প্রতিদিন এই কাপড় খুলে আবার লাগিয়ে দেয়া হতো!
এইটুকুন বাচ্চাটাকে কী অবর্ণনীয় কষ্টই না সহ্য করতে হয়েছে তা কেবল অনুমান করা সম্ভব!
এই ডাক্তার নামের মানুষটার কল্যাণে এই বাচ্চাটার চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালে আজও দেখে এসেছি। এর ঘা শুকাচ্ছে। এই গতিতে সেরে উঠলে এই সপ্তাহে অভাগা এই মেয়েটি বাড়ি ফিরে যাবে।

কেবল কি চিকিৎসা? ন্যানো ক্রেডিট [৩] এবং বিভিন্ন কারনে যখনই আমার টাকার প্রয়োজন হয়েছে তখনই মানুষটাকে অবলীলায় বলেছি। হপ্তাখানেক হবে, ন্যানো ক্রেডিটের আওতায় একজন মহিলাকে ২০০০ টাকা দিতে হবে অথচ টাকা নাই। আহা, আমার সমস্যা কী, ডাক্তার নামের এই মানুষটা আছে না! এই কারণে তিনি কাকে কাকে ধরে টাকাটার যোগাড়যন্ত্র করেছেন সে খবরে আমার কী কাজ!  
অথচ ওই মাটার পান্ডুর মুখ এখনও আমাকে তাড়া করে [৪]। আহা, ওদিন যদি একটা ডাক্তার পেতাম। আমি জানি না ওই মাটা কোথায়? নাকি তাঁর অদেখা বাবুটা আমাদের উপর অভিমান করে অন্য ভুবনে তার মাকে নিয়ে গেছে। জানি না, জানি না আমি।

যাই হোক, তবলার ঠুকঠাক থাকুক। এই ডাক্তার নামের মানুষটা হপ্তা দুয়েক আগে আমাকে কাতর হয়ে বলেছিলেন একজন সিস্টারের (নার্স) কিডনির সমস্যার কথা। আমি যদি এই সিস্টারকে নিয়ে দুকলম লিখি। এই সিস্টারের কথা আগেও তাঁর মুখে শুনতাম। এই দেশে নিরন্তর সমস্যা, কয়টার কথা মনে করে বসে থাকব? কিন্তু এই প্রসঙ্গ নিয়ে আমার আর লেখা হয়ে উঠে না। কেন? আমি জানি না। হয়তো কেউ কোন প্রসঙ্গ নিয়ে লিখতে বললে আমি লিখতে পারি না। বা ইউনূস সাহেবদের মত শ্বেতহস্তী বিষয়ক লেখার ভিড়ে ওই লেখাটা চাপা পড়ে গেল!

অন্য একটা সাইটে এই ডাক্তার নামের মানুষটা এই সিস্টারকে নিয়ে লিখেছেন [৫]। মার্জিয়া নামের এই সিস্টারকে আপাতত ডায়ালাইসিস দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, এর জন্যও টাকা প্রয়োজন। প্রতি সপ্তাহে ডায়ালাইসিস করতে অন্তত হাজার দুয়েক টাকা লাগার কথা।
আর পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে চাইলে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে হলে ৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। আমি জানি ৫ লাখ টাকা অনেক টাকা। কিন্তু এতো বেশি টাকাও না যে আমার মত একজন মানুষ এই টাকাটার যোগাড় হচ্ছে এমন স্বপ্নও দেখতে পারবে না।
একজন ১০ হাজার টাকা করে দিলেও তো ১ লাখ টাকা হয়ে যায়। যুদ্ধের পরিণাম পূর্বেই ভেবে বসাটা তো কোন কাজের কাজ না।

এই গ্রহের কেউ-না-কেউ, কোথাও-না-কোথাও, না-থেকে পারেই না। আমি বিশ্বাস করি কেউ-না-কেউ এগিয়ে আসবেন। এই বিষয়ে কেউ যোগাযোগ করতে চাইলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ না-করে সরাসরি এই ডাক্তার নামের মানুষটার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভাল হয়।
তাঁর ফোন নাম্বার:  01913 500726
ইমেইল: omio.ujjal@gmail.com 

গুড লাক, ডাক্তার নামের মানুষ! মাঝ পথে হাল ছেড়ে দেবেন না যেন। মার্জিয়া নামের অল্পবয়সী ছটফটে একটা মেয়ে বিনাচিকিৎসায় মারা যাবে আর আমি বুড়া হাবড়া বেঁচে থাকব, এ অন্যায়-এ অন্যায়! এই অভাগা মেয়েটির পাশে আর কেউ না-থাকুক, আমি আছি...।

সহায়ক সূত্র:
১. ডাক্তার নামের খুনিটা: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_24.html 
২. আমাদের ইশকুল: http://tinyurl.com/39egrtn 
৩. ন্যানো ক্রেডিট: http://tinyurl.com/39dkbhh
৪. মা এবং তার অদেখা সন্তান: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_10.html 
৫. ডাক্তার নামের মানুষটার লেখা: http://www.somewhereinblog.net/blog/omio_ujjal/29364725           

Facebook Share