Tuesday, April 26, 2011

গ্রামীন ব্যাংকই কেন, কেন ব্র্যাক-আশা নয়?

­আজকে আমার লেখার বিষয় এটা না, ইউনূস সাহেব ধোয়া তুলসি পাতা নাকি আধোয়া তুলসি পাতা। এখন আমি এই তর্কে যাব না তিনি অপরাধ করেছেন, কি করেননি! প্রমাণ হলে ইউনূস সাহেবের বিচার হোক সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ, বিচার্য বিষয়

"গ্রামীন ব্যাংকের বিরুদ্ধে সরকার প্রচারণার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন..." [১]। বিষয়টা আমার বোধগম্য হয়নি, এখনও। আমার বুদ্ধিসুদ্ধি নিয়ে নিজেরই সন্দেহের শেষ নেই- আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না এটা কেমন করে সম্ভব, এখনও বিষয়টা আমার কাছে পরিষ্কার না- পারলে সরকার কি হাতে হাতে লিফলেট বিলি করবে নাকি হেলিকপ্টার থেকে লিফলেট ছাড়বে! সরকার কেমন করে নিজেই নিজের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়! আমার জানায় ভুল না-থেকে থাকলে গ্রামীন ব্যাংকে সরকারের মালিকানা আছে। তারচেয়ে ভয়াবহ যে বিষয়টা হচ্ছে, গ্রামীন ব্যাংকের হিসাবে ৮৩ লাখ মানুষকে ক্ষুদ্র ঋণ দিয়েছে, এর আওতায় পাঁচ কোটি জনসংখ্যা সুবিধা পাচ্ছে। এই হিসাব অতিরঞ্জিত হতে পারে সে অন্য প্রসঙ্গ কিন্তু না-হয় তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, এই দেশের প্রায় ৫ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে এই ব্যাংকের সঙ্গে জড়িত।

জনগণের ইচ্ছায় নির্বাচিত সরকারের কি অধিকার আছে কোটি-কোটি মানুষকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেয়া। একজন ইউনূসের জন্য কোটি-কোটি মানুষ কেন যন্ত্রণা ভোগ করবেন? জনগণ তাঁর ট্যাক্সের টাকা তো এই কারণে খরচ করছে না যে তাঁকে বিভ্রান্তির বেড়াজালে আটকে ফেলা হোক। এখন পুলিশের কাছে যেরকম ক্ষমতা হস্তান্তর করা হচ্ছে, মনে হচ্ছে অচিরেই চোর-পুলিশ খেলা শুরু হবে।
সরকার-ইউনূসের কি অধিকার আছে কোটি-কোটি মানুষকে নিয়ে অন্য রকম এক খেলা খেলার। আমি দিব্য চোখে দেখতে পাচ্ছি এই প্রতিষ্ঠানটা পলেস্তারা ক্রমশ খুলে পড়ছে। কেন এমনটা হবে? প্রয়োজনে সরকার এই প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহন করুক, খুবলে খুবলে ফেলে দেয়ার মানে কী!

আমার স্বল্প বুদ্ধিতে যেটা বুঝি এটা তো পুলিশের কাজ না। বাংলাদেশ ব্যাংক নামের যে প্রতিষ্ঠানটা আছে এটা কোন দিনের জন্য? কোন ব্যাংক অনিয়ম করে থাকলে সেটা দেখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ তো আছেই। হ্যাঁ, কারও মনে এই সন্দেহের বীজ রোপণ করা থাকলে, এই যেমন এই ব্যাংক পার্বত্য চট্টগ্রামে পপি চাষে অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে বা জঙ্গিদের ভয়ংকরসব অস্ত্র কেনার জন্য টাকা ধার দেয় তাহলে আলোচনার কিছু নাই!

প্রচলিত আইন ভঙ্গের বিষয়টি জনগণের কাছে তুলে ধরার যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এটা তো অন্য ব্যাংকগুলোও করছে। গ্রামীন ব্যাংক এর জায়গায় যদি বলা হত ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে সমস্ত ব্যাংকগুলো কোথায় কোথায় অনাচার করছে তা খতিয়ে দেখার জন্য তাহলে খানিকটা বুঝতে সুবিধে হত- আমরাও হাঁপ ছেড়ে বাঁচতাম।
অন্য ব্যাংকগুলো কী অনাচার করছে এটা কি সরকার অবগত নাই? কেবল ব্র্যাক ব্যাংকের কথাই বলি। এরা এসএমই লোনের কথা বলে ২১ পার্সেন্ট সুদ নিত। এদের অত্যাচারে কতশত মানুষ আত্মহত্যা করেছে সব খবর কী আর আমরা জেনে বসে আছি, পাগল! মিডিয়া পর্যন্ত এদের খবর ছাপে না! আহা, এরা যে লক্ষ-লক্ষ টাকা বিজ্ঞাপন দেন, এদের চটালে চলবে বুঝি!

পুর্বে আমি যে লেখাটা লিখেছিলাম, 'লাশ-পদক-বানিজ্য' [২] ওই লেখায় আমার একটা প্রশ্ন ছিল, "...স্যার ফজলে আবেদ, আপনি কি আমাকে দয়া করে বলবেন, এই দেশে নারী, আর্মস, ড্রাগস ব্যতীত এমন কোন বৈধ ব্যবসা আছে যেটা ২১ (২০.৪) পার্সেন্ট সুদ দিয়ে লাভ করা যায়? প্লিজ স্যার, জানালে আমি ওই ব্যবসাটাই করব..."।
এই প্রশ্নটা আবারও করি। ডিয়ার ফজলে আবেদ, একটা বৈধ ব্যবসার নাম বলেন, প্লিজ

ওখানে স্যারদের জন্য এটাও বলা হয়েছিল, "...আমি আশা করি, আপনারা আমাদের জন্য আরও সম্মান-পদক নিয়ে আসবেন। তার জন্য আরও কটা লাশ পড়ল তাতে কী আসে যায়। গুড লাক, স্যার"!
এই বক্তব্য এখনও আপনাদের জন্য উম্মুক্ত। সরকারকে আমরা বলব পুলিশ-আইনকে ঝিম মেরে বসিয়ে রাখতে, আপনারা আপনাদের কার্যক্রম চালিয়ে যান। এন্তার পদক নিয়ে আসুন। আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখব।

তো, আমাদের সরকার বাহাদুরকে দেখছি ব্র্যাক-আশা এদের নিয়ে কোনও বিকার নেই, উদ্বিগ্ন দেখা যাচ্ছে কেবল গ্রামীন ব্যাংক ওরফে ইউনূসকে নিয়ে। সরকার কারও কথা গা করছেন না। আমেরিকার কথা ফেলে দেয়াটা বড়ো সহজ কিন্তু এর পরিণাম আখেরে ভাল হয় না এটা বোঝার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হতে হয় না। কারণ এই ইয়াংকিরা অপমান কখনই ভোলে না। এটা সত্য এরা বাংলাদেশকে গ্রাস করে ফেলবে না কিন্তু এমন কিছু করবে যাতে করে এই দেশের লক্ষ-লক্ষ মানুষ নিরন্তর সমস্যায় পড়বে। এদের হাতে কতো তাস- কত উপায়ই না আছে, শুল্কের নির্দিষ্ট কোটা কমিয়ে প্রয়োজনে বন্ধ করে দেবে। তার দেশে পণ্য ঢোকার সমস্ত রাস্তা একে একে বন্ধ করবে।
কেন আমরা একজন ইউনূস, আমাদের নির্বাচিত সরকারের কারণে রাস্তায় বসব?

অনেকে বলবেন আরেক সুপার পাওয়ার ভারত থাকতে আমাদের চিন্তা কী! আহা, ভারত নামের দাদারা আমাদেরকে কোলে নিয়ে দুধভাত খাওয়াবে! বাংলাদেশে ফেনসিডিলের বন্যা বইয়ে দেয় এরা, মেয়াদ উত্তীর্ন দুধের দই খেয়ে বিয়েবাড়িতে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে গা এলিয়ে দেই আমরা। আরামে চোখ বন্ধ হয়ে আসে।
পাখি শিকার অমানবিক বলে দাদারা সীমান্তে আমাদেরকে শিকার করেন। আসলে দাদারা দাদা, আমরা হাঁদা [৩]

আমার সাফ কথা, ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে যারা বড়ো বড়ো কথা বলছেন দারিদ্র বিমোচন হেন-তেন তারা ঘোড়ার চিঁহিঁহিঁ রবটা থামালে ভাল লাগে। ২০ পার্সেন্ট সুদ দিয়ে আর যাই হোক দারিদ্র বিমোচন হয় না। এটা ফাজিলদের ফাজলামি! দরিদ্রকে সহায়তা দিতে চাইলে ঋণ দিতে হবে সুদবিহীন। সেই প্রতিষ্ঠানটাকে দাঁড় করিয়ে রাখার জন্য, আনুসাঙ্গিক খরচ উঠাবার জন্য সহযোগী অন্য লাভজনক প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি কাজ করবে। এটা না-পারলে খবরদার মুখ খুলবেন না। ফজলে আবেদ সাহেব পত্রিকায় ঘটা করে বলুক কবিতা ওনাকে টানে নাকি উনি কবিতাকে টানেন; এই টানাটানি চলুক আমাদের আপত্তি নাই কেবল দারিদ্র বিমোচন এই সব নিয়ে মুখ হাঁ করবেন না, প্লিজ।

সহায়ক সূত্র:
১. গ্রামীন ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রচারণা: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=1&date=2011-04-25 
২. লাশ-পদক-বানিজ্য: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_23.html
৩. দাদারা দাদা...: http://www.ali-mahmed.com/2011/01/blog-post_10.html