Saturday, March 5, 2011

কারক নাট্য সম্প্রদায় এবং...

কেবল এটাই শুনেছিলাম 'কারক নাট্য সম্প্রদায়' নামের সংগঠনটি প্রতি বছর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ভাষা নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে থাকে। ২৫/ ২৬ ফেব্রুয়ারি দুদিনের অনুষ্ঠান। ওখানে গিয়ে আমি পুরো থ! হা ঈশ্বর, এক দুই বছর না, বছরের-পর-বছর ধরে এই উদ্যোগটা চালু আছে- দুই যুগ ধরে এটা চলে আসছে। পুরো চব্বিশ বছর!

আমি থাকি গ্রাম-গ্রাম টাইপের একটা জায়গায়। জানার সুযোগ অনেক কম, মিডিয়াই ভরসা। আমার ভুলও হতে পারে কিন্তু আগে কোথাও ফলাও করে এঁদের খবরটা দেখেছি বলে তো মনে করতে পারছি না। আমাদের মিডিয়ার আবার কিছু 'নখরামী' আছে, করপোরেট তেল গায়ে না-মাখলে ঠিক জোশটা আসে না। এখানে তো আবার করপোরেটের গন্ধ নাই! 'কারক নাট্য সম্প্রদায়'-এর লোকজনরা নিজেদের উদ্যেগেই এর আয়োজন করে থাকেন। এর ছাপও সুষ্পষ্ট! দূরদারাজ থেকে আগত শিল্পীদের এরা কোন সম্মানী দিতে পারেন না বলে ভারী বিব্রত বোধ করেন। মূলত এটার হাল ধরে রেখেছেন শংকর সাওজাল এবং শংকর দা'র সঙ্গে একঝাক তরুণ। এঁরা সেইসব তরুণ যাদের চোখে আছে কেবল অদেখা এক স্বপ্ন।

এঁদের অন্যতম উদ্যোগ হচ্ছে, বাচ্চাদের জন্য 'বর্ণমেলা'। অবশ্য 'বর্ণমেলা' শব্দটা লিখে ঠিক করলাম কি না বুঝতে পারছি না। কারণ এটা ছিনতাই হয়ে গেছে! জুম্মা জুম্মা সাত দিন! গতবছর থেকে একটি দৈনিক ঘটা করে এটা পালন করে আসছে। না-না অন্য কেউ এমন আয়োজন করতে পারবে না এমনটা বলা হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের দেশে অন্যদের উৎসাহিত করার চল নাই, এরা ইচ্ছা করলে কারক নাট্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে কাজটা করতে পারত কিন্তু আমাদের যে পেট অনেক বড়ো- সব খেয়ে ফেলো, সব নিয়ে নাও নিজেরা।

এই যে উদ্যোগ বর্ণ পরিচয়ের, এর ফল যে কী সুদূরপ্রসারী এটা কল্পনা করা কী সম্ভব! একটি বর্ণ মানে তো কেবল বর্ণ না। সুউচ্চ ইমারতের প্রথম ইট! যে ইটটা ভালো করে না-বসলে ইমরারতটাই যে ধসে পড়ে।
অন্য প্রসঙ্গে কোথাও লিখেছিলাম, একটি বর্ণ, একটি স্কুল, একটি যুদ্ধ, একটি পতাকা; সবমিলিয়ে যে দেশ তার নাম বাংলাদেশ।
এঁরা কাজ করছেন ভাষা নিয়ে। আমি সামান্য একজন, ভাষা নিয়ে এতো উঁচুমার্গের কথা বুঝি না, কেবল বুঝি, আমার যখন তীব্র কষ্ট হয়, সহ্যাতীত। তখন আমার বেঁচে থাকার জন্য যে বাক্যটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে, মা-মা, অমা, বড়ো কষ্ট! মার এই ভাষায় এটা বলতে না-পারলে আমি তো কবেই মরে ভূত হয়ে যেতাম! তাহলে আজ আর এই সব ছাইপাঁশ-ছাইভস্ম লেখার জন্য বেঁচে থাকতাম না! 

কারকের অন্য উদ্যোগগুলো, একুশের গান, একুশের আলপনা প্রদর্শনী, একুশে আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এঁদের অসাধারণ শ্লোগান হচ্ছে, "এসো রক্তে জেতা বর্ণমালা সুন্দর করে লিখি"।
 



এমনিতে 'কারক নাট্য সম্প্রদায়' এই দেশের অনেককেই সম্মান জানিয়ে থাকেন। যেমন গাজীউল হককে। উইকি থেকে জানা যাচ্ছে,  "...'কারক নাট্য সম্প্রদায়'-এর ১২ বছর পূর্তিতেও তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়৷" [১] 
সহায়ক সূত্র:
১. উইকি: http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%89%E0%A6%B2_%E0%A6%B9%E0%A6%95

* dhaka news24: http://dhakanews24.com/?p=5615 
** কালের কন্ঠ: http://tinyurl.com/5r9h7wj                                                      ***janakantha: http://www.dailyjanakantha.com/news_view_all.php?nc=42&dd=2010-02-27                                            ***boston bangla news: http://bostonbanglanews.com/index.php?option=com_content&view=article&id=2557:2011-02-26-07-02-49&catid=37:2010-10-11-16-50-49&Itemid=139                                                                                                                                                                    

মাননীয় আদালত, ক্ষমতার অপব্যবহার করলেন!

ছবি ঋণ: কালের কন্ঠ
মহাস্থানগড় নিয়ে আদালত বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু আমার প্রবল আগ্রহ ছিল যারা এর নাটের গুরু এদের কী শাস্তি দেয়া হয় সেটা দেখার জন্য।
নাটের গুরুদের তিনজন খোকন সরকার, সবুজ সরকার এবং সায়দুর রহমানকে দিনভর আদালতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। কিন্তু এটা আমার বোধগম্য হয় না কেন এদেরকে আদালত থেকে বেরুতে দেয়া হলো, কেন আটকে রাখার ব্যবস্থা করা হলো না?

মহাস্থানগড় বিনষ্ট করা প্রসঙ্গ নিয়ে এক লেখার সূত্র ধরে আদালত সৈয়দ আবুল মকসুদকে যে ভাষায় তিরস্কার করেছেন তা নিয়ে আমার প্রচন্ড আপত্তি আছে। ৩ মার্চ কালের কন্ঠ থেকে যা জানা যাচ্ছে:
"একজন আইনজীবী বলেন, 'তিনি (সৈয়দ আবুল মকসুদ) একজন বুদ্ধিজীবী'। তখন আদালত বলেন, 'কিসের বুদ্ধিজীবী, তিনি একজন নির্বোধ'।
অপর এক আইনজীবী বলেন, 'তিনি জ্ঞানপাপী'। তখন আদালত বলেন, 'কিসের জ্ঞানপাপী, তিনি নির্বোধ'। [১] 

আমি মনে করি, সৈয়দ আবুল মকসুদ আদালতে স্বেচ্ছায় যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার অনেক অংশ অহেতুক, অতিরঞ্জিত, মসজিদ ভাঙ্গলে আগুন জ্বলবে হেনতেন...! তিনি আরও বলেন, ...কোন মসজিদ সরিয়ে নেয়ার কোন উদাহরণ এই উপমহাদেশে নাই। জনাব মকসুদের জানায় খানিকটা ভুল আছে। পাকিস্তানের মত কট্টর দেশেও মসজিদ বুলডজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়ার উদাহরণ আছে।

যাই হোক, আদালতের এই বক্তব্য নিয়েও আমার প্রচন্ড আপত্তি আছে, আদালত যেটা বলছিলেন সৈয়দ মকসুদ একজন নির্বোধ। একজন মানুষের নির্দিষ্ট কোন কাজকে নির্বোধসুলভ বলা চলে, মানুষটাকে না। দায়িত্বশীল একজন মানুষ অন্য একজনকে নির্বোধ বলতে পারেন না। বিচারক তো নৈবচ নৈবচ। কারণ একজন মানুষ স্রেফ নির্বোধ হলে আর যাই হোক তিনি লেখক হবেন না, হলে তাঁর লেখা তিনি নিজেই পড়বেন অন্যরা পড়ার আগ্রহ বোধ করবেন না। সলাজে বলি, আমি সৈয়দ মকসুদের লেখার একজন পাঠক। সহজ হিসাব, মানুষটা স্রেফ নির্বোধ হলে আমি তাঁর লেখা পাঠ করার আগ্রহ বোধ করতাম না। [২] 

বলা হয়ে থাকে আদালত অন্ধ, তাঁকে হাতে ধরে ধরে সব দেখাতে হয় এটা এই, ওটা ওই। আদালতের বিপুল ক্ষমতা কিন্তু প্রচুর সীমাবদ্ধতাও আছে। আদালত আবেগ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ বোধ করেন না, প্রমাণ এবং অকাট্য যুক্তিই ভরসা। সৈয়দ মকসুদ কি কি অপরাধ করেছেন এখানে সেটাই বিবেচ্য বিষয় হওয়া সমীচীন ছিল কিন্তু আদালত এখানে নিয়ে এসেছেন অপ্রাসঙ্গিক বিষয় যেমন টক শো, টিআইবি [৩], টাউট-বাটপার-দালাল, ঘুষ ইত্যাদি। আদালতের কাছে আমার প্রশ্ন, সৈয়দ মকসুদের এই মামলার সঙ্গে এই সব বিষয়ের যোগসূত্র কী!

আর সৈয়দ মকসুদ, আপনার আদালতের চোখে চোখ রাখার সাহস না-থাকলে এই নিয়ে জ্বালাময়ী ভাষণ দিতে গেলেন কেন! মাহমুদুর রহমানের মত সাহস আপনার নাই এটা কী আপনাকে মনে করিয়ে দেব?
আদালত, আমি বিষাদের সঙ্গে এও বলি, আপনারা বিপুল ক্ষমতার অপব্যবহার করলেন, যেমন অন্যায়টা হয়েছিল মাহমুদুর রহমানের বেলায় [৪]! আফসোস, বড়ই আফসোস! আদালত লেজারগান দিয়ে চড়ুই পাখি শিকার করার চেষ্টা করলেন‍!

সহায়ক সূত্র:
১. কালের কন্ঠ: http://www.dailykalerkantho.com/epaper/?archiev=yes&arch_date=03-03-2011
২. সৈয়দ মকসুদ: http://www.ali-mahmed.com/2011/02/blog-post_09.html
৩. টিআইবি বনাম আদালত: http://www.ali-mahmed.com/2011/01/blog-post_31.html
৪. মাহমুদুর রহমান: http://www.ali-mahmed.com/2011/02/blog-post_24.html