Wednesday, March 2, 2011

সোনার বাংলার সোনার মানুষ!

 ২৮ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোয় মুহম্মদ জাফর ইকবাল "মা, তোর বদনখানি মলিন হলে..." এই শিরোনামে চমৎকার একটা লেখা লিখেছেন [১]। তিনি বেদনার সঙ্গে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংগীত সঠিক করে এই দেশের লোকজনরা গাইতে পারেন না!
এটা তাঁর ধারণা। আমার ধারণা, এই দেশের অধিকাংশ মানুষই পুরোটা দূরস্থ, আট লাইন জাতীয় সংগীতও শুদ্ধ করে গাওয়া দূরের কথা বলতেও পারবেন না। আমার ধারণা ভুল হতে পারে, মনেপ্রাণে চাই, ধারণাটা ভুল হোক।

যাই হোক, মনে বেশ অনেকখানি কষ্ট ছিল ওই কলামে মুহম্মদ জাফর ইকবাল সঠিক জাতীয় সংগীতটা তুলে দিলেন না কেন! সেই কষ্টটা লাঘব হলো। পরদিন এটা ছাপানো হয়েছে। আমি একটা ঘোরের মধ্যে আছি, কেবল ছাপানোই হয়নি প্রথম আলো এটাও লিখেছে, "...মুহম্মদ জাফর ইকবাল...শিরোনামে সাদাসিধে কলামে গাওয়ার জন্য জাতীয় সংগীতের পূর্ণপাঠ যুক্ত করে দিয়েছিলেন। কিন্তু অসাবধানতাবশত সেটা ছাপা হয়নি। আজ এখানে গাওয়ার জন্য জাতীয় সংগীতের পূর্ণপাঠ দেওয়া হলো:..." [২]
ওয়াল্লা, এই প্রথম জানলাম, আসমানি কিতাব টাইপের এই পত্রিকা কেবল ভুলই করে না, ভুল স্বীকারও করে! ওয়াল্লা, আমি শিহরিত, রোমাঞ্চিত! ইয়া মাবুদ-ইয়া মাবুদ, আমি জ্ঞান হারাব! অবশ্য পাশাপাশি এই বেদনাও পাক খেয়ে উঠছে এই পত্রিকা তাহলে রক্তমাংসের লোকজনরা চালায়, দেবতারা না!
বুকে হাত দিয়ে বলি, পত্রিকাটির ভুল স্বীকার করার এই ভুল মতান্তরে এই প্রবণতাকে আমি স্বাগত জানাই। পত্রিকাটি বড়ো একটি ধন্যবাদ পাওনা হয় বৈকি।

যাগ গে, পুরো দোষ আমাদের নড়বড়ে কাঁধে চাপিয়ে দেয়াটা সমীচীন হবে না কারণ আমাদেরকে শুদ্ধরূপে জাতীয় সংগীত গাইতে শেখানো হয়েছে কিনা সেটাও আলোচ্য বিষয়। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষাটা হয় স্কুল থেকে। স্কুলে কী শেখানো হচ্ছে? আমি অজস্র উদাহরণ দিতে পারি।   
(কারিগরি সমস্যার কারণে, সমস্যাটা সম্ভবত গুগলের। ছবি আপলোড করা যাচ্ছে না বিধায় স্ক্যান করা ছবি এখানে যুক্ত করা যাচ্ছে না। স্ক্যান ছবিটার বদলে স্কুলের বাচ্চাদের বই থেকে টাইপ করে জাতীয় সংগীত এখানে তুলে দিচ্ছি।)
স্যারদের কেউ এই জাতীয় সংগীতটা গাওয়ার চেষ্টা করলে হাড়ে হাড়ে টের পাবেন! এটা পড়ে একটা বাচ্চা জাতীয় সংগীত গাইবে কেমন করে? 

                     জাতীয় সংগীত 
                         আমার সোনার বাংলা,
                         আমি তোমায় ভালবাসি।
                                       চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস,
                                          আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি।।
                                        ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে
                                          ঘ্রাণে পাগল করে,
                                           মরি হয়, হায় রে-
                                     ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে
                                      আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।।
                                     কী শোভা কী ছায়া গো,
                                   কী স্নেহ কী মায়া গো,
                                       কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে,
                                     নদীর কূলে কূলে।
                                     মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে
                                    লাগে সুধার মতো,
                                    মরি হায়, হায় রে-
                                    মা, তোর বদন খানি মলিন হলে,
                                   ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি।।
                                              -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

(রবীন্দ্র রচনাবলীর অনেকখানি পাওয়া যাবে এখানে। নামটা যে বলিহারী  : D , রবীন্দ্র রচনাবলীর বৈদুতিন সংস্করণ: http://rabindra.rachanabali.nltr.org/node/2

সহায়ক সূত্র:
১. মা, তোর বদনখানি...: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=12&date=2011-02-28
২. জাতীয় সংগীতের পূর্ণপাঠ: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=12&date=2011-03-01