Search

Loading...

Tuesday, March 29, 2011

দেশের জন্য ভোট ভিক্ষা চাইছি

গতবার আমার কাছের মানুষেরা আমার উপর প্রচন্ড বিরক্ত হয়েছিলেন। তাঁরা পরামর্শ দিয়েছিলেন আমি যেন আমার পক্ষে বিভিন্ন জায়গায় ভোট দেয়ার জন্য প্রচারণা চালাই। আমি সযতনে এড়িয়ে গিয়েছিলাম। আজ আর নাম বলে লজ্জা দেই না একজন ফোনে বলেছিলেন, আপনি ঘাড় ত্যাড়া। ঘুরিয়ে বলার চেষ্টা, আপনি বেতমজি। আজ বুকে হাত দিয়ে বলি বিষয়টা এমন না। তখন আমার কেবল মনে হচ্ছিল আমি তো আর রাজনীতিবিদ না যে জনে জনে ভোট চেয়ে বেড়াব। অবশ্য এই ভাবনাটা আমি আজও লালন করি।

তাহলে আজ কেন ভোট চাইছি, হোক না অন্যের জন্যই! আমি দেশপ্রেম- ট্রেম এই সব জটিল কথা বুঝি না, বোঝার জন্য কাতরতাও প্রকাশ করি না। আমি ডিগবাজী দিতে পারি না কিন্তু কোথাও আমার দেশের কথা ঘুরেফিরে আসবে এমনটা নিশ্চিত হলে একটা কেন একশোটা ডিগবাজী দেব। প্রায় অসম্ভব তবুও ডিগবাজী দেয়ার চেষ্টা করব। কেন এই অসম্ভব চেষ্টা করব? আমি জানি না!

ব্লগস্ফিয়ারের লেখা নিয়ে 'ববস' আবারও আয়োজন করেছে। এদের বিভিন্ন ভঙ্গি নিয়ে অনেকের আপত্তি থাকতে পারে (যেমন আমার মনে হয়েছে, ফেসবুক এবং টুইটারে লগইন করা নিয়ে। ফেসবুক, টুইটার যেন আসমানী কিতাব যে প্রত্যেকের এই একাউন্ট থাকবে, থাকবেই! আমার কাছে বিষয়টা বিরক্তিকর মনে হয়েছে।)।
এমনিতে অর্জুনের মত আমি আকাশ-পাখি দেখি না, দেখি কেবল পাখির চোখ। আমি দেখি আমার দেশ, আমার ভাষা সগর্বে দাড়াচ্ছে কিনা? এই কাজটা কারা করছে তাতে কী আসে যায়!
'বাংলাদেশ ওমুক দেশের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে', আমি রাজনীতিবিদ নই তবুও জোর দিয়ে বলতে পারি এদের কাছে তো আর দেশকে কেউ বিক্রি করে দিচ্ছে না তাহলে অযথা, অহেতুক ক্ষোভের উৎস কী! বরং কারও-না-কারও কল্যাণে আমাদের ভাষাটা পরিচিত হচ্ছে, অসুবিধা কোথায়! এছাড়া আমার দেশের তো কোন লোকসান হচ্ছে না। ওখানে হিন্দি নাই, উর্দু নাই কিন্তু বাংলা ভাষাটা আছে। এটা ভাবতেই তো কেমন অন্য রকম লাগে! 

Best Blog-এ আছেন 'সাবরিনা'। এখন পর্যন্ত ২৫% নিয়ে তিনি আছেন দ্বিতীয় স্থানে। মাত্র ১১% পিছিয়ে আছেন। আমরা খানিকটা ঝাপিয়ে পড়লে তাঁকে জিতিয়ে দেয়া সম্ভব। আমি এই কষ্টের কথা ভুলব না গতবার সামান্য চেষ্টা করলেই মোস্তফা কামালকে [১] আমরা জিতিয়ে দিতে পারতাম। (এই অভাগা মানুষটার কথা আমরা মনে রাখিনি। ডয়চে ভেলেও না!)
সাবরিনা, 'ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান' [২], যে মানুষটা নিজে নিজে মোবাইল ফোনটাও ধরতে পারেন না তিনি আক্ষরিক অর্থেই কী-বোর্ড নিয়ে অন্যের জন্য লড়াই চালিয়ে এসেছেন। এখন আমি এই মানুষটাকে কেবল 'ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান' হিসাবেও দেখছি না, দেখছি কেবল দেশটাকে, আমার ভাষাকে। 

Special Topic Award Human Rights-এ ৩৩% নিয়ে প্রথম স্থানে আছে 'আদিবাসী ব্লগ'। আদিবাসী, এই সব জটিল কথা বুঝি না। আমি এঁদের বলি আদিমানুষ। এই সব আদিমানুষদের, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা মানুষদের প্রতি বিভিন্ন সময়ে আমরা যে অন্যায় করেছি [৩] এই নিয়ে এখন আর কুতর্ক যাই না। কিন্তু এঁদের কোন প্রতিনিধিকে আমি যেদিন ওখানে দেখব সেদিন অন্তত এই প্রশান্তিটুকু পাব যে খানিকটা পাপমোচন হয়েছে।

অন্য ক্যাটাগরিতেও আমরা চেষ্টা করলে এগিয়ে যেতে পারি। Reporters Without Borders Award-এ আবু সুফিয়ান ২৭%। দ্বিতীয় স্থানে যেটা সেটাও ২৭%!  ...Best Social Activism campaign-এ অমি রহমান পিয়াল পিছিয়ে আছেন ৬%।

নিজেকে আমার ঢের চেনা হয়ে গেছে। এঁদের আমি যেদিন ওই মঞ্চে দেখব সেদিন আমি যেখানেই থাকি না কেন হাউমাউ করে কেঁদে ফেলব এতে কোন সন্দেহ নেই। অন্যরা চোখ বড় বড় করে দুম করে বলে বসবে, 'আশ্চর্য, আপনি এমন করছেন কেন? আপনার সমস্যাটা কী'!
আহা, তখন আমি বুঝি এটা না-বলে বসে থাকব, 'কেন, এই দেশের সংবিধানে কাঁদার জন্য কি তোমাদের অনুমতির প্রয়োজন হয়'?

*ভোট দিতে হবে যেখানে: http://thebobs.dw-world.de/en/nominations/?cat=1

সহায়ক সূত্র:
১. মোস্তফা কামাল, আমি দুঃখিত: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_18.html
২. ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান...: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_03.html
৩. আদিমানুষ...: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_23.html

Monday, March 28, 2011

আহ জীবন!

...প্রথম বন্দীকে ওঠনো হলো গিলোটিনে।
ঘ্যাচ!
প্রথমবারের মতো নেমে এলো ভারি ধারালো ফলাটা। দর্শকরা গুণলো ‘এক!’
(এরপর) দর্শকরা গুণলো ‘দুই!’


ঘ্যাচ! ঘ্যাচ! ঘ্যাচ!
‘তিন...চার...পাঁচ’ বিরামহীনভাবে দর্শকরা গুণছে। নিমিষেই প্রথম গাড়ি শূণ্য হয়ে গেল। দ্বিতীয় গাড়ি থেকেও বন্দীদের নামানো শুরু হলো। অল্পক্ষণেই শূণ্য হয়ে গেল সেটাও। এবার পালা তৃতীয় গাড়ির বন্দীদের। সেই মেয়েটা আর কারটন পরস্পরের হাত ধরে আছে।
মেয়েটা বলছে, ‘আমার মোটেও ভয় করছে না । তোমার হাত ধরে আছি তো।’
কারটন বলল,‘তোমার পালা আসবে যখন, আমার দিকে তাকাবে। আমার কথা ভাববে, অন্য কিছু ভাববে না। কিভাবে কী হয়ে যাবে টেরই পাবে না।’
‘ওরা কী খুব তাড়াতাড়ি করবে?’
‘হুঁ।’
অবশেষে মেয়েটার কাঁধ একটা হাত স্পর্শ করল।
জিজ্ঞেস করলো মেয়েটা, ‘সময় হয়েছে?’
‘হুঁ।’

কারটনকে চুমু খেয়ে উঠে দাঁড়াল সে। জনতার দিকে তাকিয়ে হাসল, নির্ভীক, পৃথিবীকে তাচ্ছিল্যের হাসি। তারপর গিলোটিনের দিকে এগোল।
‘ঘ্যাচ’।
জনতা গুণল : ‘বাইশ!’


আকাশের দিকে তাকাল কারটন। কী ঝকঝকে! আকাশে হালকা মেঘ। উড়ে যাচ্ছে একটু একটু করে। বিড়বিড় করছে কারটন,
এই ভালো, সারাজীবন যা করেছি তার চেয়ে অনেক অনেক ভালো একটা কাজ করলাম।
একটা হাত স্পর্শ করলো ওর কাঁধ।
ধীর পায়ে এগিয়ে চলল কারটন। আকাশের দিকে দৃষ্টি। এখনও। গিলোটিনের বেদীতে উঠল। আড় কাঠে গলা রেখে হাঁটু মুড়ে বসল। অনেক মানুষের গুঞ্জন ভেসে এলো ওর কানে। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল, শেষবারের মতো পৃথিবীর, মানুষের মুখ। গুঞ্জনের আওয়াজ ক্রমশ বাড়ছে... সুতীব্র এক আঘাত। সব আলো মুছে গেল কারটনের চোখ থেকে।
জনতা গুণল: ‘তেইশ!’

(আ টেল অভ টু সিটিজ, চার্লস ডিকেন্স)

*অনুবাদটা কে করেছিলেন এখন আর মনে নাই পুরনো ডায়েরীতে টুকে রেখেছিলাম। কিন্তু সব গুলিয়ে যায় যখন কারটনের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করি। আজ কোথাও পড়ছিলাম পৃথিবী থেকে ক্রমশ মৃত্যুদন্ড উঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমি স্বপ্ন দেখি, বাংলাদেশেও একদিন মৃত্যুদন্ড থাকবে না। যে প্রাণ মানুষ সৃষ্টি করতে পারে না সেই প্রাণ নষ্ট করার অধিকার তার নাই...। 

Saturday, March 26, 2011

হলুদ সাংবাদিকতা!

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু লেখা পড়ে ঝিম মেরে থাকি। যেসব সংলাপ বা রগরগে বর্ণনা থাকে আদৌ কী সত্য, নাকি..., ধন্ধে পড়ে যাই! অনেক ঘটনা পড়ে আমার মনে হয় লেখক সাহেব মনের মাধুরী মিশিয়ে একটা মশলাদার চানাচুর পরিবেশন করেন। আজ এর প্রমাণ হাতে হাতে পেলাম...।

আজ ইত্তেফাকের বিশেষ আয়োজনে একজন নৌ-কমান্ডোকে নিয়ে লেখা পড়ে হাসব না কাঁদব এখনও ঠিক করে উঠতে পারিনি। এই নৌ-কমান্ডোর নাম ফজলুল হক ভূঁইয়া, যদিও তাঁর নাম দেয়া হয়েছে মোঃ ফজলুল হক!
এই মানুষটাকে নিয়ে আমি কিছু কাজ করেছিলাম [১] [২] [৩] [৪]। অনেকবারই আমার সঙ্গে কথা হয়েছে কিন্তু তাঁর মুখে ইত্তেফাকের এই সব আজগুবি তথ্যের লেশমাত্রও পাইনি! ইত্তেফাকের এই লেখার ছত্রে ছত্রে ভুল, আমি অজস্র ভুল তথ্য ধরিয়ে দিতে পারি কিন্তু শব্দের অপচয় করতে আলস্য বোধ করছি। পন্ডশ্রম না-করে কেবল একটা বিষয়ই উল্লেখ করি:
ইত্তেফাক লিখেছে (ফজলুল হক ভূইয়া বলছেন): "...১৯৭১ সন, আমি তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষ (সম্মান) শেষে সাবসিডিয়ারি পরিক্ষার্থী..."। 

সত্য ঘটনা হচ্ছে, এই মানুষটা নিরক্ষর!


ফযু ভাই মানুষটা আজই ২৬ মার্চ এক অনুষ্ঠানে ছিলেন কিন্তু এটা পড়ার পর এই বিষয়ে আলাপ করার জন্য আমি আর তাঁকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। মানুষটার তো আর ফোন নেই যে ফট করে ফোন দিয়ে খুঁজে বের করে ফেলব। অবশেষে রাতে মানুষটাকে পাওয়া যায়।
video


সহায়ক সূত্র:
১. অন্য রকম বিজয় দিবস: http://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_16.html
২.  নৌ-কমান্ডো ফজলুল হক ভূঁইয়া, এক: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_4596.html
৩. নৌ-কমান্ডো ফজলুল হক ভূঁইয়া, দুই: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_18.html
৪. নৌ-কমান্ডো ফজলুল হক ভূঁইয়া, তিন: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_22.html

Friday, March 25, 2011

রক্তের দাগ...

'রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না' [১] এই শিরোনামে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটা লেখা লিখেছিলাম তীব্র বিশ্বাস নিয়ে: 
"৩৫ বছর কেন, ৩৫০ বছর পরও সত্যটা এটাই থাকবে, যতো বিকৃত করা হউক না কেন, রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না! ঘুষখোরকে ঘুষখোর বলব- গুখোরকে গুখোর- খুনিকে খুনি- সাদাকে সাদা, কালোকে কালো! রাজাকারকে রাজাকার বলবো- ছড়াকার না"! পাপ কাউকে ছাড়ে না- শ্যাওলাপড়া ফসিলেও তার ছাপ থেকে যায়।

ছবি ঋণ: www.col-taher.com
কর্নেল তাহেরকে নিয়ে লেখাটা 'কর্নেল তাহের, তোমাকে কি স্পর্শ করতে পারি'? সাদাকে কালো বলিব এই বইয়ে লেখাটা লিখে বিপদে পড়ে গিয়েছিলাম! এই নিয়ে আলোচনা পরে কখনও। তখন কেবল তাহের শব্দটাই ছিল অসম্ভব স্পর্শকাতর! তাহেরকে নিয়ে কোন ধরনের লেখা তৎকালীন সরকার সহ্য করতে পারতেন না। ওই লেখাটায় অবশ্য পরে আরও তথ্য যোগ করা হয়েছিল [২]

কর্নেল তাহেরকে স্রেফ খুন করা হয়েছিল। দিনের-পর -দিন, মাসের-পর-মাস, বছরের-পর-বছর, যুগের-পর-যুগ চলে যায় কিন্তু সেই খুনের বিচার আর হয় না। যে খুনের বিচার সম্প্রতি হয়েছে। হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, এটা ঠান্ডা মাথার হত্যাকান্ড। নাটের গুরু হচ্ছেন জিয়াউর রহমান [৩]। গোল্ডা মায়ারের কাছ থেকে ধার করা কথাটাই বলি, 'নিজ হাতেখুন করা এবং খুন করার সিদ্ধান্ত দেয়ার মধ্যে তেমন কোনও ফারাক নাই'।
আজ এঁরা দুজনই মৃত। মৃত কোন মানুষকে যেমন শাস্তি দেয়া যায় না তেমনি সম্ভব না মৃত কাউকে জীবিত করাও! তাহলে? কিন্তু ন্যায় প্রতিষ্ঠা করাটা জীবিত মানুষদের জন্য বড়ো জরুরি। আর কর্নেল তাহেরের মত মানুষদের মেরে ফেলা যায় না। এঁরা খোলস বদলান কেবল!

আমি একটা লেখা দিয়েছিলাম ৭১, ৮১, ৯১, ২০০১ বছরটা জরুরি না, আমি সমস্ত অপরাধের বিচার চাই। ডা. আইজু নামের এক নির্বোধ এটা নিয়ে বিশাল এক গল্প ফেঁদে বসেছিলেন। আমি নাকি ৭৫-এর বিচার চাই না অতএব আমি স্বাধীনতাবিরোধী কুচক্রি একজন মানুষ! বয়সে কুলায় না বলে রাজাকার বলে বসেননি। আজকাল এরাই নাকি মুক্তিযোদ্ধার সনদ বিলি করেন।
আমি কেবল বলতে চেয়েছিলাম, সময়মতো সমস্ত অন্যায়ের বিচার হলে কতশত অন্যায় রুখে দেয়া যেত। যেহেতু ৭১ থেকে আমাদের দেশের যাত্রা শুরু তাই টাইম ফ্রেমটা ৭১-এর পর থেকে ১০ বছর যোগ করে করে হিসাবটা দাঁড় করানো হয়েছিল। ৭১...৮১...৯১...২০০১। যেমন এখন এর সঙ্গে ২০১১ যোগ হয়ে হবে ৭১, ৮১, ৯১, ২০০১, ২০১১। যাই হোক, যাদের (সেটা ডা. আইজু হোক বা বানর) মগজ জুতার তলায় লেপ্টে থাকে তাদের সঙ্গে তর্ক চলে না।  অবশ্য বানব জুতা পায়ে দেয় কিনা এই নিয়ে বিশদ তথ্য আমার কাছে নাই!

হাইকোর্টের রায়ে আমাকে যে বিষয়টা অভিভূত করেছে সেটা হচ্ছে তাহেরের বিচারকার্যে যে বিচারকরা জড়িত ছিলেন, তাদের মধ্যে জীবিত একজন হচ্ছেন আবদুল আলী, তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাহেরের মতাদর্শ নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে, একজন জিয়া তাঁকে মেরে ফেলতেই পারেন কিন্তু একজন বিচারক হয়ে কাউকে খুন করতে সহযোগীতা করে পার পেতে পারেন না। অবিলম্বে এই বিচারক নামের খুনের সহযোগীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। জীবিত মানুষটা মৃত হয়ে যাওয়া পূর্বেই...।

*ছবি ঋণ: www.col-taher.com

সহায়ক সূত্র:
১. রক্তের দাগ...: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_06.html
২. কর্নেল তাহের, তোমাকে কি স্পর্শ করতে পারি?: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_8805.html
৩. ঠান্ডা মাথার হত্যাকান্ড: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=1&date=2011-03-23

Monday, March 21, 2011

এক চোখ পাথরের!

এই ছবিটা নিয়ে বিশদ আলোচনায় যাই না। পত্রিকার কল্যাণে সবাই জানেন চ্যাংদোলা করে মৃত পশু ফেলে দেয়ার ভঙ্গিতে ৬০ বছরের যে মানুষটাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তিনি এই গ্রহের কুৎসিত একটা কাজ করেছেন। জজ নামের ইশ্বরের সঙ্গে নাকি ফাজলামো করেছেন [১]। ঈশ্বর বলে কথা [২]!

সবাই ক্ষেপেছেন তিন পুলিশের উপর। পুলিশের পোশাকের নাট-বল্টু আমি চিনি না তবুও অনুমান করি এরা কনস্টেবল পদমর্যাদার হবেন। বাংলাদেশের পুলিশ তাও আবার কনস্টেবল, এদের কাছ থেকে খুব বেশি আশা করার মত দুরাশা আমার নাই! কনস্টেবল কনস্টেবলের কাজ করেছেন। পুলিশ সুপার পুলিশ সুপারসুলভ বক্তব্য দিয়েছেন; কোথাও কোনও নতুনত্ব নাই। আমার বক্তব্য অন্যখানে।

যখন আদালতে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এই বয়স্ক মানুষটাকে হাতকড়া লাগানো হচ্ছিল তখন আদালতে জজ সাহেব উপস্থিত ছিলেন, উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞ আইনজীবী মহোদয়গণ। এঁরা আইনের একেকটা স্তম্ভ- এঁরা আমাদের মত দু-চার পাতা পড়ে ওখানে যাননি; ওখানে যেতে বিস্তর পাতা ঠোঁটস্থ-কন্ঠস্থ-উদরস্থ করতে হয়েছে। আইনের প্রতিভূ এঁদের কাছে এই বিষয়টার মধ্যে কোন ধরনের অমানবিকতা ধরা না-পড়লে ঘটা করে এর ফটো উঠাবারই বা কী প্রয়োজন? এই নিয়ে আমাদের অস্থির হওয়ারও কোন কারণ দেখি না।

'খোদা-না-খাস্তা' জজ সাহেবদের অপমান করার পর পরই কেউ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লে তাকেও হাতকড়া লাগিয়ে দু-চার বছরের জন্য জেলে আটকে রাখা হবে কি না এই নিয়ে চিন্তায় আছি। 'কবরজেলখানা' নামে নতুন একটা কারাগার চালু করা যেতে পারে কিন্তু ওই বেয়াদব মুর্দার সঙ্গে পুলিশরা কী কবরজেলে ঢুকতে রাজি হবেন কি না এই নিয়ে আবারও চিন্তায় পড়ে গেলাম। এঁদের লালন করার জন্য ট্যাক্সপেয়ী আমরা নির্বোধ জনগণের গাঁট থেকে বিস্তর ট্যাক্সের টাকা বেরিয়ে গেলেও লাভের লাভ যা হবে এই সব নিয়ে চিন্তা করে করে আমরা খানিকটা চিন্তাশীল হলেও হয়ে যেতে পারি।

শাহআলম সাহেব বছরের পর বছর ধরে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাতে দেখাতে ক্লান্ত হয়ে (মতান্তরে বুড়ো আঙ্গুল ক্ষয় হয়ে যাওয়ায়) অবশেষে কাল সকাল-সকাল টাট্টিখানা, হালের বাথরুমে হঠাৎ করে বোধোদয় হলো, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না-জানানো কাজটা মোটেও ঠিক হচ্ছে না। আইনের কাছে সমর্পণ না-করে ছাড়াছাড়ি নাই। কিন্তু গাটা যে আবার ম্যাজম্যাজ করছে বড়ো। গাট্টগোট্টা একজন মানুষ হুট করে অসুস্থ হতে পারবেন না এটা কেমনতরো কথা! নিজে নিজেই শরীর খারাপ হবে- স্কুলপড়ুয়া বাচ্চা তো আর না যে বগলে পেয়াজ রেখে জ্বর উঠাবার জন্য কস্তাকস্তি করতে হবে। অতএব এটা নিয়ে হইচই করার কিছু নাই। অসুস্থ হওয়ার পর মানুষের মনও বিচিত্র কারণে নাকি তরল থাকে। তার উপর কথিত আছে, অনেকের নাকি কঠিন কঠিন আইডিয়া প্রসবের জায়গা হচ্ছে বাথরুম-ওয়শরুম!
শাহআলম সাহেব আইনকে তার কেশ স্পর্শ করার জন্য তার স্বল্প কেশযুক্ত মাথার কেশ এগিয়ে দিতে হাসপাতালের টাট্টিখানা থেকে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যদি আদালতে হাজির হন তাহলে সমস্যা কোথায়?

ভাল কথা, মেডিনোভা না কার যেন রোগি আনানেওয়া করার জন্য হেলিকপ্টার নাকি সেসনা ছিল? ইউনাইটেড হাসপাতালের হেলিকপ্টার নাই? থাকলে ওই হেলিকপ্টারে করে আদালতের ছাদে বা মাঠে নামলে খানিকটা সুবিধা হতো না, নাকি? অসুস্থ একটা মানুষ! শাহআলম বেচারার হার্টের ব্যামো; বেচারা যানজটে আটকা পড়ে কী কষ্টই না করেছেন! ফট করে হার্টটা ফুটে গেলে এর দায় কে নিত? আর সেই শব্দে দু-চারজন পথচারী হুমড়ি খেয়ে পড়ে হাত-পা ভাঙ্গলে ওরাই আবার রাস্তার দোষ দেখিয়ে সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে একটা টর্ট আইনের আওতায় মামলা ঠুকে দিলে এরই বা দায় কে নিত...।

সহায়ক লিংক:
১. পত্রিকার খবর: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=24&date=2011-03-21 
২. বিচার...: http://www.ali-mahmed.com/2011/01/blog-post_31.html

Sunday, March 20, 2011

নিছক ব্যক্তিগত

আমার খুব কাছের মানুষ সমস্যাটা চট করে ধরতে পারেন, আমার মধ্যে ঝামেলা আছে, বড়ো ধরনের ঝামেলা! নিজের সন্তানের প্রতি আকাশ-পাতাল মায়া আমার নাই, থাকার নাকি কথা! এই নিয়ে আমায় বিস্তর কথা শুনতে হয়, না-হক ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয়। কখনও জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে। অহেতুক মায়ার বস্তা না-থাকলে কী করব, নিজেকে ধরে ধরে চাবকাব!

আমার সাফ কথা, অনর্থক নিজের সন্তানের প্রতি আকাশ-পাতাল মমতা থাকার অর্থ এই গ্রহের অন্য সন্তানদের প্রতি অন্যায় করা। তাই বলে আমি লেংটিপরা দেবতা না যে নিজের সন্তানদের ফেলে দিয়ে গাছে গাছে দোল খাব। বা বাংলাদেশের 'ন্যাতা' না যে প্রয়োজনে আরও রক্ত দোব।
এটা সত্য নিজের সন্তানদেরন জন্যও আমারও আছে উজাড় করে দেয়া ভালবাসা কিন্তু সীমা ছাড়িয়ে না। আমার মনে আছে, আমার ছেলেকে কঠিন শাস্তি দিয়েছিলাম কারণ একদিন রাস্তায় দেখি, তার স্কুল ব্যাগ বুয়ার হাতে ছিল। এই বুয়া নামের মানুষটা আমার খালাসম কারণ ইনি শৈশবে আমাকেও পরম মমতায় লালন করেছেন। আমার ছেলেটা নিষেধ করেছিলাম, 'তোমার স্কুল ব্যাগ তুমি ক্যারি করবে'। সে তখন আমাকে উত্তর দিয়েছিল, 'বাবা, আমার স্কুল ব্যাগটা নিতে পারি না'।

আজকালকার বাচ্চাদেরকে গাট্টি-গাট্টি বই ধরিয়ে দেয়া হয় তবুও তার ব্যাগ খুলে দেখা গেল দেড় লিটারের পানির বোতল। স্বল্প দূরত্বে একটা বাচ্চার জন্য দেড় লিটার পানির বোতলের প্রয়োজন নাই। ঝেড়েঝুড়ে ব্যাগটা অনেকখানি হালকা করে দেয়া হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল এরপর থেকে তোমার ব্যাগ তুমি বহন করবে। তদুপরি...। এই বিষয়ে কোন ছাড় নাই, আমি চাই না এ রসিয়ে রসিয়ে তার বন্ধুদেরকে বলুক, এই জানিস, আমার ব্যাগ না আমার বুয়া আনানেওয়া করে। ওর বন্ধুরা তখন বলবে, ওই-ই মা, তাই!
আমার সন্তান বেয়াদব হয়ে বড়ো হোক এটা আমি চাই না। একটা বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে যখন জড়িত ছিলাম তখন আমি দেখেছি, এমবিএ করা চ্যাংড়া-চ্যাংড়া পোলাপানরা তাদের ল্যাপটপটা নিজে বহন করত না, করত তাদের গাড়ির চালক। আসলে এই কুত্তার বাচ্চাদের জুতিয়েও মানুষ করা সম্ভব না!

কিন্তু...। আমার সমস্ত হিসাব ওলটপালট করে দেয় আমার মেয়েটা। জানি-জানি, অনেকে ফ্রয়েডিয় বুলি কপচাবেন। বিষয়ট আসলে এমন না...।
এর হাতে একটা অপারেশনের প্রয়োজন হলো। একে যখন অপারেশন টেবিলে শোয়ানো হলো, খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে সিস্ট বের করার চেষ্টা করা হলো তখনও আমি স্বাভাবিক।

কিন্তু এই অপারেশনে অনেকখানি জটিলতা দেখা দিল- বেচারা ডাক্তারের কিছু করার ছিল না। ছাতার এই আখাউড়া হাসপাতালে এই সামান্য সার্জারি করার সুবিধাটুকুও নাই! দ্বিতীয়, তৃতীয়বার ড্রেসিং-এর নামে গায়ের জোরে এর হাত থেকে সিস্ট বের করার চেষ্টা।

চতুর্থবারের মাথায় যখন একে অপারেশন থিয়েটারের টেবিলে শোওয়াবার আয়োজন চলছে তখনও মেয়েটি আমার কথা অবিশ্বাস করছিল না। অথচ ইতিমধ্যে এ অমানুষিক যন্ত্রণা সহ্য করেছে কেবল বাবার কথা বিশ্বাস করে।
বুকে হাত দিয়ে স্বীকার যাই, এদিন আমার নিজের আর মনের সঙ্গে লড়াই করার শক্তি ছিল না। গত মঙ্গলবারের বিষণ্ণ বিকেলে আমি ঝাপসা মনিটরে ব্যানার পরিবর্তন করেছিলাম, "আজ আমার অসহ্য লাগছে, ভাল লাগছে না কিছুই! ক-দিন ধরেই আমার মেয়েটাকে ডাক্তাররা কাটাছেঁড়া করছে। এই কান্ডটা আজও হবে কিন্ত আজ আর আমার এক ফোঁটা শক্তি নাই! এই গ্রহের সব তুচ্ছ মনে হচ্ছে! আমার চেয়েও অনেকের বুকে জগদ্দল পাথর চেপে আছে কেবল তাঁদের কথা ভেবে খানিকটা শক্তি পাওয়ার চেষ্টা করছি..."।

সত্যি সত্যি তখন আমার খানিকটা শক্তি নামের উষ্ণতার বড়ো প্রয়োজন। আমি মনে মনে কেবল ভাবছি, কাশেম ভাই নামের আরেক বাবার কথা [১]। পাশাপাশি তুলনা করলে আমার এই বেদনা কিছুই না!
এমনিতে অন্য একটা কারণেও আমার মেজাজ সপ্তমে কারণ আমি কাফরুল নামের যে জায়গায় ছিলাম ওখানে আসা-যাওয়ার জন্য আর্মিদের অনুমতির প্রয়োজন হয়। গতবারের স্মৃতি এখনও দগদগে। সেই লেখার সূত্র ধরেই বলি, 'আমি ব্লাডি সিভিলিয়ান এখুনি মরতে চাই না' [২]
আমি ঢাকার রাস্তা-ঘাট মনে রাখতে পারি না বিধায় একজন সহৃদয় মানুষ ড্রাইভারসহ একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। গাড়ি যিনি চালান তাঁকে আমি শান্তমুখে আগেই বলে দিয়েছিলাম, আর্মিদের সঙ্গে আমি একটা বাক্যও ব্যয় করব না। যা বলার আপনি বলবেন। আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে বলবেন, আমি বোবা, কথা বলতে পারি না।

অপারেশন থিয়েটারে সার্জন খানিকটা চিন্তিত। আমার মেয়েটার শ্বাসকষ্টের সমস্যার কারণে একে পুরোপুরি অজ্ঞান করা ঝুকিপূর্ণ কারণ জ্ঞান না-ও ফিরতে পারে তাই লোকালই ভরসা। তিনি অন্য ডাক্তারের সঙ্গে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন কেবল লোকালের উপর ভরসা করে এই অপারেশনটা যে করবেন বাচ্চা এইটুকুন মেয়ে এই তীব্র কষ্ট সহ্য করতে পারবে কিনা।
অপারেশন থিয়েটারে মেয়েটার সঙ্গে আমি অনবরত কথা বলে যাচ্ছিলাম। এ যখন বলল, 'বাবা, ডাক্তার আমায় কষ্ট দিচ্ছে', আমি বুঝে যাই কতটা কষ্ট সহ্য করে এ এই কথাটা বলেছে। আমি ওকে জড়িয়ে ধরে এর অন্য হাতটা আমার মুখে রেখে বিড়বিড় করে বলি, 'তোমাকে ডাক্তার যতটা কষ্ট দেবে তুমি তারচেয়ে জোরে আমার গাল খামচে ধরবে, দেখবে তোমার ব্যথা কমে গেছে'।
আমার গাল ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছিল, হোক। আমি এটাও জানি না বিজ্ঞানের কোন কিতাবে এটা লেখা আছে কিনা একজন অন্যজনকে ব্যথা দিলে তার ব্যথা কমে যায়। আমার এতো জেনে কাজ নেই, আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, দ্যাটস অল।
ডাক্তাররা এই মেয়েটার সহ্য করার ক্ষমতা দেখে হতভম্ব হয়েছিলেন। কিন্তু আমার অদেখা রক্তক্ষরণ কেউ দেখতে পাচ্ছিল না। আমার অদম্য কষ্টটা অন্য কারণে। কেন এই মেয়েটা অন্যদের মত আকাশ ফাটিয়ে কান্না করছিল না? কেন বাবা নামের মানুষটার সমস্ত কথা বিশ্বাস করে বসে আছে! বোকা মেয়ে, বড়োদের পুরোপুরি বিশ্বাস করতে নেই!

(সবিনয় অবগতি: এটা একটা নিছক ব্যক্তিগত লেখা। এখানে মন্তব্য প্রতিমন্তব্য করার কিছু নাই। রোগি এখন ভাল আছে এটা খানিকটা আঁচ করতে পারছি কারণ একটু আগে আঁকাআঁকির চেষ্টা করছিল। অবশ্য জিনিসটা লাউ নাকি রকেট এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত না)

সহায়ক সূত্র:
১. অপেক্ষাhttp://www.ali-mahmed.com/2011/03/blog-post_13.html
২. ব্লাডি সিভিলিয়ান: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_15.html     

Sunday, March 13, 2011

অপেক্ষা...

আবুল কাশেম নামের এই মানুষটা গাড়িতে বুট-বাদাম ফেরি করেন। তাঁর স্ত্রী এবং এক সন্তান মৃত্যু হয়েছে থ্যালেসেমিয়া নামের দুরারোগ্য অসুখে। তাঁর মেয়েটিও একই রোগে ভুগছে। ওকে দেড় মাস অন্তর রক্ত দিতে হয়। প্রতিবার খরচ পড়ে প্রায় দু হাজার টাকা। এই মানুষটা সামান্য একটা ব্যবসা করে কেমন করে এই খরচটা চালান এটা এখনও আমার বোধগম্য হয় না!

এই ছবিতে কাশেম ভাইয়ের সঙ্গে যে ছেলেটির ছবি দেখা যাচ্ছে এর নাম শুভ। এ হচ্ছে সবার ছোট।

শুভকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসার পর জানা গেল, এও থ্যালেসেমিয়ায় আক্রান্ত! এখনও একে রক্ত দেয়া শুরু হয়নি কিন্তু অচিরেই এর প্রয়োজন পড়বে।
কাশেম ভাইয়ের মেয়েটির একটা অপারেশন প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কিন্তু এটাও সত্য অপারেশন করলেও তাঁর মেয়েটিকে বাঁচানো যাবে না- রক্ত দেয়ার সময়টা খানিক বাড়বে এবং খানিকটা ভাল থাকবে। কিন্তু তাকে বাঁচানো যাবে না।

আমার মাথা খানিক এলোমেলো ছিল বলেই সম্ভবত ভুলটা করে বসি। সন্তানের জন্য এই বাবা নামের অসহায়-দরিদ্র মানুষটার লড়াই দেখে দুম করে বলে বসি, আপনার সন্তানের অপারেশন করতে হলে ব্যবস্থা হবে। আপনি এটা কখনও ভাববেন না বাবা হিসাবে আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বলার পরই আমি বাস্তবতার মুখোমুখি হই, এই অপারেশন করতে অন্তত বিশ হাজার টাকা লাগবে। এই টাকার তো কোন ব্যবস্থা নাই।

আমি জানি না কেমন কেমন করে ভাগ্যের মমতার হাত আমার হাত শক্ত করে ধরে রাখে। অন্যের জন্য কিছু চেয়ে পাইনি এমনটা আমার মনে পড়ে না! আমার এই সব বোকামির কোনো-না-কোনো উপায় ঠিক-ঠিক বের হয়, আমিও কথা না-রাখার লজ্জার হাত থেকে বেঁচে যাই। এবারও তাই হলো! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আখাউড়া হাসপাতালের সদাশয় একজন ডাক্তার এগিয়ে আসেন। তিনি নিজ দায়িত্বে, তাঁর সিনিয়রদের অনুরোধ করে কুমিল্লায় এই অপারেশন করার সমস্ত ব্যবস্থা করে দেন।
এখন কেবল কাশেম ভাইয়ের সম্মতির জন্য অপেক্ষা। 

মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা, এরচেয়ে কঠিন আর কোন কাজ এই গ্রহে আছে বলে আমার জানা নাই, তাও নিজ সন্তানের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা! প্রিয় মানুষের শব [১] নিয়ে অপেক্ষার রাত কতটা দীর্ঘ হয় এটা আমি জানি। কিন্তু নিজ সন্তানের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা কেমন করে করতে হয় এটা আমি জানি না, জানতেও চাইব না। কেবল চাইব তার পূর্বেই যেন আমার মৃত্যু হয়।
কী ঝলসানো, তীব্র সেই চোখের দৃষ্টি! মানুষটাকে অন্ধকারে রাখাটা আমার কাছে সমীচীন মনে হয়নি। কাশেম ভাইয়ের চোখে চোখ রেখে আমাকে এটাও বলতে হয়, অপারেশন করেও তাঁর সন্তানকে বাঁচানো যাবে না। মানুষটা কিছুই বললেন না, কিচ্ছু না! বললে ভাল হতো।
এরপর থেকে আমার মাথায় কেবল ঘুরপাক খায়, ইচ্ছামৃত্যুর অধিকার থাকা উচিত, আইনের কাছ থেকে এবং ঈশ্বরের কাছ থেকেও...।

সহায়ক সূত্র:
১. শব নিয়ে অপেক্ষা...: http://www.ali-mahmed.com/2009/06/blog-post_21.html

Thursday, March 10, 2011

একজন বীরশ্রেষ্ঠর সহযোদ্ধা মুখলেছুর রহমান

একজন মুখলেছুর রহমান। সম্ভবত তিনিই একমাত্র জীবিত ব্যক্তি যিনি বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন।
মোস্তফা কামালের সঙ্গে তাঁর শেষ দেখা ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। তখন তুমুল যুদ্ধ। এক সময় পিছিয়ে আসার প্রয়োজন দেখা দিল। পিছিয়ে আসার নির্দেশও দেয়া হলো। মুখলেছুর রহমান পিছিয়ে আসার জন্য মোস্তফা কামালকে বললেনও কিন্তু মোস্তফা কামাল সবাইকে চলে যেতে বলে অসমসাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন। মুখলেছুর রহমান যখন পুকুরটা সাতরে পার হচ্ছেন তখন দেখেন শেলের আঘাতে মোস্তফা কামালের বাংকার মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
তখন আর তাঁর জানাজা করা সম্ভব হয়নি। পরে ওখান থেকে এনে এখন যেখানে তাঁর স্মৃতিসৌধ এখানে সমাহিত করা হয়।

নো বেল- নো ব্রেন!

নোবেল জিনিসটা মাত্রাতিরিক্ত গরম বলেই সম্ভবত এটা ঠিক করে লেখা যাচ্ছে না 'পিলাস্টিকের' কী বোর্ড গলে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা! লিখতে গিয়ে যেটা হচ্ছে, লেখা হচ্ছে হয় 'নো বেল' নইলে 'নো ব্রেন'! এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আগাম দুঃখ প্রকাশ। বাধ্য হয়ে অনেক পুরনো লেখাটাই এখানে দিয়ে দিচ্ছি:
"সংসদে তুমুল বচসা হচ্ছিল। বিরাট হাউকাউ, কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না! স্পিকার দমাদম হাতুড়ি পেটাচ্ছেন। মাইক বন্ধ করেও কোন তারতম্য হচ্ছিল না। সংসদ সদস্যরা খালি গলায় যে গলাবাজী করছেন মাইক না থাকলেও কী আসে যায়!
আসলে সমস্যাটার উদ্ভব হয়েছে নোবেলটা আসলে কোন দল (কোন্দল না) পেয়েছে এই নিয়ে! সমস্ত দলই দাবী করছে এটা তাদের কৃতিত্ব! কোন ভাবেই এ বিতর্কের মিমাংসা হলো না! যা হবার তাই হলো, বিদেশ থেকে ঘিলু আমদানী করতে হলো। বিদেশের ঘিলু, হে-হে হে, রুটির স্লাইসের চেয়ে দ্বিগুন পুরু মাখন আর লিকার খাওয়া ঘিলু বড়ো উর্বর! ক্ষণে ক্ষণে আইডিয়া প্রসবযোগ্য! আমরা বিছানায় কেমন করে বিশেষ সময় কাটাব এই বিষয়েও এরা পরামর্শ বিতরণ করে থাকেন!
শেষ পর্যন্ত নোবেল কোম্পানীর বড়ো কর্তাকে বাটার মেখে (কোথায়, এই বিষয়ে বিস্তারিত বলি না) এ বিষয়ে ফয়সালা করার জন্য রাজি করানো হলো তাঁকে বাংলাদেশে উড়িয়ে নিয়ে আসা হলো 

সবচেয়ে বেশী হইচই করছিলেন প্রধান দুইটা দলএরাই বহু বছর ধরে দেশটার চাকা ঘুরাচ্ছেন বনবন করে, নইলে কবে চাকা চারকোনা হয়ে যেত! ভাগ্যিস, এরা ছিলেন নইলে সম্ভবত ঈশ্বরও সম্ভবত এ দেশের হাল ধরতেন না!

প্রথম দলের প্রধানকে বলা হলো পয়েন্ট অভ অর্ডারে দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্য বলার জন্য প্রথম দলের প্রধান বললেন চিলকন্ঠে, 'এই অর্ডার আমি মানতে পারুম না, আমার পায়ে বিষ, ব্যথায় অস্থিরতো, আমার বক্তব্য হইল, ইউনুস সাব যে নুবেলডা পাইছে, এইটা আমাদের আমলে পাইছেএইটার কেরতিত্ব আমাদের। কালো টাকা সাদা করার সময় কালো টাকা দিয়া দিছি বইল্যা নোবেলও দিয়া দিমু, কাভি নেহি! জান দিমু কিন্তু আমরা এই নুবেলের এক কুনাও দিমু না।'


দ্বিতীয় দলের প্রধান মুহাহা করে হেসে বললেন, 'তাইলে আমিও পয়েন্ট অভ অর্ডারে দাঁড়ামু না, মিডল অভ অর্ডারে বইসা কমুআমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমার অনেকগুলা ডিগ্রিআমি এই নুবেল ডিগ্রিটা নিতে রাজী হই নাই বইলাই এইটা ইউনুস মিয়ারে দেয়া হইছেকার আমলে? এইটা কি আকথা কুকথাআমাদের আমলেই এই পরতিষ্ঠানটা কলাগাছের মত হওয়া শুরু করছিলঅনেক রক্ত দিয়েছি, শেষ রক্ত বিন্দু দিয়া দিমু কিন্তু নুবেল দিমু না।'

তৃতীয় দলের প্রধান বললেন, 'সয়্যার অন মাই বলস (বলস- এটা নিয়ে খানিক বিতর্ক আছে) আর্মিতে ছিলাম বইলা বন্দুক চালানের পাশাপাশি দেশ সেবায় পিছায়া আছিলাম না। আমার মত বড়ো মুক্তিযোদ্ধা দ্যাশে নাই কারণ সবাই যুদ্ধ করছে দেশে থাইক্যা আর আমি করছি শত্রু গো দ্যাশে থাইকা।
ভিতরের খবর কেউ রাখে না। আমিই ইউনুস সাবরে বুদ্ধি দেই, গরিব মহিলা গো টেকা দিলে ফেরত পাইবেন। কিন্তু আপনে হাইফাই মহিলাদের টেকা পয়সা ধার দিলে ফেরত পাইবেন নাহে-হে-হে, হাইফাই মহিলাদের বিষয়ে আমার চেয়ে ভাল আর কে জানেচামড়ার নল...হাক মাওলা।'


চতুর্থ দলের প্রধান, 'নোবেল জিনিসটা আবিষ্কার করছে নাসারা। নাসারাদের কুনু কিছু আমরা বেবহার করি না, ধর্মে নিষেধ আছেকুলুপ করার লিগ্যা দরকার হইলে টিলা-পর্বত উঠায়া নিয়া আসুম কিন্তু টিস্যু বেবহার করুম না। 
তয় আমাদের ম্যাডাম যখন বলছেন, তাইলে ঠিকাছেএইটা আমাদেরই কেরতিত্বজাযাকুল্লাহ খায়রুন!' 

নোবেল কোম্পানীর কর্তা মনে মনে ভাবছেন, আচ্ছা, নোবেল একবার দিয়ে আবার ফিরিয়ে নেয়ার কি কোন অপশন তাদের কোম্পানীতে চালু আছে! থাকা প্রয়োজন ছিল।"

*লেখাটা একটা ফিকশন। এই গ্রহ, গ্রহের বাইরে, এমন কী তোতলা কোন লাশের সঙ্গে মিলে গেলেও সেটা হবে নিছক কাকতালীয়।
**স্কেচে শিশিরের ছাপ আছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, 'আপনারা নোবেল প্রাইজটাকে এত বড় করে দেখছেন কেন? বাংলাদেশে যদি শান্তির জন্য নোবেল প্রাইজ পেতে হয়, তাহলে আমি বলব, দুজনের পাওয়া উচিত ছিল-শেখ হাসিনা আর সন্তু লারমার..."। (প্রথম আলো, ৯ মার্চ, ২০১১)
এটা পড়ে একজন মন্তব্য করলেন, 'চোরকে দাড়ি মে তিনকা'। আমি জানতে চাইলাম, এর মানে কি? মানুষটা উত্তর দিলেন না, রহস্যের এক হাসি হাসলেন। আমি হিন্দিতে কাঁচা। মনে মনে বললাম, বেঁচে গেছি বড়ো বাঁচা। এমন অর্থ জেনে কাজ নেই যা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। 
মাহবুবে আলমের করা শেখ হাসিনা আর সন্তু লারমাকে নিয়ে মন্তব্যের বিষয়ে তর্কে আমি যাব না কিন্তু...।  হায়-হায়, এতোটা কাল জেনে এসেছি নোবেল একটা কঠিন জিনিস কিন্তু এখন দেখছি ডাল-ভাত! নোবেল কমিটির প্রতি আমার রাগ হচ্ছে এরা এমন গাধা কেন! নোবেল যেখানে সের দরে পাওয়া যায় সেখানে এরা নোবেল দিতে এমন কার্পণ্য করে কেন? নোবেল গছিয়ে দেয়ার জন্য নতুন নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে সমস্যা কোথায়! তেলের ভান্ডের জন্য তেলতেলে একটা নোবেল দেয়ার নতুন ক্ষেত্র চালু করার জন্য জোর দাবী জানাই। এক দফা এক দাবী।    

Tuesday, March 8, 2011

ছোট-ছোট গল্প!


স্কুলের কাজে হরিজনপল্লীর এই স্কুলটায় [১] প্রায়ই যাওয়া পড়ে। ওদিন যাওয়ার আরেকটা বিশেষ কারণও ছিল। চরকি টাইপের খুব শস্তায়, দেড় টাকা পিস করে কিছু খেলনা কেনা হয়েছিল তিনটা স্কুলের বাচ্চাদের জন্য।
এই স্কুলে এসে আমি চরম বোকামি করে ফেললাম। স্কুল শেষ হওয়ার আগেই খেলনাগুলো দিয়ে ফেলায় সব হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়ল!‍ মাস্টার মশাইয়ের চোখ কালো থেকে নীল, নীল থেকে লাল হওয়া সবই পন্ড হলো! বাচ্চারা বানের জলের মত স্কুল থেকে বেরিয়ে পড়ল। চরকির মতই সমস্ত হরিজন পল্লী চক্কর লাগাতে লাগল। ভাগ্যিস, নড়বড়ে স্কুলটার ছাদ উড়ে যায়নি!
আমার জীবনে দেখা অসাধারণ দৃশ্যগুলোর এটাও একটা, কসম আমার প্রিয় মানুষের! এটা জানতাম, এই ধরনের তুচ্ছ খেলনা পেলে এরা আনন্দিত হবে কিন্তু এতোটা তীব্র প্রতিক্রিয়া আমি আশা করিনি!

আমার এই আনন্দ খানিকটা নিরানন্দে পরিণত হয়। এখানে সুভাস দাস [২] নামের একটি পরিবারও থাকেন। এরা অন্যদের চেয়ে খানিকটা আলাদা, বাচ্চাদের শিক্ষায়, নিজেদের আচরণেও। এই পরিবারের সদস্যরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে। সমস্যাটা আমি খানিকটা আঁচ করতে পারছিলাম, বলার পর নশি্চিত হলাম। এই পরিবারের দুই মেয়ে এবং এক ছেলের স্কুলের ভর্তি ফি এবং বই কেনা মিলিয়ে কম করে হলেও ৩৬০০ টাকা প্রয়োজন। খানিকটা বিরক্তিও লাগে। কিন্তু বিরক্তি বোধ করার কোন অধিকার আমার নাই কারণ আমিই এদের আশ্বস্ত করেছিলাম মেয়েদের পড়া যেন বন্ধ করা না হয়। আমি ফাজিলের এখন আর পিছিয়ে আসার কোন সুযোগ নাই।

কিন্তু স্কুল এবং অন্য খরচের জন্য হিসাব করা টাকা। ইচ্ছা করলেই এখান থেকে দেয়া সম্ভব না। অসহায় লাগে বড়ো, একটু আগের তীব্র ভাল লাগা উবে গেছে কখন! মন খারাপ ভাব নিয়ে ফিরে আসতে আসতে আমার মনে পড়ে ন্যানো ক্রেডিটের একজন আনোয়ারা বেগমকে [৩] একজন সহায়তা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু সমস্যাটা মিটে যাওয়ায় তাঁকে না করে দেয়া হয়েছিল। এই মানুষটাকে এখন বলে দেখব? কোন উপায় বের হলে এই বাচ্চাগুলোর একটা গতি হয়।

জানাবার পরই আহমেদ রফিক-উল- ইসলাম নামের এই মানুষটা ঠিক ঠিক আজই এই মেয়েদের ভর্তি ফি এবং বই কেনার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। আফসোস, ওই পরিবারটির আনন্দ এই মানুষটা দেখতে পারলেন না!
এই মানুষটার প্রতি ওই পরিবারের পক্ষ থেকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। আর জানিয়ে রাখি আলাদা করে আমার নিজের ভাল লাগার কথা। আমার হারিয়ে যাওয়া ভাল লাগা, যেটার তীব্রতা স্পর্শ করার ক্ষমতা অন্য কারও নাই...।     

সহায়ক সূত্র:
১. স্কুল, এক: http://tinyurl.com/3xpuov5
২. সুভাস দাসের পরিবার: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_2524.html
৩. একজন আনোয়ারা বেগম: http://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_9184.html  

Sunday, March 6, 2011

ক্রিকেট, ব্যবসা, দেশ

হুমড়ি খেয়ে পড়ে থাকা কারও গায়ে ঢিল ছোঁড়ে কাপুরুষ। আজ কেবল আমাদের ক্রিকেট টিম না, ১৬ কোটি মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে! এই দেশটার উপর দিয়ে কত ঝড়-সিডর বয়ে গেছে। আমাদেরকে শুইয়ে দিয়েছে, ঠিক-ঠিক আবার আমরা উঠে দাঁড়িয়েছি। আবারও আমরা উঠে দাঁড়াব। এটা কেবল অদেখা এক স্বপ্ন না, দাঁড়াবই আমরা।

গত শুক্রবারটা ছিল একটা দুঃস্বপ্ন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে যা হলো- ভাগ্যিস, কেউ এখানে কোন ধরনের নাশকতার গন্ধ পাননি! বা কোন মন্ত্রী ফট করে বলে বসেননি, আমরা বিদ্যুৎ বাঁচাবার জন্য (ফ্লাড লাইট না-জ্বালিয়ে) আগেভাগেই খেলা সমাপ্ত করেছি। আমাদের দেশে 'উপরের নির্দেশ' বলে বারমুদা ট্রাইঙ্গেল টাইপের একটা রহস্য চালু আছে। বিদ্যুৎ বাঁচাবার জন্য উপরের নির্দেশ থাকলে খেলা চালিয়ে যাবে ঘাড়ে মাথা কার কটা!
আমাদের দেশের এক মন্ত্রী বাহাদুর সত্যি সত্যি বলেছিলেন, 'মোবাইল ফোন চার্জ দিয়া সব বিদ্যুৎ শ্যাষ কইরা ফালাইতেছে'।

হালকা চালের কথাবার্তা থাকুক। বলা হয়ে থাকে, ক্রিকেট নাকি অনিশ্চয়তার খেলা কিন্তু আমার বক্তব্য খানিকটা অন্য রকম। ১৬ কোটি মানুষদের পতাকাটা যারা ধরে রেখেছেন তাঁদের বয়স অল্প। আমরা এই অল্প বয়সীদের মাথা কচকচ করে স্রেফ চিবিয়ে খাচ্ছি। আমাদের কাছে এখন এঁরা হচ্ছেন পণ্য, কতভাবে এঁদের বিক্রি করা যায় এই ধান্ধায় আমরা বড়ো ব্যস্ত!
মিডিয়া খেলোয়াড়দের মুখ দিয়ে বলিয়ে নিচ্ছে যা খুশী। যত প্রকারে সম্ভব এরা খেলোয়াড়দের বিভ্রান্ত করছে, মাথা বিগড়ে দিচ্ছে। পত্রিকাওয়ালা খেলোয়াড়দের দিয়ে লেখাচ্ছে কলাম! এটা কি খেলোয়াড়দের কাজ? এটা একটা ব্যাটল ফিল্ড, যেখানে যুদ্ধ চলছে সেখানে এঁরা কী ব্যাট ফেলে কলম তুলে নেবেন? রসিয়ে রসিয়ে পত্রিকাওয়ালাদের ভাষায় কথা বলবেন?

কোন পর্যায়ে এই সব কান্ড হলে একটি জাতীয় দৈনিক এটা লিখে নিজেরাই নিজেদের বিজ্ঞাপন দেয় [১], "আমরাই জিতব, কারণ...অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আমাদের বিশ্বকাপ লেখক টিমে। শুধু প্রথম আলোতেই নিয়মিত লিখছেন বিশ্বের এক নম্বর ওয়ানডে অলরাউন্ডার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান..."।
এই পত্রিকার নিজেদের এই বিজ্ঞাপন পড়ে আমি হাসব না কাঁদব এটা এখনও ঠিক করতে পারিনি! আমরাই জিতব, কারণ...' এই কথাটার মানে কী! সাকিব 'বাল্লেবাজি' বাদ দিয়ে প্রথম আলোতে লিখলেই আমরা খেলায় জিতে যাব?
ভাল কথা, সাকিব প্রথম আলোতে যেসব লেখা লিখে থাকেন তিনি কি ব্যবহার করেন? কলমের তো এখন চল নাই, চালু কীবোর্ডের বদলে কী ক্রিকেট ব্যাট ব্যবহার করেন! আচ্ছা, ব্যাটটা কি ছেঁচে আগের আমলের খগের কলমের মত বানিয়ে ফেলা হয়, নাকি?
আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে খেলায় কী এরই প্রতিফলন দেখলাম?

মিডিয়ার ফাজলামী সীমা ছাড়িয়ে যায়। বিটিভিতে দেখছিলাম, সাবেক অধিনায়ক আকরাম এবং আরেকজন ক্রিকেটার ছিলেন (নামটা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না বলে ক্ষমা প্রার্থনা করি) এদের সঙ্গে ছিলেন মুনমুন নামের একজন উপস্থাপিকা। খানিকটা রূক্ষ, কাঠখোট্টা টাইপের, কাঠ-কাঠ গলার এই ভদ্রমহিলাকে দেখেছি লাক্স-ফাক্স টাইপের অনুষ্ঠান করতে। ইনি যে এতো বড়ো ক্রিকেটবোদ্ধা এটা আগে জানতুম না। আমাদের দেশের মন্ত্রী এবং মিডিয়ার লোকজনরা সব জানেন। এই সবজান্তা মহিলাকে দেখলাম, অর্ডার-অর্ডার, মিডল অর্ডার বলে লম্বা লম্বা বুলি কপচাচ্ছেন।
আর এই ক্রিকেটাররা কি মনে করে লাক্স সাবানের ফেনার সঙ্গে বাতচিত চালিয়ে গেলেন? মিডিয়ার বড়ো শক্তি! আমাদের দেশের তাবড় তাবড় মানুষদের শিরদাঁড়া হয়ে যায় কেচোর মত। কেবল ডাকলেই হয়, মানুষটা থাকেন ক্যামেরার সামনে, মগজ থাকে ক্যামেরার পেছনে।
হায় ক্যামেরা! আমার দেখা এই গ্রহের কুৎসিত দৃশ্য, সন্তানহারা মা গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদছেন, ক্যামেরা বিভিন্ন এঙ্গেলে এটা ধরে রাখছে। যখন এই প্রশ্নটা করে, আপনার এখনকার অনুভূতি কি?
মার অনুভূতিটা আমি জানি না। আমার অনুভূতিটা বলি, ওই মানুষটাকে ঠাস করে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলতে হবে, এখন কষ্ট কিছুটা কমেছে।   

যাই হোক, ফাজিলরা ফাজলামী করুক। সাধারণ আমার কেবল একটাই কথা, বাংলাদেশ টিম, তারপরও আছি তোমাদের পাশে। কেবল উঠে দাঁড়াও। যে দাঁড়াতে পারে সে দৌড়াতেও পারে...।  

সহায়ক সূত্র:
১. আমরাই জিতব, কারণ...: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=1&date=2011-03-04

Saturday, March 5, 2011

কারক নাট্য সম্প্রদায় এবং...

কেবল এটাই শুনেছিলাম 'কারক নাট্য সম্প্রদায়' নামের সংগঠনটি প্রতি বছর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ভাষা নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে থাকে। ২৫/ ২৬ ফেব্রুয়ারি দুদিনের অনুষ্ঠান। ওখানে গিয়ে আমি পুরো থ! হা ঈশ্বর, এক দুই বছর না, বছরের-পর-বছর ধরে এই উদ্যোগটা চালু আছে- দুই যুগ ধরে এটা চলে আসছে। পুরো চব্বিশ বছর!

আমি থাকি গ্রাম-গ্রাম টাইপের একটা জায়গায়। জানার সুযোগ অনেক কম, মিডিয়াই ভরসা। আমার ভুলও হতে পারে কিন্তু আগে কোথাও ফলাও করে এঁদের খবরটা দেখেছি বলে তো মনে করতে পারছি না। আমাদের মিডিয়ার আবার কিছু 'নখরামী' আছে, করপোরেট তেল গায়ে না-মাখলে ঠিক জোশটা আসে না। এখানে তো আবার করপোরেটের গন্ধ নাই! 'কারক নাট্য সম্প্রদায়'-এর লোকজনরা নিজেদের উদ্যেগেই এর আয়োজন করে থাকেন। এর ছাপও সুষ্পষ্ট! দূরদারাজ থেকে আগত শিল্পীদের এরা কোন সম্মানী দিতে পারেন না বলে ভারী বিব্রত বোধ করেন। মূলত এটার হাল ধরে রেখেছেন শংকর সাওজাল এবং শংকর দা'র সঙ্গে একঝাক তরুণ। এঁরা সেইসব তরুণ যাদের চোখে আছে কেবল অদেখা এক স্বপ্ন।

এঁদের অন্যতম উদ্যোগ হচ্ছে, বাচ্চাদের জন্য 'বর্ণমেলা'। অবশ্য 'বর্ণমেলা' শব্দটা লিখে ঠিক করলাম কি না বুঝতে পারছি না। কারণ এটা ছিনতাই হয়ে গেছে! জুম্মা জুম্মা সাত দিন! গতবছর থেকে একটি দৈনিক ঘটা করে এটা পালন করে আসছে। না-না অন্য কেউ এমন আয়োজন করতে পারবে না এমনটা বলা হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের দেশে অন্যদের উৎসাহিত করার চল নাই, এরা ইচ্ছা করলে কারক নাট্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে কাজটা করতে পারত কিন্তু আমাদের যে পেট অনেক বড়ো- সব খেয়ে ফেলো, সব নিয়ে নাও নিজেরা।

এই যে উদ্যোগ বর্ণ পরিচয়ের, এর ফল যে কী সুদূরপ্রসারী এটা কল্পনা করা কী সম্ভব! একটি বর্ণ মানে তো কেবল বর্ণ না। সুউচ্চ ইমারতের প্রথম ইট! যে ইটটা ভালো করে না-বসলে ইমরারতটাই যে ধসে পড়ে।
অন্য প্রসঙ্গে কোথাও লিখেছিলাম, একটি বর্ণ, একটি স্কুল, একটি যুদ্ধ, একটি পতাকা; সবমিলিয়ে যে দেশ তার নাম বাংলাদেশ।
এঁরা কাজ করছেন ভাষা নিয়ে। আমি সামান্য একজন, ভাষা নিয়ে এতো উঁচুমার্গের কথা বুঝি না, কেবল বুঝি, আমার যখন তীব্র কষ্ট হয়, সহ্যাতীত। তখন আমার বেঁচে থাকার জন্য যে বাক্যটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে, মা-মা, অমা, বড়ো কষ্ট! মার এই ভাষায় এটা বলতে না-পারলে আমি তো কবেই মরে ভূত হয়ে যেতাম! তাহলে আজ আর এই সব ছাইপাঁশ-ছাইভস্ম লেখার জন্য বেঁচে থাকতাম না! 

কারকের অন্য উদ্যোগগুলো, একুশের গান, একুশের আলপনা প্রদর্শনী, একুশে আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এঁদের অসাধারণ শ্লোগান হচ্ছে, "এসো রক্তে জেতা বর্ণমালা সুন্দর করে লিখি"।
 


এমনিতে 'কারক নাট্য সম্প্রদায়' এই দেশের অনেককেই সম্মান জানিয়ে থাকেন। যেমন গাজীউল হককে। উইকি থেকে জানা যাচ্ছে,  "...'কারক নাট্য সম্প্রদায়'-এর ১২ বছর পূর্তিতেও তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়৷" [১] 
সহায়ক সূত্র:
১. উইকি: http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%89%E0%A6%B2_%E0%A6%B9%E0%A6%95

* dhaka news24: http://dhakanews24.com/?p=5615 
** কালের কন্ঠ: http://tinyurl.com/5r9h7wj
*** janakantha: http://www.dailyjanakantha.com/news_view_all.php?nc=42&dd=2010-02-27
**** boston bangla news: http://bostonbanglanews.com/index.php?option=com_content&view=article&id=2557:2011-02-26-07-02-49&catid=37:2010-10-11-16-50-49&Itemid=139

মাননীয় আদালত, ক্ষমতার অপব্যবহার করলেন!

ছবি ঋণ: কালের কন্ঠ
মহাস্থানগড় নিয়ে আদালত বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু আমার প্রবল আগ্রহ ছিল যারা এর নাটের গুরু এদের কী শাস্তি দেয়া হয় সেটা দেখার জন্য।
নাটের গুরুদের তিনজন খোকন সরকার, সবুজ সরকার এবং সায়দুর রহমানকে দিনভর আদালতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। কিন্তু এটা আমার বোধগম্য হয় না কেন এদেরকে আদালত থেকে বেরুতে দেয়া হলো, কেন আটকে রাখার ব্যবস্থা করা হলো না?

মহাস্থানগড় বিনষ্ট করা প্রসঙ্গ নিয়ে এক লেখার সূত্র ধরে আদালত সৈয়দ আবুল মকসুদকে যে ভাষায় তিরস্কার করেছেন তা নিয়ে আমার প্রচন্ড আপত্তি আছে। ৩ মার্চ কালের কন্ঠ থেকে যা জানা যাচ্ছে:
"একজন আইনজীবী বলেন, 'তিনি (সৈয়দ আবুল মকসুদ) একজন বুদ্ধিজীবী'। তখন আদালত বলেন, 'কিসের বুদ্ধিজীবী, তিনি একজন নির্বোধ'।
অপর এক আইনজীবী বলেন, 'তিনি জ্ঞানপাপী'। তখন আদালত বলেন, 'কিসের জ্ঞানপাপী, তিনি নির্বোধ'। [১] 

আমি মনে করি, সৈয়দ আবুল মকসুদ আদালতে স্বেচ্ছায় যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার অনেক অংশ অহেতুক, অতিরঞ্জিত, মসজিদ ভাঙ্গলে আগুন জ্বলবে হেনতেন...! তিনি আরও বলেন, ...কোন মসজিদ সরিয়ে নেয়ার কোন উদাহরণ এই উপমহাদেশে নাই। জনাব মকসুদের জানায় খানিকটা ভুল আছে। পাকিস্তানের মত কট্টর দেশেও মসজিদ বুলডজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়ার উদাহরণ আছে।

যাই হোক, আদালতের এই বক্তব্য নিয়েও আমার প্রচন্ড আপত্তি আছে, আদালত যেটা বলছিলেন সৈয়দ মকসুদ একজন নির্বোধ। একজন মানুষের নির্দিষ্ট কোন কাজকে নির্বোধসুলভ বলা চলে, মানুষটাকে না। দায়িত্বশীল একজন মানুষ অন্য একজনকে নির্বোধ বলতে পারেন না। বিচারক তো নৈবচ নৈবচ। কারণ একজন মানুষ স্রেফ নির্বোধ হলে আর যাই হোক তিনি লেখক হবেন না, হলে তাঁর লেখা তিনি নিজেই পড়বেন অন্যরা পড়ার আগ্রহ বোধ করবেন না। সলাজে বলি, আমি সৈয়দ মকসুদের লেখার একজন পাঠক। সহজ হিসাব, মানুষটা স্রেফ নির্বোধ হলে আমি তাঁর লেখা পাঠ করার আগ্রহ বোধ করতাম না। [২] 

বলা হয়ে থাকে আদালত অন্ধ, তাঁকে হাতে ধরে ধরে সব দেখাতে হয় এটা এই, ওটা ওই। আদালতের বিপুল ক্ষমতা কিন্তু প্রচুর সীমাবদ্ধতাও আছে। আদালত আবেগ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ বোধ করেন না, প্রমাণ এবং অকাট্য যুক্তিই ভরসা। সৈয়দ মকসুদ কি কি অপরাধ করেছেন এখানে সেটাই বিবেচ্য বিষয় হওয়া সমীচীন ছিল কিন্তু আদালত এখানে নিয়ে এসেছেন অপ্রাসঙ্গিক বিষয় যেমন টক শো, টিআইবি [৩], টাউট-বাটপার-দালাল, ঘুষ ইত্যাদি। আদালতের কাছে আমার প্রশ্ন, সৈয়দ মকসুদের এই মামলার সঙ্গে এই সব বিষয়ের যোগসূত্র কী!

আর সৈয়দ মকসুদ, আপনার আদালতের চোখে চোখ রাখার সাহস না-থাকলে এই নিয়ে জ্বালাময়ী ভাষণ দিতে গেলেন কেন! মাহমুদুর রহমানের মত সাহস আপনার নাই এটা কী আপনাকে মনে করিয়ে দেব?
আদালত, আমি বিষাদের সঙ্গে এও বলি, আপনারা বিপুল ক্ষমতার অপব্যবহার করলেন, যেমন অন্যায়টা হয়েছিল মাহমুদুর রহমানের বেলায় [৪]! আফসোস, বড়ই আফসোস! আদালত লেজারগান দিয়ে চড়ুই পাখি শিকার করার চেষ্টা করলেন‍!

সহায়ক সূত্র:
১. কালের কন্ঠ: http://www.dailykalerkantho.com/epaper/?archiev=yes&arch_date=03-03-2011
২. সৈয়দ মকসুদ: http://www.ali-mahmed.com/2011/02/blog-post_09.html
৩. টিআইবি বনাম আদালত: http://www.ali-mahmed.com/2011/01/blog-post_31.html
৪. মাহমুদুর রহমান: http://www.ali-mahmed.com/2011/02/blog-post_24.html

Thursday, March 3, 2011

প্রফেসর ইউনূস, আপনার জন্য দুঃখ বোধ করি

ইউনূস সাহেবের আজ ঘোর বিপদ। মানুষটার কর্মকান্ড নিয়ে আমার তীব্র আপত্তি আছে। আজ তিনি যে ফল ভোগ করছেন এর জন্য তিনি নিজেই দায়ী! লাগিয়েছেন বিষবৃক্ষ এতে তো আর 'আমরূদ' ফল ধরবে না! কিন্তু আজ আমি ইউনূস সাহেবের পাশে দাঁড়াব।
তাঁর নোবেল পাওয়া নিয়ে একশটা কথা বলা যায় কিন্তু আজ আমি সেই পথ মাড়াব না। গোটা দেশ যখন তাঁর ওই অর্জনে 'শত-উল্লাস' করছিল তখন সেই উল্লাস আমাকে তেমন আলোড়িত করেনি কারণ আমার মনে হয়েছিল তীব্র আলোর ছটার পেছনের কান্নাটা কেউ দেখতে চাইছেন না! সেটা সম্ভবত ২০০৬ সালের কথা যখন ইউনূস সাহেবকে নিয়ে লিখি [১]

তাঁর কর্মকান্ড নিয়ে তাঁকে বড়ো মাপের মানুষ বলার উৎসাহ আমি পাই না। তাঁর প্রতিষ্ঠান গ্রামীন ব্যাংক বছরের-পর-বছর ধরে এক পয়সা ট্যাক্স দেয়নি [২], আগামীতে যেন ট্যাক্স দিতে না-হয় এই নিয়ে ঘটা করে সরকারের কাছে চিঠি লিখেছিলেন, ছি! তিনি নোবেল লরিয়েট হলেই সমালোচনার উপরে [৩] এটা আর যে কেউ মেনে বসে থাকুক আমি মানি না। কিন্তু...।
তাঁর প্রতি এখন যেটা করা হচ্ছে সেটা অন্যায়। এই মানুষটিকে অমর্যাদার সঙ্গে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে, তিনি গুন্ডা-পান্ডা না, তাঁর প্রতি এই নিষ্ঠুরতার আদৌ প্রয়োজন ছিল না। একজন প্রধানমন্ত্রী যখন ফট করে এটা বলে বসেন, "ড. ইউনূস...দরিদ্র বিমোচনের নামে ঋণ দিয়ে গরিব মানুষের রক্ত চুষে খাওয়া হচ্ছে"...। (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রথম আলো, ৬ ডিসেম্বর, ২০১০)। 
প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানার আগ্রহ রক্তচোষা কী কেবল ইউনূস, সরকার না? গ্রামীন ব্যাংকে কী সরকারের মালিকানা নাই? ইউনূস যে অপরাধে অপরাধী সেই একই অপরাধে কি সরকারও অপরাধী না?

যাই হোক, আজকে আমার আলোচনার বিষয় এই সব না। ইউনূস সাহেবকে নিয়ে এখন অন্য সমস্যা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রামীন ব্যাংক থেকে তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে। এই নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেয়া হচ্ছে, আইন-গাইন নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে, হবে। ইউনূস সাহেব আজ রিট করেছেন কিন্তু এই আইনের কচকচানিতে আমি যাব না।
যেটা মাথায় রাখা হয়নি, ইউনূস সাহেব কেবল একজন ব্যক্তি ইউনূসই না, একটি প্রতিষ্ঠান, একটি মহীরুহ! গ্রামীন ব্যাংক নামের এই প্রতিষ্ঠানে সঙ্গে জড়িয়ে আছে আনুমানিক ৫০ হাজার কোটি টাকা! প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছেন কোটি মানুষ! এমন কোন আচরণ করা যাবে না যাতে শেয়ার বাজারের মত ঠুনকো অবস্থা সৃষ্টি হয়। 

অবশ্য এটা সত্য ইউনূস সাহেবকে যদি একজন বিশাল মাপের মানুষ ধরা হয় তাহলে তাঁর কাজগুলোও সেইরকম হওয়া উচিত ছিল, আমরা তেমনটাই আশা করি। তিনি কেন এখনও গ্রামীন ব্যাংকের বুকে উঠে বসে আছেন, কেন তিনি এই ব্যাংকের এম.ডির পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করছেন! অথচ তিনি বিনা বেতনে উপদেষ্টা হিসাবে সম্মানের সঙ্গে থাকতে পারতেন।

বিব্রত বোধ করছি তবুও সবিনয়ে বলি, আমার মত সামান্য একজন মানুষের যে বোধটা কাজ করে সেটা কেন তাঁর মধ্যে কাজ করছে না? ব্লগ নিয়ে আবারও ববস-এর আয়োজন শুরু হচ্ছে। আমি জনে জনে বিশেষ করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজনকে আগ বাড়িয়ে বলে রাখছি আমার ওয়েব-সাইট যেন কেউ এবছরের জন্য ওখানে সাবমিট না করে, করলেও এটা যেন কাউন্ট করা না হয়। ডয়চে ভেলের সঙ্গেও আমি সেটাই বলেছি [৫]। এর পেছনে আমার সহজ যুক্তি আছে, এটাই হওয়া সমীচীন। নতুনদের সুযোগ করে নিজে পিছিয়ে আসা। অন্যরা আসুক, নতুনরা আসুক; আমি এদের জন্য সানন্দে অপেক্ষায়।

অবশ্য আমার কঠিন শত্রু রা অবজ্ঞার হাসি হেসে বলবেন, 'কী মিয়া, ডরাইছ'? তাদের চোখে চোখ রেখে বলি, 'হ, ডরাইছি, খুশি? এইবার যান, আমি লেখাটা শেষ করি'।
আমি তিলতিল করে স্কুলগুলো গড়ে তুলেছি। এর পেছনে আছে আমার মেধা, অবিরাম বেয়ে পড়া ঘাম- এরা আমার স্বপ্ন, আমার সন্তানের মত কিন্তু এর একটা কাঠামো দাঁড়িয়ে গেলে এখান থেকে আমি সরে আসব [৬]। এটা অন্য কেউ এগিয়ে নেবে। যে আমার চেয়ে চমৎকার করে গুছিয়ে কাজ করবে। আমি সেই মানুষটির জন্যও অপেক্ষা করব।

*আজ দেখছি অর্থমন্ত্রী বলছেন, 'আর কোন উপায় ছিল না'। আর কোন উপায় ছিল না এট অন্তত আমি বিশ্বাস করি না! কোন-না কোন, একটা সম্মানজনক উপায় নিশ্চয়ই বের করা যেত। ইউনূস সাহেব যদু-মদু একজন মানুষ না। যে কোন প্রকারেই হোক এই দেশের জন্য তিনি বয়ে নিয়ে এসেছিলেন বিরল এক সম্মান। তাঁর এই অসম্মানজনক বিদায় প্রাপ্য ছিল না। সরকারের ভাবনা গ্রহন করলেও এটা বলতেই হয়, সরকার যেখানে বছরের-পর-বছর ধরে (সময়টা সম্ভবত প্রায় এক যুগ!) ইউনূস সাহেবের থাকাটা মেনে নিতে পেরেছেন সেখানে আর কয়েকটা মাস অপেক্ষা করলেও আকাশ ভেঙ্গে পড়ত বলে আমি মনে করি না। হিস্ট্রি রিপিট- আজ যে কু-উদাহরণ সৃষ্টি করা হলো তার ফল ভোগ করার জন্যও আপনারা অপেক্ষায় থাকুন...।     
 
সহায়ক লিংক:
১. লাইফ-এচিভমেন্ট-সেক্রিফাইস: http://www.ali-mahmed.com/2008/07/blog-post_3333.html
২. আবদার: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_12.html
৩. ইউনূসনামা: http://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_26.html
৪. সরকার...: http://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_31.html
৫. ডয়চে ভেলে: http://www.dw-world.de/dw/article/0,,14878280,00.html
৬. স্কুল...: http://tinyurl.com/39egrtn 

Wednesday, March 2, 2011

সোনার বাংলার সোনার মানুষ!

 ২৮ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোয় মুহম্মদ জাফর ইকবাল "মা, তোর বদনখানি মলিন হলে..." এই শিরোনামে চমৎকার একটা লেখা লিখেছেন [১]। তিনি বেদনার সঙ্গে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংগীত সঠিক করে এই দেশের লোকজনরা গাইতে পারেন না!
এটা তাঁর ধারণা। আমার ধারণা, এই দেশের অধিকাংশ মানুষই পুরোটা দূরস্থ, আট লাইন জাতীয় সংগীতও শুদ্ধ করে গাওয়া দূরের কথা বলতেও পারবেন না। আমার ধারণা ভুল হতে পারে, মনেপ্রাণে চাই, ধারণাটা ভুল হোক।

যাই হোক, মনে বেশ অনেকখানি কষ্ট ছিল ওই কলামে মুহম্মদ জাফর ইকবাল সঠিক জাতীয় সংগীতটা তুলে দিলেন না কেন! সেই কষ্টটা লাঘব হলো। পরদিন এটা ছাপানো হয়েছে। আমি একটা ঘোরের মধ্যে আছি, কেবল ছাপানোই হয়নি প্রথম আলো এটাও লিখেছে, "...মুহম্মদ জাফর ইকবাল...শিরোনামে সাদাসিধে কলামে গাওয়ার জন্য জাতীয় সংগীতের পূর্ণপাঠ যুক্ত করে দিয়েছিলেন। কিন্তু অসাবধানতাবশত সেটা ছাপা হয়নি। আজ এখানে গাওয়ার জন্য জাতীয় সংগীতের পূর্ণপাঠ দেওয়া হলো:..." [২]
ওয়াল্লা, এই প্রথম জানলাম, আসমানি কিতাব টাইপের এই পত্রিকা কেবল ভুলই করে না, ভুল স্বীকারও করে! ওয়াল্লা, আমি শিহরিত, রোমাঞ্চিত! ইয়া মাবুদ-ইয়া মাবুদ, আমি জ্ঞান হারাব! অবশ্য পাশাপাশি এই বেদনাও পাক খেয়ে উঠছে এই পত্রিকা তাহলে রক্তমাংসের লোকজনরা চালায়, দেবতারা না!
বুকে হাত দিয়ে বলি, পত্রিকাটির ভুল স্বীকার করার এই ভুল মতান্তরে এই প্রবণতাকে আমি স্বাগত জানাই। পত্রিকাটি বড়ো একটি ধন্যবাদ পাওনা হয় বৈকি।

যাগ গে, পুরো দোষ আমাদের নড়বড়ে কাঁধে চাপিয়ে দেয়াটা সমীচীন হবে না কারণ আমাদেরকে শুদ্ধরূপে জাতীয় সংগীত গাইতে শেখানো হয়েছে কিনা সেটাও আলোচ্য বিষয়। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষাটা হয় স্কুল থেকে। স্কুলে কী শেখানো হচ্ছে? আমি অজস্র উদাহরণ দিতে পারি।   
(কারিগরি সমস্যার কারণে, সমস্যাটা সম্ভবত গুগলের। ছবি আপলোড করা যাচ্ছে না বিধায় স্ক্যান করা ছবি এখানে যুক্ত করা যাচ্ছে না। স্ক্যান ছবিটার বদলে স্কুলের বাচ্চাদের বই থেকে টাইপ করে জাতীয় সংগীত এখানে তুলে দিচ্ছি।)
স্যারদের কেউ এই জাতীয় সংগীতটা গাওয়ার চেষ্টা করলে হাড়ে হাড়ে টের পাবেন! এটা পড়ে একটা বাচ্চা জাতীয় সংগীত গাইবে কেমন করে? 

                     জাতীয় সংগীত 
                         আমার সোনার বাংলা,
                         আমি তোমায় ভালবাসি।
                                       চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস,
                                          আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি।।
                                        ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে
                                          ঘ্রাণে পাগল করে,
                                           মরি হয়, হায় রে-
                                     ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে
                                      আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।।
                                     কী শোভা কী ছায়া গো,
                                   কী স্নেহ কী মায়া গো,
                                       কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে,
                                     নদীর কূলে কূলে।
                                     মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে
                                    লাগে সুধার মতো,
                                    মরি হায়, হায় রে-
                                    মা, তোর বদন খানি মলিন হলে,
                                   ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি।।
                                              -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

(রবীন্দ্র রচনাবলীর অনেকখানি পাওয়া যাবে এখানে। নামটা যে বলিহারী  : D , রবীন্দ্র রচনাবলীর বৈদুতিন সংস্করণ: http://rabindra.rachanabali.nltr.org/node/2

সহায়ক সূত্র:
১. মা, তোর বদনখানি...: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=12&date=2011-02-28
২. জাতীয় সংগীতের পূর্ণপাঠ: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=12&date=2011-03-01 

Facebook Share