Monday, February 28, 2011

সস্তা প্রাণ‍!

আমাদের দেশের কিছু কায়দা-কানুন আছে এই অন্যথা হওয়ার যো নাই! এই যেমন দাবী আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমে আসা, গাড়ি-টাড়ি ভাঙচুর করা। এই সব না-করে আমরা থাকতে পারি না কারণ এমনটাই আমাদেরকে শেখানো হয়েছে। রাস্তায় নেমে না-আসা পর্যন্ত সরকার-মিডিয়া-আমাদের চোখে কোন সমস্যাই সমস্যা মনে হয় না, মগজে কিছুই আটকায় না! আজ পত্রিকায় দেখলাম, লিবিয়ায় আটকে থাকা লোকজনের স্বজনেরা রাস্তায় মাতম করছেন। আশা করছি, সরকারী লোকজনের এবার খানিকটা টনক নড়বে।

বছরের-পর-বছর, যুগের-পর-যুগ ধরে যারা দেশগুলোর লোকজনকে কচ্ছপের মত কামড় দিয়ে ধরে আছে তাদের কামড় আলগা হয়ে আসছে। আমি সৌদি আরবের মত দেশগুলোর জন্য অপেক্ষায় আছি। এমনিতে অবশ্য এরাই ধর্মের ঝানডা উঁচিয়ে রেখেছে কিন্তু নিজেরাই ধর্মের অপব্যবহার করছে। প্রিন্সের ছেলে প্রিন্স হবে রাজার ছেলে রাজা। সাধারণ একজন মানুষের হাতে ক্ষমতা আসার কোন সুযোগ নাই তাঁর যোগ্যতা যাই থাকুন না কেন! উটচালক রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকবে এটা জানার জন্য আমাদের দেশে আয়োজন করে বই তাক থেকে নামিয়ে ধুলে মুছে পড়ে আবার উঠিয়ে রাখব। ইসলাম ধর্মের যে ক্ষতিটা এদের হাত দিয়ে হচ্ছে তা অপূরণীয়! অন্য এক লেখায় যেটা লেখা হয়েছিল [১],
"আমার মনে হয় সৌদি আরবই সবচেয়ে সুবোধ বালক, গ্রহপিতাকে মান্য করে। সৌদি আরব ইরানে হামলা চালাবার জন্য ইসরাইলকে বিমান চলাচলের জন্য সুযোগ করে দিয়েছে। সৌদি শাসক গ্রহপিতা নেতানিয়াহুর পাদোদক (বৃদ্ধাঙ্গুলি স্পর্শ করা পানি, চরণামৃত) পান করে ব্রেক ফাস্ট শুরু করেন এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। অন্যরা যে কেন সৌদি শাসকদের মত সুবোধ বালক হতে চান না এটা দুর্বোধ্য। বোকার দল, সৌদিদের দেখে শেখে না কেন এরা?"  
সৌদি ইরানে হামলা চালাবার জন্য ইসরাইলকে সুযোগ করে দেবে আর আমরা বাংলাদেশে আগামীতে এমন দৃশ্য নিয়ে [২] বেশ ক-দিন ঝাপিয়ে পড়ে লিখব। এবং জুমার নামাযে মুসলিম উম্মাহ, ইরানের জন্য দোয়া করব। আমীন!

যাই হোক, সম্প্রতি লিবিয়ায় গাদ্দাফির বিষ দাঁত উপড়ে ফেলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা হচ্ছে। গাদ্দাফি অনড়। তার বক্তব্য হচ্ছে, 'আমার কোন পদ নেই যে সরে দাঁড়াব। যেমনটা অনেক প্রেসিডেন্ট করেছেন। আমি তো একজন বিপ্লবী নেতা'।
গাদ্দাফি নামের মানুষটা আমাদেরকে বড়ো ধরনের সমস্যায় ফেলে দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, লিবিয়ায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি আটকে আছেন এবং অধিকাংশই ভয়ংকর, মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
সরকার এঁদের সহায়তা দেয়া প্রসঙ্গে অনেক কিছুই বলছেন কিন্তু যথারীতি কেউ আস্থা রাখতে পারছেন না। এটা নতুন কিছু না। এই-ই আমাদের কপাল। আমরা এখনও অভ্যস্ত হয়ে উঠলাম না চোখ বুজে এটা বলার জন্য, আমার সরকার, আমার মন্ত্রী। এটা সত্য, আমাদের দেশটা গরীব, অন্তহীন সমস্যা কিন্তু সীমাহীন অভাবে সঙ্গে যখন যোগ হয় সদিচ্ছার অভাব তখন আর মেনে নিতে ইচ্ছা করে না!
পররাষ্ট্রসচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস যখন বলেন, "...নাগরিকদের দেশে ফেরাতে সম্পদের অপ্রতুলতা আছে বাংলাদেশের"। [২] 

মানে কী এই কথাটার? জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এঁদের বেতন কী এই কারণে দেয়া হয় এই সব কথা বলে একটা ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা? জনগণ তো একাগাদা টাকা খরচ করে এই কাজে এদের রাখেনি! তার মানে কী, লিবিয়ায় লোকজনরা ফটাফট মারা যাবে আর এই আমলারা তামাশা দেখবেন এই দোহাই দিয়ে আমাদের দেশের টাকা নাই? ৫০ হাজার কোটি টাকার নতুন এয়ারপোর্ট বানাবার টাকার যোগান দিচ্ছে কে, ভূত?
নাকি এই ধরনের আমলাদের দোষ দিয়ে লাভ নাই এরা চেয়ারের পেছনে টাওয়াল ঝুলিয়ে (নিয়ম) [৪] উপরের নিদের্শে এমনটা বলে বলে মুখ হাঁ করছেন? ভাগ্যিস প্রবাসীদের ভোট দেয়ার নিয়ম এখনও চালু হয়নি, হলে...।

সহায়ক সূত্র:
১. সৌদি...: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_15.html
২. ইসরাইল: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_493.html 
৩. সচিব...: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=1&date=2011-02-27
৪. তোয়ালে: http://www.ali-mahmed.com/2008/10/blog-post_20.html