Tuesday, January 18, 2011

যুক্তরাজ্য: যে কারখানা থেকে নির্বোধ প্রসব হয়

যুক্তরাজ্য নিয়ে একটা চালু কথা ছিল, এদের নাকি সূর্য অস্ত যেত না। এদের নাকও ছিল অনেক লম্বা, আর খানিকটা লম্বা হলেই অনায়াসে সূর্য ছুঁয়ে ফেলত। এদের শরীরের রক্ত নিয়েও নাকি ঝামেলা ছিল- সবার রক্ত লাল এদেরটা নাকি নীল!
আমার দৃষ্টিতে এরা স্রেফ একটা লুটেরা জাতি। এমন লুটেরা, পারলে সূর্যটাকেও লুটে নিত! এরাই সভা-সেমিনার করে আমাদেরকে নীতির 'ন' শেখায় অথচ অভিযান চালালে দেশটা ভর্তি লুটের মাল, এরা বমাল ধরা পড়বে।
ময়লা খুব বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করার প্রয়োজন নেই, মুকুটে কোহিনূর হিরা নিয়ে ব্রিটেনের রানি যখন পা ছড়িয়ে জাঁকালো ভঙ্গিতে বসেন তখন এদের ধারণা চারদিক আলো হয়ে থাকে। আমার কাছে মানুষটাগুলোকে স্রেফ নগ্ন মনে হয়! ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে ভারতের বারংবার আবেদনেও এদের বিন্দুমাত্র লাজ নেই।

অভাগা একটা দেশ আমাদের। কোহিনূরের মতই বিশ্বখ্যাত আরেকটি হিরা 'দরিয়া নূর'। হায়দরাবাদের নবাব তৎকালীন এক লক্ষ তিরিশ হাজার টাকায় টাকায় ক্রয় করেছিলেন। পরে কোহিনূরের মতই এটাও চলে যায় পারস্য সম্রাটের হাতে [১]
এই দরিয়া নূরকে আমরা ময়লার বাক্সে ফেলে রেখেছি। আক্ষরিক অর্থে ময়লার বাক্স না, একটা ব্যাংকের লকারে। এমন বিশ্বখ্যাত একটা হিরাকে ব্যাংকের লকারে রাখার বুদ্ধি কোন নির্বোধের মাথা থেকে বেরিয়েছে কে জানে! মানে কী এর? বিষয়টা অনেকটা এমন, অন্ধকারে মিস ইউনিভার্স হাসলো, না জরিনা তাতে কি আসে যায়; কেউ তো আর এটা দেখছে না!

যুক্তরাজ্যে শিশুদেরও আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয় [২]। একজন শিশু অনায়াসে পেতে পারে শটগানের লাইসেন্স। যে শটগান দিয়ে একজন মানুষকে আক্ষরিক অর্থে টু-টুকরা করে ফেলা যায়! একটা শিশু ইচ্ছা হলেই এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে পারবে, ভিডিও গেম আর কী! গত বছর জুলাই মাসে ১০ বছরের এক শিশুকে শটগানের লাইসেন্স দেয়ার পর ব্রিটেনের লোকজনরা খানিকটা নড়েচড়ে বসে। ভাবখানা এমন, এদ্দিনে এদের খোঁজ পড়ল শুয়োরের ঘিলু বিচিত্র কারণে এদের মাথায় স্থানান্তরিত হয়েছে।

এরা বেনিয়ার জাত। বেনিয়াদের মাথায় বাড়তি ঘিলু থাকে বলেই অন্যদের ছিবড়ে বানিয়ে ফেলতে মোটেও বেগ পেতে হয় না। কার মাথা থেকে আর এই সব বুদ্ধি বের হবে? হিন্দু-মুসলমানদের পরস্পরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দাও শুয়োরের চর্বি-গরুর চর্বি- কার্তুজে নাকি ভাবনায় তাতে কী! চমৎকার একটা উদাহরণ আছে এমন, 'এদের হাতে ছিল ধর্মপুস্তক, আমাদের জমি। একদা আমাদের হাতে ধর্মপুস্তক ওদের হাতে জমি'।
এরা আমাদেরকে অনেক কিছুই শেখালো। নিজেরা কেবল শিখল কেমন করে অন্যের দেশ, ভাষা ছিনিয়ে নিতে হয়। মায় ভাবনা! এখনও এই স্বাধীন দেশের অধিকাংশ আইন এদের করা। এখনও আমরা এদের ভাষায় কথা বলে জাতে উঠি, এদের দেখিয়ে দেয়া ভঙ্গিতে বাথরুম সারি। আসলে আমরা আমাদের এক্স-প্রভুদের বিস্মৃত হতে পারি না! গোলামের অভ্যাস যাবে কোথায়!
"...আমরা সাহেবি রকমে হাঁটি,
স্পীচ দেই ইংরিজি খাঁটি;
কিন্তু বিপদেতে দেই বাঙ্গালিরই মত
চম্পট পরিপাটি।"
(দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)

সবই ঠিক ছিল কিন্তু শিশুদের যারা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেয় এমন নির্বোধরা অতীতে কেমন করে বুদ্ধির খেলা দেখিয়ে ছিল এটাই ভাবনার বিষয়।

সহায়ক সূত্র:
১. দরিয়া নূর, ইত্তেফাক: http://ittefaq.com.bd/content/2007/03/16/all0725.htm  
২. ডেইলি মেইল অনলাইন: http://www.dailymail.co.uk/news/article-1292839/Police-shotgun-licence-boy-aged-just-TEN.html