Sunday, January 16, 2011

ছফার German Perspective এবং...

ছফাকে নিয়ে আমার একটা কাল্পনিক লেখা আছে [১]। লেখাটা লেখার সময় বা এখনও এটা পড়ার সময় আমার মনেই হয় না এই মানুষটার সঙ্গে আমার কখনও দেখা হয়নি! কেবল মনে হয় এই মানুষটার সঙ্গে কত গল্পই না করেছি।
যাই হোক, ছফার German Perspective পড়ার সময় জার্মানি দেশটার কথা মনে পড়ে। ছফার দেখি বার্লিন শহরটা খুব পছন্দের:
"...First I came in Berlin in 1986. It was in connection with the Bangla translation of Goethe's 'Faust'. Goethe institute provided me a scholarship of language course in Berlin. That time I visited Colongne, Heidelberg, Frankfurt...Berliners are very proud people. They are proud of being Berliners. US President John F. Kennedy in one of his visits, made a declaration, in order to show respect to the sentiment of Berlin people, ich bin ein Berliner- I am also a Berliner..." (German Perspective) 

জার্মানিতে আমার অবস্থানকাল ছিল খুবই অল্প! এই সময়ে বার্লিন যাওয়ার সময়-সুযোগ আমার ছিল না। অবশ্য তেমন একটা আগ্রহ যে ছিল এমনটাও না। বন শহরটা দেখেই আমার মুগ্ধতার শেষ ছিল না। একটা আদর্শ শহর, নির্মেদ- বাড়তি কোন মেদ নাই; গুরুগম্ভীর, আলাদা সমীহ জাগানো! শহরটায় ছিল না বাড়তি কোন জৌলুশ, অহেতুক চোখ ধাঁধানো স্থাপনা- এরা এখনও রেখে দিয়েছে যে পুরনো স্থাপনাগুলো যা আমাকে অযথাই টানে। সেটা দেশে হোক বা বিদেশে তাতে কী আসে যায়! আকাশছোঁয়া জবরজঙ্গ স্থাপনা সেটা বুর্জ খলিফা হোক বা সিয়ার্স টাওয়ার আমাকে টানে না।

বার্লিন প্রসঙ্গে মনে পড়ল দাউদ হায়দারও এসেছিলেন বার্লিন থেকে। তিনিও একজন গর্বিত Berliner! কোন এক বিচিত্র কারণে নামকরা মানুষদের প্রতি আমার আগ্রহ বাড়াবাড়ি রকম কম! কিন্তু দাউদ হায়দারের প্রতি আমার আগ্রহের কারণ ছিল অন্য। আমার কেবল মনে হতো দেশে ফিরতে না-পারা মানুষটা আমি নিজে। এই অনুভূতিটা আমায় কেবল তাড়া করত। এই কারণে দাউদ হায়দারকে নিয়ে বেশ কিছু লেখা লিখেছিলাম [২]। এই নির্দোষ লেখাগুলোর সূত্র ধরে কিছু লোকজন আমার পেছনে লেগে গেলেন, মায় মিডিয়া পর্যন্ত [৩]!
কিন্তু দাউদ হায়দারে কিছু বিষয় আমার ভাল লাগেনি। অন্য একজনকে এগিয়ে নিয়ে আসার কারণে তিনি যে উষ্মা প্রকাশ করেন তা আমাকে হতভম্ব করেছিল কারণ বার্লিন থেকে বন আসার সময়ও দাউদ হায়দারকে এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। অন্তত একজন কবির কাছ থেকে এই সংকীর্নতা আমি আশা করিনি!
আরেকটা প্রসঙ্গও আমার ভাল লাগেনি সেটা হচ্ছে, আমি যখন বললাম, দাউদ ভাই, আপনাকে নিয়ে অনেকেই লেখে, নেটে সার্চ দিলেই বুঝবেন। তিনি খানিকটা তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে উত্তর দিলেন, আমি তো ওই সব লেখা পড়ি না। আমি একটা ধাক্কার মত খেলাম! একি কান্ড! গভীর ভালবাসায় অন্যের আবেগের কথা একজন মানুষ জানতে চাইবে না, গ্রাহ্য করবে না? মানুষ তো আর রোবট না!
এমনিতেও দাউদ হায়দারের মধ্যে আমি কিছু অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেছি। এই নিয়ে এখানে আর শেয়ার করি না কারণ এ বিচিত্র কিছু না। এই মানুষটার স্বাভাবিক জীবন কখনও ছিল না। জীবনের অধিকাংশ সময় তাঁর কেটেছে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। একটা থিতু জীবন, লক্ষস্থির করে ঝাড়া একটা দৌড়, সম্ভবত কোনটাই তাঁর হয়ে উঠেনি।
এসবের থাকুক, প্রয়োজনে এই মানুষটাকে নিয়ে আমি আবারও লিখব আগের আবেগ নিয়ে, যত দিন পর্যন্ত না এই মানুষটার দেশে ফেরার সুবিধে না হয়। অবশ্য তিনি এখন দেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব কি না এই কুতর্কে আর গেলাম না।

আমি আগেও লিখেছিলাম, হিটলারের দেশ জার্মানিতে আতালি পাতালি করে খুঁজেও কোন অসঙ্গতি আমার চোখে পড়েনি। বুকে হাত দিয়ে বলি, এমনটা চোখে পড়লে খানিকটা আরাম পাওয়া যেত! আফসোস, যা পড়েছে তা আমাদের বঙ্গালদের মধ্যেই। জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে দেশকে নিচু থেকে নিচুতর দেখিয়ে ওখান থেকে এরা দেশ উদ্ধার করেন, একজন অন্যজনের পা ধরে টানাটানি করেন!
ছফা অবশ্য আমাদের দেশের এই সব বীর পুঙ্গবদের সম্বন্ধে অনেক পূর্বেই লিখেছিলেন:
"...Ninety-eight percent of them cane to Germany with the purpose of seeking political asylum. At least they mentioned this in their application forms...Among thousands of asylum seekers, there may be a few hundred genuine cases, rast fake..." (German Perspective) 

সহায়ক সূত্র:
১. ছফার সঙ্গে...: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_27.html
২. দাউদ হায়দার, তোমাকে, আবারও: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_20.html
৩. মিডিয়ার খেলা: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_22.html