Tuesday, January 4, 2011

নাটুকেপনা!

এবারের বছরের শেষ দিনটা কেটেছে আমার খানিকটা অন্য রকম। বছরের প্রথম দিনটা উদযাপন করার জন্য তেমন তাড়না আমার কখনও ছিল না কারণ ঘটা করে উদযাপন করলেই বছরটা চমৎকার কাটবে এমনটা ভাবার অবকাশ নাই। তারপরও...। অদেখা বাক্সে লুকিয়ে থাকা খানিকটা আশা, এই আশা নামের অফুরন্ত শ্বাস আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখে। তার জন্য খানিকটা নাচানাচি-লাফালাফি করলে দোষ কোথায়!

তো, আমার কিছু বন্ধু-বান্ধব বিপুল আয়োজন করে রেখেছিলেন বছরটাকে উদযাপন করার জন্য, ওখানে আমার থাকাটা নাকি আবশ্যক। বাহ, কবে থেকে আমার মত লুক (!)-এর থাকাটা জরুরি হলো? ওই আয়োজনে কী আছে এটা জিজ্ঞেস না-করে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে কী নেই!
বিশ্বব্যাপি কারা কারা কি চেয়েছে কে জানে কিন্তু আমি চেয়েছি এ বছরটা যেন গত বছরের মতই হয়। গত বছরটায় আমার জাগতিক অনেক বেদনার মুখোমুখি হলেও আমি আমার পছন্দের জীবন যাপন করতে পেরেছি। তিনটা স্কুলের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া ব্যতীত এমন অনেক কাজ করতে পেরেছি যা আমাকে সীমাহীন আনন্দ দিয়েছে। আমার ভাষায়, এমন আনন্দ ইয়ে ব্যতীত কোথায়!
এবারে আমার এমন বছর উদযাপনের ভঙ্গি দেখে অনেকে তীর্যক ভঙ্গিতে তাকাবেন, কেউ কেউ হয়তো জ্বালাময়ী বক্তৃতাও ঝেড়ে দিতে পারেন। শীতে যেখানে সবাই জবুথুবু আর ওই দেখো ওই ব্যাটা উড়ায় ফানুস!

আমিও ভাবি, তাই তো! এই দেশে কত্তো কত্তো দরদী, এদের দেখে মাথা নুয়ে আসে। আহারে-আহারে! নাটকের একটা দলের কথা বলি। এরা নতুন বছর উদযাপন করছেন এমন করে, ঠিক ১২টা ১ মিনিটে এরা শীতবস্ত্র বিতরণ করবেন। বেশ-বেশ, ভাল-ভাল! এবং ওখানে নাকি একটা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রধান, খুব চালবাজ একজন মানুষও থাকবেন। এই সব মানুষদের আবার লেজ খুব লম্বা থাকে সেই লেজের শেষ মাথায় বাঁধা থাকে একটা ক্যামেরা। শুনতে পাই এদের বাথরুম করার সময়ও নাকি ক্যামেরা চালু থাকে।
তো, এদেরকে একজনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ওই লোক আপনাদের সঙ্গে থাকলে তিনি কি বাড়তি উত্তাপ দেবেন? এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু তিনি দেননি।

যাই হোক, এদের এই উদ্যোগ আমার কাছে মন্দ লাগেনি কিন্তু বিস্তারিত জেনে আমি হতভম্ব হয়ে ভম্বহত (!) হওয়ার দশা। এরা মধ্য রাতে শীতবস্ত্র বিতরণ করবেন। হয়তো টিভি ক্যামেরাও অনুসরণ করবে সেটাও বিষয় না। বিষয়টা হচ্ছে, এদের সবার মুখ নাকি ঢাকা থাকবে, মানে এরা মুখোশ পরা থাকবেন। দস্যু বনহুর টাইপ আর কী! আমি এই প্রশ্ন করতে চাই না ম-য়ে ম একাকার হলে সমস্যা কোথায়? সমস্যা নেই কারণ মাথার ভেতর যে জিনিস থাকে এবং পেটের ভেতর, দুইটার আদ্য অক্ষরই 'ম'!
তবে আমি যে প্রশ্ন করতে চাই সেটা হচ্ছে, নিশুতি রাতে হঠাৎ করে এমন মুখোশপরা ইয়া ধামড়া ধামড়া এই সব লোকদের দেখে নিরন্ন মানুষদের দুর্বল শিশুরা ভয়ের চোটে যদি আর শ্বাস না-নেয় তাহলে এর দায় কে নেবে? নাকি এই সব নটরা নাটুকেপনার চুড়ান্ত করে মৃত শিশুকে সামনে নিয়ে নতুন একটা নাটক লিখবেন?

(আমার লিখিত অনুমতি ব্যতীত ছবি, কোন লেখা বা লেখার অংশবিশেষও কোথাও ছাপানো যাবে না।)