Search

Loading...

Monday, January 31, 2011

টিআইবি বনাম আদালত

৩১ জানুয়ারি। এই দিনটার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কিছু ঝামেলা আছে, এর কাছ থেকে আমার পরিত্রাণ নাই। মৃত্যুর আগ অবধি। কপাল। বেছে বেছে ঠিক এই দিনটাই আমার কাটে আদালতে। কান্ডটা গত বছরও হয়েছে [১]।, এ বছরও। কী কাকতালীয়!
আপাতত দৃষ্টিতে মনে হবে আমি একজন মামলাবাজ হয়ে যাচ্ছি বিষয়টা এমন না আমার সঙ্গে ড্রেনেরও যেন কী একটা ঝামেলা আছে, হুটহাট করে ড্রেন রাস্তার মাঝখানে চলে আসে।

আমার কেবল মনে হয় আদালতে মানুষ আসে ন্যায়ের জন্য কিন্তু সবচেয়ে বেশি অন্যায় হয় এখানেই। সমস্ত অন্যায়ের কথা বলা শুরু করলে মহাভারত টাইপের আস্ত একটা বই হয়ে যাবে। এখানে এসে নিজেকে বড়ো অসহায় লাগে কিন্তু এই জায়গাটায় যখন দরিদ্র মহিলা-বাচ্চাদের চরম দূর্গতি দেখি তখন নিজের কষ্ট তুচ্ছ মনে হয়। এদের তুলনায় আমার বেদনা কিছুই না।
টিআইবি (বাংলাদেশ) প্রধান চার জন আজ দায়েরকৃত মামলায় জামিন পেয়েছেন। উকিল সাহেব অপমানিত হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। হায় উকিল! এদের অনেকের কারণে কত মানুষ যে বিনা দোষে জেল খাটছে এর প্রকৃত হিসাব কে রাখে!

টিআইবির জরিপ অনুযায়ী এবার যে তথ্যটা দেয়া হয়েছে এর মধ্যে বিচার বিভাগে দুর্নীতির হার অন্য খাতগুলো ছাড়িয়ে, ৮৮%! এই নিয়ে বিচার বিভাগের উষ্মার শেষ নেই। আদালত প্রথমে টিআইবির কাছে জরিপের প্রশ্ন-উত্তরের সফট কপি চান। এটা দেখার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার না-থাকায় পরে আদালত হার্ড কপি চান। তারপর টিআইবিকে আদালত চা-চক্রে আমন্ত্রন জানান বিস্তারিত আলোচনা করার জন্যে। সবই ভাল, আদালতের এই ভঙ্গি অপছন্দ করার কিছু নেই। কিন্তু...।

পরিশেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন, টিআইবির জরিপ ভ্রান্ত ধারণার ভিক্তিতে করা। এখানটায় আমার ভাবনাও ভ্রান্ত হয় কারণ আদালত কেবল এটুকু বলেই ক্ষান্ত দিয়েছেন কিন্তু এই দিকনির্দেশনা দেননি এই জরিপটা কেমন করে করলে ভ্রান্ত হবে না।
আদালত কেন টিআইবি জরিপের কালিমার সবটুকু নিজেদের গায়ে মেখে বসে আছেন এই নিয়ে আমার বিস্ময়ের শেষ নেই। আমি নিজে টিআইবির এই জরিপের সঙ্গে একমত, এটা আমার নিজস্ব মত। জজ সাহেবরা ফেরেশতা না [২], প্রধান বিচারপতি নিজেও এটা স্বীকার করেছেন [৩] [৪]। অবশ্য টিআইবি জরিপে জজ সাহেবদের বিষয়টা তেমন আসেনি! টিআইবির এই জরিপে কোথাও বলা নেই কেবল জজ সাহেবরাই দায়ী। গোটা সিস্টেমটাকে বোঝানো হয়েছে।
যদিও সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, "...টিআইবির তথ্যের উপর নির্ভর করে বিচার বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ ঘুষ অথবা হয়রানির সঙ্গে জড়িত বলে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি...।"
মাননীয় আদালত সবিনয়ে বলি, এটা আমার কাছে জোকস অভ দ্য ইয়ার। আদালত চলাকালীন কোন একদিন যদি এই দেশের সমস্ত বিচার বিভাগের অংশ পেশকারদের পকেট সার্চ করা হয় তাহলে দেখবেন গাদা-গাদা টাকা বের হবে।  

আচ্ছা, জজ সাহেবরা কি আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দেবেন, এই সিস্টেমের জন্য তাঁরা নিজেরা কী একটুও দায়ী না? আদালতের একটা নোটিশ এক বছরেও প্রাপককে বিলি করা হয় না, কেন? এই প্রশ্নটা কি তাঁরা কখনও জানতে চেয়েছেন?
আদালতে যখন শুনানি হয় যেসব আইনের বই থেকে উদ্ধৃতি দেয়া হয় সেইসব বই জজ সাহেবরা দেখতে চান, এটাই স্বাভাবিক। এই বইগুলো সরকারের টাকায় কেনা, বইগুলো আদালত লাইব্রেরিতেই থাকে কিন্তু এই বইগুলো লাইব্রেরি থেকে জজ সাহেব পর্যন্ত পৌঁছে দিতে বাদী বা বিবাদীর গাঁট থেকে ২০০ টাকা বেরিয়ে যায়! এমন কতশত উদাহরণ!

বিচার বিভাগের উপর বনবন করে ছড়ি ঘোরাবার জন্য সংসদ মুখিয়ে আছে। আমি এর ঘোর বিরোধিতা করি। যেদিন এই ব্যবস্থা চালু হবে সেদিনই সব ধসে পড়বে, আমাদের দাঁড়াবার আর জায়গা থাকবে না। কিন্তু আদালতের কোন সমালোচনা করা যাবে না এটার আমি ঘোর বিরোধী। একজন বিচারপতি যখন ট্রফিক কনস্টেবলকে কান ধরান সে কেন সিগন্যালের লালবাতি জ্বলে উঠার পর হাত উঠিয়েছিল। যে কারণে শত-শত গাড়ির সঙ্গে বিচারপতির গাড়িও আটকা পড়ে স্রেফ এই কারণে
ভাগ্যিস এটা উন্নত দেশ না, হলে উল্টা এই বিচারপতিরই বিচার হতো। যে বিচারপতিরা নিজেদের ঈশ্বর ভাবেন তাঁদেরকে কি আমি মনে করিয়ে দেব অন্য দেশ হলে কি হতো? অষ্ট্রেলীয় পুলিশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বব হককে জরিমানা করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর অপরাধ তিনি সিটবেল্ট বাঁধেননি। প্রধানমন্ত্রী এই ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ১০০ ডলার জরিমানা পরিশোধ করেন। কিন্তু এর পূর্বেই ট্রাফিক অথরিটির চিফ মিডিয়ায় বলেন, 'DOES NOT MATTER YOU ARE PRIME MINISTER OR POST MASTER, YOU HAVE TO PAY THE FINE.
একজন মাহমুদুর রহমানকে আদালত অবমাননার শাস্তি দেয়াটা কতটুকু যৌক্তিক এই প্রশ্ন উত্থাপন করব না কিন্তু তাঁকে ছয় মাসের সাজা না-দিয়ে ছয় দিনের সাজা দিলে আকাশ তো আর ভেঙ্গে পড়ত না। প্রতীক এইটা দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে তো কেউ আটকাচ্ছিল না! কিন্তু তাঁকে আপিল করার সুযোগ কেন দেয়া হলো না?

এখানে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য স্মর্তব্য: "...স্মরণ রাখতে হবে আমাদের কারোরই স্বাধীন ক্ষমতা নেই। যেমন চাঁদের নিজের কোন আলো নেই, ...সংবিধান জনগণের ইচ্ছায় প্রতিফলিত...তাদের ক্ষমতাই প্রকৃত ক্ষমতা।...বিচার বিভাগের নিজেদের মত জবাবদিহি রয়েছে। বিচার বিভাগ প্রকৌশলী, চিকিৎসক বা অন্যদের জবাবদিহির মত নয়। জবাবদিহি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে আলাদা হয়। কবির জবাবদিহি তাঁর পাঠকের কাছে। বিচারকদের জবাবদিহি রায়ের যুক্তির মধ্যে...।" (প্রথম আলো, ১৬.০১.১১)
আমার স্পষ্ট কথা, বিচারক যেহেতু দেবতা না তাঁরও ভুল হতে পারে, হয় এবং ভুল হলে আমরা এটা অবশ্যই বলব, আপনি ভুল করেছেন। এটা যদি আদালত অবমাননা হয় তাহলে তাই সই।

পরিশিষ্ট: আমাকে প্রাণে মেরে ফেললেও অন্তত আমি নিজে আদালতে ন্যায় চাইতে যাব না।

সহায়ক সূত্র:
১. জাস্টিস: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_08.html
২. জজ সাহেব: http://www.ali-mahmed.com/2008/07/blog-post_03.html
৩. প্রধান বিচারপতি: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_13.html
৪. তালার চাবি...: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_25.html

Saturday, January 29, 2011

মেহেরজান এবং কতিপয় বিলিয়ে দেয়া জান!

একটা ছবি বানাবার কিছু কলা-কৌশল থাকে যা সবার করায়ত্ত থাকে না। সবাই তো আর সমান বুদ্ধি নিয়ে জন্মায় না। সময় বদলেছে, বদলেছে ছবি বানাবার ভঙ্গি। 'একালের প্রলাপ' বইয়ে একটি চালু ছবি বানাবার কৌশল নিয়ে খানিকটা আলোচনা করা হয়েছিল [১]। অবশ্য সলাজে এও বলি, আমি নিজে এই পদ্ধতি নিয়ে কাজ করিনি বা ছবি বানাবার চেষ্টা করিনি :), দেখতে দেখতে বেলা চলে গেল যে! এখন এই পদ্ধতি কাজ করবে বুঝি?
এখন আমাদের বিপুল সুযোগ, হাতের আস্তিনে লুকানো আছে মুক্তিযুদ্ধের আবেগ, আমরা মুক্তিযুদ্ধকে এখন স্রেফ একটা পণ্য রূপে গণ্য করছি [২]। এখন মুক্তিযুদ্ধের আবেগ সর্বত্র মিশিয়ে দেয়া আবশ্যক। এখন আমরা মুক্তিযুদ্ধের আবেগ মিশিয়ে দিচ্ছি খিচুড়িতেও [৩]! কালে কালে আর কিসে কিসে মেশাবো, কী কী দেখব এটার একটা তালিকা করা প্রয়োজন, এখনই।

'মেহেরজান' ছবিটা নিয়ে ব্লগপাড়া উত্তপ্ত। 'মেহেরজান' ছবিটা অতি দ্রুত ব্যবসা সফল করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ, ভারতীয় দাদা, চ্যানেল আই, প্রথম আলো এদের প্রয়োজন হবে এটা নিয়ে খুব অবাক হওয়ার কিছু নাই। কারণ আমার চোখে এই ছবিটা এবং 'বাবা কেন চাকর', 'সখী ভালবাসা কারে কয়' এগুলোর সঙ্গে খুব একটা তফাৎ নাই। যদিও এই ছবিটা সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে, 'A STORY OF WAR AND LOVE' ।  এইখানটায় জঘণ্য মিথ্যাচার করা হয়েছে। 'ওয়ার' শব্দটা এবং এর সঙ্গে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে গুলিয়ে ফেলার অপচেষ্টা করাটাই রুবাইয়াত হোসেনের নির্বোধ মস্তিস্কের ফসল। এখানে লক্ষণীয় আমি রুবাইয়াত হোসেনকে কিন্তু নির্বোধ বলছি না, বলছি তার মস্তিষ্ক, নির্বোধ মস্তিস্ক। তাকে নির্বোধ বলতে পারি না কারণ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তিনি নাকি কী কী যেন গবেষণা-টবেষণা করেছেন। এটাও একটা গবেষণার বিষয়, অতিরিক্ত গবেষণা করলে কী মস্তিকের রঙ ধুসর থেকে হলুদ হয়ে যায়!
তার গবেষণার কোন ছাপ এই ছবিতে আশা করাটাই বাতুলতা কারণ আমরা জানি না আমাদের মুক্তিযুদ্ধে বেলুচ কোন সৈন্য এমন সপক্ষ ত্যাগ করেছিল কি না বা...। থাকুক এই প্রসঙ্গ, এই প্রসঙ্গ এ নিয়ে অন্যরা বিস্তর আলোচনা করেছেন।

একালের প্রলাপে লিখেছিলাম, ছবিকে হিট করার জন্য অনেক কৌশলের একটা: 
"...যেসব হলে ছবি চলবে তার দু-একটা হলকে বেছে নিতে হবে। ভাড়া করা কিছু লোক বিনামূল্যে এ ছবিটা দেখার দাবি জানিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করবে (হইচই করতে হলে গাড়ি ভাঙচুর করতে হয়, নিয়ম)। দেরিতে আসাই নিয়ম কিন্তু বিচিত্র কারণে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে লাঠি বা বেতচার্জ করবে। হুলস্থূল ব্যাপার। পত্রিকাগুলোতে এই নিউজটা ছাপা হবে। যে সব পত্রিকায় এ নিউজ ছাপানো হয়েছে সে সব পত্রিকার নাম, উদ্ধৃতি উল্লেখ করে আরেকটা বিশাল বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে বলতে হবে, এ ছবি দেখার জন্যে দর্শক উম্মাদ হয়ে গেছে।..."। 

সেটা তো খানিকটা প্রাচীন পদ্ধতি, এখন আধুনিক পদ্ধতি জন্য প্রথম আলো আছে না! প্রথম আলো, এই পত্রিকায় আমাদের দেশের সেরা সন্তান গাজীউল হক, সেক্টর কমান্ডার মীর শওকত আলীর জন্য প্রথম পাতায় জায়গা থাকে না; শহিদুল ইসলাম লালুর মৃত্যুর খবরটা আসে বিজ্ঞপ্তি আকারে [৪]। এখন সেই প্রথম আলোয় জায়গা কতো শস্তা! দিনের পর দিন মেহেরজান নিয়ে মতি ভাই গং মুখ হাঁ করেই রাখেন, হর্স মাউথ! কখনও জয়া বচ্চন, কখনও ভিক্টর ব্যানার্জীর প্রসঙ্গ ধরে এই পত্রিকায় সুদীর্ঘ আলোচনা হয়। ভিক্টরদাদার নানা নাকি নানার মত ছিলেন এটাও আমরা প্রথম আলোর বদান্যতায় জেনে যাই। কখনও-বা রুবাইয়াত হোসেনের জবানিতে।

কিন্তু মতি ভাইয়ের মুখ ব্যাদান প্রকট হয় এই দিনের পত্রিকা পড়ে। এটা যে এদিন ছাপা হবে এটাও ঘটা করে বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাদেরকে জানানো হয়েছিল। এদিন 'মেহেরজান' নিয়ে ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিনী এবং আরও তিনজনের একটা সমালোচনা ছাপা হয়। এটা আরেক বিস্ময়, চারজন মিলে একটা লেখা লেখেন কেমন করে? এটা প্রথম আলোর এক যুগান্ত আবিষ্কার! এরা নব নব আবিষ্কারে এতই অস্থির কোনও দিন-না দেখব এদের ছাপানো অক্ষরগুলো উল্টা। আহা মরিমরি!

কিন্তু আমি এইসব মানুষদের, এই সব লেখকদের জন্যও বেদনা বোধ করি এদের কী সামান্যতমও ঔচিত্য বোধ নাই যে চারজন মিলে একটা লেখা লিখতে হবে? মতি ভাইরা যেভাবে লাফাতে বলবেন সেরকম লাফাতে হবে কেন? মতি ভাই নিজের পায়ে লাফাক না। 
আমি কেন যেন এই মেহেরজান ছবিটা নিয়ে শব্দ ব্যয় করতে উৎসাহ পাচ্ছিলাম না। আমার কাছে কেবল মনে হচ্ছিল এই ছবি নিয়ে লেখার অর্থ হচ্ছে স্রেফ শব্দের অপচয়! কিন্তু কখনও-না-কখনও বখিল-কৃপণের ধন যেমন অজান্তেই বেরিয়ে যায় তেমনি শব্দও। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করা এটা তো নতুন কিছু না। মতিউর রহমান গংরা তো মুখিয়েই থাকেন, এরা সব বদলাতে বদলাতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আবেগটাও বদলে দেবেন!

এই সমালোচনা ছাপা হওয়ার দিনই [৫] এই ছবির পরিচালক রুবাইয়াত হোসেনেরও একটি লেখা ছাপা হয়েছে [৬]। এইখানে আমার খানিকটা বলার আছে। কারও একটা লেখা বা মত প্রকাশের পূর্বেই অন্য একজন এর ব্যাখ্যা দেন কেমন করে? এটা একটা পত্রিকার নীতি হয় কেমন করে? এটাও মতি ভাইয়ের আরেক বিস্ময়কর আবিষ্কার! মানুষটা এতো বিস্ময় প্রসব করেন কেমন করে!

সহায়ক সূত্র:
১. একটি আদর্শ চলচিত্র: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_29.html
. মুক্তিযুদ্ধের আবেগ...পণ্য: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_07.html

৩. মুক্তিযুদ্ধ, খিচুড়ি: http://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_21.html
৪. শহিদুল ইসলাম লালু: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_28.html
৫. যৌথ প্রযোজনার সমালোচনা: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=12&date=2011-01-26
৬. রুবাইয়াত হোসেন: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=13&date=2011-01-26  

Thursday, January 27, 2011

কৌপিনপরা দেবদূত বনাম...!

প্রথমেই নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ করি 'চাড্ডি' জিনিসটা কি এটা আমার জানা নাই! 'চাড্ডি' নামের এই হিন্দি শব্দের অর্থ, অনুমান করি বাচ্চারা এটা পরে নাংগাবাবু হয়ে ঘুরে বেড়ায়। অর্থ জানি না অথচ হিন্দি এই শব্দটা নিয়ে কস্তাকস্তি করার অর্থ হয়তো অনেকের বোধগম্য হবে না। আহা, আমাদের জাতীয় দুলাভাই শাহরুখের কথা ভুলে গেলেন বুঝি [১]! আমাদের বহিনজি গৌরিকে আমরা বুঝি ফেলে দেব, কাভি নেহি? তাকে ফেলে দিতে না-পারলে তার 'শহর' শাহরূখকে আমরা ফেলে দেই কেমন করে! আর হিন্দি না-শিখলে জিজাজির সঙ্গে কথাবার্তাই বা বলব কেমন করে!

ভাগ্যিস, শীত ছিল, আছে, থাকবে নইলে এই সব চাড্ডিপরা, মুখোশপরা [২] দেবদূততের কী উপায় হতো! সত্যি বলতে কী সেটা সমস্যা না! কিন্তু দেবদূত নামটার সঙ্গে চাড্ডি জিনিসটা ঠিক মিশ খাচ্ছে না যে। আচ্ছা, ল্যাঙ্গট শব্দটা বসিয়ে দিলে কেমন হয়? ছ্যা-ছ্যা, দেবদূত কী কুস্তিগীর যে ল্যাঙ্গটপরা কুস্তিগীর লেখা হবে! হুম, কৌপীন হলে বেশ হয়, না? কৌপীরপরা দেবদূত, ওকালের।
আফসোস, একালের দেবদূতরা নিশ্চয়ই এখন আর কৌপীন পরেন না, এরা পরেন থারমাল আন্ডারওয়্যার। এরা শীত এলেই সব খুলে ফেলে মাথায় থারমাল আন্ডারওয়্যার বেঁধে শীতার্ত মানুষকে উষ্ণতা দিতে এগিয়ে আসেন।


ছবি ঋণ: প্রথম আলো
যাগগে, ওকালের দেবদূতদের একপাশে সরিয়ে একালের দেবদূতদের নিয়ে আলোচনা করাই শ্রেয়। এই ছবিতে আমরা তেমনি দুজন দেবদূতকে দেখতে পাচ্ছি, একালের। একজন হচ্ছেন কুমার বিশ্বজিৎ এবং অন্যজন শাকিব খান। এরা লোকজনকে কম্বল দিচ্ছেন, কম্বল দিয়েছে তাদেরকে উষ্ণতা। উদ্যোগ চমৎকার কিন্তু এটা আমাদের জানাই হত না যদি না মতি ভাই আমাদেরকে জানাতেন।

হয়েছে কি, বুঝলেন, দানিশবন্দ মতি ভাই গভীর রাতে গুগল আর্থ নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় সবিস্ময়ে লক্ষ করেন, কুমার বিশ্বজিতের গাড়ি কমলাপুর স্টেশনের দিকে এগুচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি নির্দেশ দেন, এই এসাইনমেন্টটার দায়িত্ব অফিসের চৌকশ একজনকে দেয়ার জন্যে। আনন্দ প্রতিবেদক নামের ওই চৌকশ মানুষটা পাপারাজ্জির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, চুপিসারে কুমারকে অনুসরণ করতে থাকেন। হুঁ-হুঁ, বাওয়া, কুমারও কম যান না, তিনি শাঁ শাঁ করে গাড়ি চালিয়ে প্রথম আলো প্রতিবেদককে ফাঁকির পর ফাঁকি দিতে থাকেন।
বেচারা, এই প্রতিবেদক নিরুপায় হয়ে বেস্ট এয়ারের একটা হেলিকপ্টার নিয়ে কুমারকে চোখে চোখে রাখেন। সোনারগাঁও মোড়ের সামনে বাংলাভিশন অফিসের পাশে অবশেষে কুমার বিশ্বজিৎ ধরা পড়েন, ক্যামেরায়। ধরা পড়েন কম্বল এবং তার ফ্রেঞ্জকাট দাড়িসহ। আফসোস, শত চেষ্টায়ও বেচারা বাঁচতে পারলেন না! বাঁচতে পারলেন না শাকিব খানও! শাকিব কীভাবে ধরা পড়লেন? সে এক ইতিহাস...।

পত্রিকায় [৩] মতি ভাইয়া ছাপালেন, "আসুন আমরাও এগিয়ে যাই..."।

সহায়ক সূত্র:
১. শাহরুখ...: http://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_11.html 
২. মুখোশধারী: http://www.ali-mahmed.com/2011/01/blog-post_04.html
৩. আমরাও এগিয়ে যাই: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=27&date=2011-01-20  

Monday, January 24, 2011

কলস ভাঙ্গিবার পূর্বেই চটকনা দিয়া ফেলিল

ছবি ঋণ: প্রথম আলো, ২৪.০১.১১
এই ছবিটা নিয়ে আমি খানিকটা সমস্যায় আছি। না, খুনীর হ্রস্ব-ই কার হবে নাকি দীর্ঘ-উ কার এই নিয়ে আমার উচ্চবাচ্য নাই কারণ আমাদের গোয়েন্দারা সব জানেন। অভিধানে খুনি হ্রস্ব-ই কার দিয়ে লেখার জন্য বলা হয়েছে তাতে কী আসে যায়। অভিধান কী জানে!
সমস্যা অন্যত্র। ছবিতে এদের বুকে লেখা দেখছি খুনি অমুক, খুনি তমুক। এদের পেছনে যারা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন অনুমান করি, এরা গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন। ভাল, সঙ্গে ছবি উঠাবার নিয়ম আছে- ভাগ্যিস, এদের খুনি লিখে আলাদা না-করলে ভ্রম হত! কিন্তু আমার প্রশ্ন, এরা যে খুনি এটা কে বলছে? সত্যিই কি এদের সঙ্গের লোকজন গোয়েন্দা বিভাগের নাকি আদালতের? কোনও আদালত কি সূক্ষাতিসূক্ষ সাক্ষ্য প্রমাণের পর এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে এরা খুনি? 

জানি-জানি, অনেকে বলবেন, গোয়েন্দারা সব জানে। বটে, কবুল করলুম। আমাদের গোয়েন্দারা যখন জজ মিয়ার আষাঢ়ে গল্প রসিয়ে রসিয়ে বলতেন তখনও কি আমরা বিশ্বাস করিনি? আলবত করেছি। কি গা ছমছম করা গল্প! এক দেশে জীবিত এক রাজা ছিল, গাঁজা সেই রাজাকে খেত, গাঁজা রাজাকে খেতে খেতে গাঁজা মরল কিন্তু বেচারা রাজাও বাঁচল না। দেশব্যাপি তখন ঢাক বেজে উঠল, একটি রাজার লাশ হারানো গিয়াছে, লাশটি খানিক তোতলা...। চারদিকে ঢিঢি পড়ে গেল।
তো, তাকিয়ায় হেলান দিয়ে ডিম সহযোগে খিচুড়ি খেতে খেতে আমরা এতোটাই সেই গল্পে মগ্ন হতুম যে ডিম খাওয়ার কথা বেমালুম ভুলে বসে থাকতুম, পরে সেই ডিম কে খেত সে প্রসঙ্গ আজ থাক।

আমার এই লেখার মূল উপজীব্য এটা না এরা খুনের সঙ্গে জড়িত ছিল, কি ছিল না। সে অন্য প্রসঙ্গ। কিন্তু কাঠগড়ায় দাঁড় করাবার পূর্বেই একজনকে খুনি বলে ঘোষণা দেয়া যায় কিনা? এই অধিকার আদালত ব্যতীত অন্য কারও আছে কিনা? থাকলে, আদালতের আবশ্যকতা কি?  

Saturday, January 22, 2011

ফরমালিন ভর্তি জার খুঁজছি

আগেও লিখেছিলাম, তিনটা স্কুলের মধ্যে [১] তিন নাম্বার স্কুলটা নিয়ে আমার আগ্রহ প্রবল কারণ এখানে কাজ করার রয়েছে বিপুল সুযোগ তেমনি আমার নিজের শেখার সুযোগও সীমাহীন। স্কুলগুলোর মধ্যে এই স্কুলটা [২] খানিকটা অন্য রকম। এখানে খুব দ্রুত শিক্ষার্থী পরিবর্তন হয়। ক-দিন আগে প্রায় ১৫জন আসা বন্ধ করে দিল। টিচারের খুব মন খারাপ। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এরা সরকারি স্কুলে ভর্তি হয়েছে। টিচার বিষণ্ণ হলেও আমি আনন্দিত কারণ এরা সরকারি স্কুলে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছি, এও কম কী!
অন্য দুইটা স্কুলে কেবল হরিজনদের বাচ্চারা বা অন্ধদের বাচ্চারাই পড়ে। কিন্তু এই স্কুলে যেসব বাচ্চারা আসে এদের কারও বাবা নেই তো কারও মা। কারও আবার বাবা-মা কেউই নেই! অনেক শিশুর নিম্নবিত্ত বাবা-মাদের বিচিত্র সব পেশা। এর মধ্যে স্টেশনে ভাত বিক্রি থেকে শুরু করে গাঁজা বিক্রি কোনটাই বাদ নেই। আরও কিছু পেশা আছে এটা নিয়ে বিস্তারিত বলতে চাচ্ছি না। আমার আজকের লেখার সঙ্গে এর খুব একটা যোগ নেই।

এই স্কুল থেকে আমি নিজে শিখেছি বিস্তর। যেমন একদিন এদের মধ্যে জরীপ চালালাম, বড় হয়ে কার কি হওয়ার ইচ্ছা? অনেকের পছন্দ বাসায় কাজ, টেম্পু চালানো। আমরা আসলে আমাদের দেখা বৃত্ত থেকে বের হতে পারি না।
আমি গলায় হতাশা নিয়ে বলেছিলাম, কেন তোমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হতে চাও না? এদের অবিশ্বাস ভরা চোখের দিকে তাকিয়ে আমি ব্যাখ্যা দেই ড. আতিউর রহমান কেমন করে রাখাল থেকে একজন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর হয়েছেন।

যাই হোক, মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে গেছি। এখান থেকে আমার বিস্তর শেখা নিয়ে অন্য কোন দিন লেখা যাবে। কিছু দিন ধরে এই স্কুলটা নিয়ে আমি অনেকখানি অস্বস্তির মধ্যে ছিলাম। যেখানে এই স্কুলটা চলছিল ওখানে আমাদেরকে কোন ভাড়া দিতে হতো না এটা সত্য কিন্তু আমি এখানে কাজ করে ঠিক আরাম পাচ্ছিলাম না। মাগনা গরুর দাঁত দেখার চেষ্টা করতে নেই এটা আমি জানি না এমন না, বিলক্ষণ জানি, তবুও। অন্য স্কুল দুটায় এই হ্যাপা নেই। একটা চলে ভাড়া ঘরে, অন্যটায় স্কুল ঘর করে দেয়া হয়েছিল।

যারা আমাদেরকে স্কুল চালাবার জন্যে জায়গা দিয়েছেন এরা হুটহাট করে একটা মিটিং দিয়ে বসেন, তখন স্কুল লাটে উঠে। অথচ এদের মিটিং-ফিটিং পূর্ব নির্ধারিত বলে এটা এই স্কুলের শিক্ষককে জানিয়ে দিলে ওই দিন আমরা স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে পারি। এতে তো কোন সমস্যা নেই। কিন্তু এখন পর্যন্ত এরা কখনই আমাদেরকে আগাম জানাননি! অথচ জানালে আকাশ ভেঙ্গে পড়ত না। ছোট-ছোট বাচ্চাদেরকে যখন মিটিং-এর নামে এখান থেকে বের করে দেয়া হয় তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ব্যতীত আমাদের করার কিছুই থাকে না। এখানে আরও কিছু জটিলতা আছে যেটা জনে জনে আলোচনা করা সমীচীন না। 
কোথাও, ভাড়ার ঘরে একটা ব্যবস্থা হয় কি না এটা বেশ কিছু দিন ধরে আমি চেষ্টা করছিলাম কিন্তু ঠিকঠাক মতো হয়ে উঠছিল না!
বাচ্চাদেরকে স্কুল থেকে বের করে দেয়া, কালও তাই হলো। শেষ অবধি এই সিদ্ধান্তটা নিতেই হয় এখানে আর স্কুল রাখা যাবে না। অন্য কোথাও সরিয়ে নিতে হবে, এখুনি। কিন্তু কোথায়? এটার উত্তর আমার জানা নেই। আছে কেবল জেদ। জেদ পাশাপাশি এসে দাঁড়ায়, এই স্কুলটা যদি আমি একদিনে দাঁড় করাতে পারি তাহলে একদিনে অন্য কোথাও স্থানান্তরও করতে পারব।

পায়ের নীচে সর্ষে- পাগলের মত ঘুরছি। কিছু-না-কিছু একটা হয়েই যাবে আমার এই ধারণায় বড়ো ধরনের ফাঁক ছিল। আমি ভুলেই গিয়েছিলাম এখন ফরমালিনের জয়-জয়কার। সব কিছু এখন ফরমালিনে চুবিয়ে রাখা হয়, আমাদেরকেও। একেকটা লাশ, অবিকৃত।
একটা সরকারি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সঙ্গে কথা বললাম, 'ভাড়া দিয়ে হলেও একটা ঘর পাই কিনা খুঁজছি, পেলেই চলে যাবে। আপনাদের স্কুল তো বিকালে ছুটি থাকে, আপাতত স্কুল চালাবার জন্য কেবল একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন? সভাপতি বললেন, 'ইউএনও সাহেবের সাথে কথা বলেন'।
আমি মনে মনে বললাম, চুভাই, তাহলে তুমি নিজের বউয়ের পতি হওয়ার পাশাপাশি সভাপতি হয়েছ কেন?
একে ধরি ওকে ধরি ফলাফল এক পরম শূণ্য- অবাক হচ্ছি বড়, কারও শোনার মত সময়টুকুও নাই! শ্লা, আমি ব্যতীত সবাই দেখি ভারী ব্যস্ত!

মাত্র ক-দিন আগে পৌরসভার নির্বাচন শেষ হলো। অরি আল্লা, তখন দেখি লোকজন জনসেবা করার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিলেন; পারলে গায়ের কাপড়ও খুলে দিয়ে দেন-নাংগা ঘুরে বেড়ান! 'ওই আসে জনসেবক' শত-শত মাইকে এই নিনাদে পারলে পাঁচ মাসে বাচ্চা হয়ে যায়। তখন আমাদের মাথার উপর জনসেবকদের লাখ-লাখ পোস্টার, এই পোস্টার নিঃস্ব, শীতার্তদের কী কাজে লাগেছে কে জানে! এরি নাম গণতন্ত্র! এরি নাম জনসেবা? জনসেবা জিনিসটা কী এটাই জানা হলো না এখনও।

ভাল লাগে না, ভাল লাগে না আমার; ইচ্ছা করে কাপড়-চোপড় খুলে ফরমালিনভর্তি একটা জারে ঢুকে পড়ি...।

সহায়ক সূত্র:
১. স্কুল...: http://tinyurl.com/39egrtn
২. স্কুল তিন: http://tinyurl.com/327aky3

Thursday, January 20, 2011

আমরা পাবলিক এটা অন্যরাই বলুক

পুলিশের বড় কর্তারা সম্ভবত নিজেদেরকে ঈশ্বর টাইপের কিছু মনে করেন। বড় কর্তা কোন ছার, ছোট কর্তাদের দাপটের নমুনা দেখলে মনে হয় এদের উপর আকাশ ব্যতীত আর কিছু নাই। মিডিয়ায় যখন আমরা পুলিশের এমন ভাষা শুনি তখন আর এই নিয়ে মাথা ঘামাবার অবকাশ থাকে না সাধারণ মানুষদের সঙ্গে এদের আচরণ কেমন। তখন পুলিশ জনগণের বন্ধু এটা বড়ো হাস্যকর মনে হয় [১]। উন্নত দেশগুলোতে মানুষ বিপদে পড়লে প্রথমেই পুলিশের কাছে ছুটে যায়। বিচিত্র কারণে আমরা ট্রাক এবং পুলিশের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকি, বিস্তর অনৈকট্য!
পুলিশের ভাষার নমুনা:



আজ একজন ডাক্তার বলছিলেন, অমুক জায়গায় এতো জন পুলিশ এবং এতো জন মানুষ মারা গেছে। আমার বুদ্ধিশুদ্ধি উদ্বেগজনক। প্রথমে বুঝতে পারিনি। পরে বুঝতে পেরে পুরাপুরি হাঁ! আমাদের আস্থা কোন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে- ক্রমশ আমাদের দাঁড়াবার জায়গা কমে আসছে।

মাদারীপুরে এক এসপি সাহেবকে হাইকোর্ট ডেকে নিয়ে ভৎর্সনা করেছেন। শিরোনাম পড়লে আপাতত দৃষ্টিতে সরল একটা সংবাদ। অনেক বড়ো বড়ো অন্যায় করেও আদালতের মৃদু তিরস্কার শুনে পুলিশের কর্তারা পার পেয়ে যান। গান পাউডার দিয়ে বাসে আগুন ধরিয়ে লোক মেরে ফেলা হয়। পুলিশ মহোদয় এটা গোপন করে অন্য এক খেলা খেলেছেন; তো, আদালত মৃদু তিরস্কার করে বিদায় করে দিলেন। ব্যস, মামলা ডিসমিস!
তো, এই এসপি সাহেব, সরদার তমিজ উদ্দিন, এক গৃহবধূ মিলা মল্লিকের বাপ-দাদার ভিটা বাড়ি থেকে উচ্ছেদ এবং হত্যা করার অপচেষ্টার ন্যায় বিচার চাইতে গেলে এই এসপি সাহেব শিলা মল্লিককে উল্টো নির্যাতন করেন।

এই নিয়ে হাইকোর্টে রিট হলে আদালত এসপি সাহেবকে ১৩ জানুয়ারি হাজির হতে নির্দেশ দেন। আদালতে এসপি সাহেব হাজির হলে পুরো দিন আদালতে দাঁড় করিয়ে রাখেন। আদালত এসপি সাহেবের প্রতি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন আমার মনে হয় এই পুলিশের কর্তা আজীবন না-ভুললেই মঙ্গল করবেন।
আদালত এসপি সাহেবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "সে (এসপি) এমন কিছু হয়ে যায়নি। দেশটা তার বাবার সম্পত্তিও না আর সে কোন হরিদাস পালও না। হি ইজ অনলি দ্য সার্ভেন্ট অব দ্য গভর্নমেন্ট"।
এই এসপিকেই আদালত অন্য আরেক কারণে বলেন, "ভাগ্যিস সেখানে আমি ছিলাম না, থাকলে তো তার (এসপি) ইউনিফর্ম খুলে তাকে জেলে পাঠাতাম। একজন পুলিশ কর্মকর্তা যেখানে হাইকোর্টের একজন বিচারপতির ব্যাপারে এমন অবজ্ঞা করতে পারে, একজন নারী তো তার কাছে নস্যি"। কালের কন্ঠ (১৮ জানুয়ারি, ২০১১)
এই দেশের এসপি সাহেবদের মত লোকজনরা কেন যে বিস্মৃত হন তাঁরা পাবলিক সার্ভেন্ট। দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট এই সত্যটা অস্বীকার করলেই তো আর সত্যটা মিথ্যা হয়ে যাচ্ছে না!

অফ-টপিক: আমরা পাবলিক এটা আর নিজের মুখে আমরা নাই-বা বললাম, অন্যরাই বলুক।

 সহায়ক সূত্র:
১. পুলিশ জনগণের বন্ধু: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_08.html
২. ভিডিও ক্লিপিংস: এটিএন বাংলা

Tuesday, January 18, 2011

যুক্তরাজ্য: যে কারখানা থেকে নির্বোধ প্রসব হয়

যুক্তরাজ্য নিয়ে একটা চালু কথা ছিল, এদের নাকি সূর্য অস্ত যেত না। এদের নাকও ছিল অনেক লম্বা, আর খানিকটা লম্বা হলেই অনায়াসে সূর্য ছুঁয়ে ফেলত। এদের শরীরের রক্ত নিয়েও নাকি ঝামেলা ছিল- সবার রক্ত লাল এদেরটা নাকি নীল!
আমার দৃষ্টিতে এরা স্রেফ একটা লুটেরা জাতি। এমন লুটেরা, পারলে সূর্যটাকেও লুটে নিত! এরাই সভা-সেমিনার করে আমাদেরকে নীতির 'ন' শেখায় অথচ অভিযান চালালে দেশটা ভর্তি লুটের মাল, এরা বমাল ধরা পড়বে।
ময়লা খুব বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করার প্রয়োজন নেই, মুকুটে কোহিনূর হিরা নিয়ে ব্রিটেনের রানি যখন পা ছড়িয়ে জাঁকালো ভঙ্গিতে বসেন তখন এদের ধারণা চারদিক আলো হয়ে থাকে। আমার কাছে মানুষটাগুলোকে স্রেফ নগ্ন মনে হয়! ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে ভারতের বারংবার আবেদনেও এদের বিন্দুমাত্র লাজ নেই।

অভাগা একটা দেশ আমাদের। কোহিনূরের মতই বিশ্বখ্যাত আরেকটি হিরা 'দরিয়া নূর'। হায়দরাবাদের নবাব তৎকালীন এক লক্ষ তিরিশ হাজার টাকায় টাকায় ক্রয় করেছিলেন। পরে কোহিনূরের মতই এটাও চলে যায় পারস্য সম্রাটের হাতে [১]
এই দরিয়া নূরকে আমরা ময়লার বাক্সে ফেলে রেখেছি। আক্ষরিক অর্থে ময়লার বাক্স না, একটা ব্যাংকের লকারে। এমন বিশ্বখ্যাত একটা হিরাকে ব্যাংকের লকারে রাখার বুদ্ধি কোন নির্বোধের মাথা থেকে বেরিয়েছে কে জানে! মানে কী এর? বিষয়টা অনেকটা এমন, অন্ধকারে মিস ইউনিভার্স হাসলো, না জরিনা তাতে কি আসে যায়; কেউ তো আর এটা দেখছে না!

যুক্তরাজ্যে শিশুদেরও আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয় [২]। একজন শিশু অনায়াসে পেতে পারে শটগানের লাইসেন্স। যে শটগান দিয়ে একজন মানুষকে আক্ষরিক অর্থে টু-টুকরা করে ফেলা যায়! একটা শিশু ইচ্ছা হলেই এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে পারবে, ভিডিও গেম আর কী! গত বছর জুলাই মাসে ১০ বছরের এক শিশুকে শটগানের লাইসেন্স দেয়ার পর ব্রিটেনের লোকজনরা খানিকটা নড়েচড়ে বসে। ভাবখানা এমন, এদ্দিনে এদের খোঁজ পড়ল শুয়োরের ঘিলু বিচিত্র কারণে এদের মাথায় স্থানান্তরিত হয়েছে।

এরা বেনিয়ার জাত। বেনিয়াদের মাথায় বাড়তি ঘিলু থাকে বলেই অন্যদের ছিবড়ে বানিয়ে ফেলতে মোটেও বেগ পেতে হয় না। কার মাথা থেকে আর এই সব বুদ্ধি বের হবে? হিন্দু-মুসলমানদের পরস্পরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দাও শুয়োরের চর্বি-গরুর চর্বি- কার্তুজে নাকি ভাবনায় তাতে কী! চমৎকার একটা উদাহরণ আছে এমন, 'এদের হাতে ছিল ধর্মপুস্তক, আমাদের জমি। একদা আমাদের হাতে ধর্মপুস্তক ওদের হাতে জমি'।
এরা আমাদেরকে অনেক কিছুই শেখালো। নিজেরা কেবল শিখল কেমন করে অন্যের দেশ, ভাষা ছিনিয়ে নিতে হয়। মায় ভাবনা! এখনও এই স্বাধীন দেশের অধিকাংশ আইন এদের করা। এখনও আমরা এদের ভাষায় কথা বলে জাতে উঠি, এদের দেখিয়ে দেয়া ভঙ্গিতে বাথরুম সারি। আসলে আমরা আমাদের এক্স-প্রভুদের বিস্মৃত হতে পারি না! গোলামের অভ্যাস যাবে কোথায়!
"...আমরা সাহেবি রকমে হাঁটি,
স্পীচ দেই ইংরিজি খাঁটি;
কিন্তু বিপদেতে দেই বাঙ্গালিরই মত
চম্পট পরিপাটি।"
(দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)

সবই ঠিক ছিল কিন্তু শিশুদের যারা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেয় এমন নির্বোধরা অতীতে কেমন করে বুদ্ধির খেলা দেখিয়ে ছিল এটাই ভাবনার বিষয়।

সহায়ক সূত্র:
১. দরিয়া নূর, ইত্তেফাক: http://ittefaq.com.bd/content/2007/03/16/all0725.htm  
২. ডেইলি মেইল অনলাইন: http://www.dailymail.co.uk/news/article-1292839/Police-shotgun-licence-boy-aged-just-TEN.html

Sunday, January 16, 2011

ছফার German Perspective এবং...

ছফাকে নিয়ে আমার একটা কাল্পনিক লেখা আছে [১]। লেখাটা লেখার সময় বা এখনও এটা পড়ার সময় আমার মনেই হয় না এই মানুষটার সঙ্গে আমার কখনও দেখা হয়নি! কেবল মনে হয় এই মানুষটার সঙ্গে কত গল্পই না করেছি।
যাই হোক, ছফার German Perspective পড়ার সময় জার্মানি দেশটার কথা মনে পড়ে। ছফার দেখি বার্লিন শহরটা খুব পছন্দের:
"...First I came in Berlin in 1986. It was in connection with the Bangla translation of Goethe's 'Faust'. Goethe institute provided me a scholarship of language course in Berlin. That time I visited Colongne, Heidelberg, Frankfurt...Berliners are very proud people. They are proud of being Berliners. US President John F. Kennedy in one of his visits, made a declaration, in order to show respect to the sentiment of Berlin people, ich bin ein Berliner- I am also a Berliner..." (German Perspective) 

জার্মানিতে আমার অবস্থানকাল ছিল খুবই অল্প! এই সময়ে বার্লিন যাওয়ার সময়-সুযোগ আমার ছিল না। অবশ্য তেমন একটা আগ্রহ যে ছিল এমনটাও না। বন শহরটা দেখেই আমার মুগ্ধতার শেষ ছিল না। একটা আদর্শ শহর, নির্মেদ- বাড়তি কোন মেদ নাই; গুরুগম্ভীর, আলাদা সমীহ জাগানো! শহরটায় ছিল না বাড়তি কোন জৌলুশ, অহেতুক চোখ ধাঁধানো স্থাপনা- এরা এখনও রেখে দিয়েছে যে পুরনো স্থাপনাগুলো যা আমাকে অযথাই টানে। সেটা দেশে হোক বা বিদেশে তাতে কী আসে যায়! আকাশছোঁয়া জবরজঙ্গ স্থাপনা সেটা বুর্জ খলিফা হোক বা সিয়ার্স টাওয়ার আমাকে টানে না।

বার্লিন প্রসঙ্গে মনে পড়ল দাউদ হায়দারও এসেছিলেন বার্লিন থেকে। তিনিও একজন গর্বিত Berliner! কোন এক বিচিত্র কারণে নামকরা মানুষদের প্রতি আমার আগ্রহ বাড়াবাড়ি রকম কম! কিন্তু দাউদ হায়দারের প্রতি আমার আগ্রহের কারণ ছিল অন্য। আমার কেবল মনে হতো দেশে ফিরতে না-পারা মানুষটা আমি নিজে। এই অনুভূতিটা আমায় কেবল তাড়া করত। এই কারণে দাউদ হায়দারকে নিয়ে বেশ কিছু লেখা লিখেছিলাম [২]। এই নির্দোষ লেখাগুলোর সূত্র ধরে কিছু লোকজন আমার পেছনে লেগে গেলেন, মায় মিডিয়া পর্যন্ত [৩]!
কিন্তু দাউদ হায়দারে কিছু বিষয় আমার ভাল লাগেনি। অন্য একজনকে এগিয়ে নিয়ে আসার কারণে তিনি যে উষ্মা প্রকাশ করেন তা আমাকে হতভম্ব করেছিল কারণ বার্লিন থেকে বন আসার সময়ও দাউদ হায়দারকে এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। অন্তত একজন কবির কাছ থেকে এই সংকীর্নতা আমি আশা করিনি!
আরেকটা প্রসঙ্গও আমার ভাল লাগেনি সেটা হচ্ছে, আমি যখন বললাম, দাউদ ভাই, আপনাকে নিয়ে অনেকেই লেখে, নেটে সার্চ দিলেই বুঝবেন। তিনি খানিকটা তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে উত্তর দিলেন, আমি তো ওই সব লেখা পড়ি না। আমি একটা ধাক্কার মত খেলাম! একি কান্ড! গভীর ভালবাসায় অন্যের আবেগের কথা একজন মানুষ জানতে চাইবে না, গ্রাহ্য করবে না? মানুষ তো আর রোবট না!
এমনিতেও দাউদ হায়দারের মধ্যে আমি কিছু অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেছি। এই নিয়ে এখানে আর শেয়ার করি না কারণ এ বিচিত্র কিছু না। এই মানুষটার স্বাভাবিক জীবন কখনও ছিল না। জীবনের অধিকাংশ সময় তাঁর কেটেছে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। একটা থিতু জীবন, লক্ষস্থির করে ঝাড়া একটা দৌড়, সম্ভবত কোনটাই তাঁর হয়ে উঠেনি।
এসবের থাকুক, প্রয়োজনে এই মানুষটাকে নিয়ে আমি আবারও লিখব আগের আবেগ নিয়ে, যত দিন পর্যন্ত না এই মানুষটার দেশে ফেরার সুবিধে না হয়। অবশ্য তিনি এখন দেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব কি না এই কুতর্কে আর গেলাম না।

আমি আগেও লিখেছিলাম, হিটলারের দেশ জার্মানিতে আতালি পাতালি করে খুঁজেও কোন অসঙ্গতি আমার চোখে পড়েনি। বুকে হাত দিয়ে বলি, এমনটা চোখে পড়লে খানিকটা আরাম পাওয়া যেত! আফসোস, যা পড়েছে তা আমাদের বঙ্গালদের মধ্যেই। জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে দেশকে নিচু থেকে নিচুতর দেখিয়ে ওখান থেকে এরা দেশ উদ্ধার করেন, একজন অন্যজনের পা ধরে টানাটানি করেন!
ছফা অবশ্য আমাদের দেশের এই সব বীর পুঙ্গবদের সম্বন্ধে অনেক পূর্বেই লিখেছিলেন:
"...Ninety-eight percent of them cane to Germany with the purpose of seeking political asylum. At least they mentioned this in their application forms...Among thousands of asylum seekers, there may be a few hundred genuine cases, rast fake..." (German Perspective) 

সহায়ক সূত্র:
১. ছফার সঙ্গে...: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_27.html
২. দাউদ হায়দার, তোমাকে, আবারও: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_20.html
৩. মিডিয়ার খেলা: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_22.html       

Wednesday, January 12, 2011

মল্লিক সাহেব, আপনি আমাকে বাঁচিয়ে দিলেন

যৌনকর্মীদের মৃত্যুর পর তাঁর লাশ সৎকারের অধিকার থাকে না কোনও সামাজিক গোরস্থানে, ধর্মীয় কোন আচার পালন করার তো প্রশ্নই উঠে না। বিচিত্র দেশ, এখানে যৌনকর্মীদের লাশ দাফন নিয়েও আন্দোলন করতে হয়! ফরিদপুরের কিছু এনজিও ও সামাজিক সংগঠন মিলে একটি আন্দোলনের সূচনা করেছিল। বিষয় ছিল, মৃত্যুর পর যৌনকর্মীদের লাশ সৎকারের ব্যবস্থা করতে হবে। লাশ দাফনের জন্য আলাদা জায়গা দিতে হবে কর্তৃপক্ষকে।
অধিকাংশ সামাজিক গোরস্থানের দায়িত্বে থাকেন যারা তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমন পর্যায়ে নাই যে এই প্রশ্ন করা যেতে পারে, একজন যৌনকর্মীও সরকারকে ট্যাক্স দেন অথচ অনেকেই ট্যাক্স দিতে চান না (আশার কথা, প্রফেসর ইউনূস এ বছর থেকে ট্যাক্স দেবেন [১]। এ জন্য ইউনূস সাহেব ধন্যবাদ পাওনা হন)। তো, একজন ট্যাক্সদাতা হিসাবে রাষ্ট একজন যৌনকর্মীর সমস্ত অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হবেন।

এই গ্রহের সবচেয়ে বড়ো রহস্যের সঙ্গে জড়াজড়ি করে জড়িয়ে থাকেন যে মানুষটি তিনি হচ্ছেন গর্ভবতী একজন মা। মা এবং তাঁর অদেখা সন্তান [২]! তাঁর অন্য কোন পরিচয় নাই- তিনি মা, কেবল মা। একজন মা যখন অদেখা এই রহস্য নিয়ে খেলা করেন তখন অন্য সমস্ত খেলা বন্ধ। প্রয়োজনে ফিরে আসবে প্লেন, স্থির হবে ট্রেন, থেমে যাবে প্রার্থনা।
প্রথম আলো থেকে জানা যাচ্ছে,
"প্রসব বেদনায় কাতর এক নারীকে গত শনিবার রাত তিনটার দিকে ঢাকা মেডিকাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন বেলা দুইটায় অস্ত্রেপচারের মাধ্যমে একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেন তিনি। ...। সোমবার ওই ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানতে পারেন নবজাতকের মা একজন যৌনকর্মী। বেলা একটায় দুই দিনের শিশুসহ এই মাকে ওয়ার্ডের বারান্দায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।...।
হাসপাতালের পরিচালক শহিদুল হক মল্লিক বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। যৌনকর্মীদের মধ্যে এইচআইভি/ এইডসসহ যৌনবাহিত বিভিন্ন রোগ থাকার আশঙ্কা থাকে। তাই অন্য শিশু ও প্রসূতি মায়েদের যাতে কোনো ঝুকিতে পড়তে না হয়, সে জন্য ওই মাকে আলাদা রাখা হয়েছে"। (আবুল হাসনাত/ প্রথম আলো ১২ জানুয়ারি ২০১১ [৩] ) 

এরপর থেকে তীব্র শীতে ওই মা এবং জন্মের শিশুটা খোলা বারান্দায় পড়ে আছে। ওয়াল্লা, আমাদের মল্লিক সাহেব কত্তো খেয়াল রাখেন! অন্য শিশু এবং মাদের প্রতি তার কত্তো কত্তো ভাবনা! ভাগ্যিস, এই দেশে মল্লিক সাহেবদের মত লোকজনে গিজগিজ করছে নইলে এই দেশের দায়িত্ব স্বয়ং ঈশ্বরও নিতেন কি না সন্দেহ।
গ্রামে একটা কথা চালু আছে, ব্যাটা শিকখিত (শিক্ষিত) আছে, একবারে মেট্রিক পাশ দিছে। এইচআইভি নিয়ে মল্লিক সাহেবের যে জ্ঞান দেখছি তাকে এই প্রশ্নটাই জিজ্ঞেস করাটা অসমীচীন হবে না কিন্তু মল্লিক সাহেব একবারে মেট্রিক ওরফে এসএসসি পাশ করেছেন কিনা এই নিয়ে আমার আগ্রহ নাই। আমার যেটা জানার আগ্রহ, মল্লিক সাহেব নিজে এইচআইভি সংক্রমিত কি না? ওনার এইচআইভি সংক্রমণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। অন্তত আমার ঘোর সন্দেহ আছে।
এটা জানার আগ্রহ এই কারণে মল্লিক সাহেব এইচআইভি ক্যারিয়ার হলে আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশেপাশে দিয়ে যাতায়ত করব না কারণ মল্লিক সাহেব থেকে আমি নিজেও সংক্রমিত হতে পারি।

আহা, মল্লিক সাহেবের এইচআইভি সংক্রমণ হতে পারে না বুঝি! এইচআইভি কেবল যৌনকর্মীদের থাকতে পারে মল্লিক সাহেবদের থাকতে পারে না এমন মাথার দিব্যি কে দিয়েছে? এইচআইভি কি মল্লিক সাহেবের কাছে টিপসই দিয়েছে? 
মল্লিক সাহেব কিন্তু এই মাটার মধ্যে এইচআইভি জীবানু পাননি, তিনি অনুমান করছেন এই মার থাকতে পারে। আমিও তো অনুমানই করছি মল্লিক সাহেব এইচআইভি আক্রান্ত হতে পারেন। মল্লিক সাহেব বলছেন, এইচআইভি বাতাসে হুটোপুটি খায়। সোজা কথা, বাতাসে ছড়ায়। আমিও তো তাই বলছি। তাহলে সমস্যা কোথায়!
এই হাসপাতালের বাতাস গায়ে লাগলে আমি বাঁচব বুঝি। ভাগ্যিস, বড়ো বাঁচা বেঁচে গেছি। এই হাসপাতালের দিকে মুখ করে ইয়ে ত্যাগ দূরের কথা সিগারেট টানাও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না...মল্লিক সাহেবের গায়ের বাতাস লাগলে এইচআইভির সঙ্গে কে মারামারিতে পারবে? ধন্যবাদ, মল্লিক সাহেব, আপনি আমাকে বাঁচিয়ে দিলেন।         

সহায়ক লিংক:
১. ইউনূস মামার আবদার: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_12.html
২. মা এবং তার অদেখা সন্তান: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_10.html
৩. প্রথম আলো: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=3&date=2011-01-12   

Monday, January 10, 2011

দাদারা দাদা, আমরা হাঁদা

আজ একজন আহমদ ছফার [১] তীব্র অভাব অনুভব করছি। এই সব মানুষরা কেন যে দুম করে মরে যান! এ্যাহ, মরে গিয়ে যেন আমাদের মাথা কিনে নেন! আমাদের দেশের বুদ্ধির ঢেঁকিরা যখন দাদাদের লেখা নিয়ে নিজেদের হাতের তালু ঘষে ঘষে নিজেদের হাতের রেখা মিটিয়ে ফেলছিলেন তখন ছফা গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে দাদাদের বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছেন। 
অন্যদের কথা জানি না কিন্তু এতে অন্তত আমার কোন সন্দেহ নাই এই মানুষটা পা টেনে টনে তাঁর ভারী শরীরটা নিয়ে ঠিক ঠিক ভারতীয় দূতাবাসের সামনে হাজির হয়ে যেতেন। হাতে দাহ্য পদার্থের টিন, ঠোঁটে চিরাচরিত সিগারেট। না-না, তিনি কাপুরুষ না যে দাহ্য পদার্থ দূতাবাসে ছুঁড়ে মারতেন; স্থির চোখে তাকিয়ে সময় বেঁধে দিতেন, হয় দাবী মেনে নাও নইলে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেব। আমি জানি ছফার চোখে চোখ রাখার ক্ষমতা এদের কারও থাকতে পারে না। মানুষটা হা হা করে হাসতে হাসতে নিজের গায়ে আগুনটা ধরিয়েই দিতেন।
আফসোস, ছফাপুরান [২] লিখতে লিখতে ছফারা মরে যান আর এই দেশে থেকে যায় অসংখ্য নপুংশক।

হিউম্যান রাইটস জানাচ্ছে, "এক দশকে বিএসএফ ৯০০ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে এবং এই কারণে এদেরকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়নি"।
আমার ধারণা এই সংখ্যাটা আরও বেশি কারণ এই অভাগা দেশের প্রতিটি আদম সন্তানের খোঁজ রাখার ক্ষমতা এই রাষ্ট্রযন্ত্রের কোথায়? বিএসএফ আমাদের শিশুদের ধরে নিয়ে যায়; রাষ্ট্র দূরের কথা মিডিয়ায়ও এই আপডেট আমরা জানতে পারি না [৩]!
ছবি ঋণ: শুভ্রদ্বীপ পাল, আনন্দবাজার পত্রিকা
(কৃতজ্ঞতা: Diganta Sarkar)
সম্প্রতি বিএসএফ গুলি করে হত্যা করেছে ফেলানী নামের এক কিশোরীকে। মিডিয়া জানাচ্ছে দীর্ঘ সময় কাটাতারে এই অভাগা মানুষটার লাশ ঝুলছিল। দীর্ঘ সময়, কতটা সময়? আশ্চর্য, এই প্রযুক্তির যুগে কেউ একজন এর ছবি তুলে রাখতে পারল না? (যাক, একটা ছবি পাওয়া গেছে। তাও দাদাদেরই কল্যাণে।)

আমরা কেবল জানতে পারছি বিএসএফ নামের খুনিদের খুনগুলোর কথা, এরা কয়টা খুন করল কিন্তু এদের নির্যাতনের সমস্ত তথ্য কি আমাদের কাছে আছে? আমি যে স্কুলগুলো চালাই এর একটা হচ্ছে সীমান্ত এলাকায়। আসা-যাওয়ার পথে কৃষক-আম জনতার সঙ্গে কথা হয়। এদের মুখে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশিদেরকে নির্যাতন করার যে রোমহর্ষক বর্ণনা শুনি তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, গা কাঁপে। বুট জুতা পরে কয়েকজন মিলে নিরীহ কৃষকের উপর দাঁড়িয়ে হাড় ভেঙ্গে ফেলা হয়, রগ কেটে পানিতে ফেলে দেয়া এদের কাছে তো ডালভাত!

ফেলানী হত্যার মাত্র দুই দিন পরই এরা হত্যা করেছে আরও দুই বাংলাদেশিকে! এই সব নিরন্ন মানুষদের সংখ্যায় কি আসে যায়। এরা তো আর কেউই ভিআইপি না। ভিআইপি কোন ছার, ভিআইপিদের ছেলেপুলে ভারত যাবেন বলে ইউএনও উপজেলার সমস্ত কাজকাম ফেলে ফ্যা ফ্যা করে স্টেশনে চক্কর লাগান। ভিআইপিদের ছেলেপুলেদেরকে উস্তম-পুস্তম হয়ে স্যালুট ঠুকতে ঠুকতে সীমান্তে দিয়ে আসেন, ওখানে আবার কোলে করে দাদারা নিয়ে যান। এরা খুশি, দাদারাও খুশি।
অনেকে অখুশি হয়ে এই প্রশ্নও ছুঁড়ে দেন, সীমান্ত টপকালে গুলি তো হবেই। তাই বুঝি, দাদারা তো দেখি বড়ো নীতিবান! আচ্ছা, আমাদের দেশে ফেনসিডিল দিয়ে যে দাদারা বন্যা বইয়ে দেন, কেবল বাংলাদেশে পাঠাবার জন্য সীমান্তে অসংখ্য ফেনসিডিলের কারখানা খুলে বসেন; দাদারা যে তাদের মেয়াদ উত্তীর্ণ গুড়ো দুধ, জিরা আমাদের এখানে পাঠিয়ে দেন তখন বুঝি নীতিতে বাঁধে না? দাদাদের ফেনসিডিল খেয়ে আমাদের যুবকদের ঝিমায়।

আচ্ছা, আমাদের দেশের চাকা যারা ঘোরান বনবন করে এরা কি জানেন কত হাজার কোটি টাকা কেবল ফেনসিডিল বিক্রি করে দাদারা হাতিয়ে নিচ্ছেন? আমি নিশ্চিত, জানেন না! ফেনসিডিলের মূল উপাদান কোডিন। দাদাদের বানানো ফেনসিডিলের নামে যে বোতল আমাদের দেশে হাজার টাকায়ও বিক্রি হয় সেই বোতল বানাতে আমাদের দেশের অষুধ কোম্পানিগুলো খরচ পড়বে স্রেফ ত্রিশ টাকা। শুনতে ভাল লাগবে না কিন্তু আমার পরামর্শ, দেশেই ফেনসিডিল বানাবার অনুমতি দেয়া হোক। দাদাদের থলথলে চর্বি আর বাড়াতে না-চাইলে এর কোন বিকল্প আছে বলে আমার মনে হয় না।
এই প্রসঙ্গ থাকুক, সত্যিই কি বিএসএফ এই অবস্থায় গুলি চালাতে পারে? বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান গতকাল বিবিসিকে বলেছেন, "বিএসএফ মাঠপর্যায়ের নিয়মনীতি (গ্রাউন্ড রুল) বারবার ভঙ্গ করছে। গ্রাউন্ড রুলে এ জাতীয় অনুপ্রবেশের ঘটনায় কোনো অবস্থায় গুলি ছোড়া যাবে না..."।

পত্রিকায় দেখছি, ফেলানীর এই খবরটার, কফিনের ছবিটার পাশেই ছাপা হয়েছে, "আইপিএলে সাকিবের দাম ৩ কোটি"।
এই দিন আমি বিভিন্ন জায়গায় দেখেছি আলোচনা তুঙ্গে, তিন কোটি...সাকিব ইত্যাদি। কোথাকার কোন ফালানীকে কে মেরে ফেলল এই নিয়ে মাথা ঘামাবার সময় কোথায় আমাদের! আর কীই-বা দায় পড়েছে সাকিবের। দাদাদের এই অন্যায়ের প্রতিবাদে এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে দাদাদের গালে কষে থাপ্পড় মারার মত জোর কোথায় সাকিবের।

আর আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবী লেখক মহোদয়গণ? চুতিয়া শব্দটায় অনেকের আপত্তি থাকার কারণে আমি এই শব্দটা বলা থেকে বিরত থাকছি, এমনকি চুতিয়াকে কুতিয়াও বলব না। লালনের কথা ধার করে বলি, 'আট কুঠুরি নয় দরোজা...'।
এরা যে কলমের সাহায্যে নিজেদের বিশেষ একটা কুঠুরি বন্ধ করতে ব্যতিব্যস্ত এটা জনে জনে বলার প্রয়োজন কি আমার! বিশেষ কুঠুরি-কলম-বেদনা সবই এদের, আমার কী!

*আনন্দবাজার পত্রিকা: http://anandabazar-unicode.appspot.com/proxy?p=archive%2F1110108%2F8uttar2.htm

সহায়ক সূত্র:
১. ছফা: http://tinyurl.com/4w8ggos
২. ছফাপুরান: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_15.html 
৩. ধরে নিয়ে গেছে শিশুদের: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post.html  

Saturday, January 8, 2011

সেভেন স্টার ভাঁড়

মুসা বিন শমসেরকে নিয়ে অনেক আগে লেখা হয়েছিল শুভ'র ব্লগিং-এ। সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে মুসা ঘটা করে আমাদেরকে যেটা জানিয়েছিলেন, ওখান থেকে খানিকটা শেয়ার করি:
"...

১. তার সম্পদের মূল্য ধারণা করা হয় ৩ বিলিয়নের বেশি।
২. মাঝে মাঝে তিনি তার ব্যক্তিগত জেট বিমান তার হাই প্রোফাইলের বন্ধুদের ধার দেন।
৩. টনি ব্লেয়ারকে ৫ মিলিয়ন পাউন্ড চাঁদা দিতে গিয়ে আলোচনায় আসেন।
৪. তিনি এক স্যুট কখনও দ্বিতীয়বার গায়ে দেন না, প্রতিটি স্যুটের মূল্য ৫ থেকে ৬ হাজার পাউন্ড। এমন স্যুট তার হাজার তিনেক। পোশাকের জন্য বছরে খরচ ৫ কোটি টাকা।
৫. এই লোক গ্রীসের ৭ তারা হোটেল কিনে নেয়ার পর, ওই দেশের পত্রিকায় ফলাও করে লেখা হয: মুসা কি গ্রীস কিনে নিচ্ছেন?
৬. লন্ডনে তার রয়েছে রোলস রয়েস।
৭. তার গুলশানের প্রাসাদোপম ভবনের আসবাবপত্র ইটালি থেকে আমদানি করা এবং প্রতি ৬ মাস অন্তর পরিবর্তন করা হয়। ওই ভবনে তার সেবার জন্য এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে ৫০ জন মানব, যারা সব সময় ডিনার জ্যাকেট পরে থাকে।
৮. এই অতি সুদর্শন মানুষটার জন্য ডায়ানা নাকি পাগল ছিলেন।

(তবে মুসার ছবি দেখে আমার মনে হয়েছে, মানুষটার মুখের ইয়া বড় যে আঁচিলটা আছে, ডায়ানা সম্ভবত এটার জন্যই পাগল ছিলেন। মহিলাগণ পাগল হলে আঁচিল তার কি কাজে লাগে এটা অবশ্য আমি জানি না। তবে আজিজ নামে আমার যে বন্ধু আছে তার ড্রাইভারের সৌন্দর্যের কাছে মুসা মিয়া নস্যি।)...।"

এই মানুষটা প্রথম আলোচনায় আসেন ৯৪ সালে যখন ব্রিটেনের লেবার পার্টিকে পাঁচ মিলিয়ন পাউন্ড চাঁদা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। লেবার পার্টি অবশ্য মুসার এই চাঁদা গ্রহন করেনি, সঙ্গত কারণেই। লেবার পার্টির ডেভিড ব্ল্যাংকেট বলেছিলেন, "...বাংলাদেশে এমন অনেক প্রকল্প আছে যেখানে প্রচুর টাকা প্রয়োজন। ডঃ শমসের ওখানে টাকা বিনোয়োগ করলে বাংলাদেশের দুর্গত মানুষের উপকার হবে"।
ওহো, বলতে ভুলে গিয়েছিলাম এই মানুষটা একজন ডক্টর খেতাবধারী। কোন বিষয়ে তিনি ডক্টরেট করেছেন এটা আমার জানা নাই। আমাদের দেশে অবশ্য বিচিত্র কিছু মানুষের এই উপাধি আছে। এদের মধ্যে এটিএন বাংলার চেয়ারম্যানও একজন! তিনি কি বিষয়ে এই জিনিসটা বাগিয়েছেন এটাও আমার জানা নাই।
মুসা আরেকবার আলোচনায় আসেন যেবার বিটিভিতে মুসার জুতা দেখানো হয়েছিল, যে জুতায় হিরা বসানো ছিল। আমি সেই অভাগাদের একজন যাকে বিটিভিতে মুসার জুতা দেখতে হয়েছিল। নিজের কপালে নিজেই জুতাঘাত করার পর এক লেখায় আমি লিখেছিলাম, বিটিভি কি আমার ছেঁড়া চটি দেখাবে? এই জন্য যা টাকা লাগে দেব। প্রয়োজনে আত্মা বন্ধক রেখে টাকা যোগাড় করব...। 

তো, এখন পর্যন্ত মুসা এই দেশের দুর্গত মানুষদের জন্য কিছু করেছেন এমনটাও আমরা জানি না। তিনি শীতার্ত মানুষকে একটা কম্বলও দিয়েছেন এতেও আমার ঘোর সন্দেহ আছে। মানবজমিন (২০ ডিসেম্বর ২০১০) জানাচ্ছে, "মুসার নাকি সুইস ব্যাংকে ৫১ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে। তিনি এই টাকাটা ফিরে পাওয়ার জন্য লাফালাফি-দৌড়াদৌড়ি করছেন। এখন তিনি চাচ্ছেন এই টাকাটা পেলে এই দেশের কল্যাণে খরচ করবেন। এখানে সাক্ষাৎকারে মুসার কেবল একটাই আবদার, সরকারের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে 'সেভেন স্টার ফ্যামেলি' আখ্যা দেয়া হোক।"
ওহে, আর্মস ডিলার মুসা, আপনি এই দেশে এই টাকা খরচ করলে সেভেন স্টার কোন ছার আমরা আপনাকে ১৬ কোটি স্টার আখ্যা দেব। সয়্যার অন ইয়োরস...    

Thursday, January 6, 2011

প্রকৃতির শোধ

আগে একটা লেখায় লিখেছিলাম, প্রকৃতি কখন ফেলে দেবে তা দেখার অপেক্ষায়...[১]। অস্ট্রেলিয়া যখন সাড়ে ছয় লক্ষ উট গুলি করে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আমি একটা ধাক্কার মত খেয়েছিলাম। কোন কারণে উটের সংখ্যা অতিরিক্ত হয়ে গিয়েছিল এই সংখ্যা কমানো হবে এটা বিচিত্র কিছু না কিন্তু এরা অন্য রকম একটা রাস্তা বেছে নিয়েছিল। এবং গোটা আয়োজনটার পেছনে এক ধরনের হিংস্রতা, দম্ভের গন্ধ ছড়াচ্ছিল।

অস্ট্রেলিয়া নামের দেশটির জনসংখ্যা মাত্র সোয়া দুই কোটি অথচ এই দেশটিতে বাংলাদেশের মত ১৩৮টি দেশ অনায়াসে জায়গা করে নিতে পারবে! এদের জায়গার এবং খাবারের অভাব নেই। অভাব নেই প্রোটিনের। এরা একেকটি উটকে দেখছে একটা সংখ্যা কিন্তু আমাদের কাছে এরা চলমান প্রোটিনের ভান্ড। এরা এই উটগুলো এভাবে মারার সিদ্ধান্ত না-নিয়ে যেটা করতে পারত কেবল এটা বলে দিয়ে গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানো, আমাদের পোতাশ্রয় থেকে যার যতটা খুশি উট নিয়ে যাও। আমার ধারণা, কাড়াকাড়ি পড়ে যেত। উপকৃত দেশটা বাংলাদেশ, না কঙ্গো তাতে কি আসে যায়? কিন্তু এই সব দাম্ভিক দেশগুলো তা করবে না। এরা কখনই এটা বুঝতে চায় না দরিদ্র দেশগুলোর মানুষরাও এই প্রকৃতিরই সন্তান।

প্রকৃতির প্রতি আমরা অন্যায় করি ক্ষিধার জ্বালায় আর এরা করে অতিরিক্তি লোভের জন্য। এরা এটাও বুঝতে চায় না থুথু যেখানেই ফেলুক এর ছিটা গায়ে লাগবেই। আমাদেরকে প্রোটিন, খাবার না-দিলে আমরা গাছ খাব, সমস্ত গাছ খেয়ে শেষ করে ফেলব। ফল যা হওয়ার তাই হবে। এমন বন্যা এরা দেখেনি, ইউরোপ এমন তুষারপাত দেখেনি। এত দিন করসো [২] আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে রসিকতা করেছে, মানবিক কবিতা লিখেছে। গুণ দাদা ভুলে যান আমাদেরকে ভুলিয়ে দেন কিন্তু প্রকৃতি বিস্মৃত হয় না।
প্রকৃতি ঠিকই এর শোধ নেয়- তার এবং তার সন্তানদের উপর অন্যায়ের কারণে। কাল আমরা বন্যায় ভেসেছি আজ অস্ট্রেলিয়া ভাসছে, আগামীকাল আমেরিকা ভাসবে।

ব্রিসবেনের আবহাওয়াবিদ বলেছেন, "...এতো পানি আমরা জীবনেও দেখিনি"। চারদিকে কেবল পানি আর পানি! লোকজনরা নৌকা নিয়ে ছুটাছুটি করছে। অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ বিমানবন্দর-রেল-সড়ক যোগাযোগ বন্ধ। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের চমৎকার প্রয়োগের কারণে আমাদের মত গন্ডায় গন্ডায় লোক হয়তো এদের মরবে না কিন্তু প্রকৃতি এদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এরপরও এদের চোখ না খুললে একদিন ঠিক টের পাবে চোখটাই নেই।

সহায়ক লিংক:
১. সভ্যতা...: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_9297.html
২. করসো: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_7854.html 

Tuesday, January 4, 2011

নাটুকেপনা!

এবারের বছরের শেষ দিনটা কেটেছে আমার খানিকটা অন্য রকম। বছরের প্রথম দিনটা উদযাপন করার জন্য তেমন তাড়না আমার কখনও ছিল না কারণ ঘটা করে উদযাপন করলেই বছরটা চমৎকার কাটবে এমনটা ভাবার অবকাশ নাই। তারপরও...। অদেখা বাক্সে লুকিয়ে থাকা খানিকটা আশা, এই আশা নামের অফুরন্ত শ্বাস আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখে। তার জন্য খানিকটা নাচানাচি-লাফালাফি করলে দোষ কোথায়!

তো, আমার কিছু বন্ধু-বান্ধব বিপুল আয়োজন করে রেখেছিলেন বছরটাকে উদযাপন করার জন্য, ওখানে আমার থাকাটা নাকি আবশ্যক। বাহ, কবে থেকে আমার মত লুক (!)-এর থাকাটা জরুরি হলো? ওই আয়োজনে কী আছে এটা জিজ্ঞেস না-করে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে কী নেই!
বিশ্বব্যাপি কারা কারা কি চেয়েছে কে জানে কিন্তু আমি চেয়েছি এ বছরটা যেন গত বছরের মতই হয়। গত বছরটায় আমার জাগতিক অনেক বেদনার মুখোমুখি হলেও আমি আমার পছন্দের জীবন যাপন করতে পেরেছি। তিনটা স্কুলের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া ব্যতীত এমন অনেক কাজ করতে পেরেছি যা আমাকে সীমাহীন আনন্দ দিয়েছে। আমার ভাষায়, এমন আনন্দ ইয়ে ব্যতীত কোথায়!
এবারে আমার এমন বছর উদযাপনের ভঙ্গি দেখে অনেকে তীর্যক ভঙ্গিতে তাকাবেন, কেউ কেউ হয়তো জ্বালাময়ী বক্তৃতাও ঝেড়ে দিতে পারেন। শীতে যেখানে সবাই জবুথুবু আর ওই দেখো ওই ব্যাটা উড়ায় ফানুস!

আমিও ভাবি, তাই তো! এই দেশে কত্তো কত্তো দরদী, এদের দেখে মাথা নুয়ে আসে। আহারে-আহারে! নাটকের একটা দলের কথা বলি। এরা নতুন বছর উদযাপন করছেন এমন করে, ঠিক ১২টা ১ মিনিটে এরা শীতবস্ত্র বিতরণ করবেন। বেশ-বেশ, ভাল-ভাল! এবং ওখানে নাকি একটা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রধান, খুব চালবাজ একজন মানুষও থাকবেন। এই সব মানুষদের আবার লেজ খুব লম্বা থাকে সেই লেজের শেষ মাথায় বাঁধা থাকে একটা ক্যামেরা। শুনতে পাই এদের বাথরুম করার সময়ও নাকি ক্যামেরা চালু থাকে।
তো, এদেরকে একজনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ওই লোক আপনাদের সঙ্গে থাকলে তিনি কি বাড়তি উত্তাপ দেবেন? এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু তিনি দেননি।

যাই হোক, এদের এই উদ্যোগ আমার কাছে মন্দ লাগেনি কিন্তু বিস্তারিত জেনে আমি হতভম্ব হয়ে ভম্বহত (!) হওয়ার দশা। এরা মধ্য রাতে শীতবস্ত্র বিতরণ করবেন। হয়তো টিভি ক্যামেরাও অনুসরণ করবে সেটাও বিষয় না। বিষয়টা হচ্ছে, এদের সবার মুখ নাকি ঢাকা থাকবে, মানে এরা মুখোশ পরা থাকবেন। দস্যু বনহুর টাইপ আর কী! আমি এই প্রশ্ন করতে চাই না ম-য়ে ম একাকার হলে সমস্যা কোথায়? সমস্যা নেই কারণ মাথার ভেতর যে জিনিস থাকে এবং পেটের ভেতর, দুইটার আদ্য অক্ষরই 'ম'!
তবে আমি যে প্রশ্ন করতে চাই সেটা হচ্ছে, নিশুতি রাতে হঠাৎ করে এমন মুখোশপরা ইয়া ধামড়া ধামড়া এই সব লোকদের দেখে নিরন্ন মানুষদের দুর্বল শিশুরা ভয়ের চোটে যদি আর শ্বাস না-নেয় তাহলে এর দায় কে নেবে? নাকি এই সব নটরা নাটুকেপনার চুড়ান্ত করে মৃত শিশুকে সামনে নিয়ে নতুন একটা নাটক লিখবেন?

(আমার লিখিত অনুমতি ব্যতীত ছবি, কোন লেখা বা লেখার অংশবিশেষও কোথাও ছাপানো যাবে না।)

Sunday, January 2, 2011

স্বপ্ন দেখি, দেশের শিশুগুলো অপুষ্ট না...

ফুলের সৌন্দর্য আমাকে আকর্ষণ করে না এমনটা বলছি না বা ফুলের পাপড়ি কি কচকচ করে খাওয়া যায় এই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়ার গোপন কোন ইচ্ছাও আমার নাই। এরিকা পাম টাইপের গাছগুলোয় ফুল হয় না সত্য কিন্তু এগুলোরও আলাদা সৌন্দর্য আছে। চোখের আরাম! এটা খুব জরুরি একটা বিষয়! আজকাল চোখের আরাম দেয় এমন বিষয়গুলো ক্রমশ কমে আসছে।

রাস্তার পাশে ফুলের গাছ লাগানো হবে এই নিয়ে আমার কোন বক্তব্য নাই কিন্তু আমার অবাক লাগে কেন আমরা ফলের গাছ লাগাই না! আমাদের এই প্রবণতাটা কবে থেকে কমে গেল? এই কু-তর্কে যাব না কেন বাড়িতে ধনী লোকজন ফুলের গাছের পাশাপাশি ফলের গাছ লাগান না। এটা এদের জন্য ঝুকিপূর্ণ কারণ এই সব নব্য ধনীরা কোন অবস্থাতেই স্বীকার করেন না বা কোন সূত্র ফেলে রাখেন না যাতে করে এটা স্পষ্ট হয় তিনি বা তার বাবার কৃষিকাজের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল। এটা আরেকটা ঢং হয়েছে, কারও খানিকটা পয়সা হলেই তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেন তার গা থেকে মাটির গন্ধটা মুছে ফেলতে। শীতে আমি গোসল শেষে গায়ে সরষে তেল মাখি এটা বলার পর অনেককে দেখি ছোট করে তাকাতে। আবে শ্লা, আমি কি একটা শুঁয়োপোকা?

আমার বৈঠকখানায় অনেক হাবিজাবির জিনিসের সঙ্গে আস্ত একটা লাঙ্গল আছে। এটা নিয়ে অনেকের প্রশ্নের শেষ নেই, মাথাব্যথারও অন্ত নেই। অনেকে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আমার যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করেন! এবং এটাও আমাকে মনে করিয়ে দিতে ছাড়েন না লাঙ্গল চালাবার জন্য তেমন কোন জমি আমার নাই, তাহলে লাঙ্গল কেন, বাওয়া? এই সব নির্বোধরা কেন বুঝতে চান না, এই লাঙ্গলই সমস্ত কিছুর উৎস! আমরা এই গ্রহে নির্বাসিত হলাম যে খাবারের জন্য, যে খাবারের জন্য মা তার সন্তানকে বিক্রি করে দেয় সেই খাবারের সংস্থান হয় এই লাঙ্গল দিয়ে। এদের এটা আর বলা হয়ে উঠে না, এবার চুভাইরা ঠান্ডা মাথায় ভাবুক দিকি আমি কী লাঙ্গল ঝুলিয়ে রাখব, নাকি এদেরকে!

যাই হোক, রাস্তার পাশে প্রচুর জায়গা পড়ে থাকে নানা পদের গাছ লাগাতে দেখি কিন্তু ফলের গাছের হদিস নাই! অন্তত রাস্তার পাশে ফলের গাছ না-লাগাবার পেছনে যেসব কঠিন যুক্তি শুনি তা হচ্ছে, আরে, চোরার যন্ত্রণায় এই ফল থাকব? কী আশ্চর্য, খাক না, নিক না চোর- এই চোরদেরও তো খেতে হয়। হোক না তার খাদ্য সমস্যার সমাধান। চোর খেল নাকি কাক তাতে সমস্যা কোথায়? এর বাইরেও অনেক মানুষের পেটে এটা যাবে, লিকলিকে যেসব বাচ্চারা ক্ষুধার্ত ঘুরে বেড়ায় এরাও তো খেতে পারবে।
আফসোস, অন্তত ওই ভিক্ষুকের মত আমরা হতে পারব না। যে ভিক্ষুক কেবল ভিক্ষা করে করে রাস্তার পাশে হাজার হাজার তাল গাছ লাগিয়েছিলেন! এই মানুষটাকে আমরা মাথায় করে রাখতে পারলাম না, ক-দিন আগে মানুষটা মরেই গেলেন। আফসোস, অভাগা জাতি, এই দেশে কত তুচ্ছ মানুষকে নিয়ে হইচই হয়, পুরস্কার দিয়ে নর্তন-কুর্দন করে লোকজনের জিব বেরিয়ে যায়, সরকারি লোকজনের অন্তর্বাস খুলে খুলে পড়ে অথচ এই বুড়ার কথা মনে ছিল না!
স্টেশন চত্বরে এই দৃশ্যটা দেখে থমকে দাঁড়ালাম। কলাগাছের মত এই বাহারি গাছটার নাম আমি জানি না, এটায় অবশ্য কোন ফল ধরে না; সৌন্দর্যের জন্য লোকজন অনেক দাম দিয়ে লাগায়। কিন্তু এর ঠিক গা ঘেঁষে দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে একটা পেপে গাছ। দেখো দিকি কান্ড, গাছভরা আবার পেপেও! আমার কেন যেন মনে হচ্ছে অনেক দিন এমন চমৎকার দৃশ্য দেখি না।
আমি এমন দৃশ্য দেখারও স্বপ্ন দেখি, এই দেশের রাস্তার পাশে পাশে পেপে-টেপে গাছ, বিভিন্ন ফলের গাছ দিয়ে ছেয়ে আছে। প্রত্যেকটা গাছ ফলের ভারে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম। এবং এই দেশের শিশুগুলো অপুষ্টিতে ভোগা না...।