Friday, December 30, 2011

বার্তাকু ওরফে বেগুন!

­'নষ্ট শিক্ষক নষ্ট লেখক' [১] নামে একটা লেখা আছে আমার। ইমদাদুল হকের একটা লেখা নিয়ে প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে লেখাটা লিখেছিলাম। মিলনদের মত এই সব লেখকরা সম্ভবত এটা বিস্মৃত হয়ে যান, যে তিনি চটি লেখক না, একটা জাতীয় দৈনিকে মন্তব্য প্রতিবেদন লিখছেন। আবার ওই দৈনিকের সম্পাদকের দন্ডটাও যে ওঁর হাতেই! এও বিস্মৃত হন, আমরা পাঠকেরা ফ্লাওয়ার-ভাসে মস্তিষ্ক জমা রেখে এঁদের লেখা পড়তে বসি না! এই সব মানুষদের প্রতি আমার করুণা হয় যারা পাঠককে

Wednesday, December 28, 2011

হাসপাতাল পর্ব, এগারো: ' পেপার-বিছানা '

­আমি মানুষটা ছোট কিন্তু আমার স্বপ্নগুলো বড়ো বড়ো। স্বপ্ন আকাশসম হবেই না কেন? এই বিষয়ে আমার বক্তব্য হচ্ছে, স্বপ্নেই যখন খাব তখন ডাল-ভাত খাব কেন, তিমি মাছের ঝোলই খাই!
সাধ্য থাকলে, সম্ভব হলে কমলাপুর স্টেশনের ধারে-কাছে কোথাও একটা ডর্ম টাইপের খুলতাম। যেখানে বিনামূল্যে লোকজনেরা নিশিযাপন করতে পারতেন। সবাই কিন্তু না। কেবল যারা দূরদূরান্তর থেকে ঢাকায় এসেছেন চাকুরির ইন্টারভিউ দেয়ার জন্য। যারা অসামর্থ্য, যে দুয়েক দিন ঢাকায় থাকবেন তাঁরাই কেবল

Monday, December 26, 2011

হাসপাতাল পর্ব, দশ: হাসপাতাল মহাপরিচালক, যথাযথ সম্মানপূর্বক

আমি বারবার যেটা বলে আসছি, 'ন্যাশনাল' এই হাসপাতালে কি কি সুবিধা আছে এটা না-বলে জিজ্ঞেস করা প্রয়োজন কী নেই? অত্যাধুনিক একটা হাসপাতালের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা এখানে আছে। কিন্তু...।
আফসোস, নেই কেবল দেখভাল করার লোকজন। ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই। স্ট্রেচার আছে কিন্তু এই স্ট্রেচারের নমুনা দেখলে মনে হয় এই হাসপাতালের পরিচালকের বাপ-দাদা যখন এই হাসপাতাল চালাতেন তখন থেকে এখন পর্যন্ত এর কোনো যত্ম নেয়া হয়নি! অথচ এই স্ট্রেচারগুলোর মোটা চটের কাপড় পাল্টাতে বা রঙ করতে ক-টাকা লাগে?

Friday, December 23, 2011

তিতাস একটি ...এর নাম

শিরোনামটা আমি দিতে চেয়েছিলাম, 'তিতাস এক ধর্ষিতার নাম'। রগরগে একটা শব্দ বেছে নিয়েছি বলে কেউ কেউ কটাক্ষ করবেন কেবল এই কারণে শিরোনামটা দিলাম না, এমনটা না। কারও ভাবাভাবিতে আমার বয়েই গেছে!
কিছু কিছু শব্দ আমি এড়িয়ে চলি যেমন ধর্ষণ, ধর্ষিতা। বহুলব্যবহৃত এই শব্দটা ব্যবহারে আমার বিশেষ উৎসাহ নাই। কারণ আমি বিলক্ষণ জানি, অন্য রকম করে লিখলেও একজন প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকের এটা বুঝতে বাকী থাকে না। তাছাড়া আমি সৈয়দ হক,

Monday, December 12, 2011

হাসপাতাল পর্ব, নয়: দৈন্যতা

পরের দিন সকালে যে নার্স এসেছেন তিনি মা-মা টাইপের! অসম্ভব মায়া মানুষটার মনে। এই হাসপাতালে আমি কিছু-কিছু মানুষ পেয়েছি যাদের দেখে আমার বুকের গভীর থেকে যে অনুভূতিটা বেরিয়ে আসত, এঁরা এতো ভাল কেন! কোন কারণে আজ পোস্ট অপারেটিভের অন্য রোগিরা অন্যত্র চলে গেছেন। আছেন কেবল আমার মা।
নার্স ভদ্রমহিলা লজ্জিত গলায় বললেন, অটিতে কেউ নেই আমাকে একটু যেতে হবে। আপনি কি আপনার মার কাছে একটু থাকতে পারবেন?
আমি মনের আনন্দ গোপন করে বললাম, কোনো সমস্যা নাই। আহা, কী মজা, কেবল আমরা আমরাই।

বাইরে ঝকঝকে রোদ।

Saturday, December 10, 2011

হাসপাতাল পর্ব, আট: মাখন

আমার মাকে অপারেশনের পর পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। এনেসথেসিয়ার প্রভাবে তাঁর দীর্ঘ সময় ঘোরে থাকার কথা। কিন্তু আধ-ঘন্টার মধ্যেই তিনি তীব্র ছটফট শুরু করলেন। এতোটাই তীব্র যে অক্সিজেন মাস্ক, অসংখ্য নল সব খুলে ফেলে দেন, এমন।
আমার ধারণা ভুলও হতে পারে। এনেসথেটিস্ট ভদ্রলোক সম্ভবত বাড়তি ঝুঁকি নিতে চাননি, তাছাড়া ঝাড়া চার ঘন্টা অপারেশন চলেছে, অনেকটা সময় এখানেই চলে গেছে।

আমার বোন প্রাণপণ শক্তিতেও ধরে রাখতে পারছে না।

Tuesday, December 6, 2011

হাসপাতাল পর্ব, সাত: সম্ভাব্য খুনি!

অপারেশন সফল হয়েছে। যে রোগীর ওটিতেই মৃত্যুবরণ করার কথা সেই রোগী ফিরে এসেছে বেঁচেবর্তে এর চেয়ে মিরাকল, আনন্দের আর কী হতে পারে। আমাদের সবার চোখেই বিস্ময় থইথই করছিল।

কিন্তু, একটা কিন্তু আমাকে ভাবাচ্ছিল। একটা টিউমার...!

Monday, December 5, 2011

হাসপাতাল পর্ব, ছয়: রক্তের দাগ

জরুরি একটা বিষয় ভুলে গেছি। অপারেশনের জন্য রক্ত প্রয়োজন। আমার মার রক্তের গ্রুপ হচ্ছে 'বি পজেটিভ'।
আমি দিতে পারব না কারণ আমার 'এবি পজেটিভ।' বাঁচোয়া, আমার বোনের 'বি পজেটিভ'। কিন্তু আরও রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। আবার কোথায় কোথায় গিয়ে রক্ত খুঁজব। এখানেও মিরাকল। সিনেমার মত অনেকটা। সাদিক বাংলায় যা বলল বলিউডের ভাষায় অনুবাদ করলে দাঁড়াবে,

Saturday, December 3, 2011

হাসপাতাল পর্ব, পাঁচ: অপেক্ষা!

আমার বড় ঘুম পাচ্ছিল। তীব্র দুশ্চিন্তা এখন আর তেমন কাবু করতে পারছে না। এদের হাতে দায়িত্ব দিয়ে আমি হাত-পা ঝাড়া!
ঈদের ছুটি তখনও শেষ হয়নি। ঢাকার রাস্তা-ঘাট ফাঁকা-ফাঁকা। কুৎসিত ঢাকার মধ্যে এখন একটা আদর্শ শহর-শহর ভাব চলে এসেছে। একটা শহরেরও হয়তো আনন্দিত হওয়ার প্রয়োজন পড়ে- অনুমান করতে দোষ কোথায় ঢাকা এখন সুতীব্র আনন্দে ভাসছে। এ সত্য, ঢাকা শহর বুঝে গেছে এ ক্ষণিকের আনন্দ, তার সন্তানেরা তাকে আনন্দে থাকতে দেবে না। আবারও যেই কে সেই- স্বভাব যায় না মলে ইল্লত যায় না ধুলে।

ন্যাশনাল হাসপাতালে যখন পৌঁছলাম

Thursday, December 1, 2011

হাসপাতাল পর্ব, চার: ভারহীন

আমি সাদিকের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, সাদিক মোঃ আলম। আমি ঢাকা এসেছি এটা কাউকে জানাইনি, জানিয়েছিলাম কেবল সাদিককে। কারণ সাদিকের সঙ্গে আমার জরুরি প্রয়োজন ছিল। আমি সাদিকের কাছে কিছু টাকা পাই। এটা ঈদের পর আমাকে পাঠিয়ে দেয়ার কথা কিন্তু এটা এখন আমার জরুরি ভিক্তিতে প্রয়োজন, এখানেই, চিকিৎসার জন্য।

সাদিকের কাছে টাকা পাওয়ার গল্পটা বলি।

Wednesday, November 30, 2011

হাসপাতাল পর্ব: তিন

ডাঃ তৌহিদুল আলমের সঙ্গে আমার আলাপ, কথাবার্তা নিম্নরূপ:
ডাক্তার: ওয়েল, রেডি থাকেন, কালকে পেটটা কেটে ফেলি।
আমি: (অদম্য রাগ সামলে): উম-ম, কালকে-কালকে। আচ্ছা। তা খরচ-টরচ কেমন পড়বে?
ডাক্তার: খরচ বেশি না।
আমি: আমি তো ঢাকায় থাকি না, বিস্তারিত জেনে টাকাটা যোগাড় তো করতে হবে।
ডাক্তার: আমি নেব ত্রিশ। ওটি এবং ওষুধ আলাদা।
আমি: ওটির খরচ কত?

Monday, November 28, 2011

হাসপাতাল পর্ব: দুই

ঈদের পর পরই যানজটের হ্যাপা থাকার কথা না তবুও আমি ঝুঁকি নিলাম না। ভোর পাঁচটায় রওয়ানা হলাম। অ্যামবুলেন্স ঝড়ের গতিতে ছুটছে। ছোটবোনটা মার হাত ধরে বসে আছে। আমি ইচ্ছা করেই সামনে বসেছি। মার মুখটা কী পান্ডুর। তবুও কী তীব্র তাঁর চোখের দৃষ্টি! এই দৃষ্টি পড়ার ক্ষমতা আছে কেবল নিজ সন্তানের। পারতপক্ষে আমি মার চোখে চোখ পড়ুক এটা চাচ্ছিলাম না, আপ্রাণ চেষ্টায় এড়িয়ে যেতে চাচ্ছিলাম।

Sunday, November 27, 2011

হাসপাতাল পর্ব: এক

কোরবানী ঈদ নামের ত্যাগবাজির [১] রেশ তখনও শেষ হয়নি- রক্তের দাগগুলো ভাল করে শুকায়নি!। আমার মাথায় নেমে এলো ঘোর বিপদ! সমস্যাটা আমার মাকে নিয়ে।

আমার মার 'কলোনস্কপি' করেছিলেন গ্রীন রোডের ক্রিসেন্ট গ্যাস্ট্রোলিভার এন্ড জেনারেল হাসপাতালে, তৌহিদুল আলম নামের একজন 'পাকোয়াজ' ডাক্তার। যার নাম আমি দিয়েছিলাম গু-ডাক্তার [২]। তিনি মতামত দিয়েছিলেন, আলসার। "...Findings consistent with ulcerative colitis." (21 aug, 2011)


Sunday, October 23, 2011

'সন্তান উৎপাদন কারখানা' এটাও থাকুক প্রকাশ্যে

সৌদি আরবে আট বাংলাদেশির শিরোচ্ছেদে এই দেশের প্রচুর লোকজনকে নগ্ন উল্লাস করতে দেখা গেছে। সৌদি আরব বলে কথা- ওখান থেকে যে উট আসে সেই উটের পেশাব খাওয়ার লোকজনেরও লাইন পড়ে যায়। পত্রিকা আবার এটা ঘটা করে ছাপায়!
অবশ্য এ দেশের অধিকাংশ মানুষই শোকে-কষ্টে-বেদনায় তীব্র প্রতিবাদও জানিয়েছেন। বেদনায় নীল হয়েছেন।

Tuesday, September 27, 2011

জলেভাসা পদ্ম

­

Sunday, September 25, 2011

হালকা সবুজে মোড়ানো গণতন্ত্র

ছবি ঋণ: প্রথম আলো
­কেউ এমনটা বলতেই পারেন যে ছবিটা দেখে খুব বিচলিত হয়েছি এটা বলতে পারছি না কারণ

Saturday, September 24, 2011

ঘুম!


Sunday, September 18, 2011

বেচা-বিক্রি, ব্যবসা-বাণিজ্য...

­আজকের অতিথি লেখক, আবদুল মান্নান শামীম। যিনি শামীম নামেই সমধিক পরিচিত। আজকের অতিথি লেখক আবারও তিনি। তাঁর প্রোফাইলে লেখা তিনি "করপোরেট কামলা"। আমিও এক জায়গায় নিজের সম্বন্ধে লিখেছিলাম, স্বশিক্ষিত। স্বশিক্ষিত জিনিসটা রাজনীতিবিদরা হরদম লাগাচ্ছেন দেখে এই ডিগ্রিটা আমিও যোগ করেছিলাম কিন্তু প্রমাণ করার উপায় নেই।
কিন্তু শামীম নামের মানুষটা যিনি নিজেকে "করপোরেট কামলা" নামে দাবী করছেন তাঁর এই দাবীর প্রতি অন্তত আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। একজন করপোরেট ভুবনের মানুষই ভাল বুঝবেন ব্যবসাপাতি সম্বন্ধে। :)। নিজের চাঁদিতে নিজেই কিল মেরে বলি, ইউরেকা! "বিজিনেস ইজ বিজিনেস"। তাঁর কাছ থেকে ব্যবসার রহস্য আমিও জেনে গেছি!
তাঁর মুখ থেকেই আমরা শুনি: 

"ফুটপাথের এক কোনায় বসে থাকা পাগলটার গা বাঁচিয়ে সাবধানে বসলাম। মোটা এক ধরনের কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে থাকা ওর গা থেকে বেরুচ্ছে ক্যামন বিটকেলে এক গন্ধ। আজকাল আর শান্তিতে কোথাও বসার উপায় নাই!

Friday, September 16, 2011

Thursday, September 8, 2011

ছোট দেশের ছোট মানুষ!

এই ভিডিও ক্লিপিংসটা একটা সীমান্তের। বাংলাদেশ ভারত। আখাউড়া-আগরতলা। দু-দেশের পতাকা নামাবার সময় কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। এটা দেখার জন্য দু-দেশের লোকজনরা ভিড় করেন, এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

Wednesday, September 7, 2011

ওই আসে সুপারম্যান

­এই গ্রহের কোন পেশার প্রতি আমার আলাদা মোহ নাই। কিন্তু...। ডাক্তার, এই পেশাটার প্রতি আমার একধরনের ঈর্ষা কাজ করে। এটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে যখন মা এবং তাঁর অদেখা সন্তানদের [১] মুখোমুখি হই। তখন কেবল মনে হয়, আহা, 'গুছলেংটি' দিয়ে লেখাপড়া না-করে কী ভুলই না করলাম।
অবশ্য আমি এই জীবনে ডাক্তার হতে পারতুম কি পারতুম না এই কুতর্কে যাব না। কারণ ডাক্তার হওয়ার জন্য চলনসই একটা ব্রেন থাকাটা জরুরি। ইতিমধ্যে অনেকে জেনে গেছেন চলনসই দূরের কথা ব্রেন নামের জিনিসটাই আমার নাই! থাকলে

Monday, August 29, 2011

"ঈদি"

­ঈদ ফিরে ফিরে আসে কিন্তু বালকবেলার ঈদ আর ফিরে আসে না। সেই হারিয়ে যাওয়া ঈদের কতশত তুচ্ছ-তুচ্ছ আনন্দ!
সেসময় "ঈদি" নামের একটি জিনিসের জন্য তীর্থের কাকের ন্যায় অপেক্ষায় থাকতাম। শেষ "ঈদি" কবে পেয়েছি ভুলেই গেছি। তখন ঈদিতে পাঁচ-দশ-বিশ টাকা পাওয়া মানে রাজ্য জয় করার সমান। সেই টাকায় নিয়ম করে স্টুডিওতে ছবি তোলা এবং হলে গিয়ে বাংলা সিনেমা দেখা। ঈদি দিতে মুরুব্বিরা ভুলে গেলেও আমরা ভুলতাম না। একবার তো তাঁরা ভুলে যাওয়ায় রুমাল বিছিয়ে দেয়া হয়েছিল।
এটা একটা ইঙ্গিত। এই ভঙ্গিটা আমরা শিখেছিলাম এক জামাই বাবাজির কাছ থেকে। তিনি জনে জনে সালাম করছিলেন এবং রুমাল বিছিয়ে দিচ্ছিলেন। সবাই ওই রুমালে টাকা-পয়সা দিচ্ছিলেন।

Saturday, August 27, 2011

হ্যালো, গু-ডাক্তার!

(সতর্কীকরণ: অতি সূক্ষ রুচি যাদের, তাদের প্রতি অনুরোধ, লেখাটা না-পড়লেই ভালো করবেন।)

লেখাটা না-লিখে আমার উপায় নেই! গু শব্দটায় যাদের গা গুলায় তাঁরা গুয়ের স্থলে সু পড়ুন তাহলেই ঝামেলা মিটে যায়। :)

ঢাকা যাওয়ার কথা শুনলেই আমার ইয়ে বন্ধ হয়ে যায়! শেষ গিয়েছিলাম এবছর ফেব্রুয়ারিতে। বইমেলায় না, কারও আমন্ত্রণে। এখন আর বইমেলায় যাওয়ার কোন অর্থ নাই, বইমেলা এখন হয়ে গেছে এই দেশেরই এক বাস্তব নমুনা! বইমেলা না বলে বানিজ্যমেলা বললে ভাল হয়। শত-শত হলুদ কাপড়পরা

Friday, August 26, 2011

হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষ

এই মানুষটাকে পাওয়া গেছে। বেওয়ারীশ! গায়ে ময়লা, দামী জুতো ছেঁড়া। মানুষটা এদিক-ওদিক ঢলে পড়ছিলেন। জহিরুল ইসলাম সাগর, একজন সদাশয় মানুষ একটা রিকশায় তুলে দিয়েছিলেন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
আহা, এতো সোজা! হাসপাতালে এমন কাউকে নিয়ে গেলেই বুঝি সুড়সুড় করে ভর্তি হওয়া যায়? পুলিশি ঝামেলার কারণে বুদ্ধিমানরা গা বাঁচিয়ে চলেন।

Thursday, August 18, 2011

প্রতিভাবান (!)

সৈয়দ শামসুল হকের চিবিয়ে চিবিয়ে বলার ভঙ্গি রপ্ত করাটা চাট্টিখানি কথা না! তাই তাঁর এই বলার ভঙ্গির আমি ফিদা!
এ এক বিচিত্র! 'ভাষাকন্যা' উপাধিটা তাঁরই দেয়া। 'হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি' এই সব চর্বিতচর্বণ করেন তখন মানুষটার মোটেও ক্লান্তি লাগে না।

যাই হোক, ৯৩ সালে ভোরের কাগজে তিনি সিরিজ টাইপের কিছু কবিতা লিখেছিলেন।

Monday, August 15, 2011

কেন এভাবে যেতে হবে না?

সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ এবং মিশুক মুনীরের মৃত্যুর পর একটি জাতীয় দৈনিকে জটিল এই প্রশ্নটা ছুড়ে দেয়া হয়েছে, "এভাবে যেতে হবে কেন"?
যদি আমি পাল্টা প্রশ্ন করি, কেন এভাবে যেতে হবে না? গর্ত করে  রাখলে একেকজন একেক রকম করে গর্তে পড়ে নাকি?

Saturday, August 13, 2011

সাম্রাজ্য

­
আমেরিকার সাউথ ডাকোটার ছোট্ট একটি শহর, স্কেনিক। মাত্র ৪৬ একর! শহরটি যাত্রা শুরু করেছিল ১৯০৬ সালে! এন্টিক একটা শহর! ঐতিহ্যবাহী...।
এই শহরটি বিক্রি হবে। এই শহরে আছে একটি গ্যাস স্টেশন. একটি সেলুন (সামাজিক মেলামেশার স্থান), একটি জেলখানা, একটি স্টেশনারি শপ...।
এরা এদের নিজস্ব সাইটে বিস্তারিত জানাচ্ছে [১]:

Friday, August 12, 2011

একজন 'আফাধমসথক' রাষ্ট্রদূত

ঋণ: youtube,
­ডান পাশে বসা ভদ্রলোকের নাম হচ্ছে, নূরুল আলম চৌধুরী। তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। পত্রিকায় [১] এই রাষ্ট্রদূত সাহেবের অসাধারণ বক্তৃতা নিয়ে বিস্তারিত এসেছে।

Thursday, August 11, 2011

আমরা এখন একটা গলিত শব...

(সময় টিভির সৌজন্যে)

এই ঘটনা নিয়ে সবাই পুলিশের গুষ্ঠিশুদ্ধ উদ্ধার করছেন। না-না, পুলিশকে কোলে বসিয়ে ফিডার খাওয়ানো হোক এটা আমার বক্তব্য না। যারা যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের সবাইকে একজন মানুষকে খুন করার জন্য যে বিচার পাওনা হয় তার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সে পুলিশ হোক না-হোক তা নিয়েও কোন আলাদা বক্তব্য নাই।

বিষয়টা নিয়ে হইচই করার কিছু নাই।

Monday, August 8, 2011

এরাফ এবং...

­কয়েদী নামের একটা বই আছে আমার। গোটা বইটাই হরতাল নিয়ে। ওই বইয়ের একটা চরিত্র, একজন লেখক। সলাজে বলি, ওই লেখকের নাম আমি জানি না। নামের বদলে তিনি পরিচিত হয়েছেন এভাবে, 'তিনি একজন লেখক'...।

ওই লেখক একটা সমস্যায় পড়েন, ভয়াবহ সমস্যা। একজন লেখকের জন্যে এরচেয়ে গুরুতর সমস্যা আর হতে পারে না! লেখকের লেখা আটকে গেছে- তিনি লিখতে পারছেন না। কেন? কয়েদীতে [১] লেখা আছে এমন:
"লেখক একমনে লিখে যাচ্ছেন।

Friday, August 5, 2011

জিরো!

(এটা পুরনো লেখা। যারা পড়েছেন তাঁদের কাছে দুঃখ প্রকাশ। কেউ একজন লেখাটা খুঁজছেন বিধায় চর্বিতচর্বণ।)

ছোট বেলা থেকেই মানুষের স্বপ্ন থাকে বড় কিছু হওয়ার। আমার তেমন কোন স্বপ্ন ছিল না। কেন ছিল না এই নিয়ে এখন আর কারও সঙ্গে কস্তাকস্তি করতে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না! যোগ্যতা বা ক্যালিবার যে নামই বলা হউক না কেন ওই জিনিসটা আমার কস্মিনকালেও ছিল না, এখনও নাই। কী আর করা- বড়ই আফসোস, উপর থেকেই রিজেক্ট মাল এসেছে!

তখন এক কানে

Wednesday, August 3, 2011

একজন মুক্তিযোদ্ধা (!)

­তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধটা হয়েছিল ১৯৭১ সালে কিন্তু এটা জানা গেল ২০১১ সালে এসে! বছরের-পর-বছর চলে গেছে অথচ এটা কেউ জানত না? আহা, কেউ জানুক, না-জানুক ওই মানুষটার তো জানার কথা? তাহলে তিনি কেন জানতেন না যে তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা! আসলে বেচারাকে দোষ দিয়ে লাভ নাই। ঘটনাটা এমন:
আপনারা হিন্দি ছবিতে দেখে থাকবেন মাথায় আঘাতের বা রোড অ্যাকসিডেন্টের কারণে একজন স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে।

Wednesday, July 27, 2011

বাঁশে ভিউ-মিরর!

(এই লেখাটা পূর্বে পোস্ট করেছি কিনা মনে পড়ছে না। আজ বিশেষ একটা কারণে এই লেখাটা খুঁজছিলাম কিন্তু পাচ্ছিলাম না। পূর্বে কেউ লেখাটা পড়ে থাকলে দয়া করে শিরোনামটা দেখেই লম্বা দেবেন।)

এ দেশে কেমন কেমন করে একটা ধারণা জন্মে গেছে, যারা লেখালেখি করেন তারা কেবল বায়ু সেবনই পছন্দ করেন, একেকজন চলমান বায়ুভুক আর কী! অবশ্য ভাগ্যবান কেউ কেউ বুদ্ধিজীবী হয়ে যান, অন্যরা বায়ুজীবী।

আমি বায়ুসেবন করে আরাম পাই না এটা বলতে চাই না কারণ তাহলে আমাকে এমন এক জায়গায় চলে যেতে হবে যেখান থেকে আর ফেরা যায় না; ওখানে লেখালেখি করার অনুমতি আছে কিনা এমনটাও আমার জানা নাই!

Monday, July 25, 2011

শেখ সাদী, সেকাল-একাল!

­চকচকে কাপড়ই সমস্ত সুবিধার উৎস, এই নিয়ে শেখ সাদীর চমৎকার একটা ঘটনা আছে। বিস্তারিত বলে চর্বিতচর্বণ করি না। এটা একটা বাচ্চাও জানে।

আচ্ছা, শেখ সাদী ভদ্রলোক কী মারা গেছেন? জানি-জানি, এই উদ্ভট প্রশ্ন শুনে অনেকে এতো জোরে হাসছেন যে আমার কম্পিউটারের মনিটরের পর্দাও কেঁপে কেঁপে উঠছে! বাহ, এ কেমন উদ্ভট কথা!
আসলে আমার বক্তব্য অন্য, শেখ সাদীর মতো মানুষেরা কখনও মারা যান না, এঁরা অমর। আমার কথায়, কিছু মানুষ কখনও মরেন না এঁরা কেবল খোলস বদলান মাত্র! চকচকে কাপড় পরলে মর্যাদা পাওয়া যায়, সেই কবে শেখ সাদী এটা বলে পগার পার হয়েছেন অথচ

Sunday, July 17, 2011

প্রেস এডভাইস!

­­লেজে হোমো এরশাদ ক্ষমতায় ছিলেন ৩১৫৯ দিন! এ এক ইতিহাস! তার ক্ষমতায় থাকাকালীন বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রের 'এডভাইসের' নামে কন্ঠ রোধ করা হয়েছিল। অসংখ্য আবর্জনা থেকে অল্প কয়েকটা এখানে তুলে দিলাম। নমুনা: 

১৪ ফেব্রয়ারি, ১৯৮৩: আজ ঢাকা শহরে যে গুলি হত্যার ঘটনা ঘটেছে এই সম্বন্ধে কোন প্রকার খবর প্রকাশিত হবে না।

Saturday, July 16, 2011

শাবাশ, তানজিন বৃষ্টি!

­পত্রিকায় খবরটা ভেতরের পাতায় ছাপা হয়েছে। কালই 'কালের কন্ঠে' পড়েছিলাম। এই বাসি খবরটা আজ 'প্রথম আলোয়' পড়লাম। চব্বিশ ঘন্টা পর! তবুও ভাল প্রথম আলো খবরটা ছাপিয়েছে। অনেক প্রয়োজনীয় খবর অন্য পত্রিকায় ছাপা হলেও এই পত্রিকায় এর টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যায় না। আর এমনিতে এরা কবে বুঝবে বাসি জিনিস লোকজন পছন্দ করে না, এর স্থান হয় আবর্জনায়!

'ইতিহাদ' এয়ারলাইনসের যাত্রী তানজীন বৃষ্টিকে আবুধাবি বিমানবন্দরে হেনেস্তা করা হয়, দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তিনি এই নিয়ে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। অন্যদের সাথে ইতেহাদের কান্ট্রি ম্যানেজারকেও হাইকোর্টে তলব করা হয়েছে।

Monday, July 11, 2011

আমাদের একজন 'নীরিজা গুতরু'র বড়ো প্রয়োজন

­আমাদের দেশে উপরের নির্দেশ বলে একটা জিনিস আছে। ভয়াবহ একটা জিনিস! এর নিবাস ঠিক কোথায় এ সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান তমোময়- ভাসা ভাসা! এই দেশে উপরের নির্দেশ ব্যতীত কিচ্ছু হওয়ার যো নেই। গাছ, গাছের ছাল দূরের কথা, একটি পাতাও নড়বে না। আমি অনেকখানি ভয়ে ভয়ে, আছি কোন দিন না, বাথরুম যাওয়ার জন্যও উপরের নির্দেশের প্রয়োজন হয়। হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে! ছ্যা, প্যান্ট-ট্যান্ট নষ্ট করে বিতিকিচ্ছি এক অবস্থার সৃষ্টি হবে!

আমি কোথাও লিখেছিলাম: "আমাদের বিভাজন শুরু হয় জন্মের পর থেকেই। মানুষ না পশু? মানুষ হলে, ছেলে না মেয়ে? জাতপাত কি- হিন্দু, মুসলমান, খ্রীষ্টান? সর্বশেষে বিএনপি-আওয়ামীলীগ-জামাত-জাতীয়পার্টি...? দলটা অতি জরুরি! এই দেশে বসবাস করার জন্য

Saturday, July 9, 2011

নষ্ট শিক্ষক- নষ্ট লেখক!

ইমদাদুল হক মিলন কালের কন্ঠে মন্তব্য প্রতিবেদনে লিখেছেন, 'নষ্ট শিক্ষক' [১]। লেখাটা সময়োচিত-সময়োপযোগী, কাজের সময়ে কাজের একটা লেখা হয়েছে এই নিয়ে আমার কোনও অমত নাই কিন্তু এই লেখাটা পড়ছিলাম আর ভয়ে কাঠ হচ্ছিলাম, এই রে, মিলন সাহেব না হাত খুলে লিখে ফেলেন! এক জায়গায় তিনি লিখেছেন:
"­...অন্য ছাত্রীরা চলে যাওয়ার পর পরিমল দরজা বন্ধ করে দেন। মেয়েটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার মুখ বেঁধে ফেলেন। মেয়েটি হাত-পা ছোড়াছুড়ি শুরু করলে ওড়না দিয়ে তার দুহাত বেঁধে ফেলেন। গায়ের জামা-কাপড় খুলে তার ছবি তোলেন, তারপর চালান পাশবিক নির্যাতন...।"

আমার ধারণা, তিনি হাত খুলে লিখতেন

Thursday, July 7, 2011

বেচারা গণতন্ত্র!

ছবি সূত্র: প্রথম আলো ০৭.০৭.২০১১
­এই ছবিটা সাধারণ একটা ছবি না।

এটা দেখে কার কী ভাবনা উদয় হচ্ছে আমি জানি না কিন্তু আমার কেবল মনে হচ্ছে এখানে কেবল একজন মানুষ দৌড়ে পালাচ্ছেন না, পালাচ্ছে গণতন্ত্র! বেচারা গণতন্ত্র!

Wednesday, July 6, 2011

যদভবিষ্য

­মুক্তিযোদ্ধা, নৌ-কমান্ডো ফজলুল হক ভূঁইয়াকে নিয়ে কিছু লেখা লিখেছিলাম। এই অসমসাহসী মানুষটা তীব্র অসহায়ত্বে দিনযাপন করেন [১]। চেষ্টা করা হয়েছিল বিভিন্ন সময়ে এই আগুন-মানুষটাকে শিশুদের কাছে পরিচিত করিয়ে দেয়ার । আমরা যে অপরাধগুলো করেছি আমাদের পরের প্রজন্ম যেন ঠিক সেই অপরাধগুলো না করে সেই ক্ষুদ্র চেষ্টা [২]

এই মানুষটার একটা সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য জার্মানি থেকে হণ্যে হয়ে খোঁজা হচ্ছিল। সাক্ষাৎকারটা নেয়া হবে জার্মানি থেকে ফোন

Monday, July 4, 2011

শিক্ষা!

শফিক রেহমানের ভয়াবহ রকমের যে বাড়াবাড়িটা ছিল তা নিয়ে ইতিপূর্বে লিখেছিলাম, "সব কিছু নিয়ে কুৎসিত রসিকতা করা। ভিনসেন্ট পিউরিফিকেশনের নামে যা তা রসিকতা। একবার দিলেন এমন, মাস্তান নামের অসভ্যরা ইডেন কলেজের কিছু ছাত্রীর জামা ছিঁড়ে ফেলেছিল, ভেতরের অন্তর্বাস দেখা যাচ্ছিল। শফিক রেহমান এই ছবিটার পাশে বোম্বের ব্রা প্রদর্শনীর একটা ছবি দিয়ে কুৎসিত রসিকতা করার চেষ্টা করেন।"[১]

Sunday, July 3, 2011

অন্ধকার ছেয়ে ফেলে চারদিক

এই মানুষটার বিরুদ্ধে শত-শত মামলা করা হয়েছিল কিন্তু আমাদের দেশে মামলা হচ্ছে মাকড়সার জালের মত। ক্ষমতাবানরা চট করে ছিঁড়ে ফেলে কিন্তু দুর্বল আটকে থাকে আষ্টেপৃষ্ঠে। এরশাদ সাহেব যে শত-শত মামলা (কমিশন এরশাদের বিরুদ্ধে ৫৩৪টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ চিহ্নিত করেছিল। আরও ৮২৮টি অভিযোগ তদন্তাধীন ছিল। প্রতিটি অভিযোগের জন্যে আলাদা আলাদা মামলা দায়ের করা সম্ভব ছিল) মোকাবেলা করে দাঁত কেলিয়ে তিন তিনটে আসন থেকে দাপটের সঙ্গে নির্বাচিত হয়েছেন অথচ সাধারণ মানুষ এই শত শত মামলার কেবল একটা মামলাতেই হাবুডুবু খেতে খেতে প্রাণপাত করতেন!

এরশাদ সাহেব এমন কোন দিক নেই যেটা নষ্ট করেননি

Saturday, July 2, 2011

বাংলাদেশের ভ্যালেরি টেইলর হোক ‘সিএনএন হিরো’

­আজকের অতিথি আরাফাতুল ইসলাম। তিনি লিখেছেন ভ্যালেরি টেইলর নামের একজন মানুষকে নিয়ে। কোন ধরনের সম্মাননায় এই মানুষটার কিছুই যায় আসে না কিন্তু আমাদের দেশের জন্য এই সম্মাননা অতি জরুরি বলেই আমি মনে করি। আমরা খানিকটা চেষ্টা করলেই হয়ে যায়, এতে কোন সন্দেহ অন্তত আমার নাই। আরাফাতুল ইসলাম লিখেছেন:

"ভ্যালেরি টেইলরের কথা মনে করতে পারছেন? বাংলাদেশে বসবাসরত এই ইংরেজ ফিজিওথেরাপিস্ট ঢাকার সাভারে প্রতিষ্ঠা করেছেন সিআরপি। শারীরিকভাবে অক্ষমদের পরিপূর্ণ পুনর্বাসনের জন্য কাজ করে এই সংগঠন। গরীব, দুঃখীরা অনেক ব্যয়সাপেক্ষ চিকিৎসা এখানে পাচ্ছেন বিনা খরচায়, ভ্যালেরির জন্য। ভ্যালেরি এই কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন বিভিন্নভাবে। আসুন এবার তাঁকে আরেকটি স্বীকৃতি এনে দেই, সেটি শুধু তাঁর জন্য নয় বরং আমাদের নিজেদের জন্যও।

Thursday, June 30, 2011

সাদাকে কালো বলিব

আগেও এই বিষয় নিয়ে লিখেছিলাম, নাম ভুল লেখে, কেন? কান্ডটা আজও 'সকালের খবর' নামের দৈনিকটা করেছে!
এটা যে এবারই প্রথম হয়েছে এমন না, পত্রিকাওয়ালা ইচ্ছা করে এই কাজটা করে! ব্যাটারা এই সব ফাজলামি আর কত কাল যে করবে? এরা কলাম্বিয়ার গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, তুরস্কের ওরহান পামুক, ফিলিস্তিনের মাহমুদ দারবিশ, ইন্দোনেশিয়ার প্রমোদিয়া অনন্ত তোয়ের লিখতে পারে; কেবল পারে না আলী মাহমেদ লিখতে- মাহমেদ শব্দটা আহমেদ হয়ে যায়! তখন বেচারাদের কলমের নিব ভেঙ্গে যায়! বেচারা, আহা বেচারা!

এখন আর এই সব নিয়ে লিখতে

Wednesday, June 29, 2011

উঠে আসে অন্ধকার, অন্ধকার থেকে...

­আমি পূর্বে লিখেছিলাম, এ বড়ো বিচিত্র দেশ, ততোধিক বিচিত্র এ দেশের মানুষ! এরশাদ নামের শাসককবি কেবল কবিতা লিখেই ক্ষান্ত দেননি, এইবার তিন তিনটে আসন থেকে নির্বাচন করে তিনটাতেই বিজয়ী হয়েছেন, তাও একটা ঢাকা থেকে (ঢাকার ভোটারদের সালাম)। ঢাকার মানুষগুলো আবার নিজেদেরকে শিক্ষিত বলে দাবী করেন! এই দেশ গণতন্ত্রের জন্য আদর্শই বটে।

'সব হয়েছে নষ্ট, বেড়েছে কেবল কষ্ট'! বাকী ছিল সাহিত্য এটাও গেছে নষ্টদের অধিকারে। সাহিত্যক্ষেত্রের এই নষ্টের হোতা

Sunday, June 26, 2011

দেশপ্রেম মাপার ফিতা

­কখনও কখনও আলোর ছটায় ফকফকা জ্যোৎস্নাকে ম্রিয়মান মনে হয়! সাধারণ আমরা যখন অসাধারণের মুখোমুখি হই তখন কেমন আড়ষ্ট হয়ে যাই। কেবল জনান্তিকে বলি, আহারে-আহারে, ভাগ্যবান হলুম বটি!

তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির উদ্দেশে শেখ সেলিম সাহেব বলেন, "...আপনারা যা পারেন করুন গিয়ে

Saturday, June 25, 2011

রক্তাক্ত রেহনুমা, পঙ্গু মানবাধিকার

আজকের অতিথি লেখক আরাফাতুল ইসলাম। তিনি লিখেছেন:

"রেহনুমা আহমেদ এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের উপায় ই-মেল। আপা মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর, কর্মসূচি ই-মেলে জানান। সৌভাগ্যক্রমে সেই ই-মেইল তালিকায় আমার ঠিকানাটাও আছে। তাই, আপার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিয়মিতই যোগাযোগ আমার।

যথারীতি সেই ই-মেইলেই জানতে পারি

Thursday, June 23, 2011

গাঞ্জে ফেরেশতে

সরকারের কিছু কিছু বিষয় আমরা দেখেও না দেখার ভান করি। বিড়বিড় করে বলি, যাক, আচ্ছা যাক...। তেমনি একটা ঘটনা ছিল ভ্রাম্যমান আদালত। যিনি হরতালে, নাশকতা চালাবার সময় সন্ত্রাসীকে হাতে-নাতে ধরবেন, তৎক্ষণাৎ আইনের আওতায় শাস্তি দেবেন।

একজন হরতাল বলামাত্র গোটা দেশটার চাকা

Monday, June 20, 2011

ভালোবাসা এবং মৃত্যুর গল্প

আজকের অতিথি লেখক শওকত আলী। তিনি লিখেছেন:

"এটা কি, ফয়সল?
জেনী, দেখতেই তো পারছ, আবার জনতে চাচ্ছ কেন?
তুমি এরকম কুৎসিত নোংরা একটা কুকুর ছানা নিয়ে ঘরে ঢুকেছ কেন?
রাস্তার কয়েকটা ছেলে মিলে বাচ্চাটাকে গাছে ঝুলিয়ে ফাঁস

Sunday, June 19, 2011

ফিরে আসে বারবার!

­আমার সন্তানেরা তাদের হাতে বানানো জিনিসটা আমাকে ধরিয়ে দিলে আমি জানতে চাইলাম, বিষয় কী! এরা দাঁত বের করে জানান দেয়, আজ বাবা দিবস।

দিবস-টিবস নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষের আলোচনায় এখন আর যাই না কিন্তু এদের এই আচরণ দুম করে আমাকে অনেক ক-টা বছর পেছনে নিয়ে যায়! বিচিত্র এক কারণে বয়সটা আমার শৈশবেই থেমে থাকে। আচ্ছা, নিজের বাবার সঙ্গে

Saturday, June 18, 2011

জ্ঞানপাপী!

­অধ্যাপক রুমানা এবং হাসান সাইদকে নিয়ে দেশ উত্তাল। দেশের লোকজনের ভাব দেখে মনে হচ্ছে এই দেশে নারীর প্রতি এমন নৃশংস আচরণ এই প্রথম হলো! লোকজন চাচ্ছে তাই মিডিয়াও ঝাপিয়ে পড়েছে। ঘটা করে সিরিজ করছে।
রাহেলা বেচারির [১] জন্য দেখি কেউ এক লাইন কালি খরচ করছেন না- আচ্ছা, আমরা কেউ কি

Wednesday, June 15, 2011

চুইংগাম এবং আমার বোকা আব্বু

­আজকের অতিথি ফারাজানা আফরোজ। তিনি লিখেছেন ভিন্ন এক ভুবন নিয়ে। যে ভুবনটা আমাদের পুরুষদের কাছে ছায়া-ছায়া, তমোময়! এই ভুবনটা স্পষ্ট হতে হতে আমাদের চুলে পাক ধরে, মেঘে মেঘে বেলা বয়ে যায়। অথচ একটাই জীবন আমাদের এবং বড়ো স্বল্প এ জীবন! আহ, জীবন! সামান্য এই বিষয়টা বোঝার জন্য বাবা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাটা বোকামী, একধরনের অন্যায়! ফারজানা আফরোজ লিখছেন: 

"প্রথমদিকে বিয়ের পর বাবার বাড়ি যাওয়ার সৌভাগ্য আমার কমই হয়েছে। তখন আমাদের বাড়িতে যাওয়াটা খুব ঝক্কির ছিল। রিকশা-ট্রেন-বাস। দেখা গেছে, যেদিন গেছি সেদিন সন্ধ্যায়ই

Sunday, June 12, 2011

একটি ইটের টুকরো এবং একটি দেশের আত্মকাহিনী!

এটা জাঁক করে বলতে পারলে আমার চেয়ে কেউ সুখি হতো না, এই দেশের মত সোনার দেশ এই গ্রহে আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নাই! আফসোস, বাস্তবতা ভিন্ন। কেবল কিছু রঙিন চশমাপরা সাদা গোঁফের লেখক টাইপের লোকজনরা বড়ো আশাবাদী- এই দেশের লোকজনরাই দেখিয়ে দেবে ইত্যাদি। আশাবাদী হতো দোষ নেই কিন্তু দিনকে রাত মনে করে বালিতে মুখ গুঁজে থাকা কাজের কাজ না!

আমাদের এই অভাগা দেশটার কী করূণ দশা এটা

Saturday, June 11, 2011

ব্লগিং: নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো!

আজকের অতিথি আবারও শওকত আলী। অনেকে ব্লগিং করা নিয়ে আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে গুছিয়ে বলতে পারি না- কি হয় ব্লগিং করে, এই সব হেনতেন। এই বিষয়ে খানিকটা আলোকপাত করেছেন, শওকত আলী। তিনি লিখেছেন: 

"'কি করা হয়?'
-কিছু করা হয় না।
'এইটা কেমন কথা বললা? একজন ঝাড়ুদারও তো কিছু না কিছু করে! ঝাড়ু দিয়া আবর্জনা দূর করে।'
-আমি ব্লগিং করি।


'এইটা আবার কোন ধরনের ধান্দাবাজি?'
-আমি লিখি।
'কোন পত্রিকায়?'
-কোন পত্রিকায় না।

'তাহলে কি বাজারের ফর্দ লেখো?'
-নাহ, ওই যে বললাম। আমি ব্লগে লেখি।

Thursday, June 9, 2011

'মা মা' ডাক, নোবেল দিল হাঁক!

­বাদশাহ সোলেয়মান নাকি পশু-পাখির ভাষা বুঝতে পারতেন। ওঁর পরে অন্য আর কেউ পশু-পাখির ভাষা বুঝতে পেরেছেন এমনটা আমার জানা নাই।
তবে বাংগুরাদেশে বান্দরের ভাষা নিয়ে অনেকখানি গবেষণা হয়েছিল [১]। তখন অবশ্য অন্য কেউ খুব একটা সুবিধে করতে পারেনি! ওসময় জাপানি সাংবাদিক বান্দরকে বলেছিলেন, 'মুশি-মুশি'। তখন বান্দর বলেছিল, 'খিচ-খিচ'। কিন্তু বাংগুরাদেশের জ্ঞানী বিমানমন্ত্রী ঠিকই দুধের দুধ, পানির পানি আলাদা করে ফেলেছিলেন! তিনি ঠিকই বান্দরের সঙ্গে বান্দরের ভাষায় বাতচিত করেছিলেন এবং জটিল রহস্য উদঘাটন করে ফেলেছিলেন! কে জানে, এই আনন্দে হয়তো তিনি তুম-তানা-নানা করে খানিকটা 'ঘান'-ও গেয়ে ফেলেছিলেন! 

সম্প্রতি আবারও পাখির ভাষা নিয়ে জোর গবেষণার ফল পেকে টসটস করার উপক্রম। কে জানে, এই কারণে এবারও বাংলাদেশে আরেকটা 'নোভেল (!)' খসে পড়ল বলে। এবার অন্তত এই পুরস্কারটা নিয়ে হইচই হবে না। এই বার ইউনূস সাহেবের মত লোকজনরা সুবিধা করতে পারবেন না। একজন রাজনীতিবিদের নোবেল অন্যকে দিয়ে দেয়া বা আম গবেষককে না-দিয়ে জাম গবেষককে দিয়ে দেয়া এমনটা এই বার ঘটবে না, এটা নিশ্চিত।
ছবি সূত্র: কালের কন্ঠ, ৭ জুন ২০১
এই ছবিটার মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি শালিকছানা দুটি 'মা মা' বলে ডাকছে। মম-মাম্মি না-বলে খাস বাংলায় 'মা মা' ডাক, ভাবা যায়! আহারে, ঝানু সাংবাদিকদের কত দিক যে খেয়াল রাখতে হয়! আমি নিজেও পাখি-ছানার ছবি উঠিয়েছিলুম। কিন্তু আমার পাখির ছানাগুলো ছিল বদের বদ। এরা কেবল ছিল খাওয়ার ধান্ধায়...[২] 

তবুও কই, আমার সঙ্গে দেখি এরা বাংলায় বাতচিত করল না। কেন-কেন-কেন? এরা বাংলায় 'মা মা' ডাকও ডাকল না, আফসোস! অবশ্য ইংরাজি-রাশিয়ান-চায়নিজ অন্য কোন ভাষায় বলে থাকলে এটা আমি বুঝতে পারিনি। কারণ বাংলা ব্যতীত অন্য কোন ভাষা আমি জানি না। এই নিয়ে আমাকে কম হেনস্তা করা হয়নি! এই দোষে দুষ্ট আমাকে এরা পারলে শূলে চড়ান [৩]

ভাল-ভাল! শালিকছানা বাংলায় 'মা মা' ডাকে! এরা বাংলা পড়তে পারে কিনা জানি না! বাংলা পড়তে জানলে নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে এই পত্রিকায় নিজেদের সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে গেছে। পাশাপাশি এরা কী এও জেনে গেছে এই পত্রিকার সম্পাদক আবেদ খান স্যার?
বোধহয় [৪] নিয়ে আবেদ খানের সংশয় পরে এস্টাইলে [৫] পরিণত হয় কিন্তু নাহ, শালিকছানাদের আবেদ খান স্যারের পরিচিতি সম্বন্ধে সংশয় আছে বলে মনে হয় না...।

সহায়ক সূত্র:
১. বান্দরের ভাষায় বাতচিত: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_05.html
২. বদের বদ: http://chobiblog.blogspot.com/2011/04/blog-post_10.html
৩. শূলে চড়ানো...: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_9242.html
৪. 'বোধ হয়': http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_26.html
৫. এস্টাইল: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_27.html 

Wednesday, June 8, 2011

বাইসাইকেল

­কখনও-কখনও একটা সাইকেল কেবল সাইকেলই থাকে না, হয়ে উঠে অদেখা এক স্বপ্ন! সেই অদেখা স্বপ্ন, যে স্বপ্ন আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখে- নইলে কবেই আমরা মরে ভূত হয়ে যেতাম!
এমনই এক 'বাইসাইকেল' নামের বৃষ্টিতে ভেজা সোঁদা মাটির গন্ধ নিয়ে বলছেন আজকের অতিথি লেখক, আবদুল মান্নান শামীম। যিনি শামীম নামেই সমধিক পরিচিত:

"একটা সাইকেল আমার শৈশবের অনেক বড় আনন্দের উপাদান হয়ে ছিলো। সাইকেলে চড়তে শেখা, প্রথমে সাইকেল হাতে নিয়ে ছোটা, তারপর বাঁকা হয়ে মাঝখানের ফাঁকা দিয়ে পা ঢুকিয়ে অনেক কসরত করে চালানো কারণ সিটে বসে প্যাডালের নাগাল পেতাম না!

Tuesday, June 7, 2011

এই দেশে প্রতিভা বিক্রি হয় কেজি দরে

­আমাদের দেশে মনন-প্রতিভা বিক্রি হয় কেজি দরে! আমরা প্রতিভাবানদের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করি। মৃত্যু হলেই নড়েচড়ে বসি। তখন কাঁদতে কাঁদতে অন্তর্বাস ভিজিয়ে ফেলি।
আবদুর রহমান বয়াতি মৃত্যুর পূর্বে বিভিন্ন জটিল অসুখে ছটফট করতেন আর এই কথাটা বিড়বিড় করতেন, '...দেশে আর কেউ যেন নামের পূর্বে বয়াতি শব্দটা যোগ না করেন। তাহলে তাঁকেও আমার মত বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে হবে...'।

Monday, June 6, 2011

নিজেকে নিয়ে কথোপকথন

আজকের অতিথি অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী  মাহবুব সুমন। তাঁর ধারাবাহিক এই লেখার মাধ্যমে উঠে এসেছে, এই গ্রহের সবই পেশা, বড়-ছোট নেই। আছে কেবল সততা-অসততা...।

"বিয়ের জন্য প্রচুর টাকার দরকার ছিলো। সেমিস্টার ব্রেকের ২ মাসে সময়ও ছিলো অফুরন্ত। ল্যান্ডলেডি এক রেস্টুরেন্টের ঠিকানা দিলেন যেখানে গেলে কাজ পাওয়া যাবে। দুপুরে শেফের সাথে কথা বলে সন্ধ্যায় কাজে যোগ দিলাম। কাজ বলতে সেই গতানুগতিক কাজ। 'এল রেন্চ' যাকে আমরা সংক্ষেপে রেন্চ বলতাম, সেই রেস্টুরেন্টে দু মাস কাজ করেছিলাম। ওদের স্পেশালিটি ছিলো 'স্টেক'। দু-মাসে ওদের মেন্যুতে যত রকম স্টেক ছিলো তার স্বাদ গ্রহন করবার সৌভাগ্য হয়েছিলো। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে হয়তো অতো স্টেক খাওয়াই হতো না।

Saturday, June 4, 2011

বড়ো মাপের মানুষেরা কেন যে অহেতুক ছোট হতে চান!

আজকের অতিথি লেখক ডিউক জন, তিনি লিখেছেন, বড়ো মাপের মানুষদের অন্ধকার দিক নিয়ে:

"মুহম্মদ জাফর ইকবালকে বলা হয় এদেশের সাইন্সফিকশনের পুরোধা। তাঁর প্রথম কল্পবিজ্ঞানগ্রন্থ কপোট্রনিক সুখদুঃখের পেছনের গল্পটি জাঁক করে তিনি অনেক জায়গাতেই বলেছেন। আসুন, তাঁর মুখ থেকেই শুনি।
'প্রথম গল্পটি বিচিত্রায় প্রকাশিত হবার পর কেউ কেউ এটাকে বিদেশি গল্পের অনুকরণ বলে সন্দেহ প্রকাশ করে কাগজপত্রে লেখালেখি করেছিলেন। আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, অল্পতেই বিচলিত হয়ে যাই। বিদেশি গল্পের অনুকরণ না করেই সায়েন্স ফিকশান লেখা সম্ভব প্রমাণ করার জন্যে আমি তখন রেগেমেগে অন্য গল্পগুলি লিখেছিলাম'।

ছোট-ছোট ভাবনা

­ আজকের অতিথি যুক্তরাজ্য থেকে সায়ন
তিনি লিখেছেন অন্য রকম এক লেখা। আহমদ শরীফের ভাষায় 'ভাব-বুদ্বুদ'। আমি বলি, ছোট-ছোট ভাবনা। এমনিতে যার চালু নাম ফেসবুকের স্ট্যাটাস:

"১. চল্লিশ পেরিয়েই চালশে! ও স্বাধীনতা তুমি সত্যিই বুড়ো হয়ে গেলে?
মিরপুর স্টেডিয়ামে চাঁদ তারা খচিত পতাকা উড়ে, ললনার নরম কোমল গালে তার প্রতিচ্ছবি!


২. ২৫ শে মার্চ। আমার সুইডিশ বন্ধু বাংলায় সবচেয়ে বিশ্রী গালি শিখতে চেয়েছিল। আমি শিখিয়েছি: গোলাম আযম, সাকাচৌ, রাজাকার।

Monday, May 30, 2011

এন্টিকে রঙের প্রলেপ চড়াবার মত বোকামি আর নাই

­বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাইটে লেখা আছে:
­"... রুহুল আমিন নিয়োগ পান ‘পলাশের’ ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার হিসেবে। ৯ই ডিসেম্বর কোন বাধা ছাড়াই তারা হিরণ পয়েন্টে প্রবেশ করেন। পরদিন ১০ই ডিসেম্বর ভোর ৪টায় তারা মংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সকাল ৭টায় কোন বাধা ছাড়াই তারা মংলায় পৌছান। পেট্রোল ক্রাফট চিত্রাঙ্গদা মংলাতেই অবস্থান নেয় এবং পানভেল, পদ্মা ও পলাশ সামনে অগ্রসর হওয়া আরম্ভ করে। দুপুর ১২টায় তারা খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছাকাছি পৌঁছান। এমন সময় তাদের অনেক উপরে তিনটি জঙ্গি বিমান দেখা যায়। পদ্মা-পলাশ থেকে বিমানের উপর গুলিবর্ষণ করার অনুমতি চাইলে বহরের কমান্ডার বিমানগুলো ভারতীয় বলে জানান। ...

Saturday, May 28, 2011

মজিবর রহমানদের চলে যাওয়ার অপেক্ষায়

Gulzar Hossain Ujjal, চমৎকার একটি লেখা লিখেছিলেন, 'একজন আউটসাইডার, মজিবর রহমান দেবদাস [১]'।
আমি খানিকটা ভাবনায় ছিলাম এই লেখার পেছনে সূত্র নিয়ে। এর রেশ ধরে দেখা শুরু করলাম, 'কান পেতে রই'। একটি তথ্যচিত্রের মধ্যে যে মুনশিয়ানার ছাপ থাকা প্রয়োজন তার কোন অভাব এর মধ্যে ছিল না- অসাধারণ এক তথ্যচিত্র!
'কান পেতে রই' তথ্যচিত্রটা না-দেখলেই ভাল করতাম কারণ আমার বড়ো কষ্ট হচ্ছিল। কষ্ট হচ্ছিল এই কারণে আমরা যে কত বড়ো অসভ্য, বর্বর এটা নতুন করে জেনে। মানুষখেকো আফ্রিকান কোন এক উপজাতি যখন কাটা মুন্ডু নিয়ে উল্লাস করে তখন আমাদের চোখে সহ্য হয় না। ফালতু, এই সব কোন ছার! আমাদের নিজের কান্ড দেখে আমাদের নিজেরই সহ্য হয় না!

Thursday, May 26, 2011

একজন আউটসাইডার, মজিবর রহমান দেবদাস

­*মজিবর রহমানদের চলে যাওয়ার অপেক্ষায়...: http://www.ali-mahmed.com/2011/05/blog-post_28.html

আজকের অতিথি লেখক আবারও Gulzar Hossain Ujjal, তিনি লিখেছেন আমাদের অন্ধকার এক ভুবন নিয়ে। অথচ এই অন্ধকারের পেছনেই ছিল থইথই জ্যোৎস্না:

"পর্দায় দেখতে পাচ্ছি কাঁদছেন এই গল্পের কথকও। একটা ধাক্কার মত লাগলো যেন। আমি দুর্বল চিত্তের মানুষ। যা ভেবেছিলাম তাই হলো, আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। কান্না আসলেই সংক্রামক।
ভেবেছিলাম আর লিখবনা। কি হয় এই সব লিখে টিখে? কিন্তু অবরুদ্ধ কষ্ট আরো ভয়াবহ। এই কষ্টের ভার সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে বরং কিছুটা আরাম হয়। একটু নির্ভার লাগে। এটা এরকমই একটা প্রয়াস। দেখছিলাম অধ্যাপক মজিবর রহমান দেবদাসকে নিয়ে মফিদুল হকের বানানো একটা ডকুমেন্টারি 'আমি কান পেতে রই'। আসুন একজন দেবদাসের, একজন আউটসাইডারের গল্প শুনি।

Wednesday, May 25, 2011

'সাই-ফাই' লেখক হওয়ার তরিকা

­আজকের অতিথি লেখক শওকত আলী। তিনি বাতলাচ্ছেন 'সাই-ফাই' লেখক হওয়ার তরিকা:

"স্যার, আমায় চিনতে পেরেছেন?
-না।
ফাস্ট ইয়ার, সায়েন্স ডিপার্টমেন্ট। আমি আপনার সবগুলি ক্লাস নিয়মিত এটেন্ড করতাম।’
-হ্যা, এইবার চিনতে পেরেছি। আমার সবগুলি পরীক্ষায় তুমি নিয়মিত ফেল মারতে। তা এখন কি করছ?


এই তো স্যার, লেখালেখি করে পেট চালাই আর কি।‌
-ও আচ্ছা! আচ্ছা কেউ যদি তোমার পেটের দায়িত্ব নিয়ে নেয় তবে তুমি আর লেখালেখি করবা না, নাকি?

Tuesday, May 24, 2011

বৈদ্য!

­আজকের অতিথি Gulzar Hossain Ujjal, তিনি লিখেছেন ডাক্তারদের নিয়ে:
"খবরদার হাত দেবেন না। হাত সরান বলছি। হাত উপরে, উপরে। ভাল করে দেখতে দেন, নইলে চিকিৎসা নাই। 
প্রায় পঞ্চাশ জন লোকের সামনে ভরা ওয়ার্ডে চলছে পঞ্চাশোর্ধ এক হার্নিয়ার রোগী দেখা। ডাক্তার সাহেব একজন সহকারী অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগের। অসহায় রোগীর সম্ভ্রম লুটিয়ে পড়ে মলিন লুঙ্গির সঙ্গে ওয়ার্ডের ততোধিক মলিন মেঝেতে।

Sunday, May 22, 2011

কদমবুসি করার জন্য লিমনের এক পা-ই যথেষ্ঠ

­ফ্রিডম বইয়ের ভূমিকায় আমি লিখেছিলাম, "বীরাঙ্গনা রীনা, প্রকাশ্যে- ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার পা ধরে রাখব যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি বলবেন: এই প্রজন্মকে ক্ষমা করেছেন"।
এটা কেবল লেখার জন্য লেখা হয়নি; এটা আমার একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। বীরাঙ্গনা রীনার খোঁজ কেউ দিতে পারলে বইমেলায় হাজার-হাজার মানুষের সামনে সত্যি সত্যি আমি পা ধরে বসে থাকতাম। পা ছাড়তাম না, এই ভদ্রমহিলা যতক্ষণ পর্যন্ত না-বলতেন এই প্রজন্মকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন।
এখানে আসলে বীরাঙ্গনা রীনা [১] বলে আলাদা করে কেউ ছিলেন না। সমস্ত বীরাঙ্গনাদের প্রতি আমরা যে অন্যায় করেছি এই প্রজন্মের পক্ষ থেকে কেবল আমার খানিকটা ঋণ শোধ করার চেষ্টা মাত্র।
পরবর্তীতে আমরা চেষ্টা করেছি [২] এও বা কম কী! অনেকে বলবেন এতো বছর পর এই চেষ্টা করলে লাভ কি, এর উত্তর হয় না আসলে!

কিছু কিছু মানুষের কর্মকান্ড দেখে আমি হাঁ হয়ে যাই। মনে হয়, পা ধরে সালাম করি। সত্যি সত্যি যেমনটা ইচ্ছা হয়েছিল বীরাঙ্গনা রীনার বেলায়, সাবেক প্রধান বিচারপতির বেলায়ও [৩]। আজ আবারও ইচ্ছা করছে লিমনের পা ধরে সালাম করার।
লিমন নামের এই মানুষটার ক্ষমতা দেখে আমি হতভম্ব! একজন মানুষের এই বিপুল ক্ষমতার উৎস কোথায়? লিমন নামের মানুষটাকে নিয়ে কিছু লেখাও আমি লিখেছিলাম [৪], [৫]। 

কিন্তু আমি নির্বোধ তখনও পুরোপুরি আঁচ করতে পারিনি লিমন এই মানুষটার ক্ষমতার নমুনা। কী সর্বনাশ, এক পায়ের এই মানুষটার প্রতি ১৬ কোটি মানুষের সরকার তার সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করছে! এটা ভেবে বসাটা বাতুলতা হবে না যে এই দেশের সমস্ত বন্দুক-কামান-মিসাইল তাক করে রাখা হয়েছে লিমন নামের মানুষটার প্রতি। এমন একটা মানুষের পা ধরে সালাম করার ইচ্ছাটা বিচিত্র না!
হা ঈশ্বর, লিমন নামের মানুষটার এক পায়ের স্থলে দু-পা থাকলে না-জানি কী সর্বনাশ হয়ে যেত! তখন আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র এই মানুষটাকে আটকাত কেমন করে? তখন কি আমরা অন্য দেশের সহায়তা চাইতাম? আমাদের দেশের উদ্দেশ্যে সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম নৌবহর যাত্রা শুরু করত? ১৯৭১ সালে আমেরিকার সপ্তম নৌবহর রওয়ানা হয়েছিল আমাদেরকে কাবু করতে; এবার ২০১১ সালে দশম নৌবহর রওয়ানা হতো আমাদেরকে রক্ষা করতে!

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক লিমনের বিষয় নিয়ে এমন ভঙ্গিতে ঝাপিয়ে পড়েছেন যে নমুনা দেখে মনে হচ্ছে লিমনের কারণে সম্ভবত প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে! এখন এটা আমাদের বিশ্বাস না-করে উপায় নেই, অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। কারণ তারেক আহমেদ সিদ্দিক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা।

পত্রিকায় এসেছে [৬], সিদ্দিক সাহেব বলেছেন, "...লিমন মোরশেদ জমাদ্দার সন্ত্রাসী বাহিনীর সঙ্গে জড়িত। এমনকি তার বাবাও জড়িত...।...র‌্যাব মহাপরিচালক বলেছিলেন, লিমন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিল না। কিন্তু প্রকাশিত সংবাদে 'শীর্ষ' শব্দটা বাদ দেয়া হয়েছে...।"
যাক, কেঁচো খুড়তে গিয়ে কেবল সাপ না সাপের মাথার মনিও বেরিয়ে এসেছে। মনিটা বড়ো হলে সর্বনাশ হয়ে যেত। একদা আমাদের কাছ থেকে ব্রিটিশরা কোহিনূর লুটে নিয়ে গেল। এখন এই সাপের মনিটাও কেউ-না-কেউ লুটে নিয়ে যেত। খামাখা চোর-চোট্টা ব্রিটিশদের এই নিয়ে বিস্তর মিথ্যাচার করতে হতো [৭]। মিথ্যা বলা থেকে ব্রিটিশরা বেঁচে গেছে এই কারণে আমরা একটা ট্রফি পেতে পারি। আমাদেরকে ট্রফি না-দেয়াটা অন্যায় হবে!
কালই যদি শুনি কেবল লিমন এবং তার বাবাই না, লিমনের মা-বোন-ভাই, তার চৌদ্দপুরুষ মোরশেদ জমাদ্দার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য ছিলেন অন্তত আমি মোটেও অবাক হব না। 

ঋণ: শিশির, প্রথম আলো
এই ট্রফি পাওয়ার আনন্দে আজ আর আমরা এই ফিযুল প্রশ্ন করব না:
১. লিমন সন্ত্রাসী, এই সম্বন্ধে গোটা দেশবাসী যা জানে তা মিথ্যা, কি সত্য?
২. লিমনের বাবাকেও সন্ত্রাসী বানাবার জন্য আমাদেরকে আরেকটা ট্রফি দেয়া যায়, কি যায় না?
৩. বিচারাধীন একটা মামলা সম্বন্ধে এমন মন্তব্য কেউ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়ার বিধান আমাদের দেশের আইনে আছে, কি নাই?
৪. র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেছিলেন, লিমন দুর্ঘটনার শিকার। এখন দেখা যাচ্ছে, এই বক্তব্য পত্রিকাওয়ালারা ফটোশপের কাজ করে বিকৃত করে ছেপেছে। তাহলে ওইসব পত্রিকার বিরদ্ধে ফটোশপের এহেন কাজ করার জন্য কোন শাস্তি কি হবে, কি হবে না?
৫. আমাদের দেশে পাটমন্ত্রী কথা বলেন যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার নিয়ে। তো, সিদ্দিক সাহেব লিমনকে নিয়ে নিয়ে কথা বলবেন, এতে অবাক হওয়ার কী আছে! 
৬. লিমনের পাশে থাকার কারণে মানবাধিকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কোন অভিযোগ আনা হবে, কি হবে না?  

সহায়ক সূত্র:
১. বীরাঙ্গনা রীনা: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_7644.html 
২. কে চাইবে তোমাদের কাছে ক্ষমা?: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post.html
৩. প্রধান বিচারপতি: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_13.html
৪. জমিনের ঈশ্বর: http://www.ali-mahmed.com/2011/04/blog-post.html
৫. আমি আতঙ্কিত, শঙ্কিত: http://www.ali-mahmed.com/2011/05/blog-post_07.html
৬. পত্রিকার সংবাদ: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=1&date=2011-05-21
৭. কোহিনূর: http://www.ali-mahmed.com/2011/01/blog-post_18.html

Saturday, May 21, 2011

ভাবের এক নেশা: সীসা!



কে



তি
থি

লেখক, নিশম সরকার। লিখেছেন সীসা নিয়ে: 


Wednesday, May 18, 2011

গ্রহ অধিপতি, আমরা আভূমি নত হই!

­একটা গ্রহের সবই থাকে। এই গ্রহেরও যেমন আছে গ্রহপিতা, আমেরিকা [০]। এই গ্রহের প্রত্যেক সন্তানের পশ্চাদদেশে আমেরিকার স্নেহের হাত নাই, এমনটা আউট অভ কোশ্চেন! এই গ্রহের গ্রহপিতা আমেরিকা কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের এই গ্রহমাতা বা গ্রহের মা নাই! গর্দভ নাকি গর্বাচেভ নামের এক প্রাণী টাকা খেয়ে (!), না যেন পেরোস্ত্রাইকার সুগার কোটেড ট্যাবলেট খাইয়ে এ গ্রহের মাকে হত্যা করেছিল! মা-মা-মাগো, আমরা মাতৃহারা হলাম! ইয়াতিম হলাম! 
অবশ্য এতেও কোন দ্বিমত নেই, গ্রহপিতা অমেরিকার সঙ্গে হাত মেলাবার পর নিজের হাতের আঙ্গুল গুণে না-দেখাটা বোকামির শেষ!

এই গ্রহের যথারীতি অধিপতিও আছে, গ্রহঅধিপতি। ইসরাইল। এই গ্রহের অধিপতিকে যারা অস্বীকার করেন এদের নাস্তিকের সমতুল্য বলা যায়, কি যায় না এটা নিয়ে একটা থিসিস করা যেতে পারে। এই যে গ্রহবাবা আমেরিকা তারও বাবা কিন্তু ইসরাইল। একবার ভুলে গ্রহ অধিপতিকে গ্রহপিতা লিখে ফেলেছিলাম [১]!

ইসরাইল আবারও গাজা অভিমুখি ত্রাণবাহী জাহাজে গুলি চালিয়েছে, এই কান্ডটা এরা আগেও বহুবার করেছে! Perdana global peace foundation -এর একটি জাহাজ। যার চিফ-Adviser হচ্ছেন Datuk Mukhriz Tun Mahathir ।
মিসরের জল-ভূমিতে দাঁড়িয়ে ইসরাইলিরা গুলি চালিয়েছে এই ত্রাণবাহী জাহাজে, ভাবা যায় [২]! ওখানে যা ঘটেছিল তার খানিকটা এখানে উঠে এসেছে:
"...The Israelis then headed to the back of the aid vessel and released a second warning shot into the air.
Derek Graham: “This is a violation (of international law). We are on a peaceful mission and unarmed.”
Israeli army: “Turn around. We will fire again”.
Derek Graham: “You are firing towards unarmed civilians”.
Israeli army: “We didn’t fire towards unarmed civilians”.
Derek Graham: “Looks like firing towards us.”
Israeli army: “We didn’t fire towards you. That is only a warning shot”.
Following that conversation, the Israeli army fired two more shots and threatened: “Next time, we will land on your ship”.
Then the Egyptian navy was heard telling the Israelis on the radio: “Stop firing. They are in the Egyptian waters”.
Upon realising the presence of Egyptian naval forces, the Israelis departed."

আহা, ইসরাইল কেন গুলি চালাবে না? অধিপতি-ঈশ্বর বলে কথা! অধিপতি-ঈশ্বরের কাজ নিয়ে প্রশ্ন করা যায় বুঝি! সে তো করে শিশুরা! আমরা কি শিশু, শিশু না।

এই জুইশদের এক হওয়া নিয়ে স্বয়ং আইনস্টাইন যা বলেছেন তা আঁচ করার জন্য যথেষ্ঠ [৩]! আইনস্টাইন বলেছিলেন:
"There are no German Jews, There are no Russian Jews, There are no American Jews ...There are in fact only Jews."

এরা কেমন দানব হয়ে উঠেছে এর একটা উদাহরণ হতে পারে এটা। ১১০ ফিলিস্তানিকে একটা ভবনে আটকে রেখে বোমা মেরে প্রায় সবাইকে মেরে ফেলে, ওখানে অন্তত ৩০জন শিশু, নারি ছিলেন। এই কাজের জন্য এই গ্রহের কেউই এদের গোপন কেশ দূরের কথা বগলের কেশও স্পর্শ করতে পারেনি! গ্রহঅধিপতি বলে কথা!
বাতিল পুতুলের মত ছোট-ছোট শিশু পড়ে থাকে। বাবার জান্তব চিৎকার কী চমৎকারই না-শোনায় গ্রহঅধিপতির কানে!

­এই ইসরাইলি বা ইহুদিদের ক্ষমতা কতটুকু এটা আঁচ করা মুশকিল। জুইশ কমিউনিটি বা ইহুদি সম্প্রদায়কে নিয়ে মাহাথির মোহাম্মদ বলেছিলেন, "পরোক্ষভাবে ইহুদিরাই বিশ্বকে শাসন করছে। আমেরিকা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে আর আমেরিকাকে নিয়ন্ত্রণ করে জুইশ কমিউনিটি। বিশ্বের অস্ত্র, মিডিয়া, ব্যাংক থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রেই জুইশ কমিউনিটির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে পুরোপুরি। গত ৫০ বছরেও বেশি সময় ধরে প্যালেস্টাইনের উপর তারা যে অন্যায় করেছে তা Clash of Civilisation-এর মোড়কে বৈধ করে নিয়েছে পশ্চিমি সমাজ। বুশের প্রকাশ্যে সমর্থন ছিল ইহুদিদের প্রতি। আর কন্ডোলিনা রাইস তার প্রথম ইসরাইল সফরের পর বলেন, 'নিজের বাড়িতে ফিরে আসা"।"

অথচ এদের শিশুগুলো কী লক্ষী! এরা যে মিসাইলের গায়ে মজার মজার কথা লিখে, চোখের নিমিষে ওই মিসাইলগুলো ছটফটে শিশুদের নিমিষেই বাতিল পুতুলে রূপান্তরিত করে।[৪]

আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি, কারণ এ ব্যতীত আমাদের কী-ই বা করার আছে! জুইশ কমিউনিটি থেকে এসেছেন স্ট্যানলি কুবরিক, রোমান পোলানস্কি, উডি অ্যালান, এলিজাবেথ টেইলর, ডাস্টিন হফম্যান, হ্যারিসন ফোর্ড, ডগলাস, বব ডিলান, ডেভিড কপারফিল্ড, আসিমভ, আইনস্টাইন, হুডিনি, কাফকা- এই তালিকা অনেক লম্বা [৫]। (কেবল এই অংশটুকু মোহাম্মদ মাহামুদুজ্জামানের লেখা থেকে নেয়া)
এরা অসাধারণ লোকজন। চমৎকারসব মুভি বানিয়ে, অভিনয় করে, ফিকশন লিখে আমাদেরকে কাঁদান, আমরা কাঁদি। 

মিডিয়ায়ও এদের দাপটের শেষ নাই। টাইম ওয়ার্নার-ওয়ার্নার ব্রাদার্স, এদের সহযোগি প্রতিষ্ঠান AOL, HBO, ­সিনেমেক্স, পলিগ্রাম এদের নাম কে না জানে? ওয়ার্নার ব্রাদার্সের মূল প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ইহুদি, চিফ এক্সিকিউটিভ বা সি,ও জেরাল্ড লেভিন ছিলেন ইহুদি। টেড টার্নারের সি, এন, এন হাল ছেড়ে দেয় ওয়ার্নার ব্রাদার্সের কাছে। ছড়ি ঘোরাত ওয়ার্নার ব্রাদার্স। এরা কেমন করে লোকজনকে প্রভাবিত করে এর একটা উদাহরণ দেয়াটা সমীচীন হবে।
নাইন ইলাভেন। টুইন টাওয়ার ধ্বংশ হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের ফুটেজ দেখানো হচ্ছিল। একটা ফুটেজ সাধারণ মানুষকে হতভম্ব করেছিল সেটা হচ্ছে, এই ধ্বংশের পর প্যালাস্টাইনরা আকাশে শূণ্যে গুলি ছুঁড়ে আনন্দ প্রকাশ করছে। এই দৃশ্য দেখে যে-কোন সচেতন মানুষ আহত হবেন এতে সন্দেহ কী!
কিছুদিন পর সিএনএন খুবই অবহেলার সংগে টেলপে লিখে জানায়, ফুটেজটি ছিল পুরনো এবং এটা ভুলবশত দেখানো হয়েছে।


ইসরাইলকে নিয়ে এক লেখায় আমি লিখেছিলাম:
"এদের ধারণা মুসলমান মানেই টেররিস্ট- এরা নিজেরা সব ধোয়া তুলসি পাতা! ক-দিন পূর্বে, ইসরাইলে নির্বাচনের পূর্বে ইসরাইলি কর্তৃক যে শোডাউন করা হয়েছে, সেসব ছবি আমরা দেখেছি আধুনিক মিডিয়ার কল্যাণে।
এর পর কেবল একটা কথাই বলা চলে এবং আমি নিশ্চিত, পুতুপুতু টাইপের একটা বালকের হাতেও যদি ক্ষমতাটা দেয়া হয় সে কালবিলম্ব না-করে ইসরাইল নামের দেশটি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলবে।" ...

সহায়ক সূত্র:
০. Perdana global peace foundation: http://www.theborneopost.com/?p=130563
১. ইসরাইল: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_15.html
২. জয় হোক গ্রহবাবার: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_05.html
৩. জুইশ...: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_10.html
৪. জুইশ শিশুদের দানব হওয়া...: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_7757.html
৫. সবই জুইশ!: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_7757.html

Tuesday, May 17, 2011

একজন স্বপ্নদ্রষ্টার স্বপ্নের ভুবন থেকে বিদায়!

­আজকের অতিথি লেখক আরাফাতুল ইসলাম। তিনি লিখেছেন, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা প্রফেসর ইউনূসকে নিয়ে:

"গ্রামীণ ব্যাংক একটি বিশেষায়িত ব্যাংক। ১৯৮৩ সালে এই ব্যাংকটি আনুষ্ঠানিক সরকারি অনুমোদন পেয়েছিল তবে, এই ব্যাংক তথা ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস গবেষণা শুরু করেছিলেন আরো আগে থেকে, সেই ১৯৭৬ সালে। যখন তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। জনাব ইউনূস শনিবার তাঁর সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন,
'...যে ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়েছিল ৮৫৬ টাকা দিয়ে সে ব্যাংক এখন মাসে এক হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করছে...'।

Monday, May 16, 2011

একজন এলেক্স এবং তার গান...

আজকের অতিথি রাশিয়ার Александра Махно

বিস্তারিত এখানে জরুরি না। ছোট করে বললে, এলেক্স। অয়স্কঠিন একজন! এলেক্সের যে বিষয়টা আমাকে নাড়া দিয়েছে সেটা হচ্ছে, এ গান এবং গান দুই-ই সমান পছন্দ করে। গান পছন্দ করে এমন সমঝদারের অভাব নাই কিন্তু তাই বলে ইংরাজি গান, অস্ত্রপাতি- পিস্তল, কমব্যাট নাইফ! এবং তার আছে নিজস্ব পিস্তল, ছুঁরি...!

রাত গড়ায়। তখন এর হাতে উঠে আসে অন্য আরেক অস্ত্র, পেন্সিল। সৃষ্টি হয় পেন্সিল স্কেচ নামের চমৎকারসব ছবি!

Sunday, May 15, 2011

একজন গানযোদ্ধা- একজন মুক্তিযোদ্ধা!

­আজ থেকে অতিথিদের লেখা যুক্ত হচ্ছে। কারও লেখা দেয়ার প্রয়োজন বোধ করলে লেখকের অনুমতিক্রমে এখানে প্রকাশিত হবে। আজকের পর্বটি লিখেছেন: Gulzar Hossain Ujjal,  লেখার শিরোনাম কেবল বদলে দিলাম।

“মুক্তির গান” ছবিতে মাহমুদুর রহমান বেণু
"মাহমুদুর রহমান বেণুর নামটি প্রথম কবে শুনি? ঠিক মনে পড়ে না।

তবে তাঁর গান মনোযোগ দিয়ে প্রথম শুনি খুরশীদ স্যারের বাসায়। (খুরশীদ স্যার, মানুষটার কাছে আমার ঋণের শেষ নেই। আমারে তুমি অশেষ করেছ….)।
দুই হাজার চার সালের দিকে হবে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে মাহমুদুর রহমান বেনুর একটা অ্যালবাম বেরিয়েছিল। খুরশীদ স্যার চেয়েছিলেন আমি যেন বেনুর গাওয়া নজরুল সঙ্গীত 'প্রভাত বীনা তব বাজে' গানটি শিখি। ক্যাসেট প্লেয়ার বাজছে, আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছি। ভোকাল থ্রোয়িংটা অসাধারণ! গলায় কি জোর ! একদম যাকে বলে টেনর (TENOR) ভয়েস। পৌরুষদীপ্ত কন্ঠ, কোন কৃত্রিমতা নেই। জোর করে গলাটা মিষ্টি করার চেষ্টা নেই।

স্যার চান আমি যেন সুরটা কপি করি, সাথে তাঁর গাওয়ার ভঙ্গিটাও যেন আয়ত্ব করি। এ এক সমস্যা! আমাকে যে স্যার কী মনে করেন! কার সাথে কি? এরকম ভরাট গলা আমি কোথায় পাব! আর গানটায় যে অজস্র সুরের খেলা! তাও আবার ভৈরবী রাগের ওপর। রাগ-রাগিনীতে আমার দখল নেই বললেই চলে। আমি হলাম শ্রুতিধর। শুনে শুনে গাই, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত হোক আর ব্যান্ড সঙ্গীতই হোক। গানের তত্ত্বজ্ঞানও তথৈবচ। আমি বললাম ক্যাসেটটা দেন। আর দু সপ্তা সময় দেন, দেখি তুলতে পারি কিনা?

স্যার বললেন, "বেনু ভাইয়ের আরেকটা পরিচয় আছে। 'বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা' বলে যে দলটা মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে ক্যাম্পে গান শুনিয়েছিল, যাদের ভিডিও ফুটেজ নিয়ে পরবর্তী কালে ‘মুক্তির গান’ বলে একটা ছবি হলো, বেনু ভাই ছিল তার দলনেতা"।
আমি অবাক হলাম। জানতাম না তো! ‘মুক্তির গান’ ছবিটা তো দেখেছি। লিয়ার লেভিনের ভিডিও ফুটেজ অবলম্বনে তৈরী তারেক মাসুদের ছবি। ছবিটার প্রসংগ এলেই সবাই খালি তারেক মাসুদের নাম করে। কিন্তু এই মাহমুদুর রহমান বেনু’র নামটাতো কেউ একবারও নেয় না। কী অদ্ভুত! কী অন্যায়! অথচ তিনিই এই দলটার দলনেতা। আরেকটা মানুষ এ দলটার পেছনে ছিলেন ছায়া হয়ে। নেপথ্যে নেতৃত্ব দিয়েছেন, উৎসাহ যুগিয়েছেন। তিনি হলেন সঙ্গীত গুরু ওয়াহিদুল হক। বেনু তাঁর প্রিয় ছাত্রদের একজন। দলটির প্রায় সবাই ছিল তার প্রত্যক্ষ ছাত্র। তার ভাবনা, পরিকল্পনা আর উৎসাহের ফসল এই গানের দলটি। অথচ চিরটা কাল এক্ষেত্রে তিনিও অপাংক্তেয়, অনুচ্চারিত।


যাই হোক ক্যাসেটটা বাসায় নিয়ে এলাম। শুনতে লাগলাম মাহমুদুর রহমান বেনু। সত্যিই এক অদ্ভুত কন্ঠ। গানটা যখন বাজে পুরো ঘরটা তখন সুরে ভরে যায়। ভৈরবীর সুরে ভোর নেমে আসে । 'ভোরের হাওয়ায় ঘুম ভাঙ্গাতে এলে চুম হেনে নয়ন পাতে….'।
এই বিরল কন্ঠের মানুষটা এখন লন্ডন থাকেন। হয়তো অভিমান। এদেশে তার গানের যোগ্য কদর হয়েছে কি? কিছুদিন আগে শাহবাগের সুর কল্লোলে (আমার সেই সিডির দোকান, যেখান থেকে নিয়মিত সিডি কিনি) গিয়ে সিডি দেখছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়লো বেনু ভাইয়ের নতুন একটা গানের সিডি। এটা কবে বেরুলো? দোকানের বয়স্ক মালিক (তিনি একজন বিশিষ্ট সুর রসিক, অনেক বড় বড় শিল্পীর সাথে তার জানাশোনা) জানালেন, “গত বছর বেনু ভাই নিজে হাতে তিনটি কপি দিয়ে গেছেন। দুটো বিক্রি হয়ে গেছে, এই একটাই আছে। ভাল কথা, আপনি তার গান শোনেন?” ভদ্রলোক আমার দিকে একটু অন্যরকম চোখে তাকালেন।


আমি বললাম, “শুনি তো বটেই, মাঝে সাঝে গিলিও”। মানুষটার চোখে আনন্দ খেলা করে। কেন করে সেটা আমি বুঝি। ভদ্রলোক বলেই চলেছেন, “জানেন তো উনি লন্ডনে থাকেন। মুক্তিযুদ্ধের পর দুবছর বাংলাদেশে ছিলেন । তারপর থেকেই বাইরে। লন্ডনে পিএইচডি করতে গিয়েছিলেন । গানের নেশায় আর পিএইচ ডি করা হয়নি। সেই রাগে বউ তাকে ছেড়ে চলে এসেছেন বাংলাদেশে। আর উনি এখন ওদেশে বাংলা স্কুলের টিচার। গানও শেখান। লন্ডনের সব কালচারাল অনুষ্ঠানেই তিনি পুরোধা। জানেন, এই অ্যালবামটা কোনও প্রযোজনা সংস্থা বের করেনি। উনি নিজের উদ্যোগে নিজ খরচায় রেকর্ড করিয়ে নিজেই বিলি করছেন।"

আমি অবাক হই না। এই দেশে শুদ্ধ শিল্পী, শুদ্ধ মানুষ কারুরই খুব একটা কদর হয় না। এরা এই সমাজের ব্যর্থ, অচল মানুষ। প্রবাস জীবন নিয়ে যতই নেতিবাচক কথা বলি না কেন এ কথা কিন্তু সত্যি, বিদেশ এদের অঞ্জলী পেতে গ্রহন করে। বিদেশ এদের সম্মান, প্রতিষ্ঠা সব দেয়।
একজন মাহমুদুর রহমান বেনু, যিনি ‘বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা'’র অন্যতম সংগঠক ও দলনেতা, মুক্তিযুদ্ধের মহান কন্ঠসৈনিক, সর্বোপরি একজন শুদ্ধ সঙ্গীতের সাধক শিল্পী- এ প্রজন্মের ক’জন তাকে চেনে? রাষ্ট্র তাকে কি সম্মান দিয়েছে শিল্পী হিসেবে কিংবা মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের জন্য। আমাদের সংবাদপত্রগুলো ডিসেম্বর আর মার্চ এলে নানান রকম আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। সেই আয়োজনেও চোখে পড়েনা একজন মহান বেণুকে নিয়ে। অবাক লাগে ইত্তেফাকের মত একটি পত্রিকায় 'বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা' ও ‘মুক্তির গান’ নিয়ে ফিচার বের হয় কিন্তু সেখানে তাঁর নাম থাকেনা। এরকম উদাহরণ আরো আছে। তার সাক্ষাৎকার কি কোন কালে কারো চোখে পড়েছে কোন পত্রিকায়? আমার পড়েনি। আমাদের বিনোদন ও সাংস্কৃতিক সাংবাদিকরা এদের সাক্ষাৎকার নিতে বেশী আগ্রহী না। মারুফ নামের এক  নায়ক কেন গোঁফ রাখলেন, শাকিব খান নায়িকা অপু বিশ্বাসকে বাড়িতে গিয়ে কেন মারধোর করলেন এই হলো আমাদের বিনোদন পাতার হট টপিক। আমি আশংকা করি কোন একদিন হয়তো শিল্পী বিপুল ভট্টাচার্য’র মত তিনিও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হবেন। তারপর তাঁকে নিয়ে একটা খুব করুণ ফিচার হবে। সাংবাদিক তাঁর সমস্ত প্রতিভা ঢেলে দেবেন এদেশের মানুষ কতটা অকৃতজ্ঞ তা প্রমান করতে।
শর্ষীনার পীরের মত যুদ্ধাপরাধীরা এদেশে ‘স্বাধীনতা পদক’ পায় সুতরাং এসব রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার নিয়েও কিছু বলার প্রয়োজন দেখিনা। এ প্রজন্মের কেউ একজন বেনুকে না চিনলে তাঁর কিছু আসে যায়না, দেশ তাকে সম্মানিত না করলেও কিসসু আসে যায়না তাঁর। বরং ক্ষতি হয় দেশটার, ক্ষতি হয় দেশের আত্মপরিচয়হীন উত্তর প্রজন্মের।


যাই হোক, আমি মাহমুদুর রহমানের বেনুর এ বছরের তৃতীয় ক্রেতা হিসেবে সিডিটা কিনে নিয়ে যাই। আজ কদিন ধরে গানগুলো শুনি। আমার আশেপাশে যারা থাকেন তাদেরও শোনাই। আমি শুনি আর ভাবি, উনি লন্ডনে গিয়ে বেঁচে গেছেন। এদেশে থাকলে তাঁর হয়তো এই সিডিটাও বের করা হতো না...

Saturday, May 14, 2011

বোকা মানুষের বোকা মস্তিষ্ক!

­­নতুন একটা তথ্য জেনে আমি জ্ঞানীদের কাতারে সামিল হওয়ার চেষ্টা করলুম। ছাগলের মত ফ্যা ফ্যা করে হাসলেও নাকি মস্তিষ্ক ধরতে পারে না! অবশ্য ছাগল হাসে কি না এই নিয়ে আমার ঘোর সন্দেহ আছে। ছাগলের হাসি ছাগল হাসুক, মানুষ কৃত্রিম হাসি হাসলেও মস্তিষ্ক ধরতে পারে না। সোজা কথা, কৃত্রিম হাসি হাসলেও মস্তিষ্কের নাকি ধরার ক্ষমতা নাই!

এই অসম্ভব কাজের তথ্যটা আমাদেরকে জানাচ্ছেন আনিসুল হক মহোদয়। এটা ওনাকে এক চিকিৎসক বলেছেন। এই 'এক চিকিৎসক', কোন চিকিৎসক এটা উনি জানেন, আমরা জানি না! শুনি ইনার জবানীতে: "আমাকে একজন চিকিৎসক বলেছেন, '...আমাদের মস্তিষ্ক নাকি ধরতে পারে না কোন হাসিটা কৃত্রিম...। শুনে আমি অট্টহাসিতে মেতে উঠি: ব্রেনের দেখা যাচ্ছে ব্রেন নেই, সে নিজেই বলে কৃত্রিমভাবে হাসো, আবার নিজেই ধরতে পারে না যে এটা কৃত্রিম। এর চেয়ে বোকা আর কে হতে পারে?'।" [১] 

আনিসুল হক মহোদয়ের ভাষ্যমতে ইনি 'একজন চিকিৎসক' না-হয়ে ত্রিকালদর্শী হলেও আমি জানতে চাইতাম, কোন ত্রিকালদর্শী? চিকিৎসক হলেই তিনি সব জেনে বসে থাকবেন এমন মাথার দিব্যি কে দিয়েছে! এমন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেও দেখেছি ওনার মাথায় প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সাবানের ফেনা! একজন একটা কথা বলে দিলেন আর আমি লেজ নাড়াতে থাকলুম, কাভি নেহি! হয়তো বলা হবে, ওই চিকিৎসক মহোদয়ের কাছে এই তথ্য আছে, এই নিয়ে কোথাও-না-কোথাও জরীপ করা হয়েছিল। এই গ্রহে কতশত জরীপ হয়, সব গুরুত্ব দিতে হবে কেন!

মুহম্মদ জাফর ইকবালের 'আমেরিকা' বইয়ে এমনই এক জরীপের কথা উল্লেখ আছে, "...শতকরা পঁয়তাল্লিশ জন মেয়ে বলেছে প্যাট্রিক সোয়াজের পাছা সবচেয়ে সুন্দর..."। এখন আমার কি এটা ফট করে বলা সমীচীন হবে সবচেয়ে সুন্দর ... হচ্ছে প্যাট্রিক সোয়াজের। সমীচীন হবে না কারণ এই জরীপে আমাদের দেশের জরিনা অংশগ্রহন করেনি!

কেউ কিছু একটা বলে দিলেই তা নিয়ে নাচানাচি করার কোন অর্থ নাই। গান্ধী আন্ডারওয়্যার পরতেন কিনা এই নিয়ে কবির ঘুম আসে না [২]:
"...I didn't much sleep last night
thinking about underwear...
Did Gandhi wear a grirdle?..."
(Underwear: L. Ferlinghetti) 
লোকজনরা সেই কবিতা পড়ে আহা-উঁহু করে, পা নাচায়, L. Ferlinghetti-কে নিয়ে লাফায়; লাফাক, তাতে আমার কী!

বৈজ্ঞানিক কোন তথ্য, বিশেষ করে মস্তিষ্কের কোন তথ্য এমন হেলাফেলা করে দেয়া একটা ফাজলামী। 'এক চিকিৎসক' দূরের কথা এটা কোন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রকাশিত হয়ে থাকলেও অন্তত আমি গুরুত্ব দেই না। এটা সত্য, হাসলে প্রচুর পেশীর ব্যবহার হয় সেটা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল অবশ্যই কিন্তু মস্তিষ্ক কৃত্রিম হাসিটা ধরতে পারবে না এই তথ্য বাদামের খোসা! যে মস্তিষ্ক 'দুধের দুধ, পানির পানি' আলাদা করে ফেলে- জটিলসব সিদ্ধান্ত নিতে ন্যানো সেকেন্ড সময় যার কাছে যথেষ্ঠ [৩] সে বুঝতে পারবে না কোনটা তার নিজের কৃত্রিম হাসি! হাহ!
মস্তিষ্ক তার নিজস্ব পদ্ধতিতে সমস্ত তথ্যই জমা রাখে:
"...It accepts a flood of information about the world around you from your various senses (seeing, hearing, smelling, tasting, touching, etc)...."

চোখের নিমিষে যার ভ্রমণ তাকে খাটো করে দেখার কোন অবকাশ নাই, তাকে বোকা ভাবাটা বোকামি:
"...These axons transmit signals in the form of electrochemical pulses called action potentials, lasting less than a thousandth of a second and traveling along the axon at speeds of 1–100 meters per second. Some neurons emit action potentials constantly, at rates of 10–100 per second...।" (wikipedia)

বোকা মানুষের বোকা মস্তিষ্ক হলে অবশ্য বলার কিছু নেই...

সহায়ক সূত্র:
১. মস্তিষ্ক, কৃত্রিম হাসি...: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=12&date=2011-04-26 
২. L. Ferlinghetti: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_3336.html 
৩. মস্তিষ্ক বেচারা...: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_4207.html 

Sunday, May 8, 2011

রবিদাদা মরে বেঁচে গেলেন!

­রবীন্দ্রনাথের কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই আর আমাদের রবিদাদা মরিয়া প্রমাণ করিলেন আদৌ এই দিন দেখিবার জন্য তিনি বাঁচিয়া নাই। কী দিন, আহা, কী দিন!

ঘটা করে দুই বাংলায় রবিদাদাকে নিয়ে হইচই হচ্ছে। এতে কারও কোন আপত্তি নাই। তবে রবিদাদাকে নিয়ে এবার যে শব্দটা চালু হয়েছে সেটা হচ্ছে সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন। 'সার্ধ' জিনিসটা কি এটা আমার জানা ছিল না, এই নিয়ে লজ্জায় মুখ দেখাবার যো নেই। ভয়ে শেভ করা বন্ধ করে দেয়ার উপক্রম- আয়নায় নিজের মুখ নিজেই দেখি কেমন করে! কিন্তু তাই বলে জিনিসটা কি এটা জনে জনে জিজ্ঞেস করি কেমন করে? আমি মানুষটা নির্বোধ এটা বুঝি লোকজনকে বলে বেড়াব, পাগল!

ওয়াল্লা, এটা দেখি আমি ব্যতীত সবাই জানেন! পত্রিকাগুলোও সার্ধ সার্ধ করে আমার মার্ধ...(এটা অভিধানে পাওয়া যাবে না :( , খুঁজে লাভ নাই)! এমনকি সহজিয়া শব্দের কারিগর হুমায়ূন আহমেদও পত্রিকায় তাঁর এক লেখায় লিখেছেন, "রবীন্দ্রনাথের সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সারা বাংলাদেশে কত না উৎসব "! (যথারীতি তাঁর লেখায় শাওন চলে এসেছে। হুমায়ূন আহমেদের মত বউপাগলা বিরল!)
প্রধানমন্ত্রীও তাঁর ভাষণে বলেছেন, "আসসালামু আলাইকুম, ... কবিগুরুর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে..."।

যাই হাক, অভিধানে শব্দটা খুঁজে আমি উল্লসিত। সার্ধ মানে সাড়ে। দেড়শত বছর এটা না-বলে বলা হচ্ছে সার্ধশততম- 'সাড়ে একশত'। বাংলা ভাষাকে সহজ করার জন্য যে রবীন্দ্রনাথের কস্তাকস্তির শেষ ছিল না সেই রবীন্দ্রনাথের বেলায় দেড়শ লিখলে কেমন জাত গেল-জাত গেল ভাব না-হওয়াটা দোষের বৈকি। এখনই এই মানুষটাকে দেবতার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, "ওই আসে মহামানব"।

ছবি ঋণ: সাপ্তাহিক
এই মানুষটাকে নিয়ে আমাদের আয়োজনের শেষ নেই। কাজী নজরুল ইসলামকে উপলক্ষ করে কাজী শাহী মাটনের রেসেপীর জন্য বিখ্যাত রান্না কাম পুষ্টিবিশারদ কেকা ফেরদৌসি এবার রবিদাদার জন্য কি রান্না নিয়ে এসেছেন এটা মিস করে গেছি সম্ভবত।
দাদাকে নিয়ে এখন বেশ ফ্যাশনও হচ্ছে। সাপ্তাহিক (৫ মে ২০১১, পৃ: ৯৫) আয়োজন করেছে 'পোশাকে রবীন্দ্র চেতনা'।
বটে রে বটে, কত বুদ্ধি ঘটে! 'সাপ্তাহিক'-এর সম্পাদক হচ্ছেন গোলাম মোর্তোজা, ইনি সূক্ষ রূচির মানুষ বলে সমাদৃত। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়ও বিভিন্ন উঁচুমার্গের বাতচিত করেন।

'পোশাকে রবীন্দ্র চেতনা' ফিচারটি প্রস্তুত করেছেন, কাজী বৃষ্টি রহমান। জ্ঞানের বৃষ্টিতে ভিজে পাঠক জবজবে!
এখানে ছবিতে আমরা যে মডেল সাহেবানকে দেখতে পাচ্ছি তিনি কেমন করে রবীন্দ্র চেতনা উসকে দিচ্ছেন এটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। যে ঢঙ্গে শাড়ি পরেছেন এটা মধ্যে কেমন করে রবিদাদা আলো ছড়াচ্ছেন। রবিদাদা শাড়ি পরতেন এমনটা তো শুনিনি! কি বললেন? রবিদাদা না, তাঁর পরিবারে মহিলা সদস্যরা পরতেন। কি জানি বাপু হবে হয় তো!

তা স্লিভলেস ব্লাউজ কি রবিদাদার পরিবারের লোকজনরা চালু করে দিয়ে গেছেন, কবিগুরুর উৎসাহে? কী জানি, হতেও পারে! যে মানুষটা সার্ধর অর্থ জানে না সেই মানুষটা এই সব প্রশ্নের উত্তর জানবে এমনটা আশা করা বাড়াবাড়ি, স্রেফ বাড়াবাড়ি...।       

Saturday, May 7, 2011

আমি আতঙ্কিত, শঙ্কিত!

­লিমন অসম্ভব সৌভাগ্যবান তার পেছনে আছে এই দেশের প্রথম শ্রেণীর পত্রিকাগুলো, পত্রিকার দুঁদে সম্পাদক। লিমনের আছে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের ছলছলে চোখ, মমতার হাত! এমন সৌভাগ্য কজনের হয়? পুরো মানবাধিকার কমিশন লিমনের পক্ষে লড়ছে।
র‌্যাবের মহাপরিচালক পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "...লিমন সন্ত্রাসী নয় ঘটনার শিকার..."। এখন পর্যন্ত লিমনের আশেপাশের কেউ, সাত গ্রামের কেউ বলেনি, লিমন সন্ত্রাসী। বরং আমজনতা চোখের জলে, ঘামে ভেজা টাকা দিয়েছে লিমনের চিকিৎসার জন্য।
ছবি ঋণ: প্রথম আলো
তারপরও লিমনকে নিয়ে টানাহেঁচড়া বন্ধ হয়নি!

শেষপর্যন্ত তাঁকে ডান্ডাবেড়িপরা কয়েদিদের সঙ্গে হাসপাতাতোলে রাখা হয়েছিল, হাইকোর্টের নির্দেশ আসার আগপর্যন্ত! অথচ এরিমধ্যে পেরিয়ে গেছে ৪২ দিন! এই অন্ধ রাষ্ট্র ৪২ দিনেও শুনতে পারেনি কিশোরটির জান্তব চিৎকার। যে চিৎকারে আকাশলোকের ঈশ্বরের চেয়ারের পায়া নড়বড়ে হয়ে যায় সেখানে জমিনের ঈশ্বর কোন ছার! আহা, নকল ঈশ্বরের নকল পা- সেই নকল পা নকল পায়ায়!

পত্র-পত্রিকায় এসেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিমনের বিষয়ে বলেছেন, "...আমার কিছুই করার নাই..."। ইশ্বর, এটা কী একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য! কিছুই না-করার থাকলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ আঁকড়ে আছেন কেন? পদটা ছেড়ে দিচ্ছেন না কেন? তিনি এখন দোহাই দিচ্ছেন আইনের।  কিন্তু যে র‌্যাব এই কান্ড করল সেই র‌্যাব কি তাঁর আওতায় না? বা যে পুলিশ লিমনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিল সেই পুলিশ? নাকি এখন এটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত না!
তাই বুঝি, ভাল তো! লিমনের মার করা মামলা পুলিশ আমলেই নেয়নি! স্বয়ং আদালত মামলা নেয়ার নির্দেশ দিলেও পুলিশ তা অগ্রাহ্য করেছে। দ্বিতীয়বার আদালত নির্দেশ দেয়ার পর তা তামিল হয়। এই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি একবারও পুলিশকেকে জিজ্ঞাসা করেছেন কেন এমনটা করা হলো? আর আমাদের আদালত? আদালত জানতে চাইলেন না পুলিশ কেন এমনটা করল? কোত্থেকে এরা এই সাহসটা পেল!

সাপ্তাহিকের (৫ মে ২০১১) সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইন্সপেক্টর জেনারেল অভ পুলিশ বলেন, "...লিমনের ঘটনা তদন্ত, অনুসন্ধান চলছে বিভিন্ন পর্যায়ে। একটি ঘটনা ঘটার পর তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে থাকে। ...হাইকোর্টে একটা রিট করা হয়েছে।...তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে...।"
ভাল কিন্তু পুলিশের দেয়া চার্জশিটে আমরা কি লিমনের সম্পৃক্ত না-থাকার নমুনা খুঁজে পেলাম, ডিয়ার আইজি?

পুলিশদের কেবল দোষ দেই কেন? অসুস্থ লিমনকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন যে মানুষটি (!), তিনি? হাসপাতালের পরিচালক খন্দকার আবদুল আওয়াল রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, "...লিমন সুস্থ হয়ে উঠায় তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। হাসপাতালে বিছানায় সমস্যা আছে..."। বাস্তবতা হচ্ছে হাসপাতালের বিছানার সমস্যা ছিল না। হায়, এই মানুষ (!) নামের অমানুষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবার কী কোন আইনই নাই!

আর ঝালকাঠির মূখ্য বিচারিক হাকিম নুসরাত জাহান আদালত কক্ষের টেবিলে ব্যান্ডেজ ভেজা এক পা নিয়ে চিত হয়ে শুয়ে থাকা লিমনকে কারাগারে পাঠিয়ে দিলেন! তিনি কি জানেন না, পত্রিকা পড়েন না? তিনি কি একবারও ভাবলেন না এই অভাগা কিশোরটির কথা।
ঈশ্বর, তোমার এই গ্রহের বাংলাদেশ নামের ছোট্ট একটা জায়গায় এখনও রোদ থাকে, বৃষ্টি হয়। ঈশ্বর, এ অনাচার তুমি করো কেমন করে!
ঈশ্বর তাঁর ভাবনা ভাবুন কিন্তু আমাকে যে ভাবনা কাবু করে ফেলেছে, এই দেশে ক্রমশ পা ফেলার জায়গা কমে আসছে। একজন নাগরিককে ন্যূনতম নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষমতা এ রাষ্ট্রের নাই!

অথচ যেটা অনায়াসেই করা যেত- ট্যাক্সদাতা আমরা সানন্দে গ্রহন করতাম। লিমনের কাটা পা কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে  না কিন্তু রাষ্ট্রের পক্ষে এই ছেলেটির প্রতি করা অন্যায়ের খানিকটা অন্যরকম শোধ নেয়া যেত। ছেলেটা পরীক্ষা দিচ্ছিল, এরইমধ্যে এই বিপর্যয়! ভাল হতো যদি আমরা দেখতে পেতাম, একে মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। সরকার এর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে, দায়িত্ব নেয়া হয়েছে এর পরিবারের। আমাদের শিক্ষাবিভাগ বিশেষ ব্যবস্থায় এই ছেলের পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গাড়িতে করে পরীক্ষার হলে পৌঁছে দিচ্ছেন। আমরা সুখি হতাম, আমাদের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত সংস্থার লোকজন র‌্যাব-পুলিশ এই অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্ত মনে করে একে গাড়িতে করে পরীক্ষা দিতে নিয়ে যাচ্ছে।

'এটা কি খুব বড়ো চাওয়া ছিল মি. প্রেসিডেন্ট?' [১] লেখাটায় আমি লিখেছিলাম, "চারটি দুর্নীতি মামলায় ১৮ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শাহাদাব আকবরের সাজা আপনি (প্রেসিডেন্ট) মওকুফ করে দিয়েছেন। অথচ শাহাদাব আকবর আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে কখনো আদালতের ধারেকাছেও আসেননি, আত্মসমর্পণ করেননি!
মি. প্রেসিডেন্ট, আমি সবিনয়ে জানতে চাই, শাহাদাব আকবর দেশের জন্য এমন কোন সম্মানটা নিয়ে এসেছেন যার জন্য আপনি আপনার এই ব্রক্ষ্মাস্ত্রটা ব্যবহার করলেন? (তার জন্য আপনার অস্ত্রটা ব্যবহার করলেন)

শাহাদাব আকবরের এটাই কী একমাত্র যোগ্যতা তিনি জাতীয় সংসদের উপনেতা বেগম সাজেদা চৌধুরীর সন্তান?"
আমাদের এই প্রেসিডেন্ট সাহেবই শাহাদাব আকবরের জন্য তার ব্রক্ষ্ণাস্ত্রসম অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন অথচ আমরা দেশবাসি জানি না সত্যিই শাহাদাব আকবর নির্দোষ ছিলে কিনা অথচ কতিপয় লোক ব্যতীত গোটা দেশবাসি জানে লিমন নির্দোষ কিন্তু তাঁর জন্য কারও কিছু করার নাই। মায় প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীরও? আশ্চর্য বলতেও খেই হারিয়ে ফেলি!

র‌্যাব নামের 'জমিনের ঈশ্বর' [২] এবং কতিপয় মানুষ কেবল লিমনের একটা পা বগলদাবা করেনি প্রমাণ করেছে এরা সত্যিই জমিনের ঈশ্বর!
এই মুহূর্তে আমাকে যদি এই বিপুল ক্ষমতা দেয়া হয় তাহলে আমি লিমনের জন্মটা আটকে দিতাম! লিমন এখন আর কেবল একজন মানুষ, একটা নাম, একটা সংখ্যা না; এক ভয়ানক বিপদের নাম! যে বিপদটা ক্রমশ ধেয়ে আসছে আমাদের দিকে! একজন লিমন এই দেশের কতিপয় মানুষ ব্যতীত প্রায় ১৬ কোটি মানুষকে অরক্ষিত করে দিয়েছে। আমাকেও...।

লিমনের ভাগ্য ভাল। এমন ভাগ্য অন্যের বেলায় হবে এমনটা ভাবা দুরাশা! আজ কেন এমনটা মনে হচ্ছে এই দেশটা আমার না। এখান থেকে পালিয়ে যেতে হবে যত দ্রুত সম্ভব। যাদের আমি করূণা করতাম তারা আজ আমায় করুণা করবে কী, আমি নিজেই নিজেকে করুণা করি। ভিনদেশে থিতু হওয়া, ভিনদেশের বোল বলা এই দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া অভাগা মানুষগুলোর কেলানো দাঁতে গদাম করে বসিয়ে দেয়া ঘুষির সেই জোর আজ কোথায়! অশক্ত হাত যে পেছনে লুকিয়ে ফেলারও সুযোগ নাই।
অদেখা ভয় প্রবাহিত হচ্ছে এখন শিরায় শিরায়- রাষ্ট্রের কাছে কারও কোন নিরাপত্তা নাই, সুবিচার নাই! যে আমি পরমকরূণাময়ের কাছে আবেদন জানিয়ে রেখেছি প্রয়োজনে আমার পাঁচ বছর আয়ু কমিয়ে দিক কিন্তু আমাকে যেন এ দেশ ছেড়ে না-থাকতে হয়। আজ সেই আমার মাথায় এ দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার ভাবনা খেলা করছে! ছি! এরচেয়ে যে মরে যাওয়া ঢের কাজের!
কিন্তু নিজেকে যে বড়ো অরক্ষিত মনে হচ্ছে...। 

সহায়ক লিংক:
১. এটা কি খুব বড়ো চাওয়া...: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_2646.html 
২. জমিনের ঈশ্বর: http://www.ali-mahmed.com/2011/04/blog-post.html