Saturday, December 18, 2010

পার্থক্য কেবল একটা হ্রস্ব উ-কারের

গরু এবং গুরুর মধ্যে পার্থক্য কি এর উত্তর দেয়াটা আমার পক্ষে অনেকখানি কঠিন। কিন্তু যদি জিজ্ঞেস করা হতো গরু এবং মানুষের মধ্যে পার্থক্য কি তাহলে ধার করা কথা চট করে বলতে পারতাম, মানুষ তার অর্জিত জ্ঞান পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে পারে, গরু পারে না।
এমনিতে গরু এবং গুরুর মধ্যে পাথর্ক্য কেবল একটা হ্রস্ব উ-কারের। কিন্তু গুরু যখন গরু হতে আগ্রহ প্রকাশ করে তখন মনটা বিষণ্ণতায় ছেয়ে যায়।

Get this widget | Track details | eSnips Social DNA
মহীনের ঘোড়াগুলি ব্যান্ডের এটা অসাধারণ একটা গান, পৃথিবী। এই ব্যান্ডের মূল চালিকাশক্তি গৌতম চট্টোপাধ্যায় ১৯৯৯ সালে মারা যান। এমনিতে এই ব্যান্ডের নাম নেয়া হয়েছিল জীবনানন্দ দাসের 'মহীনের ঘোড়াগুলো ঘাস খায় কার্তিকের জ্যোৎস্না প্রান্তরে', এখান থেকে। অবশ্য প্রথমে এই ব্যান্ডের নাম ছিল সপ্তর্ষি পরে তীরন্দাজ ...একেবারে শেষে মহীনের ঘোড়াগুলি।


মহীনের ঘোড়াগুলির 'পৃথিবী' গানটা জেমস গেয়েছেন বলিউডের হিন্দি একটা মুভিতে। অবিকল একই সুরে। হাওয়ায় যেমন মেঘ ভেসে আসে তেমনি কাটা কাটা এমন কথাও ভেসে আসে, প্রীতম এই গানটার জন্য অনুমতি নিয়েছিলেন। হাওয়ায় যেমন মেঘ ভেসে যায় তেমনি এর পক্ষে কঠিন প্রমাণের অভাবে এই বক্তব্যও উড়ে যায়।
গৌতম মরে গেছেন, তাঁর লোকজনরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে; কে এই অনুমতি দিয়েছে সেটা আলোচনার বিষয়। তাছাড়া এই গানের জন্য যথার্থ টাকা, স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে কিনা সেটাও পরিষ্কার জানা নেই। কোন একটা সৃষ্টির জন্য কেবল টাকা শোধ করাটাই জরুরি না, তারচেয়েও জরুরি হচ্ছে সম্মান-স্বীকৃতি দেয়া। প্রমাণ-অপ্রমাণ আপাতত থাকুক এটা এই লেখার মূল উপজীব্য না। বোম্বাইয়াদের উপর তেমন দাবীর জোর নাই কিন্তু আমাদের জেমস?

জেমসের তো জানার কথা এই গানটার পুরো কৃতিত্ব মহীনের ঘোড়াগুলি ব্যান্ডের। আমার জানামতে জেমস কোন অনুষ্ঠানে এই অবদানের কথা ফলাও করে তুলে ধরা দূরের কথা স্বীকৃতি দেয়ার ক্লেশও স্বীকার করেননি! অথচ গুরু জেমস এই গানটি আমাদের দেশে স্টেজ শোতে গাওয়ার জন্য আলাদা টাকা দাবী করেন। বোম্বাইয়ারা না জানুক গুরু জেমসের তো না-জানার কথা না এই গানের কথা, সুর সমস্ত কিছুই মহীনের ঘোড়াগুলি ব্যান্ডের। গুরুর চিন্তার এই সংকোচ কেন? কি হতো তিনি এই গানের দিকপালকে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলে।

এখন লোকজন কি বলে? 'পৃথিবী' গানটা শুনে ফট করে বলে বসে, আরে, এটা অমুক হিন্দি গানের নকল না? কী অন্যায়‍! হিন্দির আগ্রাসন এখন এতোটাই প্রবল আমাদের ভাবনা-টাবনা সব কিছু ছেয়ে ফেলছে। শাহরুখ খানরা আমাদের শিখিয়ে যান [১] বদলে দেন আমাদের মিডিয়ার ভাষাও। সেখানে কোন বাংলা গান থেকে ধার হিন্দি গান হবে এটা মেনে নেয়ার জন্য আমাদের দুর্বল মস্তিষ্ক প্রস্তুত না। বাংলায় কথা বলা একজন হিসাবে জেমসের উচিত ছিল কোথাও সুযোগ পেলেই এটা ফলাও করে বলা। আমার এই লেখার মূল সুর জেমসের এই গানটা গাওয়া নিয়ে আপত্তি না; জেমস আমাদেরকে এটা জানাননি, জানাবার তেমন চেষ্টা করেননি এটা নিয়ে।

গলায় গামছা ঝুলিয়ে দেশ উদ্ধারে অতি ব্যস্ততার কারণে জেমস বিষয়টার গুরুত্ব অনুধাবন করার প্রয়োজন বোধ করেননি নাকি চোখ বন্ধ ছিল বলে গুরু এবং গরুর পার্থক্যটা আলাদা করার সুযোগ হয়নি? আহা, পার্থক্যটা যে কেবল একটা হ্রস্ব উ-কারের!

সহায়ক সূত্র:
১. শাহরুখ: http://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_11.html