Saturday, December 11, 2010

শাহরুখ, শালা না, বলো চুতিয়া

ছবি ঋণ: ফিরোজ চৌধুরী/ কালের কন্ঠ
আজ শাহরুখ খান অনুষ্ঠান করে গেলেন। বৈশাখী টিভির সাংবাদিক মহোদয়গণ যখন ধারা বর্ণনা দিচ্ছিলেন তখন তাদের উচ্ছ্বাস দেখে মনে হচ্ছিল, এদের অজান্তেই খানিকটা 'পিসাব' বেরিয়ে গেছে।

কিছু সুশীল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলার চেষ্টা করছিলেন সংস্কৃতি, সংস্কৃতি বিনিময় ইত্যাদি। চু-ভাইরা এটা কবে বুঝবে দাদারা কেবল নেবে, দেবে না।

অন্তর শোবিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী স্টেজে নিয়ে এসেছিলেন স্ত্রীকে, কোন এক ফাঁকে শালীকে স্টেজে নিয়ে এসেছিলেন কিনা এটা বলতে পারি না।
স্বপন সাহেবের কাছ থেকিই আমরা জানলাম, অন্তর শোবিজের অন্তর নামটা তার ছেলের নাম। ছেলে এবং এই প্রতিষ্ঠান তারা একই সঙ্গে প্রসব (!) করেছিলেন।

দেবাশীষ বিশ্বাস যেটা উপহার দিলেন, কারও পক্ষে ইয়াবা সেবন করেও এমন জিনিস প্রসব করা সুকঠিন। তিনি আমাদেরকে জানালেন, পৃথিবীতে সাতটা ধর্ম। আজ আরেকটা ধর্ম যোগ হলো। সেটা হলো, শাহরুখইজম!
দেবাশীষকে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দেখা গেছে পা তুলে অসভ্যের মত বসার ভঙ্গি করতে। কিছু দর্শক অনুষ্ঠান প্রযোজককে আপত্তি জানিয়ে দেবাশীষের এই প্রিয় ভঙ্গি বদলাতে সহায়তা করতেন। এমন উম্মাদ, বেয়াদবকে আদব শেখাবার গোপন ইচ্ছা ওই সব সহৃদয় দর্শকের মত অন্তত আমার নাই।

শাহরুখ বেচারাকে দোষ দেই না, এই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা শাহরুখ খানকে বলে দেয়ার তকলীফ করেননি যে আমরা এখনও ভারতের কালচারে অভ্যস্ত হয়ে উঠিনি। হিন্দির আগ্রাসন কাকে বলে তা আজ ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে সচক্ষে দেখলাম।
শাহরুখ খান বাংলায় গালি শিখতে চেয়েছেন। ভাগ্যিস, চু...পোলা শিখেননি, শাহরুখ 'শালা' শিখেছেন, বলাটাও রপ্ত করেছেন। আমি আরেকটা গালি শিখিয়ে দিতে চাই। আর্মি স্টেডিয়ামে যে হাজার-হাজার মানুষ চল্লিশ হাজার টাকা পর্যন্ত টিকেট কেটে এসেছিলেন তাদের জন্য কেবল একটা কথাই বলা চলে, চু-তি-য়া...।

*শাহরুখ খানকে নিয়ে দেখলাম কিছু মানুষের অন্য রকম আগ্রহ হচ্ছে। তাঁদের আশা, তিনি আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় কিছু দিয়ে যাবেন। বটে! জনসমক্ষে সিগারেট হাতে নিয়ে শাহরুখ ভালই শেখালেন। শেখো বঙ্গাল, শেখো। সযতনে বাঁশ দিয়ে গেলেন এখন আমাদের কাজ হচ্ছে বাঁশটা যত্ন করে রাখা এবং প্রয়োজনে এতে ভিউ মিরর লাগানো [১]

**বৈশাখী টিভিতে সংস্কৃতি বিনিময় নিয়ে লম্বা লম্বা কথা শুনছিলাম এদের মধ্যে একজনকে দেখলাম এর কেডসের তলা দেখা যাচ্ছে। এ তো এখনও ভদ্র সমাজে বসার ভঙ্গিটাই রপ্ত করতে পারেনি! এর হাতে যদি থাকে আমাদের সংস্কৃতি রক্ষার দায়িত্ব... ভয়ে আমি চোখ বন্ধ করে ফেলি।
এখানে এক প্রসঙ্গে আমি লিখেছিলাম, দাদারা কেবল নিতেই জানেন, দিতে জানেন না। ছোট্ট কিছু উদাহরণ: ভারত ১০০ কোটি ডলারের ঋণ দিচ্ছে। ঋণ দিবি, সুদ নিবি, সমস্যা কোথায়? না, দাদাদের আবদার, ১০০ কোটি ডলারের মধ্যে ৮৫ ভাগ টাকার পণ্য কিনতে হবে দাদাদের কাছ থেকে এবং বাকী ১৫ ভাগে টাকার পণ্য তাদের পরামর্শ অনুযায়ী।
এমনিতে বাংলাদেশের বাজারে ভারত দুই হাজার ৮৬টি পণ্য রপ্তানি করতে পারে, পাশাপাশি বাংলাদেশ রপ্তানি করতে পারে কেবল মাত্র ১৬৮টি পণ্য!
এই হচ্ছে বাস্তবতা!

***শাহরুখ কেমন করে আমাদেরকে কৃষ্টি-সংস্কৃতি শিখিয়ে গেলেন তার নমুনা হচ্ছে দেশ-মা-মা, ম্যা-ম্যা করে গলার গামছা ভিজিয়ে ফেলা প্রথম আলো শিরোনামে লিখেছে, "...মউজ মাস্তিতে মাতিয়ে দিলেন শাহরুখ"। 'মইজ-মাস্তি'? হা হা হা, কেমন করে একটি জাতীয় দৈনিকের ভাষা পরিবর্তন হয়ে যায়! আমি অপেক্ষায় আছি কালে কালে এই পত্রিকাটির নাম হবে 'পাহেলি রোশনি'। পাকিরা নাই [২], তাতে কী, দাদারা আছে না...। আগামিতে মতি ভাইয়া কলাম লিখবেন, মেরি মায় বাপ...।
ওয়েল, এখন জায়গার সমস্যা হয় না কিন্তু আমাদের সেক্টর কমান্ডার মীর শওকত আলীর মৃত্যুর খবর প্রথম পাতায় ছাপতে ইয়ে ফেটে যায়, না?
এমনিতেও আমাদের দেশে হিন্দির আগ্রাসন দেখে আমি আশা করছি, আগামীতে হিন্দি হবে আমাদের দ্বিতীয় ভাষা...।

সহায়ক সূত্র:
১: বাঁশ...: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_09.html
২. মতি ভাইয়ার দরখাস্ত: http://www.ali-mahmed.com/2009/06/blog-post_18.html