Monday, November 8, 2010

চুরি-চামারি!

মনোজ বসুর 'নিশিকুটুম্ব' পড়ে আমি হাঁ হয়ে গিয়েছিলাম! বারবার পড়েও আমার এই মুগ্ধতা কাটেনি! চুরিকে কেমন করে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়, ছত্রে ছত্রে এর বর্ণনা। 'নিশিকুটুম্ব' পড়ে কেউ চোর হতে চাইলে তাকে দোষ দেয়াটা মুশকিল হয়ে পড়ে।

আমাদের দেশে চোর একটা রহস্যময় চরিত্র। কেউ কেউ মালকোঁচা মেরে খালি গায়ে চুরি করে, গায়ে নাকি আচ্ছা করে তেলও মাখার নিয়ম। যেন কেউ আটকে ফেলার চেষ্টা করলেও অনায়াসে ফস্কে যাওয়া যায়। চুরি করতে না-পারলে ওই বাড়িতে বাথরুম সেরে আসার প্রবণতা, এমনটাও পূর্বে দেখা গেছে। এটা বড়ো ভাবনার বিষয়! চুরি করতে ব্যর্থ হলে কেনই বা ওদের 'অন-স্পট' বাথরুম করতে হয় আর কেমন করেই বা ইচ্ছা করলেই বাথরুম সারা যায়! যখন-তখন বাথরুম করা কী চাট্টিখানি কথা?
এদের হাতের নাগালে পাই না বিধায় এই বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ করার কোন সুযোগ নাই।

আমাদের দেশে চোরকে ধরতে পারলে 'পিটাপিটি' করারই নিয়ম। রোগের কারণে যে মানুষটা বিছানায় পড়ে আছে দীর্ঘ সময়, চোরকে পেটাবার বেলায় তার শরীরেও কোত্থেকে যেন অসুরের শক্তি চলে আসে! চোরকে আইনের কাছে সোপর্দ করার খুব একটা আগ্রহ কারও মাঝে দেখা যায় না। চোর ধরা পড়েছে কিন্তু তাকে জামাই আদর করা হয়েছে এমন উদাহরণ বিরল। অল্প বিরল মানুষদের মধ্যেই এমন উদাহরণ আছে। আমাদের হুমায়ূন আহমেদ চোর ধরে তাকে চা-বিস্কিট খাইয়ে বিদায় করেছেন এমনটা তার লেখায় আমরা জেনেছি। হুমায়ূন আহমেদের মত উদার মানুষ হালিতে ক-টা মেলে?

সুশীল চোরদের বেলায় আবার হিসাব অন্য রকম। এদের আমরা কেবল জামাই আদরেই রাখি না বলতে গেলে মাথায় তুলে রাখি।
হানিফ সংকেত [১], আনিসুল হক [২], মঞ্জুলী ফেরদৌস [৩], মাহমুদ্দুজ্জামান বাবু, ডলি সায়ন্তনী, বিবিসি [২], গ্রামীন ফোন [৪], এঁরা নিশিকুটুম্বের সাহেবের মত এই বিদ্যাটাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যান। পরের প্রজন্ম এঁদের কাছ থেকে শেখে কেমন করে চুরি-চামারি করতে  হয়।
ব্লগস্ফিয়ারে তো এর অবস্থা ভয়াবহ। কে যে কোত্থেকে কার লেখা নিজের বলে চালিয়ে দেবে এটা আঁচ করা কঠিন। অবশ্য এর পেছনে আমাদের মিডিয়ার অনেক লম্বা হাত আছে। এরা এখান থেকে অবলীলায় যে-কোন লেখা নিয়ে নেবেন, কৃতজ্ঞতা স্বীকারের কোন বালাই নাই। মন ভাল থাকলে লিখে দেবেন, ওয়েব সাইট অবলম্বনে। ব্যস, এই-ই!

ডয়চে ভেলে থেকে বাংলা উইকি নিয়ে আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন সবে কবি নজরুলকে [৫] নিয়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ লেখাটা লিখছিলাম। দিনের-পর-দিন, মাসের-পর-মাস, বছরের-পর-বছর, যুগের-পর যুগ ধরে কবির সঙ্গে যে ভয়াবহ অন্যায় করা হচ্ছিল এই প্রসঙ্গ নিয়ে তখন প্রচুর তথ্য আমার প্রয়োজন হচ্ছিল। বাংলা উইকিতে এই সংক্রান্ত কিছু তথ্য পেলাম কিন্তু হাইপার লিংকগুলোতে যথেষ্ঠ তথ্য ছিল না। নিরুপায় হয়ে অনেক উদাহরণের সঙ্গে ইংরাজি উইকির উদাহরণ দিতে হয়েছিল।
তো, ডয়চে ভেলের এই প্রতিবেদন [৬] খুঁজতে গিয়ে যেখানে এই লেখাটা পেলাম এটা পড়ে আমি হতভম্ব। dhakanews24.com, এদের এই প্রতিবেদনটা পড়ে মনে হচ্ছে এটা বুঝি এদের নিজস্ব প্রতিবেদন। কোথাও ডয়চে ভেলের কোন নাম-গন্ধও নেই! অন্যগুলোর কথা বাদও দিলে এরা আমার যে উদ্বৃতি দিয়েছে, এদের কাছে এমন কোন কথা ভুলেও আমি বলিনি। এদের কারও সঙ্গে এই বিষয়ে আমার কোন কথাই হয়নি!
এই প্রতিবেদনটার প্রতিবেদক Taskin Ahmed, কে এই Taskin Ahmed? মানুষটাকে তো আমি চিনি না! এই মানুষটার সঙ্গে পরজনমে দূরের কথা ইহজনমেও বাতচিত হয়নি আমার! তাহলে?
সচরাচর আমি কোন সাইটের লিংক ব্যবহার করি। দায়ে না-পড়লে স্ক্রিনশটও দেই না। কিন্তু কোন চোর-চোট্টা সাইটের ট্রাফিক বাড়ানোর গোপন অভিলাষ আমার নাই। অতএব স্ক্রিনশটই সই।
সূত্র: dhakanews24.com
সূত্র: dhakanews24.com
সহায়ক লিংক:
১. হানিফ সংকেত: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_02.html
২. আনিসুল হক/ বিবিসি, বাংলা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_27.html
৩. মঞ্জুলী ফেরদৌস: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_21.html
৪. গ্রামীন ফোন: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_06.html
৫. কবি নজরুল: http://www.ali-mahmed.com/2010/10/blog-post_21.html
৬. ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন: http://ht.ly/21Z7s