Sunday, November 7, 2010

প-তে পাকস্থলী, প-তে প্রথম আলো

পাকস্থলী জিনিসটা লা-জবাব! এ সব হজম করে ফেলে কিন্তু নিজে হজম হয় না। লাগাতার এই কান্ড করেই যাচ্ছে, পাকেপ্রকারে। এর একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কপচানো এখানে এই লেখার মূল উপজীব্য না। তাই বলে মানুষের পাকস্থলি কেন বিষাক্ত এসিড হজম করতে পারে না এই নিয়ে কুতর্কে যাই না।
মোদ্দা কথা, পাকস্থলি সব হজম করে ফেলে, আকৃতি বদলে ফেলে কিন্তু নিজে নিজেকে হজম করে না, অবিকৃত থাকে।

প্রথম আলোর অবস্থাটা অনেকটা এমনই। এরা সব বদলে ফেলতে চাচ্ছে কিন্তু নিজেরা বদলাবে না বলে পণ করেছে। বদলাবে না পণ করেছে এটা ভুল বললাম আসলে এদের ধারণা, এদের বদলাবার কোন অবকাশ নাই- পাকস্থলী যে!
প্রথম আলো নিয়ে লিখব না বলে আমিও পণ করেছিলুম কারণ দেখা গেছে এদের নিয়ে লিখতে গেলে অন্য সমস্ত লেখালেখি বাদ দিতে হয়। এমনিতেও প্রথম আলোকে নিয়ে প্রচুর লেখা হয়েছে [১], এখন এদের নিয়ে লেখা আমার কাছে মনে হয় 'ফিযুল', স্রেফ শব্দের অপচয়। 'প্রকাশনার ১২ বছর', এটাকে সামনে রেখে ঢোলের শব্দে কান পাতা দায়! অবশ্য যেখানে প্রথম আলোকে নিয়ে এই দেশের সুশীলরা তেলতেলে লেখা লিখছেন সেখানে এই মুহূর্তে প্রথম আলোকে নিয়ে কোন তেলিবেলির লেখার চেষ্টা করাটা খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে হয় না।

কেবল আসিফ নজরুলকে প্রথম আলোয় দেখলাম খানিকটা অন্য রকম লেখা লিখতে, 'প্রথম আলো: পাঠকের কাঠগড়ায়' [২]। যে আসিফ নজরুলকে আমরা দেখি টক-শোতে টক টক করে অনবরত সমালোচনায় মুখর হতে সেই আসিফকেই আমরা এখানে দেখি মৃদু লাটিচার্জের মত মৃদু-মৃদু কথা বলতে। তিনি লিখেছেন, "বিজ্ঞাপন আগ্রাসন থেকে এটি অনেক পত্রিকার তুলনায় মুক্ত। কিন্তু প্রথম আর শেষ পাতার অর্ধেক বিজ্ঞাপনে ভরে গেছে এমন ঘটনা প্রথম আলোর ক্ষেত্রেও কখনো কখনো ঘটে"।

কখনো কখনো? হা হা হা। আসিফ নজরুলের শব্দের খেলা দেখে আমি মুগ্ধ, এই মুগ্ধতা অবশেষে কৌতুকে পরিণত হচ্ছে। ৫ নভেম্বর, এই দিন আমি যদি বিশেষ সংখ্যা বাদও দেই; কেবল মূল কাগজ নিয়েই যদি আলোচনা করি, এই দিনই প্রথম এবং শেষ পৃষ্ঠার ভরানো বিজ্ঞাপনের কথা যদি বাদও দেই। এবং বাদ দিলাম ভেতরের অন্য পৃষ্ঠার অর্ধেক পৃষ্ঠাব্যাপি বিজ্ঞাপনও। তারপরও ৬, ১৭, ১৮ পৃষ্টায় ক-লাইন সংবাদ এটা আসিফ যদি আমাদেরকে একটু জানাতেন। আপনার কাছে স্কেল না-থাকলে নিয়ে আসুন আপনার আইনের বই। পত্রিকার উপর রেখে এড়ি-দুড়ি-তেলকা এই পদ্ধতিতে মেপে দেখি গোটা পত্রিকায় কয় হাত খবর এবং কয় হাত বিজ্ঞাপন?
ছবি ঋণ: প্রথম আলো
যাগ গে, বিজ্ঞাপন নিয়ে লেখার ইচ্ছা আমার ছিল না। বিজ্ঞাপনের ফাঁকে ফাঁকে খবর পেলেই আমরা পাঠক আনন্দে উল্লসিত হই এবং সুশীলরা পুচ্ছ আন্দোলিত করেন; সাদা-সাদা গোঁফসহ ঝড়ের গতিতে হাজির হয়ে যান।
৫ নভেম্বরের বিশেষ সংখ্যায় এই ছবিটা ছাপা হয়েছে। আমি এটাকে ছবি বলব না, একটা মাস্টারপীস!
এই ছবিটা গত বছর যখন আমি দেখি তখন হতভম্ব হয়ে ভাবছিলাম, কেমন করে এই ছবি ধারণ করা সম্ভব? এই ছবিটা আমার মাথা কী এলোমেলোই না-করে দিয়েছিল! পারতপক্ষে কোরবানির কোন পশুর কাছে যাই না, আমি সহ্য করতে পারি না। কিন্তু এই ছবির প্রভাব সমস্ত হিসাব গোলমাল করে দিল।
সত্যি বলছি, গরুর চোখের শত-শত ছবি উঠালাম কিন্তু কোনটাই আমার মনে ধরল না। যে সুবিধাটা এই আলোকচিত্রি পেয়েছিলেন তা আমি পাইনি। আমার ছিল দুর্বল লেন্সের একটা ক্যামেরা, সাবজেক্ট হিসাবে মাত্র একটা গরু এবং যেখানে গরুটা বাঁধা ছিল সেখানে আলোর সমস্যা। সূর্য ছিল গাছের আড়ালে, আলোর ঠিক প্রতিফলনটা পাচ্ছিলাম না। শত-শত ছবির মধ্যে কেবলমাত্র একটা ছবি আমার পছন্দ হয়েছিল, যে ছবিটা রূপান্তর [৩] নামের একটা লেখায় ব্যবহার করেছিলাম।

তো, প্রথম আলোর এই ছবিটার সঙ্গে সমস্ত তথ্যই আছে। গরুটা ওই সময় কি ভাবছিল, খুঁজছিল এটাও মতি ভাইয়া আমাদেরকে জানিয়েছেন কিন্তু ছবিটা কে উঠিয়েছেন এই তথ্যটা দিব্যি চেপে গেছেন। এটা ছবিটা কি স্বয়ং গরু উঠিয়েছে, না মতি ভাইয়া, নাকি এই অফিসের কোন চাপরাসি এই তথ্যটাই কেবল জানা যাচ্ছে না। মতি ভাইয়া গং, এঁরা যে এই ফাজলামিটা কেবল আজই করলেন এমন না অতীতে বহুবার করেছেন। এই সব ফাজলামি নিয়ে আমি নিজেই অনেক লেখা লিখেছি [৪]
নির্বোধদের কে বোঝাবে, একটা ছবিও একজনের কাছে সন্তানের মত। কোন দৈনিকে কাজ করলেই সেই দৈনিকের কোন অধিকার নাই সেই ছবিটাকে জারজ বানিয়ে দিতে। একটা ছবি উঠাবার জন্য কেমন দক্ষযজ্ঞ করতে হয় [৫] , দালির ছবি উঠাবার নমুনা দেখলে খানিকটা আঁচ করা যাবে। কেভিন কার্টার একটা ছবির বদৌলতে কেমন করে অমর হয়ে যান এই সব মতি ভাইয়ার মাথায় আদৌ ঢুকবে বলে আশা করি না।

ঋণ: প্রথম আলো/ ৫ নবেম্বর, ২০১০
তবে মতি ভাইয়ার খানিকটা উন্নতি হয়েছে। এই বিশেষ সংখ্যায় অজস্র ছবি ছাপা হয়েছে এবং আলোকচিত্রির নাম দেয়া হয়েছে এভাবে। এটা বেশ হয়েছে।

এটা মনে হয় মতি ভাইয়ার একটা খেলা, 'চিত্রজট' খেলা। পাঠকের উদ্দেশ্যে তিনি হাসি মুখে বলবেন, বেছে নাও..., চিত্র এবং চিত্রর বাপকে বেছে নাও। পাঠকও বিমলাননন্দে এই খেলায় ঝাঁপিয়ে পড়বে। এই নিয়ে 'কুটি-কুটি' এসএমএস প্রথম আলোর অফিসে জমা হবে। তড়িঘড়ি করে জেনারেলদের সঙ্গে মিটিং ফেলে মতি ভাইয়া সেনানিবাস থেকে অফিসে ছুটে আসবেন। প্রথম আলো ঘরানার সাদা গোঁফঅলা সুশীলরা আসবেন, গোঁফ সহ। আসবেন গাতকরা। গানও গাইবেন, কো-ও-ন ছওও-বি-র কোওওও-ন বা-প/ খুঁ-জ-তে গিই-য়ে বুওওও-কে ধওওও-র-লো হাঁআআআআ-প।
সে এক বিপুল আয়োজন!     

সহায়ক লিংক:
১. প্রথম আলো: http://tinyurl.com/3yadh4k
২. আসিফ নজরুল: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=13&date=2010-11-05
৩. রূপান্তর: http://www.ali-mahmed.com/2009/11/blog-post_1172.html 
৪. ছবি নিয়ে ফাজলামি: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_488.html
৫. দালি: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_6543.html
৫. কেভিন কার্টার: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_3172.html