Tuesday, November 2, 2010

বেদনা-আনন্দ, ক্রোধ-উপশম

পাক্কা ২দিন পর ল্যাপটপ হাতে পেয়েছি। ভাল কথা, ল্যাপটপের বাংলা কি? পত্রিকাওয়ালারা মোবাইল ফোনের বাংলা মুঠোফোন করলে ল্যাপটপের বাংলা কি করবেন? 'কোলশীর্ষ?
যাগগে, এমনিতে বোমা মারলেও লেখা বেরুতে চায় না কিন্তু এই ২দিন কেবলই মনে হতো, কত কি লেখা জরুরি। ভাবখানা এমন, চালু চাপকলের মত পানির বদলে লেখা বের হতো! পরশু দিন বিকেল থেকেই যন্ত্রটা বিগড়ে গেল। ডেস্কটপ হলে দু-চার ঘা মারা যেত কিন্তু অতি ক্ষুদ্র প্রাণ, বেচারা!

এখন চমৎকার কাজ করছে দেখে আনন্দ হচ্ছে কিন্তু মনটা বড়ো বিষণ্ণ হয়ে আছে। সমস্যাটা সম্ভবত অপরেটিং সিস্টেমে ছিল- আমার জন্য ভারী বিরক্তিকর একটা কাজ। তো, যার কাছে ল্যাপটপটা  দিয়েছিলাম এটা দেখে দেয়ার জন্য ওই মানুষটা আমার অতি প্রিয়।
এর পেছনের গল্পটা খানিকটা না-বললেই নয়, জানি না কেন, এই মানুষটা কেবল আমার লেখা পড়েনই নি; তাঁর দাবী, কাছা মেরে সমস্ত লেখাই নাকি পড়েছেন। বিশ্বাস করা কঠিন কিন্তু তিনি যে বানিয়ে বানিয়ে বলছেন না এটার পরীক্ষায় অবলীলায় পাশও করেছেন! কথায় কথায় তাঁকে একদিন আমি বলেছিলাম, আপনার জন্য সাতখুন মাপ। না বলে উপায় কী, আমার মতো অভাগার ভাগ্যে এমন মানুষ লাখে ক-টা মেলে? কিন্তু আজ তাঁর এই অপরাধটা ক্ষমা করতে পারছি না।

এই ২দিন তাঁর কাছে আমার এই যন্ত্রটা ছিল। তিনি আমার এই ল্যাপটপের তথ্যগুলো কেবল খুঁটিয়ে খুঁটিয়েই দেখেননি, এটাকে অযাচিত ব্যবহারও করেছেন। এমন কিছু কান্ড করেছেন যা আমার জন্য ভারী বিব্রতকর- কে বলেছে তাঁকে এই ঢোলটা আমার প্রয়োজন! এমনিতেও আমি নিরিবিলিতে থাকা মানুষ, ঢোল-ঢাল খুব একটা বাজাতে ভাল লাগে না।
তিনি কেমন করে ভাবলেন এটা আমি টের পাব না! কার কাছে এই বেদনার কথা বলি! তাঁর জানামতে আমার উপকার করার চেষ্টা...।
এটা সত্য এর পেছনে কাজ করেছে আমার প্রতি তাঁর মমতা তবুও তাঁর কি একবারও মনে হলো না কাজটা বিশ্বাস ভঙ্গের সামিল। এ যে অপরাধ, ঘোর অপরাধ। আমার প্রতি তাঁর সমস্ত মমতা ছাপিয়ে যাচ্ছে এই অপরাধ। অনুভূতিটা কাছ থেকে ছুঁরি খাওয়ার অভিজ্ঞতা।

আজ বেছে বেছে সব মনখারাপ করা ঘটনাগুলো একের পর এক ঘটছে। দুপুরে একজন পুরনো পত্রিকা দেখিয়েছেন। না-দেখলেই ভাল হতো। মুনসুর আলম নামের এক ছেলে এক স্কুলছাত্রীকে কেবল উত্ত্যক্তই করে আসছিল না, রিকশায় উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। লোকজন তাকে ধরে পুলিশে দেয়। পুলিশ একে আদালতে উঠালে সে আদালতে ১০০ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পায়। [১] (কালের কন্ঠ, ০১.১১.১০)

গুড। মিডিয়া এখন ইভ টিজিং [২] নিয়ে উত্তাল কিন্তু এরিমধ্যে একি কান্ড! এখন থেকে এমন নায়ককে পেলে পকেটে ১০০ টাকাও গুঁজে দিতে হবে কারণ বেচারাদের যে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হয়। আহা, নায়ককে এই সুবিধাটুকু না-দিলে কেমন করে হয়!
অভাগা দেশ, অভাগা আইন! এখনও আমরা আমাদের আইনটাই ঠিক করতে পারলাম না। ১০ টাকা দেয়া হয় একজন হাজতিকে তিনবেলা খাবার জন্যে! পূর্বে এক লেখায় আমি লিখেছিলাম:
"...এই দেশের অধিকাংশ আইন এখনো ব্রিটিশদের করা। রাষ্ট্রীয় কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত ৭৫০টি আইনের মধ্যে মাত্র ৯৭টি আইন বাংলায়, বাকীসব ইংরাজিতে! আবার আমরা লম্বা-লম্বা বাতচিত করি, ভাষা আন্দোলন, শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। ছাতাফাতা!..."
আমরা আমাদের প্রভু ব্রিটিশদের এখনো ভুলতে পারি না, প্রভু বলে কথা! কাজের কথা বলি, এই যে ১০০ টাকা জরিমানা- বিষয়টা কি? আইন কি চাচ্ছে? আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেই?


মাঝখানে শিক্ষক
এমনিতে আজ খানিকটা ভাল লাগার দিন কারণ তিনটা স্কুলের মধ্যে কেবল এই স্কুলটার ড্রেস বাকী ছিল, খানিকটা সমস্যা ছিল। আজ স্টেশনের স্কুলটার [৪] প্রায় সমস্ত বাচ্চাদের ড্রেস দেয়া হয়েছে। সবাইকে জড়ো করে ছবি উঠিয়ে বাসায় ফিরেছি মাত্র ; ভাগ্যের পরিহাস! অকল্পনীয় এক ঘটনা ঘটে যায়, অন্তত এখানকার জন্য। স্টেশনের স্কুলের টিচার তাহমিনা আমাকে ফোন করেন, ৫/ ৭জন ছেলে বাইরে থেকে এসে স্কুলের ভেতরে সিগারেট খাচ্ছে, আজেবাজে কথা বলছে, স্কুলের মেয়েদেরকে উত্ত্যক্ত করছে। ৩জনকে সে চিনতে পেরেছে।
নামগুলো শুনে আমি ধাক্কার মত খেলাম, এই ছেলে তিনটা তো এই স্কুলেই বেশ কিছুদিন পড়েছে। এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না বিধায় স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। এরা! আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।

আমি যেতে যেতে সব উধাও। এই বিষয়টা জানার পর কয়েকজন আমাকে যেটা বললেন সেটা শুনে আমার ক্রোধ আরও বাড়ে। এদের বক্তব্য হচ্ছে, এটা নিয়ে এখন নাড়াচাড়ার প্রয়োজন নাই পরে আবারও সমস্যা হলে তখন না-হয় দেখা যাবে।
আমি দুর্দান্ত ক্রোধ গোপন করে বলি, তার মানে এদের আরও বড়ো অপরাধ করার জন্য সুযোগ করে দেই, নাকি? তারচেয়ে আরও সহজ করে বলেন, স্কুলটা বন্ধ করে দেই। স্কুলও নাই, উত্ত্যক্তকারীও নাই, কি বলেন?
আমি এদের সদয় পরামর্শ উপেক্ষা করি। আমি মহান কোর্ট না যে ১০০ টাকা জরিমানা নিয়ে তাদেরকে পরবর্তীতে চরম অপরাধ করার জন্য সুযোগ করে দেব। আমার এতো মহান হয়ে কাজ নেই...।

অফটপিক:
জঙ্গলে ফাস্টফুড পাওয়া যায় না। জঙ্গলে চলে জঙ্গলের কাজ-কারবার। সাপ-ব্যাঙ যা পাওয়া যায় তাই খেতে হয়। ওখানে মাই লর্ড নেই, আছে কেবল জঙ্গলের আইন।

 সহায়ক লিংক:
১. কালের  কন্ঠ: http://www.dailykalerkantho.com/epaper/pop_up.php?archiev=yes&arch_date=01-11-2010&img_name=2010/11/01/newspaper/images/01_104.jpg
২. উত্ত্যক্তকারী: http://www.ali-mahmed.com/2010/10/blog-post_31.html
৩. ইংরাজি আইন: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_9242.html
৪.  আমাদের ইশকুল: http://tinyurl.com/327aky3