Sunday, September 12, 2010

জাফর ইকবাল, আলো-ছায়া

আমি আগেও লিখেছি, এই দেশে যে অল্প কিছু মানুষকে আমি পছন্দ করি তাঁদের মধ্যে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল একজন। এই মানুষটার সঙ্গে কথা বলার আমার সুযোগ হয়েছে, আমার মনে হয়েছে ভান বিষয়টা তাঁর মধ্যে নাই। যেটা তাঁর অগ্রজ হুমায়ূন আহমেদের মধ্যে প্রবল। হুমায়ূন আহমেদ আপাদমস্তক একজন ভানবাজ!

জাফর ইকবালের আরেকটা বিষয় আমাকে অভিভূত করে সেটা হচ্ছে, ঢাকায় বসবাস করার লোভ তাঁর নাই অথচ ইচ্ছা করলেই মানুষটার ঢাকায় থাকতে পারেন। এই দেশের সুশীলরা ঢাকায় বসবাস করার জন্য পারলে তাদের আত্মা বিক্রি করে দেন। পারলে প্রিয় মানুষকে কারও বিছানায় তুলে দেন। না-না, হইচই করার কিছু নাই- বিবাহ নামের বৈধতার মোড়কে। এই সুশীলরাই ঢাকাকে একটা মৃত্যুকূপ বানাচ্ছে [১], অচিরেই লক্ষ-লক্ষ মানুষের হত্যাকারীর খাতায় এরা নাম লেখাবে। 
এই মানুষটার প্রতি মুগ্ধতার আরও কারণ আছে। ১০ টাকার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের যে ক্ষীণবপু যে বইটা বের করেছেন [২] এটা একটা অসাধারণ কাজ হয়েছে এতে অন্তত আমার কোন সন্দেহ নেই।

আবার আমি এটাও মনে করি, প্রিয় মানুষের সব কিছুতে লাফাতে হবে এমন না। জাফর ইকবালের অনেক বিষয় আবার আমার পছন্দ না। ৭১ সালে সমস্ত দেশ যখন যুদ্ধে উত্তাল তখন এঁরা দু-ভাই পালিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। কেন জাফর ইকবাল যুদ্ধে গেলেন না এর উত্তর তিনিই ভাল দিতে পারবেন কিন্তু কাজটা অমর্যাদার, লজ্জার!
হরতাল নিয়ে তাঁর ভাবনা হাস্যকর [৩]! মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি নামে যে দল চকচকে মোড়কে মুড়িয়ে 'লেবেনচুষ' বিক্রি করে, জাফর ইকবাল অন্যদের মত এই বিষয়টা গুলিয়ে ফেলেন।
যাই হোক, মানুষ দেবতা না তাই তাঁর সব কিছুই নিখুঁত হবে এমনটা আশা করা সমীচীন না। দেখা প্রয়োজন যেটা, একজন মানুষের কতটা পচন ধরেছে...।

তাঁর লেখার চোর্যবৃত্তি  নিয়ে গুরুতর আপত্তি উঠেছে [৫] । আমি জাফর ইকবালের সমস্ত লেখা পড়িনি বলে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলাম। এর সদুত্তর দিতে পারবেন জাফর ইকবাল এবং ডিউক জন।
তদুপরি আমি মনে করি, এই পোড়া দেশে জাফর ইকবালের মত লোকই বা কোথায়? অন্তত তাঁর অগ্রজ হুমায়ূন আহমেদের [৬] মত দু-নম্বর তো আর না...। 

সহায়ক লিংক:
১. মৃত নগরী, ঢাকা: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_06.html
২.কুর্নিশ করি হে স্বপ্নবাজ: http://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_27.html
৩. হরতাল: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_3914.html
৪. পক্ষপাতদুষ্টতা: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8885.html
৫. ডিউক জন: http://dukejohndj.blogspot.com/2010/08/blog-post_25.html
৬. হুমায়ূন আহমেদ: http://www.ali-mahmed.com/2010/09/blog-post_09.html 

শৈশব, ফিরে আসে বারবার


এমনিতে ঈদ-পূজা নামের উৎসবগুলো আমি অসম্ভব সমীহের চোখে দেখি। কারণ এই উৎসবগুলো আমাদেরকে শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়- শেকড়ের কাছে ফেরা! কিন্ত খুব বেশি সময় হয়নি ঈদ নামের পর্বগুলোর পালন অশ্লীলতা-উৎকট-হারামিপনার পর্যায়ে চলে গেছে! এই দেশে সবচেয়ে বেশি দূর্নীতি হয় ঈদকে সামনে রেখে। শ্লা, সব ভিক্ষুক হয়ে যায় [১]! এই নিয়ে অন্য লেখায় আলোচনা করেছি [২], এখানে বিস্তারিত আলোচনায় যাই না।
ঈদকে সামনে রেখে উৎকট-অসভ্যতার জন্য আমাদের মিডিয়াও অনেকখানি দায়ী। জাতীয় দৈনিকগুলোর নকশা পাতায় দেড় লক্ষ টাকা দামের লেহেংগা, ৫৫০ টাকা গজ করে পাকিস্তানী কাপড়ের বিস্তারিত খবর যখন দিনের পর দিন ঘটা করে ছাপে তখন আমাদের নগ্ন-নাচ না নেচে উপায় কী!
...
বেশ ক-বছরের অভ্যাস। ঈদের দিন বের হওয়া হয় না কোথাও। দুর্জনেরা বলেন, আমি নাকি সমাধি নিয়ে নেই। নিজের রুমেই থাকি, অধিকাংশ সময় ফোন-টোন বন্ধ থাকে। ক্ষমতার কী বিপুল অপচয়!]
অথচ আমার প্রবাসী এক বন্ধু নিয়ম করে ঈদের দিন মেইল করবে, 'খাওয়াতে পারিস এক চামচ সেমাই? তোকে ১০০০ ডলার দেব'। ব্যাটা ফাজিল, কারও চশমার কাঁচ ঝাপসা করে দেয়া কোন কাজের কাজ না!

এবারে ঈদটা আমার জন্য অন্য রকম ছিল। তিনটা স্কুলের প্রায় ৮০জন বাচ্চা-কাচ্চা, কাচ্চা-বাচ্চা! দিনভর এদের নিয়ে আমার কিছু পরিকল্পনা ছিল, সবটা এখানে শেয়ার করতে চাচ্ছি না।
তিনটা স্কুলের মধ্যে 'স্কুল তিন' [৩], এটার প্রতি আমার আগ্রহ অন্য রকম, খানিকটা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে। এখানকার বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করার সুযোগ যে অপরিসীম।
যে টিচার এদের পড়ায় ওর ওখানে আজ এদের খানাপিনার আয়োজন ছিল। বিকেলে এদের ক্রিকেট খেলা। আয়োজন করে শিল্ড-মেডেল যোগাড় করা হয়েছে।

গিয়েছিলাম এদের খেলা দেখতে। আমার সঙ্গে আরও ৩জন। হঠাৎ মনে হলো এদের সঙ্গে খেলায় নেমে পড়লে তো মন্দ হয় না। আমরা দু-জন করে দুদলে। আমার দল হেরেছে :( কিন্তু দু-চোখ ভরে দেখলাম এদের উল্লাস, এদের খেলা, এদের চোখে আটকে থাকা উচ্ছ্বাস!
ছবি ঋণ: দুলাল ঘোষ
আমি জানি না, এরা বড়ো হয়ে কি কেউ ড, আতিউর রহমানের মতো হবে, নাকি চোর-চোট্টা। কিন্তু এদের জীবনে গল্প বলার মত গল্পের বড়ো অভাব! আজ থেকে এদের মস্তিষ্ক এই দেখা-অদেখা স্বপ্ন নিয়ে নিয়ে খেলবে, সবিরাম।

ছবি ঋণ: সমীর চক্রবর্তী
ছবি ঋণ: সমীর চক্রবর্তী
আমি মানুষটা বড়ো স্বার্থপর টাইপের। এদের কি হবে, না হবে এটা নিয়ে এই মুহূর্তে মাথা ঘামাচ্ছি না। ঘামাচ্ছি নিজেকে নিয়ে। আমার নিজের কতটা কাল পর মাঠে বল পেটানো- আমার কেবলি মনে হচ্ছিল, শৈশবের একটা অংশ আবার ফেরত পেয়েছি। হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফিরে আসে, বারবার...।

সহায়ক লিংক:
১. ভিক্ষুক: http://www.ali-mahmed.com/2010/09/blog-post_03.html
২. এমন দেশটি কোথাও...: http://www.ali-mahmed.com/2009/08/blog-post_30.html
৩. আমাদের ইশকুল, : http://tinyurl.com/327aky3
৪.আমাদের কুমিল্লা: http://www.dailyamadercomilla.com/content/2010/09/14/news0865.htm