Friday, August 6, 2010

জিরো ক্রেডিট: ব্যর্থতা এবং...

জিরো ক্রেডিট নামের যে ব্যবস্থাটা চালু করা হয়েছিল- জাহাঙ্গীর আলম নামের যে মানুষটাকে [১] ব্যবসা করার জন্য কাপড় কিনে দেয়া হয়েছিল, মানুষটাকে আমি পরদিনই দেখেছি ভিক্ষা করতে। এর সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, এই মানুষটার সমস্যা আছে, কথা এবং কাজে কোন মিল নাই। পূর্বে এর মধ্যে যে বিপুল উৎসাহ লক্ষ করেছিলাম এখন তার ছিটেফোঁটাও নাই। এ বিনা পরিশ্রমে প্রচুর টাকা আয় করার পদ্ধতিটা ভালই রপ্ত করেছে।

আমার মন কি খানিকটা বিষণ্ন হয়। হয়, বড়ো তীব্র! কারণ মানুষটা আমার ছোট্ট স্বপ্নটা নিয়ে বাজে একটা খেলা খেলেছে। এ আমার পরাজয়, এ আমার ব্যর্থতা...! কিন্তু এ পরাজয়, ব্যর্থতা আমাকে দমাতে পারবে না, আমি আমার চেষ্টা অব্যাহত রাখব। এটা যদি ভুল হয়ে থাকে এমন ভুল আমি করব, বারবার। একটা বাজে উদাহরণ কারও স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারে না।

জিরো ক্রেডিটের আরেকজন হাকিম মিয়া [২]। পাগলের মত আমি হাকিম মিয়াকে খুঁজতে থাকি।
চামড়া ঝলসানো রৌদ্র আমাকে কাবু করার চেষ্টা করে, আমি গা করি না। দরদর করে ঘামছি। কিন্তু হাকিম মিয়াকে খুঁজে পাওয়াটা আমার জন্য যে বড়ো জরুরি।

অবশেষে মানুষটাকে খুঁজে পাই। বাদাম না, মানুষটা পেয়ারা বিক্রি করছে, তাতে কী! মানুষটাকে আমি দূর থেকে লক্ষ করতে থাকি। মানুষটা জানেও না কখন আমি তার ছবি উঠিয়েছি।

একজন মানুষকে পরাজিত করা যায় কিন্তু তার স্বপ্নকে পরাজিত করা যায় না।

সহায়ক লিংক:
১. জাহাঙ্গীর আলম: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_25.html 
২. হাকিম মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_03.html

 ... ... ...
আপডেট:  ১১ আগস্ট, ২০১০
আজকে পাঁচ দিন পর হাকিম মিয়াকে আবারও পাই। ছোট্ট প্লাস্টিকের বোলের জায়গা করে নিয়েছে ঢাউস এক টুকরি। বেড়েছে পেয়ারার আকার, সংখ্যা...!

কী অসম্ভব চমৎকার একটা দৃশ্য! কী অসাধারণ এক অন্য ভুবনের হাসি! প্রচন্ড রোদের কারণে কি না আমি জানি না, আমার মাথা খানিকটা এলোমেলো হয়ে যায়।
ফিরে আসতে আসতে আমি বিড়বিড় করতে থাকি, বাঘের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাবার জন্য গাছ কোথাও কোথাও একটা থাকবেই, থাকতেই হবে। তেমনি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কোথাও না কোথাও একটা স্বপ্নকে থাকতেই হবে নইলে একজন মানুষ এবং একটা শবের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না...।