Friday, July 30, 2010

কনক পুরুষ: ৪

ইভা বিরক্ত হয়ে টিভি অফ করল। সিএনএন-এর অনুষ্ঠান হচ্ছে। নিউজ আর নিউজ, বিরক্তিকর। ক্লিনটন গোদা গোদা পা ফেলে দৌড়াচ্ছে, ক্যামেরাও দৌড়াচ্ছে। ক্লিনটন ক্যানের জুস খাচ্ছে, চিবুক বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে, বোকা বোকা হাসি হেসে ফাটা গলায় গাঁ গাঁ করছে; আরিজোনায় বৃষ্টি হবে কি না এটা ঘনঘন জানানো হচ্ছে, যেন আরিজোনার বৃষ্টির আশায় আড়িখোলার লোক উদগ্রীব হযে বসে থাকে! 
পরিবারের সবাই মিলে ‘শো বিজ’ 'স্টাইল'-এর অ্যাড দেখে কি করে কে জানে! ‘স্টাইল’-এর মডেলদের বুক কতভাগ ঢাকা আর কতভাগ খোলা এ নিয়ে থিসিস সাবমিট করা যেতে পারে। একেকজনের কী হাঁটা, কোমর একবার একহাত ডানে চলে যাচ্ছে আরেকবার দেড় হাত বাঁয়ে।

ইভা বিস্মিত হলো, জয়ের কালেকশনে দেখি প্রচুর বই। এসব বই পড়ল কখন! অডিও ক্যাসেটই হবে তিন চারশোর কম না। ডায়েরি দেখছে একুশটা। ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখল, একেকটায় একেক রকম বিষয়। কোনটায় বিজ্ঞান বিষয়ক তথ্য কোনটায় মজার মজার সব কথা, কোনটায় বা বিচিত্র সব তথ্য। তিনটা ডায়েরির পুরোটাই হলো পেপার কাটিং। সব ধুলোয় মাখামাখি।
শাশুড়ীর কাছে একটা ময়লা কাপড়-টাপড় চেয়েছিল।
তিনি বলেছিলেন, কাপড় দিয়ে কি করবে, বৌমা?
মা, ধুলায় দেখেন না কি অবস্থা!
‘সাবধান, বৌমা, ও কাজ করো না। আমি পরিষ্কার করতে গেলে তেড়ে আসত যেন গুপ্তধনে হাত দিয়ে ফেলেছি।
মা, ক্যাসেটগুলো ধুলো পড়ে নষ্ট হবে তো।
হোক, তুমি এ নিয়ে মাথা ঘামিয়ো না। ও একটা পাগল-ছাগল। একবার কি হলো জানে, ওর চশমা ভেঙ্গে গেল। বাড়তি চশমা নাই। নতুনটা একদিন পর পাওয়া যাবে। ডানদিকে মাইনাস সাড়ে সাত, বামেরটা সাত। সন্ধ্যায় দেখি দিপুর খেলনা বাইনোকুলার চোখে লাগিয়ে মগ্ন হয়ে টিভি দেখছে। আমি অবাক হয়ে বললাম, কিরে জয়, এই সব কি! 

জয় বলল, কিছু না তো মা, টিভি দেখছি। চশমা ছাড়া তো কিছুই দেখি না। এটা লাগিয়ে কি বড় আর পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। 
আমি হাহাকার করে বললাম, জয়, তোর চোখ এত খারাপ!
ও হাসতে হাসতে বলল, আহ মা, এমন করে বলছ, যেন আমি অন্ধ হয়ে গেছি? 
কেমন দাঁত বের করে হাসছিল, ইচ্ছা করছিল ঠাস করে একটা চটকনা লাগাই। ওমা কি কান্ড, ওর চোখ যে এত খারাপ এটা বলে দিলাম বুঝি! বৌমা, আমি কিন্তু কিছু বলিনি।

শাশুড়ি হাসি গোপন করে আবার বলেছিলেন, ওর আরও কান্ড-কীর্তি শুনবে? বাসায় ও হঠাৎ করেই টুপি লাগানো শুরু করল। আমি স্বস্তির নি:শ্বাস ফেললাম, যাক এতদিনে ছেলেটার ধর্ম-কর্মে মতি হলো। ওমা, কিসের কি! টুপি লাগিয়ে দিব্যি খাচ্ছে-দাচ্ছে! সন্দেহ হলো, নাহ, গন্ডগোল আছে। জিজ্ঞেস করতেই নিরীহ গলায় বলল, মা, চুল বসাচ্ছি। 
আমার তো মাথায় হাত, চুল বসাচ্ছিস মানে? বান্দরটা বলল কি জানো? বলে, দেখো না, চুল কি শক্ত! জানো মা, মাঝে মাঝে খুব রাগ হয়, ইচ্ছা করে মাথা কামিয়ে বাথরুম পরিষ্কার করার ব্রাশ বানিয়ে ফেলি। আর দেখো, কেমন ভাঁজ খেয়ে পদ্মার ঢেউ খেলে থাকে। চুল ঠিক করতে দশ-পনেরো মিনিট সময় লাগে। এর কোন মানে হয় বলো, সুপারসনিক যুগে? এ অপচয়, জঘন্য-জঘন্য।
ইভা শাশুড়ীর কথা শুনে হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছিল না। এর দেখি অদ্ভুত সব কান্ড কারখানা। ডায়েরিতে এক জায়গায় লিখে রেখেছে সংসদ বাঙ্গালা অভিধান মতে, কুত্তা মানে কুকুর। বন্ধনীতে উল্লেখ করা হয়েছে খেঁকি কুত্তা, ডালকুত্তা, নেড়ি কুত্তা। এই তিন কুত্তাকে কি করে চেনা যাবে এটা বলা হয় নাই। এটা অনুচিত হয়েছে। এদের চেনার উপায় সম্ভবত এরকম,
খেঁকিকুত্তা: দু-পেয়েরা ওর মত নয় দেখে অযথাই খেঁক খেঁক করে।
ডাল কুত্তা: ভার্সিটির ডাল খেতেও যাদের অনীহা নেই।
নেড়িকুত্তা: নেড়া মাথায় বিমর্ষ মুখে যে কুত্তা ঘুরে বেড়ায়।
জয় আরেক জায়গায় লিখেছে, এবারের কোবানী অ্যান্ড চাবানী ঈদে (যে সময় গরু ছাগল কুপিয়ে আরামসে চাবানো হয়) সুবিধে করা গেল না।


ইভা ব্যবহারে একটা কাপড় দিয়ে যতটুকু পারা যায় কম নাড়িয়ে ধুলো সরাতে লাগল। মাগো, কী নোংরা! এত নোংরা মানুষ থাকে, ছি! আর এই সব কি, যেখানে-সেখানে সিগারেটের ছাই ফেলেছে। কোথায় ফেলেনি? অডিও ক্যাসেটের খালি খাপ, পেনস্ট্যান্ড, ডেস্ক ক্যালেন্ডার-এ।
জয় ভেতরে ঢুকে খক খক করে কাশতে কাশতে বলল, ‘একি অবস্থা, ঘর দেখি ধুলায় অন্ধকার, হচ্ছে কী!’
‘দয়া করে একটাই কাজ করো; হয় কাশো, নয়তো কথা বলো।’
‘অ, এই ব্যাপার। জোরে শ্বাস নিতে গিয়ে নাকেমুখে ধুলা ঢুকে গেছে। কিন্তু তুমি করছ কি?’
‘দেখছ না, এত নোংরায় মানুষ থাকে!’
জয় ঠোঁট উল্টে বলল, ‘পরিষ্কার করে লাভ কি, আবার তো নোংরা হবে।’
ইভার খুব রাগ হচ্ছে, ‘লজ্জা করছে না তোমার এসব বলতে?’
‘কি মুশকিল, সত্য বলতে পারব না?’
কর্কশ শব্দে টেলিফোন বাজছে। ইভা বলল, ‘জয়, আমার মাথায় রাগ চেপে যাচ্ছে। তুমি যাও টেলিফোন ধরো।’
জয় টেলিফোনের রিসিভার উঠিয়ে বলল, ‘ইভা, তোমার ফোন।’
‘কে।’
'তোমার বোন ধ্রুবা। কোন সমস্যা হয়েছে কি না বুঝতে পারছি না, আমার সঙ্গে একটা কথাও বলল না।’


ইভার বুক ভয়ে কাঁপতে লাগল। কোন দুঃসংবাদ না তো? বাবার কি কিছু হলো? কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, ‘ধ্রুবা-ধ্রুবা, কি হয়েছে?’
ওপাশ থেকে ফোঁপানোর শব্দ ভেসে এল। ইভার সহ্যাতীত মনে হচ্ছে। ‘ধ্রুবা বল, বল কি হয়েছে; বাবা ঠিক আছে তো?’
ধ্রুবা কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘আপু, বাবা না আমাকে চড় দিয়েছে।’
ইভার বুক থেকে পাষাণ ভার নেমে গেল। কিন্তু বাবা তো আজতক কারও গায়ে হাত তোলেননি!
‘তুই কি করেছিলি?
‘সাকলে আমি, বাবা-মা নাস্তা করছি। একটা রুটি শেষ করে আরেকটা নিয়েছি মাত্র-’
‘আহ ধ্রুবা, হয়েছে কি সেটা বলবি তো!’
‘আপু, এমন করছ কেন, বলছি তো। বাবা আমাকে বলল, ধ্রুবা এরকম চপচপ করে খাচ্ছিস কেন। আমি বললাম, চপচপ করে খাচ্ছি না তো। বাবা বললেন, ফাজিল মেয়ে চড় খাবি। আমি বললাম, চড় দিতে ইচ্ছা করলে দিয়ে ফেলো। বকছ কেন। বাবা আমাকে ঘুরিয়ে চড় দিলেন। আপু, আপু, বাবা আমাকে চড় দিলেন।’
ধ্রুবা গলা ফাটিয়ে কাঁদতে থাকল। ইভার কেন জানি হাসি পাচ্ছে। ধ্রুবা, বাবা এসব কি শুরু করছে। হাসি চেপে বলল, ‘তো এখন হয়েছে কি?’
‘হয়েছে কি মানে, বিনা কারণে চড় দিলেন, এটা কিছু না!’
‘তুই বললি চড় দিতে, বাবা দিলেন। ব্যস শেষ হয়ে গেল। ’
‘তুমি খুব মজা পাচ্ছ, না?’
‘দূর পাগল, ঠাট্টা করছিলাম।’
ধ্রুবা সম্ভবত টেলিফোন আছড়ে ফেলল।


জয় বলল, ‘কাজটা কিন্তু তুমি ঠিক করলে না।’
‘কি ঠিক করলাম না?’
‘ধ্রুবার সঙ্গে এভাবে কথা বলা ঠিক হয়নি। টিন-এজ মেয়েরা সাঙ্ঘাতিক আবেগপ্রবণ হয়, উল্টাপাল্টা কিছু করে ফেললে মহা সমস্যা।’
ইভা অস্বাভাবিক গম্ভীর হয়ে বলল, ‘তুমি মনে হয় টিন-এজ মেয়ে বিশারদ।’
‘ধ্যাৎ, বিয়ের আগে কোন মেয়ের সঙ্গে ভাল করে পরিচয়ই হয়নি। দেখছ তো বাঁশগাছের মতে এই আকৃতি, মেয়েদের সঙ্গে কথা বললেই সব কেমন এলোমেলো হয়ে যেত। ভাল লাগার কথা সাহস করে কাউকে বলতেই পারলাম না। বাঁশগাছ দেখে মেয়েরাও গা করল না। একজনের সঙ্গেই পরিচয় হয়েছে, সে হচ্ছ তুমি।’
‘এ নিয়ে খুব কষ্টে আছ মনে হয়, ঘটা করে ঠান্ডা শ্বাস ফেলছ।’
জয় খসখস করে গাল চুলকে হাসল। ইভা তীক্ষ্ণ গলায় বলল, ‘কোনও মেয়েকে তোমার ভাল লাগেনি বলতে চাও?’
‘লাগবে না কেন, লেগেছে। তাতে কি হয়।’
‘কি হয়, সুন্দর সুন্দর মেয়ে দেখে মাথা ঘুরে যায়। তখন আমার মত মেয়েদের কুৎসিত মনে হয়।’
‘যাহ‌, তুমি কুৎসিত কে বলল!’
‘বলতে হবে, আমি বুঝি না, কচি খুকি?
‘বাদ দাও তো এসব।’
‘কেন, বাদ দেব কেন?’
‘আঃ ইভা, কিসব বলছ। আমি শুধু বলেছি ধ্রুবার বয়স কম, ঠিক এ মুহূর্তে ওর সঙ্গে রসিকতাটা করা ঠিক হয়নি। ব্যাস, এই তো।’
‘আমার বোনের সঙ্গে কি করব এটা তোমায় বলে দিতে হবে না।’
‘আচ্ছা, ঠিক আছে। খাবার নিয়ে মা বসে আছেন। এসো, খেয়ে নাও।’
‘সব নোংরা হয়েছে। যাও, কাপড় পাল্টে আসছি।’
জয়ের বেরুতে একটু দেরি হলো দেখে ইভা রাগী গলায় বলল, ‘দাঁড়িয়ে আছ যে, আমি কি তোমার সামনে কাপড় পাল্টাব?’

জয় দ্রুত বেরিয়ে যেতে গিয়ে যে ভঙ্গিটা করল পেছন ফিরলে দেখতে পেত ইভা হাসি চাপার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

সহায়ক লিংক: 
কনক পুরুষ, ৩: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_26.html

ছবি ব্লগ: হালকা চালের ব্লগ

প্রায়শ, এই সাইটে কঠিন কঠিন লেখা লিখতে গিয়ে ক্লান্তি লাগে আবার হালকা চালের লেখা লিখলে অনেকে রে রে করে তেড়ে আসেন :) । এখন থেকে ঠিক করেছি, অন্য একটা সাইটে পছন্দের কিছু ছবি পোস্ট, দুয়েক লাইনের হালকা চালের কিছু লেখা লেখব। 
মূলত এটা আমার নিজের জন্য কিন্তু ওখানে কেউ মাথা ঢুকিয়ে দিলে মাথা কাটা যাবে এমনটা ভাবার কোন অবকাশ নাই :)। ওই সাইটটার নাম দিয়েছি 'ছবি ব্লগ': http://chobiblog.blogspot.com/   

দেশপ্রেমিক (!)

কখনও কখনও অতি বুদ্ধিমান, অতি দেশপ্রেমিককে যখন দেখি তখন স্তব্ধ হয়ে ভাবি, কী বুদ্ধিমান, কী দেশপ্রেমিক! আহা, এদের কথা লিখে শেষ করি কেমন করে?
তৎকালীন মনোহরদী থানার বিএনপি সভাপতি সিরাজুল হক মাস্টার বলেছিলেন, 
"যারা পোস্টারে-লিফলেটে 'আল্লাহ সর্বশক্তিমান' লিখেন তাদেরকে বলছি, আল্লাহ বাংলা পড়েন নাই, তাই 'সর্বশক্তিমান' কথাটা আল্লাহ বুঝেন না। এখন থেকে 'আল্লাহু আকবর' লিখবেন, আল্লাহ বুঝবেন।"
তাই তো! এটা আমাদের মাথায় এলো না কেন? আল্লা বাংলা বুঝবেন কেমন করে? আহা, মাস্টার সাহেবের মত বুদ্ধি যে আমাদের নাই। এর বুদ্ধির কাছে আইনস্টাইন [১] কোন ছার! কী বুদ্ধিমান (!)।

বাংলাদেশের ইসলামী বিপ্লবী আন্দোলনের চেয়ারম্যান মওলানা (!) শামসুল হক জেহাদী বলেছিলেন,
"৭১-এ ৩০ লাখ মানুষ হত্যার অপরাধে গোলাম আযমসহ ৩০ লাখ জামাত-শিবির কর্মীকে জনসমক্ষে কতল করতে হবে। এ জন্যে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।"
এমন জেহাদীর মত দেশপ্রেমিকের কাছে মশিহুর রহমানের [২] মত দেশপ্রেমিক চাপা পড়ে যান। জেহাদীর সঙ্গে মশিহুর রহমানের তুলনা করাটাই ধৃষ্টতার সামিল! কী দেশপ্রেমিক(!)।
জেহাদী সাহেব উপায় বাতলে দিয়েছেন কিন্তু কিছু বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেননি। যেমন ৩০ লক্ষ মানুষকে জনসমক্ষে কতল করার সময় শিশু দুর্বলচিত্তদের কেমন করে ঘরে আটকে রাখতে হবে। এই বিপুল রক্ত, মৃত মানবদেহের কি গতি হবে? ওহে জেহাদী, এই ৩০ লক্ষ মানুষের শব পচে যে মহামারী ছড়িয়ে পড়বে এতে না আবার গোটা দেশ সাফ হয়ে যায়! জেহাদী, আপনি বাঁচবেন তো?

তেমনি ব্লগস্ফিয়ারেও এমন কিছু দেশপ্রেমিকের দেখা পেয়ে চমকে উঠি। নমুনা:
পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলায় ৮০ জন মারা গেছে অসংখ্য মানুষ পঙ্গু হয়ে গেছে। এই নিয়ে এই দেশপ্রেমিক (!) লেখাটা দিয়েছেন। এই লেখা নিয়ে অন্য দেশপ্রেমিকরা (!) মন্তব্য করেছেন:

 
এদের দেশপ্রেম আকাশ ছাড়িয়ে গেছে সম্ভবত এই কারণে পাকিস্তান আর্মি আমাদের উপর সীমাহীন অন্যায় করেছিল। 
এটা সত্য পাকিস্তানি আর্মিরা সৈনিক ছিল না, ছিল সাইকোপ্যাথ [৩]। কিন্তু সাইকোপ্যাথের মা-ও সাইকোপ্যাথ হবে নাকি? মা তো মা-ই, সে সাইকোপ্যাথের মা, নাকি মাছের মা [৪]; পার্থক্য কী!
প্রার্থনাস্থল, সেটা কোন ধর্মের এটা আলোচ্য বিষয় না, এটা আদিমানুষের হলেও কি আসে যায়! কেউ পাথরকে ঈশ্বরতুল্য মনে করে, করুক না; সমস্যা কোথায়! অন্যের মত, বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করতে না পারলে দানব আর মানবের মধ্যে ফারাক কোথায়!

আর মারা গেছে পশু না, মানব-সন্তান। ভাল কথা, এই দেশে কি পাকিস্তানি জনগণ এসে অত্যাচার করেছে, নাকি পাকিস্তান আর্মি? কতিপয় রাজনীতিবিদ, জেনারেল মিলে সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত পালন করে আর্মি- এদের এই শিক্ষা দিয়েই গড়ে তোলা হয়, চেইন অভ কমান্ডের পালন। 
এই দেশেরই নাগরিক আদিমানুষদের উপর বিভিন্ন সময়ে যে অন্যায়-অত্যাচার করা হয়েছে এটা কি আমরা করেছি, নাকি আর্মি? দূরত্বের কারণে পাকিস্তানি জনগণ আমাদের সঙ্গে যেটা করতে পারেনি সেটা এই দেশের কিছু জনগণ করে দেখিয়ে দিয়েছে এই আদিমানুষদের প্রতি!
আমি এক লেখায় লিখেছিলাম, যথাসময়ে সমস্ত অন্যায়, খুনের বিচার হওয়া প্রয়োজন ছিল [৫] এটা আমরা করতে পারিনি, এটা আমাদের ব্যর্থতা। আমাদের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে ৭১-এর খুনিদের সঙ্গে গলাগলি করেছি। কেউ কেবল গলাগলি, কেউ-বা গলা ধরে ঝুলে ছিল; পার্থক্য এটাই। প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের একটা দলও বুকে হাত দিয়ে এটা অস্বীকার করতে পারবে না।

ইসরাইলের মত দেশপ্রেম আমাদের ছিল না। যদিও এর জন্য বিশ্বব্যাপি নিন্দার ঝড় বয়ে গিয়েছিল কিন্তু এরা গা করেনি। লক্ষ-লক্ষ খুনের সিদ্ধান্তদাতা আইকম্যানকে শাস্তি দেয়ার জন্য এরা সংবিধান পর্যন্ত বদলে ফেলেছিল। ইসরাইলের সংবিধানে মৃত্যুদন্ড দেয়ার বিধান ছিল না। আত্মগোপনকারী নাৎসি জেনারেল আইকম্যানকে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইসরাইলি মোসাদ এজেন্টরা কিডন্যাপ করে ইসরাইলে নিয়ে আসে। তখন তার বিচার শুরু করা আগে তাদের সংবিধান পর্যন্ত বদলে নেয়, সংবিধান সংশোধন করে মৃত্যুদন্ডের ব্যবস্থা চালু করে। তারপর আইকম্যানের বিচার, মৃত্যুদন্ড এবং সেই মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে। একজন মানুষকে ফাঁসি দেবার জন্য একটি দেশের সংবিধান পরিবর্তন করার নজির সম্ভবত পৃথিবীতে আর নেই!

এই সব দেশপ্রেমিক, নব্য মুক্তিযোদ্ধারা [৬] কি চাইছেন, আমরাও মানব থেকে দানব [৭] হয়ে যাই? 'খোদা না খাস্তা' আমাদের মসজিদে যদি বোমা ফাটে তখন আদিমানুষরা [৮] যদি এই নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করে কেমন লাগবে আমাদের...? 
(মাশাল্লা, একটা চেহারা থাকলেই বা মাথায় গামছা বাঁধলেই মাথায় ঘিলু নামের পদার্থ থাকবেই, এটা জোর দিয়ে বলা মুশকিল।)

*আদিমানুষদের নিয়ে আমার কেবলি মনে হচ্ছে, আমরা এদের সঙ্গে যা করছি, একেকটা বিষবৃক্ষ রোপণ করছি; যে ঘৃণার বীজ বপন করছি এর পরিণাম ভেবে শিউরে উঠি। আমাদের এই প্রজন্ম পাকিস্তানিদের প্রতি যে ঘৃণা নিয়ে নিয়ে বড়ো হচ্ছে তারচে আমাদের প্রতি অনেক তীব্র ঘৃণা নিয়ে আদিমানুষদের নতুন প্রজন্ম বড়ো হচ্ছে। এর পরিণাম শুভ হতে পারে না, ভয়াবহ।
সম্প্রতি জামাল ভাস্কর আদিমানুষদের এলাকা থেকে ঘুরে এসেছেন। অজানা কিছু তথ্য নিয়ে ধারাবাহিক একটা লেখা লিখেছেন। লিংক:
হেথাক তুকে মানাইছে নারে: http://www.amrabondhu.com/vashkar/1591

 সহায়ক লিংক:
১. আইনস্টাইন: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_19.html 
২. মশিহুর রহমান: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_06.html 
৩. সাইকোপ্যাথ: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_09.html 
৪. মাছের জন্য এলিজি: http://www.ali-mahmed.com/2009/06/blog-post_6002.html 
৫. সমস্ত খুনের বিচার: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_19.html 
৬. নব্য মুক্তিযোদ্ধা: http://www.ali-mahmed.com/2008/12/blog-post_8439.html 
৭. দানব: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_493.html 
৮. আদিমানুষ: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_23.html