Monday, July 12, 2010

ইশকুল এবং বিবিধ...

পূর্বের পোস্টে [১] আমি লিখেছিলাম, ইশকুলটার বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে।  একটা ইশকুল ঘরের প্রয়োজন ছিল কারণ বৃষ্টি এলেই পড়া পন্ড হত। বাচ্চাদের পোশাকের সমস্যাও ছিল। এই সমস্যাগুলোর সমাধান হয়েছে। ইশকুলের জন্য একটা ঘর পাওয়া গেছে। যদিও এই ঘরটায় আলো-বাতাসের সমস্যা আছে, তবুও ইশকুলের জন্য একটা নির্ধারিত ঘর তো হলো। আশা করছি, কালকের মধ্যে আলো-বাতাসের সমস্যার সমাধান হবে।

বাচ্চাদের পোশাকের সমস্যারও সমাধান হয়েছে। প্রথমে ভাবা হয়েছিল, আলাদা কাপড়ের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু পরে এটা বাদ দেয়া হয়েছে। এরচেয়ে অনেক ভালো হয় এদের ইশকুল ড্রেস হলে। তাই করা হয়েছে।
ইশকুলের ড্রেস পরে সারি বেঁধে বাচ্চারা ইশকুলে যাচ্ছে এ দৃশ্যটা একবার আমার মাথায় এমন আটকে গিয়েছিল যে তখন মনে হচ্ছিল, এই গ্রহে এরচেয়ে চমৎকার দৃশ্য আর নাই! 
আর এখন এই বাচ্চাদের তো কথাই নেই। অবশ্য বাচ্চাদের চেয়ে এদের মাদের আনন্দ কম এ কথা জোর দিয়ে বলতে পারি না।

আলী মাহমেদ নামটা নিয়ে অনেকে খুব সমস্যা বোধ করেন। সাধারণ মানুষ কোন ছার, জ্ঞানী মিডিয়ারও কেউ কেউ এটাকে আলীম আহমেদ বানিয়ে দেন, তো কেউ আলী আহমেদ, কেউ-বা আলী মাহমুদ। 
কেউ কেউ আবার ভুরু জোড়া দিয়ে বলেন, এইটা আবার একটা নাম হইল! তাঁদের সদয় অবগতির জন্য বলি, দয়া করে ইংরাজিতে গুগলে সার্চ দিয়ে দেখবেন বিভিন্ন দেশে কত আলী মাহমেদ আছে।
প্রসঙ্গটা এই কারণে বললাম, এই হরিজন পল্লীতে সবচেয়ে শিক্ষিত ছেলেটার নাম হচ্ছে, আকাশ বাসপোর। বাসপোর? বাসপোর কি নাম, বাওয়া? নামটাকে নিয়ে মিডিয়া যে কী খেলা খেলত এই নিয়ে বড়ো চিন্তায় আছি।

যাগ গে, এই আকাশ বাসপোর, পিতা প্রদীপ বাসপোর। এ প্রথম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছিল। বৃত্তি পেয়েছিল ক্লাশ ফাইভে। আমার খানিকটা অবিশ্বাস ছিল কিন্তু আজই তার সনদগুলো হাতে পেলাম।

এখন এ পড়ছে ক্লাশ এইটে, তার বোন ক্লাশ ফাইভে। তার প্রবল আশা, ক্লাশ এইটেও সে বৃত্তি পাবে।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ওর বাবা নাই। আর্থিক সমস্যার কারণে পড়া চালিয়ে যেতে তার সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যারও একটা সমাধান করা হয়েছে।

*এই সব সমস্যা নিয়ে আমি চোখে অন্ধকার দেখছিলাম। আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন পড়শী ফাউন্ডেশন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডাক্তার, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভদ্র মহিলা। তাঁদের প্রতি আমার অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা।

**এখন আমার জন্য সবচেয়ে বড়ো যে সমস্যা সেটা হচ্ছে, আজও লক্ষ করলাম, বেশ কটা বাচ্চার শরীর খারাপ থাকায় এরা অনুপস্থিত। ডাক্তার পাচ্ছি না। অনীক নামের একটা বাচ্চার চোখ দেখলাম হলুদ। এটাকে ধরে নিয়ে টেস্ট করে অবশ্য গুরুতর কিছু পাওয়া যায়নি। বিলরুবিন ২.৭। এইচবিএস নেগেটিভ। আপাতত এর বিশ্রাম।
এই আয়োজনের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন এমন একজন জুনিয়র বন্ধুকে গতকাল ডাক্তারের সমস্যার কথা বলায় সে বলছিল, দেখি, ডাক্তার একটা মেয়ে খুঁজছি বিয়ে করার জন্য। বুদ্ধিটা মন্দ না। :)

***আরেকটা কাজ অচিরেই শুরু করব। 'স্মল ক্রেডিট'। 'মাইক্রো ক্রেডিট' এটা বললে আমাদের ইউনূস সাহেব [২] আবার আপত্তি জানাতে পারেন তাঁর বিরাট আবিষ্কার ছিনতাই হয়ে যাচ্ছে বলে। 
'স্মল ক্রেডিট' হচ্ছে খুব সাধারণ একটা ভাবনা। ছোট্ট একটা কাজ। অনেক মহিলা আছেন যাদের খুব স্বল্প পুঁজি হলে গোটা পরিবারটা দাঁড়িয়ে যায়। এঁরা অনেকে মোয়া বানান, ঠোঙ্গা বানান, সমুসা বানান (এটা এখন গাড়িতে হরদম বিক্রি হয়)। 
এঁদেরকে যে স্বল্প পুজিটা দেয়া হবে সেটা (এঁদের সঙ্গে আলোচনা করে) প্রতি মাসে অল্প অল্প করে টাকাটা এঁরা পরিশোধ করবেন। এবং অবশ্যই আমাদের মহান ইউনূস সাহেব, স্যার ফজলে আবেদের [৩] মতো চড়া সুদে না। 
বিনা সুদে।

সহায়ক লিংক:
১. ইশকুল: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_1768.html   
২. লাইফ-এচিভমেন্ট-সেক্রিফাইস: http://www.ali-mahmed.com/2008/07/blog-post_3333.html
৩. লাশ-পদক-বানিজ্য: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_23.html

মাননীয় হাইকোর্ট, মুদ্রার অন্য পিঠও দেখুন, প্লিজ

হাইকের্টের নির্দেশ অনুযায়ী আসামির সঙ্গে পুলিশের আচরণ বিষয়ে ১২ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অসাধারণ একটা কাজ হয়েছে। আমি পূর্বেও লিখেছিলাম, এই দেশের সব কিছু যখন নষ্টদের দখলে চলে যায় তখন আমাদের আর দাঁড়াবার কোন জায়গা থাকে না। তখন হাইকোর্টই আমাদের শেষ ভরসাস্থল।

এই দেশে ক্ষমতায় যে যখন আসেন পুলিশকে তাদের নিজস্ব লোক হিসাবেই ব্যবহার করে থাকেন। ফল যা হওয়ার তাই হয়! যথারীতি পুলিশ সময়মতো পৌঁছতে পারে না- [১] অপরাধি চোখের সামনে ঘুরে বেড়ালেও তাকে দেখতে পায় না [২]! উপরওয়ালার নির্দেশ ব্যতীত এরা কিছু্ই করতে পারেন না [৩] [৪] [৫], এই খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে কেউ তো আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি [৫]। কী হাস্যকর!

তখন গায়ে সরকারি পোশাকে এই সব মানুষগুলো কতটা হিংস্র হয়ে উঠে এর উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবে না। এরা তখন কাউকে তোয়াক্কা করেন না। খানিকটা আঁচ করা যাবে এই লেখায় [৬]

এমনিতেও বেঙ্গল ওরফে পুলিশের বিপুল ক্ষমতা। আর্মি, বিডিআর, র‌্যাব যে কেউই কোন আসামি পাকড়াও করুক না কেন সোপর্দ করতে হবে পুলিশের কাছে। অন্য সংস্থার কেউ একজন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে একজন অপরাধিকে পাকড়াও করলেও, পুলিশ লেনদেনের বিনিময়ে সেই আসামিকে ছেড়ে দিলে বা মামলা দুর্বল করে দিলে কারও কিচ্ছু বলার নেই! পুলিশ কারও কাছ থেকে টাকা না পেয়ে বা ফাঁসাতে না পেরে গুলি করে মেরে ফেললে কিচ্ছু হবে না। পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হলে হয়তোবা পুলিশ লাইনে তাকে ক্লোজ করা হবে। কিছুটা সময় পার হলে তিনি আবারও টাকা-পয়সা লেনদেন করে নব-উদ্যোমে নতুন কোন একটা জায়গায় পোস্টিং নিয়ে নেবেন।

হাইকোর্ট এখন এদের থামাবার জন্য কিছু দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। আন্তরিক সাধুবাদ জানাই। কিন্তু মাননীয় হাইকোর্টের কাছে আমার কিছু প্রশ্ন ছিল। আমি জানি, আপনারা বলবেন, সব কিছু দেখার এখতিয়ার আমাদের নাই। তবুও আপনাদের সদয় অবগতির জন্য বলি:

এক: মাননীয় হাইকোর্ট, আপনারা কি সদয় অবগত আছেন, নিম্ন-কোর্ট বিশেষ করে সিএমএম আদালতের সার্বিক অবস্থা কেমন?
কখনও ওখানে গেলে দেখবেন লোকে গিজগিজ করছে। কোর্ট-রুমে একটা সুই ফেলারও জায়গা নেই। যখন যার খুশি ঢুকছে, বেরুচ্ছে, পাশের বারান্দায় বাদামওয়ালা বাদাম বিক্রি করছে, চা-ওয়ালা হেঁকে যাচ্ছে। এমন হইচই বাজারের মত অবস্থায় ন্যায় বিচার করাটা কতটা দুরূহ তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করাটা কঠিন। কোন আসামীর নাম ডাকা হলে সেই আসামি আদৌ সেই ব্যক্তিই কি না এটা জানার কোন উপায় থাকে না!

দুই: মাননীয় হাইকোর্ট, আপনারা কি অবগত আছেন, ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য একজন মানুষকে পদে পদে কত ধরনের অন্যায়ের মুখোমুখি হতে হয়। মামলাসংক্রান্ত একটা নকল-অনুলিপি উঠাবার জন্য কত জায়গায় টাকার লেনদেন হয়? সরকারি ফি ১০০ হলে কেউ ১০০০ নীচে আনতে পারলে আমি লেখালেখি ছেড়ে দেব।

তিন: মাননীয় হাইকোর্ট, আপনারা কি অবগত আছেন, একটা সমন এক বছরেও জারী করা যায় না, তদ্বীরের অভাবে। তদ্বির আর কিছু না, সমন জারী করার জন্যে মোটা অংকের টাকা দিয়ে আসা। একটা মামলা শেষ হতে যদি বছরের পর বছর লাগে সেই ন্যায়বিচার আর অবিচারের মধ্যে মোটা দাগের ফারাক কোথায়! কোথায় জাস্টিস [৭]?

পুলিশের প্রতি দিক-নির্দেশনা দেয়াটা অতি জরুরি ছিল কিন্তু মূল ধরে টান না দিলে বাস্তবায়িত হবে কেমন করে? মাননীয় হাইকোর্ট আপনারা কি জানেন, নির্বাচনের মত একটা অতি ঝুকিপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব থাকা এএসপি পদপর্যাদার একজন পুলিশ অফিসারের খাবারের খরচ দৈনিক ২৫ টাকা! কোন হোটেলে তিনবেলা ২৫ টাকায় খাওয়া যায় সেই হোটেলটার নাম আমরা জানতে চাই।
আপনারা কি অবগত আছেন, থানাহাজতে পুলিশের দায়িত্বে থাকা একজন হাজতির জন্য সরকার থেকে বরাদ্ধ দৈনিক ১০ টাকা! এই ১০ টাকা দিয়ে তো তিন বেলা বাদামও কিনে খাওয়া সম্ভব না।
পুলিশের কোন অর্জনকে কেন খাটো করা হয় [৮]- নায়ককে নায়ক বলতে সমস্যা কোথায়? আর এই দেশে সবাই দলবাজি করবে, পুলিশ করবে না কেন [৯]!

পুলিশের হাতে বিপুল ক্ষমতা, বেসুমার টাকার হাতছানি। এদের আর আট-দশটা পেশার সঙ্গে তুলনা করলে তো হবে না, বা অন্যদের সঙ্গে মিলিয়ে বেতন দিলে। আলাদা করে ভাবতে হবে। 
এবং পেটমোটা সব পুলিশ স্যারদের বিদায় করে চৌকশ ছেলেপুলে ভর্তি করতে হবে। এদের এই নিশ্চয়তাও দিতে হবে দায়িত্ব পালনকালে কোন পুলিশের মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব সরকার নেবে। পুলিশদের নজরদারি করার জন্য আলাদা একটা বিভাগ থাকবে। ওই বিভাগ কেমন করে কাজ করবে এটা আমার শিখিয়ে দেয়ার কিছু নেই। হতে  পারে মানুষটা একজন কনস্টেবল বা থানার সামনে বসে থাকা মুচি। যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাবে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করতে হবে। প্রমাণিত হলে আমজনতার যে সাজা হয় এদেরও তাই হবে। যেটা অপরাধের উপর নির্ভর করবে, সেটা ১ মাসের জেল নাকি ফাঁসি সেটা এখানে আলোচ্য বিষয় না।
পুলিশকে ঢেলে না সাজালে যতই নির্দেশনা দেয়া হোক আখেরে খুব একটা ভালো ফল দেবে বলে আমি মনে করি না।

সহায়ক লিংক: 
১. পুলিশ লিখবে কবিতা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_09.html
২. হরেক রকম জামা...: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_09.html
৩. ফতোয়াবাজ: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_11.html 
৪. দোররা: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_24.html 
৫. একজন আমিনী: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_17.html
৬. পুলিশ জনগণের বন্ধু: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_08.html 
৭. জাস্টিস: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_08.html  
৮. নায়ক: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_25.html 
৯. দলবাজ: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_19.html