Thursday, June 3, 2010

আমাগো ছাওয়াল ফিরা আসছে!

আমাদের মুসাকে নিয়ে আমরা উল্লাস করবই। এই মানুষটা এই দেশের প্রথম সন্তান যিনি আমাদের জন্য এমন একটা কাজ করে দেখিয়েছেন যা অন্যরা পারেনি। স্যালুট। কালের কন্ঠের মত দানব বানাবার কারখানা [১] কি বলল, না বলল তাতে আমাদের কিছুই যায় আসে না। সে প্রসঙ্গ থাকুক। 

আমি একটায় লেখা লিখেছিলাম, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসুক [১]। এসেছে-এসেছে, কী আনন্দ-কী আনন্দ! এই দেশের গর্ভ (টাইপে ভুল হয়েছে, পড়বেন গর্ব), আনিসুল হক সহি সালামতে দেশে ফিরে এসেছেন।

এই ছবিটায় আনিসুল হকের নাম না থাকলে আমার বুঝতে সমস্যা হতো কোনটা মুসা, কোন আনিসুল হক। কী পোশাকে, কী মাথার ফেট্টিতে, কী হাসিতে! 

ভাল কথা, মুসা ২ আঙ্গুল দেখালে আনিসুল হকের এটা কি উচিৎ না অন্তত দেড়টা আঙ্গুল দেখানো।

তাঁর ত্যাগও কী কম? কত বড়ো ঝুঁকি তিনি নিয়েছেন! একজন লেখক হওয়ার পরও তিনি আমাদের জন্য হাসিমুখে দাঁত বের করে চৌর্যবৃত্তি করেছেন [২]। 
কেবল করেনইনি, বমাল ধরা পরার পরও বিন্দুমাত্র বিব্রত হননি। কোথাও এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে আমার জানা নাই। কেবল দায়সারা গোছের এটা লিখেই দায় সেরেছেন, "...ফোন আসতে লাগল ডয়েচে ভেলে, বিবিসি থেকে। তারপর তিনি পেলেন আমার ফোন।"  
বেমালুম ভুলে গেলেন তার এই লেখাটা, '...এটা ২৫ মে কাঠমান্ডু থেকে তিব্বতের বেসক্যাম্পের ফোনে মুসা ইব্রাহীমের সঙ্গে প্রথম কোন বাঙালির কথোপকথন। এবং প্রিয় পাঠক, এই ঐতিহাসিক কথোপকথনটা আপনি পড়ছেন, আপনিও কিন্তু ইতিহাসের সাক্ষী। ভবিষ্যতে নাতি-নাতনিদের এই গল্প আমরা করতে পারব। হা হা হা...'।" 

ওহ, আমি যে লিখলাম, বমাল ধরা পড়েছেন এই কথাটায় খানিকটা ভুল আছে। বমাল মানে হচ্ছে মাল সহ, ওয়েব সাইটের জন্য এটা সম্ভবত প্রযোজ্য হবে না। বমালের জায়গায় বলা যেতে পারে, 'ওমাল'।
তো, চুরির মত এতো বড়ো একটা ঝুঁকিই কেবল নেন নাই, তিনি যেভাবে মুসাকে বুকে আগলে নিয়ে এসেছেন, দাঁতসহ ফটোসেশন করেছেন এই জন্য আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি নইলে মুসা দেশে ফিরতে পারতেন কি না সন্দেহ।

আনিসুল হকের কী একেকটা লেখার যাদু! লিখেছিলেন, 
"প্রথম আলো ফুটছে। সূর্যের প্রথম রশ্মি এসে পড়ল এভারেস্টের চুড়ায়। ঠিক তখনই আমি এভারেস্টের মাথায়। আমার কী যে ভাল লাগল। এই আলো। এই আমার স্বপ্নপূরন। ২৩ মের প্রথম আলোকরশ্মি এভারেস্টের চুড়ায় আমাকে স্বাগত জানাল।"
কেবল তিনি দয়া করে এটা লিখেননি, এক ইয়েতিকে দেখলাম এভারেস্টের চুড়ায় বসে প্রথম আলো পত্রিকায় আনিসুল হকের লেখা গভীর মনোযোগের সঙ্গে পাঠ করছে। আমরা পাঠক আর খানিকটা নির্বোধ হলে তিনি এই জিনিসও প্রসব করতেন এতে কোন সন্দেহ নাই। 

আমি বিস্মিত, অবাক হলাম, প্রথম আলো পত্রিকাতেও মুসাকে নিয়ে আনিসুল হক আছেন। পত্রিকায় পড়লাম, মুসার সঙ্গে তার সহযোদ্ধা তিন শেরপা এসেছেন। আমি অনেক সুখি হতাম এখানে আনিসুল হকের চাঁদবদন দেখার চেয়ে মুসার সঙ্গে ওই তিন শেরপার ছবি দেখলে। এবং তাঁরা নাকি এই দেশে প্রথমবারের মত এসেছেন।

আচ্ছা, এই মানুষটার কি বিন্দুমাত্র লাজ নাই। এই মানুষটা তো কেবল একজন সাংবাদ কর্মীই না একজন লেখকও। অন্তত নিজের পত্রিকায় ফটোসেশনের বেলায় সরে গেলে কী সূর্য খানিকটা কি নীচে নেমে আসত! একটা মানুষ এতোটা নির্লজ্জ হয় কেমন করে?

*ছবি ঋণ: সুবীর কুমার, আমাদেরসময় 

সহায়ক লিংক:
১. দানব বানাবার কারখানা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_28.html 
২. চৌর্যবৃত্তির নমুনা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_27.html 
৩.ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসুক: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_29.html