Saturday, May 29, 2010

ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসুক

আনিসুল হক আজ  (২৯ মে, ২০১০) প্রথম আলোয় জানাচ্ছেন, "...বেসক্যাম্পে মুসা ইব্রাহীম এসে পৌঁছেছেন বিকেল পাঁচটায়। সবাই তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। কমল আরিয়াল ফোন করলেন কাঠমান্ডু থেকে। ফোন আসতে লাগল ডয়েচে ভেলে, বিবিসি থেকে। তারপর তিনি পেলেন আমার ফোন। চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘মিটুন দা, আই সারভাইভড!’" [১]

"...ফোন আসতে লাগল ডয়েচে ভেলে, বিবিসি থেকে। তারপর তিনি পেলেন আমার ফোন।"
আনিসুল হক, এই সব আপনি এখন কী বলছেন! এই আপনিই না বলেছিলেন আপনিই প্রথম কথা বলেছেন মুসার সঙ্গে আর এখন বলছেন...! হায়-হায়, এইটা আপনি কি করলেন?

আমরা জানি, লিকারে ছড়াছড়ি কাঠমান্ডুর বাতাসেও লিকারের গন্ধ। শরীরে যতটুকু সয় ততটুকুই লিকারের সঙ্গে সখ্যতা করলে ভালো হয় নইলে এর প্রকোপে যা হওয়ার তাই হয়। আপনার কি স্নায়ু বিকার ঘটেছে, মস্তিষ্ক বিদ্রোহ করছে? আহা, কেন শরীরের উপর এতো অত্যাচার!

পুর্বের পোস্টে আমি লিখেছিলাম আপনাকে অভিনন্দন জানিয়ে [২], এই আপনিই লিখেছিলেন, "প্রথম আলোয় (২৬.০৫.১০)  তিনি (আনিসুল হক) লিখেছেন: '...এটা ২৫ মে কাঠমান্ডু থেকে তিব্বতের বেসক্যাম্পের ফোনে মুসা ইব্রাহীমের সঙ্গে প্রথম কোন বাঙালির কথোপকথন। এবং প্রিয় পাঠক, এই ঐতিহাসিক কথোপকথনটা আপনি পড়ছেন, আপনিও কিন্তু ইতিহাসের সাক্ষী। ভবিষ্যতে নাতি-নাতনিদের এই গল্প আমরা করতে পারব। হা হা হা...'।"

আপনার পত্রিকাও (২৬.০৫.১০)  লিড নিউজ করল, "বেসক্যাম্পে ফিরে মুসা ইব্রাহিমের প্রথম সাক্ষাৎকার"

যেখানে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি আপনার ফেরার অপেক্ষায়, ঠিক করে রেখেছি আপনি দেশে ফিরে এলে শ্যাম্পেনের বোতল খুলব, আপনাকে অভিনন্দন জানাব আর আপনি কি না...। এই বেদনার কথা কাকে বলি, কোথায় বলি!

আমি জানি না, এর পেছনে কোন বিদেশী চক্রান্ত আছে কি না। হে খোদা, আমার আশংকা যেন মিথ্যা হয়। আগের পোস্টে আমি এই বিষয়ে খানিকটা লিখেছিলাম, "...বিদেশী চক্রান্ত সফল হতে দেব না। কালো হাত গুড়িয়ে দাও।" 

বিদেশীদের ধপধপে সাদা হাত কালো কেমন করে হয় এটা আমার বিশেষ জানা নাই তবুও অন্যদের বলতে শুনেছি তাই বললাম। এমনটা কি হতে পারে না, আনিসুল হককে বিদেশী কোন চক্রান্তের শিকার হতে হয়েছে? বেশ পারে...।

সিআইএ, মোসাদ না সম্ভবত কারণ এদের ওখানে কোনো কাজ নাই। কাউকে বলবেন না প্লিজ, নইলে আমার বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে কিন্তু। কাছে আসেন কেবল আপনাকেই চুপিচুপি বলি, এর পেছনে জার্মান গোয়েন্দা সংস্থার হাত থাকতে পারে। ভালো কথা, জার্মান গোয়ান্দা সংস্থার নাম যেন কি?
হতে পারে না এমন, আনিসুল হককে অপহরণ করা হয়েছিল। মাথায় স্মল আর্মস ঠেকিয়ে হুমকি দেয়া হয়েছিল, 'হের, হ্যানিছ, লড়েছো কি মরেছো'। বা নাক বোঁচা বেরেটা দিয়ে তাঁর নাকে সুড়সুড়ি দিয়ে বলা হয়েছে, হের আনিসুল হক, লেখো, আমাদের নামে, যাহা বলিব তাহাই লিখাবা। নইলে, ডিস্যুম-ডিস্যুম!

বেচারা আনিসুল হক। প্রাণের দায় বড়ো দায়। প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে সুড়সুড় করে এটা লিখেছেন, নিজের কৃতিত্বটাকে অন্যের হাতে তুলে দিয়েছেন। 
যাক, এখন দুঃখ কিছুটা লাঘব হলো। আমরা 'প্রথম সাক্ষাৎকারী বাঙালি' এই খেতাব থেকে বঞ্চিত হলেও আনিসুল হকের মত একজন আদর্শ লেখকের [৩] প্রাণ রক্ষা পেল এটাই আমাদের আনন্দ। এখন ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসুক এটাই আমাদের কাম্য। আপনার মতো অসাধারণ বিজ্ঞাপন [৪] না-হোক, অন্তত একটা বিজ্ঞাপন দেব ঠিক করে রেখেছি। হিমালয় পর্বতের নীচে থেকে ফিরে এসেছেন আমাদের ছাওয়াল। 

সহায়ক লিংক:
১, প্রথম আলো: http://prothom-alo.com/detail/date/2010-05-29/news/66820
২, আনিসুল হককে অভিনন্দন http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_27.html 
৩, একজন আদর্শ লেখক: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_07.html
৪, বিজ্ঞাপনতরঙ্গ: http://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_21.html