Tuesday, May 11, 2010

বৈদেশ পর্ব: দুই

আমার কাছে জার্মান থেকে একটা গাইড-লাইন পাঠানো হয়েছে। বিতং করে অনেক কথা লেখা। ট্যাক্সিতে চড়তে পারবা না, কেবল সকালের নাস্তা মাগনা খাইতে পারবা, ইত্যাদি ইত্যাদি। 

পুরো প্রক্রিয়াটাই আমার পছন্দ হয়নি। সবাই আমাকে বলার চেষ্টা করছেন, এটাই নাকি নিয়ম। 
নিয়ম? কার নিয়ম, কোথাকার নিয়ম, কার জন্য নিয়ম? আমার কি দায় পড়েছে পৃথিবীর তাবৎ নিয়ম মেনে চলার! এতো নিয়ম মানলে তো আমি ক্যারিয়ার নিয়েই মাথা ঘামাতাম, টিফিন ক্যারিয়ার হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম না। 
এই গাইড-লাইন থেকে কেমন একটা করপোরেট-করপোরেট গন্ধ ছড়াচ্ছে, যেমন বুশের শরীর থেকে ছড়ায় সালফারের গন্ধ!

আমি তো করপোরেট জগতের মানুষ না, লেখালেখি ভুবনের মানুষ। প্রকৃতির হাতে হাত রেখে, লেখালেখি নামের আমার ছোট্ট ভুবনটাকে [১] নিয়ে তীব্র সুখী একজন মানুষ। আমি তো ফরমায়েসি লেখক না যে আমার লেখালেখিকে অন্যে নিয়ন্ত্রণ করবে। আমার ৩ টাকা দামের কলম তো আমি কারও কাছে বিক্রি করব না। আমি কারও বানানো নিয়মের তোয়াক্কা করি না। অন্য ভাষার অতিথীরা এই নিয়মে উল্লসিত হলে হোক না, আমার কী!

বাংলাদেশের সম্মানের প্রশ্ন জড়িত না থাকলে আমি যাওয়াটা বাতিল করে দিতাম। এদের ভঙ্গিটাই আমার পছন্দ হয়নি! আমি এদের কঠিন নিয়ম মেনে একের পর এক খরচ করব। প্লেনের টিকেট কাটা থেকে শুরু করে হোটেলের বিল; আমি হিসাব করে দেখেছি, আনুমানিক ২ লক্ষ টাকা আমাকে খরচ করতে হবে। এদের কি ধারণা, প্লেনের টিকেটটা পাঠিয়ে দিলে আমি এটা বিক্রি করে কটকটি খেয়ে ফেলতাম? আচ্ছা, প্লেনের টিকেট ১ লক্ষ একুশ হাজার টাকায় কয়টা কটকটি পাওয়া যায়?

তো, এরপর এই বিলগুলো এদের কাছে সাবমিট করতে হবে, তারপর এরা আমাকে টাকা দেবেন। লেখার শুরুতেই বলেছিলাম, করপোরেট-করপোরেট গন্ধ! 
ইশ রে, হিল্লি-দিল্লি ঘোরার শখ যে আমার নাই [২] আর আমি তো ওই দেশে চাকরির জন্য যাচ্ছি না। এমন কোন গোপন ইচ্ছাও কখনও ছিলই না। দেশে আমরা অনেক যন্ত্রণায় থাকি, হররোজ মারা যাই তবুও দেশ ছেড়ে প্রবাসে থাকার চেয়ে আমি আমার মৃত্যুকে শ্রেয় মনে করি। এটা কেবল আমার নিজের অনুভূতি, অন্যরা নিজের সঙ্গে গুলিয়ে না ফেললেই ভাল করবেন।

এরা কেন বুঝতে চান না, একজন লেখক এবং একজন করপোরেট ভুবনের ম্যানেজারের মধ্যে অনেক ফারাক। তাও কী এক লেখক- ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার! ওয়েব-সাইটে লিখে নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো। ওহে, কে বলল এই কথা, একজন ব্লগার নামের নিধিরাম সর্দার ২ লক্ষ টাকা নিয়ে বসে আছে?

এক্ষণ এই নিয়ে আমি এদের সঙ্গে কুতর্কে যাব না কারণ এখন ঠিক এই বিষয়ে হইচই করার মানে হচ্ছে দেশকে ছোট করা। এরা কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলবে, ওহ, পুও() বেংলাডেশ, পুও() বেংলাডেশি! কোনক্রমেই এই সুযোগটা আমি এদের দিতে চাচ্ছি না। কোন অবস্থাতেই আমি আমার দেশকে ছোট হতে দেব না, মরে গেলেও না।

আমি এদের এই তথাকথিত প্রক্রিয়া মেনে নিয়ে যাব, অবশ্যই যাব। তবে বিল সাবমিট করব কি করব না এটা সময়ই ঠিক করে দেবে।

*বৈদেশ পর্ব, তিন: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_12.html 

সহায়ক লিংক:
১. সালতামামি, ২০০৯: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_31.html 
২. বৈদেশ পর্ব, এক: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_10.html