Thursday, April 29, 2010

আমাদের এই বিজয় মিছিলের পুরোধা, অভ্র!

আমি জানি না কেন, অনেকেই আমাদের এই বিজয়টাকে কেবল আমার বিজয় [৬] হিসাবে দেখছেন! আমি দেখছি, ব্লগার নামের লেখকদের এক অভাবনীয় বিজয়! 

এই বিজয়ের মিছিলে আমার সহযোদ্ধাদের সঙ্গে আমিও একজন মাত্র। সুশীলদের সঙ্গে থাকার চেয়ে ব্লগার নামের লেখক, আমার সহযোদ্ধাদের পাশে থাকাটাই আমার জন্য অনেক আনন্দের, গর্বের। কোন পত্রিকা আমাকে নিয়ে কি ছাপালো, মন্তব্য করল এতে আমি কাতর না।
একটি পত্রিকা সম্বন্ধে লিখেছিলাম, নীতিগত কারণে এই পত্রিকার মালিক, সম্পাদককে আমি পছন্দ করি না। হা হা হা, বেচারারা মনের কষ্টে ববস প্রতিযোগিতার খবরটাই ছাপায়নি। ছাপালে আমার নামটা যে চলে আসে [৪]। এই সব শিশুরা যে কবে বড়ো হবে, এরা আবার চালায় পত্রিকা- কয়লার কালি, কালো টাকার ছাপ যাবে কোথায়?

বিজয় (জানি না এই শব্দটা ব্যবহার করার জন্য জনাব মোস্তফা জব্বারের গাত্রদাহ হয় কিনা। এমনিতেই আমার যন্ত্রণার শেষ নেই [৫], জব্বর সাহেব এর জন্য আমার বিরুদ্ধে একটা মামলা ঠুকে দিলে তো সর্বনাশ!)
 

যেটা আমি পূর্বেও উল্লেখ করেছি, এই বিজয়টা প্রিন্ট মিডিয়ার গালে সজোরে একটা চপেটাঘাত। যার শব্দ অন্যরা শুনতে পাচ্ছেন কিনা অমি জানি না কিন্তু আমি শুনতে পাই। এটা প্রিন্ট মিডিয়ায় বহু দিনের তাচ্ছিল্যের জবাব।
একটি সাপ্তাহিকে আমার সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় অবিকল এই কথাটাই বলেছিলাম এবং এও বলেছিলাম, আপনারা কি হুবহু এই কথাটাই ছাপতে পারবেন? উত্তরটা হ্যাঁ হলেও ছাপার সময় এই অংশটুকু সেন্সর করা হয়েছে। তাতে কিছুই যায় আসে না, থাপ্পড়ের দাগ মিলিয়ে যায় না।
 

আজ আমাদের যে বিজয় এর অনেকটা কৃতিত্ব যায় অভ্রের। কারণ ইউনিকোডে আমি অভ্রের কারণেই আরাম করে তরতর করে লিখতে পেরেছি, আন্তর্জাতিক একটা পাটাতনে বাংলা ভাষাটা আসতে পেরেছে। 
যখন আমি অভ্র ব্যবহার করতাম না তখন অনেক যন্ত্রণা করে লিখতে হতো, যন্ত্রণার কারণে অনেক সময়ে লেখাই হয়ে উঠত না। অনেক সময় পাঠকের কাছে ফন্টের সমস্যার কারণে আমার লেখাগুলো হিজিবিজি-হিজিবিজি মনে হতো। 
এখন কি হয়? কারও এমন সমস্যা মনে হলে আমি বলি: আমার সাইটে 'অভ্র-কীবোর্ড'-এর লিংক দেয়া আছে, নামিয়ে নাও। 
অভ্র কানভার্টার অন্যরা ব্যবহার করেন কিনা জানি না, এতো সোজা, এতো কাজের যে কল্পনাও করা যায় না!
 

আমি দুনিয়ার আবর্জনা নিয়ে লিখি অথচ নিজেই একপেট আবর্জনা নিয়ে ঘুরে বেড়াই। আমি যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করি সবগুলো কি বৈধ? আমি বিষাদের সঙ্গে বলি, না। অজান্তেই কেমন চোর-চোর ভাব চলে আসে। কিন্তু অভ্র ব্যবহার করে মনের উপর এক বিন্দু চাপ নাই। অভ্র বিনে পয়সায় ব্যবহার করা যায়।
 

'ডিজিটাল সময়' নামের একটা সাপ্তাহিকে, পাশাপাশি মোস্তফা জব্বার এবং অভ্রের স্বপ্নবাজ মেহেদী হাসান খানের বক্তব্য ছাপা হয়েছে। মোস্তফা জব্বারের বক্তব্য পড়ার আগ্রহ বোধ করিনি। কেন? পরে বলছি।
এখানে মেহেদী হাসান খান বলেন, "একটি স্বপ্ন নিয়ে সবাই এগোচ্ছে। আর তা হলো ইন্টারনেটে নিজের ভাষায় লেখা। যে স্বপ্নে বাংলায় লিখলে কেউ খড়গ হাতে তেড়ে এসে জানতে চাইবে না লেখার আগে আপনি টাকা দিয়ে লেখার অধিকার কিনেছেন কি না...।"     
 

মোস্তফা জব্বারের বক্তব্য কেন পড়ার আগ্রহ হলো না, বলি, অভ্র যদি এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে কোন ধরনের অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করত তাহলে আমি অন্তত মোস্তফা জব্বারের বক্তব্য শোনার চেষ্টা করতাম। হয়তো বা...। 
হয়তো বললাম এ কারণে, চৌর্যবৃত্তির জন্য এই মানুষটাকে নিয়ে বাজারে অনেক গুজব। প্রমাণ না থাকলেও চালু গুজবের পেছনে কিছুটা সত্যতা থাকে। আমি এই সব বিষয় তেমন বুঝি না তাই এটা নিয়ে বিস্তারিত আলাপে যাই না। 
মোস্তফা জব্বার, এই মানুষটাকে আমার কাছে একজন ধূর্ত-লোভী, নীচ মনে হয়। পূর্বের কথা বাদ দিলেও তার ধূর্ততার নমুনা প্রকট হয় এখনকার আচরণে। এই ধরনের নীচ মানুষদের দেশের, ভাষার চেয়ে বড়ো হয়ে পড়ে নিজের স্বার্থ।
 

আরেকটা বিষয় লক্ষনীয়, মোস্তফা জব্বারের এই ক্ষমতাই নাই একজন মেহেদীর মনন স্পর্শ করার। নির্লজ্জতার চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন মোস্তফা জব্বার। বিজয়ের লোগোতে বেহায়ার মত নিজের ছবি ঝুলিয়েছেন। দেখলেই গা শিরশির করে!
অথচ মেহেদীর অভ্রের লোগো দেখুন।
 

এটা সত্য আমার টাকার বড়ো প্রয়োজন কিন্তু আমিই কি পারব মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত কোন বিষয় নিয়ে অর্থ উপার্জনের কথা ভাবতে? আমার মনে আছে, তখন একটি দৈনিকে ফি-হপ্তাহে 'একালের রূপকথা' নামের একটা লেখা লিখি। ওই পাতাটি তখন দেখতেন সঞ্জীব চৌধুরী। 
একবার তিনি আমার কাছে মুক্তিযুদ্ধের উপর একটা লেখা চাইলেন। লিখলাম 'বীরশ্রেষ্ঠ' নামের লেখাটি। তখন একেকটা লেখার জন্য ৫০ টাকা করে পেতাম, সেটা ৯২-৯৩ সাল। আমি সঞ্জীব চৌধুরীকে অনুরোধ করেছিলাম, এই লেখার জন্য যেন আমাকে কোন সম্মানী না দেয়া হয় [১] কিন্তু তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেছিলেন, উপায় নেই। নিয়ম। একসঙ্গে বিল করা হয়।
 

আমি বিষণ্নচিত্তে টাকাটা নিয়েছিলাম কিন্তু খরচ করার কথা ভাবিনি। আজও আছে সেই ৫০ টাকার নোটটা আমার কাছে। কখনো কখনো পারা যায় না এতোটা নীচে নামতে। আজ এখানে আমি লিখে দিচ্ছি, মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত কোন লেখার জন্য, কোন বইয়ের জন্য যদি কখনও এক পয়সা নেই তাহলে যেন একজন ঘুষখোরের [২] সঙ্গে আমার কোন তফাত না থাকে।  এদের মত ইয়ে [৩] খেতে...।

মোস্তফা জব্বার, আপনি কি জানেন না, পানির স্রোতকে যেমন আটকে রাখা যায় না তেমনি স্বপ্ন [৭]। ভাষা উম্মুক্ত হবেই, পারলে আপনি আটকান।
মেহেদী হাসানের সঙ্গে

*ছবি ঋণ: অভ্র, বিজয়, আসাদ আবদুল্লাহ

সহায়ক লিংক:   
১. অহেতুক আবেগ: http://www.ali-mahmed.com/2008/11/blog-post_08.html
২. ঘুষখোর: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_26.html 
৩. ঘুষখোর ব্যাংকের গভর্নর: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_3654.html
৪. The BOBs: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/bobs.html 
৫. লাশ-বানিজ্য-পদক: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_23.html
৬. dw-world: http://www.dw-world.de/dw/article/0,,5473377,00.html
৭. স্বপ্ন: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_23.html