Search

Loading...

Friday, April 30, 2010

অমানুষ

মানব মানবীকে ঘিরে কী অপার্থিব এক রহস্য! দুটি বিচ্ছিন্ন সত্তা। 
একদিন এক অপাপবিদ্ধ ভুমিষ্ঠ শিশু প্রাণপণে চেঁচিয়ে ওঠে। মানব মানবী বিস্ময়ে অভিভূত হয়: এই, এই তাহলে রহস্য! ছোট্ট একটা শেকড় ক্রমশ বিস্তৃত হয় জ্যামিতিক হারে, ছেয়ে ফেলে সবকিছু। মহাবিশ্বের সমস্ত কর্মকাণ্ড এই বিশাল শেকড়কে ঘিরে। 

কিন্তু পৃথিবীতে এক ধরনের জীব নিয়ে মানুষ সমস্যায় পড়ল। এরা না মানুষ, না জন্তু, না জড় পদার্থ, কি নামে পরিচিত হবে? পৃথিবীর এই বিশাল রঙ্গমঞ্চে কি ভূমিকায় এরা নিষ্ঠার সঙ্গে অভিনয় করছে কে জানে- কেনই বা পৃথিবীতে অবহেলা ভরে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে তারও কোন হদিশ পাওয়া যাচ্ছিল না! অনেক মাথা খাটিয়ে এদের নাম দেয়া হলো হিজড়া, ক্লীব, নপুংসক। এক নিঃসঙ্গ পরিত্যক্ত শেকড়, যাদের নিয়ে কোনো রহস্য নেই।

সৃষ্টিই যাদের কুৎসিত কৌতুক, সেরা জীব মানুষ নিকৃষ্ট এসব অমানুষদের নিয়ে ব্যঙ্গ করবে এ আর আশ্চর্য কি!
কী আনন্দই না হয় এদের দেখে! ছায়াছবিতেও এদের ছায়া দেখে একজন দর্শক আরেকজনের গায়ে হাসতে হাসতে ঢলে পড়ে। এমন হবেই না বা কেন, কোনো ভূমিকা নির্দিষ্ট নেই বলে কি মানুষ হাসাতেও এঁদের ভূমিকা থাকবে না! 

এমনই এক অমানুষের সাক্ষাৎকার নেয়া হলো। এদের গলার স্বর অত্যন্ত কর্কশ, সম্বোধন তুই তুই করে, প্রকাশ ভঙ্গি উগ্র। সাক্ষাৎকার হুবহু প্রকাশ না হলে মানুষ রাগ করে, এরা মানুষ না বলেই ক্ষীণ আশা, প্রকাশ ভঙ্গি একটু মার্জিত করে তুলে ধরলে হইচই করবে না।
প্র: আপনার নামটা বলবেন?
অমানুষ : আমার নাম মিনু।
প্র: মিনু তো মেয়েদের না, ইয়ে মানে আপনি তো আর মেয়ে...?
অমানুষ: আমি মেয়ে না এটাই তো বলতে চাচ্ছেন। এ নাম রাখা ঠিক হয়নি এই তো? কিন্তু রেখেছি। বেশ করেছি, আপনার কোনো অসুবিধা আছে? মিনু রাখতে পারব না, বলবেন আমরা মেয়ে না। মনা রাখলে আবার বলবেন ছেলে না। কি রাখব আমার নাম, মন?


প্র: আপনারা নারীর মতো সাজগোজ করেন, এটা কেন?
অমানুষ: দেখুন, আমাদের প্রধান আয় হলো, কোথায় কোথায় শিশু ভূমিষ্ঠ হচ্ছে খোঁজ খবর রাখা, নবজাতককে নিয়ে হইচই, নাচানাচি করা। এসব করে কিছু টাকা পাই। আমরা নারীর সাজ ধরে চট করে অন্দর মহলে ঢুকতে পারি, মহিলারা তেমন উচ্চবাচ্য করে না। অবশ্য আগের মত আমাদের উপর এদের ভক্তি নাই, দেখলেই দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। তার উপর আবার করে বার্থ কন্ট্রোল!
প্র: ছোট্ট, অত্যন্ত গরিব দেশ আমাদের। যে হারে মানুষ বাড়ছে, গিজগিজ করছে- পোকা মাকড়ও লজ্জা পাচ্ছে। এই দেশে প্রায় তিরাশি ভাগ সৃষ্টির সেরা জীব পশুর ন্যায় জীবন যাপন করছে। বার্থ কন্ট্রোল না করলে চলবে কেন বলুন?
অমানুষ : এটা আপনাদের, মানে মানুষদের সমস্যা, আমাদের না।


প্র: এ প্রশ্ন করার জন্যে আগেভাগে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আপনাদের কাউকে কাউকে নিয়ে বখা ছেলেরা বিশেষ উদ্দেশ্যে অন্য রকম গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে। এরকম কিছু কথাবার্তা আমরা শুনতে পাই, এটা কতোটুকু সত্য?
অমানুষ: এটা যে পুরোপুরি অসত্য এমন না। শুধু বখা ছেলেরা না, বয়স্ক মহিলারাও অন্য রকম আগ্রহই দেখায়। কিন্তু বখে যাওয়া ছেলেরা নিজেরাও তো এমন কাণ্ড করে, করে না? তখন দোষ হয় না?
প্র: আমরা দেখি আপনারা দল বেঁধে চলাফেরা করেন। পেছনে থাকে আবালবৃদ্ধবণিতার আনন্দমুখর লম্বা মিছিল।
অমানুষ: আসলে আপনারা আমাদের নাম ভাঁড় রাখলেই পারতেন। আমাদের তো কোনো আনন্দ নেই, কেউ হাসি ঠাট্টা করে, খোঁচা মেরে আনন্দ পেলে পাক না। তবু তো আমাদের কিছুটা মিথ্যা অহংকার হয়, এই বিশ্ব সৃষ্টিতে নগন্য হলেও কাজে লাগছি।


প্র: এ জীবন আপনার কেমন লাগে?
অমানুষ : আমাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, কোন সন্তান নেই, কোন উত্তরাধিকার নেই, রেখে যাওয়া কোন শেকড় নেই। নাই বা আছে কারো প্রতি দায়বদ্ধতা। কেবল নরক যন্ত্রণার মাঝে বেঁচে থাকা। 

মানুষ অতীত ইতিহাস থেকে না শিখুক অন্তত আমাদের দেখে শিক্ষা নিতে পারত। ধারণা করা হয়ে ছিল, এজন্যে সম্ভবত আমাদেরকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। অসম্ভব কষ্টে ব্যথিত হই, যখন দেখি সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ ইচ্ছে করে যেসব হারাচ্ছে- শ্রেষ্ঠ সময়ের এ অপচয়, কী কুৎসিত! তারপরও আমি বলব, আহ, কী চমৎকার এ জীবন, ভাল লাগার অসংখ্য উপকরণ ছড়িয়ে আছে চার পাশে!


*এঁরা ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান [১]। এদের চোখের দৃষ্টি কী তীব্র। এঁদের চোখে চোখ রাখার ক্ষমতা খোদ ঈশ্বরেরও নেই।   

সহায়ক লিংক:
১. ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post.html 

Thursday, April 29, 2010

আমাদের এই বিজয় মিছিলের পুরোধা, অভ্র!

আমি জানি না কেন, অনেকেই আমাদের এই বিজয়টাকে কেবল আমার বিজয় [৬] হিসাবে দেখছেন! আমি দেখছি, ব্লগার নামের লেখকদের এক অভাবনীয় বিজয়! 

এই বিজয়ের মিছিলে আমার সহযোদ্ধাদের সঙ্গে আমিও একজন মাত্র। সুশীলদের সঙ্গে থাকার চেয়ে ব্লগার নামের লেখক, আমার সহযোদ্ধাদের পাশে থাকাটাই আমার জন্য অনেক আনন্দের, গর্বের। কোন পত্রিকা আমাকে নিয়ে কি ছাপালো, মন্তব্য করল এতে আমি কাতর না।
একটি পত্রিকা সম্বন্ধে লিখেছিলাম, নীতিগত কারণে এই পত্রিকার মালিক, সম্পাদককে আমি পছন্দ করি না। হা হা হা, বেচারারা মনের কষ্টে ববস প্রতিযোগিতার খবরটাই ছাপায়নি। ছাপালে আমার নামটা যে চলে আসে [৪]। এই সব শিশুরা যে কবে বড়ো হবে, এরা আবার চালায় পত্রিকা- কয়লার কালি, কালো টাকার ছাপ যাবে কোথায়?

বিজয় (জানি না এই শব্দটা ব্যবহার করার জন্য জনাব মোস্তফা জব্বারের গাত্রদাহ হয় কিনা। এমনিতেই আমার যন্ত্রণার শেষ নেই [৫], জব্বর সাহেব এর জন্য আমার বিরুদ্ধে একটা মামলা ঠুকে দিলে তো সর্বনাশ!)
 

যেটা আমি পূর্বেও উল্লেখ করেছি, এই বিজয়টা প্রিন্ট মিডিয়ার গালে সজোরে একটা চপেটাঘাত। যার শব্দ অন্যরা শুনতে পাচ্ছেন কিনা অমি জানি না কিন্তু আমি শুনতে পাই। এটা প্রিন্ট মিডিয়ায় বহু দিনের তাচ্ছিল্যের জবাব।
একটি সাপ্তাহিকে আমার সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় অবিকল এই কথাটাই বলেছিলাম এবং এও বলেছিলাম, আপনারা কি হুবহু এই কথাটাই ছাপতে পারবেন? উত্তরটা হ্যাঁ হলেও ছাপার সময় এই অংশটুকু সেন্সর করা হয়েছে। তাতে কিছুই যায় আসে না, থাপ্পড়ের দাগ মিলিয়ে যায় না।
 

আজ আমাদের যে বিজয় এর অনেকটা কৃতিত্ব যায় অভ্রের। কারণ ইউনিকোডে আমি অভ্রের কারণেই আরাম করে তরতর করে লিখতে পেরেছি, আন্তর্জাতিক একটা পাটাতনে বাংলা ভাষাটা আসতে পেরেছে। 
যখন আমি অভ্র ব্যবহার করতাম না তখন অনেক যন্ত্রণা করে লিখতে হতো, যন্ত্রণার কারণে অনেক সময়ে লেখাই হয়ে উঠত না। অনেক সময় পাঠকের কাছে ফন্টের সমস্যার কারণে আমার লেখাগুলো হিজিবিজি-হিজিবিজি মনে হতো। 
এখন কি হয়? কারও এমন সমস্যা মনে হলে আমি বলি: আমার সাইটে 'অভ্র-কীবোর্ড'-এর লিংক দেয়া আছে, নামিয়ে নাও। 
অভ্র কানভার্টার অন্যরা ব্যবহার করেন কিনা জানি না, এতো সোজা, এতো কাজের যে কল্পনাও করা যায় না!
 

আমি দুনিয়ার আবর্জনা নিয়ে লিখি অথচ নিজেই একপেট আবর্জনা নিয়ে ঘুরে বেড়াই। আমি যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করি সবগুলো কি বৈধ? আমি বিষাদের সঙ্গে বলি, না। অজান্তেই কেমন চোর-চোর ভাব চলে আসে। কিন্তু অভ্র ব্যবহার করে মনের উপর এক বিন্দু চাপ নাই। অভ্র বিনে পয়সায় ব্যবহার করা যায়।
 

'ডিজিটাল সময়' নামের একটা সাপ্তাহিকে, পাশাপাশি মোস্তফা জব্বার এবং অভ্রের স্বপ্নবাজ মেহেদী হাসান খানের বক্তব্য ছাপা হয়েছে। মোস্তফা জব্বারের বক্তব্য পড়ার আগ্রহ বোধ করিনি। কেন? পরে বলছি।
এখানে মেহেদী হাসান খান বলেন, "একটি স্বপ্ন নিয়ে সবাই এগোচ্ছে। আর তা হলো ইন্টারনেটে নিজের ভাষায় লেখা। যে স্বপ্নে বাংলায় লিখলে কেউ খড়গ হাতে তেড়ে এসে জানতে চাইবে না লেখার আগে আপনি টাকা দিয়ে লেখার অধিকার কিনেছেন কি না...।"     
 

মোস্তফা জব্বারের বক্তব্য কেন পড়ার আগ্রহ হলো না, বলি, অভ্র যদি এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে কোন ধরনের অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করত তাহলে আমি অন্তত মোস্তফা জব্বারের বক্তব্য শোনার চেষ্টা করতাম। হয়তো বা...। 
হয়তো বললাম এ কারণে, চৌর্যবৃত্তির জন্য এই মানুষটাকে নিয়ে বাজারে অনেক গুজব। প্রমাণ না থাকলেও চালু গুজবের পেছনে কিছুটা সত্যতা থাকে। আমি এই সব বিষয় তেমন বুঝি না তাই এটা নিয়ে বিস্তারিত আলাপে যাই না। 
মোস্তফা জব্বার, এই মানুষটাকে আমার কাছে একজন ধূর্ত-লোভী, নীচ মনে হয়। পূর্বের কথা বাদ দিলেও তার ধূর্ততার নমুনা প্রকট হয় এখনকার আচরণে। এই ধরনের নীচ মানুষদের দেশের, ভাষার চেয়ে বড়ো হয়ে পড়ে নিজের স্বার্থ।
 

আরেকটা বিষয় লক্ষনীয়, মোস্তফা জব্বারের এই ক্ষমতাই নাই একজন মেহেদীর মনন স্পর্শ করার। নির্লজ্জতার চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন মোস্তফা জব্বার। বিজয়ের লোগোতে বেহায়ার মত নিজের ছবি ঝুলিয়েছেন। দেখলেই গা শিরশির করে!
অথচ মেহেদীর অভ্রের লোগো দেখুন।
 

এটা সত্য আমার টাকার বড়ো প্রয়োজন কিন্তু আমিই কি পারব মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত কোন বিষয় নিয়ে অর্থ উপার্জনের কথা ভাবতে? আমার মনে আছে, তখন একটি দৈনিকে ফি-হপ্তাহে 'একালের রূপকথা' নামের একটা লেখা লিখি। ওই পাতাটি তখন দেখতেন সঞ্জীব চৌধুরী। 
একবার তিনি আমার কাছে মুক্তিযুদ্ধের উপর একটা লেখা চাইলেন। লিখলাম 'বীরশ্রেষ্ঠ' নামের লেখাটি। তখন একেকটা লেখার জন্য ৫০ টাকা করে পেতাম, সেটা ৯২-৯৩ সাল। আমি সঞ্জীব চৌধুরীকে অনুরোধ করেছিলাম, এই লেখার জন্য যেন আমাকে কোন সম্মানী না দেয়া হয় [১] কিন্তু তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেছিলেন, উপায় নেই। নিয়ম। একসঙ্গে বিল করা হয়।
 

আমি বিষণ্নচিত্তে টাকাটা নিয়েছিলাম কিন্তু খরচ করার কথা ভাবিনি। আজও আছে সেই ৫০ টাকার নোটটা আমার কাছে। কখনো কখনো পারা যায় না এতোটা নীচে নামতে। আজ এখানে আমি লিখে দিচ্ছি, মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত কোন লেখার জন্য, কোন বইয়ের জন্য যদি কখনও এক পয়সা নেই তাহলে যেন একজন ঘুষখোরের [২] সঙ্গে আমার কোন তফাত না থাকে।  এদের মত ইয়ে [৩] খেতে...।

মোস্তফা জব্বার, আপনি কি জানেন না, পানির স্রোতকে যেমন আটকে রাখা যায় না তেমনি স্বপ্ন [৭]। ভাষা উম্মুক্ত হবেই, পারলে আপনি আটকান।
মেহেদী হাসানের সঙ্গে

*ছবি ঋণ: অভ্র, বিজয়, আসাদ আবদুল্লাহ

সহায়ক লিংক:   
১. অহেতুক আবেগ: http://www.ali-mahmed.com/2008/11/blog-post_08.html
২. ঘুষখোর: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_26.html 
৩. ঘুষখোর ব্যাংকের গভর্নর: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_3654.html
৪. The BOBs: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/bobs.html 
৫. লাশ-বানিজ্য-পদক: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_23.html
৬. dw-world: http://www.dw-world.de/dw/article/0,,5473377,00.html
৭. স্বপ্ন: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_23.html  

Wednesday, April 28, 2010

বিবেকের সঙ্গে কথোপকথন

একজন আমাকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে। বিবেক নামের এর কাছ থেকে পালিয়ে থাকা অসম্ভব! এ আমারই একটা অংশ। তার উপর এর আছে বিপুল ক্ষমতা- পশু এবং শিশু নামের দুই হাত। এই দু-হাতই আবার সমান চলে! একে আমার বড়ো ভয়- পশু এবং শিশু লুকিয়ে থাকে ঘাপটি মেরে, কখন কে যে বেরিয়ে আসবে এটা আগাম বলা মুশকিল। মহাপুরুষরা হয়তো এদের তোয়াক্কা করেন না কিন্তু অতি সাধারণ একজন আমার পক্ষে এদের তাচ্ছিল্য করার কোন উপায় নেই।

নিরুপায় আমি বিবেকের মুখোমুখি হই, ভয়ে ভয়ে। আমি জানি এ আমাকে নিয়ে কী খেলাটা খেলবে। এ সহাস্যে একের পর এক অস্ত্র আমার দিকে ছুঁড়ে দেবে। আমাকে মাটিতে ফেলে দিয়ে পাগলের মত হা হা করে হাসতে থাকবে। আমাকে পরাজিত করতে পারলে এর আনন্দের শেষ নেই!
 

আমি ম্রিয়মান গলায় বলি, বলো, আমাকে খুঁজছিলে কেন?
বিবেক: কি, আমাকে ভয় করে বুঝি! তোমার নামে এখন এন্তার অভিযোগ। বিবেক মানে আমাকে বিকিয়ে তুমি নাকি জার্মানি যাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছো, এটা কি সত্যি?
আমি: জ্বী সত্য, অতি সত্য। তবে জার্মানি যাওয়ার জন্য না, ঘটনা ভিন্ন। জার্মানি নৌকায় করে যাওয়াটা তো বুদ্ধিমানের কাজ না। সময় লাগবে অনেক, তাছাড়া খাওয়ার জন্য যে চিড়া-গুড় নেয়া হবে, আপনি ভেবে দেখেছেন, ক-বস্তা লাগবে! নৌকা এতো ভারও সইবে না। নৌকার ওজন কমাবার জন্য আমি বস্তাগুলো মাথায় নিয়ে বসে থাকব বুঝি?
আসলে আমার লোভটা হচ্ছে প্লেন মানে হাওয়াই-জাহাজে চড়া।
হাওয়াই-জাহাজে আগে গেছি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। এইবার আমাকে বলা হয়েছে বসার ব্যবস্থা হবে এবং ’গেইট-লক’ থাকবে।
 

বিবেক: আমার সঙ্গে রসিকতা করবা না। তোমার আসল অনুভূতিটা বলো?
আমি: আগেও অনেকবার বলেছি, আবারও বলি, আন্তর্জাতিক একটা পাটাতনে বাংলা ভাষা, বাংলাদেশ শব্দটা বারবার ঘুরেফিরে এসেছে, আসছে; এর কাছে আমার নিজের আনন্দ তুচ্ছ। এখন মরে যেতেও সুখ, মৃত্যুঘুমটা হবে গাঢ়।
 

আরেকটা অভাবনীয় কান্ড এরিমধ্যে ঘটে গেছে। নেটে যারা লেখালেখি করেন এঁদের কারও কারও ভাবনার-লেখার হাত এতোই শক্তিশালী এই দেশের অনেক প্রতিষ্ঠিত লেখকও পাত্তা পাবেন না। আমি ডয়েচে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলাম, 'হয়তো আমি এখানে চলে এসেছি কিন্তু এমন অনেক ব্লগার নামের লেখক আছেন যারা এখানে আসতে পারেননি, কিন্তু পারলে আমি এঁদের হাত সোনা দিয়ে বাঁধাই করে দিতাম। 
কিন্তু প্রিন্ট মিডিয়ার ব্লগার নামের লেখকদের প্রতি ছিল সীমাহীন তাচ্ছিল্য। প্রিন্ট মিডিয়া ব্লগার নামের লেখকদের ন্যূনতম সম্মানটুকুও কখনো দেখাননি।
আমি ডয়েচে ভেলের কাছে নতজানু হই, এই কারণে না যে এরা আমাকে এই সম্মানটা দিয়েছেন, এঁরা প্রিন্ট মিডিয়ার মুখে সজোরে একটা চপেটাঘাত করেছেন। থাপ্পড়ের শব্দটা আমি বিলক্ষণ টের পাই। এটা
একটা ব্লগার নামের লেখকদের বিপুল বিজয়, অভূতপূর্ব। এই বিজয় মিছিলে আমার সহযোদ্ধাদের পাশে আমিও একজন। আমি এই দেশের সুশীল সমাজের লোকজনের চেয়ে আমার সহযোদ্ধাদের সঙ্গে থাকতে পেরে গর্বিত।
 

আমি নির্মলেন্দু গুণের [১৫] মত বড়ো মাপের মানুষ না যে আমার দেশকে নিয়ে মার্কিন মুল্লুকের এক কবি গ্রেগরী করসো অতি কুৎসিত কথা বলবে, অঙ্গভঙ্গি করবে, রসিকতা করবে আর আমি উঁচিয়ে লেজ নাড়তে থাকব। ডয়েচে ভেলে আমার সঙ্গে এর চেয়েও ক্ষুদ্র কোনো আচরণ করে দেখুক না, আমি এক মুহূর্তও না-ভেবেই বলব, আপনাদের জিনিস আপনাদের কাছেই রাখুন, এটাই শ্রেয়।
 

বিবেক: তুমি নাকি ভীতু-নির্বিষ টাইপের মানুষ?
আমি: হুঁ। আসলে আমার নিজের ঢোলটা খুব পাতলা চামড়ার তো। পারতপক্ষে বাজাই না ফেটে যাওয়ার ভয়ে, অবশ্য মাঝেমধ্যে টোকা দিয়ে দেখি সচল আছে কিনা। 

এই দেশের অসম্ভব শক্তিশালী একজন মানুষকে চটি দিয়ে পিটিয়ে ছিলাম কেবল তার এই অহং বোধের কারণে, এই দেশে নাকি তার কেশ স্পর্শ করার কেউ নাই। অবশ্য এও সত্য আমি তার কেশ স্পর্শ করিনি, কেবল আমার চটি তাকে স্পর্শ করেছে। 
তেমনি আমার মাকে, আমার দেশকে নিয়ে কেউ কুৎসিত কথা বললে সে স্রেফ খুন হয়ে যাবে। এটাই আমার আইন, জঙ্গলের আইন। একজন নির্বিষের ভঙ্গি।

যেদিন এই লেখাটা লিখছিলাম, "লাশ-বানিজ্য-পদক" [১৬]; এই লেখাটা শেষ করতে করতে ভোর হয়ে গেল। সকালেই ব্র্যাকের প্রতারণার কারণে আমার আগাম জামিন নিতে যাওয়ার কথা। আমার পরিবারের লোকজন ছিলেন সত্রাসে, আমি এদের চোখের ভাষা স্পষ্ট পড়তে পারছিলাম: কি অধিকার আছে তোমার, আমাদের প্রতি এই অন্যায় করার? তোমার কি দায় পড়েছে এদের নিয়ে এই মুহূর্তে এটা লেখার?
কিন্তু আমি গা করিনি কারণ ওই দিনই ব্র্যাকের অত্যাচারে একজন মানুষ অসম্ভব লজ্জায়-বেদনায়-ক্ষোভে মারা গিয়েছিলেন। তখন এমন ভীতু না হয়ে আমার উপায় ছিল না। আমি আমার কলমকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।

একজন একবারই মারা যায়, প্রতিদিন মারা যায় নপুংশক! আমি জানি, আমি একজন মিছামিছি যোদ্ধা কিন্তু আমার গলিত শব থেকে জন্ম নেবে অসংখ্য সত্যিকারের যোদ্ধা। যাদের তলোয়ারে থাকবে সূর্যের অমিত তেজ! সব অন্ধকার তারা ছিন্নভিন্ন করে দেবে।

বিবেক: এ কী শুনতে পাই! তুমি নাকি আবেগে 'ছিনান' করার কারণে বিক্রি হয়ে গেছ?
আমি: ক্কি-কি বললে, কী সর্বনাশ! তা আমার নিজেকে বিক্রি করে দেয়ার টাকাগুলো ক্কো-কোথায়? কই, সুইস ব্যাংকের ম্যানেজার নতুন কোনো অংকের টাকা জমা হয়েছে এমনটা বলেনি তো, ব্যাটা রাস্কেল একটা! ইয়ে মানে আমার বিক্রির বাজার মূল্যটা কত এটা কি জানা গেল?


বিবেক এই প্রশ্নের উত্তরের ধারেকাছেও গেল না। ঠোঁট গোল করে বলল, তোমাকে যে একজন অহেতুক কুৎসিত গালি দিল, তুমি দেখি ঝিম মেরে রইলে?
আমি: দেখুন, আমি আগেও বলেছি, আবারও বলি, আমরা যেসব কুৎসিত কথা বাসায়-সামাজিক পরিবেশে বলতে পারি না সেটা এই ভুবনে এসে বলি, এ তো নতুন কিছু না! আর গালির উত্তরে আমি তো গালি দেব না কারণ এতে ওই মানুষটা জয়, আমার পরাজয়। আমার নিজেকে পরাজিত দেখতে ভালো লাগে না।


বিবেক: স্বাধীনতা নিয়ে তোমার অনেক পোস্টই নাকি কান্নাকাটি, কঠিন জিনিস কিছু নাই।
আমি: একদম ঠিক। কঠিন জিনিস থাকবে কেমন করে? এই দেশটা যে গুটিকয়েক মানুষ স্বাধীন করে ফেলেছিলেন, আমি তো তাঁদের নিয়ে লিখি না।  দলবাজি [২৫] ব্যতীত এই দেশে দলছুট মানুষদের স্থান কোথায়- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও দল আছে?

আমি লিখি, একজন অতি সাধারণ নেতা [৫], সামান্য হিন্দু একটা মেয়ে ভাগীরথী [৯], গোলাম আজমের বিপক্ষে দুর্বল যুক্তি [৬] [৭], আদি-মানুষ নামের একমাত্র বীর বিক্রমের কথা [১২], আদি-নারী প্রিনছা খেঁ [৮], একজন ভিনদেশি [১৭], বীরাঙ্গনা রীনার প্রলাপ [১০], তুচ্ছ একজন সুইপার [২], অযথা বকবক করা একজন কথাবাজ [৪], ঠিক ১৬ ডিসেম্বরে রঙ্গে আত্মহত্যা করা একজন সাধারণ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর আনন্দ [১৩] [১৪], একজন সামান্য ঠেলাওয়ালা [১১]! দশ বছরের বালকের খেলা [২৪]।অআমার লেখা এমন ফালতু কান্নাকাটিমার্কা কতশত পোস্টের কথা বলব, বলো?

শোনো, ওই সব নব্য মুক্তিযোদ্ধাদেরকে বলো, হ্যাঁ, এদের নিয়ে লিখতে গিয়ে আমি কাঁদি, এতে আমার কোন লাজ নাই। প্রয়োজন মনে করলে হাজার-হাজার মানুষের সামনে কাঁদব, আকাশ ফাটিয়ে চিৎকার করে কাঁদব। আমি আমার 'ফ্রিডম' [২০] বইয়ের ভুমিকায় লিখেছিলাম, "বীরাঙ্গনা রীনা, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার পা ধরে রাখব যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি বলবেন: এ প্রজন্মকে ক্ষমা করেছেন।"
বীরাঙ্গনা রীনা এখনো বেঁচে আছেন। তুমি ওইসব নব্য মুক্তিযোদ্ধাবালকদের বলো, তাঁকে খুঁজে দিতে, এরপর খেলাটা দেখো, লাইভ। হাজার-হাজার মানুষের সামনে তাঁর পা ধরে বসে থাকব যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি মুখে এই কথাটা বলবেন: তিনি এই প্রজন্মকে ক্ষমা করেছেন।

হাহ, এদের আমি বলি, বাছা, ২০০৫ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যখন লেখা শুরু করেছিলাম তখন মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত ২০১০ সালের মত এমন সহজলভ্য ছিল না। আমার মনে আছে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তথ্যের প্রায় ১৫০০০ কপি ফটোকপি করেছিলাম। আমার এলাকায় তখন একটাই মাত্র ফটো-কপিয়ার মেশিন। আমার যন্ত্রণায় মেশিন বসে গিয়েছিল। আমি জানি না, মেশিনের বদ-দোয়া লাগে কিনা, হলে ভস্ম হয়ে যেতাম!
তখন চোর হয়েছিলাম সত্য! উপায় ছিল না যে- মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত একেকটা বইয়ের কী দাম! আমাদের হুমায়ূন স্যারও [১৯] বইয়ের দাম রাখেন হাতের নাগালের বাইরে অথচ এই মানুষটা ইচ্ছা করলেই মূল্যটা কম রাখতে পারতেন!
আহা, আমি এই সব দেশপ্রেমিকদের(!) কেমন করে বোঝাই একেকজনের যুদ্ধ করার ভঙ্গি [৩] একেক রকম! যারা নিজেকে ছোট করতে গিয়ে প্রকারান্তরে নিজের মাকে গালি দিয়ে বসে এদের জন্য আমার করুণা হয়!

২০০৬ সালে 'রাজাকারকে রাজাকার বলব, ছড়াকার না' [২৩] এমনসব লেখা লিখে রাতে অনবরত ফোনে হুমকি, কত নির্ঘুম রাত। বাধ্য হয়ে থানায় জিডি করা।
ওহে বালক, বৈদেশে বসে লম্বা-লম্বা বাতচিত করা সহজ। যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে যুদ্ধ করা আর নিরাপদ দূরুত্বে থেকে পেট ভাসিয়ে ডিভিডিতে যুদ্ধের ছবি দেখায় অনেক তফাত।
...
বিবেক: তোমার সহযোদ্ধা-প্রতিযোগিদের একজন, তোমার নামে বিস্তর অভিযোগ এনেছেন। প্রথম অভিযোগ তুমি নাকি গরীব প্রতিনিধি?
আমি (হড়বড় করে): এই প্রশ্নটা বাদ দেয়া যায় না? কেন না এর মাথায়...?
বিবেক (চোখ লাল করে): আমি প্রশ্ন করব তুমি উত্তর দেবে, ব্যস। এখন বলো, এই বিষয়ে তোমার মত কি?
আমি (বিষণ্ন): দেখো, এটা কঠিন একটা প্রশ্ন। এখানে অনেক অভিযোগ এবং এই নামটার পেছনে আছেন চালবাজ কিছু মানুষ, ওই সাইটটার স্নেহের ছায়া এদের মাথায়। একেক সময় এটার পেছনে একেকজন মানুষ থাকেন, যখন যিনি থাকেন তখন তার ভাবনা প্রতিফলিত হয়। কার কথা আমি আলাদা করে বলব?
আর গরীব দেশের প্রতিনিধি গরীব হবে এ আর বিচিত্র কী! ফতুয়া ছেড়ে স্যুট-টাই পরলেই কি? তবে এরা আমার ভাবনাকে গরীব-নির্বোধ ভাবেন এটা দেখে ভাল লাগে না।
এরা আমাকে বড়ো বেশী নির্বোধ ভাবেন, আমি হাসি। যে মানুষটা ফোনে আমাকে অভিনন্দন জানান তিনিই আবার আমার অর্জন পাওয়া নিয়ে সংশয়তা প্রকাশ করে আমার নামে কঠিন লেখা দেন। তখন মনশ্চক্ষুতে মানুষটার নগ্নতা আমার চোখে ভেসে উঠে। বুঝলে, নগ্ন একজন মানুষ দেখতে ভালো লাগে না। আমার কাছে তো এদের সবার ৪ বছর আগের মন্তব্যগুলোরও প্রিন্ট-আউট আছে, ওগুলোও পড়ি। হা হা হা। এখন মিলিয়ে আমি খুব মজা পাই।
এরা যে ট্রেনের যাত্রী, একদা সেই ট্রেনের আমিও ডেইলি প্যাসেঞ্জার ছিলাম। একটা ট্রেনে বিচিত্রসব যাত্রী থাকেন, কেউ কেউ আবার দেশ উদ্ধার করেন! কেউ কেউ উঠেই বই পড়তে বসে যান কিন্তু কান তো আর বন্ধ থাকে না। কানপাকা ওষুধের বিজ্ঞাপন কানে না-গিয়ে উপায় কী!
বিবেক: যা প্রশ্ন করব তার উত্তর দেবে? বাড়তি কথা বন্ধ। এরা বলছে, তোমার সাইট মাসে ৫০ জন থেকে ১০০ জন ভিজিট করতেন? কথা সত্য?
আমি: মিথ্যা। ৫০ জন ভিজিট করতেন এই হিসাবটা দেখছি এরা অনেক আঁক কষে বের করেছেন। এ তো সোজা হিসাব। ৫০ না, সংখ্যাটা হবে ৩০। কারণ আমি নিজে প্রতিদিন একবার করে আমার ভিজিট করতাম, মাসে ৩০। তবে পর্ণো সাইটগুলো থেকে আসা ভিজিটর প্রচুর। এদের সাইট এই প্রতিযোগিতায় যোগ করা প্রয়োজন ছিল। আশা করছি, সামনের বার এটা হবে।
বিবেক: এরা বলছে, তুমি নাকি নিজেই স্বীকার করেছ, তোমার লেখাগুলো আদৌ ব্লগিংয়ের পর্যায়ে পড়ে কিনা তুমি জানো না।
আমি: অবশ্যই স্বীকার করেছি। কারণ আমি প্রচলিত ব্লগিংয়ে বিশ্বাস করি না। ব্লগিং মানে কেবল দিনলিপি হতে হবে কেন? একজন ব্লগার তো পর্ণোস্টার না যে সে কার  সঙ্গে বিছানায় গেল তা ফি-রোজ লিখে জানাবে। ব্লগার নামের একজনকে লেখকের কাতারে আসতে হলে এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটাই ছিল আমার বলার মূল বক্তব্য।

বিবেক: একটা সাইটের হর্তাকতা [২২] নাকি তোমার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে ফলাফল প্রভাবিত করেছেন?
আমি: ওই সাইটের হর্তাকর্তার পোস্টটা ছিল ভোটের শেষ দিনে দেয়া। একজন ভিনদেশী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন ভাবতেই মনটা ভালো হয়ে যায়। হোক ভুলভাল বাংলা, তাতে কী! আর প্রচারণা বলতে আমাকে ভোট দিতে বলা হয়নি, কেবল বলা হয়েছিল, আমার এই সাইটটা ২৮% এগিয়ে আছে। তো, তখন পর্যন্ত আমার সাইটটা পরের প্রতিযোগিদের কাছ থেকে প্রায় ৩ গুণ এগিয়ে ছিল। 'ভোট-দমকল' লাগিয়ে ভোট দিলেও এই ব্যবধান কমানো যেত এমনটা জেনে ভালো লাগল। আগামীতে এই দেশে 'ভোট-দমকল' এবং 'মাইনাস-দমকল' এই দুইটা মেশিনের বিপুল চাহিদা হবে এতে অন্তত আমার কোন সন্দেহ নেই।
 

বিবেক: আরেকটি সাইট (গ্লোবাল ভয়েসেস) [২১] তোমার সাক্ষাৎকার প্রচার করেও ফলাফল প্রভাবিত করেছে বলে অভিযোগ আছে?
আমি: সাক্ষাৎকারটা নেয়া হয় ভোট শেষ হওয়ার মাত্র ৩দিন পূর্বে। বাংলা ভাষার প্রতি মমতাই মানুষটার কাল হয়েছে! মাত্র ৩ দিন পূর্বে মানুষটা প্রভাবিত করে কয় পার্সেন্ট বাড়িয়েছেন, এই সব ফাঁকা মাথার লোকজনরা হিসাব করে দেখছে না কেন? কেলাশ ওয়ানের বাচ্চার কাছ থেকে জেনে নিলেই হয়, ২০ পার্সেন্ট আর ২০টা ভোট এক কথা না।

চর্বিতচর্বন-জাবরকাটি না, পূর্বের কথাই: 'ভোট-দমকল' এবং 'মাইনাস-দমকল'। পুরোদমে চালু, এটাই এদের ফাঁকা মাথায় ঘুরপাক খায়!।

বিবেক: তোমাকে নাকি ২০ জন ব্লগার চেনে?
আমি: ভুল। ২০জন না, একজন। আমি নিজে। এই সব নিয়ে গবেষণা করার কিছু নাই। যা সত্য আমি তাই স্বীকার করি। যেমন ধরো, গোপন সূত্রে আমার কাছে খবর আছে, প্রতি বছর আমার বইয়ের ২টা কপি বিক্রি হয় [১৮]। একটা কেনে আলী মাহমেদ অন্যটা শুভ।

শোন বিবেক, তোমায় বলি, এরা আমাকে, জুরিকে, সাক্ষাৎকারীকে খাটো করছে না, করছে বাংলা ভাষাকে, বাংলাদেশকে। প্রায় ৫০ কোটি মানুষ হিন্দিতে কথা বলে, কই, হিন্দি ভাষা তো ওখানে নাই! কেন নাই, ওই কুতর্কে গেলাম না? কিন্তু নাই।

এইবার আমার মেজাজ খারাপ হয়। বিবেককে বলি, তোমার সঙ্গে আমার খুনাখুনি হলে তুমিও মরবে এবং যথারীতি আমিও। এই বিষয়ে আমি আর কথা বাড়াতে চাচ্ছি না। সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়ায় যাদের লেজ কেটে যায় এটা বলে আগ বাড়িয়ে যারা তথ্য দান করেন এবং প্রতিযোগি হয়েও নিজেই পোস্ট দেন। অন্তত অন্য কাউকে দিয়ে দেয়ার মত যাদের মাথায় ঘিলু নামের পদার্থই নাই তাদের বিষয়ে কী-বোর্ড চাপতে ক্লান্তি লাগছে। ওহে, বিবেক, শেষ কথা বলে তোমার সঙ্গে আলাপচারিতার এখানেই সমাপ্তি এবং শুভ রাত্রি!
শেষ কথাটা হচ্ছে, পূর্বে লিখেছিলাম, "মানুষের বাচ্চা মানুষের দুধ খাবে, পশুর না। মানুষের মাথায় মানুষের মগজ থাকবে, পশুর না।" 

এখন এর সঙ্গে এখন যোগ করি, কিছু মানুষদের মাথায় পশুর হোক আর যারই হোক কোনো-না-কোনো একটা মগজ থাকুক। মগজবিহীন মানুষ দেখতে ভালো লাগে না।

সহায়ক লিংক:
১.  দেশমা এবং তার খুনি সন্তান: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_17.html
২.   মুক্তিযুদ্ধে একজন সুইপার: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8807.html
৩.   নাইব উদ্দিন আহমেদ: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_2292.html
৪.   সিরাজুর রহমান: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_12.html
৫.   মশিহুর রহমান: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_06.html
৬.   মুক্তিযুদ্ধ গোলাম আযমের চোখে: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_29.html
৭.   মুক্তিযুদ্ধ এবং গোলাম আযম: http://www.ali-mahmed.com/2007/07/blog-post_3179.html
৮.   প্রিনছা খেঁ: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_27.html
৯.   ভাগীরথী: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_6057.html
১০. বীরাঙ্গনা রীনা: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_7644.html 
১১. মুক্তিযুদ্ধে, একজন ঠেলাওয়ালা: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_18.html
১২. উক্য চিং: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8752.html
১৩. সুরুয মিয়ার স্ত্রী: http://www.ali-mahmed.com/2009/08/blog-post_02.html
১৪. সুরুয মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_28.html
১৫. অ্যালেন গিনসবার্গ, নির্মলেন্দু গুণ: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_7854.html
১৬. লাশ-বানিজ্য-পদক: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_23.html
১৭. ফাদার মারিনো রিগন: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_7597.html
১৮. ওড়নাসমগ্র: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_18.html 
১৯. হুমায়ূন আহমেদ: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_15.html 
২০. ফ্রিডম: http://www.ali-mahmed.com/search/label/%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%AE 
২১. গ্লোবাল ভয়েসেস: http://globalvoicesonline.org/2010/04/11/bangladesh-bangla-blogs-at-the-bobs-meet-ali-mahmed/
২২. আরিলের পোস্ট: http://www.somewhereinblog.net/blog/arildblog/29134759
২৩. রক্তের দাগ: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_18.html
২৪. লালু: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post.html
২৫. দলবাজি: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_19.html 

Tuesday, April 27, 2010

বিশ্বাসঘাতক অনুবাদক, মুর্খ অনুবাদক!

অনুবাদক 'এ্যাদুত্তোর এ্যাদিতর' মানেই বিশ্বাসঘাতক! যিনি অনুবাদ করেন তাঁর ইচ্ছার উপর নির্ভর করে অনুবাদটা কেমন হবে! তিনি ইচ্ছা করলে অনেক খেলাই খেলতে পারেন অতি বুদ্ধিমান হলে তাঁর চালবাজি ধরা প্রায় অসম্ভব
এটা না-হয় মেনে নেয়া গেল কারণ একজন অন্যের সন্তানকে বড়ো করলে তার মধ্যে অনেকখানি নিজের ভাব মিশিয়ে দেবেন, মেনে না নিয়ে উপায় কী?   

কিন্তু মূর্খ অনুবাদক নিয়ে বড়ো যন্ত্রণাএখন দেশে এদের চাপে আমরা পাঠকদের প্রায় চ্যাপ্টা হওয়ার দশানাজিম উদ্দিন নামের একজন ড্যান ব্রাউনের "দি দ্য ভিঞ্চি কোড"-এ Hackler and Koch -কে অনুবাদ করেছেন হেকলার এবং কচ! এই বেচারাকে কে বোঝাবে, 'থ্রি নট থ্রি' রাইফেলের এই অনুবাদ করা যায় না, 'থ্রি না থ্রি' রাইফেল!

এর সঙ্গে ভুল বানান যোগ হলে সোনায় সোহাগাআর বইটা যদি হয় স্টিফেন কিং-এর তাহলে তো সর্বনাশ!  হাসান খুরশীদ রুমী ইনি নাকি অনুবাদের ভুবনে ওস্তাদ মানুষতার সম্পাদনায় স্টিফেন কিং-এর গল্প: ২ নামে একটা বইয়ে ভুলের নমুনা দেখলে স্টিফেন কিং আত্মহত্যা করতেন বইটা প্রকাশ করেছে ঐতিহ্য প্রকাশনী

"...হল একটা ইঁদুরকে লক্ষ্য করে খুব জোড়ে একটা ক্যাল ছুড়ে মারল আর মুচকি হাসতে লাগল...।" 
হল বেচারা মুচকি হেসে সারা, বেশ! কিন্তু জোড়ের কথা না-হয় বাদ দিলাম, ছুড়েও বাদএখন এই 'ক্যাল' জিনিসটা কি? অনেক মাথা খাটিয়ে বের করতে হবে এটা ক্যাল না, ক্যান। বলার ভাষায় ডিব্বা।

"ওয়্যারউইক হলের কাঁধে কাপড় মেলে বলল, 'কেমন চলছে কলেজ বয়'?"
ওয়্যারউইক এমন বেকুব কেন? বারান্দায়, ছাদে কাপড় না মেলে হলের কাঁধে কাপড় মেলতে গেল কেন? অনেক ঘিলু খরচ করে বের করতে হয়, ওয়্যারউইক হলের কাঁধে চাপড় মেরে বলল, ...  
একে তো বিদেশি খটমটে নাম, বিদেশি লেখকদের শব্দ নিয়ে জাগলিং বুঝতেই কালঘাম বেরিয়ে যায়, তার উপর পাঠক কি লাইন বাই লাইন গবেষণা করে বেড়াবে? সম্ভব?

সম্প্রতি হুমায়ূন আহমেদ 'ফাউনটেনপেন'-এ (শিলালিপি, ২৩.০৪.১০) খয়াল কানপুরির একটা লেখা ব্যবহার করেছেন: "জমিকে লালাউ গুল জিনহে খেয়াল নেহি, ও লোগ চান্দসিতারোঁ কি বাত করতে হ্যায়। ।"
হওয়া উচিৎ ছিল, "জমিঁ কে লালা-ও-গুল জিনহে খয়াল নেহি , ও লোগ চান্দ-সিতারোঁ কি বাত করতে হ্যায়ঁ [১]।" 
হিন্দিতে লালাউ গুল বলতে কোন শব্দ আছে বলে আমার জানা নাই। এটা হবে লালা-ও-গুল। হিন্দিতে 'লালা-ও-গুল' বহুল ব্যবহৃত শব্দালঙ্কার, লালা-ও-গুল এটা একই সঙ্গে ব্যবহার হবে 

এটা কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের দোষ নাতিনি যেখান থেকে এই লেখাটা নিয়েছেন, যিনি এটা অনুবাদ করেছেন তার দোষ যেহেতু হুমায়ূন আহমেদের হিন্দিতে ন্যূনতম জ্ঞান নাই তাই তিনি যেটা পড়েছেন সেটাই লিখে দেয়েছেন। একজন হুমায়ূন আহমেদ হিন্দি না জানলে দোষ হয় না, সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ বাংলা না জানলে দোষ নাই, এঁদের লাজ হয় না? কিন্তু ইংরাজি ভাষাটা খানিকটা কম জানলে আমাদের শুলে চড়তে হয় [২]!

তাঁর একটা উপন্যাস আছে, 'চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক'এই উপন্যাসে তিনি অজস্রবার ব্যবহার করেছেন, এই কথাটা, "বিল্লি মে কাট দিয়া"অর্থাৎ বেড়াল কামড় দিয়েছে। মে হবে না, হবে নে। 'বিল্লি নে কাট দিয়া'- बिल्ली ने काट दिया
এই ভুল নিয়ে তাঁর যেমন বিকার নাই তেমনি 'মাতাল হওয়ায়' মাওলানা ভাসানী সম্বন্ধেও [৩]! এখানেই একজন লেখকের সঙ্গে একজন ব্লগার নামের লেখকের পার্থক্য। 
একজন অনুবাদক কেমন করে একজন নারীকে পুরুষ বানিয়ে দেন প্রথম আলোর [৪] অসাধারণ এই যাদু দেখার পর কপারফিল্ডের উপর থেকে আমার ভক্তি উঠে যায়!  


বিশেষ কৃতজ্ঞতা, ১. মোসতাকিম রাহী: http://www.mustakimrahi.com/

সহায়ক লিংক
২. যারা ইংরাজি জানেন না তারা শূলে চড়বেন।: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_9242.html
৩. হুমায়ূন আহমেদ:  http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_6179.html
৪. প্রথম আলো: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_4871.html    

Sunday, April 25, 2010

এটা কি খুব বড়ো একটা চাওয়া ছিল, মি. প্রেসিডেন্ট?

২০০৬ সালের ২ অক্টোবর, অতি তুচ্ছ কারণে শ্যুটিং কমপ্লেক্সে ঢুকে কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ী সোনার ছেলে আসিফসহ কয়েকজন জাতীয় শ্যুটারকে পিটিয়েছিল পুলিশ। 
আমরা হতভম্ব হই না, দিগম্বর হই!

কমপ্লেক্সের ভেতর ঢোকার সাহস আসে কেমন করে এদের, পুলিশ কোত্থেকে এমন দুঃসাহস পায়! এরা কেবল ভেতরেই ঢোকেনি, পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিয়েছিল আসিফের! যে হাতে আসিফ তাঁর অন্য রকম অস্ত্রটা তুলে নেন দেশের সম্মান আনার জন্য। তাঁর সহযোদ্ধা শিপুর ভাঙ্গা হাত এখনো ঠিক হয়নি!
একটা সভ্য দেশে কেমন করে এটা সম্ভব? ভাবতেই আমি শিউরে উঠি। এই দেশের একজন নাগরিক হিসাবে আমরা জানি না ওই পুলিশ নামের মাস্তানদের কী শাস্তি হয়েছিল?


পুলিশ নামের মাস্তানদের শাস্তির খবর না-জানলেও এটা জানি, এই মাস্তানরা উল্টো আসিফদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল! আমাদের দেশের মামলা- এই সব মামলা কবে শেষ হবে এটা কেউ জানে না!
সেটা ছিল ২০০৬ সালের ঘটনা। ২০১০ সালেও এই মামলা যথারীতি চলছে। এই মামলায় আসিফকে সশরীরে নিয়মিত কোর্টে হাজিরা দিতে হয়। একের পর এক তারিখ পড়ে আর তিনি সব ছেড়েছুঁড়ে হাজিরা দিতে চলে আসেন।

এই সোনার ছেলেদের কাছ থেকে আমরা আবার আশা করি, এঁরা এমন দুর্দান্ত নমুনা দেখাবেন যা দেখে আমরা হাঁ হয়ে যাব! 
আমাদের দেশে কি এমন কেউ নাই যিনি এঁদের প্রতি না-হোক অন্তত আমাদেরকে নিদারুণ লজ্জার হাত থেকে বাঁচাতে পারেন?
আর কেউ না পারলেও, রাষ্ট্রপতি-রাষ্ট্রপিতা পারেন। রাষ্ট্রপিতা তাঁর সন্তানদের জন্য যে কোন উদ্যেগ নিতে পারেন। এর জন্য কারও কাছে তাঁকে জবাব দিতে হয় না। এমন কী ফাঁসির আসামীকে পর্যন্ত ইচ্ছা করলে তিনি ক্ষমা করতে পারেন। কারণ তিনি রাষ্ট্রপিতা, বিপুল ক্ষমতার ব্রক্ষ্মাস্ত্র তাঁর হাতে। ব্রক্ষ্মাস্ত্র নামের এই অস্ত্রটা সবার কাছে থাকে না, এটার মুখোমুখি দাঁড়াবার ক্ষমতাও কারো নাই।
আসিফদেরকে একটু দয়া করতে পারেন না, রাষ্টপিতা? অবশ্যই পারেন, সে ক্ষমতা আপনার আছে।


আপনি আপনার এই বিপুল ক্ষমতা যে ব্যবহার করেননি এমন তো না। পত্রিকার খবর (প্রথম আলো/ ১৩.১১.০৯), চারটি দুর্নীতি মামলায় ১৮ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শাহাদাব আকবরের সাজা আপনি মওকুফ করে দিয়েছেন। অথচ তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে কখনো আদালতের ধারেকাছেও আসেননি, আত্মসমর্পণ করেননি!
মি. প্রেসিডেন্ট, আমি সবিনয়ে জানতে চাই, শাহাদাব আকবর দেশের জন্য এমন কোন সম্মানটা নিয়ে এসেছেন যার জন্য আপনি আপনার এই ব্রক্ষ্মাস্ত্রটা ব্যবহার করলেন? শাহাদাব আকবরের এটাই কী একমাত্র যোগ্যতা তিনি জাতীয় সংসদের উপনেতা বেগম সাজেদা চৌধুরীর সন্তান?

মি. প্রেসিডেন্ট, আমরা আপনার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকতাম যদি আপনি এই ব্রক্ষ্মাস্ত্রটা আসিফদের বেলায় ব্যবহার করতেন। আমাদের সন্তানদের কাছে আমরা বুক চিতিয়ে গল্প করতাম, জানোস রে, ব্যাটা, আমাগো পেরসিডেন্ট সাব কি করল, জানোস...।
এটা কি খুব বড়ো একটা চাওয়া ছিল মি. প্রেসিডেন্ট? 

Friday, April 23, 2010

লাশ-বানিজ্য-পদক!

আদালতে বসা থাকতে থাকতেই ফোন আসেআমি যেখানে থাকি, আখাউড়ায়, ওখানে ব্র্যাকের লোকজনের অপমান অত্যাচারে মোঃ জমশেদ আলী নামের একজন মানুষ মারা গেছেন

নিমিষেই  আমার নিজস্ব জাগতিক কষ্ট ভুলে যাইস্তব্ধ মুখে বসে থাকিআমার অন্যমনস্কতা দেখে আমার ল-অফিসার বিরক্ত হন।   
আমার কেবলি মনে হচ্ছিল, এই গ্রহে এমন কী কেউ নাই যারা এদের থামাতে পারে? এরা কী একটা দেশের সরকারের চেয়েও শক্তিশালী?  
আমাদের দেশের মিডিয়া, এরা? অতীতের অভিজ্ঞতায় আমি অনুমান করতে পারছিলাম মিডিয়ায় এর শেষ পরিণতি কি হবে?

আচ্ছা, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি কি এদের চেয়েও অত্যাচারী ছিল? 
এদেশে এমন কতশত ঘটনা, কয়টা আর মিডিয়ায় এসেছে? বাবা কিস্তির টাকা না দিতে পারায় এই সব এনজিওগুলো যখন একটা কিশোরীর পা থেকে নূপুর খুলে নিয়ে আসে, মেয়েটা অপমানে আত্মহত্যা করে তখন আমরা নপুংশক হয়ে যাই 
মধ্য-বাজারে মোঃ জমশেদ আলী নামের একজন বয়স্ক মানুষকে যখন অপদস্ত করা হয়, মানুষটা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন; তখন আমরা গোল হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখিনা দেখে উপায় কী? এই দেশের আইন আদালত-সরকার সবাই তো এনজিওদের পক্ষে? এই অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াবার মত কেউ নাই। ভাগ্যিস, মিডিয়া আছে- আমাদের বিবেক!

আজ আমি প্রধান প্রধান প্রায় সবগুলো দৈনিকে খুঁজে দেখছিলাম এই খবরটা এসেছে কি না? কেবল এসেছে
, আমার দেশ, সমকাল, যায়যায়দিন-এ (২২.০৪.১০)। এই পত্রিকাগুলোর জন্য আমার অকুন্ঠ-অকাতর ভালবাসা।
'প্রথম আলো', 'কালের কন্ঠ'-তে এর ছিটেফোঁটার গন্ধও নেই! আমার মাথায় আসছিল না, কেমন করে এটা সম্ভব? একজন নিঃস্ব, অসুস্থ কৃষক ব্র্যাক ব্যাংকের অপমান অত্যাচারে মারা গেছেন, শত-শত মানুষ এর স্বাক্ষী! এটা কি পত্রিকায় আসার মত খবর না?

প্রথম আলো, কালের কন্ঠ-এ এই খবরটা না আসার পেছনে কারণ কী? এলাকার প্রতিনিধি কি এই খবরটা পাঠাননি? না পাঠাবার তো কোন কারণ দেখি না- কারণ, যতটুকু জানি নিউজ পাঠালেই টাকা পাওয়া যায়। কোন পত্রিকা তাদের আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের বসিয়ে বসিয়ে তো আর বেতন দেন না। এমন একটা খবর কোন পত্রিকার প্রতিনিধি পাঠিয়ে না থাকলে তিনি অবশ্যই একজন অযোগ্য প্রতিনিধি! পত্রিকার জন্য বোঝা!

আমার অনুমান ভুল হতে পারে, কাহিনী অন্য। সুশীল কাগজগুলো সুশীল মানুষদের পক্ষে। স্রেফ বানিজ্য, আর কিছু না।

এই এনজিওগুলোর কর্মকান্ড বোঝা দুস্কর। এমন জটিল, আমাদের মত অল্প জ্ঞানঅলা মানুষ হালে পানি পাবে না। অল্প জ্ঞানঅলা আমাকে ঘোল খাইয়ে ছেড়ে দিয়েছে সেখানে নিরীহ, অশিক্ষিত মানুষদের সঙ্গে এরা কী করে তা সহজেই অনুমেয়।
গ্রামীন ব্যাংকের আসলে সুদের হার কত এটা অনেক চেষ্টা করেও বের করা যায়নি। তবে এদের চেয়ে অনেকটা কম, সহনীয় ব্র্যাক ব্যাংকেরটা অন্তত বলতে পারি। বোঝাবার সুবিধার কারণে এখানে আমার ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ চলে আসবে বলে বিব্রত ভঙ্গিতে আগেভাগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

ব্র্যাক ব্যাংকের কাছ থেকে বছর দুয়েক পূর্বে একটা কারণে ঋণ নিয়েছিলাম। আইনগত জটিলতার কারণে উদাহরণ হিসাবে বলি, ধরুন চিংড়ি চাষের জন্য। অনেকটা এমন, এদের সমস্ত টাকা ৩০টা সমান কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। 
৩টা কিস্তি দেয়ার পর, ধরা যাক, অকস্মাৎ জলোচ্ছ্বাসে চিংড়ির ঘের ভেসে গেল। তারপরও ১৫টা কিস্তি যথা সময়ে পরিশোধ করা হলো। কেমন করে? সেই দুঃখের ইতিহাস এখানে বর্ণনা করা আমার উদ্দেশ্য না। এক সময় কিস্তির টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হলো না। এমতাবস্থায় পালিয়ে পালিয়ে থাকারই নিয়ম কিন্তু আমি আগ বাড়িয়ে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলাম। বিস্তর লিখিত চিঠি চালাচালি হলো। এরা আমাকে ফুটবলের মত একবার এখানে একবার ওখানে পাঠাতে লাগলেন। 
ক্লান্ত, শ্রান্ত আমি যখন রেললাইনের পাশে পা ছড়িয়ে বসি, পথগাতক মানুষটাকে বলি, ভাইরে, আজ আমার বড়ো মন খারাপ, একটা গান ধরেন। মানুষটা যখন গান ধরেন, "আমি বড়ো একা হয়ে গেছি"...। তখন আমার মনে হচ্ছিল, সত্যিই এই দেশে এদের বিপক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মত কেউ নেই, সত্যিই আমি একা।

আমার মধ্যে যে বিষয়টা কাজ করছিল, ব্যাংক হোক বা ব্যাক্তি একজন, তাতে কী? আমি তো ঋণী। এদের লিখে জানালাম, মূল টাকা থেকে এখনও যে টাকা বাকী তা আমি দিয়ে দিতে চাই।  এরা এসবের ধারেকাছেও গেলেন না। সুদ, চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ, সব হিসাব করে গ্যাঁট হয়ে বসে রইলেন। কথা চালাচালি হচ্ছে, পরে আমাকে বলা হলো মূল টাকার সঙ্গে অন্তত কিছু সুদ যোগ করলে বিষয়টা মিটিয়ে দেয়া হবে। ওই টাকার ব্যবস্থা কেমন করে হলো সে প্রসঙ্গও থাক। আমি সরল বিশ্বাসে এদের কথা মেনে নিয়ে গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়াই। চুটিয়ে ব্লগিং করে যাই।

এরিমধ্যে এরা আমার সঙ্গে ভয়াবহ এক চালবাজি করলেন, আমার বিরুদ্ধে একটা ফৌজদারী মামলা ঠুকে দিলেন। কেন, কিভাবে, বিষয় কি? এরা যখন ঋণ দেন তখন আমার সই করা একটা ব্ল্যাঙ্ক চেক জমা রাখেন, এদের নিয়ম। এই অস্ত্রটাই আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছেন। কেমন করে? দুই বছর আগের ব্ল্যাঙ্ক চেক সম্প্রতী ব্যাংকে জমা দিয়ে চেকটা বাউন্স দেখিয়ে। এবং অভিযোগ এনেছেন, এই চেকটা আমি এখন দিয়েছি অসৎ উদ্দেশ্যে।

আমার পক্ষে এটা প্রমাণ করা সম্ভব চেকটা আমি এখন দেইনি, এটা দুই বছর আগের দেয়া। কিন্তু সে তো পরের কথা। এরা আমাকে সমঝোতার ভান করে পুরোপুরি বোকা বানিয়ে দিলেন, চোর-চোট্টার পর্যায়ে নিয়ে গেলেন। অথচ নিয়মানুযায়ী এদের অর্থঋণ আদালতে যাওয়ার কথা। সেটা না করে আমাকে প্রতারণার মামলায় জড়িয়ে দিলেন! এটার মস্ত অসুবিধা হচ্ছে, আদালতে সশরীরে হাজির থাকতে হয়, না-হলে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়। 

সচরাচর এই কাজগুলো প্রতিপক্ষকে অপদস্ত করার জন্য গ্রাম্য টাউটরা করে থাকে। যেখানে আমি টাকা দিতে চাচ্ছি সেখানে এরা এটা কেন করলেন? কারণ এরা জানেন, এই দেশে এদের কেশ স্পর্শ করার ক্ষমতা কারও নাই। 
এদের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনারা এমনটা কেন করলেন? যে কারণে আপনারা ঋণটা দিয়েছিলেন সেটা আমার ক্ষমতা বহির্ভুত কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও আমি নিজেই আগ বাড়িয়ে আপনাদের টাকা পরিশোধ করে দিতে চেয়েছি। 
সবার একই কথা, এটাই ব্যাংকের নিয়ম। হায় নিয়ম!

এদের এই অপমান-জোচ্চুরি আমি কেমন করে সহ্য করলাম? মোঃ জমশেদ আলীর মতো পরিণাম কেন আমার হলো না? আমি জানি না! তবে খানিকটা আঁচ করতে পারি, লেখালেখিই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল নইলে কবে মরে ভূত হয়ে যেতাম। কী পার্থক্য, উপরের ছবির জায়গায় আমার ছবিটা ছাপা হতো। আমার মত অখ্যাত একজনের পত্রিকায় ছবি ছাপা হওয়া এও তো কম সৌভাগ্যের বিষয় না!

ব্র্যাক ব্যাংক বলে থাকে, এদের সুদের হার গড় ১৩ পার্সেন্ট। আমি অংক কষে প্রমাণ করে দেব এটা মোটেও ১৩ পার্সেন্ট না, ২১ পার্সেন্ট! ভাবা যায়!

এখন লাখ টাকা দামের প্রশ্ন, এটা জানার পরও আমি কেন এদের ফাঁদে পা দিয়েছিলাম? কেন ঋণটা নিলাম? উত্তরটা একটু অন্য রকম করে দেব। 
বেশ আগের কথা। একবার সীতাকুন্ড পাহাড়ে উঠেছিলাম। তখন তো আর মিনারেল ওয়াটারের এমন ছড়াছড়ি ছিল না। তেষ্টায় মনে হচ্ছিল বুক ফেটে যাবে। এক ফোঁটা পানির জন্য তখন আমার কী হাহাকার! কি করি? ওখানে মন্দিরে ধোয়া-মোছার কাজ চলছিল। ড্রামে রাখা নোংরা পানিটাই খেয়েছিলাম ওদিন। প্রাণের মায়া বড়ো মায়া!

এই যে ব্ল্যাঙ্ক চেক নেয়া, ২১ পার্সেন্ট সুদে- আমি স্বীকার গেলাম, দুই পক্ষের সম্মতিতে এই কান্ডটা হয়। বেশ, কিন্তু এই দেশে যদি এমন কোন চুক্তি করা হয়, কেউ টাকা দিতে না পারলে তার শরীর থেকে মাংস কেটে নেয়া হবে, এটা কি আইন স্বীকার করবে? করলে ভালো!

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান আমার অসম্ভব পছন্দের একজন মানুষ। এই মানুষটা তাঁর অতীতের স্মৃতি অহংকার নিয়ে লালন করেন! ক-দিন পূর্বে তিনি ব্যাংকগুলোকে নিয়ে চমৎকার একটা রোড-শো করলেন। আমরা মুগ্ধ চোখে হাঁ করে তাকিয়ে থাকি। কিন্তু আতিউর রহমান সাহেব কি এদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, বাছা, তোমাদের সুদের হার কত?

পত্রিকার খবর, "আট বছরে ৩৬৪৪ কোটি টাকার সুদ মওকুফ করা হয়েছে। বিএনপি আ.লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ নিয়েছিলেন"। আর মাত্র ২ হাজার টাকার জন্য মোঃ জমশেদ আলী নামের বয়স্ক কৃষককে প্রাণ দিতে হলো!

স্যার ফজলে আবেদ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "কবিতা আমাকে এখনো টানে"। তাই, স্যার! জেনে ভাল লাগছে। 
কিন্তু স্যার, কবিতা আমি তেমন বুঝি না বলে একটু অন্য প্রসঙ্গে কথা বলি। আপনি কি আমাকে দয়া করে বলবেন, এই দেশে নারী, আর্মস, ড্রাগস ব্যতীত এমন কোন বৈধ ব্যবসা আছে যেটা ২১ (২০.৪)পার্সেন্ট সুদ দিয়ে লাভ করা যায়? প্লিজ স্যার, জানালে আমি ওই ব্যবসাটাই ধরব।

প্রফেসর ইউনূস এবং আপনি, আপনারা আমাদের দেশের জন্য বিরল সম্মান বয়ে নিয়ে এসেছেন। এই জন্য আপনাদের লক্ষবার সেলাম করি। আমি নতজানু হই। সাদা চামড়াদের কাছে বুক ফুলিয়ে হাঁটতে পারি। এই অর্জনকে খাটো করে দেখার কোন যো নেই।

আমি আশা করি, আপনারা আমাদের জন্য আরও সম্মান-পদক নিয়ে আসবেন। তার জন্য আরও কটা লাশ পড়ল তাতে কী আসে যায়। গুড লাক, স্যার! 

*ছবি: সংগ্রহ
**সহায়ক লিংক:

 
(English translation by: Sadiq Alam )
  Award for Trading Dead-Body
 
A phone call came in while I was at the court. A person by the name Mohammad Jamshed Ali died thanks to (!) the humiliation by the personnel of BRAC in Akhaura, the place where I live.
In an instance I forget all my worldly sufferings. Speechless I remain. My law officers get annoyed with my absentmindedness. It continues to echo in my mind, Is there no person on the planet who can stop these monsters? Are they more powerful than the government? Where are the media of the country? From my past experience I could already tell what will be the end result.
I begin to wonder, were the East India Company more cruel and oppressive than them? How many of such cases really made into the media? When a daughter commit suicide because her jewelry is confiscated because her father could not repay the installment, we grow spineless.
In 'Maddho-Bazar' when Mohammad Jamshed Ali was humiliated, when he fall down on the ground and dies, we all gather around his dead body and keep staring. What else could we do? Everyone in this country, including the law-and-order and the government are on the side of such NGOs. There are none, absolutely none who can stand behind such powerless people as Jamshed Ali. Or, perhaps there are the Media, our clown conscience!
Today I was searching for the news in almost all daily newspaper. It only appeared, out of many on Amar Desh, Shamakal and Jaijaidin (22.04.10). My heart-felt love for these dailies!
There is no trace of the news in Prothom-Alo, Kaler-Kantha. I can't fathom, how this is possible? A destitute, physically unwell farmer has died due to humiliation by BRAC Bank in clear day light in front of hundreds of people who are witness to this! Is this news not worthy reporting?
What could be the reason for it not to appear on Prothom-Alo, Kaler Kantha. Did the local news representative send the news? There are no good reason not to send this news to the head-office when they get paid for every news sent. No newspaper pay their regional representative without receiving news. If such news is not sent, then the representative must be someone incapable, a burden for the newspaper!
My assumptions might be wrong, the story is somewhere else. The elite newspaper are for the elite people. Only Business, nothing else.
Its really difficult to comprehend the activities of such NGOs. So critical that we, people of very small brain can not possibly fathom. A little educated I am, yet they have caused me great distress, let alone what they can do with poor, illiterate people. No one could figure out the "real" rate of interest of Grameen Bank!
But BRAC Bank About two years back I received a loan from BRAC bank for a purpose. In order to avoid legal complexity, let me give an hypothetical example. Lets say I got the loan for shrimp project. Lets say, I had to repay all their money in 30 equal installment. After 3 installments, lets say due to sudden tornado, the whole hatchery is swept away. Even after that 15 more installments were paid.
How it was possible, lets not go there. To elaborate the history of my misery is not the intention here. At one point, no more installment could be paid. At this point people get vanished, but I kept my contact with the Bank. Many letters were sent back and forth. Like a football they kicked me from here to there.
When this tired, exhausted person sit on the rail line, I ask the wandering singer, "brother! Today my heart is very heavy, will you please sing a song for me." The person start singing, "Today I am so alone, so alone..." Then I was thinking, 'really in this country, there are nobody else to fight against such force, truly I am very alone.'
What was occurring to me is that, whether its Bank or person, what does it matter? I am in debt. I wrote them, whatever is left from the principal amount. They didn’t even want to bother. Interest, compound interest, with all these calculation they didn't move an inch. More letters went back and forth and they said, if I add some interest with principal amount, perhaps they could negotiate. I believed them with simple faith and didn’t worry much. I continue with my relentless blogging.
Meanwhile they did a dangerously fraudulent trickery, they hooked me in a legal case. Why, how, what’s the matter? When they provided me the interest, they kept a check with my signature, that’s the rule. They have used that weapon against me. How? By submitting this two years old cheque in the bank and having it bounced. And they complaint, claiming that I have given them this cheque with dishonest intention.
Its very much possible to prove that I have not given them the cheque now, but it was given two years back. But that can come later. They pretended to negotiate and made a fool out of me and even labeled me as a thief. But according to law, they were suppose to go to the monitory bank. Without doing that they launched a criminal case. The biggest problem (and harassment) with this is that you have to be physically present every time on the court.
Generally such things are done by village touts to harass their opponents. When I have been paying them installments, why they did it? Because they know in this damn country no one can touch their hair. When I asked their appropriate authority, why have you done this; when I have kept paying my installments even after the business for which I took the load got destroyed without my control? Everyone said the same thing, "this is the rule of the bank."
What a rule!
Why I have taken in all the humiliation and cheating activities of them? Why my end was not like Mohammad Jamshed Ali? I don’t have the answers. But I can guess this much that perhaps my writings kept me alive. What difference would it make if the photo above was replaced by me. At least then someone like me could make it to the newspaper. What glory that would be!
BRAC Bank says, their interest rate is on average 13%. I can show by mathematics, its not 13% at all, rather its 21%. Can you believe!  Now the million dollar question is, even after knowing this, why did I walked into their trap? Why I took the loan? Let me answer this in a different way.
Long time back. I climbed up to 'Shitakunda Hill'. At that time there were not much availability of mineral water everywhere like now. Extreme thirst made me feel like dying. For a drop of water I could bargain the world. What could I do? There someone was washing the temple. I had to drink the polluted, unclean water from the drum. Saving life comes first.
21% interest and the keeping of a cheque by the bank - I agree these all happen by the agreement of two parties. But if a deal is made between two parties that if one is unable to pay back, meat will be taken from the body alive, will that be accepted by the law? If so, then I have nothing to say.
The governor of Bangladesh Bank, Mr. Atiur Rahman is a dearly favorite person of mine. This person saves his pride with his golden past. Few days back he arranged a road-show with all the banks. We were impressed. But did Mr. Rahman asked the banks, "Children, how much is your interest rate really?!"
In the news, "In the last eight years, 3644 crore taka worth of interest for bank have been waived. BNP, Awami League and ex-Mps and powerful businessmen took advantage of it." And for just 2 thousand taka, an aged farmer Mohammad Jamshed Ali had to give his life!
Sir Fazle Abed once said in an interview, "Poem still attracts me." Oh, really!  But Sir, I don’t really understand poem that much, but let me say something else. Will you kindly help me understand this, "Apart from Prostitution, Arms and Drugs is there any legal business in this country that will give you profit at the rate of 21% (20.4). Please Sir, let me know. I will exactly do that business.
Professor Yunus and you, both of you have brought rare honor for our country. We salute you million times for that. We bow down. We could walk tall in front of white folks. There are no good reason to deny this achievement!
I hope you will bring more prizes and awards of honor for us. What does it matter if few more dead-body are fallen in the process! 
Good Luck Sir!

*Photo: Collected

Thursday, April 22, 2010

পরম করুণাময়, এদের ক্ষমা করো

গতকালের প্রথম আলোর প্রতিবেদনে যে ভুলের মিছিল ছাপা হয়েছে, বিশেষ করে আমার নাম; আমি এই গোপন ইচ্ছা পোষণ করি না এরা ভুল স্বীকার করবেন। এই চল এরা চালু করেননি, মিডিয়াঈশ্বর বলে কথা! এদের এই ভাবনা কখনও আসবে না, পত্রিকায় সব সময়ের জন্য প্রথম পাতায় এক কলাম এক ইঞ্চির একটা বক্স থাকবে যেখানে নিয়মিত ভুল স্বীকার করা হবে। 
কিন্তু এর প্রতিবেদক তাঁর ভুল স্বীকার করে মন্তব্য করেছেন। তাঁকে অজস্র ধন্যবাদ। আমি মুগ্ধ তাঁর ভুল স্বীকার করার সাহস দেখে।

ক-দিন আগে আমি নিজেও বড় ধরনের একটা ভুল করেছি। এই লজ্জা কোথায় রাখি, কাকে বলি! 

গতকালের প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনে ২টা মন্তব্য আছে। বিভিন্ন কারণে ওই মন্তব্য এখানে কোট করতে ইচ্ছা করছে না। 
দু-জনই মন্তব্য করেছেন, কবি দাউদ হায়দারকে নিয়ে আমার এই লেখাটার সূত্র ধরে। এরা দুজনই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই লেখাটার মাধ্যমে আমি দাউদ হায়দারের প্রতি গ্যালন গ্যালন ... দিচ্ছি। 

কেন? কারণ তিনি আমার পক্ষে 'দ্য ববস'-এর এই সম্মানটাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন।
মূল বক্তব্য, তিনি ডয়েচে ভেলের সঙ্গে যুক্ত। ডয়েচে ভেলের 'দ্য ববস' প্রতিযোগীতাটাকে দাউদ হায়দার আমার পক্ষে প্রভাবিত করেছেন, এই কারণে তাঁর প্রতি আমার গদগদে বিনীত নিবেদন এই লেখায়।
হা ঈশ্বর!

দাউদ হায়দারকে নিয়ে এর পূর্বে আমি লিখেছিলাম, দাউদ হায়দার, তোমার কাছে খোলা চিঠি। ওটা লেখা হয়েছিল মার্চ ১১, ২০১০। ওখানে একটা বাক্য ছিল এমন, 'তুমি যেখানে থাকো...'। ওই লেখাটা লেখার সময় আমি নিশ্চিত ছিলাম না, দাউদ হায়দার কি জার্মানিতেই? ঠিক হাতের নাগালে প্রয়োজনীয় উপাত্ত না থাকলে আমি পারতপক্ষে লিখতে চাই না কারণ আমার ভয়াবহ রকমের বাজে স্মৃতি। তাই লিখলাম, 'তুমি যেখানে থাকো'। আমার তখন মনে হচ্ছিল, কবি জার্মানি নাকি দুম করে সাইবেরিয়া চলে গেছেন? কিছুই তো জানি না, গেলে লিখে বিপদ হয়ে যাব।

তারও আগে দাউদ হায়দারকে নিয়ে লিখেছিলাম, দাউদ হায়দার, শুভ জন্মদিন বলি কোন মুখে। ওই লেখাটা লেখা হয়েছিল, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯। তাঁকে নিয়ে আরও কিছু লেখা আমি লিখেছি এই মুহূর্তে লিংক দিতে পারছি না বলে আমি দুঃখিত।

বেশ-বেশ।  'দ্য ববস' এর এই সম্মানটা বাগাবার জন্য আমি ১ বছর পূর্বেই ঝাপিয়ে পড়েছিলাম। এবং তখন থেকেই ডয়েচে ভেলেকে বাংলা ভাষা যোগ করার জন্য আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের দিয়ে লবিং করিয়েছি, মানুষটা হতে পারেন ক্লিনটন। আমি নিজের কাজে নিজেই মুগ্ধ! তাহলে 'দ্য ববস'-এ বাংলা ভাষা যোগ করার জন্য আমাকে আরেকটা সম্মান দেয়া উচিত। কবে পাচ্ছি এটা?      

এই অতি জ্ঞানীদের(!) কল্যাণেই আমার জানা হলো, দাউদ হায়দার ডয়েচে ভেলের সঙ্গে যুক্ত। লাল সালাম জিনিসটা কি এটা আমার ভালো জানা নাই কিন্তু সবাই লিখে আমি বাদ থাকি কেন? দাউদ হায়দার, আপনাকে আমার লাল সালাম। তিনি এর হকদার- মানুষটা এমন শক্তিধর একজন, তাঁকে এটা না বলে উপায় কী! তিনি বিচারকদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখেন, যেমন রাখেন যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদেরও! 

যাগ গে, অনেকটা সময় ব্লগিং এর সুবাদে এইসব অতি জ্ঞানীদের(!) সম্বন্ধে জানা হয়ে গেছে, এই নিয়ে আমি কাতর না।

তবলার ঠুকঠাক শেষ, এবার গলা ছেড়ে গান গাওয়ার পালা। আজ আমার ব্যাক্তিগত কাজে আমি তখন কোর্ট-রুমে । ক্লান্তি, উদ্বেগ, অসহনীয় সময়টা পার করছি সেল ফোনে এটা-ওটা দেখে। একজন একটা মেইল পাঠালেন, প্রথম আলোতে এই মন্তব্যের সূত্র ধরে। আমি গা করিনি। কারণ আমার ধারণা হলো, এটা 'প্রথম আলো ব্লগ'-এর ওই লেখার রেশ ধরে মন্তব্য। এই নিয়ে মাথা ঘামাবার প্রয়োজন পড়ে না কারণ কমিউনিটি ব্লগে সবার হাতেই একটা করে ক্ষুর থাকে- কেউ আপেল কেটে খায়, কেউ অন্যের গলায় পোঁচ দেয়। যে গালিটা আমরা বাসায় দিতে পারি না সেটা এখানে এসে দেই, দিয়ে হালকা হই, এ নতুন কিছু না!

পরে কম্পিউটারে বিস্তারিত দেখে আমি হতভম্ব। এটা প্রথম আলো পত্রিকার 'কম্পিউটার প্রতিদিন'-এ ছাপা এই প্রতিবেদনের মন্তব্য। এই প্রতিবেদনের সঙ্গে দাউদ হায়দারকে নিয়ে আমার লেখার কী সম্পর্ক? গভীর অন্ধকারে যাই না কেবল অন্ধকার নিয়েই কথা বলি। 
তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, কেউ এমনটা মন্তব্য করলেন, ব্যস, প্রথম আলো সঙ্গে সঙ্গে ছাপিয়ে দিল? এতো উদার কবে থেকে হলেন এরা? মানলাম প্রথম আলোর মনটা বড়ো ন-রো-ম! কিন্তু এরা কী একবারও দেখলেন না এই প্রতিবেদনের সঙ্গে এই মন্তব্য কতটা যুক্তিযুক্ত?
পার্বত্য চট্টগ্রামের হানাহানি সংক্রান্ত খবরে কেউ যদি মন্তব্য করে, বারাক ওবামা এবং মতিউর রহমান একই ব্যক্তি, এটা কি ছাপা হবে? এটা যিনি দেখেন তার হার্ডডিস্ক নামের মস্তিষ্ক নিমিষেই চালু হবে। মানুষটা তখন বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত ফালা ফালা করে দেখবে যে বারাক ওবামা যখন শপথ নিচ্ছিলেন তখন মতিউর রহমান জেনারেলদের সঙ্গে মিটিং করছিলেন। অতএব ইহাতে প্রমাণিত হয় যে, বারাক ওবামা এবং মতিউর রহমান একই ব্যক্তি নন। ভুল করে ছাপা হয়ে গেলেও ডিলিট নামের একটা অপশন থাকে।

আমাকে খাটো করতে গিয়ে এই দেশের অভাগা সন্তান দাউদ হায়দারের প্রতি যে আরেকটা ভয়াবহ অন্যায় করা হলো এই প্রেক্ষিতে আমি বলি, হে পরম করুণাময় এদের ক্ষমা করো। 
আমি জানি না এঁরা আধ জবাই পশু দেখেছেন কি না? এদের যেন কোন দিন দাউদ হায়দারের মত অন্য ভুবনের যন্ত্রণা সহ্য করতে না হয়। এই মানুষটা যখন দেশ ছেড়েছিলেন তখন তাঁর বয়স কত হবে, উনিশ-কুড়ি।
আমার স্পষ্ট বক্তব্য, একটা রাষ্ট্র তার সন্তানকে কারাগারে আটকে রাখতে পারে, মেরে ফেলতে পারে কিন্তু এমন শাস্তি দিতে পারে না। এটা দাউদ হায়দার, না তসলিমা নাসরিন তাতে কিছুই যায় আসে না।

আমার মত অতি সামান্য একজন মানুষ দাউদ হায়দারকে নিয়ে লেখার কারণে  আপনারা কাকে রক্তাক্ত করছেন?
আমি তো এই সব লেখা দাউদ হায়দারের জন্য লিখছি না, লিখছি নিজের জন্য। আমি যখন চোখ বন্ধ করে দাউদ হায়দারের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করি, তখন পাগল-পাগল লাগে। আজ আমি পরম করুণাময়ের কাছে চাইব, দয়া করো, আমাকে এখনই মৃত্যু দাও, দাউদ হায়দারের এই অন্য ভুবনের শাস্তি দিয়ো না।

প্রথম আলো নামের মিডিয়া ঈশ্বরের হাতে আছে ব্রক্ষ্ণাস্ত্র। কখনো দেখলাম না এই অভাগা মানুষটার জন্য ঝাপ দিতে। কেন? আপনারা ভেবেছেন এটা তো আমাদের সমস্যা না। আপনার হয়তো বিস্মৃত হয়েছেন, আরিফুর রহমানের কার্টুন নিয়ে? আপনাদের পাশে তখন কিন্তু অনেকেই দাঁড়িয়েছিলেন বলেই আজ আপনারা গোটা দেশবাসীকে শপথ করাবার সুযোগ পাচ্ছেন। আমাদের লম্বা লম্বা জ্ঞান দিচ্ছেন।

আমার পছন্দের একটা লেখা দিয়ে শেষ করি, 
"...First they came for the jews. I was silent. I was not a jew. Then they came for the communists. I was silent. I was not a communist. Then they came for the trade unionists. I was silent. I was not a trade unionist. then they came for me. There was no one left to speak for me". (Martin Niemoller)

Facebook Share