Friday, March 26, 2010

কালের কন্ঠ, এই রসিকতার মানে কী?



আজকের কালের কন্ঠের স্বাধীনতা দিবস ২০১০-এর বিশেষ সংখ্যায় (পৃষ্ঠা: ৩) 'একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি' লেখায় মুক্তিযুদ্ধের অসম্ভব বিখ্যাত এই ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিটির নীচে লেখা আছে, "ছবি: সংগৃহিত"।

এটার মানে কী! কালের কন্ঠ,
"ছবি: সংগৃহিত" লিখে কী রসিকতা করা হলো, নাকি এই কু-অভ্যাসটা প্রথম আলো থেকে শিখল?
এটা অসম্ভব বিখ্যাত একটা ছবি। এই ছবিটি উঠিয়েছেন নাইব উদ্দিন আহমদ
। এই নিয়ে আমার একটা লেখা থেকে অংশবিশেষ দিচ্ছি:
"মুক্তিযুদ্ধের তেমন বিশেষ ছবি আমাদের নাই! ওই সময় আধুনিক তো দূর অস্ত, সাধারণ ক্যামেরাই বা আমাদের দেশের কয়জনের কাছে ছিল! নাইব উদ্দিন আহমেদ। যে অল্প ক-জন মানুষ সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দূর্লভ কিছু ছবি আমাদের উপহার দিয়েছেন তাঁদের একজন!
একজন মুক্তিপাগল মানুষের সবটুকু শক্তি নিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন, সামান্য একটা ক্যামেরা নিয়ে! স্টেনগানের চেয়েও ঝলসে উঠেছে তাঁর হাতের ক্যামেরা! একজন অন্য রকম যোদ্ধা!

একাত্তরের সেই ভয়াবহ দিনগুলোতে তিনি পাক আর্মি এবং এ দেশে তাদের সহযোগী রেজাকার, আল বদর, আল শামসদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বর্হিবিশ্বে পাঠিয়েছেন তাঁর দূর্লভ ছবিগুলো। সমস্ত পৃথিবীর মানুষ জানতে পেরেছে পাক আর্মির নৃশংসতা, বর্বরতা! গঠিত হয়েছে জনমত, বেড়েছে আন্তর্জাতিক ধিক্কার!

সব বিশ্ববিদ্যালয় তখন পাক আর্মির টর্চার ক্যাম্প। একদিন নাইব উদ্দিন আহমেদকে আটকানো হয়। ফটোগ্রাফারের পরিচয়পত্র দেখে পাক আর্মির মেজর কাইয়ুম নাইব উদ্দিনকে বললেন, তুমি কি ক্যামেরা ঠিক করতে পারো, আমার ক্যামেরাটায় সমস্যা হচ্ছে?
নাইবউদ্দিন ক্যামেরাটা দেখেই বুঝলেন, ক্যামেরা ঠিক আছে। শুধু লক করা অবস্থায় আছে, লকটা খুলে দিলেই হয়ে যাবে। ক্যামেরার লক ওপেন করে দেখলেন, আসলেই ঠিক আছে এবং ক্যামেরায় ফিল্ম ভরা। এ সময় তিনি দেখতে পেলেন, এখানে কিছু লোককে বেঁধে রাখা হয়েছে। খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় এলিয়ে পড়ে আছে একজন ধর্ষিতা। কাছেই কিছু বাড়ি পুড়ছে দাউ দাউ করে।

তিনি ক্যামেরা ঠিক করার ছলে, খুব দ্রুত কিছু ছবি তুলে নিলেন পাক মেজরের ক্যামেরা দিয়েই! তারপর আবার লক করে মেজরের হাতে ক্যামেরা ফেরত দিয়ে বললেন, এখানে তো ঠিক করা সম্ভব না, ময়মনসিংহে তার অফিসে আসলে ক্যামেরা ঠিক হয়ে যাবে। পরদিন মেজর নাইব উদ্দিনের অফিসে এলে, নতুন একটা ফিল্ম কিনে আগের ফিল্মটা মিছে ছল করে রেখে দিলেন।"
বিস্তারিত এখানে

শাবাশ বীরপুরুষ, তোমাদের লাল সেলাম!

আমাদের দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনরা এখন দুর্ধর্ষ কাজ দেখাচ্ছেন। তাঁদের লাল সেলাম জানাই। আমি এই সব সেরা সন্তানদের পায়ের ধুলি নেয়ার জন্য হণ্যে হয়ে খুঁজছি।

এখানকার ইউএনও সাহেবের নির্দেশে আর্মি-র‌্যাব ব্যতীত সমস্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গতকাল ঝাপিয়ে পড়েছে রেল স্টেশনে। ট্রেন থেকে রাজস্ব ফাঁকিবাজদের পাকড়াও করছে। ভাল! আবারও সেলাম!




আহারে, আমাদের বীরপুরুষ! এই দুর্ধর্ষ মহিলা চোরাকারবারীর বিরুদ্ধে কত্তো-কত্তো ইউনিফর্মধারী বীর, ইউএনও নামের প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা। অন্য ইউনিফর্মধারীর কথা না-হয় বাদ দিলাম কিন্তু ইউএনও সাহেব যখন বলছেন এই মহিলা ভয়ংকার পাজি সে অবশ্যই ভয়ংকর পাজি।
আমরা না-হয় তেমন নেকাপড়া করিনি কিন্তু ইউএনও নামের এই প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাই তো আমাদের সত্যায়িত করার বিপুল ক্ষমতা রাখেন। কে জানে, কবে আবার এই নিয়মটাই না চালু হয়, লেখকের সার্টিফিকেট দেবেন ইউএনও সাহেবদের মত লোকজন!

এই মহিলার কাছে সামান্য কিশমিশ পাওয়া গেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযোগ, এই মহিলা চোরাকারবারী, এই কিশমিশ ভারতীয়। কী সর্বনাশ! কী ভয়ংকর!!
এই মহিলাকে ইউএনও সাহেবের নির্দেশে কেবল বেঁধেই রাখা হয়েছে। শত-শত বীরপুরুষ দাঁড়িয়ে এই তামাশা দেখেছেন!
একে শূলে চড়াবার আয়োজন করা প্রয়োজন ছিল। মন্দ ভাগ্য, এই মহিলার শূলে চড়াবার ব্যবস্থাটা এখানেই করা হয়নি! হলে বেশ হতো, গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আরও মজার তামাশাটা সবাই দেখতে পারতেন।

আমি এই বাহাসে-কুতর্কে যাব না যে এই মহিলা চোরাকারবারী কি না?
এই মহিলাকে রেল স্টেশনে না আটকে সীমান্ত পার হওয়ার সময় বমাল আটকালে আমি না-হয় মেনে নিতাম এই মহিলা চোরাকারবারী। কিন্তু এখানে এই কিশমিশের গায়ে লেখা নাই এটা ভারতীয় কিশমিশ। ভারত থেকে বাংলাদেশে কিশমিশ আমদানী করলে ফাঁসি হয় এমন আইনও নাই! কোনটা আমদানী করা কিশমিশ, কোনটা চোরা-চালানের এটা এরা বোঝেন কেমন করে?
এই কিশমিশ নিজেই আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হিন্দিতে বাতচিত করেছে বলে আমার মনে হয় না, 'ম্যায় হিন্দুস্তানী কিশমিশ হু, মুঝে ইয়ে আওরাত নে...'। বাহ, বেশ তো, কিশমিশ নিজেই এদের সঙ্গে বাতচিতে জড়িয়ে পড়ে!

এখন আপনিই যদি আমার কাছে গোঁ ধরে বসেন হালুয়া খাব এবং হালুয়া বানাতে গিয়ে বাজার থেকে কিশমিশ আনার পথে কি আমাকেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আটকে ফেলবে, ব্যাটা তুই চোরা-কারবারী?

তদুপরি আমি এই মহিলার প্রতি তীব্র নিন্দা জানাই সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার জন্য। ধন্যবাদ জানাই আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনকে যারা সরকারের বিপুল রাজস্ব রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে গিয়ে এই মহিলাকে প্রায় উলঙ্গ করে ফেলেছেন, পুরোটা করেননি।

এইবার আমি ছোট্ট একজন রাজস্ব ফাঁকিবাজের কথা বলব। পারটেক্স গ্রুপের 'মাম' নামের মিনারেল ওয়াটার চেনেন না এটা নিশ্চয়ই কেউ বলবেন না। 'মাম'কে বলা হতো 'মিনিস্টার ওয়াটার' কারণ মিডিয়ায় আমাদের মিনিস্টার বা হোমড়া-চোমড়া কাউকে দেখালেই টেবিলে মামের বোতল চোখে না-পড়ে উপায় ছিল না।
যাই হোক, তো এই পারটেক্স গ্রুপের সাবেক সাংসদ এম, এ, হাশেম ২০০৫ সালে সাড়ে ৫ কোটি টাকা দামের রোলস রয়েস গাড়ি দেশে আনেন। লিখিত ঘোষণা দেন, এটার মূল্য মাত্র সাড়ে ৪ লাখ টাকা। তিনি ঘোষণাপত্রে লিখিত আকারে এই গাড়িটিকে স্ক্র্যাপ, বাতিল দেখান এবং এই গাড়িটিরই দুইটা দরোজা পরে আলাদা করে, স্ক্র্যাপ দেখিয়ে নিয়ে আসেন!
পরবর্তীতে হাসেম সাহেবের এই রোলস রয়েসের কী গতি হলো এটা আমার জানা নাই।

আমাদের দুর্ধর্ষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে জানতে ইচ্ছা করে এই ছোট্ট রাজস্ব ফাঁকিবাজ
এম, এ, হাশেম সাহেবকে কি এক সেকেন্ডের জন্য হলেও কোমরে দড়ি বেঁধে আটকে রাখতে পরবেন?
স্যাররা, অপেক্ষায় আছি। আপনারা অবশ্যই পারবেন। গুড লাক!

*ছবি ঋণ: দুলাল ঘোষ