Search

Loading...

Saturday, January 30, 2010

বইমেলা উদ্বোধন

বাংলা একাডেমীর বইমেলা সরকার প্রধান উদ্বোধন করেন। কেন? এটা কী আমাদের কলচর(!) হয়ে গেছে, রাজনীতি এবং পলিটিক্স মিশিয়ে চানাচুর বানিয়ে কুচুমুচুর করে না-খেলে আরাম পাই না? নাকি সব আঙ্গুল ঘিয়ে ডুবিয়ে না-রাখলে আমাদের চলে না? যে কোন সরকার প্রধান যখন ক্ষমতার জোরে বাংলা একাডেমীর বইমেলা উদ্বোধন করেন তখন দৃশ্যটা আমার কাছে অশ্লীল-কুৎসিত মনে হয়। আমি টিভিতে দৃশ্যটা দেখে চোখ বন্ধ করে ফেলি।

এইবার কেয়ার-টেকার সরকারের সময় খুব আশায় আশায় ছিলাম এই অবস্থার পরিবর্তন হবে কিন্তু কিসের কী! ফকরুদ্দিন সাহেবকে দেখলাম চকচকে লম্বা একটা পাঞ্জাবী গায়ে দিয়ে, চাদর নাকি ওড়না (ভালো করে লক্ষ করতে পারিনি বলে ক্ষমা চাচ্ছি) গলায় দিয়ে ঠিকই চলে এসেছিলেন মেলা উদ্বোধন করতে। যথারীতি আমি চোখ বন্ধ করে ফেলেছিলাম।
এসব তামাশা দেখে তারপরও না-হয় দাঁতে দাঁত চেপে চোখ বন্ধ করে থাকা যায় কিন্তু বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকের মত মানুষ যখন একবার দুম করে বলে বসেছিলেন, "এইবার সরকার প্রধান মেলা উদ্বোধন করছেন একজন বিশিষ্ট লেখক হিসাবে" তখন আমার দাঁত কপাটি লেগে গিয়েছিল। সহজে আর জ্ঞান ফেরেনি! জ্ঞান ফেরার পর ইমদাদুল হক মিলনের চাটুকারী লেখা পড়ে আবারও জ্ঞান হারাই।

শামসুর রাহমানকে যখন দেখতাম উদ্বোধন করতে আসা সরকারপ্রধানের পিছু পিছু হাসিমুখে মেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন তখন বুক ভেঙ্গে আসত, আহা কবি, তুমিও! পদের এতো লোভ?
লেখকদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বি, এঁদের লেখা পড়ে আলোকিত হই কিন্তু এঁদের নিয়ে ভাবার আগ্রহ
কারও নাই। শামসুর রাহমানের এই আচরণ নিয়ে কথা বলতে খুব আরাম পাই কিন্তু ক্রমশ অন্ধ হয়ে যাওয়া এই মানুষটা চোখের ভয়াবহ অসুখে ভুগছিলেন; তাঁর অষুধ কেনার টাকা প্রায়ই থাকত না, এই অন্ধকার দিক জানার কোন প্রয়োজন আমাদের নাই। আমাদের কাজ হচ্ছে কেবল তাঁর কবিতা আউড়ে যাওয়া।
আগেও কোথাও লিখেছিলাম, লেখকরা অন্য গ্রহ থেকে আসবেন, নেংটি পরে উবু হয়ে লিখে যাবেন, লি খে ই যা বে ন!  আজব একটা দেশ- এই দেশে একজন মেথরও মেথরগিরি করে তাঁর জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন কিন্তু একজন লেখক পারবেন না (দু-একজন ব্যতীত)।

কেউ কেউ উষ্মা প্রকাশ করতে পারেন, চু ভাইদের বলে কে লিখতে, সে অন্য প্রসঙ্গ, লাখ টাকার প্রশ্ন। অবশ্য আমি বলি, এটা একটা অসুখ।

কোন সরকারের কাছেই আমার কোন জোর আশা নেই। এই দেশে রাজনীতিবিদরা অনায়াসে জমির প্লট পেয়ে যান, হালে জানা গেছে মিথ্যা হলফনামা দিয়ে ১৮ জন সংসদ সদস্য প্লট নিয়েছেন- অথচ এদের সবারই ঢাকায় একাধিক বাড়ি আছে। তারপরও এঁদের ফকির-ফকির ভাব যায় না! অভাগা দেশ, এঁরা আবার সংসদ সদস্য পদ ধরে ঝুলে থাকেন, থাকতে দেয়া হয়!
সরকার কখনও লেখকদের নিয়ে এমন ভাবনা ভেবেছেন বলে অন্তত আমার জানা নাই। ভাবলেও সেই লেখকের গায়ে সরকারী দলের চামড়া আছে কিনা এটা নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। এই এক চুতিয়াগিরি হয়েছে, একজন মানুষকে কোন-না-কোন দলের সঙ্গে জড়াজড়ি করে থাকতে হবে!

দরিদ্র দেশ, আমাদের ভাবনাগুলোও অতি দরিদ্র! এমন একটা উদাহরণ দেয়া অনেকের কাছে হাস্যকর ঠেকবে। লেখক মিরোশ্লাফ হোলুবকে মোটা অংকের স্কলারশীপ দিয়ে সসম্মানে বার্লিন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। হোলুব ঘুরেফিরে বেড়াবেন, ইচ্ছা হলে লিখবেন, যা খুশি। হোলুব এক বছরে মাত্র একটি কবিতা লিখেছিলেন এবং ওই কবিতা ঘষামাজা করেছিলেন আরও এক বছর লাগিয়ে!

এই দেশে কতশত বিত্তবান আছেন, কাউকে আজও দেখলাম না লেখকদের জন্য কিছু করতে। এটা তো কঠিন কিছু না, কোন এক ফ্ল্যাট কোম্পানি বাংলাদেশের অন্তত একজন লেখককেও একটা ফ্ল্যাট উপহার দিয়ে বলত, স্যার, এইবার আপনি একটু নিরিবিলিতে লেখালেখি করেন।
সরদার ফজলুল করিমের মত একজন মানুষকে একটা কোম্পানির ফ্ল্যাটে রাখতে পারাটা যে কী সম্মানের এটা এই সব নির্বোধদের কে বোঝাবে?

মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে এসেছি, আমার সাফ কথা, মানুষের বাচ্চা মানুষের দুধ খাবে, পশুর দুধ না। বইমেলা উদ্বোধন করবেন লেখালেখি জগতের মানুষ, কোন রাজনীতিবিদ না।

আমার সুতীব্র ইচ্ছা, মারা যাওয়ার আগে এটা দেখে যেতে চাই,
প্রধান অতিথিকে নিয়ে প্যা-পো আওয়াজ তুলে নিরাপত্তার দায়িত্বের থাকা লোকজন ঝড়ের গতিতে ছুটছে। অপ্রয়োজনীয় তবুও, র‌্যাব নামের মুখোশ পরা লোকগুলো আজ হাসি-হাসি মুখে মানুষটাকে ঘিরে রাখতে পেরে কী আনন্দই না বোধ করছে। প্রধান অতিথি, সরদার ফজলুল করিমের মত খর্বাকৃতি একজন মানুষ গাড়ি থেকে নেমে ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে এগিয়ে আসছেন। আজ মেলার সমস্ত আলো তাঁর জন্য, মেলায় আসা সব দুবির্নীত পা আজ টানটান। মা সন্তানকে বকা দিচ্ছেন, খোকা, আমাদের প্রধান অতিথি এসেছেন, দাঁড়িয়ে সম্মান দেখাতে হয় রে বেটা।

এমন একটা দিনে মরেও সুখ, নাই-বা হলো জ্যোৎস্না রাত!

Friday, January 29, 2010

ইমদাদুল হক মিলন, একজন ঢোলবাজ!

ইমদাদুল হক মিলন, এই লেখক সাহেবকে নিয়ে একটা লেখা লিখে মন খানিকটা বিষণ্ন হয়েছিল, আহা, বেচারা, বৈদেশে গেছেন। লিকারের প্রভাবে ওখানকার কাহিনী লিখতে গিয়ে মাথা খানিকটা আউলা-ঝাউলা হয়ে গেছে!

আজ
দৈনিক কালের কন্ঠে লিখেছেন চেতনার বইমেলা। এটা পড়ে আমার নিজের মাথাই এলোমেলো হয়ে আছে! তিনি লিখেছেন, "...আমরা জানি, বর্তমান সরকার বইপ্রেমী সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও একজন লেখক। তিনি ভালো পাঠকও।...বাংলা একাডেমীর বইমেলা নিয়ে তিনি ভাবেন...।"

"আমরা জানি"?
এই আমরাটা কে মিলন সাহেব? বলুন আমি জানি।

"বর্তমান সরকার বইপ্রেমী সরকার"?
মানে কি স্যার? বর্তমান সরকার বলতে কি বলতে চাইছেন? নাকি আপনি বলতে চেয়েছিলেন "বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বইপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী"?

"মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও একজন লেখক"?

হ্যা তিনি লেখক, আপনার সঙ্গে একমত। বেশ কিছু বই লিখেছেন: 'ওরা টোকাই কেন'?, 'আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি', 'সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র', 'দারিদ্র বিমোচন, কিছু ভাবনা', 'বিপন্ন গণতন্ত্র, লাঞ্চিত মানবতা' ইত্যাদি।

"তিনি ভালো পাঠকও"।
এটা আপনি ভাল বলতে পারবেন। কি কি বই পাঠ করলে ভালো পাঠক হওয়া যায় এই সার্টিফিকেট আপনি দেবেন না তো কে দেবে! বইয়ের তালিকাটা জানাবেন প্লিজ, আমার নিজেরও এমন একটা সনদ প্রয়োজন আপনার কাছ থেকে।

"বাংলা একাডেমীর বইমেলা নিয়ে তিনি ভাবেন।"
তাই বুঝি, স্যার! এইবার বইমেলা পদাধিকার বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন না করে কোন একজন বিশিষ্ট লেখক করলে আপনার এই কথায় সত্যতার লেশ আছে বলে ধরে নিতাম। ক্ষমতার গত টার্মের সময় বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকের মত বলে বসবেন না যেন, "তিনি একজন বিশিষ্ট লেখক হিসাবে বইমেলা উদ্বোধন করছেন!"
প্লিজ, এই সব ফাঁকা বুলি কপচাবেন না। আপনি একজন লেখক, আমলা না। আপনি সরকারী চাকুরে না যে আপনার মেরুদন্ড থাকবে জেলির ন্যায়।
আমার সাফ কথা, মানুষের বাচ্চা মানুষের দুধ খাবে, পশুর দুধ না। বইমেলা উদ্বোধন করবেন লেখালেখি জগতের দুর্ধর্ষ মানুষ, কোন রাজনীতিবিদ না।


যাক, মিলন স্যার 'আমরা বলি' বলে নিজের কিছু ভাবনা আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়ে সরে পড়তে চাইছেন। বেশ! কিন্তু তাঁর লেখায় এই অংশটুকু পড়ে আমি ধন্ধে পড়ে যাই একজন লেখক মানুষ কেন ঢোলবাজের ভূমিকায় নেমে পড়েন?
তিনি লিখেছেন: "...'ভালবাসার সুখ দুঃখ'...বইটি নিয়ে ক্রেজ সৃষ্টি হলো। এমনও দিন গেছে, আমাকে পুলিশ দিয়ে পাহারায় রাখতে হয়েছে। ...হাজার হাজার পাঠক লাইন দিয়ে বইটি কিনত। ...এমনকি ওই বইয়ের জন্য মেলায় মারামারি পর্যন্ত হয়েছে।...।"

আমি তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম সবটাই সত্য কিন্তু মিলন সাহেবের এইগুলো না লিখলে কী চলত না? পত্রিকাওয়ালা আছে কি জন্য? এরা কি বসে বসে মাছি মারবে? পাঠক কি মুখে আঙ্গুল দিয়ে আঙ্গুল চোষে?
ক্রেজ কেমন করে সৃষ্টি করতে হয় এমন চালবাজি মিলন সাহেব ব্যতীত আর কে জানবে! মেলায় তাঁর বই আসে 'ভ' দিয়ে, 'ভালবাসি তোমাকে' বা 'ভালবাসি' এই টাইপের। ছোকরা-ছোকরি লুফে নেয়, ভেতরে আবর্জনা তাতে কিছুই যায় আসে না। ছোকরা-ছোকরি তোমাকে আমি পছন্দ করি এটা মুখে না বলে বইটা গিফট করার মাধ্যমে বলার চেষ্টা করে। মিলন স্যার কী বুদ্ধিই না শিখিয়েছেন।
তাঁর কয়েকটা বইয়ের নাম দেই: ১. ভালবাসা, ২. ভালবেসেছিলাম, ৩. ভালবাসা নাও, ৪. ভালবাসার ছায়া পড়ে. ৫ ভালবাসার হাত ধরেছি, ৬. ভালবাসার নির্বাচিত গল্প, ৭ ভালবাসা সমগ্র। কয়টা নাম বলব? ভালবাসা-বাসির রগরগে বর্ণনার কথা আর উল্লেখ করি না। দশ বছর বয়সী বালক-বালিকাকে নিয়ে তিনি যে রসময় গল্প ফাঁদেন এটাকে কেন পর্ণো বলা হবে না এই কুতর্কে যাই না।

এসব বাদ দিলেও লেখার ফেরিওয়ালা একজন মানুষকে ঢোলবাজের ভূমিকায় দেখতে ভালো লাগে না। স্যার, ঢোলটা আপনারই কিন্তু প্লিজ স্যার, ফাটিয়ে ফেলবেন না...।

Thursday, January 28, 2010

নৃশংসতা-ক্রূরতা-নিষ্ঠুরতা!

পাঁচ জন খুনিকে চরম শাস্তি দেয়া হয়েছে। দলবাজের বাইরে সাধারণ একজন মানুষ হিসাবে এতে কারও দ্বিমত থাকার কথা না। মৃত্যুদন্ড থাকা উচিৎ কি উচিৎ না, সে অন্য প্রসঙ্গ। আমি যেটা বারবার বলে এসেছি, "রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না। ৩৪ বছর গেল নাকি ৩৪০ বছর তাতে কী আসে যায়!"
এই বিচারটা যথা সময়ে হলে আমরা কতিপয় দাম্ভিক এইসব মানুষদের পেছনের মূল হোতাদের পেয়ে যেতাম। এমন অনেকের নামই পর্দার পেছনেই পড়ে থাকবে। হয়তো জানা হবে না কখনও!
যথা সময়ে বিচারটা হলে খন্দকার মোশতাকের মত মহা বিশ্বাসঘাতক আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মরে যেতে পারতেন না। কাপুরুষ সেনাপ্রধান শফিউল্লাহকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যেত, পেট চিরে আত্মহত্যা না করে ফেললে। অন্তত কর্নেল জামিলকে দেখে তাঁর লজ্জায় মরে যাওয়া উচিৎ ছিল।

এই ফাঁসিকে ঘিরে যেসব দেখলাম এতে নিজের মনুষ্যত্ব নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ি। আমি যেটা বলে আসছি, "আমাদের ভেতরের পশুটা বেরিয়ে আসার জন্য মুখিয়ে থাকে। এ গ্রহের তাবৎ বড়ো মাপের মানুষদের আপ্রাণ চেষ্টা থাকে এই পশুটিকে আটকাবার চেষ্টা করা।"
আফসোস, আমাদের ভেতরের পশুটাকে আমরা কেমন অবলীলায় বার করে ফেলি। আমি তো বলব, পশুটাকে বার হয়ে আসার জন্য উসকে দিচ্ছি। মিডিয়া নামের বিবেক এক পা এগিয়ে। ধরা যাক, আজকের (২৮ জানুয়ারি) প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠা। ঢাউস আকারে দুই জল্লাদের ছবি ছাপা হয়েছে। প্রথম পাতায় বিপুল আকারের এ ছবি কেন? এটা কী এতই জরুরী? আমরা কি এই খবরটার জন্য মুখিয়ে আছি কোন জল্লাদ ফাঁসি দিল, তার চেহারা মোবারক কেমন ছিল, তার পায়ে স্যান্ডেল ছিল নাকি স্যান্ডেল স্যু, সে ভেতরে আন্ডারওয়্যার পরেছিল নাকি লেংটি?
আজকাল প্রথম আলোর প্রথম পাতা কি খুব শস্তা হয়ে গেছে? খবরের আকাল পড়েছে বুঝি! শহীদুল ইসলাম লালুর মৃত্যুর খবরটা দেখি ছাপা হয় বিজ্ঞপ্তি আকারে! ভাষাসৈনিক গাজীউর রহমানের চিরবিদায়ের খবর প্রথম পাতায় আসে না। সেখানে প্রথম পাতা কী এতটাই ফাঁকা যে এমন গার্বেজ দিয়ে ভরিয়ে দিতে হবে? আগামীতে হয়তো পড়ব, ডানের জল্লাদটার একটা ইয়ে অন্যটার চেয়ে এক ইঞ্চি নিচে ঝুলে থাকে...।

আহ, আমাদের উৎসুক জনতা! ভেতরের পশুটাকে কাঁধে নিয়ে এরা বেরিয়ে পড়েন তামাশা দেখতে। আগুনে সব পুড়ছে, কাছ থেকে দেখা চাই,
দেখা চাই ফাঁসিটাও। উৎসুক জনতার জন্য ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি এগুতে পারে না, এম্বুলেন্স আটকে যায়। এ দেশেও সৌদির মত বর্বর দেশগুলোর মত উম্মুক্ত ফাঁসির আয়োজন হলে এদের অনেক উল্লাস হতো।
লাঠি-চার্জের পাশাপাশি এই সব ফাজিলদের হঠাতে জল-কামান ব্যবহার করা যেতে পারে। ভেজা কাপড়ে শীতে কাঁপতে কাঁপতে মজা দ্যাখ।

এখন স্যাটেলাইট টিভি এদের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে দেখছিলাম, এই ফাঁসিকে ঘিরে লাইভ অনুষ্ঠান প্রচারে একেকজনের কী হুড়াহুড়ি! কাঁপা কাঁপা গলায় ননস্টপ একেকজন বকে যাচ্ছেন, "তো যেটা বলছিলাম, আমরা আপনাদের পাঁচটা কফিন দেখিয়েছি। তো যেটা বলছিলাম চৌকিও আপনাদের দেখিয়েছি। এই চৌকিতে লাশগুলোকে গোসল করানো হবে। আপনারা জানেন তবুও বলি এই ফাঁসির রশি ম্যানিলা থেকে আনা হয়, এটাতে সবরি কলা দিয়ে মাখানো হয়। তো যেটা বলছিলাম, এম্বুলেন্স চলে এসেছে পাঁচটা। আপনার এম্বুলেন্সগুলো দেখতে পাচ্ছেন টিভি পর্দায়। তো যেটা বলছিলাম, একেক করে এই এম্বুলেন্স বের হয়ে যাবে এই গেটটা দিয়ে, গেটটা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন...।"
ভাগ্যিস, বলেনি, আপনারা যে এম্বুলেন্সগুলো দেখতে পাচ্ছেন এগুলোর প্রত্যেকটার চারটা করে চাকা। এবং আমাদের শেষ খবর অনুযায়ী এই চাকাগুলো স্টার্ট দিলেই ঘোরে।
আল্লা জানে মিডিয়ার কত শত লোক ওখানে গিয়েছিলেন? উৎসুক জনতার সঙ্গে এরা যোগ হলে মাছ বাজার হওয়ার আর অপেক্ষা করতে হয় না!

এভাবে ক্যামেরার চোখ একবার জেলগেইটে, কখনও ৩২ নম্বরে, কখনও-বা স্টুডিওতে ছুটাছুটি করছে। টক-শো চলছে। মন্ত্রী সাহেব পর্যায়ের লোকজন বক্তব্য রাখছেন। টক-শোর টক থামিয়ে ক্যামেরার চোখ ছুটে যাচ্ছে জেল গেটে বেরিয়ে আসা প্রথম এম্বুলেন্স দেখাতে। আবার টক-শো শুরু হলে তা থামিয়ে ক্যামেরা ছুটে যায় জেলগেটে। আবারও টক-শো শুরু হয়, থামে। একে একে বেরিয়ে আসা
পাঁচটা এম্বুলেন্স না দেখালে আকাশ ভেঙ্গে পড়বে যেন।

এরপর আমার দেখা ভয়ংকর এক ঘটনা। মিডিয়ায় দেখাচ্ছে, কিছু লোকজন লাশবাহী এম্বুলেন্সকে লক্ষ করে জুতা ছুঁড়ছে, আবর্জনা ছুড়ছে। এটা আবার ঘটা করে টিভি পর্দায় দেখাচ্ছে। টক-শোতে থাকা সাবেক মন্ত্রী সাহেব এই জুতা ছোঁড়া নিয়ে খুব শাবাসীও দিচ্ছেন। কাজটা যে খুবই ভাল হচ্ছে এটা নিয়ে রসালো মন্তব্যও করলেন।

বেঁচে থাকতে এমন কুৎসিত দৃশ্য আর কখনও দেখব এমনটা আমি আশা করি না। জেলগেটে, এই লাশগুলো সরকারের কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় জুতা ছোঁড়া হয়েছে। লাশগুলোর মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বে থাকা সরকার ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারে না। তাও আবার মিডিয়া ঘটা করে দেখায়! আবদুল মতিন খসরুর মত দায়িত্বশীল একজন মানুষ আবার এটার উপর শাবাসী-মন্তব্যও করেন!
আমি যেটা বলেছিলাম, ৪ জন জাতীয় নেতাকে জেলে হত্যা অন্য কোন হত্যার সঙ্গে তুলনা করা যায় না। কেননা ওই চার জন মানুষ সরকারের কাস্টডিতে ছিলেন তেমনি সরকারের কাস্টডিতে থাকা এই পাঁচটি লাশও।

লাশের প্রতি এমন আচরণ ভয়াবহ এক অন্যায়। এই শিক্ষাটা আমরা পাইনি কারণ আমাদের দেশের বড়ো বড়ো মানুষরা এসব নিয়ে গা করেন না। অথচ একটা লাশ সাধুর নাকি খুনির তাতে কী! লাশকে অসম্মান করলে ওই লাশের কিছুই যায় আসে না, জীবিত সমস্ত মানুষ নগ্ন-দিগম্বর হয়ে পড়ে।

*এক্ষণ প্রথম আলোয় এই খবরটা চোখে পড়ল, "দুই শিশুকে দেখা যায় ফাঁসির দাবির ব্যানার হাতে শীতের রাতে কারা ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।"
কোন নির্বোধের মাথা থেকে এই আইডিয়া বেরিয়েছে আল্লা মালুম। এই শিশুদের বাবা-মা তাঁদের সন্তানকে কী বানাতে চাইছেন তাঁরাই জানেন। একটা চলমান বিষবৃক্ষ!

**আমার ধারণা ছিল, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় যেহেতু লাইভ দেখানো হয় তাই এই দৃশ্যটা দেখানো হয়ে গেছে। কিন্তু যখন কালের কন্ঠ প্রথম পাতায় আয়োজন করে এই ছবি ছাপে তখন আমার ইচ্ছা করে, নিজেই নিজের মুখে থুথু দেই।

Wednesday, January 27, 2010

আবেদ খানের এস্টাইল (!)

আবেদ খানের 'বোধ হয়' লইয়া আমরা কী করিব? ইহা লইয়াই যন্ত্রণার একশেষ! মনে খানিকটা দুঃখ বোধও কাজ করিতেছিল, এমন কঠিন লিখা 'বোধ হয়' সমীচীন হইল না। একজনের স্মৃতিশক্তি দুর্বল থাকিতেই পারে, আবেদ খানেরও এমনটা হইবে না তাহা বুকে হাত দিয়া বলিতে পারি না।
ইহা আমি ব্যতীত কে বুঝিবে? অদ্যাপি বাচ্চাদের বয়স মনে রাখিতে পারি না, কেহ শেষের কবিতা কেমন লাগিল বলিলে আহাম্মকের ন্যায় বলিয়া বসি, আমি তো কবিতা বুঝি না! ভুলেও কেহ ইহা লইয়া বিশ্রম্ভালাপ করে না, এ লইয়া বিস্তর হাসাহাসি হয়! এই নিয়া অদৃষ্টকে দোষ দিয়া আজ আর কী করিব?

আজ আরেক নতুন উপদ্রব দেখা দিল। এলাকার একটি ছেলে কাজী হান্নান সে
থাকিয়া থাকিয়া কষ্টের শ্বাস ফেলিতেছিল। বেচারা সুনীলের বড়ো ভক্ত, 'কেউ কথা রাখেনি' বোধ হয় সুনীলেরই আবেদ খান ইহা নিয়া সংশয় প্রকাশ করিয়া, লিখিয়া, ছাপাইয়া দেয়ায় মনে বড়ো চোট পাইয়াছে।
আমি তাহাকে বললুম, বাপু রে, মনে কষ্ট রাখিও না, স্মৃতির উপর মানুষের কোন হাত নাই। তদুপরি মানুষটার সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক ছিল।

হান্নান চটিয়া বলিল, আমি আবেদ খানকে
গতকল্য ফোন করিয়াছিলুম। তিনি বলিলেন, "ইহাই আমার ইস্টাইল।" আপনি আমাকে বলুন, ইহা ইস্টাইল হয় কেমন করিয়া?
আমি অবিশ্বাসের হাসি হাসিলাম, বাপু, তুমি চটিয়াছ বিধায় এমনটা বলিতেছ। ইহা অসম্ভব, একজন সুশীল মানুষ আবেদ খান কখনই এমনটা বলিতে পারেন না। মানুষ মাত্রই ভুল করিয়া ভূল লিখিয়া ভুল করে।

হান্নান যখন আমার নাকের ডগায় প্রমাণ ঝুলাইয়া দিল তখন আমার আর বলার কিছুই অবশিষ্ট থাকিল না। যখন আমি নিজের কানে শুনিলাম তখন হতভম্ব হইলাম নাকি ভম্বহত(!) তাহা বলিতে পারি না। আবেদ খানের মত সুশীল একজন মানুষ এইরূপ বলিতে পারেন তাহা নিজের কানে না-শুনিলে বিশ্বাস করিতাম না!

আজ তিনি তাঁহার লেখার ইষ্টাইলের কারণে বলিতেছেন, কেউ কথা রাখেনি 'বোধ হয়' সুনীলেরই। কাল বলিবেন, 'বোধ হয়' সুনীল মরিয়া গিয়াছেন। পরশু বলিবেন, 'বোধ হয়' সুনীল চিতা হইতে সশরীরে ফিরিয়া আসিয়াছেন। তরশু বলিবেন, ...।
আমার মনে সংশয় জাগিয়াছে বলিয়া কালের কন্ঠ কি আমার এহেন বিজ্ঞাপন ছাপাইবে? "লেখার ইস্টাইল করিয়া করিয়া 'বোধ হয়' আবেদ খান উদভ্রান্ত হইয়া গিয়াছেন।"
আবেদ খানও আরেকখানা বিজ্ঞাপনে তিনি উদভ্রান্ত হন নাই এই সার্টিফিকেট ছাপাইয়া আমাদিগকে আশ্বস্ত করিবেন। সমস্যা তো নাই।

কেহ বপুষ্মান হইলেই তাহার মস্তিষ্ক বিপুল হইবে এমনটা দাবী করা চলে না। পায়ে আবর্জনা লাগিলে পা উঠাইয়া তাহা বড় জোর দেখা চলে, হাতে উঠাইলে বোকামি ফুটিয়া উঠে, নাকে নিয়া শুঁকিলে মানুষটার মস্তিষ্ক আদৌ আছে কিনা তাহা লইয়া 'বোধ হয়' সংশয় জাগে।

Tuesday, January 26, 2010

আবেদ খানের 'বোধ হয়' লইয়া আমরা কী করিব?

আবেদ খান আজকের 'কালের কন্ঠ' দৈনিকে লিখিয়াছেন,"শেষ পর্যন্ত লেখার একটা ক্ষেত্র হলো বটে, কিন্তু ভাবনা এল_লিখিটা কী!"

আবেদ খানের নাকি লিখিবার ক্ষেত্র সংকুচিত হইয়া ক্ষুদ্রাদপি ক্ষুদ্র বিচির আকার ধারণ করিয়াছে। ইহা শুনিয়া হায়েনা হাসিতে হাসিতে লেলাখেপা হইয়াছে! অবশেষে লিখিবার ক্ষেত্রের জন্য কালের কন্ঠ নামক আস্ত একখানা পরতিকা(!) নাযিল হওয়ারও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়াছে! কলমবাজ আর কাহাকে বলে! অবশ্য কাজটা মরদের মতই হইয়াছে বটি!

আজকাল বড়ো একটা ঢং হইয়াছে, পরতিকার সম্পাদক মহাশয়গণ প্রথম পাতায় ঘটা করিয়া লিখিয়া আমজনতার উদ্দেশ্যে বাতচিত করিয়া থাকেন। এই প্রথায় আমাদের মতিউর রহমান সাহেবও পিছাইয়া নাই। সম্পাদক মহাশয় বলিয়া কথা! সে যাক, তাহারা প্রথম পাতায় লিখুন প্রয়োজনে গোটা পৃষ্ঠা জুড়িয়া, আটকাইবে এহেন বুকের পাটা কাহার?

আবেদ খান আরও লিখিয়াছেন, "'কেউ কথা রাখেনি' কবিতাটা 'বোধ হয়' সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়েরই...।"
প্রথম পাতায় তাঁহার সুদীর্ঘ এই লেখার বিশদে যাইবার আগ্রহ নাই কিন্তু তাঁহার এই 'বোধ হয়' লইয়া আমরা কী করিব, তাহা বোধগম্য হইতেছে না! ইহা কোথায় রাখিব ভাবিয়া ভাবিয়া আকূল হইয়াছি! 'বোধ হয়' তাঁহার লিখায় সন্দেহের লেশ দিব্যি লেজ গজাইয়া দিয়াছে।
আমরা যাহারা হুদাহুদি লিখিবার চেষ্টা করি, যাহাদের নেকাপড়া(!) কম, তাহারা আটকাইয়া গেলে বোধ হয় লিখিয়া গা বাঁচাইবার চেষ্টা করিয়া থাকি কিন্তু আবেদ খানের মত কলমযোদ্ধা, মসিবীর- যিনি কেবল লেখার ক্ষেত্র তৈরি করিবার মানসে একখানা দৈনিক পরতিকা(!) অবতীর্ণ করিয়া থাকেন তিনি 'বোধ হয়' লিখিয়া দায় সারিবেন কেন? এই পরতিকার(!) শতেক কলমবাজ কাহারও নিকট হইতে জানিবার উপায় কি ছিল না? তাঁহারা কী মসিলিপ্ত হইয়া নিদ্রদেবীর কোলে দোল খাইতেছিলেন?

আবেদ খান ইচ্ছা করিলে তো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কেই একখানা ফোন লাগাইতেই পারিতেন, 'হাললু দাদা, কেম ছো? দাদা, 'কেউ কথা রাখেনি' ইহা কি আপুনি লিখিয়াছিলেন নাকি আপুনির খগের কলম'?
বেশ ফোনালাপ হইতে পারিত। সুনীল দাদা নাচিতে নাচিতে আবৃত্তি করিতেন। আয়ুষ্মান ভবঃ বলিয়া কালের কন্ঠের জন্য "আমার ভালো লাগা, গ্লানি ও স্বপ্ন" টাইপের আরেকখানি লেখা লিখিয়া ফেলিতেন।

'বোধ হয়' ইহা ভালো জিনিস বটি কিন্তু সংসদে গেজেট পাশ হইয়াছে এমন কোন লিখায় সংসদের কোন এক আইন প্রণেতা যদি লিখিয়া বসেন, "অদ্য হইতে এই আইন কার্যকরী হইল। ইহার উৎস 'বোধ হয়' সংবিধানে আছে।"
বাপস! বড়ো একটা ঝামেলা পাক খাইতে খাইতে পাকিয়া যাইবে!

আচ্ছা, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে আবেদ খানের ফোন করিবার কথা যে লিখিলাম, আমি এখন কিঞ্চিৎ ধন্ধে আছি, সুনীল দাদা বাঁচিয়া আছেন তো? শুনিয়া অনেকে আমাকে গাল পাড়িবেন, মনে মনে দুগগা-দুগগা বলিবেন। আহা, ভগবান তাঁহাকে বাঁচাইয়া রাখুন কিন্তু বুঝিলেন কিনা, আমাদের মত কলমচীর এই এক হুজ্জুত, ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার। কে আমাদিগকে তথ্যের যোগান দিবে, কে সংশোধন করিয়া দিবে, কে-কে-কে? কেহ না, বাহে, কেহ না।
অতএব আমার ইহাই লেখা শ্রেয় ছিল, 'বোধ হয়' সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বাঁচিয়া থাকিলে, বোধ হয় আবেদ খানের নিকট ফোন থাকিলে, বোধ হয় নেটওয়র্ক ঠিক থাকিলে, বোধ হয়...।



Get this widget | Track details | eSnips Social DNA

Monday, January 25, 2010

নায়ককে নায়ক বলতে সমস্যা কোথায়?

প্রথম আলোর রিপোর্টটা অতি সাধারণ: "বাস ডাকাতদের কবলে রিকশাচালকের পরিবার...শনিবার রাত ১০টার দিকে... পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম গাড়িতে করে শাহবাগ মোড় হয়ে মৎস ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখতে পান যাত্রীবাহী একটি বাস সিগন্যালে না দাঁড়িয়ে সন্দেহজনকভাবে...তিনি বাসটির পিছু নেন...প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ধাওয়া করে অবশেষে আসাদগেটে ...বাসটি আটকান।"

এই খবরটাই কালের কন্ঠ লিখছে বড় বড় হেডলাইনে: দেহরক্ষী এবং ড্রাইভারকে নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ধরলেন পাঁচ ডাকাত।

এখন আমি পাঠক হিসাবে কোন পত্রিকাকে বিশ্বাস করব? খবর ঠিক আছে কিন্তু বক্তব্যে অনেক ফারাক! প্রথম আলোর মতে, এটা অতি সাধারণ একটা ঘটনা। পুলিশ ছিনতাইকারীকে পাকড়াও করেছে, রুটিন ওয়র্ক। এ তো হামেশাই হচ্ছে।
কিন্তু কালের কন্ঠে আমরা এক অভাবনীয় ঘটনা দেখতে পাই। একজন পুলিশ অফিসার অসাধারণ এক কান্ড করে ফেলেছেন। জানি জানি অনেকে ঠোঁট উল্টে বলবেন, পুলিশের কাজই তো এইটা।
আহা, চটছেন কেন! আমাদের দেশের পুলিশকে অপরাধী ধরে হাতে তুলে দিলেও যেখানে এঁরা গা করেন না, হাতের ফাঁক গলে টুপ করে পড়ে যায়। সেখানে পদস্থ একজন পুলিশ অফিসার তাঁর দায়িত্বের বাইরে ঝুঁকি নিয়ে প্রায় অরক্ষিত অবস্থায় মাইলের পর মাইল চেজ করে এদের ধরেছেন। সেখানে প্রথম আলোর এমন নিউজ ট্রিটমেন্ট দেয়ার মানে কী! আমাদের দেশে এমনিতেই বলার মত তেমন গল্প নাই, অহংকার করার মত বীর নাই সেখানে নায়ককে নায়ক বলতে সমস্যা কোথায়? পুলিশ বলে?

পৃথিবীর অনেক দেশেই মানুষ কিছু হলেই পুলিশের কাছে ছুটে যায়, পরম নির্ভাবনায়; আমাদের দেশে উল্টোটা। পুলিশের কাছ থেকে যথাসম্ভব দূরত্ব বজায় রাখা। কারণ অনেক।
একটা উদাহরণ দেই। ব্রাক্ষ্ণণবাড়ীয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ভেতরে চমৎকার একটা ভাস্কর্য আছে। একজন ট্রাফিক পুলিশ দুইজন স্কুলগামী ছেলে-মেয়েকে রাস্তা পার করাচ্ছে, পরম মমতায়। দেখলেই মনটা অন্য রকম হয়। এটা উম্মুক্ত স্থানে না-রেখে বেষ্টনির ভেতরে কেন এটা আমার বোধের বাইরে! আমি চেষ্টা করেছিলাম এটার ছবি উঠাবার জন্য। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ রে রে করে তেড়ে এলেন। কিছুতেই তিনি আমাকে এই ভয়াবহ কাজটা করতে দেবেন না। আমি যে এটার ছবি উঠিয়ে কোন সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত হবো না এটা বোঝাবার পর তিনি আমাকে পরামর্শ দিলেন সহকারী পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করার জন্য। আমি আগ্রহ বোধ করলাম না, লম্বা দিলাম। কারণ আমি জানি ওখানে যাওয়ার পর কি হবে? চোর-চোট্টার মত স্যারের সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে বিস্তর প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রথমেই জানতে চাওয়া হবে, কেন আমি ছবি উঠাতে চাচ্ছি, আমি কি কোন পত্রিকার সাংবাদিক? না, তাহলে?

এমনিতেই আমাদের দেশের পুলিশদের আমরা ভিলেন হিসাবে দেখে আসছি। আমরা এদের সম্বন্ধে কী তাচ্ছিল্য পোষণ করি পুলিশেরা এর সবটা যদি জানতেন! আমার নিজের কানে শোনা, এক কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা ঘটককে বলছেন, "তুমি পুলিশ ছেলের সম্বন্ধ আনলা কি মনে কইরা, মেথরের আনলেও একটা কথা আছিল"! রাগের চোটে অতিশয়োক্তি হয়ে গেছে এটা সত্য কিন্তু মানুষটার চোখে ঘৃণা উপচে পড়ছিল।
পুলিশকে নিয়ে ভয়ংকর উক্তিটা আমি পড়ি সাদত হাসান মান্টোর লেখায়, "একশজন ... দালালের মৃত্যু হলে একজন পুলিশের জন্ম হয়"। মান্টো এমনিতেও ভয়ংকরসব গল্প লিখতেন। তাঁর 'ঠান্ডা গোশত' পড়ে আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। ৭৭ সালে যেটার অনুবাদ করেছিলেন মোস্তফা হারুন।

যাক গে, অন্য দেশের পুলিশে আমার কাজ কী, আমাদের দেশের পুলিশদের নিয়েই থাকি না কেন। আমাদের দেশে কিছু বিচিত্র বিষয় আছে, যাদের কাপড় থাকা প্রয়োজন শুভ্র, আমরা নিজেরাই তাঁদের ধপধপে কাপড়ে কালি ছিটিয়ে বেদম চেঁচাতে থাকি, দাগ-দাগ! একজন ইমামের বেতন দেড়-দুই হাজার টাকা। এই ইমামকে ১০০ টাকা ধরিয়ে দিলে এমন কাঁদা কাদবে আমার বাপও কবর ছেড়ে উঠে আসবেন। উনি ভুলভাল ফতোয়া না-দিলে কে দেবেন? এই দেশে দেড়-দুই হাজার টাকায় কোন মেথর কাজ করতে রাজি হলে আমি সেই মেথরের পদ-চুম্বন করব। ব্লগ-ভুবনের তার ধরে এই প্রতিজ্ঞাটা আজ করলুম।

ওসি সাহেব একটা উদাহরণ। অনেক ওসি সাহেবকে উপরে নিদেনপক্ষে দু-লাখ টাকা নজরানার দিতে হয়। এই উপরটা কোথায় এটা আবার ফট করে আমাকে জিজ্ঞেস করে বসবেন না যেন, তাহলে আমি নিজেই অন্য উপরে চলে যাব!
থানার ওসিকে ঠকায় হাজার দশেক, আনুমানিক ১০ হাজার টাকা বেতন কম দিয়ে। তো, ওসি সাহেব সরকারকে ঠকান আনুমানিক ৩০ লাখ। উপরে দুই, নিজের দুই, সাঙ্গোপাঙ্গ এক এবং এই অবৈধ পাঁচ লাখ টাকা আয় করতে গিয়ে ন্যূনকল্পে পঁচিশ লক্ষ টাকার অন্যায্য, অন্যায় সুবিধা প্রদান। প্রকারান্তরে যা সরকারেরই ক্ষতি। এই মোটা হিসাবটা আমাদের ডিসিশন-মেকাররা যে কেন বোঝেন না!

একটা মামলার তদ্বিরে আমাকে মাসে দু-বার কোর্ট ভবনে তশরীফ আনতে হয়। এখানে বিচিত্র মানুষ দেখি, গাছ দেখি। ততোধিক বিচিত্র মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হই।
একবার পাশেই একজন পুলিশের কনস্টেবল বসে চা খাচ্ছিলেন। সচরাচর আমিও অন্যদের মত ট্রাকের মতই পুলিশের কাছ থেকে ১০০ হাত দূরত্ব বজায় রাখি। কিন্তু প্রকৃতি-পরিবেশের একটা ছাপ তো থেকেই যায়। পুলিশ নামের মানুষটার সঙ্গে কথা হয়। চাকুরির বয়স ২২ বছর। বেতন এখন পান কেটেকুটে ৭০০০ টাকা। ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টা ডিউটি।
বলছিলেন বিমর্ষ হয়ে, 'বলেন, এইটা তো মানুষের শরীর, নাকি! ১৬-১৮ ঘন্টা ডিউটি কইরা শরীরে আর দেয় না, বুঝলেন। আপনে কন, মাথা ঠিক থাকে? এই যে আজকা ডিউটিতে আইছি, সারা দিনে না হইলেও ১০০ ট্যাকা খরচ। এর বাইরে এসআই সাব তো কয়া খালাশ, মোটর সাইকেলের তেল কিনতে হয়, টর্চলাইটের ব্যাটারি কিনি নিজের পয়সায়। ঘুষ না খাইলে বাড়িত ট্যাকা পাঠামু কোত্থিকা'?

শুনে যাই, সে অনেক কথা। সামান্য চার দামটা আমি দিয়ে দেয়ায় মানুষটা এতো অবাক হয়েছিল তার সেই চোখের দৃষ্টি এখনও ভুলিনি! এরা কি একজন মানুষের কাছ থেকে মানুষের আচরণ পাওয়া ভুলে গেছে? আমরা কি এদের লুটেরার পর্যায়ে নিয়ে গেছি?

Saturday, January 23, 2010

এ গ্রহের চুতিয়া নাম্বার ওয়ান এন্ড নাম্বার টু

প্রথম আলোর কল্যাণে আমরা জানলাম এ গ্রহের সবচেয়ে 'সুখী এক বেকার'-এর গল্প! এই লেখার সূত্র কী? এর কোন বালাই নেই- পত্রিকাটি এই কাহিনী কোত্থেকে অনুবাদ করেছে এটা আমরা জানি না কারণ প্রথম আলোর এই চল নেই! কৃতজ্ঞতা স্বীকার বলতে কোন শব্দ এদের অভিধানে নাই। চৌর্যবৃত্তি আর কাহাকে বলে!

এরা যা লিখেছে:
"ঘটনার সূত্রপাত ২০০৩ সালে। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেষ্টারে বউ-বাচ্চা নিয়ে ভালোই দিন কাটাচ্ছিলেন বাগানের মালী ডন কেইন। ...চাকরিটা ছেড়ে দিলেন।
...কেইন দম্পতি হঠাৎ করে উপলব্ধি করলেন, চাকরি করলে যে টাকা পাওয়া যায় তার থেকে এখন ভাতার পরিমাণ ঢের বেশি। ডন কেইন সিদ্ধান্ত নিলেন, জীবনে আর চাকরি-বাকরি করবেন না।
...সন্তানসম্ভবা স্ত্রী। ১৪ ছেলেমেয়ে বিশাল সংসার।
...বেকার অবস্থাতেই সরকারের বিভিন্ন ভাতা মিলিয়ে তার মাসিক আয় ৩৬ হাজার ৮৪৭ পাইন্ড। যেখানে যুক্তরাজ্যের গড় বেতন ২১ হাজার ৩২০ পাউন্ড।"

প্রথম আলো এর শিরোনাম দিয়েছে, সুখী এক বেকার। এটা যেখান থেকে (সহজ ভাষায় বলি, চুরি করা) নেয়া সেখানে এমন শিরোনাম ছিল কিনা এটা জানার উপায় আমাদের নেই! আসলে এটার শিরোনাম হওয়া উচিৎ ছিল 'চুতিয়া এক বেকার'। চুতিয়া শব্দে আপত্তি থাকলে 'অকর্মণ্য এক বেকার'।

আমার তো মনে হয়, এটা নিয়ে টস হওয়া প্রয়োজন ডন কেইনকে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে নাকি ফায়ারিং স্কোয়াডে? এ এই গ্রহের জন্য খতরনাক- এই শ্লা কিছুই না করে কেবল দিনপাত এবং বীর্যপাত করেই যাচ্ছে! প্রথম আলো আবার একে শাবাসিও দিচ্ছে, ঘটা করে আবার শিরোনামও দিচ্ছে, সুখী এক বেকার। আমাদের আলোর প্রদর্শক- বদলে দিতে দিতে এরা কি আমাদের ভাবনাও বদলে দিচ্ছে নাকি? কি শেখাতে চাইছে আমাদেরকে?

ডন কেইন হচ্ছে এ গ্রহের চুতিয়া নাম্বার ওয়ান এবং নাম্বার টু কে, এটা বলার আর অবকাশ কই? দৌড়ে প্রথম হওয়ার জন্য আলোর দিশারী মুখিয়ে থাকলে আমার আর কী-ই বা করার আছে!

জীবনটাই যখন নিলামে: এক


বোর্ড মিটিং-এ সবাইকে ল্যাপটপ খুলে বসতে হয়।
সৈয়দ সাহেবের কঠিন নির্দেশ। তিনি যখন বকবক করবেন তখন সবাইকে তার বকবকানি নোট করতে হবে, অন্তত নোট করার ভান করতে হবে। কেউ ভুলে গেলে খরখরে গলায় বলবেন, এই জিনিসটা কি গলায় ঝুলিয়ে রাখার জন্য দেয়া হয়েছে?

শামসির আজ পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারেনি মিটিং চলাকালিন এটা কী কাজে লাগে! সৈয়দ মানুষটা যে একজন অযোগ্য একজিকিউটিভ এতে অন্তত ওর কোন সন্দেহ নাই। শামসির আড়চোখে রাব্বির ল্যাপটপের স্ত্রীণে তাকালো। এ কি যেন একটা গেম খেলছে। সৈয়দ সাহেবের চোখে পড়লে কেয়ামত নেমে আসবে। ইশারায় কিছু একটা বলতে গিয়ে নিজের স্ত্রীণে চোখ পড়ল। অরি আল্লা, রাব্বি দেখি চ্যাটিং অপশনে ম্যাসেজ পাঠিয়েছে। ইউনিকোডে এখন বাংলায় লেখা যায়, ম্যাসেজ পাঠানো যায়। লিখে আরাম। নিজের ভাষায় লেখার আনন্দ অন্য কোন ভাষায় কোথায়!

শামসির সাবধানে টাইপ করল, তোর কী মাথা খারাপ? সৈয়দ কাঁচা খেয়ে ফেলবে।
রাব্বির ফিরতি ম্যাসেজ, সৈয়দের মায়েরে বাপ। হারামজাদা কি করেছে জানিস, কাল তার ড্রাইভারকে আমরা যে লাঞ্চ খেতে দিয়েছিলাম এটা সে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেছে। ড্রাইভারকে বলেছে, এটা নাকি তার জন্য দেয়া হয়েছে। চিন্তা কর, শালা কেমন চুতিয়ার ঘরে চুতিয়া।
শামসির লিখল, যাহ, বানিয়ে বানিয়ে বলছিস, এটা কী করে হয়! সৈয়দ কেন তার ড্রাইভারের লাঞ্চ নিয়ে যাবে! মানুষটাকে পছন্দ করিস না ভাল কথা, তাই বলে যা-তা বলার মানে কী!
বিশ্বাস না হলে ওর ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করে দেখ। সত্য না হলে আজীবন তোর ময়লা আন্ডারওয়্যার ধুয়ে দেব, ‘সয়ার অন মাই বলস’।

শামসির ভেতর থেকে পাক খেয়ে উঠা হাসি চাপল। হেসে উঠলে বিপদ। সৈয়দ খরখরে চোখে তাকিয়েই ছেড়ে দেবে না, দাঁড় করিয়ে একগাদা প্রশ্ন করবেন। কালঘাম বের করে দেবেন। তার আগে ও কেন হেসেছে এটার একটা সদুত্তর না দেয়া পর্যন্ত ওনার প্রশ্ন চলতেই থাকবে। ত্যানা পেঁচাতে থাকবে!
এরিমধ্যে আরেকটা মেসেজ এসে হাজির, ওরি ব্রো, সৈয়দ বানচোদটাকে দেখ, কী টাইট প্যান্ট পরে এসেছে, ভেতরের আন্ডারওয়্যারের লাইনিং ভেসে উঠেছে! এ দেখি আরেক মাইকেল জ্যাকসন রে! জ্যকসন প্যান্টের উপর আন্ডারওয়্যার পরত আর খানিক পরপর ওই বিশেষ জায়গায় ওর হাত চলে যেত। আল্লা মালুম, জ্যাকসনকে কে এই বুদ্ধিটা দিয়েছিল! সৈয়দ অবশ্য প্যান্টের উপরে পরেনি কিন্তু আমি তো খুব একটা পার্থক্য দেখছি না। ইয়ে শামসির, তোর কি ধারণা আছে এ কি কালারের আন্ডারওয়্যার পরেছে? গোলাপি কি হতে পারে?
শামসির হাসি চেপে লিখল, না ধারণা নাই কারণ আমি এটা ওকে পরাইনি। শ্লা, তোর মাথা একেবারে গেছে।
এই হারামজাদার সঙ্গে চাকরি করলে আমি নিশ্চিত পাগল হয়ে যাব। ভালো কথা, তুই কি এটা জানিস, সানফ্রান্সিসকোতে নিজের আন্ডারওয়্যার দিয়ে নিজের গাড়ি পরিষ্কার করা বেআইনি?
ধুর, চাপা।
আরে না, সত্যি।
যাহ!
সয়্যার অন মাই, না-না তোর বলস। হা হা হা।
বলিস কী! শালারা পাগল নাকি!

এরিমধ্যে সৈয়দ সাহেব মার্চেন্ডাইজিং সম্বন্ধে রাব্বিকে কিসব জিজ্ঞেস করলেন। রাব্বির মুখে খই ফুটছে। শামসির মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে। চ্যাটের ফাকে ঠিকই সৈয়দ সাহেবের ব্রিফিং-এর দিকে তীক্ষ্ম দৃষ্টি রেখেছে। অবশ্য সৈয়দ সাহেব আর কাউকে কিছু জিজ্ঞেস না করলেও রাব্বিকে ধরবেনই। রাব্বির সঙ্গে সম্পর্কটা সাপে নেউলে। রাব্বিটাও একরোখা। সৈয়দ সাহেবকে খানিকটা ছাড় দিলেই হয়। কিন্তু না, সৈয়দ সাহেবের আজগুবিসব পাগলামি অন্যরা অবলীলায় হজম করলেও রাব্বি ছেড়ে কথা বলবে না। রাব্বিটা বুঝতে চায় না চাকরি করলে মেরুদন্ড হতে হয় জেলির মত, বহুজাতিক কোম্পানি হলে তো কথাই নেই। তার উপর কোম্পানির উপর মহলে সৈয়দ সাহেবের হাত অনেক দূর, ডিসিশন মেকারদের বিশেষ পছন্দের মানুষ তিনি। তার সব কথাই ঠিক এটা ধরে নিলেই তো আর সমস্যা থাকে না।

রাব্বি খুকখুক করে কাশল। শামসির তাকালে চোখ দিয়ে ল্যাপটপ দেখাল। নতুন ম্যাসেজ, এই শোন, আমেরিকার অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডায় শজারুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করা অবৈধ, চিন্তা কর! ভাবা যায়?
ভাগ শালা! তুই-ই চিন্তা কর।
আরে সত্যি। সত্যি না হলে ৫০০০ টাকা বাজি। নগদ, এক হাজার টাকার কড়কড়ে নোটে।
তুই কোত্থিকা এইসব আজগুবি কথা বানাস!
খোদার কসম, সত্যি এমন একটা আইন ওই দেশে চালু আছে। দেখ দেখি কান্ড, এরা নাকি শিক্ষা-দীক্ষায় অতি সভ্য!
হুম। কিন্তু মিয়া, আমার মাথায় এটা ঢুকছে না, কার এমন শখ জাগবে?
আছে-আছে, কোন-না-কোন মামু আছে নিশ্চয়ই নইলে এমন আইন চালু হবে কেন?
বলিস কী, আবার এমন আইনও চালু আছে!
হুঁ, চালু আছে। আমার কি মনে হয় জানিস, সৈয়দের মত কোন এক মানুষ কখনও এমন একটা কান্ড করেছিল, তাই বাধ্য হয়ে এই আইনটা চালু করা হয়েছিল। কে জানে, সৈয়দও এটা করে কিনা? ইশ, শজারুর সঙ্গে রমনরত অবস্থায় সৈয়দ হারামজাদাকে যদি হাতেনাতে ধরতে পারতাম। আহা, সেদিন কী আনন্দ হবে আকাশে বাতাসে। ওদিন সেলিব্রেট করব, মঙ্গলের পানি দিয়া নিজের হাগা ধোব।

শামসিরের হাসি চাপতে আপ্রাণ চেষ্টা করতে হচ্ছে। হাসি চাপা দেয়ার জন্য অহেতুক নাক-টানা গলা টানার ভঙ্গি করছে। ভাগ্যিস, সৈয়দ তার প্রেজেন্টেশন নিয়ে ব্যস্ত নইলে ঠিক টের পেয়ে যেত।
রাব্বির এখন ইচ্ছা করছে সৈয়দকে ধরে একটা আছাড় দেয়। এ প্রেজেন্টেশনের নামে বিজবিজ করে কীসব জানি বকেই যাচ্ছে। খর্বাকৃতি মানুষটাকে বড়ো হাস্যকর লাগছে। মানুষটা বিচিত্রসব ভঙ্গি করছে। আবার ঢং করে হাতে একটা পয়েন্টার নিয়ে একটু পরপর বোর্ডে লাল আলো ফেলছে। খানিক পর পর পানিতে চুমুক দিচ্ছে, চায়ের কাপে মুখ রাখছে। এরিমধ্যে ওদের একটা টাস্ক দিয়ে দু-বার বাথরুম থেকে ঘুরে এসেছে অথচ ওদের বাথরুম যাওয়ার প্রয়োজন হলে বিরক্ত হয়ে বলবে, আপনারা এইসব মিটিং শুরু হওয়ার আগে সেরে ফেলতে পারেন না। মিটিং-এর সুরটাই কেটে যায়।

শোনো শালার কথা, কুতুয়া, সবাই কী তোর মতো হাত মারতে বাথরুম যায় রে। শালার চাকরি, বাথরুম চেপে বসে থাকতে হবে। রাব্বির খুব ইচ্ছা, একদিন মিটিং চলাকালীন সময়ে এখানেই বাথরুম সেরে ফেলে। সৈয়ত ওয়াক ওয়াক করবে, চিৎকার করতে থাকবে। ও মুখ শুকিয়ে বলবে, কি করব বস, হাগা-মুতা তো কারও কথা শোনে না। আপনার নির্দেশের কথা বলেছিলাম পাত্তাই দিল না।
দেখো কান্ড, এ আবার একটু পরপর বলছে, সো গাইজ বুঝতে পেরেছ তো? ব্যাটা বেতমিজ কোথাকার! বুঝতে পেরেছ না বলে বল আমি কি বোঝাতে পারলাম? এইসব নির্বোধ টাইপের মানুষরাই এদেশের সব কিছু চালাচ্ছে। রাব্বির এম.বি.এ করা নাই বলে কথায় কথায় এটা নিয়ে অপদস্ত করে অথচ এ নিজে স্রেফ বি.বি.এ করেছে। শ্লা, এই দেশে এখন এম.বি.এ করাটা আসমানি নিয়ম হয়ে গেছে- অসংখ্য রোবট বানাবার বুদ্ধি! অন্য সব ডিগ্রি একদিকে এম.বি.এ একদিকে! আচ্ছা, একটা রোবটের পশ্চাদদেশে এমবিএ ঢুকিয়ে দিয়ে অফিসে বসিয়ে দিলে কেমন হয়?

সৈয়দ নাকি এখন মার্কেট ট্যুরের কথা বলে চুপিচুপি এম.বি.এ ক্লাশ করছে। অথচ এই চালবাজির আদৌ কোন প্রয়োজন ছিল না। অফিসকে এটা জানালে অফিসই এই সুবিধাটা করে দিত। কিন্তু খাসলত যাবে কোথায়, অফিসের গাড়ির তেল পুড়িয়ে ব্যাটা করে ক্লাশ! এমনিতে খুব লম্বা লম্বা বাতচিত করে, গাইজ, তোমাদের কাছ থেকে আমি কিন্তু একশ ভাগ সততা চাই। শালা, তোর তো মামার জোরে চাকরি, কোন এমপি নাকি স্পিকার ওর কি যেন লাগে। অযথাই গোটা অফিসটা তটস্ত করে রাখে। আজ এর চাকরি খাচ্ছে তো কাল ওর।
একদিন রাত গভীর করে বাসায় ফিরে ড্রাইভারকে ছেড়েছে। বেচারা গভীর রাতে আসতে গিয়ে ছিনতাইয়ের কবলে পড়ল। আরেক দিন ড্রাইভার ছিনতাইয়ের ভয়ে রাত করে আসতে চায়নি বলে তাকে বাসার ছাদে শোয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। ড্রাইভার বেচারা সারাটা রাত মশার কামড় খেতে খেতে পায়চারি করে কাটিয়েছে। এ আবার বলে সততার কথা!
রাব্বির থেকে থেকে হাঁই উঠছে। মিটিং নামের এই যন্ত্রণার কবে সমাপ্তি হবে? কেয়ামতের আগ পর্যন্ত চলবে কিনা কে জানে!

*কিছু কথা, কিছু গান

Friday, January 22, 2010

টান

সিমপ্যাথিতে আমার বিশ্বাস আছে কিন্তু টেলিপ্যাথিতে নাই। তারপরও কেমন কেমন করে যেন কিসব হয়ে যায়। এর জন্য টেলিপ্যাথি দায়ি, না প্লাসিবো নাকি কাকতালীয় আমি জানি না।
টাকা-পয়সা ব্যতীত যা চাই কেমন কেমন করে যেন হয়ে যায়। আপনাদের অট্টহাস্যে আমার মনিটরের পর্দা কাপিয়ে লাভ নাই, পুরনো মনিটর, আমি চাই না আপনাদের হাস্যরসের কারণে বিগড়ে যাক; দুম করে বিদায় নিক।

চর্বিতচর্বণ করি না। আগেও লিখেছিলাম, সাপ খোলস দান করে, ভিমরুল, মৌমাছি, বাবুই পখি বাসা দান করে দিয়ে যায়। এতিম বাচ্চাদের হারিয়ে আবার পেয়েও যাই। মায় কোরবানির গরু পর্যন্ত কাঁদতে বাকি রাখে না
আমার বাবা মারা যাওয়ার দিন একটা অজানা অস্থিরতা, অচেনা ভয় অনুভব করছিলাম অথচ সেদিন তাঁর শরীর অন্য দিনের তুলনায় অনেক ভালো! এর ব্যাখ্যা আজও আমার কাছে নাই। ব্যাখ্যা হয়তো আছে, আমি জানি না।
কেবল ঝামেলাটা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত, এখানে প্লাসিবোটা হয়ে যায় নসিবো, কাকতালীয় হয় ফাঁকতালীয়! সম্ভবত আকাশীয়-অর্থমন্ত্রী আমার উপর রুষ্ট। কেন কে জানে! আকাশে তো আর ধান চাষ হয় না, আমি তাঁর পাকা ধানে মই দিয়েছি এটা জোর দিয়ে তিনি বললেও পাবলিক অন্তত বিশ্বাস করবে না।

যাক গে, টেলিপ্যাথির প্রসঙ্গটা যে কারণে বলছিলাম। আমার খুব পছন্দের একজন মানুষ আছেন। চন্দ্রগ্রস্থ এই মানুষটা বিভিন্ন রকমে আমাকে চমকে দিয়েছিলেন। আমি হতভম্ব হয়ে পড়েছিলাম যেদিন দূরের এই মানুষটা আমার খুব গোপন একটা বেদনার দিক আলতো করে ছুঁয়ে দিয়েছিলেন। আমি ভেবে ভেবে হয়রান, কেমন করে এটা সম্ভব অথচ কত কাছের মানুষরা টেরটিও পেলেন না! একজন মানুষ তো আর যাদুকর না ইচ্ছা করলেই একটা মানুষের বেদনা চট করে বুঝে ফেলল।
এমনিতেও আমার ফাঁকা মাথায়
অহেতুক-অনাবশ্যক ভাবনা চাপিয়ে দেন, মঙ্গলের পানি দিয়া আমরা কি করিব? এই টাইপের।

কাল কেন যেন হঠাৎ মনে হলো মানুষটার কি অসুখ? কেন মনে হলো আমি জানি না, মনে হলো ব্যস; জনে জনে ব্যাখ্যা দেই কেমন করে! কেবল মনে হচ্ছিল, মানুষটার হ্যালো না-বলে চলে যাওয়াটা ঠিক হচ্ছে না। এটা কোন কাজের কাজ না
, বাডি
আজ ফোন করে জানলাম ঠিকই মানুষটা বড়ো অসুখ।

সমস্যাটা কোথায়? টেলিপ্যাথি-হোমিওপ্যাথি,
দূর-দূর! নাকি আমার প্রতি মানুষটার টান...? টান নামের জিনিসটা তাঁর অজান্তেই খানিকটা আমার মধ্যে ফেরত দিয়ে দিয়েছেন? কি জানি বাবা, পৃথিবীটা বড়ো রহস্যময়। হবে হয়তো বা, দেশটাই ভালো করে ঘুরে দেখিনি গোটা পৃথিবীর খবর নিয়ে বুঝি বসে আছি...।

খানিকটা অক্সিজেন


কাল মনটা খুব খারাপ ছিল। কেমন দমবন্ধ ভাব- মনে হয় কোথাও একটুখানি বাতাস নেই! এটা আমার জন্য ভয়াবহ একটা বিষয়, নিজেকে সামলানো তখন বড়ো মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়- চলন্ত গাড়ি হাতছানি দেয়, ঘুরপাক খাওয়া ফ্যান টানে! কিছুতে নিজেকে তখন আটকে না-ফেললে বিপদ, ভয়াবহ বিপদ।

গুগলে হাবিজাবি লিখে সার্চ দিচ্ছিলাম। একবার দিলাম, আজ আমার মন খারাপ। হুশ গুগল, হুশ, প্রথমেই আমার লেখা এনে হাজির করেছে! নিজের লেখা পড়ব কি, ছাতাফাতা! হাবিজাবি সার্চ দিতে গিয়ে পেলাম গর্বিত সন্তানদের এক পিতা। পড়তে গিয়ে দেখি অরি আল্লা...।
"...কথা হল দশ সন্তানের এক গর্বিত পিতার সাথে। সন্তানদের বোঝা টেনে কিছুটা শ্রান্ত পিতা নন তিনি বরং তাদের হাতের মুঠিতে পুরে দাপটে ছুটে বেড়ানো তাগড়া জোয়ান। হাতের মুঠোয় থাকলেও তারা কিন্তু ভালবাসার চাদরে আপাদমস্তক জড়ানো।"
পড়তে পড়তে কখন মন ভাল হয়ে গিয়েছিল নিজেও জানি না। হা হা হা, মজা তো, সন্তানদের বোঝা টেনে কিছুটা শ্রান্ত এক পিতা। হা হা হা।

ভুলে যাওয়ার জন্য আমার কুখ্যাতির শেষ নাই- এই বিষয়ে আজকাল অনেকে আমার প্রতি করুণার হাসি হাসতেও করুণা বোধ করেন। ইমতিয়াজ আহমদ ইমন। নামটা মনে করার চেষ্টা করি, কখন এই মানুষটার সঙ্গে আমার দেখা, কথা হয়েছিল, কখন? ওয়াল্লা, মনে পড়ে। এক বইমেলা। সে বছর শুভর ব্লগিং বের হয়েছিল। বইমেলায় কথা হচ্ছিল। হড়বড় করে আমি কি কি যেন বলছিলাম আজ আর সবটা মনে নাই।

গর্বিত সন্তানদের পিতা লেখাটায় মানুষটা সুন্দর সুন্দর কথা লিখেছেন কিন্তু মানুষটার কাছ থেকে অটোগ্রাফ দেয়ার নাম করে যে দুই টাকা নিয়েছিলাম এটা এড়িয়ে গেছেন। সম্ভবত আমার লালচ নিয়ে কথা বাড়াতে চাননি!
ওই লেখায় অবশ্য মানুষটার নামটা মনে ছিল না বিধায় সহব্লগার লিখেছিলাম এই জন্য এখন লজ্জা-লজ্জা লাগছে। লেখাটার কল্যাণে অনেক কটা বছর দুম করে পেছনে চলে গেলাম। আহ স্মৃতি, স্মৃতিই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে নইলে কবে মরে ভূত হয়ে যেতাম।

*কাজের সময় অক্সিজেন টাইপের লেখাগুলো খুঁজে পাওয়া যায় না। ভাবছি, লেখাগুলো এই পোস্টে এনে জড়ো করব। কিন্তু মমতায় মাখামাখি মানুষগুলোর লেখায় অতিশয়োক্তির কারণে বড়ো বিব্রত লাগে।
**ছবি-সূত্র: লামিয়া (একটা শিশুর এই ছবি দেয়াটা কেবল আবেক্রান্ত হয়ে না, অন্য কারণে পছন্দ হয়েছে। অবচেতন মনের আঁকাআকি। কালোর মধ্যে রঙের ছোপ- মৃত্যুর মধ্যে জীবনের!)

Thursday, January 21, 2010

ইরেজার

ব্রিটেন নামের এক কালের মহাদেশ (?) যাদের সূর্য নাকি উদয়ও হতো না অস্তও যেত না, নিজেদের সীমানা বৃদ্ধির পাশাপাশি তথাকথিত নিজেদের নীল রক্তের গাঢ়ত্ব বৃদ্ধিতেও অতি সচেতন ছিল। তথাকথিত অতি সভ্য জাতি! এরা সভ্যতা ধরে রাখার জন্য এহেন কোন অন্যায় নাই যা করেনি। মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ- সচরাচর এপিঠের সভ্যতার মানেই হচ্ছে ওপিঠের অসভ্যতা।

ব্রিটেন
গত শতাব্দীতে তাদের ওই সময়কার উপনিবেশগুলোর মধ্যে অষ্ট্রেলিয়া, কানাডায় কয়েক হাজার সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে চমৎকার ভবিষ্যতের কথা বলে জোর করে পাঠায়। আনুমানিক ৪০ বছর পূর্বে বিট্রেন এই অমানবিক কাজটা করে। এইসব শিশুকে ওখানকার গির্জা-এতিমখানা টাইপের প্রতিষ্ঠানে রাখা হতো।

বাঘ থেকে বাঁচার জন্য কোথাও না কোথাও একটা গাছ থাকবে, থাকতে বাধ্য, থাকবেই। তেমনি কোথাও না কোথাও একটা ইরেজার থাকে, থাকতে বাধ্য, থাকবেই। ইরেজার হয়তো সমস্ত দাগ মুছে ফেলতে পারে না কিন্তু কুৎসিত দাগগুলো অনেকখানি মুছে ফেলে। ইরেজার অন্তত ভুলভালগুলো শুধরানোর একটা সুযোগ সৃষ্টি করে।

নভেম্বর, ২০০৯ সালে অষ্টেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড ১৯৩০ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত অষ্ট্রেলিয়ায় পাঠানো এইসব অভাগা মানুষদের সম্বন্ধে বলেন, "আমরা দুঃখিত,শিশু অবস্থায় যাদেরকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাদের এখানে পাঠানো হয়েছিল, আপনজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন সেইসব মানুষদের অমানুষিক দুর্দশার জন্য জাতির পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি।
রাড আরও বলেন, এইসব অভিবাসী শিশু এবং তাদের অভিভাবককেরা
অতীতে বিভিন্ন ঘটনায় যে দুর্দশার শিকার হয়েছেন তার জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত।"

প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড যখন পার্লামেন্ট হাউজে আবেগপ্রবণ ভাষায় ভাষণ দিচ্ছিলেন তখন পার্লামেন্ট হাউজে জড়ো হওয়া সেইসব অভাগা মানুষেরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

ইতিমধ্যে কত পানি গড়িয়ে গেছে- সেই শিশুরা আজ আর শিশু নাই! অনেকে রে রে করে তেড়ে আসবেন, কেউ-বা ঠোঁট বাঁকাবেন, ওইসব অভাগা মানুষদের প্রতি এখন এই সমবেদনা দেখালে কি, না দেখালেই কি?
এর আসলে কোন উত্তর হয় না! দাগ তো দাগই, মুছে ফেলতে হবে
, ব্যস। নইলে সভ্যতা এগুবে কি করে? সভ্যতা হচ্ছে সরলরেখা, ইরেজার দিয়ে দাগ মুছে মুছে কেবল এগিয়ে যাওয়া নইলে বৃত্তে কেবল ঘুরপাক খেতে হবে। আজও নীল রক্তের অসভ্য ব্রিটিশদের সভ্যতা নিয়ে আমাদের বসে থাকতে হতো।

Wednesday, January 20, 2010

বিচারপতি লতিফুর রহমান, ভুলি নাই আপনাকে

দৈনিক কালের কন্ঠে বিচারপতি লতিফুর রহমানের একটি বইয়ের সমালোচনা (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিনগুলি ও আমার কথা) পড়লাম। কোন বইয়ের সমালোচনার শিরোনাম 'তিন নম্বরের জন্য বদলে যাওয়া জীবন' হয় কি না আমার জানা নেই। ছাপার অক্ষর বলে কথা- আমরা তো আবার ছাপার অক্ষরের সব কিছুই আসমানি ওহী বলে মেনে নেই। কপাল, মেনে নিলাম!

"বইটিতে উঠে এসেছে তার জীবনের নানা দিক ও প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন অভিজ্ঞতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ৮৭ দিনের কার্যাবলি।"
তাঁর এই বইয়ে আমরা অনেক অজানা কথা জানলাম:
"লেখক বলছেন, তিন নাম্বার বেশি (এমএ ক্লাসে?) পেলে আমার জীবনের মোড় অন্য দিকে ঘুরে যেত। আমাদের ক্ষুদ্র জ্ঞানে আমরা যেটা অনেক সময় মন্দ মনে করি, সেটা বিধাতার দৃষ্টিতে হয়তো ভালো।"

ইয়েস-ইয়েস ভাল, অবশ্যই ভাল। বিধাতা লাগবে না আমরাই বলি, ভালো, বেশ হয়েছে। নইলে আমরা লতিফুর রহমানকে
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসাবে কেমন করে পেতাম? বিধাতাকে ধন্যবাদ দেই তিনি তিন নম্বর কম পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে।

"...দর্শনার কেরু কোম্পানির ল অফিসারের পদে চাকরি
নিতে গিয়েছিলেন তিনি...।"

ও-ই না, তাহলে সর্বনাশ হয়ে যেত। কেরু কোম্পানি কলম পেষা কোন কাজের কাজ না! আমি ল পড়া শেষ করি নাই বিধায় জানি না ল অফিসারদের ফ্যাক্টরিতে কোন কাজ থাকে কি না? থাকলে, পাগলা পানির গন্ধ ভক করে নাকে এসে লাগত। ইশ রে, কী বিচ্ছিরি!


"২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে তার যোগদানের আগের-পরের অংশটুকু তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেছেন
পাঠক প্রতিটি সময়ের উত্তেজনা উপভোগ করবেন। তাকে নিয়ে বিএনপির বিতর্ক, আওয়ামী লীগের আশঙ্কা কোনো কিছুই তিনি এড়িয়ে যাননিবঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের উদ্যোগ নেয়ায় তাকে যে আওয়ামী লীগের প্রতি সহমর্মী হিসেবে বিএনপি অভিযোগ করেছিল, এ বিষয়েও তার পরিষ্কার ব্যাখ্যা আছে।"

তাই? সবই তো পেলুম, স্যার। তারপরও বুকটা কেমন যেন খালি খালি লাগছে, কি যেন, কি যেন পেলুম না! আচ্ছা কি পেলুম না? উ-ম-ম, চিন্তা জট পাকিয়ে যায় যে।
হুম-ম, বিচারপতি লতিফুর রহমান, কেমন করে ভুলি, স্যার, আপনার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ৮৭ দিনের কার্যাবলি?
আপনি তখনও ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি, জাস্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে; দেশের বিভিন্ন স্থানে কী যে অরাজকতাই না শুরু হলো! তা লিখলে আপনার লেখা
৩৪৪ পৃষ্ঠার এমন কয়েকটা ঢাউস বইয়ে কুলাবে না, আই বেট। টেলিভিশনে দেখতাম, আপনি টেবিলে বসে বসে আঙ্গুল দিয়ে তবলা বাজাবার ভঙ্গি করতেন আপনি টেবিলে তবলা বাজান, ওদিকে নিরীহ লোকজনের মৃত্যুর তবলা বাজে! আপনি স্যার, কোটের হাতা গুটিয়ে, হাত গুটিয়ে বসে রইলেন- কুটোটিও নাড়লেন না!

ফল ঘোষণার পর পরই, রাতারাতি নিরাপত্তায় নিয়োজিত সবাইকে আপনি নিষ্ক্রিয় করে দিলেন অথচ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব আপনারই ছিল
দেশব্যাপি অসংখ্য নিরীহ জ্যান্ত মানুষদের পুড়িয়ে মারা হলো, শিশুসহ, অন্য দলে ভোট দেয়ার অভিযোগেপ্রকারান্তরে এ খুনেরই নামান্তর। আমরা আজও জানি না এই খুনিদের কি বিচার হয়েছিল?

এই খুনগুলোর পরোক্ষ দায় কী স্যার
, আপনি বিচারপতি লতিফুর রহমানের উপর বর্তায় না, ছিটেফোঁটাও না? কেন বর্তাবে না স্যার, শুনি? আপনি তো তখনও ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি- আপনার মত বিচক্ষণ মানুষ এটা জানবেন না এও কী বিশ্বাসযোগ্য? নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতা এ তো কোন অজানা-অচেনা বিষয় না। আমার তো মনে হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এটাও প্রধান একটা কাজ, অতি গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ।

হায় আইন, একটা খুন করলে ফাঁসি হয় অথচ অসংখ্য খুনের পরোক্ষ দায় থেকে একজন মানুষ কেমন দিব্যি পার পেয়ে যান আবার ঘটা করে ঢাউস বইও লেখেন। সেই বইয়ে চমৎকার সব কথা পড়ে চোখে জল এসে যায়, পানিও শুকিয়ে যায় ("
আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য দিনে দুটি কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি এ সময় গৃহশিক্ষকতাও করেছেন")! আবার সেই বইয়ের চমৎকার রিভিউ ছাপা হয়, তেলতেলে সেই রিভিউ পড়ে কী-বোর্ড পিচ্ছিলও হয়ে গেছে বিধায় লেখা ক্ষান্ত দিলুম।

Tuesday, January 19, 2010

পাইপ-মানুষ!


সর্বজয়া (মা): "...মৃত্যু আসিয়াছে। ...কিন্তু তার ছেলের বেশে, তাকে আদর করিয়া আগু বাড়াইয়া লইতে...এতই সুন্দর...কি হাসি!...কি মিষ্টি হাসি!"

অপু (সন্তান)"...সর্বজয়ার মৃত্যুর পর কিছুকাল অপু এক অদ্ভুত মনোভাবের সংগে পরিচিত হইল। প্রথম অংশটা আনন্দ-মিশ্রিত- এমন কি মায়ের মৃত্যুসংবাদ প্রথম যখন সে তেলি-বাড়ির তারের খবরে জানিল, তখন প্রথমটা তাহার মনে একটা আনন্দ, একটা যেন মুক্তির নিঃশ্বাস...একটা বাঁধন-ছেঁড়ার উল্লাস...অতি অল্পক্ষণের জন্য- নিজের অজ্ঞাতসারে...।"
(অপরাজিত/ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়)

মার মৃত্যুর সংবাদে অপুর মধ্যে মুক্তির একটা উৎকট উল্লাস ক্ষণিকের জন্য বয়ে যায়। চোখের নিমিষে অপুর ভেতরের যে পশুটা বেরিয়ে এসেছে যাকে নিয়ে তার লজ্জার শেষ নেই, সত্রাসে সে পশুটিকে লাগাম পরাবার আপ্রাণ চেষ্টা করে।

কোথাও আমি লিখেছিলাম, আমাদের ভেতরে একটা শিশু এবং একটা পশু ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে। পশু বনাম শিশু। এদের মধ্যে হরদম মারামারি লেগেই আছে। কখন যে কে জেতবে এটা আগাম বলা মুশকিল। অবশ্য মহামানব-টহামানবদের কথা আলাদা! আমরা কখন এই পশুটির মুখোমুখি হবো, কেমন করে একে লাগাম পরাব কাগজে-কলমে এটা শেখানো যায় না- এর কোন মাস্টার নেই, মাস্টার মানুষটা নিজেই, ছাত্রও!
কখনও
কেউ পশুটার মুখোমুখি হয়ে হাল ছেড়ে দেয়- কেউ হতভম্ব, লজ্জিত, কেউ পাগল হয়ে যায়, কেউ-বা নিজের প্রাণই নস্ট করে ফেলে।
যারা সত্যিকার অর্থে মানুষের কল্যাণ চান তাঁদের আমৃত্যু চেষ্টা থাকে পশুটিকে শেকল পরাবার নানান কায়দা-কানুন বের করা। হরেক পদের শেকল- শিক্ষার, ধর্মের, পছন্দের মানুষ, তৎকালিন সমাজের চাপ ইত্যাদি।

একটি দৈনিকে (প্রথম আলো, ০২.০১.১০) যখন পড়ছিলাম, বয়স্কভাতা নির্বিকার ভঙ্গিতে নিয়ে গেছেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অনারারি ক্যাপ্টেন মো. আবুল হাশেম তখন সব কেমন গুলিয়ে যায়। মানুষটার বয়স ৬২, তিনি বয়স্কভাতা পেতেই পারেন এই তার যুক্তি। টাকার অংকটা হচ্ছে, ১৮০০ ছয় মাসের জন্য অর্থাৎ মাসে ৩০০ টাকা করে। কিন্তু এ জন্য সামান্য একজন চা-র দোকানদার আলফাজ উদ্দিনকে ফিরতে হয়েছে শূণ্য হাতে! এই অনারারি ক্যাপ্টেন সাহেবের তিনটা পাকা বাড়ি আছে, তার দুই ছেলে চাকরি করে জাহাজে।
তিনি সামান্য ৩০০ টাকার লোভ সামলাতে পারেননি, কেন? নাকি এটা বোঝার ক্ষমতাই অর্জন করতে পারেননি এত কাল ধরে, এতো শিখেও? সমস্যাটা কোথায়?

এখন আমার কেন যেন এই মানুষটার জন্য করূণা হচ্ছে, আহা, বেচারা, আহা- দোষ কী! মানুষটা যে একজন পাইপ-মানুষ! মানুষটা এসেছে লম্বা একটা পাইপ হয়ে, যার একপাশে মুখ অন্য ধারে পায়ু আর কিসসু নাই। এইসব পাইপমানুষের কীইবা করার আছে? ওদের ভেতরের পশুটা কালেভদ্রে উঁকি দেবে কী, দিব্যি কাঁধে সওয়ার হয়েই ছিল, আছে, থাকবে।

Monday, January 18, 2010

রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না

১.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ১৯৪২ সাল। সোবিবর ডেথ ক্যাম্পে ২৯ হাজার বন্দীকে হত্যা করা হয়, অধিকাংশকেই গ্যাস চেম্বারে। সেখানে স্বেচ্ছায় যোগ দিয়েছিলেন জন ইভান ডেমিয়ানইউর।
বছর যায়, পানি গড়ায়। জার্মানির লুদভিনাহাফন থেকে একটি সূত্র ধরে এই মানুষটিকে চিহ্নিত করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। এখন তার বয়স ৮৯।
জার্মানির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১২ মে বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স বিমানে করে
ইভান ডেমিয়ানইউরকে জার্মানির মিউনিখে পৌঁছে দেয়া হয়। তার বিচার শুরু হয়েছে।
অপরাধ প্রমাণিত হলে জার্মানীর যুদ্ধাপরাধ আইন অনুযায়ী এই মানুষটির বয়স বিবেচনা করে ১৫ বছর জেল হতে পারে।
এখন কথা হচ্ছে, এতো বছর পর এই বুড়া হাবড়াকে নিয়ে টানাটানি করা হচ্ছে কেন?
আদালতের ১৫০টি আসনের কোনটাই ফাঁকা থাকে না! একে আদালতে হাজিরা দিতে হয় হুইল চেয়ারে বসে, গোটা একটা প্লেন লেগেছে একে পৌছে দিতে।
এতো যন্ত্রণারই প্রয়োজন কী?

২.
৮০ বছর বয়স্ক পল ত্যুভিয়েরএকজন নাৎসি দালাল তিনি ২য় মহাযুদ্ধের সময় হত্যার উদ্দেশ্যেজন ইহুদীকে গেষ্টাপো বাহিনীর হাতে তুলে দেনওইজন ইহুদী আর কোন দিন ফিরে আসেননি! তিনি সাবেক ভিচি সরকারের গোয়েন্দা প্রধান ছিলেনপল ত্যুভিয়েরের মতো যারা স্থানীয় দালাল সহযোগী ছিলেন তাদের সাধারণভাবে যুদ্ধের পর ছাটাই করে রেহাই দেয়া হয়!
কিন্তু
, ১৯৭১ সালে মারশেখ ওপউলস-এর 'লা শাগ্রিন লা পিতি' মুভিটি দেখে ফরাসীরা উপলব্ধি করে যে, ফরাসীদের অনেক লজ্জাকর ইতিহাস রয়েছে! জনগণ ওই সব তথ্য ঢেক রাখার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, কিন্তু ১৯৭২ সালে জানা যায় যে, দালাল ত্যুবিয়েরকে প্রেসিডেন্ট ক্ষমা করে দিয়েছিলেন!

বছর পর, মার্কিন ঐতিহাসিক রবার্ট প্যাক্সটনের বই 'ভিচি ফ্রান্স ওল্ড পার্ড এন্ড নিউ অর্ডার' পড়ে ছাত্ররা জানতে পারে, গোটা এক প্রজন্মের ইতিহাস! জানতে পারে যে, নাৎসীদের অপরাধের সঙ্গে কিছুসংখ্যক ফরাসীও অন্যায়ের সঙ্গে কতটা তীব্র ভাবে জড়িত ছিলবিশেষ করে নিহত ইহুদীদের সন্তান-সন্ততিদের কাছে সত্যটা লুকিয়ে রাখা হয়েছে এতাদিন! সের্গেই কার্সফেল্ড সিদ্ধান্ত নিলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারহোক ৫০ বছর পর! (লা মদ) 

একটি ফরাসী আদালত এই মর্মে রুল জারী করেন, পল ত্যুভিয়ের-এর বিরুদ্ধে নাৎসী দালালের বিচার করা যাবেওই আদালত আরও বলেন: এই রুলিং, যুদ্ধাপরাধের ময়সীমা পার হয়ে গেছে বলে ত্যুভিয়েরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা যাবে না বলে নিম্ন আদালতের যে রায় দিয়েছে তা নাকচ করা হলোআদালত আরও নির্দেশ দেন, মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য ত্যুভিয়েরের বিচার হবে, এই অপরাধের বিচারের কোন সময়সীমা নেই! (দ্য গার্ডিয়ান উইকলি/ ১৩ জুন ১৯৯৩)
এখানে যে জরুরি বিষয়টি উঠে এসেছে, অন্যায়ের বিচার হতে সময় কোন বাধা না। অন্যায়কারিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে তা যতো দেরিই হোক।

৩.
১ম বিশ্বযুদ্ধ১ম বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন কিছু সেনা, পালিয়ে যাওয়ার পেছনে তাঁদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য, যুক্তি ছিল পরে ভীরু কাপুরুষ নামে অভিহিত করে এসব সেনাদের ধরে এনে গুলি করে হত্যা করা হয়কারণ দেখানো হয়, এটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ! সেন্ট্রাল ইংল্যান্ডের স্ট্যানফোর্ডসায়ারের ন্যাশনাল মেমোরিয়াল আরবোরেটামে এঁদের সমাধিস্থল আছে দীর্ঘদিন ধরে এসব সেনাদের আত্মীয়স্বজনরা, নাতিপুতিরা জোর তদ্বির করে আসছিলেন এটা প্রতিষ্ঠিত করতে, ওইসব সেনারা কোন ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেননিঅগাস্ট ০৬ বৃটিশ সরকার ঘোষণা করেছে তাদের অপরাধ ক্ষমার যোগ্য! 

সেই কবেকার প্রথম বিশ্বযুদ্ধ! ওইসব সেনাদের নাতিপুতিরা বছরের পর বছর ধরে এই লড়াইটা চালিয়ে গেছেন, এতো বছর পর এই সেনারা নির্দোষ প্রমাণিত হলে কী হয়? বিষয়টা এখানেই। বছরের পর বছর ধরে রক্তের দাগ বয়ে বেড়ানো কোন কাজের কাজ না। 

আমি মনে করি, ঘুষখোরকে ঘুষখোর বলা হবেসে ঘুষের পয়সায় কোটি টাকা দামের পোরসে হাঁকায়, না ঠেলাভ্যান; তাতে কি! আজকাল ঘুষখোরদের নিয় কোন উচ্চবাচ্য নাই। বটে রে, কেউ সেধে ঘুষ দেয় না- এদের হাতেও লেগে থাকে রক্ত! সামান্য একজন চাকুরে একেকজনের ঢাকায় কয়েকটা বাড়ি; কেউ জানতে চাচ্ছে না, কোন আলাদিনের চেরাগ তার হাতেঅবলীলায় আমরা তাদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করছি, দিনে চৌদ্দবার সেলাম ঠুকছি! সত্যটা হচ্ছে, আজ থেকে ১০০ বছর পরও সে যে ঘুষখোর এটা বদলে যাচ্ছে না, ১৪ বার হজ করে আসলেও! নিজের শ্বশুর হলেও! 

গোলাম আজম দেশ চাননি, দেশের প্রতি যতো ধরনের অন্যায় করা সম্ভব, করেছেন তাঁর সঙ্গে কে উঠবস করেন, কে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন, তিনি কয়বার হজ করলেন, তাতে কি আসে যায়, সত্যটা তো আর পালটে যাচ্ছে না! 

অভিযুক্ত খুনি (প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ), তিনি পত্রিকা বের করলেন নাকি খেলার মাঠ দিলেন তাতে কী আসে যায়! জানি জানি অনেকে বলবেন, আদালতের রায় তো এখনও বের হয়নি। বেশ-বেশ, হাতের রক্তের দাগ মুছে না-যাওয়া পর্যন্ত অন্তত তার প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে দিতে তো কোন সমস্যা নেই। 

রাজাকারকে রাজাকার বলব, ছড়াকার না। কে তাকে কোলের বসিয়ে চুমু খেল, কে তাদের মেয়েকে বিয়ের নামে তাদের বিছানায় তুলে দিল তাতে কী আসে যায়! 
৩৯
বছর কেন, ৩৯০ বছর পরও সত্যটা এটাই থাকবে, যতো বিকৃত করা হউক না কেন, রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না! আমরা ঘুষখোরকে ঘুষখোর- সুদখোরকে সুদখোর- রাজাকারকে রাজাকার- খুনিকে খুনি- গুখোরকে গুখোর- সাদাকে সাদা- কালোকে কালো, বলবই!

*ছবি স্বত্ব: শম্ভু সেনগুপ্ত, আগরতলা
, সংগ্রহে: দুলাল ঘোষ