Sunday, December 12, 2010

তথাকথিত পাগলের ডাক্তার

এই স্বাস্থ্য পত্রিকাটি দেখে আমি যারপর নাই মুগ্ধ! দেখেই মুগ্ধ, আপাতত পড়তে চাচ্ছি না। সমস্যা অন্যখানে, মুগ্ধতা চুইয়ে দেশে অকাল বন্য হয়ে যেতে পারে এই ভয়ে আপাতত পড়ার আগ্রহ দমিয়ে রেখেছি।
এদের বক্তব্য হচ্ছে, এটা নাকি বাংলা ভাষায় প্রথম মানসিক স্বাস্থ্য পত্রিকা! ভাল! এই বিষয়ে যারা দ্বিতীয় তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন তারা আমার চেয়ে ভাল বলতে পারবেন।
পত্রিকার প্রচ্ছদে যে রোগীর ছবি ছাপা হয়েছে তিনি কি দন্ত রোগী নাকি মৃগীরোগী? চর্মরোগী বা আলঝেইমারসের রোগীও হতে পারেন। ওনার কি এনজিওগ্রাম করা হবে নাকি আনপ্ল্যান্ড প্রেগনেন্সির কোন চক্কর আছে? এই পত্রিকার সম্পাদক 'পরফেসর' ফিরোজ সাহেব এটা ভাল বলতে পারবেন কোন রোগে আক্রান্ত এই রোগীর মুখাবয়ব এখানে?

ওহো, বলতে ভুলে গেছি এই স্বাস্থ্য পত্রিকাটির সম্পাদক হচ্ছেন অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ। পত্রিকাটির তথ্য মতে, বাংলাদেশ সরকার নাকি এই 'পরফেসর' সাহেবকে এই পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার যে 'মনোজগত' নামের এমন একটা পত্রিকা চালায় আবার সরকার সেই পত্রিকার সম্পাদককে মনোয়নও দেয় এটাই কী আর আমি জানতাম ছাই! বয়স বাড়ছে, মেঘে মেঘে বেলা বয়ে যায়। বুকের গহীন থেকে হাহাকার বেরিয়ে আসে, কত অজানা রে...। পরফেসর ফিরোজ সাহেবদের মত কর্মবীরদের কথা না-জেনে মরে যাওয়াটা কোন কাজের কাজ না। 
এই সংখ্যায় প্রচ্ছদ রচনার নামে একটি লেখা লিখেছেন একজন। তিনি হচ্ছেন, মানসিক রোগ শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা ও জনসচেতনতায় পথিকৃৎ বাংলাদেশের বিশিষ্ট মনোশিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী, মনোসাহিত্যিক ও মনোচিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ। আবার তিনি এই পত্রিকার সম্পাদকও! নিজের সম্পাদিত পত্রিকায় নিজেই লিখছেন, টাইটেলের ভারে সোজা হয়ে আপ্রাণ চেষ্টায় ঢোলটা পেটাতে পেটাতে ফাটিয়েও ফেলছেন, ভদ্রলোকের কত্তো-কত্তো কাজ!
এই কর্মবীরের জন্য গোটা জাতি গর্ভিত! (আমার লিখতে গিয়ে বানান ভুল হয় সেজন্য আগেভাগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। প্রবল আশা, অন্তত ৩ টাকা দামের কলমবাজ মনে করে মার্জনা করবেন।)

 'মনোজগত সেন্টার' নামের এই বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা কেন্দ্রও কি সরকার চালান? বেশ-বেশ! ভাল কথা, 'পরফেসর' ফিরোজ সাহেব কি মনোজগত সেন্টারে সরকারের বেতনভুক্ত কর্মচারী? তা ডাক্তার সাহেবের ফি ৮০০ টাকা কেন? সরকারী চিকিৎসালয়ের ফি এত হবে কেন?
ওয়াল্লা, এখানে লেখা আছে দেখছি, 'পরফেসর' ফিরোজ সাহেব "তথাকথিত পাগল"-এর চিকিৎসা করেন? তথাকথিত পাগল? এটা কী জিনিস আবার? আর 'পরফেসর' ফিরোজ সাহেব কি তথাকথিত পাগলের ডাক্তার? নিজেই পাগলের চিকিৎসা করেন, নাকি নিজেই...?   

3 comments:

Kabir said...

Akjon Doctor ke nia leke valo koren ni

।আলী মাহমেদ। said...

তাই বুঝি, আপনার এমনটা মনে হচ্ছে!
কেন, একজন ডাক্তারকে নিয়ে লেখা যাবে না কেন? কে বলেছে আপনাকে একজন ডাক্তার হলেই তিনি ফেরেশতা হয়ে যান, কে বলেছে আপনাকে একজন ডাক্তার হলেই তিনি পাগল হতে পারেন না? আ মীন, তথাকথিত পাগল! @Kabir

Anonymous said...

একজন ডা. কে নিয়ে লিখে ভাল করেননি। আপনি নিজেও কি একজন ডা. ? এভাবে না বলে লেখায় কোন ভুল বিষয় উপস্থাপন করা হয়ে থাকলে সেটা যুক্তি দিয়ে তুলে ধরুন। বাংলাদেশে যে কয়েকটি বিভাগে সবচেয়ে বেশী দূর্নীতি হয়ে থাকে তার মধ্যে চিকিৎসাখাত অন্যতম। মফস্বলের সরকারী হাসপাতালগুলিতে সব দিন ডা. পাওয়া যায় না। ডাক্তাররা প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখতে ব্যস্ত। যদিও পাওয়া যায় ডাক্তাররা দিব্যি রোগীদের কাছ থেকে ফি নিয়ে সরকারী হাসপাতালে বসে রোগী দেখেন। তারপর তিনি নির্দিষ্ট কোম্পানীর ওষুধ রোগীকে লিখে দেবেন কারণ ঐ কোম্পানীর প্রতিনিধির সাথে ডাক্তারের বিশেষ খাতির রয়েছে। তার উপর রয়েছে টেস্ট এর ঝামেলা। রোগীকে একগাদা টেস্ট লিখে দেবেন। তাও করাতে হবে বিশেষ কোন ক্লিনিক থেকে যার সাথে ঐ ডা. চুক্তিবদ্ধ। এতসব সহ্য করার মত অবস্থা রোগীর থাকলে ভাল নতুবা উপরে ঈশ্বরতো বসে আছেনই। তারপরও ব্যতীক্রম যে একে বারেই নাই এমন না। অনেক হৃদয়বান ডা. রয়েছেন এ মহত পেশাতে। কিন্তু এদের সংখ্যা খুবই নগণ্য।