Tuesday, September 28, 2010

তাহারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিল

পাবনার ডিসি সাহেব বলেছেন, "...তিনি বা অন্য কর্মকর্তারা কাঁদেননি বা কারও সহযোগিতাও চাননি...।"

"বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর সংস্থাপন ও প্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের কাছে বলেন, জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, তাঁরা কাঁদেননি। বৈঠকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগও করেন তিনি। ...তিনি (আরও) বলেন, জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। তাঁদের কাছে অনেক মানুষই আবদার নিয়ে আসেন। আবদার রক্ষার জন্য তিনি তার লোকজনকে চাকরি দিতেই চাইবেন...।" [১] (প্রথম আলো/ ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১০)

ইতিপূর্বে আমি যে লেখাটা লিখেছিলাম [২] তা এখন মূল্যহীন! কারণ ওখানে আমি লিখেছিলাম, "...প্রশাসনের কান্না আমাকে স্পর্শ করছে না।...There was no one left to speak for me. এইসব হাবিজাবি"। এরা যখন কান্নাই করেননি তখন লেখার মূল ভাবটাই অথর্হীন হয়ে পড়েছে। লেখাটা ডিলিট করা প্রয়োজন। অবশ্য আমার সমস্ত লেখালেখিই মূল্যহীন-গার্বেজ। থাকুন আবর্জনা আবর্জনার জায়গায়। মুছে লাভ নাই, কত আবর্জনা পরিষ্কার করব!

দৈনিক ইত্তেফাক, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১
সৌজন্যে: প্রথম আলো, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১০
দৈনিক সমকাল, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১০
আমি মিডিয়ার প্রতি বিষোদগার করি। এরা আমাদেরকে কেন এমন বিভ্রান্ত করলেন, কেনু-কেনু-কেনু? তাহলে এই সব ছবিগুলো কি ফটোশপের কাজ, নাকি আধুনিক ক্যামেরাগুলোতে পেয়াজের রস ছুঁড়ে দেয়ার কোন পদ্ধতি আছে? কি জানি, এই গ্রহের কটা খবরই বা আমি জানি!

কোন একটা রাশিয়ান গল্পে পড়েছিলাম, "মরদও কাঁদে তবে সময়মতো মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারাটাই আসল কথা"।
আর আমার বাংলা গল্প হচ্ছে, 'মরদদের কাঁদতে নেই। কিন্তু কাঁদলে মরদের মতই স্বীকার যেতে হয়, কেঁদেছি, বেশ করেছি'।

আকালের দেশে পুরুষ আছে কিন্তু মরদ কোথায়! স্মৃতি থেকে লিখছি, সম্ভবত বছর পনেরো হবে। তখন ইউএনওকে টিএনও বলা হতো। তো, এক মন্ত্রী বাহাদুর রাজনৈতিক সভা করার জন্য যেদিন টিএনওর গাড়ি চাইলেন সেদিনই টিএনও-এর ওই গাড়ি টিকাদান কর্মসূচির জন্য ঠিক করা ছিল। বিনীত ভঙ্গিতে টিএনও মন্ত্রী বাহাদুরকে এটা বলার পর মন্ত্রী বাহাদুর ক্ষেপে গিয়েছিলেন, 'টিকাদান কর্মসূচি বড়ো না আমার অনুষ্ঠান'? তারপরও টিএনও অপারগতা প্রকাশ করলে মন্ত্রী বাহাদুর আরও ক্ষেপে গিয়ে বললেন, 'খাগড়াছড়ি বদলি হয়ে যাবেন'।
টিএনও সাহেব শান্ত গলায় বলেছিলেন, 'স্যার, এই দেশের যে কোন জায়গায় চাকরি করতে আমি বাধ্য। খাগড়াছড়ি তো এই দেশেই, আমার কোন সমস্যা নেই'। মন্ত্রী বাহাদুর শীতল।
পরদিন এই খবরটাই সম্ভবত ভোরের কাগজের একস্লিপে চলে এলো। খবরটা দেশময় নিমিষেই ছড়িয়ে পড়ল। তখন মন্ত্রী বাহাদুর অতি শীতল!
তো, যেটা বলছিলাম, এখন এই দেশে মরদ কোথায়!

এখন এই দেশে সবই সম্ভব, সবই পাওয়া যায়। আমার একটা লেখার চরিত্রের খুব ইচ্ছা ছিল, তিমি মাছের ঝোল খাওয়ার। বেচারা, খেতে পারেনি। এখন আমি জোরের সঙ্গে বলতে পারি, চরিত্রটা এই সময়ে থাকলে তিমি মাছের ঝোল কেন বাঘের দুধের পায়েসও খেতে পারত। এখন সবই সম্ভব।
যাগগে, ডিসি সাহেব এবং অন্যরা যখন কাঁদেননি তখন এই নিয়ে কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। এটা মিডিয়ার কারসাজি, পেয়াজের রস।

বালকবেলায় যখন ছায়াছবি দেখতাম অতি আনন্দ হতো সেইসব ছবি দেখে যেসব ছবিতে নায়ক নায়িকাকে পেয়ে যেত বা নায়িকা নায়ককে। পয়সা খরচ করে কে যায় একগাদা দুঃখ কেনার জন্যে। আজ আবারও বালকবেলার কথা মনে পড়ে গেল, এইচ টি ইমাম সাহেবের বক্তব্যে। কী চমৎকার সমাধান!
"সবাই সুখের সাগরে ভাসিতে চাহিল, 
নৌকার পালে হাওয়া লাগিল।"
আমি অপেক্ষায় আছি, সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক খন্দকার মহোদয়কে পূর্ণ মন্ত্রী হিসাবে দেখতে এবং এসপি সাহেবকে আই,জি রূপে। 

খোদা-না-খাস্তা, মিডিয়ার ছবিগুলো যদি সত্য হয় তাহলে সেটা হবে এই গ্রহের অতি বিচিত্র এক ঘটনা। হিন্দি ছবিকে হার মানিয়ে দেবে কারণ এ অভূতপূর্ব! হিন্দি ছবিতে আমরা দেখি না ছোটবেলায় যমজ ভাই মেলায় হারিয়ে যায় ইত্যাদি ইত্যাদি।
হয়তো ডিসি সাহেব আসলে একজন না, দুজন কিন্তু যমজ ভাই। বাল্যকালে মেলায় হারিয়ে গিয়েছিলেন। হতে পারে না এমনটা, বেশ পারে। তাই তো এক ভাই কেঁদেছেন, অন্য ভাই কাঁদেননি। সিম্পল! কিন্তু দুই যমজ ভাই আবার একই জেলার ডিসি! ধুর, আমার সব কেমন জট পাকিয়ে যাচ্ছে, এটা কেমন করে হয়? আমার বুদ্ধিশুদ্ধির উপর আমার নিজেরই ভরসা নাই। ভেবে ভেবে এর সমাধান বের করতে পারব এমন আস্থা নিজের উপর নাই। পাঠকদের অনেক বুদ্ধি, এঁরা ভেবে ভেবে বার করুন ততক্ষণে আমি ঘু - মা - ই...।

....
পরিশিষ্ট: স্বর্গ-নরকের মাঝামাঝি একটা জায়গা আছে। নামটা ভুলে গেছি! তো, ওই মাঝামাঝি জায়গায় যিনি ঝুলে থাকেন তার চেয়ে অভাগা আর কেউ নাই। লেখাটা লেখার পরের দিন জানলাম, এই ডিসি সাহেবকে বদলি করে দেয়া হয়েছে। মাথাব্যথার জন্য পেইন-কিলার খেয়ে লাভ নাই, মাথা কেটে ফেলাই উত্তম। 'না রাহেগি বাঁস, না রাহেগি বাঁসরি'- বাঁশও নাই বাঁশীও নাই- আম গেল, ছালাও!

সহায়ক লিংক:
১. প্রথম আলো: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=1&date=2010-09-28
২. সুদৃশ্য কফিনের পেরেকগুলো: http://www.ali-mahmed.com/2010/09/blog-post_5190.html
৩. ইত্তেফাক: http://ittefaq.com.bd/content/2010/09/24/news0187.htm
৪. ফোকাস বাংলা: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=1&date=2010-09-24
সমকাল: http://www.samakal.com.bd/details.php?news=13&view=archiev&y=2010&m=09&d=24&action=main&option=single&news_id=94729&pub_no=464

6 comments:

shaer said...

Excellent writing style. Rich thought! I am becoming a fan of yours :)

Shaer.

।আলী মাহমেদ। said...

অনেক ধন্যবাদ আপনার চমৎকার মন্তব্যের জন্য।

আমার লেখা আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমারও ভাল লাগছে। মনটা অন্য রকম হয়। :) @shaer

Anonymous said...

It’s really a nice and helpful piece of information. I’m glad that you shared this helpful info with us. Please keep us informed like this. Thanks for sharing.

।আলী মাহমেদ। said...

আপনাকেও পড়ার জন্য ধন্যবাদ। @Anonymous

Anonymous said...

My cousin recommended this blog and she was totally right keep up the fantastic work!

Anonymous said...

Thank you, I have recently been searching for information about this topic for ages and yours is the best I have discovered so far.