Monday, June 7, 2010

আপনারা ধন্যবাদার্হ, তবে...

আমি পূর্বের পোস্টে লিখেছিলাম [১],
"...পত্রিকায় পড়লাম, মুসার সঙ্গে তার সহযোদ্ধা তিন শেরপা এসেছেন। আমি অনেক সুখি হতাম এখানে আনিসুল হকের চাঁদবদন দেখার চেয়ে মুসার সঙ্গে ওই তিন শেরপার ছবি দেখলে। এবং তাঁরা নাকি এই দেশে প্রথমবারের মত এসেছেন...।"  

আমার এই গোপন ইচ্ছাটা পূরণ হয়েছে। মুসা ইব্রাহিমের সঙ্গে এঁদের সম্মানিত করা হয়েছে, পত্রিকায় ছবি এসেছে। কারণ এই শেরপারাই মুসাকে বুক দিয়ে আগলে রেখেছিলেন। এরা হচ্ছেন 'দুধ-মা'। কেবল অর্থ পরিশোধ করলেই যেমন দুধ-মার দুধের মূল্য পরিশোধ করা যায় না তেমনি একজন শেরপারও। এই জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, প্রথম আলোকে। মুসার পাশে এঁদেরকেই দেখতে ভালো লাগছে। যাক, এই পত্রিকার লোকজনরা তাঁদের জমাট মস্তিষ্ক ব্যবহার করছেন বলে আরেকটা ধন্যবাদ পাওনা হন।

হা ঈশ্বর, এখানেও আনিসুল হক স্যারের চাঁদবদন-দন্তবদন দেখছি! জানি-জানি, আমাকে বলা হবে তিনি আলপাইন ক্লাবের হোমড়াচোমড়া। কারণ এটা আমরা ইতিপূর্বে ওঁর লেখা পড়ে জেনেছি। ২৬ মে, ২০১০-এ তিনি নিজের পত্রিকায় (!) লিখেছেন,
"...আবার ফোন দেই মুসাকে। 
মুসা বলেন, মিটুন দা, আপনি কাঠমান্ডুতে এসেছেন?
(আনিসুল হক) আরে আমি নর্থ আলপাইন ক্লাবের সভাপতি না..."? 

আচ্ছা, তাহলে ঘটনা এই! আনিসুল হক যেভাবে মুসা ইব্রাহিমকে কোলে করে হিমালয় থেকে নামিয়ে নিয়ে আসার ভঙ্গি করলেন এটা কি আলপাইন ক্লাবের পক্ষ থেকে? এখানে তাহলে প্রথম আলো জড়িত থাকার বিষয় ছিল না, না? জেনে ভাল লাগছে। 
কিন্তু আনিসুল হকের চেহারা মোবারক দেখাবার সাধ দেখে মনে হয়, আনিসুল হকের কি নিজের বইয়ের বিজ্ঞাপন নিজে দিয়েও [২] জনপ্রিয়তায় টান পড়েছে? সব জায়গায় মুসাকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার না করে চলছে না, না? তিনি যে চৌর্যবৃত্তি [৩] করলেন। এটা আবার স্বীকার করার ক্লেশ নিলেন না [৪] এটাও কি আলপাইনের জন্য? আহা, ক্লাবের জন্য কী মায়া গো! এই ক্লাবের উচিৎ তাঁকে মাথায় তুলে না রেখে কেল্লায় তুলে রাখা।

শুনতে পাই, এভারেস্ট অভিযানের কারণে বাজারে মুসার অনেক দেনা। হয়তো নিরুপায় তাঁকে কোন এক বিজ্ঞাপন সংস্থার কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে। গ্রামীন ফোন ব্যতীত অন্যত্র আর উপায় কী! 
আমি প্রায় নিশ্চিত, আনিসুল হক কোন-না-কোন প্রকারে সেখানেও ঢুকে পড়বেন, দাঁতসহ। আলাদা একটা গাম্ভীর্য নিয়ে বলবেন, আমি যে এভারেস্ট থেকে মুসা ইব্রাহিমক নামিয়ে আনলাম, ওখানে কিন্তু গ্রামীন ফোনের নেটওয়ার্ক ছিল না কিন্তু প্রথম সাক্ষাৎকারটা আমি (তিনি যে চৌর্যবৃত্তি করেছেন এটা তখন আমরাও বিস্মৃত হবো) নেই গ্রামীন ফোনের লোগো সম্বলিত সেট দিয়ে। হাসি, দন্তসহ। 'আপনারও গ্রামীনের এই ছেট উজ করুইন'।

অবশ্য এই ছবিটায় অন্তত একটা কারণে তিনি ধন্যবাদ পেতে পারেন এভারেস্ট জয়ী মুসার মত নিজেকে সাজাবার চেষ্টা করেননি। আনিসুল হক নামের মানুষটার খানিকটা হলেও লাজ অবশিষ্ট আছে দেখে ভাল লাগছে। 
তবে কারও পতি, নাকি সভাপতি সেটা পরের কথা অন্তত নিজের পত্রিকায় (!) এই ছবিটা না ছাপালেই শোভন হতো। কেন? সব কেন-এর উত্তর দেয়াটা বড়ো মুশকিল।

আনিসুল হক, তিনি কত্তো বড়ো লেখক, তাঁর নামে তাঁরই পত্রিকায় (!) তাঁকে নিয়ে যেদিন এই বিজ্ঞাপনটা গেল:
কবি-উপন্যাসিক-গদ্যকার্টুনিস্ট-কলাম লেখক-সাংবাদিক-প্রকৌশলী ও সদ্য আমেরিকা ফেরত সেদিন থেকেই আমি তাঁর কঠিন একজন ভক্ত। 'সদ্য আমেরিকা ফেরত', এটাও তাহলে একটা টাইটেল? বাহ, বেশ তো! তিনি তো আবার নিজের বিজ্ঞাপন নিজেই দিতে খুব আরাম বোধ করেন। এইবার এর সঙ্গে 'এভারেস্ট ফেরত' এই শব্দটা লাগাবার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।

আমাদের উচিৎ এমন একজন মানুষের আচরণগুলো অনুকরণ করা। সাধারণ আমাদের পক্ষে পারা যায় না, বুঝলেন- সাধারণ মানুষ করবে সাধারণ কাজ। 
বাচ্চাদের আঁকাআঁকির একটা অনুষ্ঠানে [৫] আমাকে যখন বলা হলো বিচারকের দায়িত্বে থাকার জন্য; মূল উদ্যোক্তা হওয়া সত্বেও আমি অনাগ্রহ প্রকাশ করলাম কারণ এই অনুষ্ঠানে স্কুলের নির্বাচনে আমার সন্তানও অংশগ্রহন করেছিল। কেউ আটকাতো না কিন্তু আমার বিবেচনায় এটাই মনে হয়েছিল: আমার বিচারক থাকাটা দৃষ্টিকটু, অশোভন, অন্যায় হয়।
আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সাধারণ ভাবনা, আনিসুল হকের মত 'প্রথম বিবেক' নামের মানুষগুলো তাঁদের অসাধারণ ভাবনাগুলো নিয়ে বিবেকের কলসি কাঁধে নিয়ে নৃত্য করতে থাকুন! তবে অনুরোধ গায়ে কাপড়-চোপড় রাখবেন, এটা খুব জরুরী, বয়স্ক একজন মানুষকে নগ্ন দেখতে ভালো লাগে না।

*ছবিঋণ: প্রথম আলো

সহায়ক লিংক:
১. আমাগো ছাওয়াল: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_03.html 
২. বিজ্ঞাপন: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_07.html 
৩. চৌর্যবৃত্তি: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_27.html
৩. চৌর্যবৃত্তি অ-স্বীকারোক্তি: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_29.html 
৫. স্বপ্ন, তিন: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_4596.html 

No comments: