Saturday, April 10, 2010

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়: নিজের চামড়া নিজের, না?

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় দৈনিক কালের কন্ঠের (০৯.০৪.১০) শিলালিপিতে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
”...আমি একটা জিনিসই ভয় পাই, সেটা হচ্ছে ধর্মীয় সমালোচনা। আমার মনের মধ্যে ধর্ম সম্পর্কে অনেক বক্তব্য আছে। কিন্তু সব সময় এটা লিখে প্রকাশ করি না। তার কারণ হচ্ছে, আমি একটা জিনিসকে খুব ঘৃণা করি- দাঙ্গা। আমার লেখার কারণে যদি কোন দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি হয়, তবে আমাকে আত্মহত্যা করতে হবে। আমি চাই না আমার লেখার কারণে একটাও নিরীহ প্রাণ নষ্ট হোক...”।
 

অতি মানবিক কথা- একজন বড় মাপের লেখকের যথার্থ ভাবনা। আমি নতজানু হই। কবির কাছে নীলপদ্মের অভাব নাই তবুও কবি আমি আপনাকে দিলাম আমাদের দেশি সমস্ত পদ্ম।
কিন্তু একটা কিন্তু...সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, দাদা, আপনি হয়তো এখন বয়সের কারণে বিস্মৃত হয়েছেন,
আমরা কিন্তু ভুলিনি। আপনারা তসলিমা নাসরিনের ’লজ্জা’ বইটা নিয়ে বেদম নাচানাচি করেছিলেন, ভুলে গেছেন? দাদা, বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, তসলিমা নাসরিনের ’লজ্জা’ বইটা কি পাতে দেয়ার মত? 
তাহলে? আপনারা এই বইটা নিয়ে যে উচ্ছ্বাস দেখিয়েছেন এমন সৌভাগ্য কি খোদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কপালেও জুটেছিল? ’লজ্জা’ বইটা নিয়ে আপনারা কারা কারা প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন এটা না বলে কারা কারা এই দলে ছিলেন না এটা বললে সহজ হয়!
 

এই কাজটা আপনারা করেছেন জেনেশুনে। আনন্দবাজার গং, এই অতি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানটি অর্থের জন্য যা করেছে তা মাংস কেটে নেয়ে ইহুদি বেনিয়াকেও ছাড়িয়ে গেছে। যতটুকু জানি আনন্দবাজার গং, এদের সঙ্গে আপনি জড়াজড়ি করে আছেন, আপনার বড়ো গলায় গলায় ভাব।
আপনি বলবেন আমিই তো এখানকার একমাত্র অথরটি না। বেশ, কিন্তু আপনি কি প্রতিবাদ করেছিলেন, দাদা? আটকাবার প্রচেষ্টা কি ছিল আপনার? প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষ দায় কি আপনি এড়াতে পারেন?  না, পারেন না।

আপনাকে কি আমি সবিনয়ে গোল্ডা মায়ারের সেই বিখ্যাত কথাটা মনে করিয়ে দেব, "কাউকে নিজ হাতে হত্যা করা এবং হত্যা করার জন্য মদদ-সিদ্ধান্ত দেয়ার মধ্যে কোন তফাত নাই"।

বাবরী মসজিদ ইস্যুতে যখন দুই দেশ উত্তাল ঠিক এমন একটা সময়ে আপনারা দাদারা ভারতে তসলিমা নাসরিন ’লজ্জা’ বইটা প্রকাশ করলেন। একজন লেখকের হাতের কলম শত-শত মারণাস্ত্রেও চেয়ে শক্তিশালী এর নমুনা আমরা দেখলাম তসলিমার কল্যাণে! তসলিমার হাতের সাধারণ অস্ত্রটা ভয়াবহ এক অস্ত্রে পরিণত হল আপনাদের, আনন্দবাজার গংদের বদৌলতে। 

আনন্দবাজার তসলিমাকে ঘটা করে পুরষ্কার দিল। আনন্দবাজার গং তসলিমার 'লজ্জা' বইটা ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করল। এর পেছনে আনন্দবাজার গং এমন মেধা খরচ করল যে সেই বইটার লক্ষ-লক্ষ কপি বিক্রি হলো। চারদিকে আগুন লেগেই ছিল বইটা প্রকাশ করে কেবল আগুনটা উসকে দেয়ার অপেক্ষায় ছিল। 
"কংগ্রেসের গৌহাটি সম্মেলনের প্রতিবেদনে তসলিমা নাসরিনের 'লজ্জা' বইটার বিবরণ পাতার পর পাতা জুড়ে দেয়া হলো। যা অভূতপূর্ব! বিজেপি দিল্লির লালালাজ শহরে তসলিমার ছবি বিলবোর্ড আকারে ঝুলিয়ে দিল"। (আহমদ ছফা) 
ঝাসির বদলে বাঙ্গাল কী রানি!।

আপনারা এই সব কেন করলেন? আমাদের দেশে গুরুতর অন্যায় হয়েছে এটার জন্যই তো? হ্যাঁ, আমরা গভীর বেদনার সঙ্গে বলি, বিনম্র লজ্জায় বলি, আমাদের দেশে তখন গুরুতর না, ভয়াবহসব অন্যায় হয়েছিল। অন্য দেশের একটা ভয়ংকর অন্যায়ের কারণে কেন বাংলাদেশের মন্দিরের একটা ইটও খুলে ফেলা হবে এ প্রশ্ন আমাদেরও। 

একটা উদাহরণই যথেষ্ঠ, তখন কক্সবাজারে আগুনে পুড়িয়ে ছয়টি শিশুকে জীবন্ত অগ্নিদগ্ধ করা হয়েছিল শিশুগুলো হিন্দু ছিল এ অপরাধে। তৎকালীন সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল এই অন্যায়গুলো রোধ করতে। প্রকৃতি যেমন শোধ নেয় তেমনি জনগণও হয়তো এর শোধ নিয়েছে। আমি অভিশাপ দেই, এই অন্যায় নরক অবধি তাড়া করুক এদের।

কিন্তু দাদা, আমি আমাদের অপরাধ লাঘব করতে চাচ্ছি না, কেবল আপনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি, আপনাদের দেশে কি মুসলমানদেরকেও কচুকাটা করা হয়নি? আপনারা না বলে আমাদের চেয়ে বহু বছর এগিয়ে আছেন সমঅধিকার, সহনশীলতা, গণতন্ত্র এই সব বিষয়ে।  তাহলে? আপনারা কী করলেন!

আচ্ছা, আপনারা যে ঈদের জামাতে শুয়োরের পাল ছেড়ে দিয়েছিলেন কাজটা কি ঠিক হয়েছিল, দাদা? আপনাকে নিশ্চয়ই মনে করিয়ে দিতে হবে না শুয়োর জিনিসটা যেখানে মুসলমানরা দু-চোক্ষে দেখতে পারে না সেখানে তাদের প্রার্থনা করার সময় আপনারা শুয়োরের পাল ছেড়ে দেবেন, এই কাজটা কেমন হলো, দাদা! 

তসলিমা নাসরিনের ’লজ্জা’ নামের আবর্জনা কতটা সাহিত্যের কাতারে পড়ে সেটা এখন আমার আলোচ্য বিষয় না, তিনি একজন লেখক হয়েও ওই সময়টাতে 'লজ্জা' বইটা প্রকাশ করে দাঙ্গা-হাঙ্গামার বারুদে আগুন ধরাতে সহায়তা করেছিলেন এতে অন্তত আমার কোনো সন্দেহ নাই। 
তিনি অবলীলায় যে কাজটা করেছিলেন, বাবরী মসজিদ ইস্যুতে ভারতীয় পাজি হিন্দুদের (যারা বাবরী মসজিদ নিয়ে মারমার-কাটকাট করছিলেন) সীমাহীন অপরাধ ঢাকার জন্য 'লজ্জা' নামের ভয়ংকর একটা হাতিয়ার তাদের তুলে দিয়েছিলেন। 
এতে করে দাবার চাল পাল্টে গিয়েছিল। বিশ্ব যেখানে ভারতীয় পাজি হিন্দুদের ছি ছি করতো সেখানে সোনার মেয়ে তসলিমার কারণে বাংলাদেশকে নিয়ে ছি ছি করা শুরু করার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল। মূল আলোটা সরে গিয়েছিল।

কই দাদা, তখন দেখি আপনি মুখে কুলুপ এঁটে বসে ছিলেন, রা কাড়েননি! কী দাদা, নিজের চামড়া নিজের, অন্যের চামড়া অন্যের, না? আপনার ভাবখানা এমন চামড়া দিয়ে ঢোল বানাতে হলে আমিই কেন, কি বলেন? 

এটা আমি বিশ্বাস করি, আপনি একজন নিপাট ভদ্রলোক তাই দাদা, বিচারের ভারটা আপনার হাতেই ছেড়ে দিলুম।

*www.newsagency24.com চোরের এক আস্তানার নাম: https://www.facebook.com/ali.mahmed1971/posts/10151517933607335?notif_t=like           

5 comments:

মুকুল said...

সারছে! আপনি তো প্রগতিশীল লোক না দেখি! তাছাড়া ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। ;-)

।আলী মাহমেদ। said...

"প্রগতিশীল লোক"
বলেন কী, প্রগতিশীল! এখনো শীল (যারা মাথা-টাথা কামায়)-ই হতে পারলাম না, তাও আবার প্রগতিশীল...!

Tarek said...

interesting findings...thanks for letting us know...

আবদুল হক said...

স্যার, অআপনার অনুমতি না নিয়ে এই লেখার লিংক এইখানে দিয়েছি http://www.amadershomoy2.com/content/2012/08/14/news0572.htm#idc-cover

।আলী মাহমেদ। ali mahmed । said...

সমস্যা নাই। @আবদুল হক