Sunday, November 22, 2009

আ বিগ জিরো!

আগাম সতর্কীকরণ: পোস্টটা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। ছোটদের দেখা, পড়া নিষেধ!



 

আমি যে একটা বিগ জিরো এতে অন্তত আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই। আপনাদের কারও সন্দেহ থাকলে দয়া করে ‘গ’ অক্ষর-বিশিষ্ট একটা প্রাণীর সঙ্গে আলাপ করে নিতে পারেন! বিভিন্ন সময়ে আমার চারপাশের লোকজনরা তাচ্ছিল্য, চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কখনো প্রকাশ্যে, কখনো গোপনে। এদের স্পস্ট বক্তব্য, বেনাপোল বর্ডার দিয়ে যে ২০ টি গাধা বাংলাদেশ আমদানী করা হয়েছিল, আমি নাকি ওই দলটায় ছিলাম, শোনো কথা! 
কে জানে, হবে হয়তো বা!
 

কবিতা লেখার অপচেষ্টা করতাম। একবার যে কবিতাটা (আমার দাবীমতে), আসলে ছড়া। যাকে পড়তে দিয়েছিলাম তিনি খানিকটা পড়েই সর্দি মুছে ফেলে দিয়েছিলেন।
এইবার সতর্ক ছিলাম। বাই দ্য ওয়ে, এই ছড়া নামের জিনিসটা ছিল এক সিনিয়রের কাছ থেকে চুরি করা। আমি বললাম, 'না আপনার হাতে দিব না, আমি পড়ি, আপনি শোনেন'। লাজ-লজ্জার মাথা খেয়ে আমি শুরু করলাম:

“...আমার হারানো শৈশব, ঋণী
যেসব প্রিয় মানুষের কাছে-
 একবার গা ছুঁয়ে দিলেই,  
শৈশব ফিরে পাই, বারবার।  
...
মৃত্যু এসে গা ছুঁয়ে বলে,
এই পাগল তোকে দিলাম ছুঁয়ে।
ঝাপসা মুখগুলো এসে দাড়ায়।
...
এরা একবার ছুঁয়ে দিলেই 
অমরত্ব ফিরে পাই, তবুও  
হাত বাড়ায় না কেউ।”
তিনি সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হাঁই তুলে বললেন, 'হইব না তোমারে দিয়া এইসব ছড়া-টড়া । এক কাজ করো, রবীন্দ্র সঙ্গীত লেখো। কঠিন কাজ, তয় চেষ্টা করলে পারবা'। 
আমি তাঁর জ্ঞানে অভিভূত, নিশ্চয়ই তিনি দু-চারটা রবীন্দ্র সঙ্গীত লিখেছেন নইলে কী আর আমাকে এহেন পরামর্শ দিতেন! কিন্তু রবীন্দ্র সঙ্গীত লেখা আমার কম্মো না, বড়ো কঠিন যে! 

শেষে কাঠ পেন্সিল নিয়ে ঘসাঘসি শুরু করলাম। ছাগল যা পায় তাই খায়, আমিও যা পাই তাই আঁকার চেষ্টা করি। একবার একটা লাউ আঁকলাম। একজন মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, 'আরে জোস হয়েছে, এক্কেবারে আসল রকেটের মতোই দেখাইতাছে'। 
আমি চেপে গেলাম। কেউ লাউকে রকেট ভাবলে এতে আমার অন্যায় কোথায়? আরেকবার আঁকলাম কুমির। এইবার পার পেলাম না, একজন ধরে ফেললেন। 
তিনি ঠান্ডা গলায় বলেছিলেন, 'তুমি যে কুমির আঁকলা, কুমির দেখছ কখনও? তুমি তো চিড়িয়াখানায় কখনও যাওনি, যাওয়ার দরকার কী, তুমি তো আবার নিজেই একটা চিড়িয়া । তা বাপ, এটা কি টিকটিকি দেখে একেছ, এক্কেরে টিকটিকির মতো দেখাইতাছে'? 
আমার দীর্ঘশ্বাসে বাতাস ভারী হয়!
 

আরেকজন ভালো একটা পরামর্শ দিলেন, 'এইসব ছাতাফাতা না আঁইকা ন্যুড ছবি আঁকো'। 
আমি বললাম, 'ভাল বলছেন, আমি কি আর আর্ট কলেজে পড়ি যে চট করে মডেল যোগাড় করে ফেলব। তা ছাড়া ধুর মিয়া, আমার লজ্জা করে'।
 

আমাদের পরিচিত একজন মহতরমা ছিলেন, আমরা আড়ালে তাকে রাজকন্যা ডাকতাম। তাদের কোন রাজ্য ছিল না কিন্তু তিনি প্রায় মিনিবাসের সমান একটা গাড়িতে করে আসা-যাওয়া করতেন (তখন বাংলাদেশে লেক্সাস ফেক্সাস গাড়ি আমদানী হওয়া শুরু হয়নি)। রাজকন্যাকে আমরা দূর থেকে দেখেই বর্তে যাই, অজান্তেই বিড়বিড় করি, এমন একটা শরীর..., অর্থ একজনের হয় কেমন করে, কেন-কেন-কেন?


সেদিন কী পৃথিবী এলোমেলো ঘুরপাক খাচ্ছিল, জানি না? রাজকন্যা দুম করে বললেন, 'তুমি নাকি ছবি আঁকার মডেল খুঁজছ'? 
আমি তো তো করে বললাম 'না-না, ইয়ে হ্যাঁ, মানে না...'। 

রাজকন্যাদেরও হয়তো ব্রেনে শর্ট সার্কিট হয়ে যায়। কে ব্রেনের দিব্যি দিয়েছে, রাজকন্যাদের মাথায় গোলমাল হতে নেই, ব্রেনের তার-তুরে প্যাচ লাগতে নেই? তিনি বিশেষ কিছু শর্ত আরোপে মডেল হতে রাজী হলেন।
ওয়াল্লা, আমি ছবি আঁকব কী, কাঁপাকাঁপিই বন্ধ করতে পারি না! 


একদিন (ওদিন সম্ভবত আমাবস্যা-পূর্ণিমা ছিল, এই সময় অনেকের মাথায় বেশ খানিকটা বায়ু চড়ে যায়, তখন তাদের আচরণের অর্থ খুঁজে পাওয়া ভার)। রাজকন্যা বিচিত্র কিছু কথা বললেন ।
আমি বিমর্ষ মুখে বললাম: 'রাজকন্যা, আমি অতি সাধারণ
একটা ছেলে, এ হয় না'!
রাজকন্যা অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে বললেন, 'তোমার গায়ে যখন কাপড় থাকে না তখনও কি তুমি অতি সাধারণ ছেলে'?


*এটা শুভ'র গল্প। এর সঙ্গে লেখকের কোন প্রকার যোগসূত্র খোঁজা বৃথা।
**স্কেচ-স্বত্ব: সংরক্ষিত