Tuesday, July 21, 2009

এতো স্টার আমরা কোথায় রাখিব?

এক ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় হৃদয় খান নামের এক বালক-গাতক প্লাস সুরকারের সাক্ষ্যাকার দেখছিলাম বালক বললাম এই জন্য, বালিকা উপস্থাপিকা তাকে তুমি তুমি করে বলছিলেন। এটা এদের কে শেখাবে? এখন উপস্থাপিকা হওয়ার জন্যও বিশেষ কোন যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না! তেলতেলে চেহারা থাকলেই হয়! এবং অশুদ্ধ ভাষায় বাংলা বলার কায়দা 

গাতক সাহেবের যে ঘানগুলো(!) শুনলামকোনটারই কথা মনে রাখার মত কিছু ছিল না, না সুর! হাওয়ায় ভেসে মিলিয়ে যায় এমন ঘান(!)... এই হয়েছে এক জ্বালা! একটা গানের ক্যাসেট বের করেই একজন স্টার বনে যান ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পোজ দিয়ে, জড়িয়ে জড়িয়ে কথা বলা শুরু করেন, অর্ধেক কথা পেটে, অর্ধেক মুখে স্টার বলে কথা! 

এই গাতক মহোদয় না শিখেছেন বাংলা ভাষাটা, না শিখেছেন সহবত-ম্যানার আসলে না বলে বলছিলেন, আছোলে, আছোলে আমি... বেচারাকে খুব একটা দোষ দেই না, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পর্যন্ত বাংলা ভাষাটা শুদ্ধ করে বলতে পারেন না আমাদের এক্স অধ্যাপক কাম পেরসিডেন্ট(!) ইয়াজউদ্দিন সাহেব এর একটা প্রকট নমুনা! প্রকট না লিখে কট লিখতে পারলে  আরাম পেতাম। জাতির উদ্দেশ্যে তাঁর ভাষণের ৫ মিনিটের মাথায় ২২টা ভুল-অশুদ্ধ শব্দ নোট করেছিলাম।


তো, গাতক সাহেব পুরো অনুষ্ঠানে ঠ্যাং-এর উপর ঠ্যাং তুলে বসে ছিলেন ঠ্যাং-এর উপর ঠ্যাং তুলে বসা যাবে না এমন কোন কথা নাই কিন্তু উনার কেডসের তলা দেখা যাচ্ছিল কে বোঝাবে এই বালককে, জেন্টেলম্যান নর্ম বলে কিছু বিষয় আছে, ঠ্যাং-এর উপর ঠ্যাং তুলে বসা যাবে কিন্তু জুতার তলা দেখা যাওয়াটা বৈসাদৃশ্য! ভাগ্যিস, জুতার তলায় গোবর বা ইয়ে ছিল না তাহলে সর্বনাশ হয়ে যেত!
...

*আজ ২৮ নভেম্বর, ২০০৯: 'দেশ টিভি'তে রাত সাড়ে ১১টার দিকে গানের এক অনুষ্ঠান শুরু হলমিনিট পাঁচেক ধরে উপস্থাপিকা এক ঘাতকের(!)গুণগান গাইলেনযেভাবে তিনি বলছিলেন, আমি ভাবছিলাম, এই দেশে এমন গানের ভুবনের আকাশের স্টারটা কে? হা ঈশ্বর, এ দেখি হৃদয় খান নামের ওই ছোকরাই। এই ছোকরা তো এখনও বসাই শেখেনি! অনেকক্ষণ লাগিয়ে তার গাওয়া গানগুলো শোনার বোঝার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম লাইভ অনুষ্ঠান, এরিমধ্যে বাপ্পা মজুমদার ফোন করে লম্বা লম্বা শাবাসি দিলেনআসলে বাপ্পা, পুতুলের মত উপস্থাপিকারাই হচ্ছেন নাটের গুরু- এদের কারণেই হৃদয় খানের মত অপদার্থরা স্টার হয়ে বসে থাকেন, ফাঁকতালে আমরা ঝলসে যাই।

আ বিগ জিরো!

আমি যে একটা বিগ জিরো এতে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই। আপনাদের কারও সন্দেহ থাকলে দয়া করে ‘গ’ আদ্যাক্ষরের একটা প্রাণীর সঙ্গে আলাপ করে নিতে পারেন! বিভিন্ন সময়ে আমার চারপাশের লোকজনরা তাচ্ছিল্য, চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন- কখনো প্রকাশ্যে, কখনো গোপনে। এদের স্পস্ট বক্তব্য, বেনাপোল বর্ডার দিয়ে যে ২০ টি গাধা বাংলাদেশ আমদানী করেছিল, আমি নাকি ওই দলটায় ছিলাম। কুতর্কে যাই না- কে জানে, হবে হয়তো বা!

কবিতা লেখার অপচেষ্টা করতাম। একবার যে কবিতাটা (আমার দাবীমতে) যাকে পড়তে দিয়েছিলাম তিনি খানিকটা পড়েই সর্দি মুছে ফেলে দিয়েছিলেন।
এইবার সতর্ক ছিলাম। বাই দ্য ওয়ে, এই কবিতা নামে জিনিসটা ছিল এক সিনিয়রের কাছ থেকে চুরি করা। এইবার আমি বললাম, না আপনার হাতে দিব না। আমি পড়ি, আপনি শোনেন। লাজ-লজ্জার মাথা খেয়ে আমি শুরু করলাম:
“আমার হারানো শৈশব ঋণী,
অল্প ক’জন প্রিয় মানুষের কাছে-
শৈশবের সেইসব সাথীরা সযতনে
রেখেছে লুকিয়ে শৈশব আমার।
যারা সাফল্যের জামা চড়াতে
পারেনি গায়ে অখচ রাশি রাশি
অযতনে জামা আমার কাবার্ডে ।
এরা একবার আমার গা ছুঁয়ে
দিলেই, আমি আমার হারানো
তারুণ্য- শৈশব, ফিরে পাই
একবার না, বারবার বারবার।
মৃত্যু এসে গা ছুঁয়ে বলে এই,
এই পাগল তোকে দিলাম ছুঁয়ে
ঝাপসা মুখগুলো এসে দাড়ায়।
এরা একবার ছুঁয়ে দিলেই অমরত্ব
ফিরে পাই, ফিরে পাই বারবার।”
তিনি সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হাঁই তুলে বললেন, হইব না তোমারে দিয়া এইসব ছড়া-টড়া । এক কাজ করো, রবীন্দ্র সঙ্গীত লেখ। কঠিন কাজ, তয় চেষ্টা কইরা দেখো। আমি তাঁর জ্ঞানে অভিভূত, নিশ্চয়ই তিনি দু-চারটা রবীন্দ্র সঙ্গীত না লিখলে কি আর আমাকে পরামর্শ দিতেন! কিন্তু এটা আমার কম্মো না!

শেষে কাঠ পেন্সিল নিয়ে ঘসাঘসি শুরু করলাম। ছাগল যা পায় তাই খায়- আমিও যা পাই তাই আঁকার চেষ্টা করি। একবার একটা লাউ আঁকলাম। একজন মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, আরে জোস হয়েছে, আসল রকেটের মতোই দেখাচ্ছে। আমি চেপে গেলাম। আরেকবার আঁকলাম কুমির। এইবার পার পেলাম না একজন ধরে ফেললেন। তিনি ঠান্ডা গলায় বলেছিলেন, তুমি যে কুমির আঁকলা- তুমি তো চিড়িয়াখানায় কখনোও যাওনি, তুমি তো নিজেই একটা চিড়িয়া । তা বাপ, এটা কি টিকটিকি দেখে একেছ, অবিকল টিকটিকির মতো দেখাচ্ছে? আমার দীর্ঘশ্বাসে বাতাস ভারী হয়!
আরেকজন ভালো একটা পরামর্শ দিলেন, এইসব ছাতাফাতা না আঁইকা ন্যুড ছবি আঁকো। আমি বললাম, ভাল বলছেন, আমি কি আর আর্ট কলেজে পড়ি যে চট করে মডেল যোগাড় করে ফেলব। তা ছাড়া ধুর মিয়া, আমার লজ্জা করে।

আমাদের পরিচিত একজন মহতরমা ছিলেন। আমরা তাকে আড়ালে রাজকন্যা ডাকতাম। তাদের কোন স্টেট ছিল না কিন্তু তিনি প্রায় মিনিবাসের মতো একটা গাড়িতে করে আসতেন ( তখন তো আর বাংলাদেশে লেক্সাস ফেক্সাস গাড়ি আমদানী হওয়া শুরু হয়নি)। যেখানে রাজকন্যাকে আমরা দুর তেকে দেখেই বর্তে যাই সেখানে রাজকন্যা দুম করে একদিন বললেন, ওই-ওই, তুমি নাকি ছবি আঁকার মডেল খুঁজছ?
আমি তো তো করে বললাম, না-না, ইয়ে হ্যাঁ, মানে। রাজকন্যাদেরও হয়তো ব্রেন শর্ট সার্কিট হয়ে যায়। কে দিব্যি দিয়েছে, রাজকন্যাদের মাথায় গোলমাল হতে নেই! তিনি বিশেষ কিছু শর্ত আরোপে মডেল হতে রাজী হলেন।
আমি ছবি আঁকব কি, কাঁপাকাঁপিই বন্ধ করতে পারি না। একদিন (সম্ভবত আমাবস্যা-পূর্ণিমা ছিল, এই সময় অনেকের মাথায় একটু বায়ু চড়ে যায়) রাজকন্যা বিচিত্র কিছু কথা বললেন ।
আমি বিমর্ষ মুখে বললাম: রাজকন্যা, আমি একটা অতি সাধারণ ছেলে, এ হয় না!
রাজকন্যা অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে বললেন, তোমার গায়ে যখন কাপড় থাকে না তখনোও কি তুমি অতি সাধারণ ছেলে!