Search

Loading...

Friday, July 24, 2009

ডাকতর সাহেব যাহা বলিলেন!

আমরা সবাই একপেট আবর্জনা নিয়ে ঘুরে বেড়াই। প্রকৃতি খানিকটা ঢেকে রাখে, খানিকটা আমরা। আমাদের কী আপ্রাণ চেষ্টাই না থাকে ঝাঁ-চকচকে কাপড় মুড়িয়ে, পেটের সমস্ত আবর্জনা ঢেকে-ঢুকে রাখা। একপেট আবর্জনা উম্মুক্ত থাকলে সালমান খান আর আমার মধ্যে বা মিস ওয়ার্ল্ড আর জরিনার মধ্যে তফাৎ কী থাকত!

এটা হচ্ছে মোটা দাগের চিন্তা। সূক্ষ দাগের চিন্তা-ভাবনার ভুবন অন্য রকম। মানুষ শিক্ষার পোশাক-খোলসে তার আচরণের আবর্জনা ঢেকে রাখে। নইলে আমার মতো সামান্য লেখাপড়া জানা মানুষ এবং একজন ডক্টরের মধ্যে পাথ্যর্ক থাকত না। কষ্ট করে মানুষ আর 'নেকাপড়া' করতে চাইত না। আহারে, কেউ কেউ পোশাক পরেও নগ্ন হয়ে পড়েন। এদের দেখে কী মায়াই নাহয়!

এটিএন বাংলা নামের স্যাটেলাইট টিভি চ্যালেল ১৩ বছরে পা দিচ্ছে। ভাল খবর।
সালটা মনে নাই, এটিএন বাংলার সঙ্গে আমি প্রথম পরিচিত হই বিজ্ঞাপন দেখার সুবাদে। সিগারেট-বিড়ির বিজ্ঞাপন, ভয়াবহ বাজেসব ঝাকানাকা টাইপের স্থূল বিজ্ঞাপন! দেখলেই বমি করে দিতে ইচ্ছা হয়, এমন।

যাই হোক, ১৩ বছরে পা দেয়া উপলক্ষে দৈনিকগুলোয় পুরো পাতা জুড়ে ঢাউস বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে (১৫.০৭.০৯)। এই বিজ্ঞাপনের ভেতর আরেক বিজ্ঞাপন "অসম্ভব জয়ের নেশায়" এই টিভির চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান সাহেবের বেশ কিছু বাতচিত আছে। ভাল কথা, ওনার নামের আগে এই যে ড. এটার মানে কি? ডক্টর নাকি? বেশ-বেশ।
তো, ওনার বাতচিতের কিছু নমুনা দেয়া যাক:
"...এ জীবনে অনেক কিছু করেছি...গার্মেন্টস শিল্পের প্রথম উদ্যোক্তাদের একজন আমি।...চালু করেছি দেশের প্রথম স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল এটিএন বাংলা...চলচিত্র প্রযোজনা, মিউজিক স্টুডিও সবই করেছি। বিমান পরিবহন ও ইলেকট্রনিক্স নানা ব্যবসায় আমার হাতের ছাপ পড়েছে...বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ান এমন অনেক মানুষও আমার হাতে তৈরি...।"
এই একটা বিষয়ে অন্তত আমার কোন দ্বিমত নাই। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ ইভা রহমান। ইনি নাকি একজন বিরাট গাতক (গাতকের গ-টা কি ঘ-র মতো দেখাচ্ছে, দয়া করে আবার ঘাতক পড়ে বসবেন না যেন)। যাই হোক, তাকে তৈরি করেছেন
ড. মাহফুজুর রহমান এবং ইভা রহমান বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ান না এটায় আপনাদের অমত থাকলেও, অন্তত আমার নাই।

Thursday, July 23, 2009

মওদুদী: যখন বৃষ্টি তখন ছাতা

মওদুদী সাহেব বলেন:
"...আজ নারীর রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার প্রশ্নেই কেবল ইসলামের দোহাই দেয়া কেন?
...এর পরে আমি আসল বিষয়ে শরিয়তের দৃষ্টিভংগী আপনাদের সামনে পেশ করছি:
১. দেশে এক জবরদস্তীমুলক অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবসা চালু রয়েছে, তা আমাদের ধর্ম, চরিত্র, তাহজীব তামাদ্দুন, অর্থনীতির পক্ষে অত্যন্ত মারাত্মক।
২. এ ধরনের শাসন ব্যবস্থাকে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় পরিবর্তন করার জন্য আগামী নির্বাচনে খোদার দেয়া এক মহা সুযোগ পাচ্ছি।
৩. দেশে মুহতারমা ফাতিমা জিন্নাহ ব্যতীত অপর কোন ব্যক্তিত্ব নেই যাকে কেন্দ্র করে দেশের বিরাট সংখ্যক লোক একত্রিত হতে পারে...।
৪. মুহতারিমা ফাতেমা জিন্নার প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের সাধারণ জনতা তার সমর্থনে কোমর বেঁথে দাঁড়িয়ে গিয়েছে।
৫. তাঁর পরিবর্তে অপর কোন ব্যক্তিকে দাঁড় করানো কিংবা এই নির্বাচন সংগ্রামে নিরপেক্ষ থাকার মানে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানকে সাহায্য করা।

...বরং আমি তো বলব, একজন নারীকে রাষ্ট্রপ্রধান বানানো যদি এক আনা দোষের হয়, তাহলে তার মোকাবিলায় বর্তমান অত্যাচারী ও জালেম শাসনকে বাঁচিয়ে রাখলে কমপক্ষে দশগুণ বেশী গুনাহ হবে।

...আসলে ইসলামের সাধারণ নিয়মের মধ্যে আমরা কোন পরিবর্তই করছি না, সংশোধন করছি।

...ইসলামে রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার জন্য কেবল পুরুষ হওয়াই একমাত্র শর্ত? ...না সেই সঙ্গে আরো অনেক কয়টি শর্ত আছে?
কোন এক বিশেষ সময়ে আমাদের সামনে যদি দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনকে গ্রহন করার প্রশ্ন দেখা দেয়...আর তাদের একজনের মধ্যে কেবল নারী হওয়া ছাড়া অন্য কোন আপত্তিকর জিনিস না থাকে...ইসলাম জ্ঞানসম্পন্ন কোন ব্যক্তি কি আমাদিগকে নারীকে গ্রহন না করে সেই পুরুষকেই গ্রহন করার জন্য বলতে পারে?

...আপনার ভোট পূর্ন দৃঢ়তার সঙ্গে- মুহতারিমা ফাতিমা জিন্নাহর নামে ব্যবহার করুন...।

আমি খোদার নিকট দোয়া করি, তিনি যেন আমাদিগকে রক্ষা করেন, আমীন।
" 

*(সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ/ দলিলপত্র: দ্বিতীয় খন্ড, পটভুমি: ১৯৫৮-১৯৭১/ পৃষ্ঠা নং:২৪২, ২৪৩/ ২৯শে নভেম্বর পল্টন ময়দানে মওদুদীর প্রদত্ত বক্তৃতা থেকে, ১৯৬৪)

**মওদুদী কেমন হিংস্র, চালবাজ ছিলেন এটা বলছেন তার ছেলে, অকপটে: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_5646.html

Tuesday, July 21, 2009

এতো স্টার আমরা কোথায় রাখিব?

এক ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় হৃদয় খান নামের এক বালক-গাতক প্লাস সুরকারের সাক্ষ্যাকার দেখছিলাম বালক বললাম এই জন্য, বালিকা উপস্থাপিকা তাকে তুমি তুমি করে বলছিলেন। এটা এদের কে শেখাবে? এখন উপস্থাপিকা হওয়ার জন্যও বিশেষ কোন যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না! তেলতেলে চেহারা থাকলেই হয়! এবং অশুদ্ধ ভাষায় বাংলা বলার কায়দা 

গাতক সাহেবের যে ঘানগুলো(!) শুনলামকোনটারই কথা মনে রাখার মত কিছু ছিল না, না সুর! হাওয়ায় ভেসে মিলিয়ে যায় এমন ঘান(!)... এই হয়েছে এক জ্বালা! একটা গানের ক্যাসেট বের করেই একজন স্টার বনে যান ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পোজ দিয়ে, জড়িয়ে জড়িয়ে কথা বলা শুরু করেন, অর্ধেক কথা পেটে, অর্ধেক মুখে স্টার বলে কথা! 

এই গাতক মহোদয় না শিখেছেন বাংলা ভাষাটা, না শিখেছেন সহবত-ম্যানার আসলে না বলে বলছিলেন, আছোলে, আছোলে আমি... বেচারাকে খুব একটা দোষ দেই না, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পর্যন্ত বাংলা ভাষাটা শুদ্ধ করে বলতে পারেন না আমাদের এক্স অধ্যাপক কাম পেরসিডেন্ট(!) ইয়াজউদ্দিন সাহেব এর একটা প্রকট নমুনা! প্রকট না লিখে কট লিখতে পারলে  আরাম পেতাম। জাতির উদ্দেশ্যে তাঁর ভাষণের ৫ মিনিটের মাথায় ২২টা ভুল-অশুদ্ধ শব্দ নোট করেছিলাম।


তো, গাতক সাহেব পুরো অনুষ্ঠানে ঠ্যাং-এর উপর ঠ্যাং তুলে বসে ছিলেন ঠ্যাং-এর উপর ঠ্যাং তুলে বসা যাবে না এমন কোন কথা নাই কিন্তু উনার কেডসের তলা দেখা যাচ্ছিল কে বোঝাবে এই বালককে, জেন্টেলম্যান নর্ম বলে কিছু বিষয় আছে, ঠ্যাং-এর উপর ঠ্যাং তুলে বসা যাবে কিন্তু জুতার তলা দেখা যাওয়াটা বৈসাদৃশ্য! ভাগ্যিস, জুতার তলায় গোবর বা ইয়ে ছিল না তাহলে সর্বনাশ হয়ে যেত!
...

*আজ ২৮ নভেম্বর, ২০০৯: 'দেশ টিভি'তে রাত সাড়ে ১১টার দিকে গানের এক অনুষ্ঠান শুরু হলমিনিট পাঁচেক ধরে উপস্থাপিকা এক ঘাতকের(!)গুণগান গাইলেনযেভাবে তিনি বলছিলেন, আমি ভাবছিলাম, এই দেশে এমন গানের ভুবনের আকাশের স্টারটা কে? হা ঈশ্বর, এ দেখি হৃদয় খান নামের ওই ছোকরাই। এই ছোকরা তো এখনও বসাই শেখেনি! অনেকক্ষণ লাগিয়ে তার গাওয়া গানগুলো শোনার বোঝার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম লাইভ অনুষ্ঠান, এরিমধ্যে বাপ্পা মজুমদার ফোন করে লম্বা লম্বা শাবাসি দিলেনআসলে বাপ্পা, পুতুলের মত উপস্থাপিকারাই হচ্ছেন নাটের গুরু- এদের কারণেই হৃদয় খানের মত অপদার্থরা স্টার হয়ে বসে থাকেন, ফাঁকতালে আমরা ঝলসে যাই।

আ বিগ জিরো!

আমি যে একটা বিগ জিরো এতে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই। আপনাদের কারও সন্দেহ থাকলে দয়া করে ‘গ’ আদ্যাক্ষরের একটা প্রাণীর সঙ্গে আলাপ করে নিতে পারেন! বিভিন্ন সময়ে আমার চারপাশের লোকজনরা তাচ্ছিল্য, চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন- কখনো প্রকাশ্যে, কখনো গোপনে। এদের স্পস্ট বক্তব্য, বেনাপোল বর্ডার দিয়ে যে ২০ টি গাধা বাংলাদেশ আমদানী করেছিল, আমি নাকি ওই দলটায় ছিলাম। কুতর্কে যাই না- কে জানে, হবে হয়তো বা!

কবিতা লেখার অপচেষ্টা করতাম। একবার যে কবিতাটা (আমার দাবীমতে) যাকে পড়তে দিয়েছিলাম তিনি খানিকটা পড়েই সর্দি মুছে ফেলে দিয়েছিলেন।
এইবার সতর্ক ছিলাম। বাই দ্য ওয়ে, এই কবিতা নামে জিনিসটা ছিল এক সিনিয়রের কাছ থেকে চুরি করা। এইবার আমি বললাম, না আপনার হাতে দিব না। আমি পড়ি, আপনি শোনেন। লাজ-লজ্জার মাথা খেয়ে আমি শুরু করলাম:
“আমার হারানো শৈশব ঋণী,
অল্প ক’জন প্রিয় মানুষের কাছে-
শৈশবের সেইসব সাথীরা সযতনে
রেখেছে লুকিয়ে শৈশব আমার।
যারা সাফল্যের জামা চড়াতে
পারেনি গায়ে অখচ রাশি রাশি
অযতনে জামা আমার কাবার্ডে ।
এরা একবার আমার গা ছুঁয়ে
দিলেই, আমি আমার হারানো
তারুণ্য- শৈশব, ফিরে পাই
একবার না, বারবার বারবার।
মৃত্যু এসে গা ছুঁয়ে বলে এই,
এই পাগল তোকে দিলাম ছুঁয়ে
ঝাপসা মুখগুলো এসে দাড়ায়।
এরা একবার ছুঁয়ে দিলেই অমরত্ব
ফিরে পাই, ফিরে পাই বারবার।”
তিনি সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হাঁই তুলে বললেন, হইব না তোমারে দিয়া এইসব ছড়া-টড়া । এক কাজ করো, রবীন্দ্র সঙ্গীত লেখ। কঠিন কাজ, তয় চেষ্টা কইরা দেখো। আমি তাঁর জ্ঞানে অভিভূত, নিশ্চয়ই তিনি দু-চারটা রবীন্দ্র সঙ্গীত না লিখলে কি আর আমাকে পরামর্শ দিতেন! কিন্তু এটা আমার কম্মো না!

শেষে কাঠ পেন্সিল নিয়ে ঘসাঘসি শুরু করলাম। ছাগল যা পায় তাই খায়- আমিও যা পাই তাই আঁকার চেষ্টা করি। একবার একটা লাউ আঁকলাম। একজন মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, আরে জোস হয়েছে, আসল রকেটের মতোই দেখাচ্ছে। আমি চেপে গেলাম। আরেকবার আঁকলাম কুমির। এইবার পার পেলাম না একজন ধরে ফেললেন। তিনি ঠান্ডা গলায় বলেছিলেন, তুমি যে কুমির আঁকলা- তুমি তো চিড়িয়াখানায় কখনোও যাওনি, তুমি তো নিজেই একটা চিড়িয়া । তা বাপ, এটা কি টিকটিকি দেখে একেছ, অবিকল টিকটিকির মতো দেখাচ্ছে? আমার দীর্ঘশ্বাসে বাতাস ভারী হয়!
আরেকজন ভালো একটা পরামর্শ দিলেন, এইসব ছাতাফাতা না আঁইকা ন্যুড ছবি আঁকো। আমি বললাম, ভাল বলছেন, আমি কি আর আর্ট কলেজে পড়ি যে চট করে মডেল যোগাড় করে ফেলব। তা ছাড়া ধুর মিয়া, আমার লজ্জা করে।

আমাদের পরিচিত একজন মহতরমা ছিলেন। আমরা তাকে আড়ালে রাজকন্যা ডাকতাম। তাদের কোন স্টেট ছিল না কিন্তু তিনি প্রায় মিনিবাসের মতো একটা গাড়িতে করে আসতেন ( তখন তো আর বাংলাদেশে লেক্সাস ফেক্সাস গাড়ি আমদানী হওয়া শুরু হয়নি)। যেখানে রাজকন্যাকে আমরা দুর তেকে দেখেই বর্তে যাই সেখানে রাজকন্যা দুম করে একদিন বললেন, ওই-ওই, তুমি নাকি ছবি আঁকার মডেল খুঁজছ?
আমি তো তো করে বললাম, না-না, ইয়ে হ্যাঁ, মানে। রাজকন্যাদেরও হয়তো ব্রেন শর্ট সার্কিট হয়ে যায়। কে দিব্যি দিয়েছে, রাজকন্যাদের মাথায় গোলমাল হতে নেই! তিনি বিশেষ কিছু শর্ত আরোপে মডেল হতে রাজী হলেন।
আমি ছবি আঁকব কি, কাঁপাকাঁপিই বন্ধ করতে পারি না। একদিন (সম্ভবত আমাবস্যা-পূর্ণিমা ছিল, এই সময় অনেকের মাথায় একটু বায়ু চড়ে যায়) রাজকন্যা বিচিত্র কিছু কথা বললেন ।
আমি বিমর্ষ মুখে বললাম: রাজকন্যা, আমি একটা অতি সাধারণ ছেলে, এ হয় না!
রাজকন্যা অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে বললেন, তোমার গায়ে যখন কাপড় থাকে না তখনোও কি তুমি অতি সাধারণ ছেলে!

Monday, July 20, 2009

কাম ব্যাক পিটার, কাম ব্যাক পল

একজন এক্স-শাসক।

এই দুর্ধর্ষ শাসক অক্লান্ত পরিশ্রমী ছিলেন। একজন অন্য রকম যোদ্ধা। 
শরীরের একটা অংশ বহুল ব্যবহারে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। বিশেষ একটা যুদ্ধ করতে করতে তিনি শরীরের বিশেষ ওই অর্গান বা শরীরের অতি আবশ্যক-প্রয়োজনীয় অংশকে প্রায় নষ্ট করে ফেলেছিলেন। 

খুব দ্রুত সেই বিশেষ অর্গান রিপ্লেসমেন্টের প্রয়োজন হলো। সমস্যা হলো, এটা এমন একটা অর্গান যা তাঁর প্রিয়পাত্ররাও দান করতে রাজী হলেন না।

ভাগ্যক্রমে একটা পাওয়া গেল, তাও যা তা অবস্থা! এক ভদ্রমহিলা ক্রদ্ধ হয়ে তার স্বামীর ওই অর্গান এক কোপে কেটে গ্যাস বেলুনে উড়িয়ে দিয়েছিলেন (এটা আমেরিকার ঘটনা) ভদ্রমহিলার স্বামী ওটা আর খুঁজে পাননি। 

কী ভাগ্য ওই গ্যাস বেলুনটা শাসকের দেশে এসে অর্গানসহ গাছে ঝুলতে থাকে। এক ডাক্তার মোটা অংকের টাকা কবুল করে, ঝুঁকি নিয়ে শাসকের সফল অপারেশন করলেন কিন্তু এ-ও জানিয়ে দিয়েছিলেন, এটার মেয়াদ আমি লিখে দিয়েছি, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই আপনি এটা রিপ্লেস করে নতুন একটা অর্গান লাগাবেন। 

শাসক মহা খুশী। তার ভালবাসা-বাসির মানুষরাও আনন্দে আটখান। তারা জনে জনে বলে বেড়াতে লাগলেন, তাঁকে (শাসককে) যতোটা বুড়া মনে হয় আসলে তিনি ততোটা বুড়া নন। 
কিন্তু হা কপাল! ভ্রাম্যমান আদালতের এক ত্যাঁদোড় অফিসার মেয়াদ না থাকার কারণে অর্গানটা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন। অবশ্য জরিমানা করা হয়েছিল কিনা এটা জানা যায়নি! কিন্তু নিশ্চয়ই এটা পরবর্তীতে জায়গামত আবার শাসকের কাছে চলে এসেছিল।
 

লাভ কী! এই দেশে মেয়াদউত্তীর্ণ বলে কিছু নাই। কবিতায় পিটার, পল যেমন ফিরে ফিরে আসে, ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলা জিনিস রন্ধনশালায়ও শোভাবর্ধন করে তেমনি কিছু মানুষও ক্ষমতায় ফিরে আসেন, বারবার!

Friday, July 17, 2009

ইমদাদুল হকের ঢোল এবং নিউক্লিয়ার বোমা নিয়ে গোল

ইমদাদুল হক মিলনের প্রথম আলোয় 'সাকুরা ফুলের দেশে' লেখাটা পড়ছিলাম আর ভাবছিলাম একজন মানুষ কেমন করে নিজের সম্বন্ধে এমন নির্লজ্জের মত লিখতে পারেন? তিনি লিখেছেন,
"জাপানি রাষ্ট্রদূত ভদ্রলোক আমার বক্তব্য শুনে এতটা মুগ্ধ হলেন, আমার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করার সময় উচ্ছ্বসিত গলায় বললেন, আরে, তোমার তো...প্রাইজ পাওয়া উচিৎ।"
এই ...টা নোবেল প্রাইজ কিনা কে জানে? হলে তো সর্বনাশ। এতো নোবেল আমরা রাখব কোথায়?
ওনার লেখার মান বোঝার জন্য যথেষ্ঠ মনন অবশ্য আমাদের মত সাধারণ পাঠকদের নাই। যুগটা হচ্ছে বড়ো তেলতেলে! 'এসেছিলে তবুও আসো নাই' মিলন সাহেবের এই লেখাটা ছাপাবার যোগ্যতা কী এই প্রশ্ন করা বাতুলতা মাত্র।

আরেক জায়গায় লিখেছেন, "আমাকে দেখে বেশ একটা সাড়া পড়ল দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে। একজনও বাঙালি নেই, সবাই জাপানি। আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ভালো রকম ব্যগ্র দেখলাম তাদের।"
হা ঈশ্বর, এটা সত্যি বলেই ধরে নিচ্ছি। কিন্তু নিজের কথা এমন করে না লিখলে কী একটা আসমান নড়বড়ে হয়ে যেত?

যাই হোক, মিলন সাহেব ওই লেখায় হিরোশিমায় বোমা ফেলা নিয়ে হা বিতং করে লিখেছেন, অবশ্য তা তথ্যবহুল। এখানে একটা প্রসঙ্গ এসেছে। "'এনোলা গে'-র কো পাইলট রবার্ট লুই বোমা ফেলার পর আপন মনে বলে উঠলেন, 'হায় ঈশ্বর, আমরা এ কী করলাম'!"

জাফর ইকবাল তাঁর 'আমেরিকা' বইয়ে লিখেন, "ছোট থাকতে শুনেছিলাম, যে পাইলট বোমা ফেলেছিল সে পেছনে তাকিয়ে যখন ধ্বংসলীলা দেখেছে হাহাকার করে বলেছে, 'এ আমি কি করেছি'! শুধু তাই না, তার বেসে ফিরে এসে সে পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছে। এই গল্পটি সত্যি নয়, যে টিমটি অত্যন্ত সুচারুরূপে তাদের দায়িত্ব পালন করে এসেছে তাদের ভিতরে পুরো ব্যাপারটা নিয়ে এতটুকু অপরাধবোধ নেই।

বোমা ফেলার নাটের গুরু, প্রধান দু-জনের মন্তব্য এখানে উইকি থেকে তুলে দিচ্ছি:
Colonel Paul W. Tibbets, Jr. – Pilot and Aircraft commander(Enola Gay)
Tibbets expressed no regret regarding the decision to drop the bomb. In a 1975 interview he said: "I'm proud that I was able to start with nothing, plan it, and have it work as perfectly as it did... I sleep clearly every night."In March 2005, he stated, "If you give me the same circumstances, I'd do it again."
(http://en.wikipedia.org/wiki/Paul_Tibbets)

Captain Robert A. Lewis – Co-pilot; Enola Gay's assigned aircraft commander
"...Robert Lewis described Enola Gay's flight and the dropping of the bomb on Hiroshima. When asked if he remembered his reaction on that fateful day, he remarked:
(In the official log) "I wrote down the words, 'My God, what have we done?"
Many years later, when questioned about his role in WWII, Lewis commented, 'I would rather be remembered for being a member of RPHS Championship Football Team than for being the co-pilot of that plane.'"
(http://en.wikipedia.org/wiki/Robert_A._Lewis)

তোমার জন্য এলিজি

আ-।
ক্ক-।
আহা-।
কথাটা-।
আরে কী মুশকিল, আমাকে আমার কথাটা বলতে দেবে, নাকি! প্লিজ, কথাটা শেষ করি।
আমি তোমার বেদনাটা বুঝি না এমন না, বুঝি। তোমার তীব্র অভিমান হওয়ারই কথা। তোমার জায়গায় আমি হলে স্রেফ খুন করে ফেলতাম। খুন করার নিয়ম না থাকলে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে ফেলতাম। আহা, মোটা একটা ডাল ফেলে দিলে আটকাচ্ছে কে!

তোমাকে যখন নিয়ে আসি, কতটুকু হবে তুমি? উমম, এক হাত লম্বা। কালে কালে তুমি আমার মাথা ছাড়িয়ে গেলে, ছাড়িয়ে গেলে আশেপাশের সবকিছু! তোমার পাশে দাঁড়ালে কী হাস্যকরই না লাগত আমাকে!

তুমি কিন্তু আমার কষ্টটা কখনই স্পর্শ করতে পারবে না। তোমার কী- তোমার তো আর চুল কাটাতে হয় না, বাচ্চার জন্য দুধ কিনতে হয় না। এসবের জন্য ময়লা কাগজগুলোর মূল্য তুমি কি বুঝবে। যেটা বোঝ না সেটা নিয়ে কথা বলতে এসো না। জীবনটা সিনেমা না, বুঝলে? এখানে রিটেকের কোন অপশন নাই।

এমনিতে তুমি কী দিয়েছ এটা বলে কি শেষ করা যাবে! কয়টা বলব? গোটা ছাদ জুড়ে থাকত তোমার কোমল ছায়া। সূর্যের তীব্র আলো ছুতে পারত না । চাদিফাটা গরমে টেরটিও পেতাম না। ভয়ংকর ঝড়ে সবাই যখন ভয়ে কাবু, তুমি বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে, ভয় পালিয়ে যেতে দিশা পেত না। তোমার হাজার-হাজার শুকনো পাতা কুড়িয়ে কত মানুষের রাবনের চুলো জ্বলেছে বছর ধরে।

তুমি আমার সন্তানসম, সন্তান তো না। তোমার জন্য আমি তো আমার সন্তানদের প্রতি অন্যায় করতে পারি না। পারি বাডি? আমার বুঝি ইচ্ছা করে না আমার সন্তানদের ভালো-মন্দ কিনে দিতে?

বাহ বেশ তো, কেবল আমার নিষ্ঠুরতাই দেখলে, নিজে কী? কেন তোমার মনে নাই, তোমার সাইজের আরেকজনকে একই দিনে তোমার পাশে লাগিয়েছিলাম। অথচ ও এখনও কত লিকলিকে! তুমি তাকে বাড়তে দাওনি। বুকে হাত দিয়ে বলো তো, এটা কী অন্যায় না?

জানো, মায়া বড়ো অদ্ভুত জিনিস। কাঠের একটা টেবিলে দিনের পর দির বসে কাজ করলে টেবিলটার প্রতি মায়া পড়ে যায়। আর তুমি সন্তান না হলেও সন্তানসম তো বটে। মন খারাপ করে নারে ব্যাটা।

বনভয়েজ-বিদায়!
















তুমি মরে গেছ, আমি বেঁচে আছি। একদিন আমিও মরে যাব। তুমি তো জানো, এ ভুবনে কিছুই ধ্বংস হয়ে যায় না। কোন না কোন ভাবে পার্টিকেলগুলো থেকেই যায়। আমিও যখন তোমার মত মরে যাবো, কে জানে, হয়তোবা কোথাও না কোথাও আমাদের দেখা হবে, আবারও। অন্য কোথাও, অন্য কোন ভুবনে। জানি না, জানি না আমি...।

video

Wednesday, July 15, 2009

মুচির জন্য শোক, সুদখোরের জন্য উল্লাস

মি. বাটা যখন মারা যান তখন অনেকেই শোক প্রকাশ করেছিলেন, "সাবচে বাড়া মুচি মার গিয়া" (অনেক বড় মুচি মারা গেল)। বাটা সাহেবের প্রতি আমারও আলগা মমত্ব বোধ থাকার কারণ ছিল এই, তাঁর সহযোদ্ধা আমার আবার লাংগোটিয়া দোস্ত ছিল
সবচে বড় সুদখোরকে যখন নোবেল ধরিয়ে দেয়া হলো তখন অনেকেই উল্লসিত হলেন। হিংসুকরা বলে বেড়াতে লাগল, ক্লিনটন, হিলারী ক্লিনটনকে শুটকির ভর্তা খাইয়ে লবিং করিয়েছিলেন। আর নরওয়ে নাকি 'অন দ্য ওয়ে' হয়েই ছিল।
বটি! বাহে, আপনারা এই সহজ হিসাবটা কষেন না কেন? হিসাবটা সহজ। কোটি-কোটি শিশুর প্রাণ বাঁচালো ওর-স্যালাইনের আবিষ্কার, তারচে যে লাগামছাড়া সুদের ব্যবসা বড়ো এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ কোথায়!
কোটি-কোটি মানুষ হাসতে হাসতে সৃষ্টিছাড়া সুদ দিতে থাকবে, তুচ্ছ প্রাণ নষ্ট হবে এ আর কী!

যাই হোক, নোবেল পাওয়াটা চাট্টিখানি কথা না। গুন্টার গ্রাস যখন এই দেশে আসলেন তখন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'নোবেল হচ্ছে এক বস্তা টাট্টি'। আসলে তিনি হুবহু এটা বলেছিলেন,
'নোবেল হচ্ছে এক বস্তা গু'। গু শব্দটায় অনেকের বমন উদ্রেক হয় বিধায় শব্দটা আমি বদলে দিলাম। তো, এই ভদ্রলোককে যখন এই জিনিস দেয়া হলো তখন বউকে বগলদাবা করে প্রায় সবগুলো দাঁত বের করে ফটোসেশন করলেন। নোবেল বলে কথা!

সুদখোর সাহেব নোবেল পাওয়ার পর জনগণের উল্লাস ছাপিয়ে গিয়েছিল জনদরদীদের 'কুল্লাস'! এ নিয়ে সংসদে তুমুল বচসা হচ্ছিল। হাইকাউ এ কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না! স্পিকার দমাদম হাতুড়ী পেটাচ্ছেন, কিসের কী। মাইক বন্ধ করেও কোন তারতম্য হলো না। সংসদ সদস্যরা খালি গলায় যে গলাবাজী করছেন, মাইক না থাকলেও কী আসে যায়!
সমস্যাটার উদ্ভব হয়েছে নোবেলটা আসলে কোন দল (কোন্দল না) পেয়েছে, এইটা নিয়ে? সব দলই দাবী করছে এটা তাদের কৃতিত্ব! কোন ভাবেই এ বিতর্কের মিমাংসা হলো না!

সবচেয়ে বেশী হইচই করছিলেন দুইটা প্রধান দল। এরাই বহু বছর ধরে দেশটার চাকা ঘুরাচ্ছেন বনবন করে! এঁরা না থাকলে এ দেশের হাল সম্ভবত ঈশ্বরও ধরতেন না!
স্পিকার প্রথম দলের প্রধানকে বললেন পয়েন্ট অভ অর্ডারে দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্য বলার জন্য।
ওই দলের প্রধান বললেন, চিলকন্ঠে, ‘এই অর্ডার আমি মানতে পারুম না, দাঁড়াইতে পারুম না, আমার পায়ে বিষ (ব্যথা)। তো, আমার বক্তব্য হইল, তাইনে যে নুবেলডা পাইছে, এইটা আমাদের আমলে পাইছে। এইটার কেরতিত্ব আমাদের। জান দিমু কিন্তু আমরা এই নুবেলের এক কুনাও দিমু না।’

দ্বিতীয় দলের প্রধান মুহাহা করে হেসে বললেন, ‘তাইলে আমিও পয়েন্ট অভ অর্ডারে দাঁড়ামু না, মিডল অভ অর্ডারে বইসা কমু। আমি পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমার অনেকগুলা ডিগ্রি। আমি এই নুবেলটা নিতে রাজী হই নাই বইলাই এইটা হেই মিয়ারে দেয়া হইছে। কার আমলে? এইটা কি আকথা কুকথা। আমাদের আমলেই এই পরতিষ্ঠানটা কলাগাছের মতো হওয়া শুরু করছিল। শেষ রক্ত বিন্দু দিয়া দিমু কিন্তু নুবেল ছাড়ুম না। এইটা আমরাই পাইছি।'

তৃতীয় দলের প্রধান বললেন, ‘হাক মাওলা। আমিই তাইনেরে বুদ্ধি দেই, আপনে কিন্তু হাইফাই মহিলাদের সুদে টেকা পয়সা ধার দিয়েন না, ফেরত পাইবেন না। হে হে,
হাইফাই মহিলাদের বিষয়ে আমার চেয়ে ভাল আর কে জানে। বন্দুক চালানের পাশাপাশি ওইডাও চালানো ভালা কইরা রপ্ত করছিলাম। চামড়ার নল...(সেন্সর)। হাক মাওলা।’

চতুর্থ দলের প্রধান, ‘ নাসারাদের কুনু কিছু আমরা বেবহার করি, নেইও না; ধর্মে নিষেধ আছে। কিন্ত আমাগো ম্যাডাম যখন কইছে, তাইলে ঠিকাছে। এইটা আমাগোই কেরতিত্ব। জাযাকুল্লাহ খায়ের!’

এই বিতর্ক তখন শেষ হয়নি।
একদল এখন আর সংসদে যাচ্ছে না। গেলে, কে জানে, আবারও না এই বিতর্কটা শুরু হয়ে যায়...।

Sunday, July 5, 2009

আমি কোথাও যেতে চাই না

video
ছেড়ে যাওয়া ট্রেন দেখলে আমার কেবলি মনে হয়, কোথাও যেন আমার যাওয়ার ছিল। বুকের ভেতর অন্য রকম, অজানা একটা চাপা কষ্ট হয়। কিন্তু ট্রেনে চেপে বসলে আমার কোথাও যাওয়ার ইচ্ছাটা বেমালুম উবে যায়। কেবল মনে হয়, আমি তো কোথাও যেতে চাই না, কোথাও না। অন্তত ঝুপঝুপ বৃষ্টিতে আমি কোথাও যেতে চাই না।

ঝুম বৃষ্টিতে আমি মরতেও চাই না। চাই না বৃষ্টিতে আমার শব ভিজুক। ধপধপে দুধ-সাদা কাপড়টায় বিচ্ছিরি দাগ লাগুক এটা মোটেও কাম্য নয়। এটাও কাম্য না ধর্মীয় অনুশাসন পালনে ব্যস্ত লোকজন বিরক্তিভরে গর্তে উঠে আসা পানিতে আমায় ছুঁড়ে দিক।

"যেদিন মরব আমি, সেদিন কী বার হবে
বলা মুশকিল।
শুক্রবার? বুধবার? শনিবার? নাকি রবিবার?
যে বারই হোক,
সেদিন বর্ষায় যেন না ভেজে শহর, যেন ঘিনঘিনে কাদা
না জমে গলির মোড়ে। সেদিন ভাসলে পথ-ঘাট,
পূণ্যবান শবানুগামীরা বড়ো বিরক্ত হবেন।"
(শামসুর রাহমান/ নিজ বাসভূমে)