Friday, June 26, 2009

উইপেন অলওয়েজ উইপেন!

 
আজকাল জঙ্গি ভাইদের নিয়ে বড়ো যন্ত্রণা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক ঘটনা। এক জঙ্গিকে আদালতে জবানবন্দী দিতে বলা হলে, তার স্পষ্ট বক্তব্য, আমি কোন মহিলার (জজ) কাছে জবানবন্দী দেব না। কারণ মহিলাদের জজ হিসাবে মানি না। ধর্মীয়মতে, মহিলাদের বাইরে কাজ করার অনুমতি নাই এবং পর্দা করা হয় নাই, ইত্যাদি ইত্যাদি। 
জটিলতা এড়াবার জন্য একজন পুরুষ জজের সামনে তাকে হাজির করা হলে সে তার জবানবন্দী প্রদান করে।

তো, এক জঙ্গি ভাইকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তার স্পষ্ট বক্তব্য: আমি মানবসৃষ্ট আইন মানি না, আদালত মানি না।
পুরূষ জজ সাহেব: কোন অসুবিধা নাই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আপনি ফাঁসি মেনে নিলেই হবে।
জঙ্গি ভাই (তাচ্ছিল্য করে): ফাঁসি তো আর বোমার খোসা না, বললেন আর ফাঁসি হয়ে গেল! আর ফাঁসির ভয় দেখাইয়েন না, ইয়া শায়খ বলে ঝুলে পড়ব, কিসসু হবে না। ফাঁসির দড়ি ফুলের মালা হয়ে যাবে।
পুরুষ জজ সাহেব: বোমার খোসা না, বলুন বাদামের খোসা!
জঙ্গি ভাই: চীনা বাদাম এসেছে চীন থেকে, মুরতাদ দেশের মুরতাদ বাদাম। এটা উচ্চারণ করলে এস্তেঞ্জার পরে হারপিক দিয়ে কুলি করতে হয়।

পুরুষ জজ সাহেব: আপনার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, বোমাবাজি করে মানুষ হত্যা।
জঙ্গি ভাই ( চোখে শিশুর সারল্য, দাড়িতে হাত বুলিয়ে অমায়িক হাসি): কোন প্রমাণ আছে?
পুরূষ জজ সাহেব: অবশ্যই প্রমাণ আছে, আপনার রেকটামে লুকিয়ে রাখা চার্জার থেকে বোমা উদ্ধার হয়েছে।
জঙ্গি ভাই(চোখ বড়বড় করে): মারহাবা মারহাবা, চার্জারে বোমা থাকলে, এই-ই প্রমাণ যে আমি বোমা ফাটিয়ে মানুষ খুন করেছি?
পুরুষ জজ সাহেব: আপনাকে খুনি প্রমাণের জন্য এইটুকুই যথেষ্ঠ।
জঙ্গি ভাই এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন দেখে জজ সাহেব বললেন: লাভ নাই, কোন উকিল আপনাকে ডিফেন্ড করবে না।
জঙ্গি ভাই (ভয়ে-ভয়ে): আরে না, আমার চার্জারে এখনো একটা বোমা রয়ে গেছে কিনা, খালাশ করা প্রয়োজন! ইয়ে, আপনাদের টাট্টিখানা কই?
জজ সাহেব(আতঙ্কিত চোখে): সর্বনাশ, এইসব কি বলছেন!

জঙ্গি ভাই: হে হে হে, ভয় পাইছেন! শোনেন, আমার নামে নারী নির্যাতনের শাস্তিটাও দিয়ে দেন।
পুরুষ জজ সাহেব( অবাক হয়ে): নারী নির্যাতনের মামলা তো এটা না।
জঙ্গি ভাই: না তো কি হয়েছে? বোমা বহন করলেই যদি মানুষ খুন করা প্রমাণ হয়। তাহলে তো আমি নারী নির্যাতনেরও একটা ভয়ংকর অস্ত্র...(সেন্সর) বহন করছি। যদিও র‌্যাব ধরার সময় থেতলে বেশ খানিকটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে- বাট, উইপেন অলওয়েজ উইপেন!