Wednesday, May 13, 2009

আমরা না, তোমরা বদলাও!

প্রথম আলোয় (১৩.০৫.০৯) আব্দুল কাইয়ুম একটা কলাম লিখেছেন। কলামটা সাইজে প্রায় 'এক স্কোয়ার গাব্বা'। এক গাব্বার বিষয়টা একটু ইরশাদ করি। কড়ে আঙ্গুল এবং বুড়ো আঙ্গুল পরস্পরের বিপরীত দিকে যথাসম্ভব ছড়িয়ে দিলে যতটুকু হয় ততটুকু 'এক গাব্বা'। সৈয়দ মুজতবা আলীর আবদুর রহমানের বা অমিতাভ বচ্চনের আঙ্গুলের হিসাবের সঙ্গে আমাদেরটার খানিকটা তারতম্য হবে, এতে হইচই করার কিছু নাই!

কলামের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনায় যাচ্ছি না কারণ আলোচনার দুঃসাহস করি না! যেহেতু পত্রিকাটা প্রথম আলো, মিডিয়া ঈশ্বর- তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী তারা নিজেরাই, এবং ভুল করে, কেবল ঈশ্বর টাইপেরই কেউ কোন মেইলের উত্তর দেন না (সেই দিন আর নাই শাহাদুজ্জামান); যেহেতু লেখক আব্দুল কাইয়ুম, মিডিয়া দেবদূত- মিডিয়া ঈশ্বরের কারখানায় কাজ করেন; সেহেতু ভুল ধরায় আমার মধ্যে খামতি থাকবে এটা সলজ্জচিত্তে কবুল করি। কবুল-কবুল-কবুল! তিন কবুল!


কিন্তু এই কলামটার শিরোনাম নিয়ে খানিকটা আলোচনা করি। 'দশটা হোন্ডা দশটা গুন্ডা ব্যস সব ঠান্ডা'

ওনার এই শিরোনামের শানে-নযুল হচ্ছে , হোন্ডা দাবড়ে বেড়ায় গুন্ডা; ফলাফল সব ঠান্ডা। ঈশ্বরের আলো পত্রিকায় পূর্বেও বহুবার দেখেছি, 'হোন্ডা নিয়ে কয়েকজন যুবক আসিয়া...'। এদের শ্লোগান, 'বদলে যাও, বদলে দাও'। এরা কিন্তু বদলাবেন না, এটা আমাদের-অন্যদের জন্য, এদের জন্য না।

কলামের এক জায়গায় তিনি আতাউর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়েছেন, "এটা আতাউর রহমানের কথা। তিনি লিখেছেন, 'শামসুল হুদা চৌধুরী রগড় করিয়া বলে, নির্বাচন খুব সহজ হয়ে গেছে। ১০টা হোন্ডা, ১০টা গুন্ডা, ১০টা ডান্ডা-ব্যস ইলেকশন ঠান্ডা'।"

আতাউর রহমান, শামসুল হুদা চৌধুরী , আব্দুল কাইয়ুম বোঝাতে চাইছেন যারা হোন্ডা চালায় তারা গুন্ডা। আর যারা দ্বিচক্রযান কাওয়াসাকি, সুজুকি চালায় তারা গুন্ডা-ষন্ডা-পান্ডা না। তারা পতপত করে উড়ায় ঝান্ডা- সোজা কথায়, ওরা ভালমানুষের ছা।

এই দেশে সন্ত্রস বন্ধ করার খুব সহজ বুদ্ধি হচ্ছে, হোন্ডা কোম্পানিকে লাল বাতি জ্বালাতে বাধ্য করা। না রাহেগা বাশ, না রাহেগি বাশরি- বাঁশও নাই বাঁশিও নাই। মোদ্দা কথা, হোন্ডা কোম্পানি হোন্ডা বানানো বন্ধ করে দিলে সন্ত্রাসীদের পক্ষে হোন্ডা যোগাড় করা সম্ভব হবে না, সন্ত্রাস করারও উপায় থাকবে না।

কারণ অন্য কোম্পানির দ্বিচক্রযান কাওয়াসাকি, সুজুকি, বাজাজ এগুলো দিয়ে আর যাই হোক, সন্ত্রাস করা যায় না, গুন্ডা হওয়াও উপায় নেই।

কিন্তু জাপানকে কী কাবু করা যাবে? আমরা তো আমেরিকা না, দুম করে জাপানে আরেকটা আনবিক বোমা ফেলে দিলুম। থাক, ওইসব হুজ্জুতের ঝামেলায় গিয়ে কাজ নাই।

দেশের আপামর জনতার গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে অন্তত হোন্ডা কোম্পানির কাছে দরখাস্ত লেখা যেতে পারে:

মাননীয় হোন্ডা কোম্পানি
বরাবর: মালিক
জাপান।

হোন্ডা বিক্রি বন্ধ করিয়া আমাদের সন্ত্রাস মুক্ত রাখিতে আকুল আবেদন।

জনাব,
বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুষের পক্ষ হইতে আপনাদের নিকট হাম্বল রিকোয়েস্ট, আপনাদের হোন্ডায় চড়িয়া গুন্ডারা দেশব্যাপি গুন্ডামি করিয়া বেড়াইতেছে। এই দুষ্টুরা আমাদের জীবনখানা বড় ডিস্টার্ব হইতেছে। সোনার বাংলার সবটা পিতল হইয়া গিয়াছে। সন্ত্রাসের কারণে কোথায় সেই গোলাভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ, বাগানভরা গাছ। আজ কেবলি গুন্ডাদের গুন্ডামির-অস্ত্র হইতে শব্দ বাহির হয় ঠাস ঠাস।

অতএব, হোন্ডা বিক্রি না করিবার জন্য আপনার আজ্ঞা হয়।
পুনশ্চ: ইহা একখানা হাম্বল রিকোয়েস্ট।

বিনীত নিবেদক,
(১৫কোটি মানুষের পক্ষে)
১. আব্দুল কাইয়ুম
২. আতাউর রহমান
৩.শামসুল হুদা চৌধুরী

সভ্যতা!









*ছবিসূত্র: ইন্টারনেট। আলাদাভাবে সূত্র উল্লেখ করতে পারছি না বলে ক্ষমা প্রার্থনা করি।

স্বপ্নের কারিগর

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা স্বপ্ন বিক্রি করে, সবিরাম। স্বপ্ন নেবেন গো স্বপ্ন- হরেক রকম স্বপ্ন, লাল নীল সবুজ!

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা স্বপ্ন বিক্রি করতে করতে একসময় নিজেই স্বপ্ন দেখা ভুলে যায়। আত্মা বাঁধা পড়ে দুঃস্বপ্নের ফেরিওয়ালার কাছে। ক্রমশ বিস্মৃত হয়, একদা মুঠো মুঠো স্বপ্নে ভরে থাকত দু-হাত!

একদিন।
কেউ একজন মায়াভরা গলায় হাঁক দেয়, অ, স্বপ্নের ফেরিওয়ালা, তোমার স্বপ্নের ঝুড়িটা কোথায় গো?

বাতিল পুতুলের মত মানুষটার মনে পড়ে যায়, একদিন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা ছিলাম রে!

স্বপ্নের কারিগর বা একটা নাট্যমঞ্চের পেছনের আসল কুশীলবদের কথা আমরা জানতে
কে আগ্রহি হই? তেমন কেউ না!
আমরা হাঁ করে একটা মুভি দেখি। ক্যামেরার পেছনে ওই মানুষটাকে জানার চেয়ে অনেক জরুরি হচ্ছে, ক্যামেরার সাম
নের মানুষটিকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়া।

তাতে
ক্যামেরার পেছনের ওই মানুষদের কী আসে যায়! ওই মানুষগুলোই স্বপ্নের ফেরিওয়ালাদের- কাঁচের নায়কদের বাঁচিয়ে রাখেন। হারিয়ে ফেলা স্বপ্ন আঁজলা ভরে ফিরিয়ে দেন।

স্বপ্নের কারখানা
, আসল স্বপ্নের কারিগর এরাই...এঁরা আছে বলেই স্বপ্নের ফেরিওয়ালা স্বপ্ন ফেরি করে...।