Saturday, February 14, 2009

স্যার, কোথায় গেলে আপনার খোঁজ পাব, যাদুঘরে?

এই পোড়া দেশে আমার ভাল লাগার মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা। আমার অসম্ভব পছন্দের একজন মানুষ।

ছোটখাট শিশুর মত মানুষটা। ভারি সাদাসিধে জীবন-যাপন ছিল তাঁর। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকেও দুটা স্যুট পরে কাটিয়ে দিয়েছিলেন বছরের পর বছর। এই মানুষটার কিছু কাজ-কারবারের নমুনা:
অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ তাঁকে নিয়ে এক ভিত্তিহীন খবরের প্রতিবাদে মানহানীর মামলা করেছিলেন, ফৌজদারী-দেওয়ানী আদালতে না, প্রেস কাউন্সিলে।
এমন চল আমাদের দেশে আর নাই! 


দায়িত্বে থাকার সময় (বঙ্গভবনে) প্রবাসী পুত্রের সঙ্গে কথা বলার কারণে টেলিফোনের বিল আলাদা রাখার জন্য নির্দেশ দেন এবং এটা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তাঁর নিজ বেতন থেকে পরিশোধ করেন।

টেলিভিশনে প্রচারিত তাঁর ভাষণের অংশগুলো ক্যাসেটে রেকর্ড করিয়ে দেয়ার জন্য টিভি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন। দেশের এক নম্বর ব্যক্তির কাছ থেকে এহেন অনুরোধ পেয়ে টিভি কর্তৃপক্ষ যখন উচ্ছ্বসিত তখন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন এ বাবত কি পরিমান খরচ লেগেছে তার বিল পাঠাতে বলে তাদের উচ্ছ্বাসে পানি ঢেলে দেন। খরচের এই যত্সামান্য বিল তাঁর নামে না-পাঠালে মহারাগ করেন। পরে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হন তাঁর নামে বিল পাঠাতে।

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি বারবার বলছিলেন, যথাসময়ে তিনি তাঁর দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন, কালবিলম্ব করবেন না। এই নিয়ে তখন দেশের পন্ডিতরা কষে ভদ্রস্থ গালি দিচ্ছিলেন, এটা বলার পেছনে নাকি তাঁর মনে কু আছে। ঠিকই তিনি বিন্দুমাত্র কালক্ষেপন করেননি!

প্রথমবার ক্ষমতার শীর্ষে থেকে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পর সাংবাদিকরা তাঁর অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলেছিলেন, 'আহ, এবার অন্তত আরাম করে সিঙ্গারা খাওয়া যাবে'।
মানুষটা সিঙ্গারা খুব পছন্দ করতেন কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ধরে চলতে হয় বলে বঙ্গভবনের ডাক্তারের বারণ ছিল।

আফসোস, শেখ হাসিনার জোর অনুরোধে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় গিয়ে ক্রমশ মানুষটা আলীগের পুতুলে পরিণত হয়েছিলেন। তোতা পাখির মত কেবল অন্যের মুখস্ত বুলি আউড়ে যেতেন, এটাই নাকি সংবিধানের দস্তুর। হায় সংবিধান, কেমন অদৃশ্য শেকল জড়িয়ে যায় এই ভালমানুষটার গায়ে!

*'সাদাকে কালো বলিব' বই থেকে:
**স্কেচস্বত্ব (আসলে ডুডল): সংরক্ষিত

মানুষটার খোঁজ রাখার প্রয়োজন ফুরিয়েছে আজ আমাদের!

গরিব দেশে ধনী ভাবনা- 'গরিবারোগ'

ব্রিটিশ আমলের এই রেলের বাংলো টাইপের কোয়ার্টারগুলো দেখে এখনও মনটা অন্য রকম হয়। (নানার রেলে চাকুরিরসূত্রে এমন একটা রেল-বাড়ির সঙ্গে আমার অনেকখানি স্মৃতি মাখামাখি হয়ে ছিল। ওটা কী এখনো আছে নাকি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে জানি না। কী রোবটই না হয়েছি, কাজে-অকাজে বেলা বয়ে যায় অথচ খোঁজ নেয়া আর হয়ে উঠে না!)

ব্রিটিশ আমলের এই স্থাপত্যগুলো অবহেলায় বিনষ্ট হচ্ছে, প্রায় বসবাস অযোগ্য। এখন শুনতে পাই, এইসব স্থাপনাগুলো ভেঙ্গে নাকি হাল-ফ্যাশনের কোয়ার্টার করা হবে।

হে আমার দরিদ্র দেশ, তোমার কাছে আমার দাবীটা খুব সামান্য। অন্তত এমন একটা স্থাপনা কী অক্ষত রেখে দেয়া যায়?
অন্তত পরবর্তী প্রজন্মকে যেন আমরা বলতে পারি, ব্যাটারে, বুঝলি, এইটা না...বুঝলি...শীতের দিনে ইংরেজ সাহেবরা আগুন জ্বালাত। এইটা না ফায়ার-প্লেস; ওটা না চিমনি, ওইটা দিয়ে ধোঁয়া বের হত, ...গলগল করে বুঝলি রে, ব্যাটা...।
ছবিস্বত্ব: সংরক্ষিত