Search

Loading...

Saturday, February 28, 2009

দানবের হাতে ক্ষুর!

আমাদের দেশটা বড় বিচিত্র। আমরা লাগাই ধুতুরা গাছ, প্রবল আশায় থাকি এটায় ধরবে আম!
গোটা দেশে, সম্ভবত ৩টা জেলা ব্যতীত, সবগুলো জেলায় একসঙ্গে, প্রায় একই সময়ে বোমা ফাটায় জঙ্গিরা- আমরা কেউ কিচ্ছু জানি না। সরকারের গোয়েন্দা বিভাগের দুঁদে-চৌকশ লোকজনরা টেরটিও পেলেন না। ভাগ্যিস, জঙ্গিরা এদের আন্ডার গার্মেন্টস খুলে নিয়ে যায়নি!

দানব বানাবার কারখানা খুলে, দানবের হাতে কেন ক্ষুর এই প্রশ্ন রসিয়ে রসিয়ে করা যায় বটে কিন্তু উত্তর দেবে কে?
দিনে-দিনে, ফোঁটায় ফোঁটায় জমে উঠা বিডিআরদের ক্ষোভ, ডাল-ভাত কর্মসূচি, বেতন বৈষম্য, চেইন অভ কমান্ডে গলদ; কেউ টেরটিও পায়নি-
কেমন করে এটা সম্ভব? প্রধানমন্ত্রী এর আগের দিন পিলখানায় গেলেন তখন লিফলেট বিলি করা হয়েছিল, কেউ গা করল না কেন?
আমার ধারণা, গোয়েন্দা বিভাগে টোকাইদের ভর্তি করলে এরা অনেক ভাল কাজ করে দেখাতে পারত।
নাকি গোয়েন্দারা তাঁদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন ঠিকই; উপরওয়ালারা (উপরওয়ালা বলতে আমি ঈশ্বরের কথা বলছি না, যারা দেশটার চাকা বনবন করে ঘোরান)গা করেননি, রিপোর্টগুলো সর্দি মুছে ফেলে দিয়েছিলেন।

এমনিতে কেন আমরা বিস্মৃত হই, আর্মি-বিডিআর আর আম-জনতা সবাই এই দেশেরই সন্তান। হাতের পাঁচ আঙ্গুলের মত- কোন আঙ্গুল খাটো, কোনটা লম্বা এই যা। সামরিক লোকজনদের আমরা বিশেষ পছন্দ করি না, জনতাকেও এরা পছন্দ করেন না। কেন এমনটা হয়? কেন আমরা এদের চোখে সিভিলিয়ান থেকে ব্লাডি সিভিলিয়ান হয়ে যাই! এ সত্য চোর-চোট্টায় দেশটা ভরে যাচ্ছে কিন্তু কোথায় এর ছাপ নেই!

আরেকটা বিষয় আমাকে হতভম্ব করেছে। বিভিন্ন ওয়েব-সাইটে ঘুরে ঘুরে দেখেছি, স্পষ্টত ২টা ভাগ। যেন টকটকে লাল একটা আপেলকে কেটে দু-ভাগ করা হয়েছে, কেউ আর্মির পক্ষে তো কেউবা বিডিআরের পক্ষে- লাশের পাশে খুব কম মানুষ। এটাও সম্ভবত অমাদের বৈশিষ্ট, জন্মের পর থেকেই আমাদের বিভাজন শুরু হয়। বাচ্চাটা মানুষের না প্রানীর, হিন্দু না মুসলমান? ক্রমশ বড় হলে কোন দল, কোন এলাকার? এ থেকে আমাদের মুক্তি নাই- স্বাধীন দেশে পরাধিন মানুষ দলবাজির শেকলে বাঁধা। যারা কোন বিশেষ পক্ষে নাই তাদের চেয়ে অভাগা আর কেউ নাই।

এটা কেন আমি একজন মানুষের কাছ থেকে একজন মানুষের আচরণ আশা করতে পারব না। (এই অপমান কেমন করে ভুলি, আমাকে অনাহুতের মত গেইটে ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখা হয়েছে। ক্যাপ্টেন নামের মানুষটা আমার সামনে বসে চা খাচ্ছেন অথচ এক কাপ চা আমাকে অফার করা হয়নি। অথচ আমি আমার সত্য একটা দাবি নিয়ে গিয়েছিলাম এবং তার এক সিনিয়রের কথামতে। পরবর্তীতে কেন এই অপরাধে আমার উপর খড়গ নেমে আসবে। অবশেষে নিরুপায় আমাকে হাইকোর্টের কব্জা নেড়ে বাঁচতে হবে?)
কিন্তু কেন আমরা ভুলে যাব সেই হাতের আঙ্গুলের কথা, এরাই কেউ না কেউ আমাদের স্বজন-বন্ধু। আমাদের স্বজনের, বন্ধুর লাশ এভাবে পড়ে থাকবে আর আমরা অতীতের ক্ষোভ পুষে রাখলে দানবের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য রইল কই!


আমি বলছি না এটা, ইউনিফর্ম গায়ে দিয়ে একেকজন ভাঁড়ের আচরণ করুক কিন্তু রোবট হওয়ার অবকাশ কোথায়, হতে হবে কেন? শিক্ষা নেয়া যেতে পারে এখান থেকে, থাইল্যান্ডের আর্মিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, হাসিমুখে থাকার জন্য যেন জনতা তাদের কাছাকছি ভাবে।



সামরিক-বেসামরিক লোকজনরা প্রতিপক্ষ হয় কেমন করে?
প্রবাসে সামরিক অল্প ক-জন মারা গেলে বুক ভেঙ্গে কান্না আসে, জাতীয় শোকদিবস থাকে। তা থাকুক, আমরা দোষ ধরছি না কিন্তু বেসামরিক ৩০০জন যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ডুবে গেলে তাদের স্বজনদের চোখ ভরে আসে না বুঝি? কী হেলাফেলা ভঙ্গিতে মৃতদেহগুলোকে আমরা পশুর খাবার হতে দিয়েছি! সেই লঞ্চ উদ্ধারের ন্যূনতম চেষ্টাও হয়নি।

কে ভাল কে মন্দ সেই বিচারে এখন আমি যাচ্ছি না। এমন আর্মি অফিসারও আছেন যিনি একটা ফোন করে সরকারি কোষাগারে ৩ কোটি টাকা জমা করিয়ে সিনিয়র অফিসারের লাল চোখ দেখেছেন। কুখ্যাত সন্ত্রসীকে ছেড়ে দেয়ার জন্য ২ কোটি টাকা পায়ে ঠেলে ফেলেছেন।
পাশাপাশি বিডিআরদেরও দেখেছি অল্প কয়েকজন জওয়ান প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে, প্রাণ বিসর্জন দিয়ে তার চৌকি রক্ষা করেছেন (পদুয়া, রৌমারি)। শত-শত অহংকারি বিএসএফকে আটকে দিয়েছিলেন। পুরস্কৃত করার বদলে এই বীরদের আমরা বাধ্য করেছিলাম নতজানু হতে। চীফের চাকরি যায়-যায়।


এই দেশটার মত হতভাগা আর কেউ নাই। যতক্ষণ পর্যন্ত তার সন্তানদের রক্ত না ঝরবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার সন্তানদের অধিকার আদায় হবে না। শিক্ষাঙ্গন বলুন আর রাজপথ। মসজিদও বাদ থাকেনি, জুতাজুতি করে অধিকার আদায় করতে হয়। ওই যে বললাম, বিভাজন শুরু হয় জন্মের পর থেকেই, মুসুল্লিরাও কোন দলের এটা বা বাদ থাকবে কেন?



পুলিশের বেতন সংস্কার প্রস্তাব বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। পুলিশের আই জি নিদারুন বেদনায় বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, 'প্রস্তাব গেলেই আটকে যায়, এই জট আর খোলে না'।
বলতে বুক কাঁপে কিন্তু আমরা কী পুলিশ বিভাগেও এমন একটা ঘটনা ঘটার অপেক্ষায় আছি। পরে জনে জনে বলে বেড়াব, 'দানবের হাতে ক্ষুর কেন'?
এমনটাই চলবে। অভাগা আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখব।


..........................................

সত্রাসে আজ অনেকে পরীক্ষা দিয়েছে। ১ দিনের জন্য চলতি পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে প্রলয় শুরু হয়ে যেত বলে আমি মনে করি না। যায় যদি যাক প্রাণ, কেজি দরে প্রাণ- অভাগা দেশের শস্তা প্রাণ! আজ যদি কোন পরীক্ষার্থীর প্রাণ যেত আমরা উপরের দিকে মুখ তুলে বলতাম, আফসুস, হায়াত আছিল না।

এরিমধ্যে ২দিন চলে গেছে।
এই পোস্টের সঙ্গে ছবিটা দেখে আমার বুকটা হাহাকার করে উঠে। লাশ নামের মানুষটার গায়ের এই ইউনিফর্মটা খুলে ফেললে যে শরিরটা পড়ে থাকবে সেটা আমার সঙ্গে হুবহু মিলে যাবে এতে সন্দেহ নাই!

এখন যেটা ঘটে গেল এটার চেয়ে ভয়াবহ, অসহ্য আর কিছু হতে পারে না। আমার সহ্য হচ্ছে না। এতগুলো প্রাণ...! আমি কায়মনে প্রার্থনা করছি, হে পরম করুণাময়, আর যেন এক ফোঁটা রক্ত না ঝরে। যে প্রাণগুলো বিনষ্ট হল তাদের মধ্যে নিরপরাধ যারা, কে ফিরিয়ে দেবে তাদের? শিশুদের চোখ থেকে কেমন করে মুছে ফেলা যাবে তীব্র আতংক!

শিশুটি কী সামরিক নাকি বেসামরিক বাবা-মার সন্তান, এ প্রশ্ন বৃথা। শিশুটি আজীবন ফাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে তার বাবা-মার ছবির দিকে।
একদা বড় হবে। বাবা-মার কাপড় হাতড়ে খুঁজে ফিরবে স্বজনের গায়ের গন্ধ। হায়, কোথায় সেই ঘামের গন্ধ, নাকে ভক করে লাগবে ন্যাপথলিনের ঝাঁঝালো গন্ধ!

প্রিয়মানুষ হারানো বধুর হাতের মেহেদী রং সামরিক নাকি বেসামরিক এই তর্ক থাকুক পশু-মানবের জন্য।
এই মানুষটার চোখের জলের সঙ্গে কী জলপাই রং মেশে?
মানুষটা কোন প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরে আছে তাতে কী আসে যায়? পৃথিবীর এই একটা ভাষা হুবহু এক। কেউ হাউমাউ করে কাঁদে, কেউ চোখ চেপে। এই পার্থক্য!

এখন আমি পুরোপুরি বিভ্রান্ত- পাগল পাগল লাগছে নিজেকে। ক্ষোভের প্রকাশ এমনটা হতে পারে আমি বিশ্বাস করি না। মিছিলের মত আসছে লাশের পর লাশ- কোন অন্যায় বাদ থাকেনি।
মাথায় কেবল ঘুরপাক খাচ্ছে, এত মৃত্যু কেন- এত নৃশংসতা কেন? অতীতেও অনেক চৌকশ মানুষ 'সামরিক লাশ' হয়ে গেছে- সঠিক সত্যটা আমাদের জানা হয়নি। এবারও কী তাই হবে, কে জানে!

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী নানক সাহেবকে দেখলাম, বলছেন, 'ভেতরে লক্ষ-কোটি টাকা বিলি করা হয়েছে'। তাও উম্মুক্ত হ্যান্ড-মাইকে!! এত দ্রুত এমন বক্তব্য আমার বোধগম্য হচ্ছে না। খোলা রাস্তায় এইসব বলার কোন প্রয়োজন ছিল কী!
ধরে নিলাম সত্য কিন্তু অফিসারদের বিরুদ্ধে সৈনিকদের এই সেন্টিমেন্ট কাজে লাগাবার সুযোগ আমরা দিলাম কেন? জানলাম না কেন? কে নেবে এর দায়?

আরেকটা বিষয় নিয়ে আমার মনে হচ্ছে, জানি না কতটুকু যথার্থভাবে এই তদন্ত হবে কিন্তু আমি প্রবলভাবে চাইব এই টিমের সাথে অন্তত একজন যেন মনোবিদ থাকেন। যিনি এই চলমান দানবদের মস্তিষ্ক আতালি-পাতালি করে খুঁজে দেখবেন, উঁকি দেবেন; কোন পর্যায়ে গেলে একজন মানুষ এই পর্যায়ে নেমে আসে- কোন নিতলে এর উত্স। একজন মানুষের ভেতরে লুকিয়ে খাকা পশুটা কেমন করে অবলীলায় বের হয়ে আসে।

অন্য রকম পশুত্ব দেখেছি মিডিয়াকে, এরা লাশ নামের একেকজন মানুষকে এমনভাবে দেখিয়েছে যা বর্ণনার বাইরে। এদের সামান্যতম বিবেক বোধটুকুও নাই যে ছবিগুলেতে সামান্য আড়াল ব্যবহার করা প্রয়োজন। এটা এদেরকে শেখাতে হবে কেন? ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো তো নানা কায়দা-কানুন করে আমাদেরকে শেখাতে উদগ্রীব হয়ে থাকে। মিডিয়ার প্রয়োজন রগরগে খবর, ক-টা প্রাণ গেল সেটা আলোচ্য বিষয় না

আমাকে আরও যা বিভ্রান্ত করেছে, একটা ওয়েব-সাইটে একজন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ভাগ্যিস আমাকে দালাল বলেন নাই।
আজব, মানবতার পক্ষে কথা বলাও দোষের! হা ঈশ্বর!

আহা, যারা কোন দলে নাই তারা বড় অভাগা। খাপছাড়া- ভুল সময়ে ভুল মানুষ! এদের যাওয়ার কোন জায়গা নাই- এদের জন্য ইচ্ছামৃত্যুর অপশনটা থাকলে বেশ হত।

ছবিঋণ: প্রথম ছবি, 'ফোকাস বাংলা', ২য় ছবি: অজ্ঞাত (অজ্ঞাতের সূত্র পাইনি বলে ক্ষমা প্রার্থনা করি, এটা আমার ব্যর্থতা।)

Wednesday, February 25, 2009

৭১-এর চিঠি...গুলি

ছবিঋণ: মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হান্নান। তাঁর বাবার লেখা চিঠি।



ছবিঋণ: মুক্তিযোদ্ধা (দুর্দান্ত ক্ষোভে পরিচয় দিতে যার তীব্র অনীহা)। ৭১-এর স্টেনগানের গুলির খোসা।

মুক্তিযুদ্ধের আরও ছবি

শুভ জন্মদিন, এমন কাপিতানরা জন্মাক বারবার!

ইহা একটি প্রথম শ্রেণীর দৈনিক

"২০ এপ্রিল, ২০০১ প্রথম আলো এএফপি’র বরাত দিয়ে প্রথম পাতায় বিশাল একটি ছবি ছাপিয়েছিল। ছবিটা যে কী ভযাবহ তা যারা একবার দেখেছে দ্বিতীয়বার দেখতে চাইবেন না। আফসোস, আমি মতিউর রহমানের মত 'নেকাপড়া' জানা মানুষ হলে নিশ্চয়ই এখন এখানে পোস্ট করে দিতাম! কিন্তু আমি মতিউর রহমানের মনন স্পর্শ করার কু-ইচ্ছা প্রকাশ করি না।
ছবিটা এমন, বিডিআর কর্তৃক হত, গ্রামবাসী বাঁশে ঝুলিয়ে পুরোদস্তর ইউনিফর্ম পরা
একজন মৃত বিএসএফ-এর লাশ বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে শব বয়ে নিয়ে যেতে দেখেছি কুকুর শুকরের।

প্রথম শ্রেণীর (এদের দাবীমতে) দৈনিকটির সৌজন্যে যে দৃশ্য দেখেছি এতে আমি স্তম্ভিত, ক্রদ্ধ। রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে। মানবজাতির নগণ্য একটা অংশ হিসাবে আমি লজ্জিত। নিজেকে বড় নগ্ন-কাতর মানুষ মনে হচ্ছে।
যে বিএসএফ পোশাকধারী মানুষটার মৃতদেহ হাত-পা বেঁধে কুকুর-শুকরের মত ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, প্রথম শ্রেণীর দৈনিক কর্তৃপক্ষ কী মনে করেন এই গ্রহে ওঁর কোন প্রিয় মানুষ নেই! এই গ্রহে কি এমন একটা ভালবাসার ক্ষুদ্র শেকড়ও ছিল না যে এই মানুষটাকে অমানুষিক শক্তিতে ধরে রেখেছিল। এতো গেল মানবিক দিক, মুদ্রার এক পিঠ। অন্য পিঠ।

ভারত যারা চালাচ্ছেন তারা যদি এই একটা ছবির কারণে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেন এর দায় কে নেবে, এই প্রথম শ্রেণীর দৈনিক, না এএফপি? তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম এএফপি। কিন্তু মুক্তচিন্তা-শক্তচিন্তা, প্রথম শ্রেণীর দৈনিক বলে নিজের ঢোল নিজেই যে ফাটিয়ে ফেলছে তাদের কী কোন দায়বদ্ধতা নেই? ফলাও করে লিখে দিলেই হলো আজ আমাদের পত্রিকা ছাপা হলো এত লক্ষ বাহাত্তর হাজার ... শূন্য ... শূণ্য কপি। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী আমরা নিজেরাই। কী অসভ্য অহংকার!

যুদ্ধের প্রয়োজনে একজনকে গুলি করে মেরে ফেলা আর তাঁর মৃতদেহের প্রতি অপমান করা কী একই কথা! পত্রিকাটির পোষা বুদ্ধিজীবী মহোদয়গণ কী বলেন? ত্রিকালদর্শী গব্বর চৌধুরী স্যার কী বলেন, ছবিটির অন্য কোন সমস্যা নেই তো- আসলে এটা একটা কুকুরের ছবি ছিল বিচিত্র করণে মানুষের ছবি হয়ে গেছে? স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জি, এস , এম পদ্ধতিতে নিশ্চই সুদূর লন্ডন থেকে রহস্য উদঘাটন করে ফেলেছেন। প্লিজ স্যার, ফরমায়েসী সুদীর্ঘ একটা কলাম লিখুন। প্রথম শ্রেনীর দৈনিকে নিশ্চয়ই ছাপা হবে।

এদেশে ক্ষমা প্রার্থনা করার চল তেমন নেই নইলে প্রথম শ্রেণীর দৈনিকটির সম্পাদককে বলতাম, সমস্ত পাঠকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
দৈনিকটির সম্পাদক পার্কের গাছ কাটা নিয়ে মর্মস্পর্শী এক প্রতিবেদন লিখেছিলেন- চোখ বড় বড় করে, লেখাটা পড়ে ভাবছিলাম জলভরা চোখে, আহা কী মায়া গো লোকটার মনে! এমন বড় মাপের মানুষটার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার প্রত্যাশা কী খুব বড় চাওয়া?"

*এই অংশটুকু নেয়া হয়েছে 'সাদাকে কালো বলিব'
(২০০৫) থেকে

**
একটি নিরীহদর্শন বোমা 'লিটল বয়' যেমন যথাসময়ে কেড়ে নিতে পারে অসংখ্য প্রাণ তেমনি এমন একটা ছবি কী তান্ডব করতে পারে তা সময়ই বলে দেয়! কেবল একটা ছবির কী অপরসীম ক্ষমতা তা আগাম আঁচ অনেকেই করতে পারেন না! আজ মনে হচ্ছে, ক্ষমা প্রার্থনার আকুলতা ছাই, মানুষটাকে চাবুক মারা প্রয়োজন ছিল।

Saturday, February 21, 2009

দাউদ হায়দার, শুভ জন্মদিন বলি কোন মুখে?

দাউদ হায়দার নামের এই দেশের এক অভাগা সন্তানের আজ জন্মদিন। এই দেশের মাটি কপালে মাখার অধিকার নাই যে মানুষটার, তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর নিয়ম আছে কী, জানি না!

কে কাকে মনে করিয়ে দেবে, একজন লেখককে যে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায় না। লেখক কেবল তাঁর নিজের কাঠগড়ায় দাঁড়ান। তারপরেও তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম তিনি শব্দের ছুঁরি মেরে মহা মহাঅন্যায় করেছেন। বেশ তো, আইনের মাধ্যমে শাস্তি দিন না, আটকাচ্ছে কে? খোদার কসম, আমরা কিচ্ছু বলব না।
হায়, এই দেশে মানুষকে কুপিয়ে ১৪৯ টুকরা করে ফেলা কসাই থাকতে পারবে, চোর-চোট্টা, বেশ্যার দালাল থাকতে পারবে, কুত্তা থাকবে পারবে, দরদর করে ঘামতে থাকা শুয়োর থাকলে দোষ নেই- কেবল একজন কবি থাকতে পারবে না। বাহ!

২১ ফেব্রুয়ারী কবির জন্মদিন। আজ দেশে কী লম্বা লম্বা বাতচিত, একুশের চেতনা ধারণ করতে করতে আমাদের একেকজনের শিরদাঁড়া বাঁকা হয়ে আসে। বইমেলার ধুলায় একটা কুত্তা গড়াগড়ি দিতে পারবে কিন্তু কবি এই মেলার এককিনি ধুলা গায়ে মাখতে পারবেন না! আহারে, আমার সোনার বাংলা অআমি তোমায় ভালবাসি!
৩৫ বছর আগে একটা বিতর্কিত(!) কবিতা লেখার অপরাধে এই মানুষটা (তখন তাঁর বয়স মাত্র ২০) এই গ্রহ বা গ্রহের বাইরে যে-কোন জায়গায় যেতে পারবেন, কেবল তাঁর জন্মভূমি ব্যতীত। হায় জন্মভূমি, স্বর্গ কোন ছার! মানুষটার বুক ভেঙ্গে আসে না এমন কবিতা লিখতে,
"...
এখনও আশায় আছি
যদি কেউ ফেরায় সস্নেহে, পিতৃদেশে।"

বা এই লেখাটি,

"কেটে গেল তিরিশ বছর
এখনো নির্বাসনে।
সে যে ছেড়েছি দেশ
প্রথম যৌবনে
ভুলেই গিয়েছি মাটির গন্ধ
জলের জীবন।"

হায় অভাগা জন্মভূমি, কেমন অভাগা তুমি, লাজে মরে যাই তোমায় দেখে, কেমন করে পারলে তোমার সন্তানকে ফেলে দিতে! ভুল বললাম, তার চেয়েও বিভত্স নিষ্ঠুরতা। এরচেয়ে ফাঁসিও অনেক সহনীয় ছিল বলে আমি মনে করি! অন্তত আমি হলে বেছে নিতাম।
এই কবিকে পর্যটকের মত ক-দিনের জন্য আসার অনুমতিটুকুও দিতে কার্পন্য এই সোনার দেশের। আহা, সোনার দেশ, এই দেশের সবটা সোনা হয়ে গেলে কবরের জায়গাটুকুও থাকবে না যে!


ছবিঋণ: Poet Daud Haider (Left), www.sezanmahmud.org
কৃতজ্ঞতা হাসান ফেরদৌসের কাছে যিনি আমাদেরকে মনে করিয়ে দিয়েছেন আজ কবির জন্মদিন।

*দাউদ হায়দার, তোমাকে কাছে খোলা চিঠি: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_7633.html 

Friday, February 20, 2009

ধুতুরা গাছে আম ধরে না।

এই প্লাস্টিকের চেয়ার নিয়ে একটা খেলা হয়েছে, চেয়ার ছোড়াছুড়ি। আপাতদৃষ্টিতে সামান্য একটা ঘটনা, কহতব্য না। কিন্তু এই ছবিটার পেছনে লুকিয়ে আছে একেকজন চলমান দানব বানাবার বীজ। আমার ধারণা, এই দানবদের আটকাবার শক্তি কারো নাই, এদের নিজেরও নাই!

ছাত্রলীগের ২টা গ্রুপের বসাবসি নিয়ে এই কান্ড! এই খেলা শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঞ্চে আসেন। পরে এদের নেতাদের নিয়ে হলহলা মুখে পায়রা উড়িয়েছেন! মিডিয়ার প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু যেটা বলে পন্ড করেছেন সেটা হচ্ছে, '২০০১ সালে জোট সরকারের হত্যা, নির্যাতন...তখন পত্রিকাওয়ালারা কিছুই লিখত না'।
এটা বলার মানে হচ্ছে প্রকারান্তরে নিজ সন্তানকে বখে যেতে প্ররোচিত করা। অনেকটা এমন, অন্যদের সন্তানরা তো আমার সন্তানের চেয়ে অনেক দুষ্টু। ফলাফল পিত্তশূল- আমার সন্তানের শিক্ষায় গোড়াতেই গলদ থেকে যাবে। ধামড়া হয়ে এরা যে পিড়িং পিড়িং করে বাদ্য বাজাবে না এতে অবাক হওয়ার কিছু নাই!

ভয়াবহ বললেও কম বলা হবে। দলীয় সব জ্যেষ্ঠ, তাবড় তাবড় নেতা, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শত শত সদস্য, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), এসএসএফ; এদের উপস্থিতিতে এরা বাদামের খোসার মত চেয়ার নিয়ে জাগলিং করেছে, ঘুসাঘুসি করেছে, কস্তাকস্তি করেছে- ত্রাস সৃষ্টি করতে পুরাপুরি সফল হয়েছে! সবাই দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিলেন।
এদের তেমন কোন শাস্তি হয়েছে বলে তো আমরা জানি না।

এই পিজিআর, এসএসএফদের বিষয়টা আমাকে ভাবচ্ছে! আমার ভাবনায় ধোঁয়া দিয়েছেন স্বয়ং সেনাপ্রধান, জেনারেল মইন ইউ আহমেদ। 'শান্তির স্বপ্ন' বইয়ে, এই পিজিআর, এসএসএফদের নিয়ে তিনি লেখেন (বঙ্গভবন যাওয়ার প্রাক্কালে), "এমনকি ভিভিআইপি'র জীবনের উপর কোন হুমকি মনে করলে তারা (পিজিআর, এসএসএফ) যে কাউকে হত্যা করতে পারে। ...এরা সেনাবাহিনী কিংবা অন্য কোন বাহিনীর চেইন অব কমান্ডের আওতাধীন নয়। ...আমি জানতাম, হতে পারে এ যাত্রাই...কে জানে হয়তো আমার জীবনের শেষযাত্রা"।

তাই কী! এখানে তো দেখছি এসএসএফের লোকজনরা একেকটা পুতুল! এসএসএফ তাহলে পাপেট না,
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখে? জেনে ভাল লাগল! 

ছবিসূত্র: অজ্ঞাত
(ছোড়াছুড়ির দৃশ্যটার ইউটিউবে ভিডিও ক্লিপিংসটা খুঁজে পাচ্ছি না। পেলে একটা কাজের কাজ হত। আহ, সে এক দেখার মত দৃশ্য বটে। দেখে জীবন সার্থক হয়)।

Thursday, February 19, 2009

এইসব অসভ্য বিজ্ঞাপন বানায় কোন চতুষ্পদ?

টিভিতে একটা বিজ্ঞাপন দেখাত, নিয়ম করে দেখাত। মূল চরিত্রে অপি করিম, তার বিয়ে হয়েছে। বিদায়ের ক্ষণ উপস্থিত।
হঠাৎ অপি করিম হাস্কি ভয়েসে চিৎকার করে উঠেন, 'না-না, আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না'।
প্রথমেই যে কারও মনে হবে, অপি করিমের এই হাস্কি চিৎকার, তার বাবা-মার জন্য! নিমিষেই অপি ঝড়ের গতিতে ছুটে যাবেন, লাইক আ পিলার!


এর পরই আমার দেখা পৃথিবীর কুৎসিত একটা দৃশ্য, অপি বিশেষ একটা ব্রান্ডের টিভির গায়ে পরম মমতায় তার গোদা গোদা হাত বুলিয়ে হাসের ডিমের মতো চোখে জল এনে বলবেন, 'না-না-না, আমি ... টিভি ছাড়া থাকতে পারব না'।
কোন গর্দভের মাথা থেকে এই আইডিয়া বেরিয়েছিল আমি জানি না। নিশ্চয়ই এদের শিক্ষায় খুব বড়ো ধরণের ঘাপলা আছে, একেকজন টলমান রোবট। আই বেট, পণ্য বিক্রি করার জন্য এরা মাকেও বিক্রি করে দেবে! এই দেশের জন্য এখন সবচেয়ে বেশি দরদ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর, সেল
কোম্পানিগুলো আরেক কাঠি এগিয়ে

সম্প্রতি এমনই এক 'ফাজিলিয়া' বিজ্ঞাপন করলেন জয়া আহসান। আবার ফাজিল-ফাজিল টাইপের মন্তব্যও করেছেন, 'আসলে আমরা এমন নতুন ধরনের বিজ্ঞাপনের সংগে অভ্যস্ত নই...'।
অপেক্ষায় আছি, মৃত মডেল তিন্নি এসে হাজির হয়ে বলবেন, আরে, আমি তো অভিলিংক সেলফোনে এট্টু অভিনয় করছিলাম। গাধা পাবলিকরা এমন 'নটুন'...।

একজন ভদ্রমহিলা সম্বন্ধে কটু কথা বলতে ইচ্ছা করছে না। তবে মডেল শাহেদের জন্য যে কথাটা বলেছি তা আপনার জন্যও প্রযোজ্য, ডিয়ার জয়া। ভাল পেমেন্ট পেলে...।

Wednesday, February 18, 2009

আমার সবিনয় বক্তব্য

বিতর্কটা জমে উঠছে দেখে স্বস্তি পাচ্ছি না। শুধু অল্প কথায় বলব, সব কিছু নিয়ে বিতর্ক চলে না। বিষয়টা এমন, কেউ আমার মাকে গালি দিয়ে বলল, আসেন বিতর্ক বিতর্ক খেলা খেলি। এই খেলা আমি খেলব না। কেউ আমার মাকে গালি দিলে সে স্রেফ খুন করে ফেলব!

আমি চেয়েছিলাম নিঃশব্দে এখান থেকে সরে আসতে। কেন ভজকট হয়ে গেল সেই প্রসঙ্গে আর যাই না।

আজ সকাল থেকে আমি তোপের মুখে পড়ে গেছি। ২টা কারণে।
১টা আমার ব্যক্তিগত সমস্যা- এখানে বলে বিরক্তি উদ্রেক করি না।
অন্যটা আমাকে নিয়ে লেখার সূত্র ধরে। মেইল বক্সে ঝপ করে নেমে আসা অসংখ্য মেইল। এখন পর্যন্ত আমি অনেকের মেইলের উত্তর দিতে পারিনি বলে ক্ষমা প্রার্থনা করি। ট্রাস্ট মী, কাজটা ইচ্ছাকৃত না।

আমি মোটা চিন্তার, মোটা খাবার খাওয়া মানুষ, নিরিবিলি জীবন যাপন এবং একান্তে দু-কলম লেখালেখি করা চেষ্টাতেই আমার আনন্দ। আর কীই বা লিখি ছাতাফাতা, হালকা চালের এইসব লেখা সর্দি মুছে ফেলে দেয়ার জিনিস।

সামহোয়্যারে যাওয়ার অনেক কারণের একটা ছিল নিজেকে খানিকটা চেনা- বিশ্বাস করেন, ওখানে অনেকের মনন দেখে লজ্জায় মাথা কাটা যেত।

ওখানে শিখলাম অনেক কিছু। এও শিখলাম বিতর্কে জড়িয়ে যাওয়া আমার কর্ম না। আমার পক্ষে এই আলগা চাপ নেয়া সম্ভব হয় না। এখনও আমি এই চাপ নিতে পারি না। আমার প্রিয় মানুষরা থাকতেন সত্রাসে। এক সময় সবিরাম যাত্রার সমাপ্তি!

এ ছাড়া আরও সমস্যা ছিল, আমার জ্ঞানের স্বল্পতা এবং ভয়াবহ রকম বাজে স্মৃতিশক্তি! কথার পিঠে কথা চালিয়ে যাওয়ার জন্য যে সূত্রগুলো প্রয়োজন সময়মতো আমি এর যোগান দিতে পারতাম না।তাছাড়া হাবিজাবি লিখে দেয়া এক জিনিস আর জনে জনে এইসব লেখার ব্যাখ্যা দেয়া আমার 'কম্ম' না!

সামহোয়ারের পরে এখানে কেন আসলাম এটা নিয়ে বিস্তারিত বলি না, আহা, মায়াভরা মুখগুলোকে পিঠ দেখাই কেমন করে! আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, আমাকে এই সম্মান দেয়ার জন্য। এবং নতজানু হয়ে বলি, আমি আপনাদের এই সম্মান রাখতে পারলাম না।
কেন?

এখানে যারা পুরনো আছেন তারা অনেকেই জানেন সামহোয়ারে আমার যথেষ্ঠ কুখ্যাতি ছিল আবেগীয় একজন মানুষরূপে। কিন্ত সেটা ছিল খানিকটা ইচ্ছাকৃত- ১৮ বছরের একজন অপরিণত বালকের দ্বৈত আচরণ।

আজ পরিণত একজন মানুষের ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত হচ্ছে, সব কিছু মিলিয়ে আপাতত এখানে লেখা হয়ে উঠবে না। বেশ কিছু কারণের মধ্যে একটা বলি, এক্ষণ আমি লেখব একটা বাড়তি চাপ নিয়ে এবং অন্যদের উপরও অহেতুক চাপটা পড়বে। আমার লেখায় মন্তব্য করার পূর্বে চলে আসবে আড়ষ্টতা। পরিবেশটা থাকবে মেকি। জীবনটা গড়িয়ে যাওয়া পানির মতো- পানিটা যখন বদ্ধ হয়ে পড়ে তার টলটলে ভাবটা থাকে কই! আমি জানি অনেকেই আমার প্রতি অযাচিত মমতা বোধ করেন। আমার প্রবল আশা, আমাকে অন্তত ওই মানুষরা বুঝতে পারবেন।

আমি কায়মনে চাই, এই সাইটটা দাঁড়িয়ে যাক। প্রবাসে আমাদের দেশের যেসব সেরা সন্তানরা পড়ে থাকেন তাঁদের জন্য থাকুক খানিকটা নির্মল বাতাস, দেশের সোঁদা মাটির গন্ধ। আর দেশের জন্য একবুক মমতা।

প্রবাসীদের জন্য আমার অযাচিত টানটা কেন আমি নিজেও ভাল করে জানি না- হয়তো এজন্যে প্রবাসে আমাকে কখনও থাকতে হয়নি। থাকতে হবে এটা ভাবলেই আমার বুকের গভীর থেকে হাহাকার করে উঠে। আমার কেবলই মনে হয় দেশের জন্য যখন এদের নিজেকে পাগল-পাগল লাগে তখন হাত বাড়িয়ে বলি, এই দেখ পাগল, কেমন ছুঁয়ে দিলাম।

আমি পরামর্শ দেয়ার স্পর্ধা দেখাই না। সবাইকে অনুরোধ করি, বাতাসটা আটকে রাখবেন না- তাইলে আর নির্মল থাকে কই! আরেকটা কথা, জীবনটা বড়ো ছোট এবং একটাই মাত্র জীবন, রিটেকের কোন সুযোগ নাই। আমাদের মায়াভরা চোখটা থাকুক সর্বদা আমাদের সঙ্গে।

এবং একেকজন একেক রকম- কাজ করারর ভঙ্গিও ভিন্ন। আর এটা জরুরী না আমরা অন্যের সঙ্গে একমত হব- প্রায়শ আমরা নিজের সঙ্গেই একমত হতে পারি না। তবে অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করাটাও একজন ভাল মানুষের জন্য খুব জরুরী।

ভাল থাকবেন গো সবাই।

কয়েদী: ২

 
"শহীদ সাহেব দ্রুত দাঁড়ি কামাতে গিয়ে গাল অনেকটা কেটে ফেলেছেন। দরদর করে রক্ত বেরুচ্ছে। টিস্যু চেপে রক্ত মোছার চেষ্টা করছেন। তিনি চাচ্ছিলেন কাউকে না জানিয়ে চুপিসারে বাসা থেকে বেরুতে কিন্তু গোল বাধল জুতো খুঁজে পাচ্ছেন না। জুতো ছাড়া অফিসে গেলে বসের আজেবাজে কথা শুনতে হবে।

সুমিকে ঘুম থেকে উঠালেন। সুমির ঘুমে চোখ ফোলা। চোখ বড় বড় করে বলল, ‘বাবা, কী আশ্চর্য, তুমি অফিসে যাচ্ছ!’
‘যেতে হবে রে মা, চাকুরীর ব্যাপার।’
‘বাবা-বাবা, এই হরতালে তুমি যাবে কিভাবে! প্লিজ বাবা, যেও না, দোহাই তোমার।’
‘মা-রে, দু-দিন যাইনি। আজও না গেলে চাকরি থাকবে না!’
‘যেও না বাবা প্লিজ। তুমি গেলে আমি দুঃশ্চিন্তায় মরে যাব।’
শহীদ সাহেব সুমীর মাথায় হাত রাখলেন। ‘কিছু হবে না মা, সন্ধ্যায় দেখবি তোর এই বুড়ো বাপ ঠিক ঠিক ফিরে আসবে।’
‘বাবা-!’
‘ মা নিষেধ করিস না, লক্ষী বেটি না আমার।’

সুমি ছলছল চোখে বাবার জুতো খুঁজতে লাগল। বাবাটা কেমন, জুতোতে কালি নেই। আশ্চর্য, মানুষটা নিজের সম্বন্ধে এত উদাসীন কেন! সুমি জুতো খুঁজে চেঁচিয়ে বলল, ‘বাবা, পাঁচ মিনিট, টিফিন দিয়ে দিচ্ছি।’
‘না রে বেটি, দেরি হয়ে যাবে।’
‘পাঁচ মিনিট বাবা, পাঁচ মিনিট। মাথা খাও আমার, বাবা যেও না।’

সুমীর কাছ থেকে শহীদ সাহেব বিদায় নিয়ে পা চালিয়ে হাঁটছেন। হরতালের কারণে রিকশা ছাড়া কিছুই চলছে না। কী দাম- দশ টাকার ভাড়া ত্রিশ টাকা চাচ্ছে! কিছুদূর হেটে হাঁপ ধরে গেছে। না পেরে একটা রিকশা নিলেন। সামনে জটলা দেখে রিকশাওয়ালা চেষ্টা করেছিল রিকশা ঘুরিয়ে নিতে। হইহই করে একঝাক তরুন রিকশা ঘিরে ফেলল।
‘এই শালার রিকশা ভেঙ্গে ফেল।’
রিকশাওয়ালা ভীত গলায় বলল, ‘ভাইজান, এইবার হরতালে রিকশা চলতাছে বইলাই তো বাইর হইছি।’
একজন হাত নেড়ে বলল, ‘ভাগ, শালা, খালি রিকশা নিয়া যা।'

এইবার শহীদ সাহেবকে নিয়ে পড়ল। ‘আঙ্কল, আস্‌সালামু আলাইকুম। কোথায় যাচ্ছেন এই সাত সকালে।’
শহীদ সাহেবের মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল, ‘অফিস যাচ্ছি।’
‘আঙ্কল, সর্বনাশের কথা বললেন দেখি। হরতালে অফিস, কী সর্বনাশ!’
শহীদ সাহেব দুরুদুরু বুকে ভাবছিলেন; ছেলেগুলো শিক্ষিত। সম্ভবত ভার্সিটিতে পড়ে। এরা নিশ্চয়ই বুঝিয়ে বললে বুঝবে। কতই বা বয়স এদের, সুমির বয়সের হবে।
‘বাবারা, অফিসে না গেলে আমার চাকরি থাকবে না।’
‘আহারে। চাকরি না থাকলে ব্যবসা করবেন। বুড়া মানুষ- সাহস তো কম না রিকশায় ঠ্যাং তুলে অফিসে যান। হাতে ওটা কি টিফিন বক্স? দেখি দেখি, এই খোল তো- ওয়াও, পরোটা ডিম।’ নিমিষে ভাগাভাগি করে এরা পশুর মতো চিবুতে লাগল।
একজন ঢেকুর তুলে বলল, ‘আঙ্কল, সার্টটা খুলেন।’

শহীদ সাহেব বিভ্রান্ত চোখে তাকিয়ে রইলেন। এইবার সত্যি সত্যি ভয় পেলেন। এখন এদেরকে খানিকটা বুঝতে পারছেন- এরা তাকে নিয়ে একটা মজার খেলা খেলতে চাচ্ছে। তিনি বিড়বিড় করে বললেন, ‘বাবারা, আমাকে যেতে দাও। বাসায় চলে যাব।’
‘না-না আঙ্কল, আপনাকে অফিসে যেতে হবে যে কিন্তু আঙ্কল আপনার তো অফিসের পোষাক তো ঠিক নাই। খুলেন-খুলেন, সার্টটা খুলেন ফেলেন।’
শহীদ সাহেব দেরি করছেন দেখে একজন ফড়ফড় করে পকেট ছিঁড়ে ফেলল। যেন কাঠের স্তুপে আগুন ধরাবার বাকি ছিল। কাপড় ছেঁড়ার শব্দে সবার মধ্যে একটা মাদকতা সৃষ্টি হলো। একসময় শহীদ সাহেবের গায়ে একটা সুতোও রইল না।

তিনি কান্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। বোধ শক্তি সম্পূর্ণ লোপ পেয়েছে।
ঝকঝকে দিন- গাঢ় নীল আকাশ- চারপাশের অতি ব্যস্ত মানবসন্তান- ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দ, সব কেমন দূরে সরে যাচ্ছে। তিনি দু-হাত ছড়িয়ে অবিকল ভিক্ষুকের গলায় বলছেন: আল্লার ওয়াস্তে আমারে একটা কাপড় দেন।"

 
*ছবিঋণ: ডেইলি স্টার। (আমি ডেইলি স্টারেই দেখেছিলাম কিন্তু তখন সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব হয়নি। অনেক খুজেঁও পাচ্ছিলাম না- পরে এই সূত্রে একটা নিউজপ্রিন্ট পত্রিকা ছাপিয়েছিল। পুরনো ওই কাগজের অবস্থা তখন যা-তা।)

**লেখাঋণ: 'কয়েদী' (২০০৫) বইটির এই অংশটুকু লেখার উত্স এই ছবিটি। এই ছবিটা অনেকদিন আমাকে তাড়া করত। এই ছবিতে পশুমানব নামের এমন একজন মানুষ আছেন যিনি পরবর্তীতে বিটিভি'র একজন দুঁদে উপস্থাপক হয়ে লম্বা লম্বা বাতচিত করতেন। ভাগ্যিস, এই মানুষটার মত শিক্ষিত হতে পারিনি। বড় বাঁচা বেঁচে গেছি!


***কয়েদী: ১

****কয়েদী বইটির সমালোচনা করেছিলেন আনোয়ার সাদাত শিমুল। ভাল ভাল কথা লিখেছেন বলেই না, তিনি লেখাটার মূল সুরটা চমৎকার করে ধরতে পেরেছিলেন বলে এটা আমার পছন্দের লেখা। 
"আমরা যখন কয়েদী এ গ্রহের সবচেয়ে বড় কারাগারের খবর পেয়েছিলাম আগেই। কিন্তু এবার যখন 'কয়েদী' পড়া শুরু করলাম তখন ক্রমান্বয়ে তিন পাশে গজিয়ে উঠে অক্ষমতার দেয়াল আর অন্যপাশে বাধা দেয় কষ্ট ও ক্ষোভের কপাট। গৌরবময় ইতিহাসের সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ যখন হরতাল নামক দানবের হিংস্র ছোবলের শিকার তখন নিষ্ঠুরভাবে দেশটির ১৪ কোটি মানুষ বন্দী হয় অদ্ভুত এক কারাগারে। এ কারাগারের পাঁচটি সেলের গল্প উঠে এসেছে আমাদের ব্লগার শুভ'র 'কয়েদী' উপন্যাসে। প্রথম সেলে আমরা দেখি - গার্মেন্টস মালিক জামিল আহমেদ এবং তার জাপানীজ বায়ার রিউনোসুকে আকুতাগাওয়ার গল্প। টানা অসহযোগ আন্দোলনের ফাঁদে ফ্যাক্টরী বন্ধ, শ্রমিকদের জীবন অনিশ্চিত। বৈরী পরিস্থিতিতে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশ ছাড়ে আকুতাগাওয়া। জামিল আহমেদ হারায় প্রসপেক্টিভ বিজনেস ডিল। তবে আকুতাগাওয়ার রেখে যাওয়া চিঠি ছুঁড়ে দেয় অনেকগুলো প্রশ্ন। দেশপ্রেমের অসহায় বোধ প্রকট হয়ে উঠে।
দ্বিতীয় সেলে রয়েছে মরণাপন্ন মায়ের মুখ শেষবারের মতো না দেখার যন্ত্রণায় সন্তানের করূণ কান্না। অসুস্থ মা'কে ঢাকা দেখতে যাওয়ার পথে সাকিবের ট্রেন আঁটকা পড়ে আখাউড়া জংশনে। বৌ-বাচ্চা নিয়ে সাতদিন বন্দী থাকে রেলের কামরায়। কয়েদী জীবনের উপায়হীন হাহাকার তখন কেবলই শুন্যে প্রকম্পিত হয়।
তবুও কয়েদী জীবন উপভোগ করে কেউ কেউ। তৃতীয় সেলে আমরা দেখি, হরতালের অখন্ড অবসরে একজন লেখক আনমনে লিখে যাচ্ছেন। দেশের ক্ষতি তাকে ভাবাচ্ছে না। 'পাঠক খাওয়ানো' রাজনৈতিক উপন্যাস লিখতে ব্যস্ত তিনি। ...এ অংশে 'কয়েদী'-র পাঠক খানিকটা খেই হারাতে পারে। তবে একটু ধৈর্য্য নিয়ে পরের সেলে তাকাতেই চোখে পড়বে - হরতাল দানবের আরেকটি কুৎসিত আঁচড়; অফিসগামী শহীদ সাহেবকে বিবস্ত্র করছে সন্তান-বয়েসী পিকেটাররা। মিরর অব দ্য সোসাইটির অভিজ্ঞ রাঁধুনির ক্যামেরা তখন ক্লিক ক্লিক ছবি তুলে যায়। এটুকু পড়ে পাঠক বিবেক কুঁকড়ে যায় অক্ষমতার যাতনায়। অনেকগুলো তীর এসে মূল্যবোধের ঘরে হানা দেয়।
উপন্যাসের শেষ অংশে আমরা দেখি - অসুস্থ দশ মাসের শিশুকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যাচ্ছে শাহেদ-ফারা দম্পতি। তিন ঘন্টার রাস্তায় মোড়ে মোড়ে হাত-পা ছড়িয়ে বসে থাকে হরতাল দানব। দানবের মেদ জমা শরীরের ফাঁক-ফোকর পেরিয়ে খানিকটা এগুলেও গন্তব্যে পৌঁছা যায় না। ...পিকেটাররা উৎসব করে ভাঙছে শাহেদের গাড়ী!
'কয়েদী' পড়ে প্রথমে মনে হতে পারে ঘটনাগুলো সম্পর্কহীন-বিক্ষিপ্ত। অমনটিই স্বাভাবিক। কয়েদখানার সেলগুলোয় পাশাপাশি থেকেও কোন যোগসূত্র স্থাপিত হয় না, অথচ খুব কাছাকাছি অবস্থান সবার। ঠিক তেমনি জামিল আহমেদ, সাকিব, লেখক, শহীদ সাহেব কিংবা শাহেদ - এরা আমাদেরই আশেপাশের মানুষ। হয়তো তাদের পাশের সেলে বাস করছি আমি-আপনি এবং আমরা। হরতাল প্রেক্ষিতে আমাদের এক একটি নিজস্ব গল্প পূরণ করে দেয় 'কয়েদী' কাহিনীর শুন্যতাগুলো!
'কয়েদী' সম্ভবত: বাংলাদেশে হরতাল নিয়ে লেখা একমাত্র উপন্যাস। বিবেক নাড়া দেয়া বইটি প্রকাশ করেছে জাগৃতি প্রকাশনী।"

Sunday, February 15, 2009

স্বপ্ন বিক্রি করবো- ফেরীওয়ালা হবো!

এই পোড়া দেশে লেখালেখি করে ভাতের পয়সা দূরের কথা, রুটিও মিলবে কিনা সন্দেহ! ঘাস, হাওয়া খেয়ে তো আর দিন চলে না। আশেপাশের সবাই ধাঁ করে বড়ো হয়ে যাচ্ছে! আমিই শালার যেই কে সেই রয়ে গেলাম- যেই লাউ সেই কদু!
এই দেশে কেমন কেমন করে যেন একটা বদ্ধমূল ধারণা জন্মেছে, যারা লেখালেখি করেন এরা অন্য ভুবন থেকে আসেন। এদের কিছু না খেলেও চলে- কপকপ করে চাঁদের আলো খেলেই চলে। এরা লেংটি পড়ে দেশউদ্ধার করবেন।

মার খাওয়ার পর এবার ঠিক করেছি নতুন একটা ব্যবসায় নামব। কি যে ব্যবসা করব, আগামাথা পাচ্ছি না! এমন একটা ব্যবসায় হাত দেব যেন নতুন কিছু একটা হয়, অনায়াসে পয়সা আসে!
দেখি, মার্কেট রিসার্চ কী রেজাল্ট দেয়!

আচ্ছা, আপনারা যারা প্রবাসে থাকেন, তারা কি আমাকে একটু সহায়তা করতে পারেন? না-না, টাকা-পয়সা দিতে হবে না, আইডিয়া দিয়ে। আপনারা তো হিল্লী দিল্লী চষে বেড়ান, আপনাদের তো অনেক বুদ্ধি! আপনারা দেশ থেকে যাওয়ার সময় হাবিজাবি অনেক কিছুই তো নিয়ে যান, যার যেটা ভাল লাগে বা দেশ থেকে প্রিয় মানুষরা যা গছিয়ে দেন।

আমি এইসব প্রডাক্ট বেচবো না। আমি বেচবো স্বপ্ন। কিন্তু ঝামেলা আছে। সারা রাত স্বপ্ন দেখি অথচ বিজ্ঞানীরা বলেন, এটা আসলে কয়েক সেকেন্ডের মামলা। ইস, বললেই হলো, বিজ্ঞানী হয়েছেন বলে মাথা কিনে নিয়েছেন! আরও ঝামেলা আছে। স্বপ্ন তো আর লাড্ডু না, প্যাকেট করে বেচে ফেললাম!

আমি এটার ফরম্যাটটা একটু বদলে ফেলব। আমি মিনারেল মাটি বেচবো। একদম ধান ক্ষেত থেকে নিয়ে আসা মাটি। এক প্যাকেটে এই দেশের এক মুঠো মাটি!
প্রবাসে যারা থাকেন, বুকে হাত দিয়ে বলুন তো এই জিনিসটা কি আছে আপনাদের কাছে- থাকলে সর্বনাশ, আমার ব্যবসা লাটে উঠবে!

আচ্ছা, কেমন হবে বলেন তো। আপনারা যারা প্রবাসে থাকেন, চকচকে একটা কাঁচের জারে দেশের একমুঠো রেখে দিলেন। ওই দেশের কেউ এসে যখন খা খি খু, চ্যাং চু চু, মুশি মুশি করে কিচিরমিচির করে জানতে চাইবে, জিনিসটা কি! তখন আপনি অহংকারী হাসি হেসে বলবেন, এটা আমার দেশের মাটি!

অথবা ধরুন, আপনার মনটা ভারী বিষণ্ন, আপনি জাস্ট কাঁচের জারটা খুলে একটু পানি ছিটিয়ে দিলেন, মাটির সোঁদা গন্ধে বুকটা ভরে গেল! বা ধরুন, কোন শিশুর জন্ম হলো, খানিকটা মাটি তার মাথায় মাখিয়ে দিলেন!
কি বলেন, বাডি, এই ব্যবসাটা কেমন হয়! চলবে না, নাকি লাটে উঠবে? আচ্ছা, এই ব্যবসাটা করলে কেমন হয়?

Saturday, February 14, 2009

স্যার, কোথায় গেলে আপনার খোঁজ পাব, যাদুঘরে?

এই পোড়া দেশে আমার ভাল লাগার মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা। আমার অসম্ভব পছন্দের একজন মানুষ।

ছোটখাট শিশুর মত মানুষটা। ভারি সাদাসিধে জীবন-যাপন ছিল তাঁর। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকেও দুটা স্যুট পরে কাটিয়ে দিয়েছিলেন বছরের পর বছর। এই মানুষটার কিছু কাজ-কারবারের নমুনা:
অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ তাঁকে নিয়ে এক ভিত্তিহীন খবরের প্রতিবাদে মানহানীর মামলা করেছিলেন, ফৌজদারী-দেওয়ানী আদালতে না, প্রেস কাউন্সিলে।
এমন চল আমাদের দেশে আর নাই! 


দায়িত্বে থাকার সময় (বঙ্গভবনে) প্রবাসী পুত্রের সঙ্গে কথা বলার কারণে টেলিফোনের বিল আলাদা রাখার জন্য নির্দেশ দেন এবং এটা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তাঁর নিজ বেতন থেকে পরিশোধ করেন।

টেলিভিশনে প্রচারিত তাঁর ভাষণের অংশগুলো ক্যাসেটে রেকর্ড করিয়ে দেয়ার জন্য টিভি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন। দেশের এক নম্বর ব্যক্তির কাছ থেকে এহেন অনুরোধ পেয়ে টিভি কর্তৃপক্ষ যখন উচ্ছ্বসিত তখন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন এ বাবত কি পরিমান খরচ লেগেছে তার বিল পাঠাতে বলে তাদের উচ্ছ্বাসে পানি ঢেলে দেন। খরচের এই যত্সামান্য বিল তাঁর নামে না-পাঠালে মহারাগ করেন। পরে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হন তাঁর নামে বিল পাঠাতে।

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি বারবার বলছিলেন, যথাসময়ে তিনি তাঁর দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন, কালবিলম্ব করবেন না। এই নিয়ে তখন দেশের পন্ডিতরা কষে ভদ্রস্থ গালি দিচ্ছিলেন, এটা বলার পেছনে নাকি তাঁর মনে কু আছে। ঠিকই তিনি বিন্দুমাত্র কালক্ষেপন করেননি!

প্রথমবার ক্ষমতার শীর্ষে থেকে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পর সাংবাদিকরা তাঁর অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলেছিলেন, 'আহ, এবার অন্তত আরাম করে সিঙ্গারা খাওয়া যাবে'।
মানুষটা সিঙ্গারা খুব পছন্দ করতেন কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ধরে চলতে হয় বলে বঙ্গভবনের ডাক্তারের বারণ ছিল।

আফসোস, শেখ হাসিনার জোর অনুরোধে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় গিয়ে ক্রমশ মানুষটা আলীগের পুতুলে পরিণত হয়েছিলেন। তোতা পাখির মত কেবল অন্যের মুখস্ত বুলি আউড়ে যেতেন, এটাই নাকি সংবিধানের দস্তুর। হায় সংবিধান, কেমন অদৃশ্য শেকল জড়িয়ে যায় এই ভালমানুষটার গায়ে!

*'সাদাকে কালো বলিব' বই থেকে:
**স্কেচস্বত্ব (আসলে ডুডল): সংরক্ষিত

মানুষটার খোঁজ রাখার প্রয়োজন ফুরিয়েছে আজ আমাদের!

গরিব দেশে ধনী ভাবনা- 'গরিবারোগ'

ব্রিটিশ আমলের এই রেলের বাংলো টাইপের কোয়ার্টারগুলো দেখে এখনও মনটা অন্য রকম হয়। (নানার রেলে চাকুরিরসূত্রে এমন একটা রেল-বাড়ির সঙ্গে আমার অনেকখানি স্মৃতি মাখামাখি হয়ে ছিল। ওটা কী এখনো আছে নাকি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে জানি না। কী রোবটই না হয়েছি, কাজে-অকাজে বেলা বয়ে যায় অথচ খোঁজ নেয়া আর হয়ে উঠে না!)

ব্রিটিশ আমলের এই স্থাপত্যগুলো অবহেলায় বিনষ্ট হচ্ছে, প্রায় বসবাস অযোগ্য। এখন শুনতে পাই, এইসব স্থাপনাগুলো ভেঙ্গে নাকি হাল-ফ্যাশনের কোয়ার্টার করা হবে।

হে আমার দরিদ্র দেশ, তোমার কাছে আমার দাবীটা খুব সামান্য। অন্তত এমন একটা স্থাপনা কী অক্ষত রেখে দেয়া যায়?
অন্তত পরবর্তী প্রজন্মকে যেন আমরা বলতে পারি, ব্যাটারে, বুঝলি, এইটা না...বুঝলি...শীতের দিনে ইংরেজ সাহেবরা আগুন জ্বালাত। এইটা না ফায়ার-প্লেস; ওটা না চিমনি, ওইটা দিয়ে ধোঁয়া বের হত, ...গলগল করে বুঝলি রে, ব্যাটা...।
ছবিস্বত্ব: সংরক্ষিত

Friday, February 13, 2009

ভালবাসাবাসি দিবসে: তবুও ভালবাসি কুত্সিত এ গ্রহটাকে!

আকাশের গোটা চাঁদ না, ধরতে চেয়েছিলাম একফালি জ্যোত্স্না-
মুঠোয় নিকষ অন্ধকার- হা ঈশ্বর, আমি আমাকেই দেখতে পাচ্ছি না।

কিটি মাস্ট ডাই:২

­কিটি নামের মশাটি হঠাৎ পাগলের মতো আচরণ শুরু করল। বুক্কা হাহাকার করে উঠল, ‘কিটি-কিটি, এমন করছ কেন?’
কিটি ভীত গলায় বলল,‘এদিকেই তোমার বাবা আসছেন।’
বুক্কা অবাক হলো, ‘তাতে কি হয়েছে, বাবা কি বাঘ না ভল্লুক!
কিটি মনে মনে বলল: তারচেয়েও বেশি, ভয়ংকর দৈত্য!

বুক্কার বাবা এগিয়ে আসছেন। নির্ঘাত তার হাতে থাকবে ভয়াবহ মারণাস্ত্র। এখনি হাসতে হাসতে তরল ওষুধ ছিটিয়ে দেবেন। ক্রমশ কিটির নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসবে। এক সময় মা’র মতো সেও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে। আহা, দৈত্যরা এত নিষ্ঠুর কেন! বুক্কার ঘরে সারাদিন সারারাত গুডনাইট ইলেকট্রিক কয়েল জ্বলে। মাগো কী কষ্ট!
বুক্কা বলল, ‘কিটি, ভয় পেয়ো না। বলেছি না বাবা খুব ভাল। আমি এ রুমে থাকলে তিনি ওষুধ ছিটাবেন না, কারণ আমার ক্ষতি হবে। তুমি এক কাজ করো, আমার ফতুয়ার পকেটে ঢুকে পড়ো। বুক্কা যেখানে, ওষুধ নাই সেখানে। হি, হি, হি। দেখেছ আমার কী বুদ্ধি!’
কিটি পরম নিশ্চিনে- বুক্কার ফতুয়ার পকেটে ঢুকে পড়ল।
বাবা দরজা ফাঁক করে উঁচুস্বরে সুর করে বললেন, ‘বুক্কা ব্যাটা, টুক্কা ব্যাটা! কই-রে আ-মা-র পুক্কা ব্যাটা, কইরে আমার হিউয়ার্ড ব্যাটা।’

বুক্কা দেখল, বাবার হাতে মশা মারার ওষুধ না, আজকের খবরের কাগজ। বুক্কার এক জায়গায় চোখ আটকে গেল, ওর বয়সের একটা শিশুর ছবি। কিন্তু এমন কেন, ভাঙ্গাচোরা ভঙ্গি!
বুক্কা অবাক হয়ে বাবাকে বলল, ‘বাবা, ছবিটা এমন কেন?’
বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ব্যাটা, বাচ্চাটা মরে গেছে, এটা একটা ফিলিস্তানি শিশুর ছবি!’
বুক্কা বলল, ‘মরে যাওয়া কি, বাবা?’
বাবা মাথা চুলকে বললেন, ‘মরে যাওয়া মানে হচ্ছে মরে যাওয়া, কিভাবে যে তোকে বোঝাই! উম-ম, ইয়ে তোর, বিষয়টা এমন, একবার মরে গেলে আর ফিরে আসা যায় না!’
বুক্কা মন খারাপ করা গলায় বলল, ‘মরে গেলে ওর বাবা মা কান্না করবে না? আমি মরে গেলে তোমার কি মন খারাপ হবে, বাবা?’
বাবা হাহাকার করে বললেন, ‘বুক্কা, আর কখখনো এমন কথা বলবে না। তোর বদলে বাবা মরবে, একশোবার।’
বুক্কা কান্না চেপে বলল, ‘তাহলে কেন একে মেরে ফেলা হলো, এ কার কি ক্ষতি করেছিল!’
বাবা অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে বললেন, ‘আহা-আহা, ওই শিশুটি কার কি ক্ষতি করবে! ব্যাটা, এ সব বড়োদের ব্যাপার তুমি বুঝবে না- বড়োরা অনেক সময় অন্যায় করে, বিভিন্ন অজুহাতে।’
বুক্কা তীব্র রোষ নিয়ে বলল, ‘কেউ এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে না, তুমিও না!’
বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, ‘ব্যাটা, আমার ক্ষমতা আর কতোটুকু, একটা মশার সমান!’

মশা প্রসঙ্গে বুক্কার কিটির কথা এতোক্ষণে মনে পড়লো। বুক্কা এবার বাবার গলা ধরে ঝুলে পড়ল। গাঢ়স্বরে বলল, ‘বাবা আমার একটা কথা রাখবে, প্লিজ।’
সুর করে বাবা বললেন, ‘ব-লো, আ-মা-র হুক্কা ব্যাটা।’
বুক্কা মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, ‘উহুঁ, তুমি আমাকে ছুঁয়ে বলো।’
বাবা হাসতে হাসতে বললেন, ‘তিনবার ছুঁয়ে বললাম, যা বলবে তাই হবে, হলো।’
বুক্কা থেমে থেমে বলল, ‘বাবা, আমার না একটা বন্ধু আছে। কিটি। তুমি প্লিজ ওকে মেরো না। আমি কখনো তোমার অবাধ্য হবো না। যা বলবে তাই শুনব। প্লিজ, প্লিজ, বাবা। ওকে মেরো না!’
বাবা এতক্ষণ সুর করে কথা বলছিলেন। এইবার গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘কী আশ্চর্য, তোমার বন্ধুকে আমি কেন মরাব, এইসব কী কথা!’
বুক্কা ইতস্তত করে বলল, ‘বাবা, কিটি না একটা মশা।’

বাবা বিভ্রান্ত চোখে তাকিয়ে রইলেন।
বুক্কা ঝলমলে মুখে বলল, ‘বাবা, এই দেখ আমার ফতুয়ার পকেটে। প্লিজ বাবা, প্লিজ, তোমার পায়ে পড়ি ওকে মারবে না। ও খুব ভাল, অনেক জ্ঞানী। বাবা তুমি কী বিশ্বাস করছ না? এই কিটি, ফতুয়ার পকেট থেকে বের হয়ে আমার নাকে বসে বাবাকে দেখাও তো। দেখেছ দেখেছ বাবা, দেখো, আমার নাকে বসে আছে! এই তো বেশ হয়েছে। কিটি, এইবার বাবার গোঁফে বসো তো, বাহ চমৎকার। আহ, কিটি নড়বে না, বাবার বুঝি সুড়সুড়ি লাগে না!’
বাবা অবিশ্বাসের চোখে কিটি নামের ক্ষুদ্র প্রাণীটির কান্ড কারখানা দেখছিলেন। অনেকক্ষণ ঝিম মেরে বিড়বিড় করলেন, কিটি মাষ্ট ডাই!
কিন্তু মুখে তাচ্ছিল্য করে বললেন, ‘ধুর বুক্কা, তুমি আমার সঙ্গে ফাজলামো করছ। কই, তোমার বন্ধুকে বলো তো আমার শার্টের পকেটে ঢুকতে।’
কিটি ইতস্তত করছে দেখে বুক্কা পরম নির্ভাবনায় বলল, ‘কিটি, ভয় নেই। বাবা আমাকে কথা দিয়েছেন, তোমার কিচ্ছু হবে না!’
কিটি বুক্কার বাবার পকেটে ঢোকামাত্র বাবা নিমিষেই কিটিকে পকেটসহ আটকে ফেললেন।
কিটির সমগ্র বিশ্ব আধার হয়ে এলো।
আহ, এত বাতাস, কিটির ছোট্ট বুকটা সামান্য একটু বাতাসের জন্য ছটফট করছে! আটকে রাখা বাতাসের সঙ্গে, প্রায় শোনা যায় না কাটা কাটা কিছু শব্দ ছিটকে বের হলো, ‘বুক্কা, বড়ো কষ্ট!’



*কিটি মাস্ট ডাই, ১: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_03.html

বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে একজনও সিভিলিয়ান নাই। কেন?

"আমার খুব কষ্ট হয় এটা ভাবতে বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে একজনও সিভিলিয়ান নাই। কেন? একটা দেশের মুক্তিযুদ্ধ বিশাল একটা ব্যাপার- নির্দিষ্ট একটা গন্ডিতে নিয়ে আসা ঠিক না।
(
বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে অন্তত একজন বীরাঙ্গনা থাকলে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ত বলে তো আমার মনে হয় না। কেন আমরা বিস্মৃত হই ভাগীরথীকে)

...ক-দিন আগে প্রবাসে আমাদের কিছু সৈনিকের মৃত্যু হয়। ওদিন জাতীয় শোক দিবস ছিল। বেশ। প্রত্যেকটা
মৃত্যুই কষ্টের, এটা দোষের কিছু না।

...লঞ্চ ডুবেছে। ৩০০ যাত্রী নিখোঁজ। স্বজনরা লাশের অপেক্ষায়। লঞ্চ-লাশ উদ্ধার বাতিল করা হলো। উত্তাল ঢেউ, এই দুর্বল যুক্তি দেখিয়ে!
নৌ মন্ত্রী সাহেব এসি অফিসে বসে (তিনি স্পটে যাওয়ার তকলিফ করেননি), গলায় চাদর পেঁচিয়ে, চেয়ারের পেছনে তোয়ালে ঝুলিয়ে, অবশেষে বললেন, 'আল্লার হুকুমে লঞ্চ ডুবেছে'। আমিন!
জাতীয় শোক দিবস তো স্বপ্ন- লঞ্চ উদ্ধারে যথেষ্ঠ সদিচ্ছা ছিল বলে আমার ঘোর সন্দেহ আছে! "
(যে দেশে কেজি দরে প্রাণ বিক্রি হয় সে দেশে লাশের স্বজনরা অন্তত লাশ ফেরত পাবেন এটা ভাবাও বাতুলতা মাত্র। অন্যায় বৈকি!)
'ফ্রিডম' (২০০৬) বই খেকে:

Monday, February 9, 2009

পার্থক্য কী!

প্রায় একই দৃশ্য।
আনুমানিক ২৫/৩০ বছর আগে, বালকগুলোর বদলে ছিলাম আমি। পার্থক্য কেবল একটা প্লাস্টিকের হাত-ঘড়ির, যা আমাদের সময় ভাবাও যেত না।
 

*ছবিস্বত্ব: সংরক্ষিত

হুড়হুড়ি এবং শ্বাস নেয়া

আমার এখানে কখনও কখনও নাগরিক লোকজনরা আসলে আগে অবাক হতাম, এখন আর হই না। আসলে এরা , আসেন গ্রাম টাইপের কিছু একটা দেখতে। তাদের ভাষায় শ্বাস ফেলতে। ঘুরিয়ে দেখাবার জন্যও তো কাউকে চাই।

যাই হোক, এমন লোকজনের সাখে ঘুরছি। এই ফুল দেখে আমি যারপর নাই মুগ্ধ- কী অনাদরেই না রাস্তার পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
আগে উচ্ছ্বসিত হতাম, এখন দেখার সেই চোখ কই! হায় ধুলোপড়া চোখ, অসময়ের শ্বাসই ফেলতে পারিনা- এ কষ্ট কাকে বলি, কারই বা শোনার সময়!
যাগ গে, ফটাফট ছবি তোলা। প্রথমে ভেবেছিলাম এটা জংলি ফুল।
অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার মতে, এটার নাম 'হুড়হুড়ি' (cleome spinosa)
(
'হুড়হুড়ি' হুড়মুড় করে এদেশে প্লেনে না ঘোড়ায় চড়ে এসেছে তা জানা যায়নি কিন্তু এসেছে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে। খানদানি বংশ! দায়ে পড়ে রিকশা চালায় অনেকটা এমন- কার সংগে যেন বড় মিল!)

*
ছবিস্বত্ব: সংরক্ষিত

Thursday, February 5, 2009

জয় গ্রহবাবা, জয় আমেরিকা!

এ গ্রহের বাবা এখন আমেরিকা! আফসোস মা নাই। গর্দভ না গর্বাচেভ নামের এক প্রাণী টাকা খেয়ে (!), না পেরোস্ত্রাইকার সুগার কোটেড ট্যাবলেট খাইয়ে এ গ্রহের মাকে হত্যা করেছিল! আমরা মাতৃহারা হলাম!
এখন মা-বাবা দুইই আমেরিকা! আমরা সবাই তাদের সন্তান কিন্তু তার প্রিয় সন্তানরা হচ্ছে সাদ্দাম, লাদেন, হামাস, বাংলা ভাই, ফার্সি ভাই। এমনিতে এরা বেয়াড়া না, কিন্তু বাবার কাজ শেষ হলেই এরা বড্ডো বেয়াড়া হিসাবে প্রতিপন্ন হন!

আমরা যেমন বাবার কাছ থেকে আঙ্গুল ধরে ধরে শিখি, তেমনি গণতন্ত্র বলুন আর মানবতা এসব আমাদেরকে শেখান আমাদের গ্রহবাবা! আপনারা কি জানেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী কয়েদী কোন দেশে? আমাদের গ্রহবাবার দেশ, আমেরিকায়! এ এফ পির তথ্যমতে, সেখানে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ১৩৬ জন মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ১ জন কয়েদী!
আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রচুর কথা বলি কিন্তু এতে আমাদের গ্রহবাবার অবদানের আলোচনা হয় খুব কম, বড়ো অপ্রতুল! ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষে গ্রহবাবাদের অবদানের কথা, কীভাবে তারা আমাদের জনসংখ্যা কমাতে সাহায্য করেছিলেন। এখানে আমরা হেনরী কিসিঞ্জারের ১৯৭৪-এ লেখা রিপোর্টটি উল্লেখ করতে পারি: “আমেরিকার এখন তৃতীয় বিশ্বের জনসংখ্যা হ্রাসের দিকে লক্ষ দেয়া উচিৎ”। 


জুতাবাবা ওরফে বুশ, আমাদের জঙ্গল সাহেব তো আরেক কাঠি সরেস। আমার তো মনে হয়, তৃতীয়বারের নিয়ম থাকলে এই জঙ্গল সাহেবের কল্যণে আদৌ কি এ গ্রহে কোন মানুষ নামের প্রাণী বেঁচে থাকত? 
বেশ কিছুদিন আগে এই জঙ্গল সাহেবের গলায় কুকি টাইপের বিস্কুট আটকে মরমর অবস্থা- আহা, তাহলে কতো নিরীহ প্রাণ বেঁচে যেত! জঙ্গল সাহেব মটর সাইকেল একসিডেন্ট করলেন, কিন্তু রাখে আল্লা মারে কে!
ইনি আবার আমাদের এরশাদ সাহেবের মতো কবি! একটা কবিতা লিখেছিলেন: “প্রিয়তমা লরা .. গোলাপের রং লাল- ভায়োলেট ফুল নীল...” হা বিতং করে কবিতাটা লেখা!

এখন এসেছেন ওবামা, সাদা বাড়ীতে কাল অতিথি- সাথে ব্লাকবেরী রাখতে পেরেছেন বলেই কী আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি বদলে যাবে?

তো, আমেরিকার খুব প্রিয় একটা অস্ত্র হচ্ছে ডব্লিউ. এম. ডি (উইপন অভ ম্যাস ডেসট্রাকশন)। পুরোপুরি প্রমাণ না মিললেও ধারণা করা হয় এইডসের জীবানু মানবসৃষ্ট আবিষ্কার এবং কথিত আছে, আমেরিকার গবেষণাগারে! প্রমাণ হিসাবে ১৯৬৯ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটা চিঠির উদ্ধৃতি দেয়া যায়। চিঠিতে ১ কোটি ডলার তহবিল চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল।
ড. ডোনাল্ড ম্যাকআর্থার ওই তহবিল এ জন্য চেয়েছিলেন, এক কোষের ক্ষুদ্র জীবানু সৃষ্টি করা হবে, এটা অতি দ্রুত মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেবে অনায়াসে! এইডসের কাজও তাই!
আসলে এ গ্রহে যতো সব অন্যায়-অনাচার হয় বিভিন্ন দেশে, আমাদের গ্রহবাবার কোন না কোন স্নেহের হাত থাকে, থাকবেই!

জয় গ্রহবাবা, গ্রহবাবার জয় হোক!

Wednesday, February 4, 2009

খোদেজা : ২

খোদেজার মা খোদেজাকে ডেকে ডেকে হয়রান, কই ল মুখপুড়ি, উত্তর দ্যাস না ক্যা!
খোদেজা ইচ্ছা করেই উত্তর দিচ্ছে না। মা-র উপরও ওর রাগ, কঠিন রাগ। মা কেন বাজানকে বুঝিয়ে বলেন না। মা বললে বাজান গুরুত্ব না দিয়ে পারবেন না।
ও বুঝতে পারছে মা খুব রেগে আছেন। এমনিতে মা ওকে ডাকলে সুর করে বলেন: কই রে আমার লেংটি বেডি, কই রে আমার ছেংটি বেডি। মা এটা অনেক আগে থেকেই বলে আসেন। খোদেজার সমস্যা হল, ও এখনও বিছানা ভাসিয়ে ফেলে। মা গুমগুম করে পিঠে কিল দিতেন আর বলতেন: থুয়া-থুয়া-থুয়া, এত্তো বড় মাইয়া বিছনায় মুতে! সকালে উঠে নিয়ম করে বলতেনই বলতেন: লেংটি বেডি-ছেংটি বেডি, লেংটা ভুতুনি খেতায় মুতুনি।


খোদেজা তীক্ষ গলায় চেঁচিয়ে উত্তর দিল, পদাপদি করবা না, ভালা লাগে না।
ইশ, আমার হড়ি-আম্মা, আমার সুয়ামির আম্মা গো, ডরাইছি।
মা, কতা কইবা না আমার লগে।
কি হইছে আপনের, এত চেত ক্যা? আপনে কি ধাইন্না মরিছ?
মা, আমার লগে কতা কইয়ো না কইলাম।
খোদেজার মা হাসি লুকিয়ে নরম গলায় বললেন, লবন দিয়া কানে ডলা দিলে বুঝবি। কি হইছে ক।
তুমার চোউক নাই?
আছে দুইডা, হইছে কী?
তুমি দেখো না, আমার হাসগুলা মইরা যাইতাছে।
তোর হাস কি আমি গলা টিইপ্যা মাইরা ফালাইতাছি?
খোদেজার এবার ধৈর্যচ্যুতি হল, তুমি বাজানরে কইতে পার না হাসগুলারে পশু হাসপাতালে লয়া যাইতে।
হুনো মাইয়ার কথা! এই ছেমরি, তুই হাগল নি কুনু, ডাক্তার তোর হাসের চিকিত্সা করার লাইগ্যা আক-কইরা বয়া রইছে, না?
হ। বয়া রইছে।
ইশশ, বয়া রইছে পিঁড়ি বিছায়া।
মা, রস করবা না।
হুনো মাইয়ার কতা। অই, তোর লগে রস করুম কা। ইস, আইছে আমার রসের নাগর।
বেডির ঘরে বেডি, তুমার লগে আমি মাতি না।
না মাতলে নাই, বুড়া তোর হাই।
মা, ভালা হইব না কইলাম।
যা-যা, তোর কপালে পিছার বাড়ি।

খোদেজা উত্তর দিল না। চোখের দৃষ্টিতে কেমন একটা ত্রাস! কি এক ভাবনায় তলিয়ে গেছে। খোদেজার মা তার সন্তানের ভাবান্তর লক্ষ করেন। মেয়েটার কি যেন হয়েছে ক-দিন ধরে কিছু বললে কেমন চমকে উঠে। কেমন সন্ত্রস্ত একটা ভাব।
কি হইছে আমার ফাগলি বেডির!
কিসসু না।
কিছু কইলে চমকায়া উঠস ক্যা? তোরে খন্‌কারের কাছ থিক্যা তাবিজ আইনা দিমু নে। আলগা দুষ থাকলে যাইব গা।
তাবিজ লাগব না।
এবার খোদেজার মা খোদেজার জট বাধা চুল মুঠ করে ধরলেন। জট ছাড়াতে ছাড়াতে বললেন, থুয়া, কেমুন হুডা হইয়া রইছে। তুই আউলা চুলে থাকস দেইখ্যাই আলগা দুষের লিগ্যা তাবিজ লাগব। সারাদিন খালি হাস হাস করলেই হইব, চুল বাংলা সাবান দিয়া ঘসাইলে কি হয়? আবার গোসল করলে কইস তোর মাথাডা ভালা কইরা ধুইয়া দিমু নে।
গোসলের কথা শুনে খোদেজা কুঁকড়ে যায়, অজান্তেই ওর শরীর কেঁপে কেঁপে উঠে। খোদেজার মা অবাক চোখে তাকিয়ে থাকেন, কিরে, তোর কি হইছে? এমুন করতাছস ক্যা?
কিসসু হয় নাই।
হারামজাদি, থাপড়াইয়া কানপট্টি ফাটায়া ফেলাম। ক, কি হইছে?


খোদেজা চোখের নিমিষে মাকে জড়িয়ে ধরল। কান্নার দমকে হেঁচকি উঠে গেছে। মা একে শান্ত হওয়ার জন্য খানিকটা সময় দিলেন। গায়ে-পিঠে হাত বুলিয়ে ভাঙ্গা গলায় বলে যাচ্ছেন, কান্দে না, আমার মা কান্দে না। খোদেজা, আম্মা কন কি হইছে? মার কাছে কুনু ডর নাই। মার লগে হগ্গল কতা কওন যায়।
অনেকক্ষণ পর খোদেজা খানিকটা সুস্থির হয়। নিচু গলায় থেমে থেমে বলল, মা, কাইল না আমি হাসের শামুকের লিগ্যা বিলে গেছিলাম। গরম লাগতাছিল, ফানিতে ডুব দিলাম। শফিক ভাই-।
কোন শফিক, মাইঝ পাড়ার শফিক?
হ, মা।
হেষে?
শফিক ভাই আমারে দেইখা কেমুন কেমুন করতাছিল।
খোদেজার মা চেঁচিয়ে বললেন, হেষে কি হইল, হেইডা ক।
আমার শইল ধরতে চাইছিল।
হেষে?
টেরেনটা আয়া খাড়াইছে দেইখ্যা ছাইড়া দিল। আমি এক দৌড়ে বাড়িত আইলাম।


খোদেজার মার গা কাঁপছে। তিনি তার মেয়েকে একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছেন। যার অনেকগুলোর অর্থ খোদেজার জানা নাই। খোদেজার এটাও বোধগম্য হচ্ছে না, মা তার শরীর হাতড়ে কি খোঁজার চেষ্টা করছেন!
খোদেজার মার গায়ের কাঁপুনি খানিকটা কমল। তিনি বিড়বিড় করলেন, আল্লা, আমার মাইয়ার ইজ্জত বাঁচাইছ, না খায়া হইলেও মসজিদে মোমবাতি দিমু।
মা, শফিক বাই এমুন করতাছিল ক্যান?
এইগুলা বদ কতা, আল্লাজী গুনা দেয়। হুন খোদেজা, আর কুনু সময় না কয়া বাইত থন দূরে যাইবি না আর শফিকের লগে ভুলেও কথা কইবি না।
কিন্তক মা, শফিক বাই এমুন করল ক্যান?
কইলাম না এইসব বদ কতা। আবার জিগাস।
মা, আমি কিছুই বুঝতাসি না।
এত বুঝার কাম নাই। তুই না কয়া কুনহানেও যাইবি না।
আমার হাসরে হামুক আইন্যা দিব কেডায়?
পিছা মারি তোর হাসের কপালে। হাস হাস হাস, হাস ছাড়া আর কতা নাই।
হাস তুমার কি অনিষ্ট করছে!
অই ছেমরি, অত কতার কাম নাই। তুই আমারে না কয়া কুনহানে যাইবি না। কতা শ্যাষ।
বাজানের খাওন লয়া যাইব কেডায়?
খোদেজার মা চিন্তায় পড়ে গেলেন, তাই তো? খোদেজা ছাড়া তো খাবার নিয়ে যাওয়ার মানুষ নাই। খোদেজার মা নিয়ে যেতে পারবেন না, নিয়ম নাই। গ্রামের নিয়ম কোন মহিলা ফসলের জমিতে পা রাখতে পারে না।


খোদেজা মাথা ঘামাচ্ছে অন্য বিষয় নিয়ে। খোদেজা বুঝে উঠতে পারছে না এইসব রহস্যময় আচরণ। মা কেন এমন করলেন! তার ভাবনার জগৎ এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।

সহায়ক সূত্র:
১. খোদেজা: ১

Tuesday, February 3, 2009

কিটি মাস্ট ডাই: ১

­এক দেশে একটা দেশ ছিল। অসম্ভব সুন্দর সেই দেশটার নাম আখুরাদেশ। কিটি সেই দেশে বাস করে। কিটি বাবাকে চোখে দেখেনি, মাও মরে গেলেন! মা কাল মারা গেলেন- মা’র কথা মনে পড়তেই কিটি’র মনে হলো কষ্টে বুকটা ফেটে যাবে। কী কষ্ট, কী কষ্ট! কিটি ফিসফিস করে বলল: মা-অমা!
দৈত্য কিটির মাকে ওর চোখের সামনে মেরে ফেলল, কিটি কিচ্ছু করতে পারল না। কিটি কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল: হে পরম করুণাময়, হে মহা প্রভু, এত অল্প ক্ষমতা দিয়ে কেন পাঠালে? যে সন্তান তার মাকে রক্ষা করতে পারে না তার বেঁচে থাকার কোন অধিকার নাই। ধিক ধিক! দশ লাখবার ধিক!
কিটি মন খারাপ করা গলায় বলল, ‘এই ছোত দৈত্য, ছোত দৈত্য!’

বুক্কা বালিশের সঙ্গে মারামারি খেলা খেলছিল, মেরে মেরে চ্যাপ্টা বালিশটাকে প্রায় গোল বানিয়ে ফেলেছে! বালিশটাকে মার থামিয়ে রাগী গলায় বুক্কা বলল, ‘এই মশার বাচ্চা, মশা। কাছে আয়, আয় বলছি; ধরে দেব একটা থাপ্পড়। ফাজিল কোথাকার। আমরা হচ্ছি সৃষ্টির সেরা জীব আর ফাজিলটা বলে কিনা দাঁত বের করে, হেই ছোত ধৈত্য-ছোত ধৈত্য! হুশ মশা, হুশ!’
কিটি কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘আমার না মা মরে গেছে।’
বুক্কা দুঃখিত গলায় বলল, ‘আমি সরি, খুব সরি কিন্তু মানুষকে দৈত্য বলতে তোমায় কে শিখিয়েছে, কী বিশ্রি শোনায়।’
কিটি কান্না ভুলে বলল, ‘আমার টিচার। তিনি একজন মহান টিচার।’
বুক্কা চোখ গোল করে বলল, ‘ওরি বাবা, তোমাদের আবার স্কুলও আছে?’
কিটি অহঙ্কারী গলায় বলল, ‘আমি এগারো দাগের ছাত্র। চৌদ্দ হাজার চারশ সেকেন্ড ক্লাশ করেছি।’
বুক্কা অবাক, ‘এটা আবার কি হিসাব!’
কিটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘আমাদের আয়ু তো খুব কম, তাই আমরা প্রতি সেকেন্ডের হিসাব রাখি।’
বুক্কা বলল, ‘তোমার বয়স কত?’
‘ছিয়াশী হাজার চারশ সেকেন্ড!’

বুক্কা প্রায় ফোকলা মুখে ফিক ফিক করে হাসল।
কিটি অবাক হয়ে বলল, ‘এতো হেসো না, নিজের দাঁত পড়ে পা কাটবে! আমার যে এত বয়স এটা কি তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না? আসলে আমাকে না বাচ্চা বাচ্চা দেখায়।’
বুকিন হাসি গোপন করে বলল, ‘না-না, বিশ্বাস করব না কেন।’
কিটি পিঁ পিঁ করে বলল, ‘না, তুমি বিশ্বাস করনি!’
বুক্কার মুখে একটা নতুন একটা দাঁত ঠেলে বেরিয়ে আসার প্রাণপণ চেষ্টা করছে। জিহ্বা দিয়ে সেই দাঁতটা ছুঁয়ে বুক্কা বলল, ‘এই দেখ আমার দাঁত ছুঁয়ে বলছি।’
কিটি হতভম্ব হয়ে বলল, ‘কী আশ্চর্য, এই সামান্য কারণে তুমি মিথ্যা বলছ! আমার মহান টিচার বলেন, সব সময় সত্য কথা বলতে হয়!’
বুক্কা লজ্জিত হয়ে বলল, ‘তিনি আর কি বলেন?’
কিটি হঠাৎ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল, ‘আমার না মা মরে গেছে।’
বুক্কা দুঃখিত গলায় বলল, ‘প্লিজ কিটি, কেঁদো না। কাউকে কাঁদতে দেখলে আমার না ভারী কান্না পায়। চোখ-টোখ ধুয়ে আসো। ফ্রেস লাগবে।’

কিটি বেসিনের টিপটিপ করে পড়া পানি থেকে চোখ ভাল করে ধুয়ে আসল, ‘বুক্কা, টিচার না আমাকে আমাদের জাতীয় সংগীত শিখিয়েছেন। শুনবে?
অনেকক্ষণ পিঁ পিঁ শব্দ হলো। কিটির চোখ মুখ অন্যরকম, চোখ ছলছলে!
বুক্কা নরম গলায় বলল, ‘সরি, আমি তোমাদের জাতীয় সংগীতটা বুঝতে পারিনি।’
‘আমি গাইলাম, আমার সোনার আখুরা, আমি তোমায় ভালবাসি-ই-ই-ই। ...আমার সোনার আখুরা, আমি তোমার জন্য মরতে পারি-ই-ই-ই।’
বুক্কা স্তম্ভিত- হতভম্ব! ‘কী বলছ কিটি, সত্যি সত্যি তোমরা দেশের জন্য মরে যেতে রাজী আছ?’
কিটি অহংকারী গলায় বলর, ‘অবশ্যই। একশ বার। এই দেশ আমাকে খাবার দিয়েছে। থাকার জায়গা দিয়েছে, ছোট্ট বুকটা ভরে নিঃশ্বাস নেই, আমরা মশারা নিজেদের ভাষায় কথা বলি। আহা, আমার মা-টা যদি দেশের জন্য মারা যেত। আমি হতাম শহীদ মা’র সন্তান।’
বুক্কা বলল, ‘কিটি, তোমার মাকে কে মেরেছে?’
কিটি থেমে থেমে বলল, ‘তোমার বাবা। তোমার বাবা একজন নিষ্ঠুর প্রকৃতির মানুষ। জানো, আমার মা কিন্তু তোমার বাবার কোন ক্ষতি করেননি, কিচ্ছু করেননি।’

বুক্কা দুর্দান্ত বেগে মাথা এপাশ ওপাশ করে বলল, ‘না, না, না। আমার বাবা অসম্ভব ভাল মানুষ। তোমরা আমাদের সব রক্ত খেয়ে ফেলবে আর আমরা চেয়ে চেয়ে দেখব!’
কিটি মিনমিন করে বলল, ‘বুকিন, তোমাদের শরীরে কত্তো রক্ত। রক্তের সাগর। প্রায় চার হাজার মিলি লিটার। তোমাদের শরীরের ওজনের ৭ ভাগ রক্ত! আমরা কতটুকু আর রক্ত খাই। বড় জোর এক চুমুক, না, এক চুমুকও তো না!’
বুক্কা গম্ভীর হয়ে বলল, ‘কিটি, তোমরা তো শুধু রক্তই খাও না, কঠিন সব রোগও ছড়াও। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া আরও কিসব ভয়ঙ্কর রোগ।’
কিটি কিছুক্ষণ ঝিম মেরে থেকে বলল, ‘তোমরা কি ভাল দৈত্য- সরি, ভালমানুষ? গরু ছাগল, হাঁস-মুরগী হেনতেন কি খাও না? আমরা আরেকটু নাদুসনুদুস হলে কচকচ করে আমাদেরকেও ভাজি করে খেয়ে ফেলতে!’
বুক্কা অনেকক্ষণ মাথা চুলকে বলল, ‘আমাদের এসব খেতে হয়, এটাই নিয়ম।’
কিটি পিনপিন করে ছোট্ট পাখা নেড়ে বলল, ‘আমাদেরকেও রক্ত খেতে হয়, এটাই নিয়ম।’
বুক্কা হাল ছেড়ে দিল, ‘আচ্ছা বাবা, সমান সমান। কিন্তু তোমরা, তোমাদের জন্ম আবর্জনায়। ছি, ছি, ছি- ছি!’
কিটি এবার হড়বড় করে বলল, ‘আচ্ছা! নোংরা-আবর্জনা তোমাদের দু’চোখের বিষ। তোমার পেটের ভেতর কী, কী নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছ। বলব?’
বুক্কা হাত তুলে সমর্পনের ভঙ্গি, ‘ইস, না-না-না। বলো না প্লিজ!’

কিটি পিহিহি পিহিহি করে হাসতে লাগল!
বুক্কা বলল,‘আচ্ছা কিটি, তুমি অনেক জান, না?’
কিটি মন খারাপ করা ভঙ্গিতে বলল, ‘ছাই জানি, বাংলাদেশ নামের মহাবিশ্বটার কতটুকুই বা জানি! আমার এই আয়ু নিয়ে রেলের গতিতে রেরগাড়িতে ভ্রমন করলেও বাংলাদেশ নামের মহাবিশ্বটার পুরোটা ঘুরে শেষ করতে পারব না। আহা, কী ছোট আমাদের জীবন! এত অল্প আয়ু দিয়ে কেন পাঠানো হয়েছে কে জানে। কিছুই তো দেখা হলো না!’
বুক্কা এবার কাতর গলায় বলল, ‘যাই হোক, কিটি, দোহাই তোমার আমার বাবাকে ক্ষমা করে দাও। বাবার কৃতকর্মের জন্য, আমি নতজানু হয়ে তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি।’
কিটি বলল, ‘বাহ, বেশ তো, ইচ্ছা হলেই তোমরা আমার মাকে মেরে ফেলবে, ইচ্ছা হলেই আমার কাছ থেকে আমার দেশ ছিনিয়ে নেবে- এক সময় বলবে ভুল হয়েছে, বাহ বেশ তো...!’
বুক্কা হাহাকার করে বলল, ‘কিটি, আমার বাবাকে ক্ষমা করে দাও, বদলে তুমি তোমাদের লাখ লাখ মশা নিয়ে আসো। আমার শরীর থেকে শেষ বিন্দু রক্তও শুষে নাও, তবুও আমার বাবাকে ক্ষমা করো...দোহাই লাগে তোমার!’
কিটি বুক ভেঙ্গে কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘তোমরা সৃষ্টির সেরা জীব, এতে কোন সন্দেহ নাই- তোমরা পারো না এমন কিছু নাই! যাও, আমি শুধু তোমার জন্য, তোমার বাবাকে ক্ষমা করলাম! কিন্তু আমি নিজেকে কখনোই ক্ষমা করতে পারবো না!’


*কিটি মাস্ট ডাই, ২: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_9693.html

Monday, February 2, 2009

চোট্টামীর এক মহানায়ক, হানিফ সংকেত

'ইত্যাদি' নামের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানটি প্রায় দুই যুগ ধরে সদর্পে এই দেশে এক মাইল-ফলক সৃষ্টি করেছে। এখন পর্যন্ত এমন কোন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান এমন বিপুল সময় ধরে দর্শক মাতাতে, এর ধারেকাছেও যেতে পারেনি!
টুপি খুলে সশ্রদ্ধ অভিবাদন, অসংখ্যবার!

গত পর্বের আগেরটা দেখছিলাম। 'হোটেল সাদাদিয়া' বা 'হোটেল সালাদিয়া' নামের একটা গান প্রচারিত হয়েছিল। সুর করেছেন রিন্টু, গেয়েছেন সান্টু। রিন্টু-সান্টু এখানকার বাঁধাধরা লোক! গানটা শ্রুতিমধুর, মন্দ লাগেনি। কিন্তু বিস্ময়ের সংগে লক্ষ করলাম, এটার সুর হুবহু অবিস্মরনীয় 'হোটেল ক্যালিফোর্নিয়া'র নকল! যথারীতি এই বিষয়ে কোন কিছুই জাননো হয়নি! বিদেশী গানের সুর নকল করে গান করাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত এই বিতর্কে আমি যাব না। কিন্তু যেটা আপত্তিকর, এই বিষয়ে কোন ধরনের ঋণ-কৃতজ্ঞতা স্বীকার না করা।

এই কান্ডটা হানিফ সংকেত মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে চালিয়ে আসছেন। এই বিকট চৌর্যবৃত্তিকে হানিফ সংকেত শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, এমন ভয়াবহ চুরি-চামারিকে তিনি সুকোমল রূপ দিয়েছেন। অসঙ্গতি খুঁজে বেড়ানো এই মানুষটি নিজেই চরম অসঙ্গতিকে দিনের পর দিন নির্বিকারচিত্তে লালন করেছেন! আমাদের হাতে ধরে শিখিয়েছেন, কেমন করে একটা মৌলিক সৃষ্টিকে ছিনিয়ে নিতে হয়, কেমন করে মৌলিক শিল্প ছিনতাই করে চুপসে যাওয়া বুক ফুলিয়ে রাখতে হয়!

আমাদের বয়স বেড়েছে, কিশোর যুবক হয়েছে, যুবক থেকে আধ-বুড়ো। জনসংখ্যা ১১ কোটি থেকে বার, তোরো..পনের কোটিতে কিন্তু হানিফ সংকেতের চুরি-চামারি চলছে সগর্বে। চলবে...।

আমার ধারণা, নীতির এমন বিপুল ক্ষতি খুব কম মানুষই করতে পেরেছেন।

Sunday, February 1, 2009

কেক-মোমবাতি-ফুল-গলিত শব, মাখামাখি-একাকার!

প্রবলমানবকে বেঁধে রাখা হয়েছে আষ্টেপৃষ্ঠে শেকলে,
ক্রমশ গলিত শব পোকার খাবারের অপেক্ষায় ।
অপরাধ জটিল, স্বপ্নগুলো কেন আকাশ ছাড়াবে
তার, কেন বাপু বৃত্তের বাইরে পা ফেলা ?

(
বাবা-মার আনন্দের ফসল, নিরানন্দ অফসল আমি। আমাকে ক্ষমতা দিলে জন্মটাকে আটকে দিতাম। )
৩১ জানুয়ারি, ২০০৯

-----------------------------------
মোসতাকিম রাহী,
এ অন্যায়, ভারী
অন্যায়! অন্ধকারে আপনার মায়াভরা চোখ, দেখতে দিতে এমন অনীহা- লেখাটার বিষয়ে একবারও বলেননি! গুগলের কল্যাণে আজ আপনার লেখাটা পড়লাম
২৮.০২.০৯

Facebook Share