Search

Loading...

Friday, January 30, 2009

ভূত দিবস:

বুকিন ঘুমুচ্ছে। মাঝরাতে ওর ঘুম ভাঙ্গানো হয়েছে। অবশ্য অনেক কায়দা-কানুন করতে হয়েছে। প্রথমে বুকিনের ছোট্ট খাটটা অনেকক্ষণ ধরে বেদম ঝাঁকানো হলো। পর্যায়ক্রমে ফোস্কা পড়া গরম, বরফ ঠান্ডা বাতাস, কান ফাটানো শব্দে ঘরটা ভরে গেল।
এত কাঠখড় পুড়িয়েও ফল মিললো না-দেখে বুকিনের ছোট্ট খাটটা উল্টে ফেলা হলো। এবার বুকিন বিকট হাই তুলল, অবিকল টারজানের মতো শোনাল। বুকিন ঘুমঘুম চোখে দেখল, অদ্ভুত এক আকৃতি। আকৃতিটা অনেকটা কঙ্কালের মতো। দেখো দিকি কান্ড, এর দেখি আবার মুন্ডু নেই! না আছে, মুন্ডুটা হেলমটের মতো বগলে চেপে রেখেছে!

বুকিন অসম্ভব বিরক্ত হয়ে বলল,‘হই-হই, কি জিনিস তুমি?’
আকৃতিটা হতভম্ব! এ আবার কেমন প্রশ্ন? কি জিনিস তুমি, সে কি জিনিস- আলু, পটল? আর এইটা কি ভাষা, হই-হই! বাচ্চাটা ভয়ে আধমরা হয়ে মুর্ছা যাওয়ার আগে বলবে, কে, ক্কে-কে, কে আপনি, তা না...কেমন ভয়হীন তাচ্ছিল্য করে বলছে!

‘আমি রাগী ভূত,’ বলল, আকৃতিটা চিবিয়ে চিবিয়ে।
বুকিন ঠোঁট বেঁকিয়ে বলল, ‘বলার ভঙ্গিটা আরও রপ্ত করতে হবে তোমায়, একদম মানাচ্ছে না। আর ফড়ফড় করবে না। ভূত বললেই হয়, রাগী ভূত, এইসব কী! মানুষ হলে বলতে পারতে ডক্টর অমুক তমুক। তুমি তোর আর মানুষ না, ভূত। অবশ্য তুমি যে একটা ফাজিল টাইপের ভূত এতে আমার কোনো সন্দেহ নাই। ভূত, হেহ! ছাগুয়া না হলে, কেউ অযথা গভীর রাতে কারো ঘুম ভাঙ্গায়! আমি ডিস্টার্ব হইলাম, বড়ো ডিস্টার্ব হইলাম ।’

ভূত স্তম্ভিত। ওর ধারণা ছিল, ওকে দেখামাত্র পুঁচকে ছেলেটা বিছানা ভাসিয়ে ফেলবে। মুন্ডুটা হেলমেটের মতো কোমরের কাছে কায়দা করে ধরে রাখতে কতো অনুশীলনই না করতে হয়েছে! গুড লর্ড, এইসব হচ্ছেটা কী! ভূতদের মান-সম্মান বলে কিছুই আর রইল না। অপমানে মরে যেতে ইচ্ছা করছে কিন্তু ভূতদের তো আবার, দ্বিতীয়বার মরে যাওয়ার কোন নিয়ম নাই।
ভূত রাগী গলায় বলল, ‘অযথা ঘুম ভাঙ্গিয়ে রসিকতা করব, আমি কি গোপাল ভাঁড়, না মি. বীন, নাকি টেলি সামাদ! ব্যাপারটা খুব জরুরী। আজ আমাদের ভূত দিবস।’

বুকিনের দু-চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসছে। এপাশ ওপাশ ঢুলতে ঢুলতে বলল, ‘ভাত দিবস, বেশ-বেশ। আমরা করছি ফাস্ট ফুড-ডোনাট দিবস আর তোমরা করছ ভাত দিবস, তা মন্দ না! কিন্তু ব্রাদার, ভাত খেয়েও তোমার শরীরে দেখছি এক ছটাক মাংসও নাই, বিষয়টা কী!’
‘খোকা, আমি একজন বয়স্ক ভূত। আমার সঙ্গে তোমার আচরণ দেখে কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে। আমি বলছি ভূত দিবস আর তুমি কিনা-’ এই মুহুর্তে ভূতটাকে দেখে মনে হচ্ছে কাঁদার উপায় থাকলে এ নির্ঘাত ভেউ ভেউ করে কেঁদে ফেলত। কিন্তু কাঁদার জন্য চোখ তো দূরের কথা, চোখের মনিই নাই!

বুকিন এবার কোমল গলায় বলল, ‘সরি, তোমার, মানে আপনার কথা ঠিক শুনতে পাইনি তো। ভূতদের আবার দিবস-টিবস আছে নাকি?’
ভূত রাগে গসগস করে বলল, ‘হোয়াই, হতে পারে না কেন! তোমরা গাছ-দিবস, পশু-দিবস, ভাল্লুক না কি যেন 'ভালুবাসা' দিবস, লাখ লাখ দিবস করো আর আমরা বছরে একটা দিবস, 'ভূত দিবস' করতে পারব না, এটা কেমন বিচার!’
বুকিনের গলায় উষ্মা, ‘আহা ওভাবে বলবেন না, গাছ দিবস না, আমরা বৃক্ষ রোপন দিবস পালন করি।’
ভূত বলল, ‘হাতির ডিম।’
বুকিনের বিভ্রান্ত চোখ, ‘মানে!’
‘আমরা ভূতরা তাচ্ছিল্য করে ঘোড়ার ডিম না বলে হাতির ডিম বলি। তা যা বলছিলাম, মন্ত্রী এলে, একটা গাছ লাগাতে লাখ খানেক টাকা খরচ করো। অনুষ্ঠান শেষ হলে নার্সারী থেকে ভাড়া করে আনা ক্রিসমাস ট্রিগুলো নার্সারীর লোকজনরা উপড়ে নিয়ে যায়। হাহ!’
বুকিন উষ্ণ হয়ে বলল, ‘আপনি ভূত বলেই খারাপটা দেখছেন। জানেন, গাছ না লাগালে কি হবে, পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মানুষ মরে সাফ হয়ে যাবে।’

ভূত এবার আরাম করে খাটে পা ঝুলিয়ে বসল, কেমন হাড়ে ঘসা লেগে কেমন খটখট শব্দ হচ্ছে। বুকিনের মুখে প্রায় এসে পড়েছিল, আহ, গ্রিজ লাগান না কেন।
ভূত এবার হেলাফেলা ভঙ্গিতে বলল, ‘পৃথিবীতে মানুষ না থাকলেই আমরা ভূতরা মজা করে থাকব। মানুষ বড়ো যন্ত্রণা করে। একে একে সব গাছ কেটে ফেলছে। ভাবো দেখি, আমরা গেছো ভূতরা যাবোটা কোথায়! গাছের চেয়ে ভূতের সংখ্যা বেশি। আমার গাছটা কেটে ফেলার পর এক বছর ফ্যা-ফ্যা করে ঘুরেছি। গাছ দখলে চ্যাংড়া ভূতদের সঙ্গে কী আমি পারি! বুড়া হয়েছি না, গেটিং ওল্ড!’
বুকিন ছলছল চোখে বলল, ‘আহা-আহা, আপনার থাকার জায়গা নাই।’
ভূত মুন্ডুবিহীন ধড় নাড়িয়ে বলল, ‘না-না, ক-দিন হলো থাকার সমস্যার সমাধান হয়েছে। সার্ক ফোয়ারা দেখেছ তো। ওটা দেখতে অনেকটা গাছের কঙ্কালের মতো। আমার বড়ো মনপসন্দ হইছে। তাছাড়া কয়েক কোটি টাকার গাছ। হাক্কু, হাক্কু, হাক্কু!’

হাড়ে খটখট শব্দ তুলে ভূতটা হাক্কু, হাক্কু হাসতে গিয়ে মুন্ডুটা গড়িয়ে গেল। বুকিন চোখ বড় বড় করে বলল, ‘আলাদা মুন্ডুটা হাতে নিয়ে রাখেন কেন?’
‘শরীরের একটা অংশ ফেলতে মায়া লাগে। তাছাড়া খুব বিষণ্ন বোধ করলে কখনো লাউয়ের জুস পান করি আবার কখনো এটা দিয়ে ফুটবল খেলি।’
বুকিন অবাক হয়ে বলল, ‘একা একা ফুটবল খেলেন?’ অজান্তেই বুকিন দীর্ঘশ্বাস ফেলল, ‘আহা, আপনার বড়ো কষ্ট! আচ্ছা ভূত দিবস কী?’
‘এইদিন আমরা মানুষের ক্ষতি-টতি করি। ভয় দেখাই। এই ধরো কারও প্রিয় কোন জিনিস ফেলে তাকে দুঃখ দেয়া। সরি, আমি তোমার খেলনাগুলো বাইরে ফেলে দিয়েছি।’
বুকিন ঠোঁট উল্টে বলল, ‘বেশ করেছেন। যেসব বাচ্চাদের খেলনা নেই ওরা কুড়িয়ে নেবে। জানেন, আমার না ইচ্ছা করে ওদের কিছু খেলনা দেই। আমার কত্তো খেলনা। কিন্তু মা’র জন্য পারি না। খুব কষ্ট হয়। যাহ, এখন কিন্তু আমার মন খুব খারাপ হয়েছে।’

ভূতটা এক পাক নেচে বলল, ‘মন খারাপ, হুই-হুই। আচ্ছা, বুকিন, তোমায় একটা গান শুনাই, তোমার মন ভালো হবে: ‘হে-হে-এ। আমি একটা বৃদ্ধ ভূত, বুকিনের সঙ্গে খেলি কুত কুত । হে-হে-এ, হে- হে- এ- এ-এ।’

বুকিনের মনে হচ্ছে, এই মুহুর্তে ওর চেয়ে সুখী আর কেউ নেই। ভূতটা কী এক বিচিত্র ভঙ্গিতে ততোধিক বিচিত্র গান গেয়ে বুকিনের মন ভাল করার চেষ্টা করছে। আহা-আহা, ভূতটার মনে কী মায়াই না গো! বুকিন থেমে থেমে বলল, ‘আচ্ছা, মরে গেলে আমিও কি আপনার মত ভূত হবো?’
ভূতটা হাহাকার করে উঠল, ‘না-না-না, বুকিন না, গড ব্লেস য়্যু। তুমি কেন ভূত হবে, কেবল অসৎ মানুষরা মরে গেলেই ভূত হয়।’
‘আপনি কেন ভূত হলেন? আপনি কি অসৎ ছিলেন?’
ভূত ভাঙ্গা গলায় বলল, ‘হ্যাঁ। জীবিত থাকতে আমি দেদারসে ঘুষ খেতাম।’
‘ঘুষ কি?’
‘থাকগে, এতো জেনে তোমার কাজ নেই। এসব বড়দের ব্যাপার। কুৎসিত ব্যাপার।’
বুকিন বলল, ‘বলেন না, প্লিজ।’

ভূত চুপ করে আছে। বুকিন এবার অসহিষ্ণু, ‘না না, চুপ করে থাকবেন না, বলতে হবে। বলতে হবে-বলতে হবে।’
ভূত অনেকক্ষণ চুপ থেকে থেমে থেমে বলল, ‘এটা তোমার বাবাকে জিজ্ঞেস করো। বিদায়। ভাল থেক, এই রকমই, পানির মতো টলটলে। আর বুকিন শোনো, তোমাকে এ কথাটা বলতে বুকটা ফেটে যাচ্ছে, খুব শিগগির তোমার বাবার সঙ্গে আমার দেখা হবে, এবং তারও একটা গাছের প্রয়োজন হবে! একটা ভূতগাছ...।’

*শুভ'র ব্লগিং থেকে

শৈশব, ভাসাভাসা এক স্বপ্ন!

video

Wednesday, January 28, 2009

যুদ্ধ-শিশুদের এক মমতাময়ী মা, মাদার তেরেসা।

ভারতের চলচিত্র 'নাইন মান্থস থ্রু' প্রমান্যচিত্রের মাধ্যমে তিনি বলেন, "একজন মানুষ আরেকজন মানুষের প্রতি এমন নারকীয় আচরণ করতে পারে তা অবিশ্বাস্য! আমরা সবাই ঈশ্বরসৃষ্ট এক বিশাল পরিবারের ভাই-বোন। তাই এসব নিজের পরিবারের আপনদের সহযোগিতায় বিশ্বের মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে।"
অগাবগা আমাদের কথা বাদই দিলাম, স্বয়ং পোপও এমন কথা আন্তরিকভাবে ভাবেন, বিশ্বাস করেন কিনা, এই নিয়ে আমার ঘোর সন্দেহ আছে।

একাত্তরের ডিসেম্বরে মাদার তেরেসা খুলনা ও ঢাকার কয়েকটি ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। ওখানে তিনি দেখেন, পাকসেনারা কী পশুর তান্ডব চালিয়েছে। এসব ক্যাম্পে পাকসেনারা বাংলাদেশের নারীদের উপর দিনের পর দিন অত্যাচার চালিয়ে আসছিল। কেবল তাঁদের নগ্ন করেই রাখত না, অভাগীরা যাতে লম্বা চুল পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করতে না পারে এই ভাবনায় তাঁদের চুল কেটে দিত। এসব ক্যাম্পে তিনি কাউকে পাননি কিন্ত দেখেছেন তাদেঁর ছেঁড়া চুল, ব্যবহৃত পোশাক।

ঢাকায় তিনি খোলেন দ্য মিশনারিজ অভ চ্যারিটির শাখা। তখন বেশিরভাগ যুদ্ধ-শিশুদের ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হত। তেমন কেউ এদের নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছিল না, নিজেদের কাছে, এমকি দেশেও রাখতে চাইছিল না।
বঙ্গবন্ধু (আহমদ ছফা ভিন্ন মত পোষণ করতেন) পর্যন্ত নীলিমা ইব্রাহিমকে বলেছিলেন, 'আপা, এই দেশে পিতৃপরিচয় যাদের নেই সবাইকে পাঠিয়ে (প্রবাসে) দেন। মানুষের সন্তান মানুষের মত বড় হোক। তাছাড়া ওই দুষিত রক্ত আমি এদেশে রাখতে চাই না।' (সূত্র: আমি বীরাঙ্গনা বলছি, নীলিমা ইব্রাহীম)।

মাদার তেরেসা পরম মমতায় ওইসব যুদ্ধ-শিশুদের কোলে তুলে নিতে থাকেন। তাদের পাঠিয়ে দেন কলকাতা, ফ্রান্স, সুইডেনে। এই কারণে তিনি বাংলাদেশে তীব্র রোষের সম্মুখীন হন, জোর বলাবলি হতে থাকে, এইসব যুদ্ধ-শিশুদের তিনি খ্রীস্টান বানিয়ে ফেলবেন। তেরেসা তখন থেমে থাকেননি। তাঁর কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন, গোপনে।

*আংশিক তথ্যঋণ: মেহেদী হাসান নাদিম

Tuesday, January 27, 2009

মুক্তিযুদ্ধে, অন্য রকম এক অস্ত্র, প্রিনছা খেঁ!

রাখাইন মেয়ে প্রিনছা খেঁ। মুক্তিযুদ্ধে: একজন আদিবাসী। আমি বলি, একজন আদিমানুষ। একটি ভয়াবহ অস্ত্র! আমরা এমন অস্ত্রের ব্যবহার করতে দেখেছি, ভাগিরথীকে:
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10151306750392335&set=a.10151298132117335.465193.723002334&type=1

...১৯৭১ সালের মাঝামাঝিতে প্রিনছার স্থান হয় শক্র ক্যাম্পে।
প্রিনছা খেঁ সুরেন বাবু নামের সদাশয় এক মানুষের আশ্রয়ে ছিলেন, কন্যাস্নেহে। পাকসেনারা নৃর্শংস ভাবে সুরেন বাবুকে হত্যা করে প্রিনছাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। দিনের-পর-দির জলে শারীরিক চরম নির্যাতন। প্রিনছা হাত বদল হতে হতে বাউকাঠি ক্যাম্পে এসে স্থির হয়।

শক্র ক্যাম্পে পাক-আর্মির দুই বাবুর্চির সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রিনছা হয়ে গেলেন তৃতীয় বাবুর্চি। ক্যাম্পে কাঠ সংগ্রহকারী বাবুলের সঙ্গে তিনি গোপনে পরিকল্পনা করতে থাকেন।

অক্টোবরে প্রিনছা ক্যাম্প অধিনায়ক সুবেদারকে জানালেন তিনি অসুস্থ, ঝালকাঠি যেতে চান ডাক্তার দেখাতে। এক হাবিলদার, এক সিপাইসহ বাবুল আর প্রিনছা এলেন ঝালকাঠি ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার যখন অসুখের জিজ্ঞেস করলেন, তখন প্রিনছা বললেন, তিনি গর্ভবতী, গোপনে কথা বলবেন। পেছনের ঘরে গিয়ে তিনি ডাক্তারকে বললেন, আসলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা নন, কিন্ত পাকিস্তানি হাবিলদারকে যেন ডাক্তার বলে দেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা, প্রতি চার দিন পরপর তাঁকে ডাক্তারের কাছে পরীক্ষার জন্য আসতে হবে।
পরে একদিন ডাক্তারের কাছে গিয়ে প্রিনছা বললেন, তাঁর বিষ চাই। (কেন চান এটাও বুঝিয়ে বললেন) ডাক্তার কিছুদিন সময় নিয়ে ঝালকাঠি থেকে বিষ এনে দিলেন।

সেদিন সন্ধ্যায় খুবই যত্ন করে রান্না করলেন প্রিনছা। তার আগে রান্নাঘরে দুই পাকিস্তানি বাবুর্চিকে খাইয়ে এসেছেন, খাওয়া শেষে সবাই অচেতন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রিনছা বাবুলের সঙ্গে পালিয়ে যান নাজিরপুলে।
সেই ক্যাম্পের ৪২ জন শক্রর মধ্যে ১৪ জন অচেতন অবস্থায় মারা যায় আর বাকিদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল চিকিৎসার জন্য।
কিন্তু সবাই মারা গেল না-শুনে প্রিনছা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই ডাক্তারের উপর। তাঁর ধারণা, ডাক্তার ভেজাল বিষ দিয়েছে নইলে সবাই মরল না কেন!
বরিশাল থাকাটা তাঁর জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ালে, দুদিন লুকিয়ে থেকে ঢাকার লঞ্চে উঠে পড়েন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবার বরিশালে ফিরে আসেন।

যুদ্ধের পরে প্রিনছার সঙ্গে কথা হলে তিনি ঝলসে উঠে বলেছিলেন, 'এখন বলো, আমার এই দেহটা ভয়ংকর অস্ত্র নয় শত্রুকে মারার জন্য? এই অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে লক্ষ-কোটি মানুষের মুক্তির জন্য, মুক্তিযুদ্ধের জন্য। ...তোমার হাতের অস্ত্র এবং আমার দেহ কী একই অস্ত্র না?' 
*তথ্যসূত্র: জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা/ মেজর (অব.) কামরুল হাসান ভূইয়া।

(প্রিনছা খেঁ নামের এই মানুষটাকে ৩৬ বছর পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার যথাযথ সম্মান দেয়া হয়নি, তেমন কেউ মনে রাখেনি। এর পরে কী হয়েছে এটা জানা নাই। ইতিহাসে এদের নাম আসে না কারণ এরা দলবাজ না। ঘুরেফিরে আসবে অল্প কিছু বিখ্যাত মানুষদের নাম। বছরের পর বছর ধরে আমরা এদের কথা শুনতে শুনতে কানের পোকা বের করে ফেলব। আসলে ভাঙ্গা গ্রামোফোনের পিনটা আটকে আছে কোথাও, এ থেকে আমাদের মুক্তি নাই।)
যেমনটা আমরা সম্মানিত করেছি উক্য চিং-কে...১০০ টাকা দিয়ে...।

Monday, January 26, 2009

ইহা একটি মক্তব-চিন্তার দৈনিক

"...সাদার উপর সোনালি রঙের কাজ করা শাড়ি পরে হাস্যোজ্জ্বল সংসদ নেতা শেখ হাসিনা...অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন।"
 

"...এ সময় খয়েরি রঙের জর্জেট শাড়ি পরে বেগম খালেদা জিয়া...অধিবেশনে যোগ দেন।" (প্রথম আলো/ ২৬.০১.০৯)
 

ভাগ্যিস, পত্রিকাটা জানিয়েছে কী পরে এরা সংসদে যোগ দিয়েছেন নইলে ভ্রম হত, এরা বুঝি লুঙ্গি ফতুয়া পরে চলে এসেছেন।
শাড়ি পরে এসেছেন এটা জানা গেল, কী রঙের শাড়ি এটাও জানা গেল এবং শাড়িটা জর্জেট নাকি সুতি এটাও আমরা ভোদাই পাঠক অবগত হলুম।

দেখুন দিকি কান্ড, এই আমিই কিনা অহেতুক ক-দিন আগে এই পত্রিকার কান্ডজ্ঞান নিয়ে কটাক্ষ করেছিলাম চুতিয়া মিডিয়া এবং কেজি দরে প্রাণ। অন্যায়, ঘোর অন্যায়!
"বঙ্গোপসাগরে ৩০০ বাংলাদেশি নিখোঁজ, উদ্ধার ১০২..."(প্রথম আলো, ৩০.১২.০৮)।
এই খবরটা কেন প্রথম পাতায় জায়গা পেল না, শেষ পাতায় হেলাফেলা ভঙ্গিতে ছাপা হয়েছিল, এই নিয়ে পত্রিকাটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা কী আমার সমীচীন হয়েছিল? আরে বাপু, আমরা নির্বোধ পাঠককে শাড়ির খবর বিস্তারিত জানাতে গিয়েই না পত্রিকার এহেন অবস্থা, প্রথম পাতায় জায়গাটাই-বা কই!

Sunday, January 25, 2009

কত যে খুঁজেছি তোমায়





Thursday, January 22, 2009

ভুলের মাসুল জীবন দিয়ে








ছবিসূত্র: বাংলার মুক্তিসংগ্রাম/ আফতাব আহমদ

Tuesday, January 20, 2009

মুক্তিযুদ্ধে: ফাদার মারিনো রিগন।

ফাদার।
ফাদার মারিনো রিগন। ইতালীর নাগরিক। ১৯৫৩ সালে এই মানুষটা বাংলাদেশে আসেন।

সালটা
১৯৭১। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। তখন তিনি বানিয়ারচর গ্রামের ক্যাথলিক গির্জার প্রধান যাজক। কী ম্যাজিক! দিনের বেলায় গির্জা, ফাদার মারিনো ওই গির্জার যাজক। কিন্তু ভোজবাজির মত রাতে গির্জাটা হয়ে যেত হাসপাতাল। তিনি গির্জাটাকে রাতের বেলায় বানিয়ে ফেলতেন হাসপাতাল, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে।
শত শত মুক্তিযোদ্ধার প্রাণ বাঁচিয়েছেন তিনি, চিকিৎসা করেছেন, খাইয়েছেন। যুদ্ধের নারীকে করেছেন পূর্ণবাসিত। সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
১৯৭১-এ রিগন নিয়মিত ডায়েরি-দিনলিপি লিখতেন। তখন তার দিনলিপিতে লিপিবদ্ধ আছে বাঙালীদের উপর পাক-আর্মির নৃশংসতার কথা, রাজাকারদের তান্ডবের বর্ণনা।

একজন হেমায়েতউদ্দিন বীর বিক্রম।
ইনি ১৯৭১ সালে ছিলেন রামশীল গ্রামে দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধার দল হেমায়েত বাহিনীর প্রধান। এই বাহিনীর সঙ্গে পাক আর্মীর তুমুল যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে হতাহত হয় পাক আর্মীর ১৫৮ জন। আহত হন হেমায়েত বাহিনীর হেমায়েত।
যথারীতি চিকিত্সা করেন ফাদার রিগন। হেমায়েত প্রাণে বেঁচে যান।

পরে হেমায়েত বলেন, ওই সময় আমার চিকিত্সা করে ফাদার নিজের জীবনের উপর ঝুঁকি নিয়েছিলেন। ওই সময় উপরে ছিলেন ঈশ্বর নীচে ফাদার রিগন।

গতবছর তিনি জটিল অপারেশনের জন্য ইতালী যাওয়ার আগে গির্জার লোকজনকে বলে গিয়েছিলেন, ইতালীতে তাঁর মৃত্যু হলে তাঁকে যেন বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়, এখানেই সমাহিত করা হয়।
যাওয়ার আগে তিনি (আশা নাজনীন, প্রথম আলো) ফোনে বলে গিয়েছিলেন জীবনানন্দের ভাষায়, আবার আসিব ফিরে এই বাংলায়, এই ধানসিঁড়ি নদীর তীরে...।

আমরা ফাদার রিগন নামের ৮৩ বছরের এই মানুষটাকে এই ৩৭ বছরে কি দিয়েছি? মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কত লম্বা লম্বা বাতচিত করেছি! আমার জানামতে ২০০৭ পর্যন্ত এই মানুষটিকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি অথচ তিনি বারবার আবেদন করেছেন তাঁকে নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য, তাঁকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি। পরের আপডেট আমার কাছে নাই।
আমার লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছা করে যখন ভিনদেশি অসাধারণ এইসব মানুষদের কাছে আমাদেরকে অকৃতজ্ঞ, নগ্ন করে দেয়া হয়।

হায়রে আইন, হায়রে গাইন। কার জন্য আইন? আইনের মারপ্যাচে গোলাম আযম [১] এই দেশের নাগরিক হতে পারবেন অথচ এই মানুষটা নাগরিকত্ব পাবেন না! কেন? আমরা দুধ বিক্রি করে শুটকি কেনা জাতি বলে?

আফসোস, একজনের নাগরিকত্ব অন্যজনকে দেয়ার নিয়ম নাই। নইলে তুচ্ছ আমি, সীমাহীন আনন্দের সঙ্গে এই মানুষটার জন্য নিজের নাগরিকত্ব ছেড়ে দিতাম, অবলীলায়। আজীবন এই আনন্দ বয়ে বেড়াতাম, অগাবগা আমি, সমস্ত জীবনে অন্তত ভাল একটা কাজ করলাম।
আফসোস, এমনটা নিয়ম নাই।
কিন্তু, দেবদূতের মতো এই মানুষটার চশমার পেছনের ঝকঝকে চোখে চোখ রাখি কেমন করে!

ফাদার ঠিকই বলেছিলেন, ‍‍"...যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাঁরাই জয়ী। আমরা যারা বেঁচে আছি তারা স্বাধীনতার সুখ বা সুবিধাভোগী...।"

আসলেই আমরা বড় সুবিধাভোগী। ধান্ধাবাজ। ভান করি স্বপ্নবাজের!


*অবশেষে, ২০০৯-এ মানুষটাকে নাগরিকত্ব দিয়ে, আমরা নিদারুন লজ্জার হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমি সরকারকে ধন্যবাদ দেই আমাদের নগ্নতা ঢাকার জন্যে এক টুকরো কাপড়ের ব্যবস্থা করার জন্যে।

সহায়ক লিংক:
১. গোলাম আযম: http://www.ali-mahmed.com/2007/07/blog-post_3179.html

মা হাতি


মা হাতি আকাশের দিকে শুঁড় তুলে সজোরে নিঃশ্বাস টেনে নিশ্চিত হলো, আসছে ফাজিলটা। সে তার অসম্ভব ছোট চোখ কিঞ্চিত বড় করে পূর্ণ দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করল, নাহ কিছুই দেখা যাচ্ছে না। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল, তাদের এত অল্প দৃষ্টি দিয়ে পৃথিবীতে কেন পাঠানো হয়েছে, কেন শুকুনের দৃষ্টি দিয়ে কেন পাঠানো হলো না!

মা হাতিটার বাচ্চা ঝড়ের গতিতে এলো। পেছনে রেখে এসেছে দোমড়ানো-মোচড়ানো শিশু বৃক্ষ, ঘন ধুলোর মেঘ।
মা হাতি শুঁড় ঝেড়ে বিরক্তি প্রকাশ করল, ‘এভাবে দৌড়ায় পাগল। তুই কি পাগলু?’
হাতির বাচ্চা থমকে দাঁড়াল। রাগ চেপে কর্কশ গলায় বলল, ‘সবার তো দেখি দুটা কান একটা মুখ। তোমার কি একটা কান দুটা মুখ? তুমি শুনো কম, বল বেশী!’
মা হাতি বেয়াদব সন্তানকে শাসন করার জন্য শুঁড় দিয়ে চড় দিতে এগিয়ে এলো। চড় দেয়া হল না। পা থেকে মাথা পর্যন্ত কেঁপে উঠল। তার প্রিয়জনের সমস্ত শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে। খোকা কোত্থেকে রক্তারক্তি কান্ড করে এলো!

মা হাতি (ছলছল চোখে), ‘খোকা, আবার ঝগড়া বাধিয়েছিস?’
বাচ্চা হাতি, ‘আমার খেয়ে দেয়ে আর কাজ নাই, আমি কি ইচ্ছা করে ঝগড়া করি?’
মা হাতি, ‘নিশ্চয়ই বাইরের পচা-আজেবাজে ছেলেদের সঙ্গে মারামারি করেছিস?’
বাচ্চা হাতি (বেয়াদব সন্তানের মতো), ‘আহ কি যন্ত্রণা। কানের পাশে কটকট না করে ওষুধ বানিয়ে নিয়ে এসো তো। ’
মা হাতি, ‘তোর এ অবস্থা হলো কি করে?’
বাচ্চা হাতি এবার গলা ফাটিয়ে কেঁদে উঠল। কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘ম্যামি-ম্যামি, আমি না...।’
মা হাতি ধমক দিল, ‘কয় লাখবার বলতে হয় একটা কথা। বলিনি, ম্যামি, মম এইসব সম্বোধন আমার পছন্দ না। মা বললে কি হয়, জিব খসে পড়ে!’
বাচ্চা হাতি শুঁড় দিয়ে চোখ মুছে বলল, ‘মা-মা, অ মা, আমি না রেললাইন পার হচ্ছিলাম। তাড়াহুড়োয় হুমড়ি খেয়ে পড়লাম। হঠাৎ করে একটা রেলগাড়ি ধাক্কা দিয়ে এ অবস্থা করেছে। কী নিষ্ঠুর মা, চেষ্টা করে দাঁড়ানো দূরের কথা একবার ফিরেও তাকায়নি!’

মা হাতির পা থেকে শুঁড় পর্যন্ত অসহ্য রাগে জ্বলে গেল। মানুষ পেয়েছেটা কী! দিন দিন এরা কী অমানুষই না হচ্ছে। তাদের দাঁত (আইভরী) কেটে নেয়। এটা-ওটা ঘোড়ার ডিম বানায়। আরে বদ, বদের হাড্ডি, দাঁত দিয়ে শখের জিনিস বানালে নিজেদের দাঁত খুলে বানা, নিষেধ করছে কে! জঙ্গলের জমিদার হাতি অথচ গাধার পর্যায়ে নামিয়ে আনে। টনকে টন কাঠ টেনে নিয়ে যেতে বাধ্য করে। ধরে ধরে চিড়িয়াখানায় আটকে রাখে। কী দুঃসাহস, হাতিদের বলে শুঁড় উঠিয়ে মানুষকে সালাম দাও- চার পা তুলে ছোট কাঠের টুকরায় উঠে দাঁড়াও। কী কষ্ট, কী কষ্ট!
মা হাতি (শুঁড় শক্ত করে), ‘ট্রেনটার নাম্বার কত?’
বাচ্চা হাতি (আমতা আমতা করে), ‘না মানে, ইয়ে...আমি ঠিক...।’
মা হাতি(রাগী স্বরে), ‘তোকে বলে বলে আমার সাদা আইভরী হলদেটে হয়ে গেল, লেখাপড়া কর-লেখাপড়া কর। তুই কী চিরকাল এরকম বাউন্ডুলেই থাকবি রে, খোকা। লেখাপড়া করে না যে, গাড়ি চাপা পড়ে সে।’
বাচ্চা হাতি, ‘সব সময় বকাবকি করো। এ জীবন আর ভাল্লাগে না।’

মা হাতি, ‘দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা। আসুক আজ রেলগাড়ি। হাতি চেনে না, হাউ মেনি কলা গাছ, হাউ মেনি ব্যানানা।’
বাচ্চা হাতি(ভীত গলায়), ‘মা-মা, দোহাই তোমার ওকাজ করো না। রেলগাড়ির কি শক্তি তুমি জান না, স্রেফ কলাগাছের ভর্তা হয়ে যাবে।’
মা হাতি এর উত্তর দিল না। বিড়বিড় করে বলল, যে মা তার সন্তানের জন্যে প্রতিশোধ নিতে জানে না তার বেঁচে থাকার কোন অধিকার নাই! এ জীবন কোন দিনের জন্যে? খোকা জানে না ওর জন্যে রয়েছে কী অসম্ভব মমতা। এটা বলা হয় না। হাতি তো আর মানুষ না যে দিনে একশবার বলবে, খোকা রে, তুই আমার চোখের মনি, কুনকুনি, ঠুনঠুনি, ভুনভুনি, ঝুনঝুনি। মাথায় কেমন ভোঁতা যন্ত্রণা হচ্ছে, চারপাশে এতো বাতাস অথচ ফুসফুসটা শূণ্য মনে হচ্ছে।
মা হাতি শুঁড় উঠিয়ে বুঝতে পারছে একটা ট্রেন আসছে, এখনও অবশ্য বহুদূরে। বাচ্চাকে হিমগলায় বলল,‘আয় আমার সঙ্গে।’

মা হাতি আকাশ পাতাল কাঁপিয়ে ছুটে গেল। আজ মানুষের নাগাল পেলেই হয়, মাথায় পা তুলে স্রেফ কলার ভর্তা বানিয়ে ফেলবে। মোটাসোটা একটা গাছ ভেঙ্গে বনবন করে মাথার উপর ঘোরাল। রেললাইন জুড়ে আগুন চোখে দাঁড়িয়ে রইল। ইন্টারসিটি ট্রেনটা ঘনঘন হুইসেল বাজিয়ে আসছে। রেললাইনের উপর বিশাল গাছ দেখে দাড়িয়ে পড়তে বাধ্য হল।
মা হাতি গাছটা শুঁড়ে পেঁচিয়ে ইঞ্জিনের গায়ে দমাদম পিটিয়ে ইঞ্জিন অচল করে ফেলল।

এই ট্রেনেই বুকিন ওর বাবা-মার সঙ্গে সিলেট থেকে ফিরছে। জোর ব্রেক কষে হঠাৎ ট্রেনটা থেমে যাওয়ায় বাবা সিট থেকে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেছেন। চশমা কোথায় যেন ছিটকে পড়েছে। বাবা পাগলের মতো এদিক-ওদিক হাতড়ে বেড়াচ্ছেন। কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন, ‘আমার চশমা, আমার চশমা! ’
বুকিনের মা চেঁচিয়ে বললেন, ‘আল্লাগো কী হলো, হে মাবুদ...।’
বুকিনের বাবা আবার বললেন, ‘আমার চশমা!’
বুকিনের মা রেগে গেলেন, ‘আল্লা খোদার নাম নাই, খালি আমার চশমা, আমার চশমা। চশমা তোমায় বাঁচাবে!’
বুকিনের বাবা কাতর গলায় বললেন, ‘বুকিনের মা, চশমা ছাড়া আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। সব কেমন ঝাপসা লাগছে।’

বুকিনের বুকটা ধ্বক করে উঠল। অজান্তেই চোখে পানি চলে এসেছে। বাবা চশমা পরেন জানত। বাবা যে চশমা ছাড়া প্রায় অন্ধ এটা আজ বুঝল। আহারে, মানুষটাকে কী অসহায়ই না দেখাচ্ছে!
বাবা সামলে নিয়ে বলল, ‘বুকিন, বাবা দেখ তো বাইরে কী হচ্ছে। খবরদার জানালা দিয়ে মাথা বেশি বের করবি না।’
বুকিন ভয়ে ভয়ে মাথা বের করে বলল, ‘বাবা লোকজন সব দৌড়াদৌড়ি করছে। হাতিরা নাকি গাড়ি আক্রমণ করেছে। ও বাবা, দেখ-দেখ, একটা হাতির বাচ্চার শরীর থেকে কলকল করে কী রক্তই না বেরুচ্ছে! ইস, বেচারা ইস-স। সরি বাবা, আমার খেয়াল ছিল না তুমি যে চশমা ছাড়া দেখতে পাও না।’
বাচ্চা হাতি (আর্দ্র গলায়), ‘মা, মা, ওই দেখ কী ফুটফুটে একটা মানুষের বাচ্চা! কী মায়া মায়া চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। মা-মা দেখ, মানুষের বাচ্চাটা আমাকে দেখে কাঁদছে!
মা হাতি (আগুন চোখে), ‘এত কিছু দেখতে হয় না, মন নরম হয়ে যায়। আজ যাকে পাবো তাকেই ভর্তা করে ফেলব!’
বাচ্চা হাতি, ‘মা, তোমার চারটা পায়ে পড়ি এদের ক্ষমা করে দাও! মা, মাগো, আমার গা ছুঁয়ে বলো!’


মা হাতি শুঁড় দিয়ে বাচ্চাকে পেঁচিয়ে ধরল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে মা হাতি তার বাচ্চাকে নিয়ে জঙ্গলের দিকে এগুতে এগুতে ভাবল, মানুষদের বড় মজা, এরা ইচ্ছা করলেই মানুষ থেকে চট থেকে অমানুষ হয়ে যায়। আফসোস, পশুদেরই কষ্টের শেষ নেই, এরা না হতে পারে মানুষ, না হতে পারে পুরোপুরি পশু!

*এটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে।
২১.০২.৯৩ পত্রিকার (ভোরের কাগজের) খবর ছিল এই রকম: “সিলেট লাইনে ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে একটা হাতির বাচ্চা আহত হয়। পরে হাতি এসে অন্য একটা আখাউড়াগামী ট্রেনটা শুড় দিয়ে দমাদম পিটিয়ে, ইঞ্জিন অচল করে ফেলে।’
আসলে পৃথিবীর সব মা প্রায় অবিকল এক! কে জানে, এ জন্যই হয়তো এ কথাটা এসেছে:
ঈশ্বর তাঁর মমতা বোঝাতে গিয়ে বলছেন, আমার পক্ষে তো সব জায়গায় থাকা সম্ভব না, তাই আমি অজস্র মা সৃষ্টি করেছি!

**শুভ'র ব্লগিং থেকে

Monday, January 12, 2009

পাই... থেরাপী

বহুজাতিক কোম্পানিগুলো হচ্ছে একেকটা চলমান রোবট বানাবার কারখানা। এরা ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষকে চোখে চোখে রাখবে যতক্ষণ পর্যন্ত সে পুরোপুরি রোবট হয়ে না উঠে। আসলে উপায় থাকে না কারণ একের পর এক চকচকে লোভের হাড় মানুষের দিকে ঝড়ের গতিতে ছুটে আসতেই থাকবে- এই হাড় থেকে অবিরত চুইয়ে পড়ে বাড়ি-গাড়ি-নারি আরও কত কী, ইয়াত্তা নাই!

এভাবেই ক্রমশ মানুষের যুগ শেষ হয়ে আসছে- শুরু হচ্ছে রোবটের যুগ। যে অল্প ক’জন মানুষ আছেন এরা কিছুটা মানুষ কিছুটা রোবট। কারও হয়ত দেখা গেল দু-চোখের এক চোখ মানুষের, অন্য চোখ রোবটের। তীব্র বেদনায় এক চোখে পানি বের হচ্ছে তো অন্য চোখ শুকনো খটখটে। জমজ শিশুর একটা হয়তো মানব-ভ্রুণ, অন্যটা রোবট-ভ্রুণ।
বড় হয়ে ওই মানব ভ্রুণটা একটি কুকুরের জন্য চোখের জল ফেলছে (কুকুরটিকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল। সাত-আটটি ছোট ছোট দুধের বাচ্চা। সবগুলো বাচ্চা মার মৃতদেহের ওপর পড়ে আছে। বৃথাই দুধ টানার চেষ্টা করছে)।
অন্য দিক। একটি মানব সন্তানের মৃত্যু হলে রোবট-ভ্রুণটা মরা মাছের চোখ করে বলছে: শিট, একটা চিপ নষ্ট হলো।

এক বহুজাতিক কোম্পানির বড় কর্তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আচ্ছা, তোমরা কাজ-কাম চালাও কেমনে?
সে উত্তর দিয়েছিল, আমরা তো কাজ করি না মিটিং করি, মিটিং-এর উপরই থাকি। খোদা না খাস্তা যখন কেউ ফ্রি থাকে তখন বলি, কোন কাজ নাই তো একটা মিটিং ডাক। আসলে আমরা মিটিং নিয়েই থাকি, মেটিং করারও সময় পাই না।
আবার প্রশ্ন করা হয়েছিল, তোমাদের এতোসব উদ্ভট আইডিয়া পাও কোত্থেকে?
সাবলিল উত্তর, কেন, কেন রেস্ট-রুম থেকে!
মানে টাট্টিখানা-পাইখানা থেকে!
ইয়াপ।

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্যর কিছু নমুনা দেয়া যাক। ধরা যাক একটা পণ্য, চিপস (যান্ত্রিক চিপস না, খাওয়ার চিপস। যেটা খেলে কুড়মুড় শব্দ হবে, হবেই, শব্দ না করতে চাইলে চিপস পানিতে ভিজিয়ে চামচ দিয়ে খেতে হবে)। তো ওই কোম্পানীর চিপস দেশে-বিদেশে (বুধ, বৃহস্পতি গ্রহ ব্যতীত) হু হু করে বিক্রি হচ্ছে।
এমনি এমনি না, বাজারজাত করা একটা ভারী কু-জটিল প্রক্রিয়া।
মাসের শুরুতে জানতে চাওয়া হবে এ মাসে কত বিক্রি হবে। যিনি বিক্রি করবেন তিনি অনেক আঁকজোক কষে, বৃষ্টি মেপে, গোপন জায়গায় রোদ লাগিয়ে, চুলকিয়ে; রোদের তীব্রতা বুঝে এবং ওই এলাকায় কতজন লোক আসবে কতজন যাবে এই সূক্ষ্ম হিসাব করে বললেন: ত্রিশ টন।
কিন্তু বিক্রি করতে বলা হলো চল্লিশ টন। ত্রিশ টনের হিসাব নাক মুছে কোথায় ফেলে দেয়া হয়েছে কে রাখে এর হিসাব।

তো চিপস বিক্রি শুরু হলো। চাহিদার হেরফের হলো। কিছু লোক হুট করে অন্যখানে চলে গেল ব্লাডার খালি করতে নচেৎ কিছু লোক বিচিত্র কারণে এখানে চলে আসল।
কিন্তু অমোঘ নির্দেশ এলো: চল্লিশ টন থেকে এক প্যাকেট চিপসও বেশি বিক্রি করা যাবে না। এমনটি এক প্যাকেট কমও না। মাস শেষে হাতে মজুদ থাকবে কত এটাও নাকি মাসের শুরুতেই নির্ধারিত হয়ে আছে।

তাহলে উপায়? মানব-রোবটদের এ দুর্দশা দেখে বহুজাতিক কোম্পানি তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে। হাসে মানে ডিজটাল ডিসপ্লেতে হাসির একটা ভংগি ফুটে উঠল। গোলের নামে ব্যাখ্যা দেয়া হল, এ তো খুব সোজা। তোমরা কিছু নিম্ন শ্রেণীর রোবট
মার্কেটে ছেড়ে দাও। যখন দেখবে বিক্রির বারোটা বেজে গেছে তখন এরা উদ্বৃত্ত চিপস কপাকপ করে খেয়ে ফেলবে। বিক্রি বেশি হলে কোথায় বাড়তি চিপস পাওয়া যাবে এটা অবশ্য এড়িয়ে যাওয়া হল।

আরও বলা হলো, জীবনটা হচ্ছে একটা দৌড়, লম্বা দৌড়- এখানে হিসাব ব্যতীত অন্য কিছুর স্থান নাই। তোমরা আমাদের ‘পাই... থেরাপীর’ দিকে তাকাও- আমরা যখন পাই...-এ যাই ডেলিভারী দেয়ার জন্য, হররোজ, প্রত্যেকবার ডেলিভারি নির্দিষ্ট সংখ্যা থাকে যেমন তিনশো আউন্স- এক আউন্স বেশি-কম হলে পাইখানার দরোজা আর খূলবে না।

ছবিসূত্র: ইন্টারনেট, বাথবিজ

Saturday, January 10, 2009

জুইশদের দানব হয়ে উঠা।

জুইশ কমিউনিটি বা ইহুদি সম্প্রদায়ের ইতিহাস প্রায় ৩০০০ বছর পুরনো। ইহুদি ধর্ম মূল ধর্মগুলোর প্রাচীনতম। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলিদের আদিবাস ছিল, তবে তারা এখন তাদের জায়গা বলে যেটা দাবি করছে তা নিয়ে জোর বিতর্ক আছে।
মোজেস বা মুসা নবী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই সম্প্রদায়ের সুখের সময় ছিল খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ বছর আগে ডেভিড বা সম্রাট দাউদের সময়। ডেভিডের সময় সলোমন বা সোলেইমানের সময়েও ইহুদিদের সোনালি সময়। কিন্তু সলোমনের মৃত্যুর পর ইহুদি জাতি ২ ভাগে ভাগ হয়ে যায়। অ্যাসিরিয়ানদের অনুপ্রবেশ ঘটে এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে ইহুদিরা ক্রমশ কোনঠাসা হয়ে পড়ে।


ইজিপশিয়ান ফারাওদের সময় থেকে শুরু করে জার্মানির হিটলার পর্যন্ত তাদের বিতাড়িত হতে হয়েছে বিভিন্ন দেশ থেকে। মুলত ইহুদিদের সঙ্গে চরম সম্পর্ক খারাপ ছিল খ্রীস্টানদের। খ্রীস্টানদের অনেকে ইহুদিদের যিশুর হত্যাকারি বলে মনে করত। ইহুদিদেরকে অভিশপ্ত জাতি মনে করত। ইহুদিদের দেখা হতো নিচু চোখে। ইহুদিদের জীবনটা হয়ে পড়ে যাযাবরের মত, কেবল এখান থেকে সেখানে তাড়া খেয়ে বেড়ানো। তারা পরিশ্রমের কাজের চেয়ে বেছে নিত কম পরিশ্রমের মাথা খাটাবার সূক্ষ-বুদ্ধির কাজ।

ইউরোপে এদের সম্বন্ধে কেমন ধারণা ছিল এটা বোঝা যাবে ছোট্ট একটা উদাহরণ দিয়ে। শেক্সপিয়ারের 'শাইলক' ইহুদি চরিত্রটি, যে এমন নির্মম টাকা আদায়ের জন্য গায়ের মাংস কেটে নিতেও পিছ-পা হয় না। বা নিকোলাই গোগলের 'তারাস বুলবা' উপন্যাসের ইহুদি চরিত্র ইয়ানকেল।

মুসলমানদের সঙ্গে তাদের ছিল সুসম্পর্ক। সম্পর্কের অবনতি হয় অনেক পরে। ইউরোপে তাড়া খেয়ে এরা অবশেষে মিডল-ইস্টে ঢোকা শুরু করে। এখানে ইউরোপিয়ানদের সূক্ষ চাল ছিল; যেহেতু এরা ইহুদিদের পছন্দ করত না তাই তারা চাচ্ছিল এই বোঝা মুসলমানদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে। আর ইহুদিরাও চাচ্ছিল হাজার-হাজার বছরের যাযাবরের জীবনের অবসান।

জুইশ কমিউনিটির বা ইহুদিদের লোকসংখ্যা মাত্র দেড় কোটি। এরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে পৃথিবীময়। তাই তো আইনস্টাইন বলেছিলেন, There are no German Jews, There are no Russian Jews, There are no American Jews ...There are in fact only Jews.
আসলেই এরা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক- এদের একতা, ভিশন নিয়ে কারও কোন দ্বিমত নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্বপ্ন দেখেছে ইসরাইল নামের স্বপ্নভূমি, যে কোন মূল্যে। ৩০০০ হাজার বছর আগে মিডলইস্টের কোন এক জায়গায় তাদের জন্মভূমি ছিল এই যুক্তিতে গায়ের জোরে দখল নেয়াটা এদের পক্ষেই সম্ভব।
এই বিষয়ে ইউরোপিয়ানদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ নিয়ে ইয়াসির আরাফাতের স্পষ্ট বাক্য ছিল,'ইসরাইলীদের জন্য আপনাদের এতো দরদ থাকলে ইউরোপ, আমেরিকায় আপনাদের বিস্তীর্ণ ভূমি রয়েছে, আপনারা ওখান থেকে জমির ব্যবস্থা করে দিন। দয়া করে আমাদের জমি দিতে বলবেন না, শত-শত বছর ধরে আমরা এখানে বসবাস করে আসছি'।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যে গণহারে ইহুদি নিধন শুরু হয় বা বিভিন্ন সময়ে খ্রীস্টানরা এদের উপর যে অত্যাচার করেছে, সেই অত্যাচার এরা এখন কয়েক গুণ ফিরিয়ে দিচ্ছেভাগ্যের রসিকতা সেই রোষ, দানবীয় আচরণের সম্মুখীন হতে হচ্ছে মুসলমানদের।

এরা কেমন দানব হয়ে উঠেছে এর একটা উদাহরণ হতে পারে এটা। ১১০ ফিলিস্তানিকে একটা ভবনে আটকে রেখে বোমা মেরে প্রায়
সবাইকে মেরে ফেলে, এতে অন্তত ৩০জন শিশু, নারি ছিলেন। 

(গড থেকে আল্লাহ আবার একটু ঘুমকাতুরে বেশি। নাকে জয়তুনের তেল দিয়ে ঘুমানোটা ভারী আরামপ্রদ তাঁর জন্যে। এতে সমস্যা নাই কিন্তু 'ইচ্ছা-মৃত্যুর' অপসন থাকলে বেশ হত। ইচ্ছা-মৃত্যুর ব্যবস্থা থাকলে আমি মৃত্যু কামনা করতাম এক্ষণ, এই মুহূর্তে, নির্বিকারচিত্তে।) 

*ছবিসূত্র: ইন্টারনেট, সোর্স, বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি।

কর্নেল তাহের, তোমাকে কি স্পর্শ করতে পারি?


(২১.০৭.০৮ প্রথম আলো তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তাহের সম্বন্ধে একটা শব্দও পাইনি বলে খানিকটা ধন্ধে আছি, সত্যিই কী এই দিনটিই তাঁর মৃত্যু দিবস ছিল? নাকি মুক্তচিন্তার দৈনিক দামি স্পেস নষ্ট করেনি! তাই যদি হয়, জয়তু মুক্তচিন্তা- বেঁচেবর্তে থাকো, ক্ষণে ক্ষণে মুক্তচিন্তা প্রসব করো! আমি বলি কি, চুতিয়ার খাতায় নাম লেখাও! )

আমি অবশ্য তাঁর মৃত্যুর দিনকে মৃত্যু দিবস বলে মনে করি না। আজ এই অগ্নিপুরুষের কেবল খোলস বদলাবার দিন। আসলে এমন অগ্নিপুরুষকে মেরে ফেলা যায় না, কারও সাধ্য নাই, যমেরও।
... ... ...
এমসি কলেজে পড়ার সময় বন্ধুদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটা আর্মস স্ট্রাগল করার জন্য তিনি মিলিটারি ট্রেনিং নিতে আর্মিতে ভর্তি হবেন। ঠিক-ঠিক আর্মিতে জয়েন করলেন।
কমান্ডো মেজর আনোয়ার হোসেন (অব:) লিখেছিলেন এই অগ্নিপুরুষকে নিয়ে:
‌'১৯৬৭ সাল। আমি পাকিস্তানে ট্রেনিং নিচ্ছি। ওসময় পরিচয় কর্নেল (তৎকালীন মেজর) আবু তাহেরের সঙ্গে। কথাবার্তা হচ্ছিল বাংলায়:
কর্নেল তাহের: বাঙালী কমান্ডো তুমি?
আনোয়ার: ইয়েস স্যার।
কর্নেল তাহের: আমার খুব আনন্দ হচ্ছে তুমি কমান্ডো হচ্ছো, কিন্তু ভুলবে না, পরাধীন দেশ স্বাধীন করতে হবে।
আনোয়ার : স্যার, পরাধীন, পাকিস্তান তো স্বাধীন দেশ! কিসের কথা বলছেন বুঝতে পারছি না!
ক. তাহের (রাগী স্বরে): গোল্লায় যাক পাকিস্তান। তুমি একজন বাঙালী কমান্ডো, বুঝতে পারছ না কোন দেশ স্বাধীন করতে হবে?'
আনোয়ার স্তম্ভিত হলেন।
১৯৬৭ সালে বাঙালী নেতাদের মুখেও দেশ স্বাধীন করার কথা শোনা যেত না। অথচ একজন সৈনিক হয়ে কী দুর্দান্ত বিশ্বাস নিয়েই না উচ্চারণ করলেন।

একটা স্বপ্ন- জান্তব, অদেখা স্বপ্ন! এই স্বপ্ন কেবল অল্প ক-জন মানুষই দেখতে পায়, তাহের তাঁদের একজন।

কমান্ডো তাহেরের অসমসাহসিকতার বর্ণনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। অতি সাহসী মানুষরাও তাঁর অতুল সাহসের কথা স্মরণ করে
এখনও শিউরে ওঠেন। নবীন কমান্ডোরা দূর থেকে তাহের নামের মানুষটাকে দেখে ফিসফিস করত, 'লুক, জেন্টলম্যান, দিস ইজ তাহের, আ লিজেন্ট ইন দ্য হিস্ট্রি অভ কামান্ডো ট্রেনিং। ...আ ম্যান ক্যান নট বী আ তাহের। হী ইজ আ সুপার, এক্সেপশনাল'।
তাঁর সার্টিফিকেটে লেখা ছিল, তিনি পৃথিবীর যে কোন দেশের, যে কোন সেনাবাহিনীর সঙ্গে, যে কোন অবস্থায়, অনায়াসে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম।

১৯৭১ সাল। রক্তাক্ত রণাংগন। তিনি প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তান আর্মি থেকে পালিয়ে আসেন। অমিত সাহস নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। একটাই স্বপ্ন, সিংহাবলোকন ন্যায় তাহেরের, স্বাধীন দেশ।
পাক কমান্ডাররা তাহের সম্বন্ধে তাদের সৈনিকদের হুশিয়ার করে দিত, 'ইয়াংম্যান, বী আ্যওয়ার অভ তাহের। হী ইজ আ ভলকানো, আ হানড্রেড পার্সেন্ট এক্সামপল, প্রফেশনাল। সো সেভ ইয়্যুর স্কীন'।

তাহেরের বাঁ পায়ে গুলি লেগে গেল, রক্ত ঝরছে বিরামহীন। চেষ্টা করেও থামাননো যাচ্ছে না। তাঁকে উদ্ধার করতে ভারতীয় বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত হেলিকপ্টার নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছল।
উদ্ধারকারি মিত্র বাহিনীর অফিসারকে তাহের হা হা করে হাসতে হাসতে বললেন: 'এরা কী যুদ্ধ করবে, এরা আমার মাথায়ই গুলি লাগাতে পারেনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হবেই, এরা আটকাতে পারবে না, এদের এই ক্ষমতাই নাই'।

পরবর্তীতে এই তাহেরই বাংলার সাধারণ হাজার-হাজার কৃষকদের ট্রেনিং দিয়ে একেকজনকে দুর্ধর্ষ যোদ্ধারূপে গড়ে তুলেছিলেন। এই বিষয়টা অন্য কারও মাথায় খেলেনি। পরবর্তীতে দেখা গেছে, এই কৃষক-মজুর এঁরা একজন সৈনিকের চেয়ে অনেক ভালো করেছেন। কারণ এঁদের বুকে ছিল একরাশ দুর্দান্ত রাগ- চোখের সামনে এদেঁর কারও প্রিয়মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, কাউকে শারীরিককভাবে অপমান করা হয়েছিল, ধর্ষণ করা হয়েছিল।
... ... ...
এ অভাবনীয়, অভূতপূর্ব! তাহের এমন পিতা-মাতার সন্তান যারা তাঁদের ৭ পুত্র এবং ২ কন্যাকে মুক্তিযুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। এদের মধ্যে কর্নেল তাহের বীর উত্তম, তাঁর ভাই আবু ইউসুফ বীর বিক্রম, শাখাওয়াত হোসেন, ওয়ারেসাত হোসেন বীর প্রতীক।
হায় তাহের, হায়- তোমাকে ধারণ করার ক্ষমতা আমাদের কখ-খনো হবে না! এমন একজন অকুতোভয় মানুষকে, একটা স্বপ্নকে, সামরিক আদালতে বিচারের প্রহসনের নামে ফট করে মেরে ফেলা আমাদের দেশেই সম্ভব। আসলে ভীরু, কাপুরুষদের এটা করা ব্যতীত উপায় ছিল না। তাহেরকে বাঁচিয়ে রাখার উপায় ছিল না। আফসোস, এই দেশ তার সেরা সন্তানদের কখনই ধরে রাখতে পারে না- অভাগা দেশ!
এ স্রেফ খুন! কর্নেল তাহেরকে খুন করা হয়েছিল। এবং এই খুন করার ধরন, নমুনা দেখে আমি বিস্মিত হই- গা বাঁচিয়ে কী চমৎকার ভঙ্গিতেই না খুন করা যায়! অনর্থক রসু খাঁকে আমরা দোষ দেই!

তাঁকে যেভাবে ফাঁসি দেয়া হয় প্রকারন্তরে এ খুনেরই নামান্তর। তাঁর ডেথ ওয়ারেন্ট ইস্যু করার মাত্র ৩ দিনের মাথায় ফাঁসি কার্যকর করা হয়। অথচ জেল কোড অনুযায়ী ডেথ ওয়ারেন্ট ইস্যুর ২১ দিন আগে বা ২৮ দিন পরে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার বিধান নাই।

একজন কথিত জল্লাদ জনাব মোঃ সিরাজউদ্দিনের সাক্ষৎকার নেয়া হয়েছিল, মিনার মাহমুদের বিচিন্তা পত্রিকায়:
"প্রশ্ন: ফাঁসির মঞ্চের কোনও ব্যক্তির আচরণ কি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে? যদি যায়, তবে সেই ব্যক্তিটি কে?
জল্লাদ সিরাজউদ্দিন: কর্ণেল তাহের। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়াইয়া তিনি সহজভাবে কথা বলেছেন। একটা বিপ্লবী কবিতা পইড়া শোনাইছেন (জন্মেছি মৃত্যুকে পরাজিত করব বলে...)। আশ্চর্য! তিনি নিজের হাতে যমটুপি পরছেন। নিজেই ফাঁসির দড়ি নিজের গলায় লাগাইছেন। আমার মনে হয় ফাঁসির মঞ্চে এমন সাহস দুনিয়ার আর কেউ দেখাইতে পারে নাই।"

কাজলা গ্রামে, অযত্মে অবহেলায় শুয়ে থাকেন এই অগ্নিপুরুষ।
এ প্রজন্ম তাহেরকে কি কিছুই দিতে পারেনি, কি জানি! কিন্তু যখন দুর্বিনীত রাগী যুবকের উদ্ধত মাথা নুয়ে বুক ছুঁয়ে যায়, চোখ ভরে আসে জলে। চট করে মুখ ঘুরিয়ে নিলেই হয় কিন্তু এ লজ্জা মুছে ফেলার চেষ্টা করে না সে। জলভরা চোখে তাহেরের অদেখা স্বপ্ন তাঁকে ছুঁয়ে যায়। অস্ফুটে বলে, কমরেড, আমরা কী তোমায় স্পর্শ করতে পারি?
এ-ও কি কম পাওয়া, কিছুই না?

তাহেরের মত মানুষকে মেরে ফেলা যায় না, এঁরা খোলস বদলান কেবল। একটা স্বপ্নকে খুন করা যায় না, স্বপ্ন ফিরে আসে বারবার।
বাংলার এমন দামাল সন্তান বারবার ফিরে আসে এই ধান-শালিকের দেশে, মার কাছে। দুঃখি মা-টা হাহাকার নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন, কবে ফিরবে তার প্রিয় সন্তান...।

Friday, January 9, 2009

জুইশ-শিশুরা, আগামিকালের একেকজন চলমান দানব

"একটি পাখির বাসা আছে
একটি গরুর গোয়াল আছে
একটি ঘোড়ার আস্তাবল আছে
একটি খরগোসের গর্ত আছে
সবাই বলে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব
আমরা ফিলিস্তানি, আমরা মানুষ(?)
আমাদের কোন আবাসভূমি নাই।"
(ফিনিস্তানি কবি মাহমুদ দারবিশ)

আসলেই কী ফিলিস্তানিরা কখনও তাদের নিজস্ব দেশ নামের ভূ-খন্ড পেয়েছে, বা ছিল? এই নিয়ে তর্ক-বিতর্ক-কুতর্ক চলেছে আর এদিকে জুইশরা কিন্তু ঠিকই কালে কালে (link) দানব হয়ে উঠেছে!


২০০৬-এর জুন। ১৯ বছরের একজন ইসরাইলি কর্পোরাল জিলাদ শলিতকে মুক্ত করার নাম করে ইসরাইল প্যালাস্টাইনে অনুপ্রবেশ করে প্যালাস্টাইন সরকারের ৯জন মন্ত্রী, ২০ এম. পিকে চোখ বেঁধে, হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যায়। ইসরাইলের পক্ষেই সম্ভব একটি দেশের মন্ত্রী, এমপিদের অপহরণ করার মত হলিউডি ছবিকে হার মানানো।

ইসরাইল প্রতিষ্ঠার সময় ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫৬, ১৯৬৭, ১৯৭৩ সালে আরবদের সংগে যুদ্ধে আরবরা কিছুই করতে পারেনি বরং অনেক সময় নিজেদের জায়গা হারিয়েছে।
ইয়াসির আরাফাত ওরিয়ানা ফালাচির সঙ্গে সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, "বিশ্ব ভুলে গেছে ১৯২০ সালে আমাদের পিতারা ইহুদীদের সঙ্গে লড়াই করেছিল। তখন তারা কুলিয়ে উঠতে পারেনিনি। কিন্তু ১৯৬৫ থেকে আমরা সমানে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি অর্জন করি। 'আল ফালাহ' ফিলিস্তানি যোদ্ধাদের ৯৭ ভাগ প্রতিনিধিত্ব করছে। ১৯৬৯-এর ফেব্রুয়ারিতে পপুলার ফ্রন্ট ৫ ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এর মধ্যে ৪টি দলই 'আল ফালাহ'র সঙ্গে যোগ দেয়। অন্য একটি ফ্রন্টের নেতা জর্জ হাবাশ শিঘ্রি আমাদের সংগে যোগ দেবেন। আমরা এখন যে অবস্থায় কাটাচ্ছি তা যাযাবরের জীবন, অথচ শত-শত বছর ধরে আমরা এখানে বাস করে আসছি"।
(ইন্টারভিউ উইথ হিস্ট্রি/ ওরিয়ানা ফালাচি) 


এই ইসরাইলি বা ইহুদিদের ক্ষমতা কতটুকু এটা আঁচ করা মুশকিল। জুইশ (Jewish) কমিউনিটি বা ইহুদি সম্প্রদায়কে নিয়ে মাহাথির মোহাম্মদ বলেছিলেন, "পরোক্ষভাবে ইহুদিরাই বিশ্বকে শাসন করছে। আমেরিকা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে আর আমেরিকাকে নিয়ন্ত্রণ করে জুইশ কমিউনিটি। বিশ্বের অস্ত্র, মিডিয়া, ব্যাংক থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রেই জুইশ কমিউনিটির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে পুরোপুরি। গত ৫০ বছরেও বেশি সময় ধরে প্যালেস্টাইনের উপর তারা যে অন্যায় করেছে তা Clash of Civilisation- এর মোড়কে বৈধ করে নিয়েছে পশ্চিমি সমাজ। 
বুশের প্রকাশ্যে সমর্থন ছিল ইহুদিদের প্রতি। আর কন্ডোলিনা রাইস তার প্রথম ইসরাইল সফরের পর বলেন, নিজের বাড়িতে ফিরে আসা"। 

বুশ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর যেমন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার, পেন্টাগন অ্যাডভাইজার, চিফ পলিসি ডিরেক্টর, পলিটিকাল মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা, বাজেট ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা, ফরেন সার্ভিস ডিরেক্টর, হোয়াইট হাউজের স্পিচ রাইটার, নাসার অ্যাডমিস্ট্রেটরসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিল জুইশরা। কর্পোরেট হাইসগুলোর অধিকাংশ কোম্পানীর মালিক, সিও, প্রধান নির্বাহী জুইশরা। এটা মাইক্রোসফট হোক আর জাপানি কোম্পানি সনি।
মিডিয়ায়ও এদের দাপটের শেষ নাই। টাইম ওয়ার্নার-ওয়ার্নার ব্রাদার্স, এদের সহযোগি প্রতিষ্ঠান AOL, HBO, সিনেমেক্স, পলিগ্রাম এদের নাম কে না জানে? ওয়ার্নার ব্রাদার্সের মূল প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ইহুদি, চিফ এক্সিকিউটিভ বা সি,ও জেরাল্ড লেভিন ছিলেন ইহুদি। টেড টার্নারের সি, এন, এন হাল ছেড়ে দেয় ওয়ার্নার ব্রাদার্সের কাছে। ছড়ি ঘোরাত ওয়ার্নার ব্রাদার্স। এরা কেমন করে লোকজনকে প্রভাবিত করে এর একটা উদাহরণ দেয়াটা সমীচীন হবে।

নাইন ইলাভেন। টুইন টাওয়ার ধ্বংশ হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের ফুটেজ দেখানো হচ্ছিল। একটা ফুটেজ সাধারণ মানুষকে হতভম্ব করেছিল সেটা হচ্ছে, এই ধ্বংশের পর প্যালাস্টাইনরা আকাশে শূণ্যে গুলি ছুঁড়ে আনন্দ প্রকাশ করছে। এই দৃশ্য দেখে যেকোন সচেতন মানুষ আহত হবেন এতে সন্দেহ কী!
কিছুদিন পর সিএনএন খুবই অবহেলার সংগে টেলপে লিখে জানায়, ফুটেজটি ছিল পুরনো এবং এটা ভুলবশত দেখানো হয়েছে।


'টাইম' ম্যাগাজিনসহ বিশ্বের নন্দিত অন্তত ৫০টি পত্রিকা ওয়ার্নার গ্রুপের। ওয়াল্ট ডিজনির সিও মাইকেল আইসনার ছিলেন ইহুদি। মিডিয়া টাইকুন রুপার্ট মারডকের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আছে জুইশদের সমর্থন, প্রভাব। বলা হয়ে থাকে মারডকের মা ছিলেন ইহুদি। এমন অজস্র উদাহরণ আছে।
জুইশ কমিউনিটি থেকে এসেছেন স্ট্যানলি কুবরিক, রোমান পোলানস্কি, উডি অ্যালান, এলিজাবেথ টেইলর, ডাস্টিন হফম্যান, হ্যারিসন ফোর্ড, ডগলাস, বব ডিলান, ডেভিড কপারফিল্ড, আসিমভ, আইনস্টাইন, হুডিনি, কাফকা- এই তালিকা অনেক লম্বা। 
জুইশদের পক্ষে জনমত গঠনে যেসব দুর্দান্ত মুভি হয়েছে এগুলো আমাদেরও কম প্রভাবিত, কম আবেগতাড়িত করে না! কারণ 'শিল্ডলার্স লিস্ট', 'মিউনিখ' বানিয়েছেন স্পিলবার্গ, এসেছেন জুইশ কমিউনিটি থেকে। এরা যে যেখানেই থাকেন কিন্তু তাদের স্বপ্নভূমিকে কখনও বিস্মৃত হননি। এদের জোরটা কতটা নিতল এটা কেবল অনুমানই করাই সম্ভব।

আসলে ইহুদিদের উপর বিভিন্ন সময় যে অত্যাচার হয়েছে এই স্মৃতিগুলো অহরহ এখনও এদের তাড়া করে, ফলশ্রুতিতে একেকজন গড়ে উঠছে একেকটা চলমান দানব হয়ে। এরা তাদের শিশুদেরকেও বানাচ্ছে আগামি দিনের দানব। তাই এদের শিশুরা মিসাইলে গায়ে ফানি-মজার মজার কথা লেখে (সেই মিসাইলেই আহত হয়, প্রাণ হারায় ফিনিস্তানি শিশু) কারণ এদেরকে শেখানো হচ্ছে, মিসাইল, শিশু-মৃত্যু এসব হচ্ছে খেলার একটা অংশ। মজার, শৈশবের একটা খেলা। 


প্রকারান্তরে এই গ্রহ শাসন করছে মোটা দাগে আমেরিকা, সূক্ষ দাগে জুইশ কমিউনিটি। এ গ্রহের প্রয়েজনীয় সমস্ত কিছু নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে আসতে হবে। সব কিছুর মূলে ব্যবসা। অস্ত্র খুব লাভজনক ব্যবসা। হিউজ ইনভেস্ট, এই যে এতসব হাইটেক মারণাস্ত্র বানানো হচ্ছে মহড়া দেয়ার তো উপায় নাই। তো, যুদ্ধ লাগাও। আগের ক্লাস্টার বোমায় একশ প্রাণ নস্ট হতো এখনকার ক্লাস্টার  বোমায় পাঁচশ মানুষ ঘায়েল হচ্ছে। আরাম করে যুদ্ধের ভিজ্যুয়াল দেখো, শ্যাম্পেনে চুমুক দাও। দরদাম করো, অর্ডার দাও। ডিল।

তেল নামের জ্বালানীটা খুব প্রয়োজন। প্রকৃতি এটা আবার উপুড় করে দিয়েছে কিছু মরুভূমির দেশগুলোকে। খুব বেশি বছর হয়নি ইরানিরা আমাদের দেশে এসে হকারি করত, ছুঁরি-চাকু ধার দিত।

প্রথমে ঠিক করতে হবে কোন-কোন দেশ তেলে ভাসছে। কুয়েতকে শুইয়ে ফেলতে হবে অতএব ইরাককে উস্কে দাও। 
সৌদি একটা স্পর্শকাতর দেশ, মুসলমানদের তীর্থভূমি। এখানে খানিকটা রয়েসয়ে। কিন্তু ইরাক কুয়েত দখল করে নিচ্ছে, সৌদির সুড়সুড় করে লাইনে না এসে উপায় কী! এই বদুরা ওরফে বর্বরদের এখন আবার বন্দুকের চেয়ে চামড়ার বন্দুক চালাবারর আগ্রহ বেশি! 
ইরাককে কুর্দি দিয়ে কাবু করতে হবে, কুর্দিদের মেরে ফেলার জন্য এরাই রাসায়নিক অস্ত্র বিক্রি করবে। বেয়াদবী করলে রাসায়নিক অস্ত্র আছে এই দোহাই দিয়ে ইরাককে ঝুলিয়ে ফেলতে হবে। 

কুর্দিদের এরা কী পর্যায়ে অত্যাচার করেছে এর একটা নমুনা এমন: একজন ইরাকি কুর্দি আরি বলেন, "I know i am recist but i can't help it. আরবদের আমি ঘৃণা করি, এমনকি মুসলমানদেরও। আমি কোরআন পড়ি না, কেন না এটা আরবিতে লেখা। আমি ইসলাম মানি না কেননা এটা আরবদের মাধ্যমে এসেছে।" 

সবই খেলা, একটা গেমের অংশ। আমরা আকাশপানে তাকিয়ে থাকি। জুম্মাবারে মুসলিম উম্মার জন্য দোয়াপর্ব কয়েক মিনিট দীর্ঘ হয়...। ক্রমশ গোটা পৃথিবী মোমিন মুসলমানে ভরে যাচ্ছে। খেলা কিন্তু বন্ধ নেই, খেলা চলছে...!

*ছবিঋণ: sabbah.biz মতান্তরে এএফপি 
আংশিক ঋণ: মোহাম্মদ মাহামুদুজ্জামান

সহায়ক সূত্র:
১. জুইশদের দানব হয়ে উঠা: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_10.html
২. গ্রহ অধিপতি...: http://www.ali-mahmed.com/2011/05/blog-post_18.html

এরা যোদ্ধা ছিল না, ছিল সাইকোপ্যাথ


...পাক আর্মিরা কুমোরদের বাসায় ঢুকে প্রথমে ভাঙ্গলো ওদের ঠাকুর ঘরের দেবী প্রতিমাগুলো।

তারপর ঢুকলো অভ্যন্তরে।
বাড়ীর ভেতর ঢুকে ঘর থেকে বের করলো ১০ বছর থেকে ৬০ বছর বযসের সব পুরুষকে। বাড়ির একজন বধু ও একজন মেয়েকে ধর্ষণ কররো তাদের স্বামী, মা বাবা, শ্বশুর শ্বাশুড়ির সামনে।

এক পাক আর্মি ঘুমন্ত একটি বছর দেড়েকের বাচ্চার বুকে বেয়ানেট ঢুকিয়ে দিল। তারপর বেয়নেটের আগায় ঝুলিয়ে রাখলো বাচ্চাটার কচি দেহ। সেই অবুঝ শিশুর হাড় গোড়গুলো রক্ত বেয়ে পড়ছে পাক আর্মিটির হাতে ধরা রাইফেল থেকে।

...২৭শে মার্চ সকালে কারফিউ শিথিল করার পর রাস্তায় বেরিয়ে দেখলাম যেন মানুষের মিছিল। হাজার হাজার মানুষ উর্ধ্বশ্বাসে ছুটে পালাচ্ছেন। কারো বা কোলে বাচ্চা, পিঠে বোঝা- কারো হাতে ধরা পত্নী বা কন্যা!

সমস্ত লোক পালাচ্ছেন শহর ছেড়ে গাঁয়ের দিকে। কেন না তাঁদের ধারণা পাক আর্মি হয়তো বা শহরেই চালাবে তাদের তান্ডবলীলা- গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছবে না, কিন্ত কালক্রমে এ ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
পাক আর্মি শহরের চাইতে গ্রামেই শেষের দিকে ধ্বংসযজজ্ঞ চালিয়েছে। বাংলাদেশের ৬৬ হাজার গ্রামের মধ্যে ৩০ হাজার গ্রাম ওরা পুড়িয়েছে- চালিয়েছে মানব ইতিহাসে সব চাইতে জঘণ্য ও ঘৃণ্যতম অপরাধ, হত্যাকান্ড!


...পালাচ্ছিলাম যখন, আমার সঙ্গে হেঁটে চলেছেন চার পাশের মানুষগুলো, আমরা সবাই বাঁচতে চাই। এবং সে জন্যই আমাদের কারো প্রতি কারো কোন খেয়াল নাই, কারো সাথে কারো কোন কথা নাই!। সবার চোখে মৃত্যুভয়!
..রাস্তায় লাশ আর লাশ- চোখে পড়লো জি পি ও’র পেছনে এক ঝুড়ি মানুষের রক্তাক্ত হৃদপিন্ড আর নাড়ি ভুড়ি!
...ড্রেনে রক্তের স্রোত, গড়িয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে!
...আমি তাকাতে চাই না- আমার মাথা কাজ করছিল না।
...আজো ভাবি, এসব দেখে কি করে সহ্য করেছি- কেন পাগল হয়ে গেলাম না!

তথ্য সূত্র: (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ/ প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ-নাজিমুদ্দিন মানিক, ২৫শে মার্চ থেকে ২৭শে মার্চ)
ছবিসূত্র: প্রথম আলো (এদের সূত্র কী এটা উল্লেখ নাই)


আমার অকপট বক্তব্য: ৩৭ বছর হলো নাকি ৩৭০ বছর,
তাতে কী- রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না অবশেষে পাকিস্তানিরাও তাদের ভুল স্বীকার করছে কিন্তু আমাদের দেশের-তাদের সহযোগিরা, আজ পর্যন্ত ভুলেও, মুখেও অন্তত একটিবারের জন্যও স্বীকার করেনি এরা ভুল করেছিন।

Thursday, January 8, 2009

আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করতে চাই।

শেখ হাসিনার এই ছবিটা কত সালের এটা আমার মনে নাই। তবে অনেক আগের তো বটেই- কত সালে দেখেছিলাম মনে পড়ছে না।। যাযাদি রিপোস্ট করেছিল ২০০৬-এ।
যাই হোক, এমন দৃশ্য নিরাপত্তার খাতিরে এখন দেখা অসম্ভব।
(এরশাদের সেই ফাজলামী দেখে সব বিশ্বাস উবে যেত- এরশাদ সাইকেল চালিয়ে অফিসে যাচ্ছেন আর মাথার উপর চক্কর দিচ্ছে নিরাপত্তা হেলিকপ্টার! )

কিন্তু সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্তরিকতার হাত বাড়িয়ে দিতে সমস্যা কোথায়? আমার আন্তরিক চাওয়া, শেখ হাসিনা সাধারণ মানুষদের জন্য, দেশের জন্য তাঁর সময়টা ব্যয় করুন; যেন এই দেশে আমার ভালো লাগা অল্প কিছু মানুষের সংগে তাঁর নামটাও বলতে পারি।

ভারতের প্রেসিডেন্টের মত ২টা স্যুটকেস নিয়ে গটগট করে বেরিয়ে যাওয়ার সাহস ক-জনের আছে? আল্লা, এই দৃশ্য আবারো দেখতে চাই না, যেন দেখতে না হয়, আমিন...।

চুতিয়া মিডিয়া এবং কেজি দরে প্রাণ

৩০ ডিসেম্বর প্রথম আলোয় শেষ পৃষ্ঠায় ছোট্ট করে খবরটা ছাপা হয়, "৩০০ বাংলাদেশি নিখোঁজ, উদ্ধার ১০২"।
শালার মিডিয়া, এর নাম নাকি মুক্তচিন্তা! কুলিন পত্রিকায় এই খবরটা প্রথম পাতায় ঠাঁই পায়নি। কেন? সহজ হিসাব। যে দেশে মানবতা, মনন বিক্রি হয় কেজি দরে সেই দেশে এমনটা হবে এ আর বিচিত্র কী!

ওই দিনই মুক্তচিন্তার এই পত্রিকার প্রথম পাতায় নেত্রিদের বিশাল বিশাল ছবির জায়গা হয়, বিজয় চিহৃসহ আঙ্গুলের জায়গা হয়, বিজ্ঞাপনের জায়গা হয়, আজ ছাপা হলো ৪,৭৯,৭৫৪ কপি এর জায়গা হয়, হয় না কেবল এমন তুচ্ছ খবরের।

বাকিদের কী হল? এরপর প্রতিদিন অপেক্ষা করি, কিসের কী! পরবর্তী আপডেটগুলো ছাপা হয়েছে বড় হেলাফেলা ভংগিতে। আসলে এইসব শস্তা তথ্য জানাবার সময় আমাদের মিডিয়ার কই!

বদলে যাও, বদলে দাও- মোজায় গন্ধ, মোজা বদলাবে কে?




*ইউটিউবের লিংকটা www.mahbub-suman.com থেকে নেয়া।

Tuesday, January 6, 2009

অন-লাইনে লেখালেখি হচ্ছে গণিমতের মাল!

'খোদেজা' নামের একটা উপন্যাস আছে আমার।
এই উপন্যাসের খানিকটা-অংশবিশেষ, একজনের অনুরোধে আমার সাইটে পোস্ট করেছিলাম। খোদোজার অংশবিশেষ

হুবহু এই লেখাটি, দাঁড়ি-কমাসহ 'যৌবনযাত্রা' নামের সাইটে পোস্ট করা হয়েছে- অহেতুক, কোন কারণ ছাড়াই। মূল আবেদনটাই অন্য রকম হয়ে গেছে- খোদেজা উপন্যাসটা হচ্ছে ১টা শিশুর উপর চরম নির্যাতন নিয়ে

লিখিত দূরের কথা নিদেনপক্ষে মৌখিক অনুমতি নেয়ারও প্রয়োজন বোধ হয়নি। (অথচ আমার সাইটে আমি স্পষ্ট সতর্কবাণী দিয়ে রেখেছি, আমার লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন লেখা বা এর অংশবিশেষও কোথাও প্রকাশ করা যাবে না।)
গুগলে আমার নাম দিয়ে সার্চ দেয়ায় বিষয়টা চোখে পড়ল নইলে জানতেই পারতাম না এমন হার্মাদের (ছিনতাইকারীর সফট ভার্সন)
'হার্মাদী'!

এমন অর্বাচীন আচরণের জন্য তীব্র নিন্দা।

নিয়তির হাত থেকে পালাতে পেরেছে কে!

আমরা নিতান্ত অনিচ্ছাসত্বেও সিন্দবাদের ভূতের মত বছরের পর বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছি একজন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে। দুর্বল হৃদপিন্ডের একজন মানুষ, যার হৃদপিন্ডের মেরামতে ব্যয় হয়েছে আমাদের গাঁটের টাকা, প্রায় ২ কোটি।
অথচ দেশে নাকি আন্তর্জাতিক মানের সব হাসপাতাল- এরা সম্ভবত দুর্বা ছাটাই করে। ইয়াজউদ্দিন আহম্মদের দুর্বল কোমরের কথা বলে আর স্পেস নস্ট করি না। ইয়েস-ইযেস, ইয়েসউদ্দিন তো এমনি এমনি খেতাব জোটেনি, কত কাঠ-খড়ই না পোড়াতে হয়েছে!
কেবল আফসোস, ইয়াজউদ্দিন আহম্মদ নামের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বাংলা ভাষাটা শুদ্ধ করে বলতে পারেন না, এই লজ্জা কোথায় রাখি?

এখন শুনতে পাই অতি ভংকুর জিল্লুর রহমান সাহেব রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন। হায় কলিকাল-হায় নিয়তি। এই মানুষটা বিড়বিড় করে কীসব যে বলেন, ইন্টারনেটের কসম, একটা শব্দও যদি বুঝতাম।

রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মার্চ-পোস্টে ইনি সালাম টালাম কেমন করে নেবেন, চিন্তায় আছি। আচ্ছা, হুড খোলা জিপে কী সীট-বেল্ট বেঁধে দাঁড় করিয়ে রাখার উপায় চালু আছে, থাকা প্রয়োজন।
থাকলেই বাচোঁয়া, নইলে ভারী বিব্রতকর ব্যাপার হয়ে যাবে যে...!

Friday, January 2, 2009

বঙ্গ-রঙ্গ



আসল মুক্তিযোদ্ধা যারা

এমন শ্বাসরুদ্ধকর আলামত আমরা বাদাম চিবুতে চিবুতে ছবিতে দেখি, ঠ্যাং নাচাতে নাচাতে রগরগে ফিকশনে পড়ি, তখন বড়ো ভাল লাগে, আমোদিত হই।

কিন্তু আমাদের গৌরবগাঁথাগুলো জানতে আগ্রহ বোধ করি না। যে বালক আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক-আর্মীর বাংকারে গ্রেনেড ছুঁড়ে বাংকার বিধ্বস্ত করেছিল! যার সাহস কল্পনাকেও হার মানায়! তাঁকে নিয়ে কয়টা মুভি হয়েছে, ক-কলম লেখা হয়েছে?

আমরা কি জানি সেই বালকটি এখন আদৌ কোথায়?
নিদেনপক্ষে, কেমন কাটছে তাঁর দিনকাল? আমাদের এইসব জানার প্রয়োজন নাই, সময়ই বা কোথায়! আমরা এইসব অসমসাহসী বালকদের কথা অবলীলায় বিম্মৃত হই। সময়ের ধুলায় এইসব নাম চাপা পড়ে থাকে! আমরা এঁদের আত্মত্যাগ, সাহসের কথা জানতে আগ্রহবোধ করি না!
মুক্তিযুদ্ধ বলতে আমরা ঘুরেফিরে কয়েকটা নামের অবদানের কথাই জানি - ভাঙ্গা রেকর্ডের মতো দিনের পর দিন শুনে আসছি। তাদেঁর কথা বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলি- চর্বিতচর্বণ। যেন রেকর্ডের পিনটা আটকে গেছে, আটকে গেছি আমরাও। একই বৃত্তে অনবরত ঘুরপাক খাওয়া আর চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলা।

এই অসমসাহসী বালকটির নাম শহিদুল ইসলাম লালু। বঙ্গবন্ধু তাঁকে কোলে নিয়ে রেখেছেন। এই লালু সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্য এই মুহূর্তে আমার কাছে নাই। আসলে এইসব তথ্য রাখা হয় না- রাখার প্রয়োজন কী!

লালু টালুদের কথা বলে তো লাভ নাই, কারণ লালু কোন দল করতেন না। দলবাজ ব্যতীত কাউকে কি মুক্তিযোদ্ধা বলা সমীচীন? জন্মের পর থেকেই আমাদের বিভাজন শুরু হয়ঃ জন্ত না অজন্ত, হিন্দু না মুসলিম, বিএনপি না আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা না রাজাকার?
কিন্তু একজন, সে মানুষ কিনা এটা আমাদের জানার খুব একটা আগ্রহ নাই!

*ছবিটি, লালু নামের সেই বালকের। ছবিটি আফতাব আহমদ তোলেনঃ ২৪ জানুয়ারী, ১৯৭২ সালে।


তাকেঁ নিয়ে যথেষ্ঠ তথ্য আমার কাছে ছিল না। পরে সাহায়্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, একজন। এই অংশটুকু অষ্ট্রোলিয়া প্রবাসি মাহবুব সুমনের মন্তব্যাকারে মন্তব্য থেকে নেয়া। তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।
"লালুর কথা প্রথম পড়ি বংগবীর কাদের সিদ্দিকীর বইয়ে।
বেশ ক বছর আগে দৈনিক প্রথম আলোর শনিবারের সাপ্লিমেন্ট ম্যাগ 'ছুটির দিনে' লালুকে নিয়ে কভার স্টোরি করে হয়। সেটা পড়ে উনার সেই সময়কার অবস্থার কথা জানতে পারি। সেই সময় উনি মিরপুর সিরামিক কারখানার সামনে ছোট্ট একটা চায়ের দোকান চালাতেন।
মুক্তিযুদ্ধে উনার ভুমিকা ও সেই ভুমিকার কথা বলে সরকারের কাছে কিছু চাওয়া আছে কিনা তা জানতে চাইলে উনি বলেছিলেন , 'একজন মুক্তিযোদ্ধার সব চাইতে বড় পাওয়া স্বাধীন দেশ', তার আর কিছু চাওয়ার ছিলো না সরকার বা অন্য কারো কাছে।
জানি না কি অবস্থা উনার এখন, সেদিন গিয়েছিলাম সিরামিক কারখানায়, দোকানটি আর নেই সেখানে। কে জানে, হয়তো ভেঙে দিয়েছে অবৈধ স্থাপনা বলে ! ছবির বংগবন্ধুও আজ নেই। সেই বংগবীর কাদের সিদ্দিককিও আজ অন্য জগতের মানুষ।
সেই লালু , লালুই রয়ে গিয়েছেন। কিছুই পাননি দেশের কাছ হতে।
বাঘা সিদ্দিকীর বইয়ে ‘জাহাজ মারা হাবিন’ বলে বিখ্যাত মেজর হাবিবের বীর প্রতিকের কথা পড়েছিলাম। বেশ ক বছর আগেও উনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন অসুখে ভুগে , দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করতে করতে। হয়তো লালুও সেই একি পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
স্যালুট এই সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যারা কিছু প্রতিদানের আশা না করেই যুদ্ধে গিয়েছিলেন এবং এখনো কিছু আশা করেন না।"


*এই অগ্নিপুরুষকে আমরা সম্মান জানাই এমন করে; এই পত্রিকা-মিডিয়ারাই আমাদের মগজ ধোলাই করে, আমাদের শেখায়! পরিশেষে বিষাদে বলি, মুক্তিযুদ্ধ এখন একটি বিক্রয়যোগ্য পণ্য!

Facebook Share