Thursday, December 3, 2009

নিয়তি!


বছর গড়ালো। এখন কেউ যখন দুম করে জিজ্ঞেস করে বসেন, আপনি কি করেন? আমি পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। কি করি-কি করি, আচ্ছা আমি কি করি? 
কি বলব?

অতীতের কথা বলে, চর্বিতচর্বণ করে এখন আর লাভ কী! অন্য একটা পোস্টে লিখেছিলাম, যে বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে কাজ-কারবার করতাম তাদের সঙ্গে বিরাট ভেজাল হলো। যুদ্ধ ঘোষণা হয়ে গেল। একটা অসম যুদ্ধ! এদের কাছে লেজার গান, ব্লাস্টার, বেসুমার টাকা আর আমার কাছে গুলতি। তবুও আমি পিছ-পা হলাম না। নীতির প্রশ্ন, একজন মানুষের মর্যাদার প্রশ্ন। মর্যাদাহীন একজন মানুষের বেঁচে থাকার প্রয়োজন কী! নিজের লাশ নিজেই কাঁধে বয়ে বেড়ানো কোন কাজের কাজ না। এই যুদ্ধ এখনও চলছে, প্রায় অর্থহীন এক যুদ্ধ!
স্বপ্ন বিক্রির ব্যবসায়ী হতে চেয়েছিলাম; শ্লা, হয়েছিলাম তামাকের ব্যবসায়ী!

তো, কি করি? আমি যে কিছুই করি না, ভারী অকাজের একজন মানুষ! আমি যে দু-কলম লেখা ব্যতীত আর কিছুই পারি না। না-পারলে কী করব, নিজেকে ধরে চাবকাব? আফসোস, লেখালেখি করি এটা বলারও যো নাই, এটা কোন কাজের পর্যায়ে পড়ে না! দূর-দূর, এই দেশে একজন মেথর গু সাফ করে, মেথরগিরি করে দিন গুজরান করতে পারবে; বুক ফুলিয়ে গু সাফ করি এটা বলতে পারবে কিন্তু একজন লেখালেখি করে, এটা বলতে পারবে না। অবশ্য আমার এইসব লেখালেখিকে তেমন গুরুত্ব দেয়ার কিছু নাই। আর এইসব ছাইপাশ লিখে কী লাভ হয়? তাছাড়া এই ছাতার দেশে লেখালেখিকে পেশা হিসাবে নেয়ার সুযোগ কই? আচ্ছা, ভিজিটিং কার্ডে কি পেশার স্থলে 'লেখালেখি' ছাপানো যায়? বা পাসপোর্টে? 

"বধু শুয়ে ছিল পাশে-শিশুটিও ছিলো;"। অ, জীবনানন্দ দাদা, 'বিপন্ন একটা বিস্ময়' কেন আপনার রক্তের ভিতরে খেলা করে; এটা আজ খানিকটা বুঝি। কেমন করে খেলা করে, কেন করে!
কেউ কেউ অহেতুক অবাক হন, কিছু না-করে এই ইয়া ধামড়া মানুষটা বছর ধরে হাত গুটিয়ে বসে থাকে কেন? কালে কালে একজন ব্যর্থ মানুষ হয়- কখনও নিজেই নিজেকে সহ্য করতে পারি না! কাকে বলি, মানুষটা চেষ্টা করছে না এমন না- দুর্বল মানুষরাই কেবল নিয়তির উপর সব দোষ চাপিয়ে পালাবার রাস্তা খোজেঁ। কিন্তু নিয়তি মনে হয় সত্যি সত্যিই আমাকে ওয়াচে-বিশেষ নেকনজরে রেখেছে! আমি নিশ্চিত, ঘোড়া ডিম পাড়ে না, এটা আমি বলামাত্র ঘোড়া ডিম পাড়বে, কেবল আমাকে অপদস্ত করার জন্য! আই বেট!

তবে শেখা হয়েছে ঢের। দূরের মানুষরা অযাচিত মমতার হাত বাড়িয়ে দেন কিন্তু হুমড়ি খেয়ে পড়ে থাকা আমার কাছ থেকে কী অবলীলায় কাছের মানুষগুলো দূরে সরে যায়; বদলে যায়, প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত! বাপু রে, এতো দ্রুত সরে যাওয়ার আদৌ প্রয়োজন ছিল না। আমার প্রতি কারও কারও অতি দ্রুত বদলানো দেখে আমি হাসি, গা দুলিয়ে হাসি। আমার কেবলি মনে হয়, আহারে, নিয়তির খেলা যদি আমরা বুঝতে পারতাম: 
"আয়ারল্যান্ডের নিকোলাস সেহি (১৭২৮-১৭৬৬)। নিকোলাস সেহি নামের এই নিরপরাধ মানুষটা খুনের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। নিকোলাস বারবার ১২ জন জুরিকে বোঝাবার চেষ্টা করছিলেন তিনি নির্দোষ কিন্তু ১২ জন জুরির কেউই তাঁর কথার গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না। তারা নিকোলাস সেহিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন।
সেহিকে এই অন্যায় রায় দেয়ার পরপরই ১২ জন জুরির সবারই মৃত্যু হয়।" (রিপলি'স)

No comments: