Sunday, June 8, 2008

৩ পয়সার গাছ- ৩ টাকার কলমবাজ!

হা ঈশ্বর, এই গাছ এখানে কেমন করে টিকে আছে! কবে থেকে?
কেউ লক্ষ করল না! হা কপাল- এইসব যন্ত্রণা আমার ঘাড়ে কেন! এও সত্য, আমার বাসায় মনুষ্য প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত লুক(!)-জন পদ-কাদা দেন কদাচিৎ কিন্তু বাসার অন্য লোকজনের তো অভাব নাই। সিড়ির মাঝখানে এদের পদভার সহ্য করে এই শিশুবৃক্ষ টিকে আছে কেমন করে, বাসার শিশু সন্ত্রসীদের শ্যেনদৃষ্টি এড়িয়ে?
আমাকে অবাক করেছে যেটা, পাকুড়-বটবৃক্ষ টাইপের হলে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না- এরা কঠিন করে বাঁচতে না পারলে আরাম পায় না কিন্তু এই গাছটা ফুলবান। সাদা-সাদা, থোকা-থোকা ফুল উপচে পড়ে।
একদা গাছের চকচকে পাতা দেখে মুগ্ধ হতাম, গভীর শ্বাস বেরিয়ে আসত, অজান্তেই: হায় সবুজ, হায়! আহা, সেইসব দিন!

দেশে থেকেও জাপানীদের মত রোবট হয়ে গেছি। জাপানীদের রোবট বলায় নিশ্চই কেউ মারামারি করতে আসবে না। আমার ভাগিনা বিবাহ করতে দেশে আসবে ১ দিন বেশি ছুটি চেয়েছিল, ওর চীফ কপালে চোখ তুলে বলেছিল, তুমি ২৪ ঘন্টা বেশি ছুটি চাইছ! স্বাভাবতই বাড়তি ছুটি পাওয়া যায়নি। তো, সেদিন পড়লাম ওই জাপানীদের কী কান্না। বিষয় ভারী হাস্যকর, রাস্তা ফুড়েঁ ১টা মুলা গাছ গজিয়েছিল কোন এক বুড়বাক ওটা উপড়ে ফেলেছে, এই-ই!
সময় চাবকাতে চাবকাতে আমাকে যন্ত্রমানব বানাতে মুক্তকচ্ছ। নইলে যে যন্ত্রমানবদের মেলায় আমায় বড়ো বেমানান ঠেকে, একজন নিসংগ শেরপার চেয়ে অভাগা আর কেউ নাই।
আচ্ছা, এখন কি আর কেউ গাছদের নিয়ে আত্মজীবনী লেখে? এই গাছের আত্মজীবনী লিখলে এ কি তার অব্যক্ত কথাগুলো বলত: বড়ো কষ্ট গো- আমায় কি নেবে? তোমাদের সাথে যেতে সাধ জাগে যে বড়ো।
ইশ, বললেই হল আর কী! আমার কী দায় পড়েছে, কাজে-অকাজে আমার সময় কই, ইচ্ছাই বা করবে কেন।
কে জানে, মন ভাল না থাকলে এদের দেখে সাধ মেটাব। আপ্রাণ চাইব প্রকৃতির এই অংশটুকু তার সাধ্যমত চকচকে পাতা দিয়ে, ধপধপে ফুল দিয়ে আমার মন ভাল করে দেবে, এইই তো। কে এটাকে মাড়িয়ে গেল, দুমড়ে দিল; নাকি এই খরতাপে, খাবারের অভাবে ধুকেঁ ধুকেঁ অক্কা পেল তাতে কী আসে যায়। পণ করেছি গাছটাকে একদিন উপড়ে ফেলব, যথেষ্ট রাগ উঠলেই হল- আল্লাহু আকবর। আসলে কাজটা বড্ডো কঠিন- এ যে আমারই প্রতিবিম্ব...। নিজের প্রতি বড়ো মায়া গো!