Thursday, January 31, 2008

Wednesday, January 30, 2008

বংগাল দেখো দানবীর কাহাকে বলে...

আমরা ২ টাকা দান করে ২০০ হাত লম্বা ঢোল বাজাই- আপ্রাণ চেষ্টা থাকে জাঁক করে এটা প্রমাণ করতে আমরা কত্তো বলো(!) দানশীল। ঘটা করে ফটোসেশন করাটাও খুব জরুরী- কই হাত, কই মাথা!

আমাদের কাছ থেকে ত্রাণ নিয়ে আমাদেরকেই দেয়, তবুও এদের এই সমন্বয়কারীর কাজটাকে আমি সাধুবাদ জানাই। কিন্তু বাহে, ঢোলটা যে ফাটিয়ে ফেললে হে!
......................
প্রথম আলো কেন পড়ি? আজ এ প্রশ্নটা মাথায় কেবল ঘুরপাক খায়। অন্যতম কারণ এটা হতে পারে, হয়তো চুতিয়া পত্রিকার ভিড়ে এটা কম চুতিয়া পত্রিকা। আজ প্রথম আলো পত্রিকাটা তন্নতন্ন করে খুঁজেছি কিন্তু আমার কাংখিত খবরটা কোথাও নেই। খবরটা এই চুতিয়াদের কাছে সামান্য হলেও আমার কাছে অসামান্য।

গতকালই ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলিতে এসেছে খবরটা: একজন অজ্ঞাতনামা মানুষ এই দেশের মানুষদের জন্য দান করেছেন প্রায় ১০০০(এক হাজার) কোটি টাকা!!!
মাইন্ড ব্লোয়িং, জাস্ট মাইন্ড ব্লোয়িং বলতে পারলে আরাম পাওয়া যেত কিন্তু ফাঁকা হয়ে যাওয়া মাথায় এটা বলারই বা যো কই! হাবিজাবি, হিবিজিবি অনেক খবর আছে কিন্তু পেত্থম আলো(!)-তে এ খবরটা নাই! বেশি আলো দেখিয়ে ফেলার ফল সম্ভবত!

Sunday, January 20, 2008

লেখালেখি বনাম লেখালেখি ডট কম


আমার মত অখ্যাত লেখকদের(!) জন্য, লেখার মান বোঝার জন্য লেখালেখি(বই) এবং লেখালেখি ডট কমের তফাত আকাশপাতাল।

বই লেখার প্রতিক্রিয়া হচ্ছে অনেকটা গন্ডারকে কাতুকুতু দেয়ার মত।
উদাহরণ দেই: কনকপুরুষ নামে একটা উপন্যাস কাজীদা বের করেছিলেন ৯৫ সালে। এটা যে কারও কারও ভাল লেগেছিল, দু-এক জন এখনও মনে করে বসে আছেন এইসব বিষয়গুলো আমি জানতে পারি ২০০৭ সালে; তাও ওয়েব-সাইটের মাধ্যমে। এর কোন মানে হয়!

লেখালেখি ডট কম বলতে আমি বোঝাচ্ছি ওয়েব-সাইটে লেখালেখি। প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্য কখনও ৫ মিনিটও লাগে না।
২০০৬-এ সামহোয়্যার-এর খোজ পাই সম্ভবত প্রথম আলোতে। শুভ নামে লেখালেখির শুরু। প্রথমদিকে তো বিষয় খুঁজে পেতাম না। কপি-পেস্টই ভরসা। পরে সতর্কতার সংগে নিজের কিছু লেখা দিতে শুরু করলাম। ধরা পড়লে সমস্যা, হয় স্বীকার করতে হত শুভ’র পেছনের মানুষটা আমি নইলে সোজা বাংলায় চোর। আমি ব্যতীত অন্য কেউ যে আমার বই পড়ে না এর প্রমাণ পেলাম, তেমন কেউ ধরতে পারলেন না। সাবলীল গতিতে লেখা দিতে থাকলাম। কেউ কেউ ধরে ফেললেও চেপে গিয়েছিলেন বলে ধন্যবাদার্হ।

যাই হোক, সে এক সোনালি সময়। কী অপার আনেন্দেই না কেটেছে সময়টা। বাংলা টাইপ করতে পারতাম না। অক্ষরগুলো আমার কাছ থেকে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াত তবুও অপার আনন্দে শব্দের পর শব্দ টাইপ করে গেছি, কখন ভোর হয়ে গেছে বলতেও পারিনি।
পরে ওখানকার অনেক পোস্ট নিয়ে শুভ’র ব্লগিং বের হল। ওখানে আর লেখালেখি হল না।

ওখানে লেখালেখি করার আর আগ্রহ ছিল না, সুর কেটে গিয়েছিল। কারণ অনেক। শুভ নামের পেছনের মানুষটা সামনে চলে এলো। অবশ্য ওই মানুষটা এসে গেল বলে তেমন কোন তারতম্যের কিছু নেই- দুইই অখ্যাত, উনিশ আর বিশ! তবুও পুরনো বন্ধুদের কারণে যাওয়া।
কালেভদ্রে এখনও।

ওখানে শিখেছি অনেক। আমার লেখালেখি যে ছাতাফাতা এটা অনেকের লেখা দেখে অবলীলায় বুঝতে পারতাম, এদের লেখার হাতকে এখনও ঈর্ষা করি।
পেয়েছিও অনেক। মমতায় বাড়ানো সব হাত। কোন শালা তাকায় মমতায় বাড়ানো নোখের দিকে! ওখানকার অনেকের সংগে এখনও যোগাযোগ আছে, অনেকের সংগে নাই।

তো, ওখানের অনেক কিছুর সংগে মানিয়ে নিতে আমায় বেগ পেতে হচ্ছিল। জায়গাটা ছিল বাংলাদেশের প্রতিবিম্ব-আয়না! কী নেই? ঈর্ষা, অহংকার, লম্বা লম্বা বাতচিত, অহেতুক ঠ্যাং ধরে টানাটানি। অন্যকে অসম্মান করার তীব্র ব্যাকুলতা। জায়গাটা যেহেতু লাইভ সেহেতু এখানে যারা লেখেন তারা থাকেন পুরোপুরি অরক্ষিত। কিন্তু আমরা ভুলে যাই ফ্রি স্টাইল কুস্তিতেও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। একজন বেশ্যাকেও যে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে হয় এটা আমরা আর কবে শিখব!

যেটা বলছিলাম, এই ইন্টারায়্যাকশন- আমার উপর চাপ পড়ত। অনেকের কাছে বিষয়টা হাস্যকর মনে হলেও এই চাপ কখনও কখনও আমি নিতে পারতাম না। কী আর করা, একজন দুর্বল মানুষের দুর্বল ভাবনা!

ওখানে থাকতে থাকতেই শুনছিলাম আরেকটা সাইট দাঁড়াচ্ছে। এখানকারই কিছু মেধাবী মানুষ নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। খোদার কসম, ওখানে যাওয়ার কোন গোপন ইচ্ছা আমার ছিল না। নিরিবিলিতে দু-কলম লেখার চেষ্টা করতেই আমার আনন্দ। কিন্তু এখানকার বেশ কিছু পরিচিত মুখ এবং আবেগীয় কিছু কারণে গেলাম। অবশ্যই এটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

অরি আল্লা, ওখানে গিয়ে দেখি ব্রাক্ষণ, শূদ্রের খেলা। ওখানে কেবল ব্রাক্ষণরাই থাকবেন অন্যরা খেলা থেকে বাদ। ব্রাক্ষণদের মাঝে আমি ভারী বিব্রত হচ্ছিলাম। কারণ, উচুমার্গের বা উচু কোন বিষয়ের সংগে আজও খাপ খাওয়াতে পারিনি। এমনিতে আমার উচু-ভীতি আছে, উচু কমোডেও।

মূল প্রসংগ থেকে সরে এসেছি, শূদ্রের দলে এমন অনেককে ফেলা হলো যারা আমার প্রিয় মানুষ। অসহায় আমি, কেমন করে এদের চোখে চোখ রাখি!
তখন আমি এখান থেকে পালাতে উদগ্রীব।
ভাজা মরিচ পড়ল গিয়ে ল্যাটকা খিচুরিতে- অজান্তেই সুযোগ এসে গেল। ওখানে একজন আমাকে রাজাকার ভাবাপন্ন বলে ফতোয়া দিলে, আমি মন্তব্য করলাম, "শুভ রাজাকার ভাবাপন্ন এই কথাটা ঠিক না, সে আস্ত একটা রাজাকার। তার কর্মকান্ডের বর্ণনা পাবেন তার লেখা ‘আমি রাজাকার বলছি’ বইয়ে"।
হা হা হা। মন্তব্যটা করে খুব মজা পেয়েছিলাম। মানুষটা আমার মন্তব্যর রসিকতাটা ধরতে পারেননি!

কিছু সহৃদয় মানুষ আমার প্রতি অযাচিত মমতার কারণে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন। সত্যি বলি, আমি লজ্জায় লাল-নীল হয়ে যাচ্ছিলাম, ভারী বিব্রত হচ্ছিলাম। আমাকে নিয়ে এই হইচই ভাল লাগছিল না। পরে ওখানে আর ফিরে যেতে চাচ্ছিলাম না। কেননা অন্যদের উপর আমাকে নিয়ে অহেতুক চাপ পড়ত। হায়রে মায়া, হায় মমতা! ফিরে না গিয়ে উপায় ছিল না।

এরিমধ্যে আমি খুব বড় একটা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়লাম। সব কেমন এলোমেলো হয়ে গেল। অস্বাভাবিক জীবন-যাপন করি। আর লেখা-টেখা!
তো, এখানকার প্রধান উদ্যেক্তা যিনি, তাকে একটা মেইল করলাম। প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আবারও ভুল বোঝাবুঝির হাত থেকে রেহাই পাওয়া। কাতর হয়ে লিখেছিলাম, আমার সমস্যার কারণে এখন আর লেখা হয়ে উঠছে না, আপাতত ওই সাইটটাতেও লেখা হয়ে উঠবে না। বিষয়টা যেন বিবেচনা করা হয়, অন্য কোন অর্থ করা না হয়।
তিনি ফিরতি মেইল করলেন, কোন সমস্যা নাই।

হা ঈশ্বর, কেন কেন কেন? ঠিক ঠিক জবাব চাই! আমার বেলায়ই কেন এমন হয়? ড্রেন রাস্তার মাঝখানে চলে আসবে কেন? একান্তে একটু হাঁটতেও পারব না বুঝি, হুট করে ড্রেনে পড়ব কেন? নাকি আমাকে অমানুষ বলে তোমার ভ্রম হয়!

ওই সময়টাতে মেইল-টেইল চেক করার অবকাশ আর কই। বেশ সময় পর একদিন মেইল চেক করে দেখি জ্বলজ্বল করছে, আপনাকে এই সাইটে ব্লক করা হইয়াছে।
কেন? তার অবশ্য কোন ব্যাখ্যা নাই; কত ‘লম্বর’ আইন ভেংগেছি তারও কোন উল্লেখ নাই।

ওখানকার সতীর্থ কয়েকজনকে জানালে তারা জানালেন, এইটা কিছু না, টেকনিক্যাল সমস্যা- এইটা ওই সাইটের বাগ নাকি ‘বাঘ’। ‘বাঘ’ হলে ভালু(!)- কুনু সমস্যা নাই।

কিন্তু লগ-ইন করতে গিয়ে ব্যাটা সব ফাঁস করে দিল। সত্যি সত্যি ব্লক।
ওই প্রধান উদ্যেক্তাকে বিষয়টা জানার জন্য মেইল করলাম। দিন যায, মাস, বছর- আজও সেই মেইলের উত্তর আসিনিএটা আমার মানতে মন সায় দেয় না। একজন মানুষের কাছ থেকে মানুষের মত আচরণ আশা করাটা দোষের হবে কেন? এই ভব্যতা শেখাবার অভব্য দায়িত্ব আমায় নিতে হবে কেন!
তবে এ-ও হতে পারে যিনি মেইল পেয়েছেন তিনি ঠিক করেছেন হাতে-হাতে আমাকে এর উত্তর দেবেন। হেঁটে রওয়ানা দিয়েছেন, সময় লাগতেই পারে, কী আর করা; অপেক্ষা করা ব্যতীত!

ব্লক করায় এখানে লিখতে না পেরে হাপুষ নয়নে কান্না করার কোন আবশ্যকতা আমার ছিল না, বরং ভারমুক্ত লাগছিল। কিন্তু...। একটা কিন্তু রয়েই যায়, দু:সময়ে নাকি ছোট ছোট আঘাত সহ্যাতিত মনে হয়- তুচ্ছসব বেদনা তখন বুকে বড় বাজে।

Friday, January 18, 2008

একজন দু:স্বপ্নের ফেরিওয়ালা...

একজন মানুষ কেমন করে স্বপ্নের ফেরিওয়ালা থেকে দু:স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হয়ে পড়ে? সাধে কী?
গত বছরের মাঝামাঝি মুখোমখি হলাম সীমাহীন বিপর্যয়ের! ঝপ করে চোখের সামনে নেমে এলো একগাদা বাজে ক্ষণ- চোখের মনি মাখামাখি হয়ে গেল নিকষ কালিতে!
বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়। এমন সমস্যা অনেকটা গোপন অসুখের মত, চট করে কাউকে বলা যায় না। বললে কেউ না আবার ভেবে বসেন: এইরে, এই বুঝি কোন হেল্প চাইবে!
টানেলের শেষ মাথায় কোন আলো নাই, অল্প আলোও শুষে নেয় অন্ধকার। আমি বিমর্ষ মুখে ঘুরে বেড়াই। পৃথিবীর যাবতীয় কিছুই অর্থহীন মনে হয়। কেমন বদলে যেতে থাকলাম। আগে ফান করে নিজেকে পোকামানব বলতাম- সত্যি সত্যিই পোকামানব বনে গেলাম।
সামনে বই-মেলা, ডেড লাইন পেরিয়ে যাচ্ছে। আমি নিরাসক্ত ভংগিতে ভাবি, গোল্লায় যাক বই-মেলা। আমার ছাতাফাতা লেখার জন্য কে মুখিয়ে আছে, আবর্জনা সৃষ্টি না করলে আটকাচ্ছে কে!

মড়ার উপর খাড়ার ঘা, নাকি খাড়ার উপর মড়ার ঘা? বছরের শেষের দিকে বুলডজার চলে এসেছে আমার বাড়ি ভেংগে দিতে। ব্রিটিশ আমলে এটা নাকি রেলওয়ের জায়গা ছিল- এই দীর্ঘ বছর পর এরা এক্ষণ আবিষ্কার করেছে জায়গাটা তাদের! ব্রিটিশ আমলে নাকি কারা কারা ভুল করে গেছে। বেশ যাহোক, এই জের আমাকে বইতে হবে কেন? তর্কের খাতিরে মেনে নিলাম নাহয় কিন্তু ভাংতে হবে কেন?
বুলডজারের সামনে কলম বড় হাস্যকর একটা ঢাল, আমার মত কলমবাজের এই কলম ছাড়া আছেই বা কী! আমার অবস্থাটা দাড়াল পিংপং বলের মত- এখান থেকে ওখানে, ওখান থেকে এখানে। যেসব মানুষদের কাছ থেকে শত-হাত দূরে থেকেছি তাদের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকি। দু-কলম লেখার চেষ্টা করি বলে প্রথম শ্রেণীর একজন কর্মকর্তা আমাকে শেখান সাহিত্য কি। আমি শিখি- সময় আমাকে শেখায়। ইনি নাকি সময়ের অভাবে সাহিত্য প্রসব করতে পারছেন না- নইলে এই দেশে হাংগামা করে ফেলতেন!
পিংপং বলের গতির সংগে যোগ হয় টাকা চালাচালি। আমাদের এই কর্মকর্তা কাম নব্য সাহিত্যিক অভব্যর মত অন্যায্য টাকা নেন, এতে তার কোন লাজ নাই, আমারো। আমি একজন পোকামানব নির্বিকারচিত্তে টাকা দেই...ভয়ে নিজের চোখের দিকে তাকাই না।

হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়ে রিটের আবেদন করলে হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা দেন কিন্তু এখানেও কাহিনীর শেষ নাই। আজ আর এটা নিয়ে বলতে ইচ্ছা করছে না- হয়তো অন্য কোন সময়।
তো, আমি ভোরে শীতে কাপতে কাপতে ঢাকা যাই- অপেক্ষায় থাকি ন্যায়ের জন্য। নিজের সংগে অভিমান কি না জানি না অভুক্ত থাকতেই ভাল লাগে। পা ছড়িয়ে বসে থাকি অভুক্ত, শ্রান্ত, বিষণ্ন, বিমর্ষ। পা ছড়িয়ে কাদতে পারলে বেশ হতো- পুরুষ মানুষদের নাকি কাদতে নাই, নিয়ম নাই। কাদলেও চট করে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারাই বড় কথা।
প্রকাশক ফোন করে বলেন, ভাল খবর, আপনার বইয়ের কাজ শেষ। আমি উদাস হয়ে বলি, বেশ! একদিন বললেন বইয়ের ব্যাক-কভারের জন্য কিছু লিখে মেইল করে দেন। আমি কেমন করে বলি মেইল দূরের কথা একটি বাক্য, শব্দও আমার মাথায় নাই।
একদা অবলীলায় বলতাম, আমি এ দেশ ছেড়ে কোথাও যেতে চাই না, পৃথিবীর সবচে সুন্দর দেশেও না। কিন্তু আজ পারলে এই দেশ, সম্ভব হলে এ গ্রহ ছেড়ে যেতে একপায়ে খাড়া- আজ নিজের প্রাণটা বড় তুচ্ছ মনে হয়...

Wednesday, January 16, 2008

খোদেজা: প্রাক-কথন...

আমি বিস্মিত হতেও ভুলে যাচ্ছি, অবশেষে লেখাটা শেষ করতে পারলাম! আমি নিশ্চিত ছিলাম লেখাটা আর শেষ হচ্ছে না। বইমেলায় এবার আর আমার বই বের হচ্ছে না। এই বিপুল আয়োজনে আমি নাই- পাঠককে স্পর্শ করতে পারব না, এই নিদারুণ কষ্টটা কাকে বলি! অথচ এই বছরের মাঝামাঝি খোদেজাকে নিয়ে খবরটা যখন পত্রিকায় পড়ি, তখনই ঠিক করে রেখেছিলাম, খোদেজাকে নিয়ে লিখব, লিখবই। অন্তত আপ্রাণ চেষ্টা করব। বইয়ের নামটাও ঠিক করা ছিল, খোদেজা।
এমনিতে আমি কখনও কোন লেখার ছাঁদ মাথায় রাখি না। ৩ টাকা দামের কলমবাজ, আমার এই ক্ষমতাটাই নাই আসলে। বিশ্বাস করি কলমের উপর (এখন কলম বললে ভুল বলা, হালের কীবোর্ড)। কলম যেমন টেনে নিয়ে যায়, আমি অসহায় দর্শক কেবল। এটা আমার কাছেও অবিশ্বাস্য মনে হয় কিন্তু বিষয়টা সত্য। কোথায় থেকে কি হয়ে যায় অমি জানি না! এটা সম্ভবত লেখালেখির মস্ত দুর্বলতা। তাই হয়তো আমার লেখা আর লেখা থাকে না। এ নিয়ে লম্বা লম্বা শ্বাস ফেলা ব্যতীত আজ আর কিছুই বলার নাই আমার।
কিন্তু ভবিতব্য কে জানে! পূর্বে যেটা হয়নি এবার সবগুলো একবারে ঘটতে শুরু করল। এক লাইনও লেখা হচ্ছিল না। লিখতে না পারা কষ্টটা কেমন? উম-ম, এমন কি, যেমন কিছু অসহ্য বেদনা সহ্য হয় না? প্রকৃত লেখকরা নাকি জাগতিক যাবতীয় বেদনাকে বদলদাবা করে লেখার পর লেখা লিখে যান। লেখক নই বলেই এখনও এই দুর্লভ গুণ করায়ত্ত করতে পারিনি।
অবশ্য আমি নিজেকে লেখক বলার দুঃসাহসই করি না। নিজেকে বলি লেখার, একজন রাজমিস্ত্রি যেমন একের পর এক ইট সাজিয়ে একটা কাঠামো গড়ে তোলেন, আমিও তেমনি একের পর এক শব্দের ইট সাজিয়ে একটা কাঠামো গড়ে তোলার অপচেষ্টা করি। সহৃদয় পাঠক যখন ছুঁয়ে দেন নড়বড়ে কাঠামোটাকে, আলোর ছটায় ঝলমল হয়ে উঠে- শিশুর কলরবে মুখরিত একটা পড়ো বাড়ি!
তো, শত চেষ্টা করেও খোদেজাকে নিয়ে লেখা আর হয়ে উঠে, ভাবনায় পরতের পর পরত একরাশ ধুলো জমে কেবল! আমার ব্যক্তিগত অসহনীয় জটিলতার কারণে সব কেমন এলোমেলো হয়ে চোখের সামনে ঝপ করে নেমে এলো একগাদা দুঃস্বপ্ন। একজন নিঃসঙ্গ শেরপা, ৬৫০ কোটি মানুষের মাঝে থেকেও একা। হা ঈশ্বর, কোথায় যাই, কার কাছে লুকাই?
প্রায়শ মনে হত এমন, এই বিশাল গ্রহের কোথাও কি এক চিলতে জায়গা নেই যেখানে আমি আত্মগোপন করতে পারি? কখনও তো নিজেকে মানুষ বলেই মনে হত না; যেন ভাঙ্গাচোরা-বাতিল একটা অবয়ব!
ওয়েব সাইটে লেখালেখি করার কারণে অনেকেরই সঙ্গেই যোগাযোগ হত। আমার যে দু-চারজন হৃদয়বান পাঠক আছেন এরা রাগারাগি করতেন, লিখতে তাড়া দিতেন। এঁদের কেমন করে বলি, লিখতে পারছি না! কিছু বেদনা আছে যা অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা যায় না। অবশ্য কেউ কেউ কঠিন ভঙ্গিতেও বলতেন, তোমার আদিখ্যেতা দেখে বাঁচি না, তুমি ছাইপাশ না লিখলেই কী! আসলেই তো, কার কি দায় পড়েছে লেখার পেছনের মানুষটাকে নিয়ে ভাবার। এর ব্যত্যয় হবে কেন! আমি নির্বোধের মত বুঝতে না চাইলে কার কী আসে যায়!
লেখা গেল চুলায়। কই আমি আর কই লেখালেখি, মোরা দু-ভুবনের বাসিন্দা! লেখার ইচ্ছাটাই উবে গেল। হাল ছেড়ে দেয়া ভঙ্গি- কি হবে লিখে, কি হয় লিখে! ইত্যাদি ইত্যাদি।

বেলা বয়ে যায়। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে পান্ডুলিপি জমা দেয়ার কথা অথচ কিছুই লেখা হয়নি।
এর সঙ্গে যোগ হল, খোদেজার যন্ত্রণা। কেমন একটা ঘোরের মধ্যে থাকি। মনে হয় এমন, খোদেজা আমাকে তাড়া করে লেখার জন্য: এই মানু, আমাকে নিয়া লেখবা না। এই যাহ, বললেই হল আর কী! একে নিয়ে লেখার ক্ষমতা আমার কই! হায়, আমার দু-হাত ভরা খোদেজার দেয়া শিউলি, আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে টুপটুপ করে ঝরে যায় যে! খোদেজা মনে করিয়ে দেয় বলেই নিজেকে খানিকটা মানুষ-মানুষ বলে ভ্রম হয়, ফিরে দাঁড়াতে বড় সাধ জাগে!
আফসোস, খোদেজা ভুল মানুষকে বেছে নেয়। আমার মত আধা-নাগরিক একজন মানুষের কাছে খোদেজার জগতটা সম্পূর্ণ অপরিচিত, ভাসা ভাসা জেনে কেবল লেখার অপচেষ্টা করা।
বইয়ের নাম খোদেজা দেখে আমার এক প্রিয়মানুষ বিরক্তি প্রকাশ করলেন, জোর অনুরোধ নামটা বদলে দেয়ার জন্য। নামটা নাকি সস্তা উপন্যাসের মত হয়ে গেছে। হায়, খোদেজা নামটা, খোদেজাদের নিয়ে লিখলে বুঝি সস্তা উপন্যাস হয়ে যায়! আসলে আমাদের কাছে খোদেজারা বড় সস্তা!
যে কথাটা তখন বলতে পারিনি, আমি যেমন খোদেজার নিয়তি বদলে দিতে পারি না তেমনি খোদেজা নামটাও বদলাবার ক্ষমতা আমার নাই। এবং খোদেজাকেও নিয়ে লেখার ক্ষমতাটাও। তবুও নিজের চোখে তাকাতে চেষ্টাটা করা, সবিরাম... ।

Friday, January 11, 2008

খোদেজা।

খোদেজা।
সাত বছরের এই শিশুটির প্রতি করা হয়েছিল ওর জ্ঞানমতে অজানা চরম অন্যায়। অভাগীর জান্তব চিত্কার থামাবার জন্য মুখে গুজে দেয়া হয়েছিল মুঠো মুঠো বালু।
নর নামের ওই নরপশুরা খোদেজার জানাজায়ও অংশগ্রহন করেছিল!
প্রচলিত আইনে ওই নরপশুদের ফাসির আদেশ হয়েছিল- একদা ফাসিও কার্যকর হবে। কিন্তু তাদের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা পশুটা এ গ্রহের সমস্ত আইনের ঊধ্বে।
পশুটার যাওয়ার জায়গার অভাব কী! তার কোন তাড়া নেই- অনাদিকাল ধরে অপেক্ষা করতে ক্লান্তি নেই। সময়ে শিকার বেছে নিতে বেগ পেতে হবে না...।