Friday, June 29, 2007

সম্পাদক সাহেবদের জন্য ইশকুল!

২৮ ফ্রেব্রুয়ারী প্রথম আলোর একটা নিউজ ছিল এ রকম: সাততলা বস্তি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। রিপোর্টটির কিছু অংশ আমি এখানে তুলে দিচ্ছি:
১. এই বস্তিটা না ভেঙ্গে ফেলার জন্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ছিল।
২. ৫০০ ঘর ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।
৩. আনুমানিক ৫ হাজার মানুষ গৃহহারা হয়েছেন।
৪. সকালে শিশু মনিরুলকে রেখে তাঁর বাবা মা গার্মেন্টসে গিয়েছিলেন কাজে।
৫. উচ্ছেদের সময় শিশু মনিরুল গুরুতর আহত হয়।
৬. গার্মেন্টসের শত শত নারী কর্মী এ বস্তিতে থাকতেন। উচ্ছেদের পর, রাতে খোলা আকাশের নিচে তাঁদের থাকা এবং নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে আছেন তাঁরা।
৭. উচ্ছেদের পর শত শত শিশুসন্তানকে নিয়ে খোলা মাঠে তরুণী মারা রাত কাটাচ্ছেন।
৮. হাইকোর্টের রায়ের কপি ম্যাজিষ্ট্রেটের হাতে তুলে দেয়ার পরও তিনি উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখেন।
৯. নারী এবং শিশুদের মারধর করা হয়। ইত্যাদি ইত্যাদি।

প্রথম আলো ২রা মার্চ এ ঘটনা নিয়ে সম্পাদকীয় মন্তব্য ছাপে। বেশ! কিন্ত সম্পাদকীয়তে এই খবরটার চেয়ে অনেক অনেক বেশি গুরুত্ব পায় অন্য একটা সংবাদ এবং প্রচুর স্পেস নিয়ে। ওই সংবাদটা ছিল, 'লুটপাটের সেতু- সেতু আছে রাস্তা নেই'। কোন এক প্রভাবশালীর জমি বাঁচাতে রাস্তার কাজ আটকে আছে। বেশ বেশ! বস্তি উচ্ছেদের চাইতে এই নিউজটার গুরুত্ব তাইলে অনেক গুরুত্ব বহন করে?

কে জানে, হবে হয়তো বা- সম্পাদক বলে কথা। কে জানে, সম্পাদক সাহেবরা সর্বজ্ঞ হন নিশ্চয়ই। তারা যা বলেন তা আমাদের মেনে না নিয়ে উপায় কী! কিন্ত আমি এতে অমত পোষণ করি। আমি মনে করি, আমাদের সর্বজ্ঞ সম্পাদক সাহেবদের জন্য ইশকুল খোলা আবশ্যক। নইলে এসি রুমে বসে কলমবাজি করলে এই জিনিস প্রসব না করে উপায় কি!

No comments: