Friday, June 29, 2007

যদি আপনাকে বলতে পারতাম, চলে আসেন…

যুক্তরাজ্যের মিস ভেলরি এ টেইলর।
মাত্র ২৫ বছর বয়সে নিজকে উৎসর্গ করেন মানবসেবায়। ১৯৬৯ সালে ফিজিও থেরাপিস্ট হিসাবে স্বল্পকালীন চুক্তিতে প্রথম বাংলাদেশে আসেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে দেশে ফিরে যান। আবার এ দেশে ফিরে আসেন ১৯৭২ সালে- নিজেকে পুরোপুরি সপে দেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায়। পক্ষঘাতগ্রস্থ মানুষদের জন্য গড়ে তুলেন সিআরপি।
২৭ বছর ধরে নিরলস সেবায় উপকৃত হতে থাকে এ দেশের অসংখ্য মানুষ। দত্তক নেন এ দেশের ২জন পক্ষঘাতগ্রস্থ মেয়েকে।

এই মানুষটি বর্তমানে বেতন নেন সাত হাজার পাঁচশ টাকা। অথচ নির্বাহী কর্মকর্তা সি এম শফি সামি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা বেতন নিয়েছেন বলে জনশ্রুতী আছে।

অবশেষে এই মানুষটির যা প্রাপ্য তাই দেয়া দিয়েছে। সি আর পি থেকে ক্রমশ ভেলরীকে কোনঠাসা করে ফেলা হচ্ছে, যথেষ্ঠ অসম্মানের সঙ্গে। বলা হচ্ছে তিনি নাকি ম্যানেজমেন্ট বুঝেন না। এইটা বুঝতে মহোদয়দের সাতাশ বছর লাগল! হুম, তিনি হরতালের মধ্যে যখন মাইলের পর মাইল সাইকেল চালিয়ে ফান্ড সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন- তখন ম্যানেজম্যান্টের সমস্যা হয়নি বুঝি!

আমি আমার অনালোচিত জীবন এবং সীমিত ক্ষমতা নিয়ে বড়ো সুখী। কিন্ত কখনও কিছু সত্যর মুখোমুখি হলে মনটা হতাশায় ভরে যায়- নিজেকে পোকা পোকা মনে হয়। আমার সন্তানের কসম, আজ আমার যথেষ্ট টাকা থাকলে, ক্ষমতা থাকলে এই ভদ্রমহিলার পা ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড়তাম না, যে পর্যন্ত না তিনি স্বীকার যেতেন, আমার মতের সঙ্গে একমত হতেন।
তাঁকে বলতাম, চলে আসেন ওখান থেকে, যেখানে আপনার সম্মান নাই সেখানে আপনার কি কাজ! ওখানে আপনার বিপুল ক্ষমতার কেন অপচয় করছেন। নতুন করে আবার শুরু করেন। আপনি ফুরিয়ে যাননি... আপনার মতো অমর মানুষদের আমাদের বড্ডো প্রয়োজন। নিজেদের জন্য- আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য...।

*ঋণঃ সাপ্তাহিক ২০০০